এলবিয়ন গ্রুপকে ঘিরে নানা অভিযোগ: নিম্নমানের ওষুধ, রাজস্ব ফাঁকি ও প্রতারণার তদন্ত চলছে

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের ওষুধ শিল্পে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এলবিয়ন গ্রুপ সম্প্রতি বারবার আলোচনায় আসছে নানা অভিযোগের কারণে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একদিকে প্রতারণা ও চাঁদাবাজির মামলা চলমান, অন্যদিকে নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে বিভিন্ন সংস্থা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন বড় ধরনের বিতর্কের ঘূর্ণাবর্তে।

চট্টগ্রামের ইনোভেটিভ ফার্মার স্বত্বাধিকারী কাজী মোহাম্মদ শহিদুল হাসান ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি কোতোয়ালিতে মামলা দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাইসুল উদ্দিন, এমডি মোহাম্মদ মুনতাহার উদ্দিন এবং চিফ অ্যাডভাইজার নিজাম উদ্দিন চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণা করেছেন। ১০ বছরের চুক্তি অনুযায়ী এলবিয়ন ওষুধ উৎপাদন করে লাভ ভাগাভাগি করার কথা ছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে তারা চুক্তি ভেঙে ৫-৬ কোটি টাকার ওষুধ ইনোভেটিভ ফার্মার গুদামে জমা রেখে ৯টি খালি চেক জামানত হিসেবে নেয়। পরে আবার সেই ওষুধ ফেরত নিয়ে চেকগুলো ফেরত দিতে টালবাহানা শুরু হয়। এমনকি হুমকি দিয়ে ২ কোটি টাকার চাঁদা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়। মামলা নম্বর—১৫১/২৩। বিষয়টি তদন্ত করছে চট্টগ্রাম মেট্রোর পিবিআই।

এদিকে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবরের এক রিপোর্টে দেখা যায়, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজের উৎপাদিত বেশ কিছু ওষুধের মান স্বাভাবিক মানদণ্ডের নিচে। ‘মিমক্স’ নামের অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুলে অ্যামোক্সিসিলিনই পাওয়া যায়নি, বরং ভিতরে ছিল সাদা দানা ধরনের পাউডার। ‘ইনডোমেথাসিন’ ক্যাপসুলেও নির্ধারিত পরিমাণের কম উপাদান পাওয়া গেছে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো—মানুষ ও পশুর ওষুধ একই ভবনে তৈরি করা হচ্ছিল, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। এছাড়া বাজারে অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে ওষুধ বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে, যা নিম্নমানের উৎপাদনের ইঙ্গিত বহন করে।

দুদকে জমা পড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কর বছরভিত্তিক গোপনে কোটি কোটি টাকার আমদানি-বিক্রয় করেছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত গোপন রাখা আমদানি ও বিক্রয়ের হিসাব মোটেই ছোট নয়—শুধু একটি বছরেই গোপন আমদের পরিমাণ ৪৯ কোটি টাকার ওপরে। আরও অভিযোগ রয়েছে মালিকপক্ষের নামে বেনামী জমি, একাধিক দামি গাড়ি, ৭টি প্রতিষ্ঠান ও ৯টি ব্যাংক হিসাব গোপন রাখা নিয়ে।

সংস্থাটি বিদেশে উচ্চমানের ওষুধ রপ্তানির দাবি করলেও তদন্তে জানা যাচ্ছে, এসব প্রচারণার অনেক তথ্যই ভ্রান্ত। দেশে মানহীন ওষুধ উৎপাদনের মাঝে রপ্তানি নিয়ে এমন প্রচারণা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

এলবিয়ন গ্রুপের অধীনে রয়েছে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, এলবিয়ন অ্যানিমেল হেলথ, ব্লু অ্যাকোয়া ড্রিংকিং ওয়াটার, ফেভারিট লিমিটেড, ক্লিনজি ফরমুলেশন, ফবিটা, এলবিয়ন ট্রেডিং কর্পোরেশন, এলবিয়ন ডিস্ট্রিবিউশন, সেগাফ্রেডো জেনেতি এসপ্রেসো (ইতালি) ও এলবিয়ন স্পেশালাইজড ফার্মা লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।

সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতারণা মামলা, মানহীন ওষুধ উৎপাদন, বিপুল অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকি এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা—এই চার দিকের অভিযোগ এখন প্রতিষ্ঠানটিকে কঠিন অবস্থায় ফেলেছে। এসব বিষয়ে সত্যতা যাচাই এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পিবিআই ও দুদকের সক্রিয় তৎপরতা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

 




ঢাকায় এলেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় পৌঁছেছেন। 

শনিবার (২২ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

জানা যায়, বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। সেইসঙ্গে দেওয়া হয় গার্ড অব অনার।

বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব মো. আসাদ আলম সিয়াম বলেন, বিমানবন্দরে গার্ড অব অনার গ্রহণ করার পর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। দুপুরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

তিনি আরও জানান, একই দিনে প্রধানমন্ত্রী প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। এরপর দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, যোগাযোগ, শিক্ষা, কৃষি, স্বাস্থ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, টেলিযোগাযোগ, পর্যটন, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, শিল্পসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, দুদেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ কর্তৃক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করার সুযোগ রয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ভুটানকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি, পর্যটন ও ক্রীড়া বিষয়ক কয়েকটি সহযোগিতার প্রস্তাব দিতে পারে এবং ভুটানে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশি পেশাদারদের নিয়োগে ভুটান সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বহুপাক্ষিক বিষয়েও আলোচনা হবে বলে আশা করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বৈঠক শেষে ভুটানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ, ভুটানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং কৃষি সহযোগিতা বিষয়ক তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়গুলো এখনো আলোচনাধীন। রাতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশগ্রহণ করবেন।

পরদিন ২৩ নভেম্বরে তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। বাংলাদেশ সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন।




ভূমিকম্প ৬ মাত্রার হলে সবকিছু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা

ডেস্ক নিউজঃ শুক্রবার সকালে সারা দেশে অনুভূত ভূমিকম্পটি বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে হঠাৎ কেঁপে ওঠে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল। 

জাতীয় ভূকম্পন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর মাধবদী এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি। স্থানীয় পরিমাপ অনুযায়ী এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭, আর যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস সেটিকে ৫ দশমিক ৫ হিসেবে রেকর্ড করেছে।

বুয়েটের পূরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প–বিশেষজ্ঞ মেহেদি আহমেদ আনসারী মনে করেন, এই কম্পন নতুন কোনও বিস্ময় নয়। তাঁর ভাষায়, এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বাস্তবতায় আরও বড় ধরনের ভূমিকম্পের শঙ্কা অনেক দিন ধরেই ছিল। তিনি জানান, মাত্রা যদি ৬–এর কাছাকাছি পৌঁছায়, তাহলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ইতিহাসেও ভয়াবহ কিছু ভূমিকম্পের দৃষ্টান্ত রয়েছে। ১৭৬২ সালের ‘গ্রেট আরাকান আর্থকোয়েক’ ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ মাত্রার, যার অভিঘাত পৌঁছেছিল চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লা পর্যন্ত। ১৮৯৭ সালে আসামে ঘটে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি বড় ভূমিকম্প। এরপর ১৯১৮ সালে সিলেটের বালিসিরা উপত্যকায় ৭ দশমিক ৬ এবং ১৯৩০ সালে আসামের ধুবড়িতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়।

অধ্যাপক আনসারীর ব্যাখ্যা, বড় ধরনের কম্পন সাধারণত দেড় শতকের ব্যবধানে ফিরে আসে। সেই হিসেবে আবারও ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকি সামনে চলে এসেছে। তাঁর মতে, আজকের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে সতর্ক হওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে প্রায় ২১ লাখ ভবন রয়েছে—এর মধ্যে প্রায় ৬ লাখ ভবন ছয়তলার বেশি। বড় ধরনের কম্পন হলে এই উচ্চ ভবনগুলোর ওপরই সর্বাধিক ঝুঁকি তৈরি হবে। পুরান ঢাকার কিছু ভবনে আজকের কম্পনে রেলিং ও পলেস্তারা খসে পড়া তারই ইঙ্গিত।

রানা প্লাজা ধসের পর গার্মেন্টস ভবনগুলোর কাঠামো পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল—সেটিকে সব ধরনের ভবনে সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই রাজধানীর ভবনগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা জরুরি। কারণ বহু স্থাপনা এখনো বিল্ডিং কোড মেনে নির্মিত হয়নি।

তিনি জানান, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়ক হিসেবে বিশ্বব্যাংক রাজউককে ১৮ কোটি মার্কিন ডলার দিয়েছে। তবে এত বড় চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়ার মতো সক্ষমতা রাজউকের আছে কি না—সেটি নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।




উদ্যম আর ঐক্যের বার্তা নিয়ে মিরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ আজ (২১ নভেম্বর ২০২৫) ঢাকার মিরপুর প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে মিরপুর প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক এই সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম। ক্লাবের কার্যক্রমের উন্নয়ন, সাংবাদ তার মানোন্নয়ন এবং সদস্যদের পেশাগত নিরাপত্তা– এসব বিষয়কে কেন্দ্র করেই পুরো সভা জুড়ে আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন শান্ত, সহ-সভাপতি এস এম ইসলাম উকিল, নজরুল ইসলাম টুটুল, শাহিনুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম ইকবাল হোসেন নিপুসহ ক্লাবের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। এছাড়াও সভায় যোগ দেন র. ই জাকির, জাকির হোসেন মোল্লা, সানজিদা আক্তার শবনম, জি এস জয়, মোহাম্মদ আলমগীর, মোহাম্মদ নাসির বিন আরেফিন, মনজুরুল আহমেদ, আব্দুল মালেক, গাজী শাহজালাল, ফরিদা পারভীন ববি, এ ওয়াই এস কামরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান খান, জান্নাত আক্তার, শহীদুজ্জামান পলাশ, হোসাইন মোহাম্মদ এনামুল হক, মোঃ হুমায়ুন কবির, সাহা আফগান আসাদুল্লাহ, মোঃ খলিলুর রহমান এবং রশিদ ই মাহবুব।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এম বদরুল আলম বলেন, “মিরপুর প্রেস ক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক।” তিনি জানান, “সাংবাদিকতার মান বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে আগামী দিনের প্রধান লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “মিরপুর প্রেস ক্লাবকে দেশের শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সাংবাদিক সংগঠনে পরিণত করতে সদস্যদের ঐক্য ও সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”

সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে ক্লাবের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, “ক্লাবের ভৌত সুবিধা বৃদ্ধি, সদস্যদের কল্যাণমূলক প্রোগ্রাম, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার সুযোগ সম্প্রসারণ— সবকিছুর ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”  তার ভাষায়, “প্রতিটি সদস্য যদি পেশাগত নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন, তাহলে সমাজে সত্য ও ইতিবাচকতার বার্তা আরও শক্তভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।”

সভা শেষে অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বিভিন্ন প্রস্তাব ও মতামত তুলে ধরেন। সবাই মিলে প্রতিশ্রুতি দেন— মিরপুর প্রেস ক্লাবকে আরও সংগঠিত, আধুনিক ও কার্যকর করে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করবেন।




সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ বঙ্গোপসাগরে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ঘনীভূত হতে পারে। এ সময় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ ছাড়া সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬, আহত শতাধিক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে ৩ জন, নারায়ণগঞ্জে একজন ও নরসিংদীতে দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ঢাকা : ভূমিকম্পে পুরান ঢাকার বংশালে ৫ তলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন— সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি উল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)। নিহত রাফির মা নুসরাতের সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচার চলছে অপরাশেন থিয়েটারে। তিনি জানেন না, তাঁর সন্তান মারা গেছেন। শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

নারায়ণগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পে দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকালে ভূমিকম্পের সময় ঘটনাস্থল হয়ে ভুলতা-গাউছিয়া যাওয়ার সময় সড়কের পাশের দেয়াল ধসে শিশু ফাতেমা, তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগমের ওপর পড়ে। এসময় ঘটনাস্থলেই শিশু ফাতেমার মৃত্যু হয়। আহত হন তার মা কুলসুম ও প্রতিবেশী জেসমিন, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নরসিংদী : নরসিংদীতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মাটির ঘরের দেয়াল চাপায় কাজম আলী (৭৫) নামে বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। নিহত কাজম আলী নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এছাড়া নরসিংদীর গাবতলীতে বাসার দেয়াল চাপা পড়ে ওমর (১০) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।




বংশালে ভূমিকম্পে নিহত তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার বংশালের কসাইটুলিতে ভূমিকম্পে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে নিহত তিনজনের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা হলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিটফোর্ড) ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি উল ইসলাম, হাজী আব্দুর রহিম (৪৭) ও মেহরাব হোসেন রিমন (১২)।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, তিনজনের মরদেহ মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পের পর বংশালের কসাইটুলিতে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে তিনজন মারা যান।

‎স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ করে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী ঘটনাস্থলে নিহত হন। তারা সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘটনার পরপরই সেখানে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত হয়েছেন।

বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশিষ জানান, ভূমিকম্পের সময় ভবনের রেলিং ধসে পড়ে তিন পথচারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত আছেন।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্র ছিল ৫.৭। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির জানান, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৭। এটির উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে নরসিংদীর মাধবদীতে। এটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।




লন্ডন সফরকে ঘিরে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের আবুল বাশারকে নিয়ে নতুন বিতর্ক

এসএম বদরুল আলমঃ নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মো. আবুল বাশার এবার ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) কাউন্সিল নির্বাচনে অংশ নিতে লন্ডনে যাচ্ছেন। কিন্তু তার এই সফর নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে, কারণ বর্তমান মহাপরিচালকের অনুমোদন ছাড়াই তাকে প্রতিনিধিদলে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তালিকায় তার নাম যুক্ত করেছেন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এবং বর্তমানে নেভি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের কমান্ড্যান্ট রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম।

অভিযোগ উঠেছে, বর্তমান মহাপরিচালক শফিউল বারী নির্বাচনী প্রচারণায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন না—এমন যুক্তিতে পুরোনো ডিজি মাকসুদকে বিশেষ আগ্রহে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। তিনি এখনো নৌপরিবহন উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ হিসেবে নৌসেক্টরে প্রভাব বজায় রেখেছেন, এমন মন্তব্যও রয়েছে কর্মকর্তাদের মধ্যে। অন্যদিকে আবুল বাশারসহ বাকি দল ২৪ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত লন্ডনে অবস্থান করে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

এদিকে আবুল বাশারকে ঘিরে বহুদিন ধরেই নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে। তার বিরুদ্ধে পরীক্ষায় ঘুষ নিয়ে পাস করানো, প্রকল্পের বিল আটকে অর্থ আদায়, কন্ট্রাক্টরদের কাছ থেকে কমিশন নেয়া, পিজি আটকে রেখে টাকা দাবি, অডিট খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়—এরকম একাধিক অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে জমা আছে। এসবের মধ্যে একটি বিভাগীয় মামলার তদন্তও চলছে। এমনকি তিনি নিজের শ্যালককে নিয়ম ভেঙে কন্ট্রাক্টরি কাজ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সতর্ক সূত্র বলছে, তিনি প্রায়ই বিভিন্ন স্টার হোটেলের বার ও স্পা সেন্টারে সময় কাটান এবং মদ্যপ হয়েই বের হন—যা সরকারি চাকরির বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন। গত পাঁচ বছরে এমন আচরণের জন্য কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি মার্চেন্ট ও ইনল্যান্ড পরীক্ষায় মোটা অঙ্কের বিনিময়ে ফল পরিবর্তনের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি—চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই তিনি অস্বাভাবিক হারে সম্পদশালী হয়ে উঠেছেন, বিভিন্ন ব্যাংকে এফডিআর, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির মালিকানা তার নামে-বেনামে রয়েছে।

তার অতীত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৩৮তম ব্যাচে প্রশিক্ষণকালীন সময়ে নীতিভ্রষ্ট আচরণের অভিযোগে পুরো ব্যাচ বহিষ্কারের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। পরে বিভিন্ন শিপিং কোম্পানিতে অপ্রফেশনাল আচরণের জন্য তাকে চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়। এমনকি এমভি জাহান মনির দ্বিতীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে ইচ্ছাকৃতভাবে ইঞ্জিন নষ্ট করার ঘটনাও মালিকপক্ষ তাকে চিরতরে নিষিদ্ধ করে।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক তদবীরে তিনি সরকারি চাকরি পান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দলের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে নিজের অবস্থান শক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও তিনি রাজনৈতিক খাতিরে গুরুত্ব পেয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবুল বাশার দাবি করেন—সবকিছুই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যাবে এবং তারা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।




এনবিআর সদস্য বদিউল আলমের বিদেশযাত্রায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এনবিআর-এর সদস্য (কর লিগ্যাল অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) এ কে এম বদিউল আলমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশনের করা আবেদনের ভিত্তিতে বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন। বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল আদালতে আবেদনের মাধ্যমে জানান, বদিউল আলমের জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ে বর্তমানে অনুসন্ধান চলছে। তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন—এমন তথ্য পাওয়ায় অভিযোগের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তার বিদেশযাত্রা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে দুদক মনে করে। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।




স্বাস্থ্য সরঞ্জাম–এলজিইডি অফিস–স্কুল নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তিন জেলায় দুদকের আকস্মিক অভিযান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে দেশের তিন জেলায় একদিনে তিনটি অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার, ১৯ নভেম্বর, দুদকের পটুয়াখালী, রংপুর ও টাঙ্গাইল কার্যালয় থেকে আলাদা টিম এসব অভিযান পরিচালনা করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম।

দুদক জানায়, প্রথম অভিযানে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্বাস্থ্য সরঞ্জাম ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্রয়ের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় সেখানে এনফোর্সমেন্ট টিম পাঠানো হয়। টিম প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে টেন্ডার সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র সংগ্রহ করে এবং তাঁর বক্তব্য নেন। টেন্ডার জমা দেওয়ার সময়সীমা এখনো ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত চলমান থাকলেও এর মধ্যেই অনিয়মের অভিযোগ উঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সব নথি যাচাই করে পরে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন কমিশনে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে রংপুরের গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসে ঠিকাদারদের ভয়ভীতি দেখানো, ঘুষ দাবি এবং বিভিন্ন হয়রানির অভিযোগে আরেকটি দল অভিযান চালায়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়। অভিযানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে টিম। ভিডিওতে একজনকে টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেলেও এটি ঘুষ কিনা নিশ্চিত হতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন বলে জানায় দুদক।

তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায়। অভিযোগ ছিল—পিইডিপি–৪ প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং অগ্রিম বিল তুলার ঘটনা। এনফোর্সমেন্ট টিম নিরপেক্ষ প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে এবং প্রাথমিকভাবেই কয়েকটি অনিয়মের সত্যতা পায়। এখানে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন পরে কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

পুরো দিনজুড়ে হওয়া এসব তিনটি অভিযানে স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে সরকারি নির্মাণশিলা পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায়।