সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে সোনাগাজী সমিতির অফিসের গেইটে তালা ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: সামাজিক সংগঠন হল ব্যক্তি এবং গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের একটি ধারণ । সামাজিক সংগঠনের মধ্যেমে মৌন গঠন, স্থানিক সমন্বয়, নেতৃত্ব, কাঠামো তৈরী, শ্রম বিভাজন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ইত্যাদির মতো গুণাবলী অন্তর্ভুক্ত করে উন্নয়ন এর লক্ষ্যে কাজ করা।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের কল্যাণে অব্যবসায়ীক মনমানসিকতা নিয়ে কোনো কাজ করাই হলো সামাজিক কাজ। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও সামাজিক কাজের অন্তর্ভুক্ত। এক সমাজে গরিব-ধনী, অসহায়, এতিম, সহায়–সম্বলহীন নানা রকম মানুষের বসবাস। একা ভালো থাকার নাম ভালো থাকা বলে না। একজন ব্যক্তির সব সার্থকতা অন্যকে ভালো রাখার মাঝেই লুকিয়ে আছে। অন্যকে উপকার করার দ্বারা শুধু অন্যদের সহযোগিতা করা হয় না, বরং একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ববোধ ফুটে ওঠে। সমাজ নিয়ে তার ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা গড়ে ওঠে। সামাজিক কাজের দ্বারা শুধু একজনই উপকৃত হয় না, বরং এর দ্বারা একটা পরিবার উপকৃত হয়, সমাজ উপকৃত হয়, রাষ্ট্রও উপকৃত হয়। সামাজিক কাজ মানুষের দক্ষতা বিকাশ করে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ফলে সামাজিক ও আর্থিক অবস্থা উন্নত করে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে। সামাজিক কাজকর্ম একজন ব্যক্তির একাকিত্ব দূর করে। যার ফলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। সামাজিক কাজ আমাদের সুখী করে। আমাদের ভালো অনুভূতি দেয়।
সামাজিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্যগুলো হচ্ছে ১) রাস্তঘাট ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের সংস্কার। ২) বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা। ৩) গরিব ও অসহায় মানুষের জন্য খাদ্য ও বস্ত্রের ব্যবস্থা করা। ৪) শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। ৫) রোগী ও বৃদ্ধদের সহায়তা এবং পুনর্বাসন। ৬) অনৈতিকতা ও অসামাজিক কার্যকলাপ দূর করা।

সামাজিক এই সব কার্যক্রমের অংশীদার হওয়ার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে ঢাকাস্থ সোনাগাজীবাসীদের নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার গাজী আনোয়ারুল কাদের মুক্তু মিয়া গঠন করেন, সোনাগাজী সমিতি, ঢাকা। তার ধারা বাহিকতায় এটি চলমান আছে । ২রা নভেম্বর, ২০২৪ সালে সমিতির নিবার্হী কমিটির সভায় সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক সাহাদাত হোসেন জুয়েলের নেতৃত্বে সহসভাপতি দুলাল, শিক্ষা সম্পাদক ফারুক, সালাহ উদ্দিন শিমুল, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বয়াতী সেলিম(পদ ত্যাগকারী) সহ রংপুর, দিনাজপুর ও অন্যান্য এলাকার বহিরাগত ৪০ জনের একটি টোকাই গ্রুপ নিয়ে সমিতি অফিস দখলের পায়তারা করেন। ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কিসলু খান বিষয়টি টের পেয়ে সভাটি স্থগিত ঘোষনা করেন। এবং সমিতির অফিসের সভাস্থল ত্যাগ করেন।
পরবর্তীতে গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি. বিকাল ৪:০০ ঘটিকার সময় সোনাগাজী সমিতি ঢাকা’র পূর্ব নির্ধারিত নির্বাহী কমিটির সভায় অযোক্তিক মিছিলের নেতুত্ব দিয়ে ফরহাদ ছাত্র , নুরুল আলম(ইনসুরেন্স কর্মচারী) সভাটি ভন্ডুল করে দেয়। সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সমিতির কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। সাবেক সহসভাপতি এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মেসবাহ উদ্দিন খান কিসলু কে সম্পৃক্ত করে নানা ধরনের উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে সভাস্থলে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্ট করে তুলেন। সমিতির কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। অফিসের সামনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ইঞ্জিনিয়ার গাজী আশরাফ উদ্দিন আহমেদ, জনাব আমির হোসেন জনি, জনাব সুলতান কামাল উদ্দিন সহ সোনাগাজীর বিশিষ্ট জনদের কে বিভিন্ন এলাকার বহিরাগতদেরকে সদস্য ফি- ৫০০০/- টাকা ব্যাতিত সদস্ করার জন্য চাপ প্রয়োগ সহ নানাভাবে নাজেহাল করেন। সোনাগাজী সমিতি ঢাকা’র কার্যালয়ের সামনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রীতিকর ঘটনায় সোনাগাজীর বিশিষ্ট জনেরা লজ্জিত, বিব্রত ও অপমানিত বোধ করেছেন। এতে করে সোনগাজীবাসীয়ানরা অ্ন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক ফেসবুক, হোয়াটসআ্যাপ, মেসেন্জআর, ও ইন্সট্রগ্রামে দুরবুত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান।

গত ৩১/১০/২০২৫ খ্রি: ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ফরহাদ বর্তমানে কলেজের ছাত্র, হাবিব, রানা এবং জাকির হোসেন সুমন রা সমিতির সদস্য ফি-৫০০০/- টাকা জমা দিয়ে সমিতির সদস্য হিসেবে এখন ‍ও নিবন্ধিত হন নাই। নেপথ্যে থাকা নুরুল আলম, সালাহ উদ্দিন এবং সমিতির বর্তমান কমিটির একজন সহসভাপতি সহ বর্তমান কমিটির মেয়াদ পূর্তির আগে নির্বাচন ছাড়া নতুন কমিটি গঠন করার পায়তারা করে সোনাগাজীয়ানদের সমর্থন না পাওয়ায় ব্যর্থ হন। ব্যর্থ হয়ে তারা সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং নেপথ্যে থাকা উস্কানিদাতা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানি্য়েছেন সমিতির বাকী নেতৃত্ব এবং ঢাকাস্থ সোনাগাজীবাসীয়ানরা। সবাই একমত পোষণ করে বলেন, ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণ আশা করা যায় না। তাদের কে তদন্ত করে সমিতি থেকে বহিস্কারকরন সহ শাস্তির আওতায় আনা উচিৎ।
সমিতির ফ্ল্যাট ক্রয় ও রেজিষ্ট্রেশন, ইন্টেরিয়র কাজ, ত্রাণ সামগ্রী ক্রয় ও বিতরণ, ম্যাগাজিন ছাপানোর কাজ, বৃত্তিপরীক্ষার ফটোকপির কাজ বাবদ সহ পরীক্ষা পরিচালনার হিসাব নিষ্পত্তির বিষয়ে ২০২৩-২০২৪ এবং ২০২৪-২০২৫ খ্রি: অডিট প্রতিবেদনে বিল, ভাউচার সঠিক ভাবে পাওয়া যায় নাই। হাতে লেখা বানোয়াট কাচা রশিদ এবং টাকার হিসাবে কয়েক লক্ষ টাকার গরমিল পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করে অডিট কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেন। উক্ত প্রতিবেদন নির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনার জন্য এজেন্ডায় রাখা হয়েছে । তারা তাদের গরমিল হিসাবের সংবাদ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এবং সম্পাদক পদে জোর জবর দখল করার প্রয়াসে সমিতির অফিসে নির্বাহী কমিটির সভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং কলাপসিবল গেইটে তালা লাগিয়ে দেন।
অডিট কমিটির সদস্য জনাব মিজানুর রহমান সাহেব কে অডিট প্রতিবেদন সমন্ধে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমি কমিটির সদস্য হলেও আমাকে কোন বিল ভাউচার, হিসাব , রেজিস্ট্যার, লেজার বুক প্রদর্শন করতে পারেন নাই। অর্থ্যাৎ তাদের দেওয়া মৌখিক হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, কিছু টাকা তছরুপ করা হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে । উক্ত অভিযোগের বিষয়ে সমিতির ক্যাশিয়ার নুরুল আলমের মোবাইলে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নাই। এ প্রতিবেদকের হাতে সমিতির অফিসের আরো কিছু ছবি, অডিট প্রতিবেদন এর কপি, পূর্বর্তী হিসাব নিকাশের তথ্য এবং ম্যাগাজিন পকাশের হিসাব সংক্রান্ত ডকুমেন্ট এসে পৌছেছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন-২ আগামী সংখ্যায় প্রকাশ করা হবে।




রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সেনা মোতায়েন চেয়ে চিঠি

ডেস্ক নিউজঃ মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশেপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন চেয়ে সেনা সদরে চিঠি দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট।

বুধবার সুপ্রিমকোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে সেনা মোতায়েন চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস থেকে সেনা সদর দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে এই মামলায় রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবারও সেনা মোতায়েন করতে চিঠি দেওয়া হয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট প্রশাসন থেকে। সেই অনুযায়ী সেনাও মোতায়েন করা হয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট ও ট্রাইব্যুনালে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও মামলাটির সংবেদনশীলতার কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিমকোর্ট এলাকায় যে কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ চার জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি এ মামলার অপর দুই আসামি হলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এর মধ্যে সাবেক আইজিপি মামুন ‘অ্যাপ্রুভার’ (রাজসাক্ষী নামে পরিচিত) হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।




রেলের লাগেজ ভ্যান কেনাকাটায় ৩৫৮ কোটি টাকার অপচয়: সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

এসএম বদরুল আলমঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক বড়সড় অনিয়মের ঘটনায় সাবেক ডিজি শামসুজ্জামানসহ ছয়জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। রোববার (১৬ নভেম্বর) দুদকের উপ–সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, লাগেজ ভ্যান কেনার নামে রেলওয়ের ৩৫৮ কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে, যা রাষ্ট্রের সরাসরি ক্ষতি।

মামলায় সাবেক ডিজি শামসুজ্জামান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান, হারুন অর রশীদ, প্রকল্প পরিচালক আব্দুল মতিন চৌধুরীসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালে রেলওয়ে ৩৫৮ কোটি টাকায় ১২৫টি লাগেজ ভ্যান কিনেছিল—যার উদ্দেশ্য ছিল পণ্য, লাগেজ এবং দ্রুত নষ্ট হওয়া কৃষিপণ্য পরিবহন বাড়ানো। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা বা বাজার যাচাই–বাছাই ছাড়াই শুধু ব্যক্তিস্বার্থ দেখে এসব ভ্যান কেনা হয়। কিনে আনার পর এগুলো প্রায় সবই অচল অবস্থায় পড়ে থাকে।

রেলওয়ের অভ্যন্তরীণ নথি ও সমীক্ষায় দেখা যায়—কারিগরি সহায়তা প্রকল্প থাকলেও বাস্তব চাহিদা, কৃষক বা ব্যবসায়ীদের প্রয়োজন, বাজারের অবস্থা কিছুই যাচাই করা হয়নি। এমনকি ভ্যান কেনার কোনো প্রকৃত প্রয়োজনও ছিল না; তবুও কিছু কর্মকর্তা লাভ দেখিয়ে চুক্তি করান। চীনের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট ৩৫৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকার চুক্তি হয়। ব্রডগেজ ভ্যানের প্রতি ইউনিট মূল্য ধরা হয় ৩ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং মিটারগেজ ভ্যানের দাম ধরা হয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এগুলো রেলের বহরে যুক্ত হয়, কিন্তু ব্যবহারই হলো না।

পণ্যের পরিবহন বাড়ানোর আশায় রেল আগেই “ম্যাংগো স্পেশাল ট্রেন” চালু করেছিল, যা ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১ কোটি টাকার বেশি লোকসান গুনেছে। এরপরও লাভ দেখানোর গল্প শুনিয়ে কেনা হয় লাগেজ ভ্যান। পরে “কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন” চালু করা হলেও যাত্রী–সাড়া না পেয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সেটিও বন্ধ করতে হয়। এতে রেলের আরও লোকসান বাড়ে।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে রেল মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন—অপ্রয়োজন বুঝেও লাভ দেখিয়ে কারা এসব ভ্যান কিনিয়েছে, সে বিষয়ে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত। তিনি জানান, বিদেশি ঋণ দিয়ে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ–ও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে লাগেজ ভ্যান কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছিল। উদ্বোধনের সময় তৎকালীন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন দাবি করেছিলেন—এটি সরকারের কৃষিবান্ধব উদ্যোগ। কিন্তু রেলের বহু কর্মকর্তার মত অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল কয়েকজন রেল কর্মকর্তার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কিছু ব্যক্তির মিলে কমিশন বাণিজ্যের একটি পরিকল্পিত কাজ।




ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারকে ধানের শীষে মনোনয়ন দেওয়ার দাবিতে জনতার ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা–১২ (তেজগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে টানা আন্দোলনে নেমেছেন দলটির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের সমর্থকেরা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে থেকে শুরু হওয়া এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, হাতিরঝিল ও শেরে বাংলা নগর থানার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী।

ফার্মগেট থেকে মিছিলটি বিজয় সরণি, ফার্মগেট হয়ে তেজগাঁও কলেজের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। পুরো পথজুড়ে “আনোয়ার ভাইকে আমরা চাই”, “প্রার্থী পরিবর্তন চাই”, “রাজপথের আনোয়ার ভাই”, “আমরা তোমাকে চাই”—এমন নানা শ্লোগানে মুখর ছিল এলাকা।

ফার্মগেট-তেজগাঁও-বিজয় সরণী এলাকা জুড়ে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান-মিছিলে নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার। তাঁকে বাদ দিয়ে দল ঘোষিত প্রার্থী সাইফুল আলম নিরবকে মনোনয়ন দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

গত ৩ নভেম্বর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুল আলম নিরবকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার পর থেকেই আনোয়ারের অনুসারীরা রাস্তায় রয়েছেন। ৪ নভেম্বর, ৬ নভেম্বরের পর আজ ছিল তৃতীয় দফা বিক্ষোভ। তাঁদের দাবি—তৃণমূলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করলে নির্বাচনী মাঠে বিরূপ প্রভাব পড়বে।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন শেরে বাংলা নগর থানা বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তোফায়েল আহমেদ, যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল কাদের মুকুল, এম জি আজম তৌহিদ, কামাল সরকার শাহিন, আরিফুরুজ্জামান চপল, জামাল উদ্দিন ভূইয়া, তেজগাঁও থানা বিএনপি যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট দুলাল, মনিরুজ্জামান টগর, ইমাম উদ্দিন ইমন, আব্দুল হাই, শিল্পাঞ্চল থানা বিএনপি সিনিয়র সদস্য আমজাদ হোসেন, ২৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মোঃ বোরহান উদ্দিনসহ হাতিরঝিল থানা বিএনপি, তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদল, স্হানীয় বিভিন্ন ইউনিট বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, মহিলাদল, শ্রমিকদল, কৃষকদল, জিয়া মঞ্চের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতারা বলেন, ঢাকা–১২ আসনে আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ারের জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক গ্রহণযোগ্যতা সবচেয়ে বেশি। তাঁকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা না দিলে আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করবে।

তৃণমূলের দাবি, “দলকে জেতাতে চাইলে তেজগাঁওয়ে আনোয়ার ভাই এর বিকল্প নেই।”




রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলছে ভবন নির্মাণ, ৩৬ কোম্পানির বিরুদ্ধে কড়া সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়েল এস্টেট খাতে নানা অনিয়ম, প্রতারণা আর গ্রাহকদের ঠকানোর অভিযোগ বাড়তে থাকায় অবশেষে কড়া অবস্থান নিয়েছে রাজউক ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তারা এক জরুরি নোটিশে জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছে—৩৬টি রিয়েল এস্টেট কোম্পানির সঙ্গে জমি বা ফ্ল্যাট কেনাবেচার চুক্তিতে না যেতে। কারণ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া প্রকল্প নেয়া, নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, শর্ত না মানা এবং গ্রাহকদের প্রতারিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ নুরুল বাসির বলেন, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রকল্পের অনুমোদন নিতে কোম্পানিগুলোর জাতীয় গৃহায়নের কাছে আসার কথা ছিল। কিন্তু তারা সেই নিয়মই মানেনি। এজন্যই তাদের নিবন্ধন সনদ বাতিল করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান—এখন কেউ যদি নিবন্ধন ছাড়া জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রি করতে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে শর্ত পূরণ করলে ভবিষ্যতে নিবন্ধন পুনর্বহালের সুযোগ রাখা হয়েছে।

তালিকায় থাকা ৩৬টি বাতিল কোম্পানি হলো—ভিশন ২১ ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, প্রিমিয়াম হাউজিং এস্টেট, এনা প্রপার্টিস, গ্রেট ওয়ালস ল্যান্ড প্রপার্টি, গ্লোরিয়াস প্রপার্টিস, ম্যাক্সিম হোল্ডিংস, তুরিন হাউজিং, বিওসিএল ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, বেস্ট ওয়ে ল্যান্ড প্রপার্টিস, বেস্ট ওয়ে ফাউন্ডেশন, সাফিস ল্যান্ডস ডেভেলপমেন্ট, আরডিপি প্রপার্টিস, গার্ডিয়ান রিয়েল এস্টেট, ভেনাস হাউজিং অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট ডেভেলপমেন্ট, এফআইসিএল রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপার, পারিজাত ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ডিজাইন, দিশারি রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ভেনিস অফ বেঙ্গল প্রপার্টিস, বসুধা বিল্ডারস, রূপান্তর ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, প্রান্তিক প্রপার্টিস, নেটওয়ার্ক ২০০৮ বিডি, বসুতি বিল্ডারস অ্যান্ড ডেভেলপারস, এসএফএল, চন্ডিমাটি হীরাঝিল প্রপার্টি ডেভেলপমেন্টস, হারপ হোল্ডিংস, নবোদয় হাউজিং, আমাদের বাড়ি, নব্যধারা হাউজিং, রিসমন্ট ডেভলপারস, পুবালি ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, ড্রিম প্যারাডাইস প্রপার্টিস, সবুজ ছায়া আবাসন, ইউরো বাংলা হাউজিং, সৃজন হাউজিং এবং ম্যাকপাই হাউজিং লিমিটেড।

দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো—রাজউকের নিষেধাজ্ঞা, নিয়ম-কানুন আর সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কোম্পানি এখনো নির্বিঘ্নে বিল্ডিং তুলে যাচ্ছে। অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প চালিয়ে যাওয়া যেন নিত্যদিনের ঘটনা। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—রাজউক কোথায়? তারা কি এ সব দেখেও দেখছে না? সাধারণ ক্রেতারা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিতে থাকলেও নজরদারির জায়গায় যেন এখনো বড় ধরনের শিথিলতা রয়ে গেছে।

এ অবস্থায় গ্রাহকদের সতর্ক থাকা ছাড়া উপায় নেই। অনুমোদন ও নিবন্ধন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করলে ভবিষ্যতে বড় ঝামেলায় পড়ার আশঙ্কাই বেশি। ছাপোষা মানুষের জীবনভর জমিয়ে রাখা টাকা যেন ভুল হাতে পড়ে নষ্ট না হয়—এটাই এখন প্রধান সতর্কবার্তা।




৯৪ নং ওয়ার্ডে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের মতবিনিময় সভা

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা–১৫ আসনের অধীনস্থ ৯৪ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজীপাড়া বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক কল্যাণ সোসাইটি এবং এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেন ঢাকা–১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জনাব শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।

সভায় মিল্টন বলেন, তিনি এলাকার দীর্ঘদিনের অবহেলা, উন্নয়নের বৈষম্য ও নাগরিক সেবার সংকট দূর করতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিএনপির ঘোষিত সংস্কারভিত্তিক ৩১ দফা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের রোডম্যাপই আগামী দিনের পরিবর্তনের ভিত্তি।

এলাকাবাসীরা মিল্টনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সমস্যা ও উন্নয়নের কথা যে মানুষটি আন্তরিকভাবে শুনছেন এবং সমাধানের অঙ্গীকার করছেন— তিনি মিল্টন ভাই।”

মতবিনিময় সভাটি ছিল পূর্ণ উদ্দীপনা, স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় এবং জনগণের প্রত্যাশার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।




পল্লবী–রূপনগরে আমিনুল হকের উদ্যোগে স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমী কুইজ আয়োজন

এসএম বদরুল আলমঃ পল্লবী ও রূপনগর এলাকায় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এক ভিন্নধর্মী কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আবারও আলোচনায় আসলেন জনপ্রিয় জননেতা আমিনুল হক। এলাকার ২২টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়, আর অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো এলাকা যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মতে, এভাবে বড় পরিসরে শিক্ষামূলক কুইজ আগে কেউ আয়োজন করেছে বলে তাদের জানা নেই। এজন্যই আমিনুল হকের উদ্যোগটিকে তারা দেখছেন তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করার এক অনন্য ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা হিসেবে।

এলাকাবাসীর ভাষায়— আমিনুল হক যখন কোনো কাজ হাতে নেন, তাতে থাকে নতুনত্ব আর পরিকল্পনার ছাপ। এই কুইজ প্রতিযোগিতাও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বাড়ানোর পাশাপাশি এলাকায় একটি ইতিবাচক, শিক্ষামুখী পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সবাই। প্রায় প্রতিদিনই পল্লবী ও রূপনগরের মানুষের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে তিনি যে মানবিক নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করছেন, এটিও তারই ধারাবাহিকতা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমিনুল হক ভাই থাকলে এলাকায় সবসময়ই উন্নয়ন আর ভালো উদ্যোগের ছোঁয়া পাওয়া যায়। নতুন চিন্তা আর নতুন কাজ— এটাই তাঁর আলাদা পরিচয়।”




ঘুষে চলছে বদলি-বাণিজ্যে: দুর্নীতির দৌড় থামছে না কোথাও

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি দপ্তরে সেবা নিতে গেলে অনেকেই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। কেউ সরাসরি বলে দেন—“১০ কোটি টাকা দিয়ে এই চেয়ারে বসেছি, টাকা ছাড়া কাজ করানো যাবে না।” কথাটা শুনতে যতটা আগ্রাসী মনে হয়, বাস্তবে এর চিত্র আরও ভয়াবহ। দেশের বহু সরকারি দপ্তরে বদলি-বাণিজ্য যেন ওপেন সিক্রেট—যেখানে পদ, পোস্টিং আর দায়িত্ব সবই নির্ভর করে কে কত টাকা দিতে পারে তার ওপর।

অধিকাংশ মানুষের ধারণা, এসব অনৈতিক কাজ হয়তো নিচের স্তরের কয়েকজন কর্মচারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায় চিত্র একেবারেই উল্টো—সচিব পর্যায় থেকে শুরু করে নিম্নতম স্তর পর্যন্ত অনেক কর্মকর্তা পছন্দের পদে যেতে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেন করে থাকেন। যিনি লাখ টাকা বা কোটি টাকা দিয়ে কোনো পদে যান, তিনি প্রথম দিন থেকেই সেই বিনিয়োগ তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর নিজের ভবিষ্যতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু করেন আরও টাকা তোলার পথ খোঁজা—ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি তো বাড়েই, সেই অফিসগুলোতে দুর্নীতি মোটেই কমে না।

বিবিএস পরিচালিত সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস)–এর ‘প্রাথমিক প্রতিবেদন ২০২৫’-এ উঠে এসেছে সরকারি সেবার করুণ অবস্থা। জানান হয়েছে—গত এক বছরে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ৩১.৬৭ শতাংশ নাগরিক ঘুষ দিয়েছেন। পুরুষদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৮.৬২ শতাংশ, নারীদের ক্ষেত্রে ২২.৭১ শতাংশ। ঘুষ-দুর্নীতির দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিআরটিএ (৬৩.২৯ শতাংশ)। এরপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থা (৬১.৯৪ শতাংশ), পাসপোর্ট অফিস (৫৭.৪৫ শতাংশ) এবং ভূমি রেজিস্ট্রি অফিস (৫৪.৯২ শতাংশ)।

টিআইবি পরিচালিত নবম থানা জরিপে পরিস্থিতি আরও মারাত্মকভাবে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে—দেশে ৭০.৯ শতাংশ খানা কোনো না কোনোভাবে দুর্নীতির শিকার। ১৭টি খাতের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা। এরপর রয়েছে পাসপোর্ট ও বিআরটিএ। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২.১ শতাংশ খানা জানিয়েছেন—ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না। গড়ে প্রতিটি পরিবার ৬,৬৩৬ টাকা করে ঘুষ দিয়েছে এবং এর মোট পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ কোটি টাকার মতো—যা কেবলই সরকারি সেবা নিতে গিয়ে জনগণের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বদলি-বাণিজ্য দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। অতীতে গুলশান, বনানী, ধানমন্ডির মতো অভিজাত এলাকায় ওসি হতে ১০–১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এখনো পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। শুধু ওসি না, এসব থানায় কনস্টেবল হিসেবেও ঢাকায় পোস্টিং নিতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন—ঢাকার বাইরে থেকে ঢাকায় আসতে চাইলে পদভেদে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত লাগে। স্বাভাবিকভাবেই, ঘুষ দিয়ে পদ পাওয়া অফিসারদের কাছ থেকে সততা বা স্বচ্ছতা আশা করা কঠিন।

ভূমি অফিসের চিত্রও একই। সাব-রেজিস্ট্রাররা এই খাতের মূল ভাগ আদায়কারীর ভূমিকায় থাকেন। তারা সরাসরি জনগণের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন এবং সেই টাকা আবার নির্দিষ্ট নিয়মে উপরের দিকে পৌঁছে যায়। গুলশান, গাজীপুর, রূপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ—এ ধরনের জায়গার সাব-রেজিস্ট্রার পদ নাকি রীতিমতো নিলামে বিক্রি হয়, কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে।

বন বিভাগ, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ—এসব দপ্তরের অনেক উচ্চপদে বদলি হতে প্রচুর টাকা লাগে। এমনকি ২০২৩ সালে একটি প্রধান প্রকৌশলীর পদ শত কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছিল বলে জানা যায়। ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও ঢাকায় বদলি হয়ে কাজ করতে চাইলে লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।

সবমিলিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট—যেখানে মোটা টাকা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্বে বসেন, সেখানে সেবা নয়, তাদের মূল লক্ষ্য থাকে কীভাবে বিনিয়োগ করা টাকা তুলবেন আর কতটা বাড়তি আয় করতে পারবেন। ফলে সাধারণ মানুষ পড়ে যায় এক দুষ্টচক্রে—যেখানে ঘুষ, ভোগান্তি আর দুর্নীতি ছাড়া কিছুই চোখে পড়ে না।




ঢাকা কাস্টমস কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানের দুর্নীতির অভিযোগে কাস্টমসজুড়ে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা কাস্টমস হাউসে দায়িত্ব পালন করা রাজস্ব কর্মকর্তা ওয়ালিউল হাসানকে ঘিরে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এখন চর্চার কেন্দ্রে। কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ কিছু সূত্র এবং ব্যবসায়ীদের অভিযোগে জানা যাচ্ছে, তিনি দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত লেনদেন, সুবিধাবাদী সমঝোতা এবং সরাসরি ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে সরকারের রাজস্বে বড় ধরনের ক্ষতি করেছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিওতে তাকে ঘুষ নিতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ওয়ালিউল হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে দেওয়ার নামে বিশেষ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা নেওয়া, বাজেয়াপ্ত করা পণ্যের বিনিময়ে গোপনে ‘মুক্তিপণ’ আদায়, কাগজপত্র জালিয়াতি করে আমদানি–রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সুবিধা দেওয়া, এবং সরকারি নথি বা সংবেদনশীল তথ্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী মহলে সরবরাহের মতো গুরুতর কর্মকাণ্ড। অভিযোগ আছে, তিনি সহকর্মী ও অধস্তন কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নিজের অবস্থান শক্ত করতেন এবং এভাবে ধাপে ধাপে অস্বাভাবিক সম্পদ গড়ে তুলতেন।

কাস্টমসের ভেতর থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ওয়ালিউলের এসব কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে রাজস্ব ক্ষতি করছে এবং স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশও নষ্ট করছে। ব্যবসায়ী এবং কর্মকর্তা—উভয় মহলেই এখন এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ইতিমধ্যে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে, আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।




খুলনায় ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতির মিথ্যা মামলায় হয়রানী চাঁদাদাবি ও জমি দখল চেষ্টার অভিযোগ

খুলনা প্রতিবেদকঃ খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ১০ নম্বর সহ-সভাপতি ফিরোজ হোসেনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসী দাবি করেছেন—দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষায় অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফিরোজ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন ও বেকার অবস্থায় থেকে নানা প্রতারণার মাধ্যমে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার ছোট ভাইসহ তিনি জলমা এলাকার বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণার শিকার অনেকেই থানায় ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। বরং ফিরোজ বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতার ছত্রছায়ায় থেকে ভুক্তভোগীদের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

৫ আগস্টের পর এলাকায় একাধিক নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করে চাঁদা দাবি করেছেন ফিরোজ—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিগত সরকার আমলে ক্ষমতাসীনদের সাথে থেকে সামান্য অর্থ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও বর্তমানে তিনি বিএনপির পদ ব্যবহার করে চাঁদাবাজির নতুন কৌশল নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এলাকার চায়ের দোকানদারদের দাবি, ফিরোজ হোসেন তাদের কাছ থেকে বহু টাকা বাকী নিয়েও ফেরত দেননি। কেউ পাওনা চাইলে উল্টো হুমকি দেয়া হয়। অনেক দোকানদারের পাওনার পরিমাণ ৭ হাজার টাকাও ছাড়িয়েছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এমন ওকর্ম ও প্রতারককে দলীয় পদে রাখলে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। ভোটেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

অভিযোগ রয়েছে, ফিরোজ হোসেন সম্প্রতি দল ক্ষমতায় এলে স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা মঞ্জু ও মনা ভাইদের নাম ভাঙিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের স্বপ্ন দেখছেন। পাশাপাশি মিথ্যা মামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে এলাকার সৎ মানুষদের হয়রানি করে চলেছেন।

সূত্র জানায়, জুলাই আন্দোলনে পরবর্তী সময় এলাকার কয়েকজন সামান্য দিনমজুর খেটে খাওয়া থেকে শুরু করে একজন সাংবাদিক পরিবার এই নেতার মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তারা এক ভাই মামলা দায়ের করে অন্য ভাই সাক্ষী হিসেবে থাকেন। এই দুই ভাইয়ের প্রতারণার আতঙ্কে রয়েছে খুলনা শহরের অনেকেই।

বিগত কয়েক বছরে তিনি ও তার ছোট ভাই মিলে জমি বিক্রির নামে বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি কিছু জমির মালিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে ফিরোজ হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি—বিএনপি নেতৃত্ব দ্রুত তদন্ত করে এই প্রতারক সহ-সভাপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক, যাতে দলের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা পায়।