পিঠা-পুলিতে রাঙা শীত, বাঙালির ঐতিহ্যের উৎসব
জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাটঃ শীতকাল মানেই বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠার উৎসব। ঠান্ডা হাওয়ার পরশ লাগলেই যেন জিভে জল আনে নারিকেল, গুড়, চালের গুঁড়ার মিশ্রণে তৈরি বাহারি সব পিঠার গন্ধ।
বাংলার গ্রামীণ জীবনে শীত মানে শুধু ঠান্ডা নয়, বরং পিঠা-পুলি আর আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির এক মৌসুম। নতুন ধানের চাল থেকে তৈরি আতপ চালের গুঁড়ো, খেজুর গুড় আর নারিকেলের সংমিশ্রণে পিঠা বানানো যেন শীতের আগমনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

বাঙালির লোকজ ইতিহাস-ঐতিহ্যে পিঠাপুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে প্রাচীনকাল থেকেই। পিঠা-পায়েস সাধারণত শীতকালের রসনাজাতীয় খাবার হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত এবং মুখরোচক খাদ্য হিসেবে বাঙালি সমাজে বেশ আদরণীয়। আত্মীয়স্বজন ও পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় ও মজবুত করে তুলতে পিঠাপুলির উৎসব বিশেষ ভূূমিকা পালন করে। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম শীতকালেই বেশি পড়ে। কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর বা সন্ধ্যায় গাঁয়ের বধূরা চুলার পাশে বসে ব্যস্ত সময় কাটান পিঠা তৈরিতে। বিশেষ করে জামাইদের এ সময় দাওয়াত করে পিঠা খাওয়ানো হয়। এ সময় খেজুরের রস থেকে গুড়, পায়েস এবং নানারকম মিষ্টান্ন তৈরি হয়। খেজুরের রসের মোহনীয় গন্ধে তৈরি পিঠা-পায়েস আরও বেশি মধুময় হয়ে ওঠে। শীতকালের সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় পিঠা হচ্ছে ভাপা পিঠা। এ ছাড়া আছে চিতই পিঠা, দুধচিতই, ছিট পিঠা, দুধকুলি, ক্ষীরকুলি, তিলকুলি, পাটিসাপটা, ফুলঝুরি, ধুপি পিঠা, নকশি পিঠা, মালাই পিঠা, মালপোয়া, পাকন পিঠা, ঝাল পিঠা ইত্যাদি। বাংলাদেশে শতাধিক ধরনের পিঠার প্রচলন রয়েছে। কালের গভীরে কিছু হারিয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। শীতকালে শুধু গ্রামবাংলায়ই নয়, শহর এলাকায়ও শীতের পিঠা খাওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। ইদানীং শহরেও পাওয়া যায় শীতের পিঠার সুবাস।
শীত এলে শহর এলাকার বিভিন্ন ফুটপাত, জনবহুল এলাকা, বিভিন্ন টার্মিনালে পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। যদিও খোলামেলা স্থানে এসব পিঠা তৈরি ও বিক্রি সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর, এর পরও এ ব্যবসা বিশেষ করে ভাপা পিঠা বিক্রি শীতকালে বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে।
এক সময় সোনার বাংলায় যেমন শত শত নামের ধান ছিল, তেমনি সেসব ধানের পিঠারও অন্ত ছিল না। কত কী বিচিত্র নামের পিঠা! পিঠা তৈরি ছিল আবহমান বাংলার মেয়েদের ঐতিহ্য। পিঠা-পায়েসকে নিয়ে গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে এখনও অসংখ্য গান-কবিতা ও ছড়া প্রচলিত। পিঠাকে কেন্দ্র করে বিখ্যাত কবি বেগম সুফিয়া কামাল লিখেছেন, ‘পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরও উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।’ পিঠাপুলি আমাদের লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। আমাদের হাজারো সমস্যা সত্ত্বেও গ্রামবাংলায় এসব পিঠা-পার্বণের আনন্দ-উদ্দীপনা এখনও মুছে যায়নি।
আজকাল শহরের অভিজাত রেস্তোরাঁতেও গ্রামবাংলার পিঠাপুলি জায়গা করে নিয়েছে। তাছাড়া শহরের প্রতিটি গলিতে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে এখন পিঠা বিক্রি হয়।
শহরের নাগরিক জীবনেও আজকাল পিঠা উৎসব হয়, কিন্তু গ্রামে এর আবেদন ভিন্নরকম। মাঠের ধান ঘরে ওঠার আনন্দ, নতুন চালের ঘ্রাণ আর পারিবারিক একতা মিলেই যেন পিঠাকে করে তোলে শীতের পরম আনন্দদায়ী রসনা বিলাস। শীত এলেই তাই আমাদের মনে পড়ে মায়ের হাতের ভাপা পিঠা, দাদীর তৈরি পাটিসাপটা।
এই ঐতিহ্য ধরে রাখাই এখন সময়ের দাবি। পিঠা-পার্বণের এ আনন্দ ও ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে টিকে থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে।
রাকাব কর্মকর্তা আবুল কালামের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে নেমেছে দুদক
রাজশাহী প্রতিবেদকঃ রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)–এর আইসিটি বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আবুল কালামের বিরুদ্ধে ডিজিটাইজেশনের নামে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ যাচাই করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে একটি অনুসন্ধানকারী দল গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী দলের প্রধান মো. আমির হোসাইন গত ৩০ অক্টোবর রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি ও রেকর্ড সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। বিশেষ করে ব্যাংকের ‘নেটওয়ার্ক ডিভাইস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি (এএমসি), টেন্ডার আইডি: ৭৪৪০৭২’–সংক্রান্ত কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার সত্যায়িত কপি ৪ নভেম্বরের মধ্যে দুদক কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, সদর দফতরের নির্দেশে রাজশাহী সমন্বিত জেলা কার্যালয় এই তদন্ত পরিচালনা করছে। অনুসন্ধানকারী দলে উপ-সহকারী পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমানও রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠানটির ভেতর আগে থেকেও বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ রয়েছে—পদোন্নতিতে স্বজনপ্রীতি, ঋণ বিতরণে জালিয়াতি এবং কর্মকর্তাদের লাঞ্চ ভাতার নামে বেআইনি অর্থ প্রদানসহ নানা ঘটনা ব্যাংকের সুনাম ও আর্থিক অবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
নতুন অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. আবুল কালামকে ফোন করা হলেও তিনি কোনো কল রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সাধারণ নিয়মে প্রতি তিন বছর অন্তর কর্মকর্তাদের বদলি হওয়ার কথা। কিন্তু মো. আবুল কালাম ক্ষমতা ও টাকার জোরে একই কর্মস্থলে ১৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানের বদলি ঠেকাতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সিবিএ নেতা মো. রায়হান আলীকে দিয়ে ‘মব’ তৈরি করেন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালককে চাপ প্রয়োগ করেন। প্রতিষ্ঠানের একটি ভিডিও ফুটেজেও ঘটনাটির প্রমাণ মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
সূত্র বলছে, আবুল কালাম আজাদ, মো. মিজানুর রহমান ও সিবিএ সভাপতি মো. রায়হান আলী—এই তিনজন মিলে ব্যাংকের মধ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট হিসেবে কাজ করছেন।
দুদকের চলমান তদন্তে ব্যাংকের ভেতরের অনিয়ম প্রকাশ পাবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে—এমন আশা সংশ্লিষ্টদের।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজার একাধিক স্থানে ইসরায়েলের হামলা, নিহত ২৮
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ‘২৮ জন’ নিহত এবং কমপক্ষে ‘৭৭ জন’ আহত হয়েছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার গাজা প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানিয়েছেন, বুধবার (১৯ নভেম্বর) গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে এবং গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা শুজাইয়া ও জয়তুনে যথাক্রমে একটি করে ভবনে আইডিএফের বোমা আঘাত হেনেছে। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আলজাজিরাকে হানি মাহমুদ জানান, আইডিএফের বোমার আঘাতে একটি ভবনে এক পরিবারের বাবা, মা এবং তিন সন্তানসহ পরিবারের সব সদস্য নিহত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গাজার ফিলিস্তিনিরা ব্যাপক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন কারণ গাজায় এখনও যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে এবং আইডিএফের নিত্যদিনের সহিংসতায় ফিলিস্তিনিরা নিহত হচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৬১তম জন্মদিন বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর)। ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তিনি।
তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা, পোস্টার, ব্যানার লাগানো ও আলোচনা সভাসহ কোনও ধরনের আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান বা উৎসব পালন না করতে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি’র সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদেরকে দলটির পক্ষে থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এই ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা ভাবছেন তাদের অর্থ দান করার জন্য বলা হয়েছে।
তারেক রহমানকে শৈশবে তার বাবা-মা তাকে ঢাকা সেনানিবাসের শাহীন হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করিয়েছিলেন, যা তখন একটি ইংরেজি-মাধ্যমিক স্কুল ছিল, যেখানে কেবল সেনা সদস্যদের সন্তানদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। তিনি তার মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও অনার্স-মাস্টার্স পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। স্নাতকোত্তর অধ্যয়নের জন্য, তিনি তার প্রিয় বিষয় হিসেবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে (আইআর) লেখাপড়া করেন।
তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৩ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন। ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি তার দলের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেন।
দলের জাতীয় প্রচারণা কৌশল কমিটির সদস্য হিসেবে, তারেক রহমান তার মা যে পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন, তার নির্বাচনী প্রচারণার সমন্বয় সাধন করেছিলেন। পাঁচটি আসনেই তার (বেগম খালেদা জিয়া) বিশাল জয় প্রমাণ করে যে তিনি (তারেক রহমান) একজন সূক্ষ্ম সংগঠক হিসেবে ভবিষ্যতে দলের নেতৃত্বের ভূমিকা গ্রহণ করতে সক্ষম।
পুলিশের ওপর হামলা বাড়লে ঘরবাড়ি নিজেরাই পাহারা দিতে হবে: ডিএমপি কমিশনার
ডেস্ক নিউজঃ পুলিশের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মানুষের ঘরবাড়ি নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকালে ডিবির সাইবার সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি দুর্বৃত্তদের উদ্দেশে আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে কেউই লাভবান হবেন না। এমন ঘটনা চলতে থাকলে ঘরবাড়ি নিজেদের পাহারা দিতে হবে।’
এর আগে ১৬ নভেম্বর গাড়িতে আগুন বা ককটেল নিক্ষেপ করে নাশকতামূলক পরিস্থিতি তৈরি হলে গুলির নির্দেশ দিয়ে বেতার বার্তা জারি করেছিলেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাশকতা করলে গুলি করার বিধান পুলিশ আইনেই আছে। ককটেল মেরে নাশকতা করলে আইনের কঠোর প্রয়োগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
চার দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব
ডেস্ক নিউজঃ চলতি সপ্তাহে বাংলাদেশে সফরে আসছেন কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বচওয়ে। আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন তিনি।
বাংলাদেশে এটি শার্লির প্রথম সরকারি সফর। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এক মুহূর্তে বিভিন্ন অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার অংশ হিসেবে তার এই সফর।
কমনওয়েলথের মহাসচিব ২০ নভেম্বর ঢাকায় নামবেন। চারদিনের এ সফর শেষে আগামী ২৪ নভেম্বর তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন।
সফরকালে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে কমনওয়েলথ মহাসচিবের। এর মধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন ছাড়াও হাইকমিশনার, রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।
বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে, যার মধ্যে আছে বাংলাদেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সুশাসন এবং সমৃদ্ধির জন্য জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে জাতীয় অগ্রগতিকে সমর্থনে চলমান সম্পৃক্ততা আরও গভীর করা।
বৈঠককালে শার্লি বচওয়ে কমনওয়েলথের নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা, যা গণতন্ত্রকে এর তিনটি মূল স্তম্ভের মধ্যে স্থান দেয়, সে সম্পর্কে অংশীদারদের অবহিত করবেন এবং কীভাবে উপযুক্ত সহায়তা বাংলাদেশের জনগণকে সর্বোত্তমভাবে সহায়তা করতে পারে; তাও শুনবেন।
শতাব্দীর শেষে বিলুপ্ত হতে পারে শীত, উপকূলের ১৮% ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা
আবহাওয়া ডেস্কঃ গ্রিনহাউস গ্যাস কমাতে বিশ্ব ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের জলবায়ু আগামী কয়েক দশকে বড় ধরনের পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে যেতে পারে—সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণার এমন সতর্ক বার্তা মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের হিসেবে, ২০৪১ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে দেশের গড় তাপমাত্রা অন্তত ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি আরও বেশি হয়ে দাঁড়াতে পারে দেড় থেকে সাড়ে ৪ ডিগ্রি।
ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়েজিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জলবায়ুর রিপোর্ট ২০২৫’ প্রকাশ করে। পাঁচ ধরনের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতি ধরে বিশ্লেষণ করা এই প্রতিবেদনে ভবিষ্যতের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও সমুদ্রপৃষ্ঠ নিয়ে বিস্তারিত পূর্বাভাস দেওয়া হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বর্ষার আগে মার্চ থেকে মে সময়টিতে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার আগের সময় ২০ দিন পর্যন্ত তাপপ্রবাহ থাকার সম্ভাবনা উল্লিখিত হয়েছে, যা বর্তমান সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বর্ষাতেও তাপপ্রবাহ বাড়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরে অন্তত দুইটি প্রবল তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হতে হতে পারে নগরবাসীকে। একটি বর্ষার আগে, আরেকটি বর্ষার পরে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে দিনের তাপমাত্রা সাড়ে ৪ ডিগ্রি পর্যন্ত বেশি অনুভূত হতে পারে।
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও সরে যাবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। শতাব্দীর শেষদিকে শীত মৌসুম প্রায় নামমাত্র থাকতে পারে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ মাত্র এক-দু’দিন অনুভূত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
বাংলাদেশে বর্ষাতেই মোট বৃষ্টির বড় অংশ হয়। নতুন পূর্বাভাস বলছে, ভবিষ্যতে বর্ষার বৃষ্টি আরও বাড়তে পারে। ২০৭০ সালের মধ্যে বর্ষার বৃষ্টি গড়ে ১১৮ মিমি বাড়তে পারে, আর শতাব্দীর শেষে এই বৃদ্ধি ২৫৫ মিমি পর্যন্ত যেতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অতিবৃষ্টি বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি। বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় বাংলাদেশের উপকূলে বৃদ্ধির হার বেশি হতে পারে—প্রতি বছর ৫.৮ মিমি পর্যন্ত। এতে শতাব্দীর শেষে উপকূলের প্রায় ১৮% এলাকা স্থায়ীভাবে পানির নিচে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকা পানিতে ডুবে থাকতে পারে। এ কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে ১০ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা উত্থাপন করা হয়েছে।
জলবায়ুর বদলে সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে কৃষিক্ষেত্রে। তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা বেড়ে ফসল উৎপাদন কমতে পারে। গবাদিপশুর রোগ বাড়তে পারে এবং মিঠাপানির উৎস সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। জনস্বাস্থ্যে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগ বাড়তে পারে। অতিরিক্ত গরমে বাইরে কাজ করা কঠিন হওয়ায় শ্রমজীবী মানুষের ওপরও চাপ বাড়বে।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বজলুর রশিদ বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন একদিনে থেমে যাবে না, তাই অভিযোজন পরিকল্পনা হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি। উপকূল সুরক্ষা, বাঁধ ও আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, আগাম সতর্কবার্তা আধুনিকায়ন এসব ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর পরিবেশের সংকট নয়, বরং কৃষি থেকে জ্বালানি সব খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। তাই সমন্বিতভাবে কাজ করাই একমাত্র পথ।
২০১১ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং নরওয়ের আবহাওয়া সংস্থা যৌথভাবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণা করছে। নতুন প্রতিবেদনটি তাদের তৃতীয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ।
শেখ হাসিনা-কামালকে দেশে ফেরাতে ইন্টারপোলকে চিঠির প্রস্তুতি এনসিবির
ডেস্ক নিউজঃ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়ে নতুন চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের কপিও সংযুক্ত করা হবে।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রায়ের কপি হাতে পাওয়া মাত্রই চিঠি পাঠানো হবে। এর আগে ইন্টারপোলকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ করে দুইবার চিঠি পাঠানো হলেও সংস্থাটি নোটিশ জারির যৌক্তিকতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা চেয়েছিল।
গত সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায় ঘোষণার সময় দুজনেই পলাতক ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই সময়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
রায় কার্যকর করতে এখন তাদের দেশে ফেরানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা আগে থেকেই চলছিল। তখন মামলা বিচারাধীন থাকায় দণ্ডের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। এখন রায় ঘোষণা হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডের তথ্য যুক্ত করে নতুন করে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও সেই চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনা কঠিন হতে পারে। তাই ইন্টারপোলের মাধ্যমে প্রচেষ্টাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।
রায় ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইতিমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে; প্রয়োজনে আরও চিঠি দেওয়া হবে।
পুলিশের কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নয়, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে দেশে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই উদ্যোগ। আগের চিঠির সময় তিনি শুধু পরোয়ানাভুক্ত ছিলেন, এখন তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত, ইন্টারপোলের নোটিশ জারির ক্ষেত্রে যা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আওয়ামী লীগের ‘জন্মস্থান’ রোজ গার্ডেন কিনে রাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩২ কোটি টাকা
ডেস্ক নিউজঃ পুরান ঢাকার হৃষিকেশ দাস রোডের যে ঐতিহাসিক ভবনে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই রোজ গার্ডেন কিনতে গিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হওয়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বলেন, অনুসন্ধানে যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধেই কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘রোজ গার্ডেন’ বাড়িটি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রের ৩৩২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে অভিযান চালায়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য ও নথির ভিত্তিতে কমিশন প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করেছে।
২০১৮ সালে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষিত ‘রোজ গার্ডেন’ ভবনটি কিনে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এজন্য ব্যয় হয় ৩৩১ কোটি ৭০ লাখ ২ হাজার ৯০০ টাকা।
ওই বছরের ৮ অগাস্ট সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের জন্মস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী রোজ গার্ডেন ভবনটি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সরকার ওই ব্যক্তিমালিকানাধীন পুরাকীর্তিটি কিনে নেয়।
রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী সম্মেলনেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি পায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এই দল স্বাধিকার আন্দোলন ও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়।
১৯৩১ সালে পুরান ঢাকায় ২২ বিঘা জমির ওপর ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ঋষিকেশ দাস যে বাগানবাড়ি নির্মাণ করেন, সেটিই পরে ‘রোজ গার্ডেন’ নামে পরিচিত হয়। পশ্চিমমুখী ওই দোতলা ভবনের চারপাশ তিনি সাজিয়ে তোলেন দেশ-বিদেশ থেকে আনা বিরল প্রজাতির গোলাপের বাগানে। সেখান থেকেই এর নাম ‘রোজ গার্ডেন’।
করিন্থীয়–গ্রীক শৈলী অনুসরণে তৈরি প্রায় সাত হাজার বর্গফুট আয়তনের ভবনটির দ্বিতীয় তলায় রয়েছে একটি বৃহৎ জলসা ঘর। এর মেঝে সাদা পাথরের এবং সিলিংয়ে সবুজ কাচ দিয়ে তৈরি ফুলের নকশা।
ঋষিকেশ তার গোলাপ বাগানকে অলংকৃত করেছিলেন দেশ–বিদেশ থেকে আনা পাথরের ভাস্কর্য, সুদৃশ্য ফোয়ারা এবং সামনের অংশে শানবাঁধানো পুকুর দিয়ে। সে সময় রোজ গার্ডেন ছিল ঢাকার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।
তবে নির্মাণের কয়েক বছরের মধ্যেই ঋষিকেশ দাস দেউলিয়া হয়ে পড়েন। ১৯৩৬ সালে তিনি বাড়িটি ঢাকার বই ব্যবসায়ী খান বাহাদুর মৌলভী কাজী আবদুর রশীদের কাছে বেচে দেন।
বিখ্যাত প্রভিন্সিয়াল লাইব্রেরি এখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়, যার মালিক ছিলেন ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ।
১৯৬৬ সালে আব্দুর রশিদের ভাই কাজী হুমায়ূন ভবনের মালিকানা পান। তারপর থেকে ভবনটির নাম হুমায়ূন সাহেবের বাড়ি নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।
১৯৭০ সালে কাজী হূমায়ূন বাড়িটি তৎকালীন চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থা মোশন পিকচার্স লিমিটেডের কাছে ভাড়া দেন। সেই সময় ভবনটি বেঙ্গল ষ্টুডিও নামে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সালে বেঙ্গল ষ্টুডিও চলে গেলে আবার বাড়িটি চলে আসে কাজী হূমায়ূন পরিবারের কাছে।
ততদিন আর কাজী হুমায়ূন বেঁচে ছিলেন না, ভবনটির মালিকানা পান তার বংশধর কাজী রকিব।
১৯৮৯ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর রোজ গার্ডেনকে সংরক্ষিত ভবন হিসেবে ঘোষণা দিলেও পরে ভবনটির মালিকানা মূল মালিকরাই ফিরে পান। তারপর থেকেই ভবনটির দেখভাল চলছিল কাজী রাকিব পরিবারের তত্ত্বাবধানে। রোজ গার্ডেনের মালিক লায়লা রকীব ও তার সন্তানদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশন দলিল মূলে এটি কিনে নেওয়া হয়।