শৈলকুপার নাজনীনের চিকিৎসা ব্যয়ে সহযোগিতা তারেক রহমানের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান ঝিনাইদহের শৈলকুপার প্রতিবন্ধী নাজনীনের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নাজনীনের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার ত্রিবেণী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে।

শুক্রবার সকালে সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সাথে সাক্ষাৎ করতে যান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল।

মানবিক এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সাক্ষাৎকালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে নাজনীনের পিতা নাছির মন্ডলের হাতে চিকিৎসা সহায়তা তুলে দেন বিএনপি’র কোষাধ্যক্ষ।

পাশাপাশি অসহায় নাছির মন্ডলের পরিবারের প্রতি তারেক রহমান-এর সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এদিকে, তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন সংশ্লিষ্ট পরিবারটির সার্বিক খোঁজ-খবর নেন এবং তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মানবিক এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ ও বনানী থানা বিএনপি নেতা সাইয়াম সিকান্দার খান পাপ্পু।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি মুন্সী কামাল আজাদ পাননু, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আবদুল মজিদ, শৈলকূপা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল হোসেন, শৈলকুপা পৌর বিএনপি’র সভাপতি সেলিম রেজা ঠান্ডু, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সোহেল খান প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রতিবন্ধী নাজনীন-এর বর্তমান বয়স ১৮ বছর। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় ১৩ বছর ধরে ঘরের মধ্যে শিকলে বাঁধা অবস্থায় রয়েছে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি তার পরিবার। এছাড়া নাজনীনের ভাই জোবায়ের মানসিক প্রতিবন্ধী। বর্তমানে দিনমজুর নাছির মন্ডল ও বুলবুলি বেগম দম্পতি তাদের দুই সন্তান নিয়ে অসহায়ভাবে দিন অতিবাহিত করছেন।




কিয়েভের আক্রমণে রাশিয়ার বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষ্ণসাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এক বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়র আন্দ্রেই ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, রাতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ১৪ নভেম্বর সকালে নোভোরোসিয়েস্ক বন্দরনগরীতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

ক্রাভচেঙ্কো জানিয়েছেন, কিয়েভের রাতের হামলায় ‘অরোরা রেসিডেনশিয়াল কমপ্লেক্স’ ও ‘সুভোরোভস্কায়া স্ট্রিট’-এর আবাসিক ভবনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনও ধ্বংস হয়ে গেছে। জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।

আঞ্চলিক গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, নোভোরোসিয়েস্কে তিনটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে দুজন শিশুও আছে।

ইউক্রোনের ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে শস্য টার্মিনালের তিনটি ট্যাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ড্রোনের ধংসাবশেষ তেমরিউকস্কি জেলার তামান গ্রামে এবং আনাপার কাছের ইউরোভকা ও সিবানোবালকা গ্রামেও পড়ে।

এদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়ে, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গত রাতে তাদের দুই শতাধিক ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত ও জব্দ করেছে।

নোভোরোসিয়েস্ক রাশিয়ার অন্যতম প্রধান উষ্ণ পানির বন্দর। এই বন্দর দিয়েই দেশটির তেল ও শস্যের বড় অংশ রপ্তানি করা হয়। বন্দরটি রাশিয়ার কৌশলগত সামরিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।




“বিদেশে কূটনৈতিক উপস্থিতি বাড়াতে দুই নতুন দূতাবাস অনুমোদন”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি নতুন দূতাবাস স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। একটি আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনে এবং অন্যটি আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আইরেসে।

বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এক বার্তায় বিষয়টি জানান।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের ৪৮তম সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।




“অপহরণ বেড়েই চলেছে, প্রতিদিন গায়েব হচ্ছে একাধিক ব্যক্তি”

বিশেষ প্রতিবেদকঃ অপহরণের ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন নয়—বরং তা যেন প্রতিদিনের খবর হয়ে উঠেছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশে ৯২১টি অপহরণের মামলা হয়েছে, অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে তিনজন মানুষ অপহৃত হয়েছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ভাষায়, বেশির ভাগ অপহরণ ঘটছে মুক্তিপণ, প্রতিশোধ বা ডিজিটাল যোগাযোগের অপব্যবহারকে কেন্দ্র করে। এতে নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে ভয়, হারিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবোধ।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরে সারা দেশে মোট ১১০টি অপহরণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) দেশে মোট ৯২১টি অপহরণের মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছর একই সময় এ সংখ্যা ছিল ৫০১। অর্থাৎ এক বছরে অপহরণের হার প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ অপহরণের পেছনে মুক্তিপণ আদায়, প্রতিশোধ, প্রেমঘটিত বিরোধ বা ব্যাবসায়িক দ্বন্দ্বের মতো কারণ রয়েছে। অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক অবক্ষয়, অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ডিজিটাল অপরাধের প্রসারের কারণে এ প্রবণতা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর অভিযানের বিকল্প নেই।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগে যেখানে বেশির ভাগ অপহরণ ঘটত রাতের অন্ধকারে, এখন তা ঘটছে দিনের আলোতেও। অনলাইন রাইডশেয়ারিং, ব্যাবসায়িক লেনদেনের ছলে কিংবা প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক বা রাজনৈতিক শত্রুতা, এমনকি যৌন নিপীড়নের ঘটনাও অনেক সময় অপহরণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তবে আর্থিক কারণই সবচেয়ে বেশি দায়ী। চাঁদাবাজচক্র ছাড়াও পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর সম্পৃক্ততাও এসব ঘটনায় দেখা যাচ্ছে।

অপহরণ বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্কুল-কলেজগামী সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছরের অক্টোবর মাস অপহরণের  দিক থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ ছিল। ওই মাসে অপহৃত হয়েছেন ১১০ জন। জানুয়ারিতে ১০৫ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৭৮ জন, মার্চে ৮৩ জন, এপ্রিলে ৮৮ জন, মে’তে ৮২ জন, জুনে ৮০ জন, জুলাইয়ে ৯০ জন, আগস্টে ৯০ জন এবং সেপ্টেম্বরে ৯৬ জন। এতে দেখা যাচ্ছে, গত ১০ মাসে গড়ে প্রতিদিন তিনজনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন।

তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে মোট ৬৪২ জন অপহৃত হয়েছিলেন। ওই বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রথম ১০ মাসে অপহৃত হন ৫০১ জন—মাসে গড়ে ৫০ জন। অথচ চলতি বছর একই সময় মাসিক গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯২ জনে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রকৃত অপহরণের সংখ্যা পুলিশের রেকর্ডের চেয়েও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে মামলা হয় না। তাঁদের মতে, প্রতিদিন গড়ে তিনজন অপহৃত হওয়ার অর্থ হলো দেশে আইনের শাসনে বড় ঘাটতি রয়েছে।

অপরাধ ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দিন দিন অপহরণের প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। আগে মুক্তিপণ আদায় ছিল প্রধান উদ্দেশ্য, এখন সামাজিক প্রতিশোধ, প্রেম-বিবাদ কিংবা ডিজিটাল যোগাযোগের অপব্যবহার থেকেও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘অপহরণের প্রতিটি ঘটনাকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। সাম্প্রতিক একাধিক অপহরণচক্রকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইবার ইউনিটও ডিজিটাল যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘটিত অপহরণ রোধে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে পরামর্শ হচ্ছে, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগে সতর্ক থাকা এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে তৎক্ষণাৎ নিকটস্থ থানায় বা ৯৯৯ নম্বরে জানানো।

সাম্প্রতিক কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা : গত মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর দিয়াবাড়ী এলাকা থেকে ক্যামব্রিয়ান কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত রায়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ৭ নভেম্বর তাঁকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁর বাবার কাছে ৮০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। টাকা না পেয়ে ও বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাঁকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

২৪ অক্টোবর নওগাঁয় এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। র‌্যাব অভিযান চালিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও চক্রের হোতা শাহাজান (৬৫) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে ৩ অক্টোবর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে মো. মকবুল নামে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে নির্যাতন করা হয়। পরে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফে মুক্তিপণ দাবিতে অপহৃত কলেজছাত্র হাসান শরীফকে (২৪) উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১৫। গত মঙ্গলবার রাতে সাবরাং ইউনিয়নের চান্দলীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে রবিবার বিকেলে টেকনাফ পৌরসভার মায়মুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে মোটরসাইকেলে এসে চার-পাঁচজন ব্যক্তি হাসানকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁর পরিবারের কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।




“রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার: অতিরিক্ত ১২ প্লাটুন বিজিবি দায়িত্বে”

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার গণমাধ্যম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।

শরিফুল ইসলাম জানান, ঢাকা ও আশপাশের জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।




আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর

আবহাওয়া প্রতিবেদকঃ সারা দেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

রবিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।




“প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খোঁজে পর্যটকরা ভিড় করছেন সাজেক উপত্যকায়”

পর্যটক ডেস্কঃ রাঙামাটির সাজেক উপত্যকা বর্তমানে দেশের পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই উপত্যকা তার সবুজ বনভূমি, কোলাহলহীন পরিবেশ এবং মেঘে ঢেকে থাকা দৃশ্যের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

পর্যটকরা জানাচ্ছেন, প্রকৃতির কাছে এসে তারা মানসিক স্বস্তি ও শীতলতা অনুভব করছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পর্যটন কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক ভ্রমণের বন্দোবস্ত করছে। বিশেষ করে পাহাড়ি পথ ও ছোট হোমস্টের উন্নয়ন চলছে, যাতে ভ্রমণকারীরা আরও আরামদায়ক পরিবেশে সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় সাজেকসহ পাহাড়ি পর্যটন স্পটগুলোর গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান।




“জকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সব ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের ঝুলানো ব্যানার-ফেস্টুন সরানোর নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হকের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ছাত্রকল্যাণ কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে ঝুলানো/সাঁটানো ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন আগামী ১৪ নভেম্বর সকাল ১০টার মধ্যে নিজ দায়িত্বে সরিয়ে ফেলার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।

আগামী ২২ ডিসেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আসন্ন জকসু নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আশা করি এক্ষেত্রে সব ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা ও সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে আমাদের সহযোগিতা করবে।




“ভুলের মুহূর্তেই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন”

ইসলামিক ডেস্কঃ ইস্তিগফার তথা ‘ক্ষমা চাওয়া’ শব্দটি এসেছে আরবি ‘গাফারা’ শব্দমূল থেকে, যার অর্থ হলো ঢেকে দেওয়া বা গোপন রাখা। অর্থাৎ যখন আল্লাহ কোনো বান্দার পাপ ঢেকে দেন বা প্রকাশ করেন না, তখনই তিনি তাকে ক্ষমা করেন। পরিভাষায় ইস্তিগফার হলো—এমন একটি আবেদন, যেখানে বান্দা নিজের দ্বারা সংঘটিত পাপ ও সীমা লঙ্ঘনের জন্য আল্লাহর কাছে দয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। মুসলমানদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনার প্রয়োজন নেই—তার ঈমান যতই দৃঢ় হোক বা তার ধার্মিকতা যতই উচ্চমানের হোক না কেন।

এমনকি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-ও প্রতিদিন বহুবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতেন। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.)  বলেছেন : ‘আল্লাহর কসম! আমি প্রতিদিন সত্তরবারেরও বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছে তাওবা করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৩০৭)

আল্লাহ তাআলা সুরা নুহে বলেন, “অতঃপর আমি বললাম, ‘তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রাচুর্যে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি বৃদ্ধি করবেন, তোমাদের জন্য বাগান সৃষ্টি করবেন এবং প্রবহমান নদী প্রবাহিত করবেন। ” (সুরা : নুহ, আয়াত : ১০-১২)

অতএব, ইস্তিগফার শুধু পাপ মোচনের মাধ্যম নয়, বরং এটি বরকত, রিজিক, সন্তান-সন্ততি ও জীবনের প্রশান্তি লাভেরও এক অনন্য উপায়।

ইস্তিগফার পাপ মোচন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম

যখন কোনো মুসলমান পাপে লিপ্ত হয়, তারপর আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেই পাপ মুছে দেন, যতক্ষণ না তার আমলনামা সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে কেউ কোনো মন্দ কাজ করে বা নিজের ওপর অন্যায় করে, কিন্তু পরে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, সে দেখবে আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১১০)

ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন

আল্লাহ তাআলা ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের ভালোবাসেন, তাদের তাওবায় আনন্দিত হন এবং তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এমনকি তিনি ফেরেশতাদের কাছেও এই ক্ষমা প্রার্থনাকারী বান্দাদের নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং ভালোবাসেন যারা নিজেদের পবিত্র রাখে।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২২২)

ক্ষমা প্রার্থনা আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি ও শান্তির পথ

ক্ষমা প্রার্থনা করা শুধু একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আল্লাহর শাস্তি ও কবরের আজাব থেকে মুক্তির এক নিরাপদ আশ্রয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে উদ্দেশ করে তাঁর উম্মতের জন্য সুসংবাদ দিয়ে বলেছেন, ‘আর আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না, যতক্ষণ তুমি (হে নবী) তাদের মধ্যে উপস্থিত আছ এবং যতক্ষণ তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে, ততক্ষণও আল্লাহ তাদের শাস্তি দেবেন না।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ৩৩)

ইস্তিগফার দুঃখ-কষ্ট ও উদ্বেগ দূর করার উপায়

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তাকে প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেন, প্রতিটি সংকট থেকে বের হওয়ার পথ দান করেন এবং এমন জায়গা থেকে রিজিক দান করেন, যেখানে সে কখনো আশা করে না।’ (আবু দাউদ, ইবনু মাজাহ)

অতএব, ইস্তিগফার একদিকে যেমন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি জীবনের জটিলতা ও মানসিক ভার দূর করে দেয়।




“ইসলামের দৃষ্টিতে পানি: অপচয় নয়, সংরক্ষণই দায়িত্ব”

ইসলামিক ডেস্কঃ দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনে পানির বিশিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। যে কারণে পবিত্র কোরআনের ৪৬ স্থানে পানির বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সুরা আরাফের ৫০ নম্বর আয়াতে পানিকে জান্নাতবাসীর জন্য নেয়ামত এবং জাহান্নামিদের জন্য শাস্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পানিকে অতীতেও আল্লাহ অনুগত বান্দার জন্য পুরস্কার এবং অবাধ্যদের জন্য শাস্তির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। হজরত ইব্রাহিম (আ.) এবং তাঁর পুণ্যবতী স্ত্রী হাজেরার পুণ্যবান সন্তান ইসমাইল (আ.)-এর জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল জমজম কূপ। দুনিয়ায় আল্লাহ রব্বুল আলামিনের বিস্ময়কর নিদর্শনগুলোর মধ্যে জমজম কূপ অন্যতম। প্রায় ৫ হাজার বছর আগে অলৌকিকভাবে পবিত্র কাবা ঘরের সন্নিকটে এ বরকতময় কূপটির সৃষ্টি হয়। আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) প্রিয়তমা স্ত্রী হাজেরা ও দুগ্ধপোষ্য শিশু ইসমাইল (আ.)-কে জনমানবহীন প্রান্তরে নির্বাসনে দেন। স্ত্রী ও পুত্রের জন্য সামান্য পানি ও কিছু খেজুর মক্কার মরু প্রান্তরে রেখে যান। ইব্রাহিম (আ.) চলে যাওয়ার পর হাজেরা (আ.) সন্তানকে বুকে ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে নির্জন প্রান্তে থাকেন। খাদ্য-পানীয় ছাড়া তিনি বেশ কিছু দিন কাটান। বুকের দুধ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পর ইসমাইল (আ.) যখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে ছটফট করছিলেন, তখন হজরত হাজেরা (আ.) দুগ্ধপোষ্য শিশুর জীবন বাঁচানোর জন্য একবার সাফা পাহাড়ে আরেকবার মারওয়া পাহাড়ের ওপর ছোটাছুটি করেন পানির খোঁজে। কোথাও পানি না পেয়ে তিনি যখন ক্লান্ত শ্রান্ত তখন হঠাৎ দেখতে পান ইসমাইল (আ.)-এর পায়ের আঘাতে পানির ফোয়ারা উথলে উঠছে। চারদিকে তিনি বালু ও পাথর দিয়ে পানির প্রবাহ থামান। সেই কুদরতি পানির ঝরনা ধারাটিই জমজম কূপ।

একইভাবে হজরত নুহ (আ.)-এর অবাধ্য কওমের জন্য নাজিল হয়েছিল শাস্তি হিসেবে ভয়াবহ প্লাবন। যে প্লাবনে অবিশ্বাসীদের সবাই পানিতে ডুবে মারা যায়। ফেরাউন ও তার সৈন্য দলের পানিতে ডুবে মারা যাওয়াও আল্লাহর তরফ থেকে আসা শাস্তি। দুনিয়াদারির জীবনে পানি এমন এক অপরিহার্য জিনিস যা ছাড়া জীবনধারণের কথা কল্পনা করাও কঠিন। পানি ইবাদতেরও অন্যতম অনুষঙ্গ। আল্লাহর ইবাদতের জন্য বান্দাকে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়। পবিত্রতা অর্জনে পানির ব্যবহার সুবিদিত। মানবজীবনেই শুধু নয়, পৃথিবীতে জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে পানির অবদান অনস্বীকার্য।

আখিরাতের জীবনে পানি জান্নাতবাসীকে উপহার দেওয়া হবে ও জাহান্নামবাসীকে শাস্তি হিসেবে পানি থেকে দূরে রাখা হবে। জাহান্নামবাসী ভয়াবহ কষ্টে পানির পিপাসায় পড়ে জান্নাতিদের কাছে পানি চাইবে, কিন্তু তাদের পানি দেওয়া হবে না। আল্লাহ বলেন, ‘জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীকে ডেকে বলবে, আমাদের ওপর কিছু পানি বা খাদ্য ফেলে দাও বা আল্লাহ তোমাদের যা দিয়েছেন তা থেকে, তারা বলবে আল্লাহ এ দুটি অবিশ্বাসীদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৫০)। পানি বর্তমান বিশ্বে ব্যাপকভাবে অপচয় হচ্ছে। পানি যেহেতু আমাদের জন্য বিশাল এক নেয়ামত সেহেতু মহান আল্লাহ পানির অপচয় করা নিষেধ করেছেন। পানির অপচয় ইসলামের দৃষ্টিতে এক মারাত্মক গর্হিত কাজ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা আহার কর ও পান কর কিন্তু অপচয় কর না, তিনি অপচয়কারীকে পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত ৩১)।

ইসলামে পানির সদ্ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি যেহেতু মহান আল্লাহর নেয়ামত, সেহেতু পানির সংরক্ষণ এবং এর সদ্ব্যবহার মুমিনদের জন্য অবশ্য পালনীয়। এমনকি অজু করার সময়ও যাতে পানির অপচয় না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিসে বলা হয়েছে : ‘সাহাবি হজরত সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা.) একদিন বসে অজু করছিলেন। এমন সময় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পানির ব্যবহার দেখে তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এত অপচয় কেন? সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন অজুর মধ্যে কি অপচয় হয়? রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ। এমনকি নদীর পাশে বসেও অজু করার সময় (পানি অযথা খরচ করলে অপচয় হিসেবে গোনাহ হবে)। পানি কীভাবে পান করতে হবে সেই আদব মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শিক্ষা দিয়েছেন। বসে ডান হাত দিয়ে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম বলে পানি পান করা সুন্নত। তিন শ্বাসে পানি পান করা উত্তম। রসুল (সা.) পানি সম্পর্কে যে শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলো শুধু সুন্নত নয়, বরং এর প্রতিটিতে রয়েছে শরীর সুস্থ রাখার নিদর্শন। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা পানির পাত্র ঢেকে রাখ এবং বাসনগুলো উল্টে রাখ।’ (মুসলিম)। আল্লাহ আমাদের পানির সদ্ব্যবহারের তৌফিক দান করুন।