সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় হলো আজ।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলায় পলাতক রয়েছেন কামাল। তবে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় বছরখানেক ধরে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি মামুন। যদিও রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিনি। ফলে সাবেক এই আইজিপির শাস্তির বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের ওপর ছেড়ে দেন প্রসিকিউশন। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়।




শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগের দ্বিতীয়টিতে অভিযোগে ফাঁসির রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।  

ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এর আগে, গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন (১৭ নভেম্বর) দিন ধার্য করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা।

গত ২৩ অক্টোবর এ মামলায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রীসহ হেভিওয়েট নেতাদের যেভাবে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, সেসব বর্ণনা ট্রাইব্যুনালে তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি। পরে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর যুক্তি উপস্থাপনের কয়েকটি বিষয়ে জবাব দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। এরপর তাদের কিছু কথার পাল্টা উত্তর দেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী আমির হোসেন।

এ মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তবে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ায় যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা-কামালের চরম দণ্ড বা সর্বোচ্চ সাজা চাইলেও তার ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল প্রসিকিউশন। মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও তার অ্যাকুইটাল (খালাস) চেয়েছেন।

এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ। এরপর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীর যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয় ২৩ অক্টোবর।

এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।




ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার বুলডোজার আটকে দিলো সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে উপস্থিত জনতার ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। এদিকে দুটি বুলডোজার ধানমন্ডি-৩২-এ প্রবেশের চেষ্টা করলে রুখে দিয়েছে সেনাবাহিনী। তারা বলছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

দুপুর ১২টার দিকে ট্রাকে করে বুলডোজার দুটি নেওয়া হয় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে। এ সময় বুলডোজারের ওপর কিছু তরুণকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এরপর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে সেনাবাহিনী ওই তরুণদের বুলডোজার থেকে নামিয়ে দেয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এক্সকাভেটর নিয়ে এগোতে চাইলে ছাত্র-জনতাকে ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ আটকানোর চেষ্টা ও পরে লাঠিচার্জ করে। এতে ছাত্র-জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হঠাৎ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুরো এলাকা থমথমে বিরাজ করছে।

এক্সকাভেটরসহ অবস্থান নেওয়া ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগবিরোধী নানা স্লোগান দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করে তোলে। তাদের স্লোগানের মধ্যে ছিল— ‘মুজিব বাদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’, ‘৩২ নম্বর বাড়িটি ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ ইত্যাদি।

এসময় ছাত্রদের একাংশ দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘যত বাধাই আসুক, খুনি শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার পরপরই আমরা ৩২ নম্বর বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিতে চাই। এখান থেকেই আমাদের ভাই-বোন, মা-বাবাকে গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই বাড়ির কোনো স্মৃতি আর রাখতে চাই না।’

জুলাই স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে নাহিদ হাসান নামের একজন বলেন, ‘যেবার প্রথম শেখ হাসিনা বক্তব্য দেয় পালিয়ে যাওয়ার পর, সেবার আমরা প্রথম ধানমন্ডি ৩২ ভেঙেছিলাম। তখন নিশ্চিহ্ন করতে পারিনি। আজকে যেহেতু শেখ হাসিনার রায়, আজকের রায়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের রাজনীতি আমরা আশা করছি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।’

এর আগে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টার দিকে একটি বুলডোজার এসে গুঁড়িয়ে দেয় ৩২ নম্বরের বাড়ি। সেদিন একটি এক্সকাভেটরও আসে সেখানে।

তারও আগে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাড়িটি আগুনে পুড়িয়ে দেয় ছাত্র-জনতা।




মেট্রোরেল, হাসপাতাল আর বিআরটিএ—তিন খাতে অনিয়ম খতিয়ে দেখছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একদিনে তিনটি জায়গায় অভিযান চালিয়েছে—মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্প, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুদকের তিনটি আলাদা দপ্তর থেকে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ভিত্তিতে এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এসব অভিযান চালিয়েছে।

মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পকে ঘিরে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি দল তদন্তে নামে। টিম জানতে পারে—বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাতাল মেট্রোরেল লাইন ও ১২টি পাতাল স্টেশন তৈরি হচ্ছে এই রুটে। পাশাপাশি নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার উড়াল পথ ও ৭টি উড়াল এবং ২টি পাতাল স্টেশন নিয়ে পূর্বাচল রুটের কাজও চলছে। সব মিলিয়ে মোট ৩১.২৪১ কিলোমিটার লম্বা এমআরটি লাইন–১ নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। পুরো প্রকল্পটি ১২টি কনট্রাক্ট প্যাকেজে ভাগ করে কাজ চলছে।

এর মধ্যে CP–01 প্যাকেজের আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পিতলগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৯০ একর জমির ডিপো উন্নয়নকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের আগস্টে, কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আগেই কাজ শেষ করেছে বলে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। অভিযানকালে দুদক দল স্যান্ড এমব্যাংকমেন্ট ও ফিলিং–সংক্রান্ত কাজে কোনো অনিয়ম আছে কিনা তা যাচাই করতে ডিপো এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখে এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চায়। নথি হাতে পাওয়ার পর বিশ্লেষণ করে পুরো প্রতিবেদন কমিশনে জমা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ভুরুঙ্গামারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীরা নিয়মিত হয়রানির শিকার হন—এমন অভিযোগ পাওয়ায় দুদকের কুড়িগ্রাম টিম ছদ্মবেশে সেখানে অভিযান চালায়। টিম হাসপাতালে গিয়ে দেখে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন, অ্যাম্বুলেন্সের লগবুকে অনিয়ম, প্যাথলজি বিভাগে রশিদ ছাড়া টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং কয়েকটি ওয়াশরুম তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ১০–১২ জন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিকেও পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে একজন প্রতিনিধি স্বীকার করেন যে তিনি নিয়ম ভেঙে হাসপাতালে প্রবেশ করেছিলেন এবং তিনি একটি অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন।

তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয় বিআরটিএর বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ে। সেখানে ঘুষ নিয়ে রুট পারমিট দেওয়া, সেবা পেতে ভোগান্তি এবং কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুদক টিম হাজির হয়। টিম দেখে, ২০২৩ সালের আগস্টে বিআরটিএ ১৭৩টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেন ইস্যু করেছে। যাত্রী–পণ্য পরিবহন কমিটির অনুমোদন অনুযায়ী ৫৭১টি থ্রি–হুইলারের মধ্যে ৫১১টির রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এই বিষয়ে এর আগেও একটি মামলা করা হয়েছিল, যার তদন্ত এখনো চলছে। দুদক টিম সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু নথি সংগ্রহ করে। সব তথ্য বিশ্লেষণ শেষে পুরো প্রতিবেদন কমিশনকে জানানো হবে।




৬ জুলাইযোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পাঠাচ্ছে সরকার

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ৬ জন জুলাই যোদ্ধাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে পাঠাচ্ছে সরকার। 

রোববার (১৬ নভেম্বর) রাতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাদের সহযাত্রীসহ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ভেজথানি হাসপাতালে নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—মো. সুজন মিয়া, শেখ মোহাম্মদ শান্ত, মো. শাকিল, মো. লিটন, আলী হোসেন এবং মো. মিজান মিয়া। প্রত্যেক আহত ব্যক্তির সঙ্গে তাদের ভাইয়েরা সহযাত্রী হিসেবে থাইল্যান্ড যাবেন।

আদেশে বলা হয়েছে, তারা দেশ ছাড়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। দেশে ফেরার পর ৭ দিনের মধ্যে তাদের মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট করতে হবে।

প্রত্যেকের চিকিৎসা বাবদ ২০ লাখ করে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আদেশে আরও জানানো হয়েছে, বিদেশে অবস্থানের সময় রোগী ও সহযাত্রীদের শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে এবং কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।




অজ্ঞাত ভারতীয় নম্বর থেকে চিফ প্রসিকিউটরকে হত্যার হুমকি

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম এবং কয়েকজন প্রসিকিউটরকে হত্যার হুমকি ও গালিগালাজ করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত ভারতীয় ফোন নম্বর ব্যবহার করে তাদের এই হুমকি দেওয়া হয়

সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন লোকজন রোববার সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন দিয়েছে, যার বেশিরভাগই ছিল ভারতীয় নম্বর।

প্রসিকিউটর তারেক আব্দুল্লাহ জানান, তাকে ফোন দিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত একাধারে ফোন দিয়ে গালিগালাজ করেছে। একই কথা বলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদও। তারা জানান, হুমকিগুলো প্রায়শই দেওয়া হয়েছে।

হুমকির ভাষা ছিল অনেকটা এমন, ‘শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দিলে কাউকে ছাড় নয়। নেত্রীর সাজা হলে তোমাদের জীবন শেষ করে দিবো।’

হুমকি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভীরু, কাপুরুষ ও গণহত্যাকারীদের ভাষা এমনই হয়। এগুলো আমলে নেওয়ার কিছু নেই।’




মানিকনগর স্কুল প্রকল্পে রহস্যজনক বিল: ফিরোজ আলম–বেলালের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রথম দুই পর্ব প্রকাশের পর পুরো দপ্তরে আলোচনার ঝড় ওঠে। পাঠকদের অনুরোধে প্রতিবেদক আরও গভীর অনুসন্ধানে নেমে এই পর্বে নতুন তথ্য খুঁজে পেয়েছেন—যা পুরো এলজিইডি জুড়েই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে, কোটি টাকার ঘুষের বিনিময়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের প্রভাবশালী নেতা সালমান এফ. রহমানের ‘কথিত ছেলে’ পরিচয় ব্যবহার করে ফিরোজ আলম ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে নিজের পছন্দের পদে পোস্টিং নেন। এতে তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এমনকি ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ক্ষুব্ধ ঠিকাদার ও কর্মচারীরা তাকে অফিস থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় বলেও জানা গেছে। অভিযোগ—কাজ না করিয়ে ঠিকাদারদের বিল পাস করিয়ে মোটা অঙ্কের কমিশন হাতিয়ে নিতেন তিনি।

তদন্তে উঠে এসেছে মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ তলা ভবন নির্মাণের একটি প্রকল্পের তথ্য। “ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়ন” প্রকল্পের আওতায় এই কাজটি পায় মেসার্স ইফাত এন্টারপ্রাইজ। প্রতিষ্ঠানটির প্রোপাইটার ডালিয়া ইমাম; ঠিকানা—৮৪২, মধ্য বাড্ডা, ঢাকা। চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ২৮ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। কাজ শুরুর তারিখ ২ মে ২০২৪ এবং শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৫ আগস্ট ২০২৫।

কিন্তু বাস্তবে নির্ধারিত কাজ শুরুই হয়নি। তবুও ঠিকাদারকে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। বিল প্রদান প্রক্রিয়ায় উপসহকারী প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ আলম তালুকদারের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে এলজিইডির ভেতরের একাধিক সূত্র। বর্তমানে ঠিকাদার ডালিয়া ইমাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলেও জানা যায়।

এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিককে জানান—এটি প্রথম ঘটনা নয়। ফিরোজ আলম নাকি কাজ না করিয়েই একাধিক ঠিকাদারকে বিল দিয়েছেন। পরে অন্য কর্মকর্তারা বিপদ এড়াতে নানা ঝামেলা সামলাতেন। তার ভাষায়, “ওর এসব কাজ ধামাচাপা না দিলে এখন পর্যন্ত বড় বিপদে পড়ত।”

এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিরোজ আলম তালুকদার দাবি করেন, “মানিকনগর স্কুল প্রকল্পে শুধু joist–এর বিল দেওয়া হয়েছে, অগ্রীম কোনো বিল নয়।” তবে প্রকল্পে ‘joist’ দেওয়ার মতো কাজ আদৌ হয়েছে কি না—তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।

বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, উপরের অনুমতি ছাড়া তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তবে ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য জানা যাবে বলে তিনি মত দেন।

এই পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলজিইডি অফিসের ভেতরে নতুন করে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, আর প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেও সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি বড় ধরনের দুর্নীতির ইঙ্গিত বহন করছে।




ভোর থেকে কঠোর তল্লাশি, আদালতপাড়ায় সতর্কতা সর্বোচ্চ

ডেস্ক নিউজঃ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আজ সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট এলাকা কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টনীতে ঘেরা হয়েছে। সকালে সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে আদালতপাড়া ঘুরে দেখা যায়- পুরো এলাকায় চার বাহিনীর (সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব) অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সন্দেহজনক মনে হলেই পথচারীকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, পরিচয়পত্র যাচাই এবং ব্যাগ তল্লাশি করা হচ্ছে।

রায় ঘোষণার দিনকে ‘উচ্চঝুঁকির সকাল’ বিবেচনায় নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে থেকে হাইকোর্ট মোড়, সুপ্রিম কোর্টের মূল গেট থেকে মাজার গেট পর্যন্ত নিরাপত্তা কয়েক স্তরে ভাগ করে বাড়ানো হয়েছে। মোটরসাইকেলের কাগজপত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে পথচারীর গন্তব্য জিজ্ঞেস করা- সর্বত্রই কঠোর নজরদারির উপস্থিতি স্পষ্ট।

মাজার গেট এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। আদালতপাড়ার ভেতরে র‍্যাবের বাড়তি সদস্য মোতায়েন রয়েছে, আর বিজিবির টহল দল সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে ঘুরে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছে।

মগবাজার থেকে আসা আইনজীবী সানজিদা রহমান বলেন, ‘দুই জায়গায় ব্যাগ খুলে দেখাতে হয়েছে। এমন কড়াকড়ি আগে কখনও দেখিনি।’

নিকটবর্তী দোকানকর্মী ইমরান জানান, ‘সকাল থেকেই পরিবেশ অন্যরকম। কেউ দাঁড়ালেই জিজ্ঞাসা করছে কোথায় যাচ্ছেন।’

ট্রাইব্যুনালের ভেতরে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। দায়িত্বপ্রাপ্ত এক নিরাপত্তাসদস্যের ভাষায়, ‘আজ ছাড় দেওয়ার মতো দিন না।’




জুলাই হত্যাকাণ্ডের মামলায় ৫ অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় আজ

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই গণআন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আজ সোমবার বেলা ১১টায় রায় ঘোষণা করা হবে।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা এটিই প্রথম মামলা, যার রায় ঘোষণা করতে যাচ্ছেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এই ট্রাইব্যুনালের আরও দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। রায় ঘোষণার জন্য গত ১৩ নভেম্বর এই দিন ধার্য করেন  ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন। এছাড়া রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় দেখানো হবে ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা।

এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার কী শাস্তি হয়, তা দেখার জন্য জনগণের দৃষ্টি আজ ট্রাইব্যুনালের দিকে। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও এর আশাপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান পলাতক। দুজনই এখন ভারতে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনাসহ এ মামলার তিন আসামির বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযোগগুলো হলো—

গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান;

হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান;

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা;

রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং

আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।

এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের দিন (১০ জুলাই) সাবেক আইজিপি মামুন গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী) হওয়ার আবেদন করেন।

এর আগে গত ১ জুন শেখ হাসিনাসহ এই তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। প্রথম দিকে এ মামলায় শেখ হাসিনাই একমাত্র আসামি ছিলেন। চলতি বছরের ১৬ মার্চ এ মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করার আবেদন করে প্রসিকিউশন (রাষ্ট্রপক্ষ)। ট্রাইব্যুনাল তা মঞ্জুর করেন।

একাধিকবার সময় বাড়ানোর পর চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

গত ১২ অক্টোবর এ মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় ২৩ অক্টোবর। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড চান চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তিনি যুক্তিতর্কে এ মামলা থেকে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামানের খালাস আবেদন করেন। রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি মামুনেরও খালাস আবেদন করেন তার আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।




নেক্সট-লেভেল কোয়ালিটি নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি হিসেবে ‘অ্যাপেক্স গার্ড’ নিয়ে আসার ঘোষণা দিলো অপো

বিশেষ প্রতিবেদকঃহার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ মানের পাশাপাশি, ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে সুরক্ষিত রাখতে আজ (১৬ নভেম্বর) সম্পূর্ণ টেকনোলজি স্যুট অ্যাপেক্স গার্ড নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে অপো। স্মার্টফোন থেকে ক্রেতারা যা আশা করে তার সবই নতুন এই ধারণার মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে। এর মধ্যে আছে প্রতিদিনের ব্যবহারের বাইরে গিয়ে পণ্যের জীবনকাল বর্ধিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রির স্ট্যান্ডার্ডকে নেক্সট লেভেল নিয়ে যাওয়া।
অপোর গ্লোবাল হেডকোয়ার্টার ও আরঅ্যান্ডডি (গবেষণা ও উন্নয়ন) হাব বিনহাই বে ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটির ক্ষেত্রে নতুন এই ভিশন উন্মোচন করে অপো, যেখানে প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণা থেকে শুরু করে পুরো ডিভাইসটি তৈরি হওয়া পর্যন্ত, পণ্য উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে মানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতির বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে অপো গ্লোবালের ডিরেক্টর অব ম্যানুফেকচারিং গ্রাস শান বলেন, “সবকিছুর ভিত্তিই হলো মান (কোয়ালিটি)। এক্ষেত্রে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে অপো প্রত্যেক ব্যবহারকারীর স্বকীয়তা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মান কেবল কোনো ফিচার নয়; এটি ‘মেক ইওর মোমেন্ট’-এর ফ্রিডম।”
অ্যাপেক্স গার্ডের মাধ্যমে কোয়ালিটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া
ব্যবহারকারীর সত্যিকারের চাহিদাগুলোকে বিস্তৃত সমাধানের মাধ্যমে পূরণ করার ক্ষেত্রে অপোর প্রতিশ্রুতির মূলে রয়েছে অ্যাপেক্স গার্ড। এটি এমন একটি প্রযুক্তি স্যুট, যা সমস্ত প্রোডাক্ট লাইনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তিনটি মূল ক্ষেত্রের মানকে উন্নত করতে ডিজাইন করা হয়েছে।
প্রতিদিনের ব্যবহারের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; ডিজাইনে মৌলিক অগ্রগতির পাশাপাশি, অ্যাপেক্স গার্ড পানি বা দুর্ঘটনাক্রমে পড়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি থেকেই সুরক্ষা দেয় না; বরং, দৈনন্দিন ব্যবহারের বাইরেও একটি নিরবচ্ছিন্ন ও সহজ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। উপাদান ও পণ্যের ডিজাইনে অগ্রসর গবেষণার মাধ্যমে অপো আল্ট্রা-হাই-স্ট্রেংথ স্টিল ও এএম০৪ অ্যারোস্পেস-গ্রেড অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়ের মতো উপকরণ তৈরি করেছে। যা প্রতিদিনের ক্ষয়ক্ষতি সহ্য করার পাশাপাশি, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সুরক্ষা নিশ্চিতে আর্মর শিল্ডের মতো কাঠামোগত সমাধান নিয়ে এসেছে।
পণ্যের জীবনকালের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; নিশ্চিন্ত অভিজ্ঞতার জন্য অ্যাপেক্স গার্ড নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি নিশ্চিত করে যা সময়ের পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ। কাস্টমাইজড স্ফেরিকাল সিলিকন-কার্বন ম্যাটেরিয়ালসহ অপো সিলিকন-কার্বন ব্যাটারির মতো উদ্ভাবনের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করছে এটি, যা ব্যাটারি সেলের জীবনকালকে অতিরিক্ত ৪০০ সাইকেল পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। অ্যাপেক্স গার্ড অপো ডিভাইসগুলোকে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য নতুনের মতো পারফর্ম করতে সক্ষম করে তোলে।
বিদ্যমান মানদণ্ডের বাইরে নেক্সট লেভেল কোয়ালিটি; শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী মান নিশ্চিত করতে অপো টিইউভি রাইনল্যান্ড, টিইউভি সুড ও এসজিএস সহ সুপরিচিত আন্তর্জাতিক টেস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা নিচ্ছে এবং ইন্ডাস্ট্রির বাকিদের চেয়ে
 
মানদণ্ডে তাদের ডিভাইসগুলোকে অনেক বেশি এগিয়ে রাখছে। অপোর ডিভাইসগুলো অত্যন্ত নির্ভুল উৎপাদন প্রক্রিয়া ও কঠোর টেস্টিং পদ্ধতির মধ্য দিয়ে যায়। এর মধ্যে রয়েছে নতুন উপকরণগুলোর মান কয়েক দফায় মূল্যায়ন এবং প্রি-আরঅ্যান্ডডি থেকে পণ্যের জীবনচক্রের শেষপর্যন্ত ১৮০টিরও বেশি ডিভাইসে এটি পরীক্ষা করে দেখা। এছাড়াও, অপোর বিক্রয়োত্তর সেবাও ইন্ডাস্ট্রির মানদণ্ডকে অতিক্রম করে।
নেক্সট লেভেল সফটওয়্যার স্মুথনেসের মাধ্যমে কোয়ালিটি যাচাই-বাছাই
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার মধ্যে স্মুথনেসই সেই সরাসরি উপায়, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী স্মার্টফোনের মান বুঝতে পারেন। সফটওয়্যার উদ্ভাবনকে অ্যাপেক্স গার্ড স্যুটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অপো এই অভিজ্ঞতাকে কীভাবে আরও উন্নত, সমৃদ্ধ ও দীর্ঘমেয়াদি করা যায় তা নিয়ে কাজ করছে।
প্রতিদিনের স্মুথনেস নিশ্চিত করতে কালারওএস ১৬-এর অল-নিউ লুমিনাস রেন্ডারিং ইঞ্জিন, অ্যান্ড্রয়েডের জন্য প্রথম ইউনিফাইড অ্যানিমেশন আর্কিটেকচার চালু করেছে, যা পুরো সিস্টেম জুড়ে নিরবচ্ছিন্ন অ্যাপ চালু ও স্মুথ ট্রানজিশন প্রদান করে। এছাড়াও, অল-নিউ ট্রিনিটি ইঞ্জিনের মধ্যে থাকা চিপ-লেভেল ডায়নামিক ফ্রেম সিঙ্ক টেকনোলজি, মাল্টিটাস্কিংয়ের সময় ফ্রেম রেন্ডারিংয়ের প্রতিটি সিস্টেমকে রিয়েল-টাইমে সাড়া দিতে সহায়তা করে। এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ সেন্সর কাজগুলো পরিচালনার জন্য সেন্সর-অফলোড প্রযুক্তি, শক্তিশালী এসওসি ব্যবহার করে, যা ৪কে ৬০ এফপিএস (ফ্রেম পার সেকেন্ড) ভিডিও রেকর্ড করার সময় মোট বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।
দীর্ঘমেয়াদী কর্মক্ষমতা নিশ্চিত করতে অপো এন্ট্রি-লেভেল ডিভাইসগুলোর জন্য কালারওএস ১৬-তে ইনস্ট্যান্ট রিফ্রেশ চালু করেছে, যা ব্যবহারকারীদের কেবল এক ট্যাপে ডেটা ফ্র্যাগমেন্টেশন ও অ্যাপ পারমিশন অপটিমাইজ করতে দেয়। অপোর প্রতিটি ডিভাইস যেন বহুবছর ব্যবহারের পরেও স্মুথ ও রেসপনসিভ থাকে তা নিশ্চিত করতে ৪৮, ৬০ বা ৭২ মাস পর্যন্ত ফোনগুলোকে কঠোর এজিং টেস্টের মধ্যে রাখা হয়।
স্মুথনেসের ওপর মনোযোগের অংশ হিসেবে, অপো পরিমাপযোগ্য ডেটা দিয়ে স্মুথনেস পরিমাপের মূল্যায়ন সিস্টেম তৈরি করেছে। অপো স্মুথনেস বেসলাইন টেস্ট হাজারো রিয়েল-ওয়ার্ল্ড সিনারিওতে সফটওয়্যার কর্মক্ষমতা পরিমাপ করতে সক্ষম। যেখানে হোম-স্ক্রিন অ্যাপ চালু ও নিরবচ্ছিন্ন ট্রানজিশন নিশ্চিত করতে ইন্ডাস্ট্রির প্রথম প্যারালাল অ্যানিমেশন স্ট্যান্ডার্ড ৬ জিরো (শূন্য ল্যাগ, শূন্য ল্যাটেন্সি, শূন্য ফ্লিকার, শূন্য ক্র্যাশ, শূন্য মিসলঞ্চ ও শূন্য ফ্রিজ) নিয়ে আসা হয়েছে। এটি এন্ট্রি-লেভেল এ সিরিজ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগশিপ ফাইন্ড সিরিজ পর্যন্ত সমস্ত ডিভাইসে সফটওয়্যার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।
বিনহাই বে ক্যাম্পাস, অপোর কোয়ালিটির উৎস
অপো বিনহাই বে’তে আরও অত্যাধুনিক স্কেল ও সিনার্জির সুবিধা যুক্ত করেছে; ফলে, আধুনিক ইকুইপমেন্ট ও কেন্দ্রীভূত রিসোর্স ব্যবহারের মাধ্যমে অপো কোয়ালিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এতে ম্যাটেরিয়ালস ল্যাব, ইন্টেলিজেন্ট টার্মিনাল টেস্টিং ল্যাব, পাওয়ার কনজাম্পশন ইন্টেলিজেন্ট ল্যাব ও কমিউনিকেশন ল্যাবের মতো অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিজ থাকায় নির্ভরযোগ্য হার্ডওয়্যার ও স্মুথ সফটওয়্যার নিয়ে আসার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।