“শনিবার জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক”

ইসলামিক ডেস্কঃ হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলকদ মাসের তারিখ নির্ধারণে আগামীকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।




“অবরোধের পর প্রথম, হরমুজ পাড়ি দিল তিন ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার: কেপলার”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংকারী সংস্থা কেপলার’র তথ্যমতে, মার্কিন অবরোধের পর এই প্রথম মোট ৫০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে তিনটি ইরানি ট্যাঙ্কার পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি’কে কেপলার জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে ‘ডিপ সি’, ‘সোনিয়া ১’ এবং ‘ডায়োনা’ নামে জাহাজ তিনটি ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে তেল লোড করে। এরপর গত বুধবার এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করে।

তেহরানের তেল রপ্তানি বন্ধের লক্ষ্যে গত সোমবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল স্টারলা জাহাজটির পর থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো ইরানি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী দিয়ে বের হয়নি।

উল্লেখ্য-গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে তেহরান নিজেদের ছাড়া অন্যান্য জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন গত সোমবার ইরানের বন্দরে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে।




“ট্রাম্প বলছেন ইরান ধ্বংস, গোয়েন্দাদের দাবি ভিন্ন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পশ্চিমা সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে নেওয়া সুপরিকল্পিত প্রস্তুতির কারণে ইরান তাদের অস্ত্রভান্ডার ও নেতৃত্বের ক্ষতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলে এখনো পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে দেশটির।

ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলায় ইরানের অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে এবং শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, আগাম পরিকল্পনার কারণে ইরান তাদের মিসাইল ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি হারায়নি। একই সঙ্গে সামরিক প্রতিক্রিয়ার কার্যকারিতাও ধরে রাখতে পেরেছে।

এই মূল্যায়ন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যের চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুর পর বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনা থাকায় কমান্ড কাঠামোতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা যায়নি। ইউরোপীয় ও উপসাগরীয় কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের কাছে এখনো বিপুল সংখ্যক দূরপাল্লার মিসাইল রয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার ড্রোনও সক্রিয় রয়েছে তাদের অস্ত্রাগারে।

ইরানের মিসাইল মজুতের সঠিক তথ্য গোপন থাকলেও কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করেন, দেশটির সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতে আরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তবে অন্যরা বলছেন, এই হিসাব অতিরিক্ত আশাবাদী হতে পারে।

ইরান তাদের মিসাইল লাঞ্চার ও ড্রোন অবকাঠামো দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং নিয়মিত স্থান পরিবর্তন করছে। ফলে দ্রুত এসব লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি কংগ্রেসে দেওয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরানের কাছে এখনো হাজার হাজার মিসাইল ও ড্রোন রয়েছে, যা মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর জন্য হুমকি।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, ইরানের শাসনব্যবস্থা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও আলী খামেনি, আলী লারিজানির মতো শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

গত বছরের সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান ‘মোজাইক প্রতিরক্ষা কৌশল’ গ্রহণ করে, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়। এতে মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতিও বাড়ছে। উপসাগরীয় ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, সংঘাত চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে ইরানের কাছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছিল। এখন পর্যন্ত তারা বিপুল পরিমাণ মিসাইল ও ড্রোন ব্যবহার করেছে।




“এআইয়ের ছায়ায় বাড়ছে পারমাণবিক সংঘাতের শঙ্কা”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভয়াবহ মাত্রা যোগ করেছে। ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান সামরিক আধুনিকায়নের প্রতিযোগিতা এখন আর কেবল প্রচলিত অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা দ্রুতগতিতে এআই-চালিত সমরকৌশলের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যাচ্ছে, যুদ্ধের ময়দানে এআইর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার দুই দেশের মধ্যবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়কে এতটাই কমিয়ে দিচ্ছে যে, একটি ছোট ভুলও মুহূর্তের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের পেহেলগাম হামলার পরবর্তী সংকট দেখিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি পাল্টে দিচ্ছে।

ভারত-পাকিস্তানের মতো চিরবৈরী দুটি প্রতিবেশী দেশের জন্য এআই কেবল প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নয় বরং বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যুদ্ধের ময়দানে এখন আর কেবল মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে না বরং স্যাটেলাইট ইমেজ, ড্রোন ফিড এবং সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স থেকে আসা বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করছে এআই সিস্টেম। এই ব্যবস্থাটি তথ্যের পাহাড় ডিঙিয়ে অতি দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ এবং হামলার সুপারিশ প্রদান করছে। এর ফলে নীতিনির্ধারকদের হাতে চিন্তা করার বা পরিস্থিতি শান্ত করার মতো পর্যাপ্ত সময় আর অবশিষ্ট থাকছে না। আর এতেই দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত স্থিতিশীলতা সংকটের মুখে।

ভারতের সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিন্দুর’ চলাকালীন যে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তার সঠিকতা বা নির্ভুলতা ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ। দীর্ঘ ২০ বছরের সংগৃহীত তথ্য এবং রিয়েল-টাইম ড্রোন ডাটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁত হলেও এর বিপত্তি অন্য জায়গায়। এই প্রযুক্তির কারণে শনাক্তকরণ এবং পদক্ষেপ নেওয়ার মধ্যবর্তী সময় এতটাই কমে গেছে যে, রাজনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের কোনো সুযোগই পাওয়া যাচ্ছে না। এই ধরণের অ্যালগরিদমের ওপর অতিরিক্ত আস্থা সেনাপতিদের মনে এই ধারণা তৈরি করছে যে দ্রুততর সিদ্ধান্তই সঠিক সিদ্ধান্ত। অথচ আসলে এটা বড় ধরনের ভ্রমও হতে পারে।

পাকিস্তানও এই প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই এবং তারা নিজস্ব এআই সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী ইতিমধ্যে ‘সেন্টার ফর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড কম্পিউটিং’ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০২৬ সালের ‘গোল্ড ঈগল’ মহড়ার মাধ্যমে তারা তথ্য-চালিত যুদ্ধরীতির বাস্তব প্রয়োগ প্রদর্শন করেছে। পাকিস্তানের এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি মূলত চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ফসল, অন্যদিকে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আধুনিক হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলে এআই-এর কারণে যে ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, তা কোনোভাবেই শান্তি নিশ্চিত করছে না বরং উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই নতুন সমরকৌশলের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এর ভুলের মাত্রা। ৯৪ শতাংশ নির্ভুলতার অর্থ হলো অন্তত ৬ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। ভারত ও পাকিস্তানের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য অবকাঠামো সমৃদ্ধ অঞ্চলে এই সামান্য ভুলও বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। কোনো একটি বেসামরিক স্থাপনাকে ভুলবশত সামরিক লক্ষ্যবস্তু মনে করে আঘাত করলে তার প্রতিক্রিয়ায় যে পাল্টা আঘাত আসবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কারো হাতে থাকবে না। বিশেষ করে উত্তেজনার মুহূর্তে যখন মানুষের ওপর মানসিক চাপ থাকে, তখন তারা যন্ত্রের দেওয়া তথ্যকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেয়। একে সামরিক পরিভাষায় ‘অটোমেশন বায়াস’ বলা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মিসাইল এবং রাডার ব্যবস্থাগুলো অনেক সময় প্রচলিত যুদ্ধের জন্যও ব্যবহৃত হয়। এআই যদি ভুলবশত কোনো সংকেতকে পারমাণবিক আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে ব্যাখ্যা করে, তবে তার ফল হবে ভয়াবহ। পারমাণবিক ছায়ার নিচে বাস করা এই দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস এতটাই গভীর যে, একে অপরের প্রতিটি পদক্ষেপকে তারা চরম হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এমন পরিস্থিতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল ব্যাখ্যা বা ‘ব্ল্যাক বক্স’ ডাটা প্রসেসিং যুদ্ধের ময়দানে এমন এক ফিডব্যাক লুপ তৈরি করতে পারে, যেখানে মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাবে এবং যান্ত্রিক সিদ্ধান্তই জয়ী হবে।

মিলিটারি থিঙ্কিং ‘ওওডিএ লুপ’ (অবজার্ভ, ওরিয়েন্ট, ডিসাইড, অ্যাক্ট বা পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ) প্রক্রিয়াটি এআই’র কারণে এখন অতি-সংকুচিত। যখন মহাকাশ, আকাশপথ এবং সাইবার জগৎ একই নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকে, তখন একটি ভুল সংকেত পুরো ব্যবস্থার মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে যুদ্ধের ময়দানে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয় যেখানে নেতারা আর বসে কথা বলার সুযোগ পান না বরং পরিস্থিতির চাপে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়েন। প্রযুক্তি এখানে স্বচ্ছতা আনার বদলে এক ধরনের কৌশলগত অস্পষ্টতা তৈরি করছে যা উভয় পক্ষকেই বিচলিত করে তোলে।




“আগামী পাঁচ দিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা”

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ দেশের সব বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে বয়ে যেতে পারে দমকা হাওয়া। সেই সঙ্গে আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝরতে পারে স্বস্তির বৃষ্টি।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেয়া পূর্বাভাসে এ কথা জানানো হয়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

পাশাপাশি শনিবার (১৮ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।

শুক্র ও শনিবার দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে শনিবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।

এদিকে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি সোমবার (২০ এপ্রিল) একই সময় পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে।

এই দু’দিনেও দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে রোববার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে সোমবার দিন-রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

অন্যদিকে আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আর এই সময়েও দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।




“সোশ্যাল মিডিয়ায় বাড়ছে অশ্লীলতা ও ভুয়া তথ্য”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটূক্তি, অশ্লীল ও আক্রমণাত্মক মন্তব্যে কোনো লাগাম নেই। ভুয়া তথ্য প্রচার, রাজনৈতিক নেতাসহ বিশিষ্টজনদের চরিত্রহানি এখন চরমে। রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তি এবং তাঁর পরিবারের সদস্যও রেহাই পাচ্ছেন না।

ভুক্তভোগী ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব—ইন্টারনেটভিত্তিক এসব প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অগণিত অস্থায়ী ভিডিও নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে সক্রিয় বিভিন্ন ‘বট বাহিনী’। গালাগালকে এখন বাকস্বাধীনতা বলে অপরাধ আড়ালের চেষ্টা চলছে। প্রতিবাদের ভাষা ক্রমে পাল্টে যাচ্ছে অশ্লীলতা ও ঘৃণায়।
এই পরিস্থিতিতে দেশ, রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি নিয়ে কোনো পোস্ট দিতে ভয় পাচ্ছেন সজ্জন ব্যক্তিরা।

এমনও ঘটনা ঘটছে যে একজন বিশিষ্ট নাগরিকের কোনো কন্যাসন্তান নেই। কিন্তু ফেসবুকে প্রচার করা হলো—অমুকের কন্যা আপত্তিকর কাজে লিপ্ত। কয়েক দিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের নারী কর্মীর মৃত্যুসংবাদ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যের ছাড়াছড়ি লক্ষ করা যায়। একজন মৃত ব্যক্তি সম্পর্কে এ ধরনের ঘৃণা প্রকাশ সামজিক মূল্যবোধের অবিশ্বাস্য অবক্ষয় বলে অনেকে মনে করেন।

কয়েক দিন আগে ‘বিজ্ঞানতথ্য’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ চন্দ্রাভিযান নিয়ে তথ্যবহুল একটি পোস্ট লেখা হয়। এই মিশনে তিনজন পুরুষ নভোচারীর সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন ক্রিশ্চিনা কোচ নামের ৪৭ বছর বয়সী একজন নারী নভোচারী। পোস্টটিতে ওই নারী সম্পর্কে অনেকেই অশ্লীল মন্তব্য করলে পোস্টদাতা লেখেন, ‘মানুষ শিক্ষিত কি না তাকে বোঝার অন্যতম উপায় হলো তার আচরণ এবং ভাষা। এটিই শিক্ষার প্রতিফলন ঘটায়।…ক্রিশ্চিনা কোচ একজন বয়স্ক মহিলা।
তাঁকেও সমাজের যে এক শ্রেণির মানুষ জঘন্য ভাষায় ইঙ্গিত করতে পারে, তাদের কাছে কোনো নারীই নিরাপদ না। যারা অন্যদের মাকে অসম্মান করতে পারে  তারা বরং নিজেদের মাকেই অসম্মান করে।’

লেখক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ গত বছর তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘একসময় রাজনৈতিক বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিতাম। এখন পারতপক্ষে দিই না। মূর্খ আর বেয়াদব অর্বাচীনরা যেভাবে হামলে পড়ে, ট্রল করে, তা দেখলে রক্তচাপ বেড়ে যায়।’

তিনি আরো লিখেছিলেন, ‘ফেসবুক এ দেশে এখনো সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠল না। এটা চলে গেছে মূর্খ আর ইতরদের দখলে। এরা উগ্র জাতিবাদী, ধর্মোন্মাদ, সাম্প্রদায়িক, প্রচণ্ড রকম নারীবিদ্বেষী। চিলে কান নিয়ে গেছে শুনলে এরা চিলের পেছনে দৌড়ায়। এদের পোস্ট কিংবা মন্তব্য পড়লে বোঝা যায়, এদের ন্যূনতম পড়াশোনা নেই, হোমওয়ার্ক নেই, শোভন ভাষা ব্যবহারের পারিবারিক শিক্ষা নেই। এরা উইট বোঝে না।’

গত বছরের শেষ দিকে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে গালাগাল সম্পর্কে একজন নারী সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, ‘গালাগাল নতুন নয়। কিন্তু যখন তা রাজনীতির স্লোগান হয়, তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে যায় অশ্লীলতা, ঘৃণা; আজ এই অশ্লীল গালি সহজেই আমাদের সন্তানদের ডিভাইস বেয়ে তাদের মন-মগজে ঢুকছে, এটাই সবচেয়ে ভয়ংকর।’

ওই সাংবাদিক রাষ্ট্র ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কি বুঝতে পারছেন না, এই কদর্যতা শুধু আমার ঘরে নয়, আপনাদের ঘরেও ঢুকে পড়ছে? আপনাদের সন্তানের মনও কলুষিত করছে! দুই দিন পর কিন্তু কিছু চেয়ে না পেলে এই অশ্লীল গালিই হবে তার ক্ষোভ প্রকাশের ভাষা। অশনিসংকেত টের পাচ্ছেন না?’

গত বছর নির্বাচনের আগে একটি দলের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে প্রতিপক্ষের চৌকস নেতাদের মুখোশ খুলতে, তাঁদের চরিত্র হনন করতে। সম্ভাব্য এই আক্রমণ, অশ্লীলতার জবাব দিতে অন্য দলের পক্ষ থেকেও তাদের কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হতে বলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিভাবে বট বাহিনী গড়ে তুলে ব্যক্তি পর্যায়ে চরিত্রহানি করা হয়, সেই কাহিনি গত মাসে একটি সংবাদপত্রের ঈদ সংখ্যায় ছাপা হয়েছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা ‘ ইউটিউবার’ নামের এই গল্পের লেখক।

পরিস্থিতির আরো অবনতি : গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। গত ৯ এপ্রিল প্রকাশিত আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট চেকিং নেটওয়ার্ক স্বীকৃত দেশের একটি ফ্যাক্ট চেকিং বা তথ্য যাচাই প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার বাংলাদেশ’-এর প্রতিবেদন অনুসারে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত) বাংলাদেশে মোট এক হাজার ৯৭৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানিট, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই সংখ্যা ছিল ৮৩৭। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ—এই তিন মাসে ভুল তথ্যের বিস্তার বাড়ার পেছনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ জাতীয় রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আগের প্রান্তিকের (২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর) তুলনায় এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৭ শতাংশ।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য, একক ব্যক্তি হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে। রাজনৈতিক দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে।

সম্প্রতিক আলোচনা : সম্প্রতি একজন নারী রাজনৈতিক কর্মীকে সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার এবং বিষয়টি নিয়ে বাকস্বাধীনতাকেন্দ্রিক আলোচনার মধ্যে সাংবাদিক, গবেষক ও কলাম লেখক আমীন আল রশীদ সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘আপনি দেশের প্রধানমন্ত্রী বা অন্য যেকোনো নাগরিককে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষোদগার করবেন, গালাগাল করবেন, তাঁকে নিয়ে অসম্মানজনক শব্দ লিখবেন এবং এ কারণে আপনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বলবেন আপনার বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে—এটা পৃথবীর উন্নত গণতান্ত্রিক দেশও অনুমোদন করবে না। নিতান্ত রাজনৈতিক ও আদর্শিক কারণে যদি রাষ্ট্র আপনার কথা বলা ও লেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, সেটি অবশ্যই বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রই গালাগাল, অশ্লীলতা ও বিষোদগারের স্বাধীনতা দেয় না, দিতে পারে না। কারণ যা খুশি বলা ও লেখার স্বাধীনতা দিলে সেখানে যে নৈরাজ্য তৈরি হবে, রাষ্ট্র সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।’

আলোচিত ওই নারী রাজনৈতিক কর্মীর জামিন পাওয়া সংক্রান্ত একটি অনলাইন সংবাদ বিষয়ে একজন মন্তব্য করেন, ‘সমালোচনা বলতে আমরা কী বুঝি এটা একটু ভেবে দেখা দরকার। গঠনমূলক সমালোচনা মানে হলো তথ্যভিত্তিক, শালীন ভাষায় কোনো বিষয়ের ভুল বা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা, যাতে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত আক্রমণ, পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য, মিথ্যা তথ্য বা গুজব ছড়ানো—এসবকে কোনোভাবেই সমালোচনা বলা যায় না। একইভাবে, ভুয়া ছবি বা ভিডিও তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কিংবা কাউকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করাও সমালোচনার অংশ নয়।’

এ ছাড়া এমন ঘটনাও ঘটছে যে ফেসবুকে কারো পোস্টের কমেন্ট বক্সে গালাগাল করে ব্র্যাকেটে লেখা হচ্ছে—‘আমি আমার বাকস্বাধীনতার কিছুটা প্রয়োগ করলাম’।

বিশেষজ্ঞ মত : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়টির নৈতিক উন্নয়ন কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী এ বিষয়ে বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়াও সমাজে অশালীন আচরণ, গালাগালি বেড়েছে বলেই মনে হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ ক্ষেত্রে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। রাজনীতিতেও এই অন্যায় চর্চা হচ্ছে। এতে আমাদের জাতি নৈতিকভাবে নিম্নগামী হচ্ছে। পাকিস্তান আমলেও রাজনীতিতে গালাগালি ছিল, কিন্তু তা ছিল একটি মাত্রার মধ্যে। একজন ফিলোসফার হিসেবে এই চর্চাকে আমি অশুভ মনে করি এবং মেনে নিতে পারি না। গালাগালি, চরিত্র হনন, অশালীন আচরণের সঙ্গে অর্ধসত্য এবং অসত্য তথ্য প্রচারও ক্ষতিকর, নৈতিকতাবিরোধী। এই পরিস্থিতি প্রতিরোধে সমাজচিন্তাবিদদের উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীসহ দল-মত-নির্বিশেষে সবারই এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখা দরকার। আমি আমার সন্তানকে তো শালীনতা শেখাই। শালীনতা সত্যের পক্ষে এবং সত্য কথা বলতে শেখায়। আমাদের সমাজ সেভাবেই গড়ে ওঠা দরকার।’

আলোচিত বিষয়ে আইনি প্রতিকার সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ বলেন, “যখন এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ছিল না, তখনো কাউকে গালাগালি করা, অসম্মান করা বা মানহানি করা—এগুলোর জন্য প্যানাল কোডে বিধান ছিল মামলা করার, এমনকি ক্ষতিপূরণ চাওয়ারও। ডিজিটাল মাধ্যম হওয়ার পরে এই মাধ্যমে যখন এগুলো শুরু হলো, তখন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট করা হয়েছে। পরবর্তীকালে এটি বিভিন্নভাবে সংশোধন হলেও ওই বিধানটি আছে। এই অপরাধের জন্য বিচারের জায়গা হলো ট্রাইব্যুনাল। সাইবার ট্রাইব্যুনালে গিয়ে ভুক্তভোগী অভিযোগ করতে পারেন এবং সেগুলো হচ্ছেও। তবে ফেক আইডি একটি বড় ধরনের সমস্যা। ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় একটি দুর্বলতা এটি। এখানে কতগুলো ‘বট বাহিনী’ আছে। আপনি যদি কোনো পলিটিক্যাল বক্তব্য দেন, দেখবেন ৫০০ কমেন্ট আসছে। তার মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ৩০ জনের আইডেন্টিটি বা ছবি আছে। বাকি সব এ, বি, সি, ডি…। এগুলো ভুয়া। কোনো ব্যক্তি এগুলো চালাচ্ছে, বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য দিচ্ছে, কিন্তু নিজের নাম দিচ্ছে না। এ জায়গাটায় আমাদের সরাসরি কিছু করার নেই। ফেসবুক চালায় আমেরিকানরা। কোনো ব্যক্তি যদি মনে করেন কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অপপ্রচার হচ্ছে, তবে তিনি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করলে তাদের একটি টিম আছে, তারা চাইলে ওই আইডি ব্লক করে দিতে পারে। আমার মনে হয় এটার (বট বাহিনী) পেছনে খুব বেশি লোক নেই। কমেন্টগুলো দেখলে বোঝা যায় যে ভাষাগুলো একই ধরনের। একেক মানুষের মাথা থেকে তো একেক ধরনের কমেন্ট বা গালি আসার কথা। কিন্তু এখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তিই শত শত ফেক আইডি ব্যবহার করে এই কাজগুলো করছে। জনসাধারণের কাছে আমার আবেদন হলো, আপনারা যখন ফেসবুকে কোনো আনআইডেন্টিফায়েড বা ছবি ছাড়া আইডি দেখবেন, সেগুলোকে ইগনোর করবেন। এগুলো আপনারা খুলবেন না বা দেখবেন না। তাহলে আলটিমেটলি তাদের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়ে যাবে।”




“প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শনিবার সংবাদ সম্মেলন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারের ‘দুই মাস পূর্তি’ উপলক্ষে আগামীকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এদিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেস সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র সালেহ শিবলী।

এতে আরও উপস্থিত থাকবেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গত দুই মাসের কার্যক্রম, অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হতে পারে।




“ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনে ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ভারত থেকে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোতে আসা শুরু হয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে সাড়ে ৩টায় দিনাজপুর পার্বতীপুর পদ্মা অয়েল ডিপোর সরকারি ব্যবস্থাপক মো. আহসান হাবীব চৌধুরী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পার্বতীপুর রেল হেড ডিপোতে এই ডিজেল আসা শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, সবশেষ গত ১৪ এপ্রিল ভারতের নুমালীগড় থেকে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে এসেছে। এর আগে, গত মার্চ মাসে এসেছে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। সব মিলিয়ে মার্চ থেকে এপ্রিলের ১৪ তারিখ পর্যন্ত ভারতের নুমালীগড় থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে সর্বমোট ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছে।

ডিপো কর্তৃপক্ষ বলেছেন, ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসতে সময় লাগবে আনুমানিক ৫০ ঘণ্টা। এই তেল আসা শেষ হলে আগামী ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আরও ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে সরকার।

এর আগে, ১১ মার্চ প্রথম দফায় বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসে পৌঁছায়। জ্বালানি তেল সরবরাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে আজ শুক্রবার ছুটির দিনেও ডিপো খোলা রেখেছে ডিপো কর্তৃপক্ষ।

চলতি এপ্রিল মাসে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ৫ ধাপে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ডিপোর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের মজুত স্বাভাবিক রাখতে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।




“চাঁদা দাবির অভিযোগে মঈনসহ ৭ জন জেলে”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ মানবিক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালের চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ সাতজনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপর আসামিরা হলেন এমবি স্বপন কাজী, মো. শাওন হোসেন, ফালান মিয়া, মো. রুবেল, ফারুক হোসেন সুমন ও মো. লিটন মিয়া।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন। এদিন রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার মো. ছাব্বির আহমেদ তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে ১৩ এপ্রিল আসামি ফালান, রুবেল, ফারুক ও লিটনের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরদিন ১৪ এপ্রিল আসামি মঈন, স্বপন ও শাওনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। এতে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি এবং ৭-৮ জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয়।




“পাম্পে অগ্রাধিকারভিত্তিতে তেল সরবরাহ চায় পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ জ্বালানি পাম্পে পৃথক লাইনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সারা দেশে দায়িত্ব পালনের সময় জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘ লাইনের কারণে ভোগান্তি এড়াতে এমনটা দাবি করা হয়েছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এতে জরুরি অভিযান, টহল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আইজিপি বরাবর এক চিঠিতে এই আবেদন করেছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন।

চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। জনস্বার্থে এবং এর জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সব সরকারি/বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন/বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর নির্দেশনা একান্তভাবে কামনা করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সমগ্র পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপকৃত হবেন এবং জনসাধারণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা লাভ করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।