মাধবপুরে সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ঝড়, অভিযোগে তোলপাড় দপ্তর

হবিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানার বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতি, অনিয়ম ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। তার দপ্তরে এখন চলছে চরম অস্বচ্ছতা ও ভীতিকর কর্মপরিবেশ— এমনটাই অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও দপ্তরের কর্মচারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথিত ‘অলিখিত নির্দেশ’ দেখিয়ে মাসুদ রানা স্থানীয় নিশান এনজিওর বিভিন্ন সম্পত্তির দলিল সম্পাদন বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে অনেক গ্রাহক তাদের বৈধ সম্পত্তির দলিল নিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তার নামও ব্যবহার করেন প্রভাব খাটাতে।

অফিসের নকলনবিশ জান্নাত আরা জানান, তিনি মাসুদ রানার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলেও সেটি যথাযথভাবে গ্রহণ বা তদন্ত করা হয়নি। বরং অভিযোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তার ভাষায়— “আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম, কিন্তু তিনি গ্রহণ করেননি। পরে জেলা রেজিস্ট্রারের কাছে অভিযোগ জানাই এবং শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হই।”

অফিসের অন্যান্য কর্মচারীরাও জানিয়েছেন, সাব-রেজিস্ট্রার অনেক সময় অফিসের নিয়ম ভেঙে এজলাসে না বসে নিজ কামরাতেই দলিল সম্পাদন করেন। আবার অনেক নকলনবিশকে তিনি ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত রাখেন। কেউ প্রতিবাদ করলে বিভিন্নভাবে চাপের মুখে পড়তে হয়।

এছাড়া অভিযোগ আছে, দলিল সম্পাদনের সময় স্থানীয় একটি মসজিদের নামে অনুদান হিসেবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি— এই টাকা সম্পূর্ণভাবে মসজিদের তহবিলে জমা হয় না, বরং বেশিরভাগ অর্থ সাব-রেজিস্ট্রার ও তার সহযোগীদের পকেটে চলে যায়।

নিশান এনজিওর ভুক্তভোগী নয়ন মিয়া বলেন, “আমাদের দলিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। আমরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন হাইকোর্টে রিট করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

অফিসের কয়েকজন কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এখানে নারী কর্মীদের জন্য কোনো নিরাপদ পরিবেশ নেই। কেউ অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই তাকে প্রশাসনিকভাবে চাপে ফেলা হয়।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার মাসুদ রানা নিজ কক্ষে বসেই দলিল সম্পাদন করছেন। অনেক নকলনবিশকে তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত দেখা যায়। অফিসে কর্মচারীদের অর্থ আদায়ের দৃশ্যও চোখে পড়ে।

অভিযোগের বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, “প্রতি দলিলের কিছু টাকা নেওয়া হয়, তবে সবটুকু মসজিদের অনুদান হিসেবে দেওয়া হয়। নারী কর্মচারীর অভিযোগ তদন্তাধীন আছে। অফিসে বসে দলিল করতে হয় প্রয়োজনে। অন্য সব অভিযোগ মিথ্যা।”

এ বিষয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিদর্শক মীর মাহবুব মেহেদী বলেন, “তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত চলছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

হবিগঞ্জ জেলার রেজিস্ট্রার কে. এম. রফিকুল কাদির জানান, “অভিযোগগুলো আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




৩০০ কোটি টাকায় মনোনয়ন কেনার ঘোষণা ও ২ হাজার কোটি টাকার সম্পদের অনুসন্ধান দাবি- মোস্তফা জামানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান-এর বিরুদ্ধে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অস্বচ্ছ আর্থিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে, যেখানে অনুসন্ধান চাওয়া হয়েছে তার সম্পদের উৎস ও নির্বাচনী তহবিলের অর্থের উৎস সম্পর্কে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী হতে গিয়ে মোস্তফা জামান তিনশত কোটি টাকা ব্যয় করতে ইচ্ছুক—এমন মন্তব্য তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৮ থেকে ১০ বছরে মোস্তফা জামান রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০ একর জমি, ১০ থেকে ১২টি বহুতল ভবন এবং ২০টিরও বেশি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, তার দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা বা প্রকাশ্য আয়ের উৎস নেই, কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়, ২০২০ সালের ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন মোস্তফা জামান। নির্বাচনের সময় দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তার মালিকানাধীন জমির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৭৭ শতাংশ, এবং বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা।

কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে তার ভাড়াজনিত আয়ই মাসিক প্রায় দুই কোটি টাকা, যা বাৎসরিক হিসাবে ২৪ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। অথচ আয়কর বিবরণীতে এমন কোনো পরিমাণ অর্থের উৎস বা ঘোষণা দেখা যায় না।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, “২০২০ সালের পর থেকে মোস্তফা জামানের সম্পদ বৃদ্ধির হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসে মাত্র এক দশকের মধ্যে শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়া একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।”

এছাড়া, অভিযোগে দাবি করা হয়, জুলাই বিপ্লবের পর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন মোস্তফা জামান। এর আগে তিনি তুরাগ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় রাজনীতিতে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি নাকি ২০ কোটি টাকার বিনিময়ে মহানগর উত্তর বিএনপির পদ অর্জন করেছেন, এমন অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, “মোস্তফা জামান প্রকাশ্যে দাবি করেছেন, প্রয়োজনে তিনশত কোটি টাকা খরচ করে হলেও তিনি ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়ন নিশ্চিত করবেন। প্রকাশ্যে কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য না থাকলেও কীভাবে তার পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলো—দুদকের উচিত বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করা।”

এ বিষয়ে মোস্তফা জামানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগপত্রটি কমিশনের রিসিভ সেকশনে জমা হয়েছে এবং প্রাথমিক যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পাঠানো হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।




‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন ও বৈঠক করার খবরটি অসত্য’’- জিএম কাদের

এসএম বদরুল আলমঃ ‘‘জামাত-ই- ইসলামীর সাথে জাতীয় পার্টির জোটবদ্ধ নির্বাচন করার জন্য বৈঠক করেছে মর্মে কিছু প্রচার মাধ্যমে প্রকাশিত খবরটি অসত্য।’’

আবার কোন কোন মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যে ‘‘সুযোগ পেলে জাতীয় পার্টি বিএনপি অথবা জামাত-ই-ইসলামীর সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে’’- প্রচারিত এ সংবাদটিও ভিত্তিহীন। আজ এক বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এই কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন জাতীয় পার্টি এখনো কোন জোটের সাথে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নাই।




ঢাকা-১৫ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের প্রায় লক্ষাধিক লোকের বিশাল শোডাউন

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা-১৫ আসনের জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন-এর নেতৃত্বে মঙ্গলবার বিকেলে এক বিশাল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি আয়ুর্বেদিক কলেজ থেকে শুরু হয়ে এই মহাশোভাযাত্রা শেওড়াপাড়া তালতলা প্রদক্ষিণ করে শেওড়াপাড়া কেন্দ্রীয় মঞ্চে এসে শেষ হয়। পুরো এলাকাজুড়ে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল, কৃষক দল, তাঁতি দল, শ্রমিক দলসহ দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলের সারিতে যোগ দেন।

প্রায় লক্ষাধিক মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হয়। শোভাযাত্রার পুরো পথজুড়ে “ধানের শীষের জয়ধ্বনি” ও “গণতন্ত্র মুক্তির লড়াইয়ে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের নেতৃত্ব”–এর স্লোগানে মুখরিত ছিল বাতাস।

শোভাযাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর এই এলাকার মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি। জনগণ এবার পরিবর্তন চায়, ভোটের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে চায়। আমি এই আসনকে একটি গ্রীন ঢাকা, ক্লিন ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন ও নাগরিক সেবায় এই আসনকে মডেল সিটি করব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা ভোট চাই জনগণের বিশ্বাসে, জনগণের শক্তিতে। কিন্তু জামায়াত ইসলামের আমির ড. শফিকুর রহমান ভোটে বিশ্বাসী নন। তারা গণভোট বিলম্বিত করতে বিভিন্ন পাঁয়তারা করছে। আমি স্পষ্ট করে বলছি—যদি তারা এ ধরনের তালবাহানা করে, তাহলে জনগণ তাদের মন থেকে চিরতরে মুছে ফেলবে।”

শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, “ঢাকা-১৫ হবে ঐক্যের প্রতীক। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য, উন্নয়নের জন্য। এই এলাকার রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন আনবো। আমি চাই তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের রাজনীতি।”

তিনি আরও যোগ করেন যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের এই ধারা অব্যাহত রেখে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের ঐক্য এখন অপরিহার্য।

শোভাযাত্রা ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নারীরা ছাদে দাঁড়িয়ে হাত নাড়েন, তরুণরা শ্লোগানে মাতেন, বৃদ্ধরা বলেন—“এবার ভোট চাই, পরিবর্তন চাই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঢাকা-১৫ আসনে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন এখন জনমতের শীর্ষে অবস্থান করছেন এবং তাঁর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

একজন প্রবীণ নেতা বলেন, “মিল্টন ভাই শুধু রাজনীতিক নন, তিনি এলাকার উন্নয়নের প্রতীক। তরুণদের হৃদয়ে তাঁর নাম এখন আশার আলো।”

শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের এই মহাশোডাউন প্রমাণ করেছে—ধানের শীষের পক্ষে ঢাকায় এখনো ব্যাপক গণজোয়ার রয়েছে। জনগণ এবার পরিবর্তনের স্বপ্নে উজ্জীবিত, আর এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, যিনি দৃঢ়ভাবে বলছেন— “গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনব, মানুষকে তার ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেব। এটা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমার অঙ্গীকার।”




জুয়া-অনলাইন গ্রুপে টাকা হারিয়ে আত্মগোপন, খোঁজ মিলল বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই উপ-পরিচালকের

ডেস্ক নিউজঃ নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংকের উপ-পরিচালক নাইম রহমানকে মাদারীপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজ্জাদ রোমন জানান, ‘নাঈম রহমান নিজেই নিখোঁজ হয়েছিলেন। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে বেশি লাভের আশায় জুয়া খেলাসহ হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের নানা গ্রুপে বিনিয়োগ করেছিলেন। পরে টাকা ফেরত না পেয়ে আত্মগোপনে যান।’

তিনি বলেন, ‘মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাতে মাদারীপুরের একটি আবাসিক হোটেল থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।’

নাঈমের মা বলেন, ‘ছেলেকে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। আমরা এখনও কিছু জিজ্ঞেস করিনি, ওর মানসিক অবস্থা এখন ভালো নয়।’

এর আগে গত রোববার সকালে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন নাইম রহমান। তিনি পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর মিরপুরের উত্তর পীরেরবাগ এলাকায় থাকেন। নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা সাজ্জাদ রহমান জলি থানায় জিডি করেন।

এর আগে, গত রোববার অফিসে নিজের ব্যাগ ও পরিচয়পত্র রেখে বেরিয়ে যান নাঈম রহমান। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।




নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এখন আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কানাডীয় সাত সদস্যের একটি সংসদীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান। সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে দেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া ও আসন্ন ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন

তিনি বলেন, আপনারা এমন একসময় বাংলাদেশে এসেছেন, যখন দেশটি এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে— একটি তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে। এখন আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠবে।

ড. ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র টেকসই সমাধান—এর কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এখানে বসবাস করছে। হাজার হাজার শিশু জন্ম নিচ্ছে, বড় হচ্ছে— কিন্তু তারা জানে না তাদের নাগরিকত্ব কী, ভবিষ্যৎ কী। তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। এখন আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান জানান, তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেবেন এবং এ বিষয়ে কানাডার অব্যাহত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা বলছি। এটি একটি গুরুতর মানবিক উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের উচিত তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগী হওয়া।

তিনি ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ জানান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তার অব্যাহত প্রচেষ্টার জন্য।

প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সংসদ সদস্য সালমা জাহিদ (স্কারবোরো সেন্টার–ডন ভ্যালি ইস্ট, লিবারেল), সামির জুবেরি—বৈচিত্র্য, অন্তর্ভুক্তি ও প্রতিবন্ধী বিষয়ক মন্ত্রীর সংসদীয় সচিব এবং পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সদস্য; মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনালের (এইচসিআই) গ্লোবাল সিইও; মাসুম মাহবুব, হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএ (এইচসিইউএসএ)-এর সিইও; আহমদ আতিয়া, জেস্টাল্ট কমিউনিকেশনসের সিইও; এবং উসামা খান, ইসলামিক রিলিফ কানাডার সিইও।

এ সময় সামির জুবেরি বলেন, কানাডা বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বহুমুখী করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, আমরা বাণিজ্যের বৈচিত্র্য আনতে কাজ করছি। বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে গভীর মানবিক সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এশিয়া সফরে গিয়েছিলেন— বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্য আনার লক্ষ্য নিয়ে।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ পোশাক, কৃষি ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে বাণিজ্য সুযোগ ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি শিল্পে কানাডার বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সাক্ষাতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও এসডিজিবিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।




শপথ নিলেন হাইকোর্টের ২১ বিচারপতি

ডেস্ক নিউজঃ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া ২১ বিচারপতি শপথ নিয়েছেন। অসুস্থতার কারণে একজন বিচারপতি পরে শপথ নেবেন।

বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার পর সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নবনিযুক্ত বিচারকদের শপথবাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী।

এর আগে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে হাইকোর্ট বিভাগের ২২ জন অতিরিক্ত বিচারককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

আজ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেন বর্তমানে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্য ২১ জন হলেন- বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, মো. মনসুর আলম, সৈয়দ জাহেদ মনসুর, কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা, মো. যাবিদ হোসেন, মুবিনা আসাফ, কাজী ওয়ালিউল ইসলাম, আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মো. আবদুল মান্নান, তামান্না রহমান, মো. শফিউল আলম মাহমুদ, মো. হামিদুর রহমান, নাসরিন আক্তার, সাথিকা হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন, মো. তৌফিক ইনাম, ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন, শেখ তাহসিন আলী, ফয়েজ আহমেদ, মো. সগীর হোসেন ও শিকদার মাহমুদুর রাজী।




নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার বার্তা

ডেস্ক নিউজঃ পে স্কেল বাস্তবায়নে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, পে কমিশনের জন্য আলাদা একটি কমিশন কাজ করছে এবং তিনটি রিপোর্ট যাচাই-বাছাইয়ের পর বর্তমান সরকার একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে যাবে, যা পরবর্তী সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘পে কমিশনের জন্য আলাদা কমিশন কাজ করছে। তিনটি রিপোর্ট পাওয়ার পর সেগুলো যাচাই-বাছাই করতে হবে। এরপর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যেমন সচিব কমিটি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা, তারপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত মতামত— এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তাই আমাদের সময়ে তা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা নাও যেতে পারে। আমরা একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে যাচ্ছি, যা পরবর্তী সরকার বাস্তবায়ন করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সময়ে এটা বাস্তবায়ন করা কিছুটা অনিশ্চিত, কারণ এখানে সময়, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও অর্থের সংস্থান— সবকিছু বিবেচনা করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে অর্থের ব্যবস্থা করা। তবে আমরা এই উদ্যোগ নিজেরা নিয়েছি, ৭–৮ বছর ধরে কিছু হয়নি। মাত্র ১২ মাসের মধ্যে আমরা নিজেরা কাজ শুরু করেছি, তাই ক্ষোভ নয়, ধৈর্য ধরা উচিত।’

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আগামী সরকারকে পে কমিশনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। পে স্কেল ছাড়াও অন্যান্য সামাজিক খাতের ব্যয় ও বাজেট ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরও জানান, রোজার আগে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তেল ও চিনি আমদানি করা হবে। এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ৪০ হাজার ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ কেনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বন্দরে আটকে থাকা পুরোনো গাড়িগুলো স্ক্র্যাপ করে বিক্রি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ বাইরে বিক্রি করলে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পাশাপাশি সংশোধিত বাজেটের আকার কিছুটা কমানো হবে, যদিও টাকার অঙ্কে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান তিনি।




ঢাকায় নামছে শীতের আমেজ, তাপমাত্রা কমে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

আবহাওয়া ডেস্কঃ  দেশজুড়ে শীতের আগমনী বার্তা মিলছে, রাজধানী ঢাকাতেও পড়ছে ঠান্ডার ছোঁয়া। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে নগরজুড়ে। বুধবার (১২ নভেম্বর) সকালে ঢাকার তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা কম। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টার জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, দিনের প্রথমার্ধে ঢাকা ও আশপাশের আকাশ থাকবে পরিষ্কার। উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তনসহ প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানায় দপ্তরটি।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৬টায় ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশ। গতকাল মঙ্গলবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও বৃষ্টিপাত হয়নি।

আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১৩ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১২ মিনিটে।

অন্যদিকে, গতকাল রাতে প্রকাশিত সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও সারা দেশে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে, তাপমাত্রায় তেমন পরিবর্তন হবে না।




আদানির ১০ কোটি ডলার বকেয়া চলতি মাসে শোধ করবে পিডিবি

ডেস্ক নিউজঃ ভারতের আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ কেনার বকেয়া টাকা অন্তর্বর্তী সরকার নিয়মিত শোধ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চলতি মাসে আদানিকে মোট ১০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে পারে। এর মধ্যে মঙ্গলবার ৩ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে আদানির তিন কোটি ডলার বিল শোধের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয় গত সোমবার। মঙ্গলবার আদানির ব্যাংক হিসাবে টাকা স্থানান্তর করেছে কৃষি ব্যাংক। এর আগে বকেয়া শোধে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পিডিবিকে চিঠি দিয়েছিল আদানি। তা না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ৭টায় আদানির ঝাড়খণ্ড কেন্দ্র থেকে ১২১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশের গ্রিডে যুক্ত হয়।

ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তি অনুযায়ী এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ২৫ বছর ধরে কিনবে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার আদানির জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিলম্ব সুদসহ তাদের পাওনা ৩৫ কোটি ডলার, যা নিয়ে পিডিবির সঙ্গে বিরোধ নেই। কিন্তু বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখতে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়ছে তারা।

সূত্র বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল নিয়ে আদানির সঙ্গে পিডিবির বিরোধ নিষ্পত্তি হয়নি। পিডিবির দাবি, আদানি কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করছে, তারা (পিডিবি) বাজার দামে বিল পরিশোধ করছে। বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পেশাদার মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল আদানি। এতে পিডিবি রাজি হয়নি।

পিডিবি আদানিকে জানিয়েছে, দেশের উচ্চ আদালতে এই চুক্তির বিরুদ্ধে একটি রিট মামলা চলমান আছে। আদালতের আদেশের পর তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত ২৭ অক্টোবর পাঠানো আদানির চিঠিতে দাবি করা হয়, বকেয়া রয়েছে ৪৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ২৬ কোটি ২০ লাখ ডলার পাওনা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। বিরোধের বাইরে থাকা এ পাওনা পরিশোধে পিডিবি ব্যর্থ হলে চুক্তি অনুসারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করার অধিকার আছে আদানির।

বকেয়া বেড়ে যাওয়ায় গত বছর একবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করেছিল আদানি। গত এপ্রিলে বকেয়ার প্রায় পুরোটা শোধ করে দিয়েছিল পিডিবি। এরপর গত কয়েক মাসে আবার বকেয়া জমেছে।