হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাইুআগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।

‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

প্রফেসর ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আজকের রায় সেই যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’

আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে।

একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ দেওয়া ও তদন্তে সহযোগিতা করায় রাষ্ট্রপক্ষের স্বীকারোক্তিকারী হিসেবে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে ‘লঘুদণ্ড’ হিসেবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।




খন্দকার মুশতাকের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপকর্মের অভিযোগ—রাজনীতি থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্র প্রভাব বিস্তার!

এসএম বদরুল আলমঃ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আবুহেনা মোরশেদ জামানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময়টিকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের প্রভাব বিস্তার আরও শক্তিশালী করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। তাকে “ফ্যাসিবাদ-ঘেঁষা চক্রের দোসর” বলেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুসারে, দীর্ঘসময় ধরে তিনি সরকারি প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে নিজেকে ক্ষমতাধর অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেন। রাজনৈতিক পরিচয় ও ‘প্রশাসনিক সুবিধা’ ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে ছাত্র-যুব সংগঠনের ওপর প্রভাব বিস্তার, নির্বাচনী সহিংসতা ও দমন-পীড়নের মতো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ডে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়।

শিক্ষাক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা আছে। মতিঝিলে অবস্থিত একটি সুপরিচিত স্কুল ও কলেজের গভর্নিং বডিতে থাকা অবস্থায় তিনি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করতেন বলে দাবি ওঠে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—শতাধিক শিশু ও ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনা, এমনকি অপহরণ ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ক্ষেত্রেও মুশতাককে দ্বৈত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। নরসিংদীর শিবপুর এলাকায় স্থানীয়ভাবে তিনি এক রাজনৈতিক দলের সাথে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, ঢাকায় দীর্ঘ সময় তিনি ক্ষমতাসীন দলের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয় ক্ষমতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

সংবাদে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি নিজের চারপাশে একটি চক্র তৈরি করেন—যারা সহিংসতা, প্রতারণা, নির্বাচনী কারচুপি ও দমনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ভূমিকা রাখত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব কার্যক্রমকে একটি বৃহত্তর “নাশকতার পরিকল্পনা”র অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে থাকা একদল প্রভাবশালীর সহায়তায় পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সামগ্রিকভাবে, খন্দকার মুশতাক আহমেদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর—যার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক সহিংসতা, নির্বাচন প্রভাবিত করা, শিশু-নারী নির্যাতন, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণা। এসব অভিযোগ যাচাই ও আইনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।




মারা গেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মতিউর রহমান তালুকদার মারা গেছেন। সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাত ৭টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন মতিউর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮০ বছর।মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব হুমায়ূন হাসান শাহীন।

পারিবারিক জানা গেছে,  সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মতিউর রহমান তালুকদার প্রথম আলোচনায় আসেন ১৯৮৮ সালে। চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন বরগুনা-৩ (আমতলী-তালতলী) আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

২০০১ সালের নির্বাচনে একই আসনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মজিবুর রহমান তালুকদার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে ওই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনটি আসনে বিজয়ী হওয়ার পর বরগুনা-৩ আসনটি শূন্য হয়ে যায়। পরবর্তী উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়ী হন মতিউর রহমান তালুকদার এবং দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন।

রাজনীতিতে দীর্ঘ সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসা এই প্রবীণ নেতা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে বরগুনা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন।




শেখ হাসিনার রায় আমার বিপক্ষে গেছে, আমি ক্ষুব্ধ: আইনজীবী আমির হোসেন

ডেস্ক নিউজঃ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে কষ্ট অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার ক্লায়েন্টের (হাসিনা-কামাল) বিরুদ্ধে রায়টা ভিন্নভাবে হলেও হতে পারতো। কিন্তু হয়নি। এটা আমার বিপক্ষে গেছে। এজন্য আমি কষ্ট পাচ্ছি।’

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

কষ্ট কেন পাচ্ছেন- এ প্রশ্নের জবাবে আমির হোসেন বলেন, ‘আমার পক্ষে এ মামলায় আপিল করার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আত্মসমর্পণ না করবেন কিংবা গ্রেপ্তার হবেন।’

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

এর আগে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আদেশ দেন। মামলার দুই নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে এক নম্বর অভিযোগে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালেরও ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। আর রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচনে সহায়তা করায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।




ট্রাইব্যুনালে হাসিনার বিচার নিয়ে সালাউদ্দিন কাদেরের বক্তব্য ভাইরাল

ডেস্ক নিউজঃ ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে তখনই প্রশ্ন উঠেছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী নিজেও ট্রাইব্যুনালে নির্দোষ দাবি করে বক্তব্য দেন।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেকেই সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর একটি বক্তব্য নতুন করে সামনে এনেছেন, যেখানে তিনি শেখ হাসিনার বিচার সম্পর্কে বলেছিলেন।

সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছিলেন—‘এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যেন চালু থাকে, এখানে একদিন হাসিনারও বিচার হবে…।’



শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম সরগরম

ডেস্ক নিউজঃ গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। পশ্চিমা বিশ্বের গণমাধ্যম থেকে শুরু করে ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম এই বিষয়ে আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) প্রধান খবর প্রকাশ করেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি ‘সাবেক বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নৃশংস উপায়ে বিক্ষোভ দমনে দায়ী করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে’—শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের সরকারবিরোধী প্রতিবাদকে কঠোরভাবে দমনের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মানবতা বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়া হাসিনা ভারতে নির্বাসনে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে বিচারপ্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত হয়।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গত বছর ছাত্র প্রতিবাদ দমন করার ঘটনায় তিনি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশে নিজস্বভাবে গঠিত যুদ্ধাপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের একটি প্যানেল সোমবার এ রায় ঘোষণা করেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত দেন যে, হাসিনা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালিত শত শত বাহ্যিক হত্যার প্ররোচনা ও উৎসাহ দেওয়ার জন্য দায়ী।’

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানও প্রায় একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। দ্য গার্ডিয়ান ছাড়াও ভারতের দ্য হিন্দু, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, পাকিস্তানের এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এবং আরও বিভিন্ন দেশের সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবরটি বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও আল জাজিরা শিরোনামে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ উল্লেখ করে খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিবিসি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি গণমাধ্যমই ‘ছাত্র আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড’ এই শিরোনাম করেছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের একটি আদালত আজ সোমবার দেশ থেকে উৎখাত হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘বিচারক গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায় পড়ে শোনাতে গিয়ে বলেন, শেখ হাসিনাকে তিনটি অভিযোগে দোষী পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—হত্যায় উসকানি, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সংঘটিত নৃশংসতা ঠেকাতে ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে একটি মাত্র দণ্ড দিচ্ছি, আর তা হলো মৃত্যুদণ্ড।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছরের ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে দমন-পীড়নের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন যুদ্ধাপরাধ (আন্তর্জাতিক অপরাধ) ট্রাইব্যুনাল। কয়েক মাস ধরে চলা বিচার শেষে সোমবার এই রায় ঘোষণা করা হয়।’

সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, ‘গত কয়েক দশকে কোনো সাবেক বাংলাদেশি নেতার বিরুদ্ধে এত নাটকীয় আইনি পদক্ষেপ আর নেওয়া হয়নি। রায়টি ঘোষিত হলো এমন এক সময়ে, যখন সামনে রয়েছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।’

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ‘বাংলাদেশের হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরে বলেছে, ‘বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। কয়েক মাস টানা চলা বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছেন, তিনি গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন।’

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত তিনটি অভিযোগে হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। কয়েক মাসব্যাপী বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়, তিনি গত বছর ছাত্র নেতৃত্বাধীন এক গণ-অভ্যুত্থানে প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার ফলে তাঁর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারকে প্রধান করে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল একই অভিযোগে হাসিনার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধেও রায় ঘোষণা করেছেন।’

আদালত জানান, তিন অভিযুক্ত পরস্পরের সহযোগিতায় দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে নৃশংসতা চালিয়েছিলেন। তবে সাবেক পুলিশপ্রধানকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে, কারণ তিনি ‘ট্রাইব্যুনাল ও দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।’

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন ও জিও নিউজ যথাক্রমে এএফপি ও রয়টার্সের অনুকরণে এই বিষয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। এই দুই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম ছিল যথাক্রমে ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ছাত্রদের ওপর দমন চালানোর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে’ এবং ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ছাত্র আন্দোলন দমন করার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ‘পলাতক বাংলাদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ‘ঢাকার এক আদালত সোমবার দেশত্যাগী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ‘হাসিনা গত বছর ৫ আগস্ট ভারতের উদ্দেশে পালিয়ে যান। সে সময় তার সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই সময়ের উত্তেজনায় ১৪০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে, আদালত এই গণহত্যার জন্য তাঁকে দায়ী করেছে।’




পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে এ ঘটনা ঘটে।

আজ রাত সাড়ে ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।তবে কে বা কারা গুলি করেছে তাৎক্ষণিক তা তিনি জানাতে পারেননি।

আমিনুল হক বলেন, গুলিবিদ্ধ কিবরিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় সোহরাওয়াদী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কিবরিয়া খুনের ঘটনায় পল্লবী-মিরপুরসহ আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পল্লবী থানার ওসি মফিজুর রহমান গুলিতে গোলাম কিবরিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কিবরিয়া পল্লবী থানা যুবদলের নেতা ছিলেন। তবে কে বা কারা গুলি করেছে, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকে বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে বসেছিলেন গোলাম কিবরিয়া। এ সময় মোটরসাইকেলে এসে তিন যুবক দোকানের ভেতরে ঢুকে কিবরিয়ার মাথা, বুক ও পিঠে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ৭ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।




হাসিনাকে ফেরত দেওয়া না পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না: সারজিস আলম

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘ভারত যতদিন না মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি খুনি হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিয়ে রায় কার্যকর করতে সহযোগিতা করবে; ততদিন পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের জনগণের সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।’ 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টে এ বার্তা দেন। এর আগে দুপুরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাকে রাখা হয় হাজতখানায়।

এদিকে রায় পরবর্তী সময়ে সোমবার বিকেলে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে আবারও চিঠি পাঠানো হবে

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে দেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতের কাছে আবারও চিঠি লিখব। ভারত যদি এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে, তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের বিরুদ্ধে একটা শত্রুতা এবং একটা নিন্দনীয় আচরণ।




হাসিনার মৃত্যুদণ্ড একটি মাইলফলক রায়: সালাহউদ্দিন আহমদ

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এ রায়কে মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। 

সোমবার (১৭ নভেম্বর) রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন সালাহউদ্দিন।

রায় নিয়ে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় সালাহউদ্দিন বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে, এ রায় মাইলফলক। অপরাধ বিবেচনায় এ সাজা যথেষ্ট না হলেও আগামীতে কোনো সরকার বা কোনো ব্যক্তি যেন ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পার তার জন্য উদাহরণ হবে এ রায়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ফ্যাসিবাদ যত শক্তিশালী হোক, যতই ক্ষমতা দখলে রাখুক, তাদের একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

এদিন দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ফাঁসির আদেশ দেন। এছাড়া সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল-মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।




রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনের পাঁচ বছরের জেল

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী বনে যাওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন—বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে তাকে রাখা হয় হাজতখানায়।

চলতি বছরের ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ মামলায় আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল তাতে সম্মতি দেন।

এরপর গত ১২ মে এ মামলায় চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আর প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১ জুন ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।

শুরুতে এ মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন শেখ হাসিনা। গত ১৬ মার্চ সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও এ মামলায় আসামি করা হয়। সবশেষ গত ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নাম আসে।

এ মামলায় গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ওইদিনই (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হওয়ার আবেদন করেন।

পরে নিজের দোষ স্বীকার করে ‘অ্যাপ্রুভার’ বা রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ বা মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মাধ্যমে পেয়েছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। ওইদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।