গণপূর্তে অনিয়ম ঢাকতে ‘সাফাই সাংবাদিকতা’: বিশেষজ্ঞরা বলছেন—এটি গণমাধ্যমের জন্য ভয়াবহ সংকেত

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে যখন নানা পত্রিকা অনুসন্ধানী খবর প্রকাশ করছে, তখনই একদল স্বার্থান্বেষী সাংবাদিককে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি। তারা নিজেরা সংবাদকর্মী হলেও দায়িত্ব পালন না করে বরং কিছু প্রভাবশালী প্রকৌশলীর প্রতি আনুগত্য দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। নানা অনলাইন পোর্টালে হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে এমন কিছু প্রতিবেদন, যেগুলো আসলে সাংবাদিকতা নয়—বরং নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের রক্ষায় ‘সাফাই প্রচার’।

সম্প্রতি গণপূর্ত অধিদপ্তরের ই/এম শাখার প্রকৌশলী মো. কায়কোবাদ–এর নাম জড়িয়ে কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হয়েছে ইতিবাচক, অতিরিক্ত প্রশংসামূলক ও প্রশ্নবোধক কিছু রিপোর্ট। এসব রিপোর্টে দেখা গেছে—একটি পত্রিকা অনিয়ম নিয়ে যখন অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছে, তখনই আরেক পত্রিকা বা পোর্টাল ঠিক তার উল্টো সুরে কায়কোবাদকে ‘সৎ, দক্ষ ও নিন্দিত হওয়ার অযোগ্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। যেন গণমাধ্যমের দায়িত্ব তথ্য তুলে ধরা নয়—কাউকে রক্ষা করা।

গণযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিকরা বলছেন—এ ধরনের পাল্টা-রিপোর্ট আসলে সংবাদপত্র আইন ১৯৭৩–এর মৌলিক চেতনার পরিপন্থী। সাংবাদিকতার পেশাগত নীতিমালায় ‘স্বার্থসংঘাত’ স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ, কিন্তু এখানে সংবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘পিআর টুল’ হিসেবে। আইনজীবীদের মতে, কোনো রিপোর্টে অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি প্রমাণসহ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে পারেন—কিন্তু এক পত্রিকার রিপোর্ট ঢাকতে আরেক পত্রিকার পক্ষে গিয়ে ব্যক্তিগত সাফাই দেওয়া আইনসম্মত নয়, এটি সরাসরি প্রেস এথিকস ভঙ্গ।

এই পাল্টা সাংবাদিকতার আরেকটি বড় সমস্যা হলো—ভুল ছবি, ভুল পরিচয়, অযথা ব্যক্তির প্রশংসা, অসংগত তথ্য জোড়া লাগানো। অভিজ্ঞ এক সম্পাদক তীব্র সমালোচনা করে বলেন, এসব ভুল কেবল অদক্ষতা নয়, বরং জনমত বিভ্রান্ত করার কৌশল। যেসব পত্রিকা সাধারণত অনিয়ম উন্মোচন করে, সেগুলোকে টার্গেট করেই এই ‘সাফাই সাংবাদিকতা’ চালানো হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভেতরের অবস্থার কথা তুলে ধরেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। তাঁদের ভাষায়, গণপূর্তের প্রভাবশালী কয়েকজন প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন সাংবাদিককে ব্যবহার করছেন নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে। কোনো অনিয়ম প্রকাশিত হলেই শুরু হয়—অভিযুক্ত কর্মকর্তার ছবি এড়িয়ে অন্য কারো ছবি ব্যবহার, অনলাইনে হঠাৎ প্রশংসামূলক নিউজের বন্যা, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের কাছে ফোন করে ‘নরম করার চেষ্টা’, এবং আরেক পত্রিকার মাধ্যমে প্রথম রিপোর্টকে ভুল প্রমাণের খেলা। তাদের কথায়, “দুর্নীতির রিপোর্ট দেখলেই ওরা দালাল সাংবাদিক পাঠায়।”

দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হলো সত্য প্রকাশ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে ঠিক উল্টো—যেখানে একটি পত্রিকা প্রশ্ন তুলছে, সেখানে অন্য পত্রিকা সেই প্রশ্নকে ভুল প্রমাণ করতে উঠে পড়ে লাগছে। এতে প্রকৃত সত্য আড়ালে পড়ে যায়, জনমত বিভ্রান্ত হয় এবং দুর্নীতিবাজরা বাঁচার সুযোগ পায়।

দেশের সিনিয়র সাংবাদিক ও গণযোগাযোগবিদরা এ পরিস্থিতিকে গণমাধ্যমের জন্য একটি ভয়ংকর বিপদ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, সংবাদ কখনোই ব্যক্তিবিশেষের ঢাল হতে পারে না। সাংবাদিকতা সত্য উদ্ঘাটনের জায়গা, কারো ব্যক্তিগত প্রচারের প্ল্যাটফর্ম নয়। এভাবে স্বার্থান্বেষী প্রকৌশলী ও কিছু সাংবাদিকের যোগসাজশ চলতে থাকলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো আরো অস্বচ্ছ হবে, আর দুর্নীতি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

গণপূর্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হয়। এখানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে—যে পত্রিকা অনিয়ম প্রকাশ করে, তারা হয় চাপের মুখে পড়ে; আর যে পত্রিকা অনিয়ম আড়াল করে, তারা নানা সুবিধা পায়। এটি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং জনগণ—তিন পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

সবশেষে বলা যায়—সংবাদকে অস্ত্র বানিয়ে অনিয়ম আড়াল করা গণতন্ত্রের জন্য সরাসরি হুমকি। এক পত্রিকার রিপোর্ট ঠেকাতে আরেক পত্রিকার সাফাই কেবল অপেশাদার সাংবাদিকতা নয়, এটি সত্যকে চাপা দেওয়ার ভয়ংকর প্রচেষ্টা। প্রকৃত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন নিরপেক্ষ অনুসন্ধান, তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং এবং যথাযথ তদন্ত—গৃহপালিত সাংবাদিকতা নয়।




আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে ইউনিসেফের সাথে বৈঠক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গতকাল ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ইউনিসেফের গুলশানস্থ বাংলাদেশ, কার্যালয়ে ইউনিসিফের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নেতৃত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত বৈঠকের মুল বিষয় ছিলো আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ইশতেহারে শিশু নিরাপত্তা। বৈঠকে জাতীয় পার্টি তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে শিশুদের নিরাপত্তা বিধানে ৫টি বিষয় সন্নিবেশন করার আশ্বাস প্রদান করেন।

বিষয়গুলো হলো,

১) শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রনালয় হতে শিশুদের জন্য বাজেট বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ চালু করা।
২) ১৮ বছরের নীচে সকল মেয়ে শিশুদের শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা।
৩) ঝড়ে পড়া (ড্রপট আউট) শিক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরী করা এবং তাদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা।
৪) বিভিন্ন পর্যায়ে ৩০ হাজার স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে শিশু নিরাপত্তা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। প্রায় ৪০ হাজার প্রশিক্ষনার্থী সিসিসিপি কর্মীদের দ্বারা শিশুর সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা।
৫) শুধুমাত্র শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাইবার মিডিয়া এক্ট-এ প্রয়োজনীয় ধারা সন্নিবেশন করা।

উক্ত বৈঠকে জাতীয় পার্টির প্রতিনিধি দলের সাথে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রেসিডিয়াম সদ্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, এডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, আরমান হোসেন মিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর (অব:) মোঃ মাহফুজুর রহমান ।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, রানা ফ্লাওয়ার্স, রিপ্রেজেনেটিটিভ ইউনিসেফ, দীপিকা মেহরিশ শর্মা, চিফ চাইল্ড নিউট্রেশন এন্ড ডেভলোপমেন্ট সেকশন, মিগুয়েল মেটোস মুনাজ, চিফ কমিউনিকেশন এন্ড এডভোকেসী।




বিআরটিসিতে অনিয়মের শীর্ষে উপমহাব্যবস্থাপক গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত। পুরোনো সরকারের সময় যেসব কর্মকর্তা প্রকাশ্যে দুর্নীতি করে তদন্ত প্রতিবেদনে ধরা পড়েছিলেন, তাদের অনেকেই এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল আছেন। সেই তালিকার সবচেয়ে আলোচিত নাম হচ্ছে বিআরটিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) গোলাম ফারুক। তার বিরুদ্ধে সরাসরি ৪ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বিভিন্ন তদন্তেই উঠে এসেছে। কিন্তু শাস্তির বদলে তিনি পেয়েছেন পদোন্নতি; এমনকি এখনো তিনি বিভিন্ন ডিপো, বাস, কাউন্টার লিজসহ নানা জায়গায় অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাও তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে সহযোগিতা করছেন বলেই সংগঠনের অনেক কর্মচারীর দাবি।

বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন ডিপোতে বাস মেরামত, যন্ত্রাংশ ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ—এসব কাজে গোলাম ফারুক ও তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশন) নূর-ই-আলম ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে বিপুল টাকা লোপাট করেছেন। কোথাও অকেজো বাস কেটে বিক্রি করে অর্থ গায়েব করা, কোথাও আবার বিআরটিসির নিজস্ব চালকদের বাদ দিয়ে বাইরের চালকদের দিয়ে বাস চালিয়ে রাজস্ব জমা না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে, এখনও তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ লিজ বহাল রেখে বা লিজ দেওয়ার নামে নিয়মিত টাকা তুলছেন।

বিআরটিসি কর্মীদের ভাষায়, গোলাম ফারুক নামটি শুনলেই সবার মনে আসে ঘুষ, অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার কথা। অনেকে দাবি করেন, আগের সরকার আমলে তিনি ব্যাপকভাবে সুবিধা পেয়েছেন এবং এখনো পূর্ববর্তী প্রভাবশালী মহলের লোকজনকে নানা উপায়ে সহায়তা করে যাচ্ছেন। কোনো ফাইল তার টেবিলে গেলে ঘুষ ছাড়া তা নড়াচড়া করে না—অনেক ভুক্তভোগী পরিবহন ব্যবসায়ী এমন অভিযোগই তুলে ধরেছেন।

তদন্ত নথিতে দেখা যায়, বগুড়া ডিপোতে কর্মরত অবস্থায় তিনি ২ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৭৫০ টাকা রাজস্ব তহবিলে জমা দেননি। আবার অন্য এক তদন্তে উল্লেখ আছে, বাইরের চালকদের দিয়ে গাড়ি চালিয়ে ১ কোটি ১২ লাখ ৬২ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে তার নেতৃত্বে। মোহাম্মদপুর ডিপোতে দায়িত্ব পালনের সময়ও রক্ষণাবেক্ষণ, বেতন, জ্বালানি—এসব খাতে অনিয়ম করে ২৮ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি করেছেন বলে বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে জানা যায়।

এতসব অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময় তদন্ত হলেও কোনো শাস্তি হয়নি। বরং অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি মামলা খারিজ করে নিয়েছেন এবং পরবর্তীতে পদোন্নতিও পেয়েছেন। শাজাহান খানের সময় তিনি বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিলেন—এমন কথাও বহু কর্মকর্তার মুখে শোনা যায়। ফলে এখনো কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না।

গাবতলী ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালীন তিনি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ৩৫ লাখ টাকার বেশি পরিশোধ করেননি—এমন অভিযোগও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সব মিলিয়ে বিআরটিসির বিভিন্ন নথিতে গোলাম ফারুকের বিরুদ্ধে মোট ৪ কোটি ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বিআরটিসির কর্মীদের মতে, বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লাও কোনোভাবে তাকে ঠেকাতে আগ্রহী নন, বরং নিজেও সুবিধাভোগী। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতির মধ্যে আটকে গেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ কয়েকবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করলেও তা কার্যকর না হওয়ায় অনেকেই হতাশ।

অনেক কর্মচারী প্রশ্ন তুলছেন—যদি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেও এমন বিতর্কিত কর্মকর্তাদের সরানো না যায়, তাহলে ভবিষ্যতে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি গোষ্ঠীই আবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসবে। আর এর দায় কে নেবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।




অবৈধ সম্পদ গোপন ও অর্জন: দুদকের ফাঁদে কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট শাহজাহান দম্পতি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিএন্ডএফ) এজেন্ট ও আমদানি–রপ্তানিকারক মোহাম্মদ শাহজাহান এবং তার স্ত্রী ফারজানা আক্তারের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে এই দুই মামলা দায়ের করেন।

দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, মোহাম্মদ শাহজাহান জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত দুই কোটি ৮৩ হাজার ৭৩৪ টাকার সম্পদ নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। নথি যাচাই করে দুদক জানায়, এই সম্পদের উৎস তিনি প্রমাণ করতে পারেননি। এ কারণে তার বিরুদ্ধে দুদক আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শাহজাহানের স্ত্রী ফারজানা আক্তারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুদক জানায়, তিনি তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৫১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪৮ টাকার সম্পদ গোপন করেছেন এবং আরও দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৮ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮ টাকা হলেও এর মধ্যে বৈধ আয়ের প্রমাণ পাওয়া গেছে মাত্র ১১ কোটি ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকার। ফলে বাকি দুই কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৬৮ টাকা জ্ঞাত আয়–বহির্ভূত বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

দুদক জানায়, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নথিপত্র যাচাই–বাছাইয়ের পরই এই দুই মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অনিয়ম অভিযোগে দুদকের সক্রিয় অনুসন্ধান

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে রেকর্ডপত্র ধরে গভীর অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দায়িত্বের অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ, মানিলন্ডারিংসহ অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এসব অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি নিশ্চিত করতে দুদকের দুই সদস্যের একটি টিম দীর্ঘদিন ধরে বন্দরের বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র খুঁটিয়ে দেখছে। বন্দর কর্তৃপক্ষও দুদকের চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ফাইল সরবরাহ করেছে।

দুদক শুধু বন্দরেই নয়, নির্বাচন কমিশন, এনবিআরসহ কয়েকটি সরকারি দফতরের কাছেও মনিরুজ্জামান সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। অনুসন্ধান শুরু হলেও এখনো অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানাতে চায়নি দুদক। জানা যায়, অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক প্রথমে প্রাথমিক অনুসন্ধান করে, পরে গত জুলাই মাসে সহকারী পরিচালক মো. নওশাদ আলীকে প্রধান করে একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। তার সঙ্গে দায়িত্বে আছেন উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন। দায়িত্ব পাওয়ার পর তারা বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কর্ণফুলী নদীর ড্রেজিংসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অনুমোদনপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, চুক্তিপত্র, বাস্তবায়ন বিবরণী থেকে শুরু করে বিল-ভাউচার পর্যন্ত সব নথিপত্র চেয়েছেন।

অন্যদিকে দুদক সূত্র বলছে, সিএজি দফতরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে চট্টগ্রাম বন্দরের ৭২টি বড় অনিয়ম চিহ্নিত হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৪টি অনিয়মেই রয়েছে প্রায় ২৬৫ কোটি টাকার গড়মিল। এসব অনিয়মের বেশির ভাগই হয়েছে দরপত্র ও চুক্তি প্রক্রিয়ায় কারসাজির মাধ্যমে—এ কারণেই দুদক সরাসরি অনুসন্ধানে নেমেছে।

অনুসন্ধান দলের প্রধান সহকারী পরিচালক নওশাদ আলী জানিয়েছেন, তারা অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন এবং বন্দর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে অনুসন্ধান এখনো চলমান, তাই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে কিনা তা বলতে রাজি নন তিনি। তদন্ত শেষ হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্দরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, দুদক যে নথি চাইছে তারা তা দিচ্ছেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ আগস্ট এস এম মনিরুজ্জামান চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। এর আগে চেয়ারম্যান থাকাকালীন মোহাম্মদ সোহায়েল আহমদকে একই বছর ২০ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বন্দর সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি ছাড়াও র‌্যাবে দায়িত্ব পালনকালে গুম-খুনের অভিযোগ রয়েছে।




শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচন নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রয়োজন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও আনন্দময় পরিবেশে আয়োজন করতে সেনাবাহিনীর সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে মিরপুর সেনানিবাসে ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) কোর্স–২০২৫ এর গ্র্যাজুয়েশন সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশের তরুণ সামরিক কর্মকর্তাদের হাতে সনদ তুলে দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ বছর চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশের ৩১১ জন অফিসার প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশ নেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, ‘দেশবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনকে সত্যিকার অর্থে একটি শান্তিপূর্ণ উৎসব এবং আনন্দমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত করতে আমাদের সেনাবাহিনীর সহায়তা একান্তভাবে কামনা করছি।’

তিনি জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানেও সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘সেনাবাহিনী সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এই কারণে আমি তাদের ভূমিকায় ভূয়সী প্রশংসা করি।’

কোর্সে অংশগ্রহণকারী অফিসাররা অনুষ্ঠানে অর্জিত জ্ঞান ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাদের মতে, জাতীয় যে কোনো সংকটময় মুহূর্তে এই প্রশিক্ষণ কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়তা করবে।

এক বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারী বলেন, ‘ডিএসসিএসসি-তে এই কোর্সে আমরা যে নেতৃত্ব, কৌশল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেছি, তা আমাদের দেশের এবং এর বাইরে যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে। বিশেষ করে যে কোনো জাতীয় সংকটে আমরা আমাদের অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।’

চীন থেকে অংশ নেওয়া এক অফিসার বলেন, ‘বাংলাদেশের এই সামরিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে চলেছে। ২৩টি দেশের সহকর্মীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ পাওয়ায় আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে। আমরা আশা করি, এই জ্ঞান ভবিষ্যতে আমাদের নিজ নিজ দেশকে নিরাপত্তা দিতে কাজে লাগবে।’

বাংলাদেশি আরেক অফিসার প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের প্রধান উপদেষ্টা যে কথাগুলো বলেছেন, তা অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমরা আশা করি, আমরা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করলাম, তারা দেশ রক্ষায় এবং প্রয়োজনে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে, যেমন: একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকব।’




‘তদন্তের পর আমি জানতে পারব’, সাংবাদিক মিজানুর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ দৈনিক ভোরের কাগজ অনলাইন বিভাগের প্রধান মিজানুর রহমান সোহেলকে গভীর রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া এবং পরে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘তদন্তের পরই তিনি বিষয়টি জানতে পারবেন।’

বুধবার (১৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে মহান বিজয় দিবসের সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর আজ সকাল ১০টার দিকে তাকে বাসায় পৌঁছে দেয় ডিবি। ফোনে তিনি বলেন, ‘ডিবি আমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছে। আমি সুস্থ আছি।’

এ প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি আমি প্রথম শুনলাম। তদন্ত করার পরই জানতে পারব।’ সাংবাদিকেরা জানতে চান, পরোয়ানা ছাড়াই রাতে তুলে নেওয়া কি আইনবহির্ভূত কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি আগে বিষয়টি দেখব।’

ক্ষমতাচ্যু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, রায়ের পর কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হয়নি। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে অতিরিক্ত কোনো ঝুঁকি বা অস্থিরতার আশঙ্কাও নেই।

বিজয় দিবসের কার্যক্রমে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগের মতোই কর্মসূচি হবে। শুধু এবারও গতবারের মতো প্যারেড অনুষ্ঠিত হবে না।’




ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চব্বিশের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুড়িয়ে ফেলা শহীদদের জন্য কিছু করতে না পারায় তাদের পরিবারসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন তিনি।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এ মামলায় ২৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে গত বছরের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঘটনার পুরো বর্ণনা তুলে ধরেন রাজসাক্ষী আবজালুল। 

যদিও মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি ছিলেন না। তবে ১৫ আগস্ট নিজের ইস্যু করা অস্ত্র জমা দিতে এসে জানতে পারেন লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎকে মরদেহ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ী করেন তিনি। একইসঙ্গে ওসি সায়েদের নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রোল ঢেলে ছয়টি মরদেহ পুড়িয়ে দেন বলে জানান তিনি। সবশেষ ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান তিনি।

চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় উপস্থিত আট আসামির সাতজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করেন এসআই শেখ আবজালুল হক। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চেয়ে মামলার ব্যাপারে যা জানেন সব আদালতের কাছে বলতে চান। পরে তার দোষ স্বীকারের অংশটুকু রেকর্ড করা হয়। একইসঙ্গে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাজসাক্ষী হওয়ার অনুমতি পান তিনি।

এর আগে মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতির কারণে হয়নি। যদিও আসামিদের হাজির করা হয়। ১২ নভেম্বরও একই কারণে সাক্ষীকে হাজির করেনি প্রসিকিউশন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন প্রত্যক্ষদর্শী শাহরিয়ার হোসেন সজিব। তার সামনেই একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এমনকি তার বন্ধু সাজ্জাদ হোসেন সজলকেও আগুনে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। পরে তাকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

৩০ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন গুলিবিদ্ধ হওয়া ভুক্তভোগী সানি মৃধা। ২১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে দেওয়া জবানবন্দিতে পুলিশের গুলিতে নিজে আহত হওয়ার কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার নির্মমতার দৃশ্যের বিবরণ দেন। ২৯ অক্টোবর জব্দ তালিকার সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আশুলিয়া থানার এসআই মো. আশরাফুল হাসান। তিনি একই থানার ওসির নির্দেশে চলতি বছরের ১৪ এপ্রিল রাইফেলের ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেন বলে জানিয়েছেন। পরে থানায় জমা দেন এ আলামত।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের মতো সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম ও শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। এর আগের দিন সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ার সেই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরেন তিনি।

গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে এ মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামি হলেন-  ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজাল ও কনস্টেবল মুকুল। তবে সাবেক এমপি সাইফুলসহ আটজন এখনো পলাতক রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের মরদেহ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।




লালমনিরহাটে কৃষকের পাকা ধান কেটে দিল কৃষক দল

মোঃ জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাট সদর উপজেলা কৃষকদলের উদ্যোগে গরিব অসহায় কৃষকদের পাকা ধান কেটে দিয়েছেন কৃষক দল।

শ্রমিক ও যন্ত্রের অভাবে গরিব কৃষকদের ধান সময় মত কাটতে না পারায় এ এটা কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল দুপুরে মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের কাজিরচওড়া গ্রামের কৃষক এন্তাজুল  হকের ২ একর ও সোলায়মান আলীর ৩০ শতক হারাটি  ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ডের আশরাফুল হকের ৪৫ শতক  সিরাজুল হকের ৪০ শতাংশ  জমির ধান  কেটে দেন কৃষক দলের নেতকর্মীরা।

জেলা কৃষক দলের সভাপতি নুরন্নবী মোস্তফা প্রধান অতিথি থেকে ধান কাটা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দল লালমনিরহাট জেলা শাখার যুগ্নু  সাধারণ সম্পাদক  এ কে এম জাহেরুল হক( দুলু) সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক সারোয়ারুল হক লিংকন এর নেতৃত্বে জেলা ও সদর উপজেলার পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী কর্মী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

এ সময় উপস্থিত  ছিলেন, জেলা কৃষক দলের  যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক,  জাতীয়তাবাদী কৃষক দল  কুলাঘাট  ইউনিয়ন শাখার সংগ্রামী সভাপতি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। মোগলহাট  ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এ এইচ এম রাশেদ। হারাটি ইউনিয়ন শাখার সংগ্রামী সভাপতি ফরহাদ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিয়ার রহমান। গোকুন্ডা  ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। বড় বাড়ি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি  মোহাম্মদ জাহিদুল হক।

বাংলাদেশ প্রেসক্লাব লালমনিরহাট  জেলা শাখার  সাধারন  সম্পাদক ও কৃয়ক দলের দপ্তর সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম প্রমুখ।

ধান কাটা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি জানান,

সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গরিব অসহায় কৃষকদের পাশে আমরা দাঁড়াবো এবং যারা অর্থের অভাবে ধান কাটতে পারেন না তাদের খুঁজে বের করে আমরা তাদের ধান কেটে দিবো।

এ মৌসুমের ধান কাটা শেয না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

এ সময় জেলা ও সদর উপজেলার কৃষক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




নেক্সট-লেভেল কোয়ালিটি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ‘অ্যাপেক্স গার্ড’ নিয়ে আসার ঘোষণা দিলো অপো

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ মানের পাশাপাশি, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে সুরক্ষিত রাখতে আজ (১৬ নভেম্বর) সম্পূর্ণ টেকনোলজি স্যুট অ্যাপেক্স গার্ড নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে অপো। স্মার্টফোন থেকে ক্রেতারা যা আশা করে তার সবই নতুন এই ধারণার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রতিদিনের ব্যবহারের বাইরে গিয়ে পণ্যের জীবনকাল বর্ধিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রির স্ট্যান্ডার্ডকে নেক্সট লেভেল নিয়ে যাওয়া।
অপোর গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার ও আরঅ্যান্ডডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) হাব বিনহাই বে ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটির ক্ষেত্রে নতুন এই ভিশন উন্মোচন করে অপো, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা থেকে শুরু করে পুরো ডিভাইসটি তৈরি হওয়া পর্যন্ত, পণ্য উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে মানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে অপো গ্লোবালের ডিরেক্টর অব ম্যানুফেকচারিং গ্রাস শান বলেন, “সবকিছুর ভিত্তিই হলো মান (কোয়ালিটি)। এক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপো প্রত্যেক ব্যবহারকারীর স্বকীয়তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মান কেবল কোনো ফিচার নয়; এটি ‘মেক ইওর মোমেন্ট’-এর ফ্রিডম।”
অ্যাপেক্স গার্ডের মাধ্যমে কোয়ালিটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া
ব্যবহারকারীর সত্যিকারের চাহিদাগুলোকে বিস্তৃত সমাধানের মাধ্যমে পূরণ করার ক্ষেত্রে অপোর প্রতিশ্রুতির মূলে রয়েছে অ্যাপেক্স গার্ড। এটি এমন একটি প্রযুক্তি স্যুট, যা সমস্ত প্রোডাক্ট লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তিনটি মূল ক্ষেত্রের মানকে উন্নত করতে ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রতিদিনের ব্যবহারের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; ডিজাইনে মৌলিক অগ্রগতির পাশাপাশি, অ্যাপেক্স গার্ড পানি বা দুর্ঘটনাক্রমে পড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকেই সুরক্ষা দেয় না; বরং, দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইরেও একটি নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। উপাদান ও পণ্যের ডিজাইনে অগ্রসর গবেষণার মাধ্যমে অপো আল্ট্রা-হাই-স্ট্রেংথ স্টিল ও এএম০৪ অ্যারোস্পেস-গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়ের মতো উপকরণ তৈরি করেছে। যা প্রতিদিনের ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার পাশাপাশি, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সুরক্ষা নিশ্চিতে আর্মর শিল্ডের মতো কাঠামোগত সমাধান নিয়ে এসেছে।
পণ্যের জীবনকালের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; নিশ্চিন্ত অভিজ্ঞতার জন্য অ্যাপেক্স গার্ড নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি নিশ্চিত করে যা সময়ের পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ। কাস্টমাইজড স্ফেরিকাল সিলিকন-কার্বন ম্যাটেরিয়ালসহ অপো সিলিকন-কার্বন ব্যাটারির মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এটি, যা ব্যাটারি সেলের জীবনকালকে অতিরিক্ত ৪০০ সাইকেল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। অ্যাপেক্স গার্ড অপো ডিভাইসগুলোকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নতুনের মতো পারফর্ম করতে সক্ষম করে তোলে।
বিদ্যমান মানদণ্ডের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী মান নিশ্চিত করতে অপো টিইউভি রাইনল্যান্ড, টিইউভি সুড ও এসজিএস সহ সুপরিচিত আন্তর্জাতিক টেস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নিচ্ছে এবং ইন্ডাস্ট্রির বাকিদের চেয়ে
 
মানদণ্ডে তাদের ডিভাইসগুলোকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখছে। অপোর ডিভাইসগুলো অত্যন্ত নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়া ও কঠোর টেস্টিং পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন উপকরণগুলোর মান কয়েক দফায় মূল্যায়ন এবং প্রি-আরঅ্যান্ডডি থেকে পণ্যের জীবনচক্রের শেষপর্যন্ত ১৮০টিরও বেশি ডিভাইসে এটি পরীক্ষা করে দেখা। এছাড়াও, অপোর বিক্রয়োত্তর সেবাও ইন্ডাস্ট্রির মানদণ্ডকে অতিক্রম করে।
নেক্সট লেভেল সফটওয়্যার স্মুথনেসের মাধ্যমে কোয়ালিটি যাচাই-বাছাই
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার মধ্যে স্মুথনেসই সেই সরাসরি উপায়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্মার্টফোনের মান বুঝতে পারেন। সফটওয়্যার উদ্ভাবনকে অ্যাপেক্স গার্ড স্যুটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অপো এই অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিদিনের স্মুথনেস নিশ্চিত করতে কালারওএস ১৬-এর অল-নিউ লুমিনাস রেন্ডারিং ইঞ্জিন, অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রথম ইউনিফাইড অ্যানিমেশন আর্কিটেকচার চালু করেছে, যা পুরো সিস্টেম জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ চালু ও স্মুথ ট্রানজিশন প্রদান করে। এছাড়াও, অল-নিউ ট্রিনিটি ইঞ্জিনের মধ্যে থাকা চিপ-লেভেল ডায়নামিক ফ্রেম সিঙ্ক টেকনোলজি, মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ফ্রেম রেন্ডারিংয়ের প্রতিটি সিস্টেমকে রিয়েল-টাইমে সাড়া দিতে সহায়তা করে। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর কাজগুলো পরিচালনার জন্য সেন্সর-অফলোড প্রযুক্তি, শক্তিশালী এসওসি ব্যবহার করে, যা ৪কে ৬০ এফপিএস (ফ্রেম পার সেকেন্ড) ভিডিও রেকর্ড করার সময় মোট বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
দীর্ঘমেয়াদী কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে অপো এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসগুলোর জন্য কালারওএস ১৬-তে ইনস্ট্যান্ট রিফ্রেশ চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীদের কেবল এক ট্যাপে ডেটা ফ্র্যাগমেন্টেশন ও অ্যাপ পারমিশন অপটিমাইজ করতে দেয়। অপোর প্রতিটি ডিভাইস যেন বহুবছর ব্যবহারের পরেও স্মুথ ও রেসপনসিভ থাকে তা নিশ্চিত করতে ৪৮, ৬০ বা ৭২ মাস পর্যন্ত ফোনগুলোকে কঠোর এজিং টেস্টের মধ্যে রাখা হয়।
স্মুথনেসের ওপর মনোযোগের অংশ হিসেবে, অপো পরিমাপযোগ্য ডেটা দিয়ে স্মুথনেস পরিমাপের মূল্যায়ন সিস্টেম তৈরি করেছে। অপো স্মুথনেস বেসলাইন টেস্ট হাজারো রিয়েল-ওয়ার্ল্ড সিনারিওতে সফটওয়্যার কর্মক্ষমতা পরিমাপ করতে সক্ষম। যেখানে হোম-স্ক্রিন অ্যাপ চালু ও নিরবচ্ছিন্ন ট্রানজিশন নিশ্চিত করতে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম প্যারালাল অ্যানিমেশন স্ট্যান্ডার্ড ৬ জিরো (শূন্য ল্যাগ, শূন্য ল্যাটেন্সি, শূন্য ফ্লিকার, শূন্য ক্র্যাশ, শূন্য মিসলঞ্চ ও শূন্য ফ্রিজ) নিয়ে আসা হয়েছে। এটি এন্ট্রি-লেভেল এ সিরিজ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগশিপ ফাইন্ড সিরিজ পর্যন্ত সমস্ত ডিভাইসে সফটওয়্যার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
বিনহাই বে ক্যাম্পাস, অপোর কোয়ালিটির উৎস
অপো বিনহাই বে’তে আরও অত্যাধুনিক স্কেল ও সিনার্জির সুবিধা যুক্ত করেছে; ফলে, আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও কেন্দ্রীভূত রিসোর্স ব্যবহারের মাধ্যমে অপো কোয়ালিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে ম্যাটেরিয়ালস ল্যাব, ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল টেস্টিং ল্যাব, পাওয়ার কনজাম্পশন ইন্টেলিজেন্ট ল্যাব ও কমিউনিকেশন ল্যাবের মতো অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিজ থাকায় নির্ভরযোগ্য হার্ডওয়্যার ও স্মুথ সফটওয়্যার নিয়ে আসার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।