মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলিয়ে দিতে একটি মহল গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। সোমবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ঠাকুরগাঁও জেলা ইউনিট কমান্ড আয়োজিত জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে মুছে দিতে চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু সেই ইতিহাস কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা বুকের ভেতর মুক্তিযুদ্ধকে বয়ে বেড়াচ্ছি। এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ।’

তিনি আরও বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মা-বোনদের পাকিস্তানি হানাদারদের হাতে তুলে দিয়েছিল বা হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যায় সহযোগিতা করেছিল, তাদের সঙ্গে কোনো আপস হতে পারে না। এরা বারবার মুখ বদলে সামনে আসছে এবং দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে চায়।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ফখরুল সতর্ক করে বলেন, ‘নির্বাচনকে বানচালের ষড়যন্ত্র চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া মানে দেশের সর্বনাশ ডেকে আনা। জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।’

সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুর করিমের সভাপতিত্বে, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহম্মদ খান, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলীসহ জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




২০২৬ সালের সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সরকারি ও আধা-সরকারি অফিসগুলোতে মোট ২৮ দিনের ছুটি থাকবে। এই ছুটির মধ্যে সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে প্রতিটি ১৪ দিন করে, যা গত রোববার (৯ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করেছে।

এছাড়া ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি রাখা হয়েছে। মুসলিম কর্মচারীরা নিতে পারবেন ৫ দিন, হিন্দু ধর্মের কর্মচারী ৯ দিন, খ্রিষ্টান ধর্মের জন্য ৮ দিন, বৌদ্ধ ধর্মের জন্য ৭ দিন, আর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ২ দিন। তবে প্রত্যেক কর্মচারী তার নিজ ধর্ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ দিনের ঐচ্ছিক ছুটি বছরের শুরুতেই কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে নিতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা সরকারের কর্তৃক অত্যাবশ্যক হিসেবে ঘোষিত অফিসে কর্মরত বা নিজস্ব আইন-কানুন অনুযায়ী পরিচালিত অফিসে কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজস্ব নিয়মে ছুটি ঘোষণা করতে পারবে।

গত ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন দেয়। মোট ছুটির মধ্যে ৯ দিন সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।




ঢাকা ওয়াসায় ‘পছন্দের’ এমডি বসাতে নতুন নাটক: আব্দুস সালামকে নিয়োগে শর্ত বদল, সাক্ষাৎকারও বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা ওয়াসার নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে বিতর্ক। সংস্থার বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ব্যাপারীকে এই পদে বসানোর জন্য নানাভাবে প্রক্রিয়া বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— তাঁর যোগ্যতা নিশ্চিত করতে একাধিকবার নিয়োগের শর্ত পরিবর্তন করা হয়েছে, এমনকি তাঁকে দ্রুত পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।

ওয়াসার সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা ছিল, যোগ্য প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে। কিন্তু সেটি মানা হয়নি। ৩৭ জন আবেদনকারী থাকার পরও কাউকে ডাকা হয়নি। বরং সরাসরি তিনজনের তালিকা তৈরি করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, যেখানে প্রথমেই রাখা হয়েছে আব্দুস সালামের নাম। এরপর সেই তালিকাই প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

তবে মন্ত্রণালয় বা ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ নিয়ে মুখ খুলছেন না। স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মীর আবদুস শহিদ এবং ওয়াসার সচিব মশিউর রহমান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওয়াসার ভেতরের অনেক কর্মকর্তা এই প্রক্রিয়াকে ‘পছন্দের লোক বসানোর খেলা’ বলছেন। তাঁদের অভিযোগ, আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, যার কারণে তাকসিম এ খানের সময়ে তাঁকে প্রায় চার বছর সংযুক্ত অবস্থায় (ওএসডি’র মতো) বসিয়ে রাখা হয়েছিল। পরে বিগত সরকারের পতনের পর তিনি নিজেকে ‘বঞ্চিত কর্মকর্তা’ দাবি করে প্রভাব খাটিয়ে নিজের বিরুদ্ধে থাকা বিভাগীয় মামলা প্রত্যাহার করান।

তবে আব্দুস সালাম নিজেকে সবচেয়ে যোগ্য দাবি করে বলেন, “ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশল কাজে আমার মতো অভিজ্ঞ কেউ নেই। অন্য কেউ এ দায়িত্ব নিলে কাজ চালানোই কঠিন হবে।”

ঢাকা ওয়াসায় বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান, যেখানে এমডি ও প্রকল্প পরিচালকের পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, এসব পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ নতুন নয়।

তাকসিম এ খানের দীর্ঘ ১৫ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর (২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত) ওয়াসায় আর স্থায়ী এমডি নিয়োগ হয়নি। তিনি দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ অপচয়ের অভিযোগে বিতর্কিত হয়ে গত বছর সরকারের পতনের পর পদত্যাগ করেন। তাঁর পর থেকে তিনজন কর্মকর্তা অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু এখনো কেউ স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাননি।

প্রথমে ২১ মার্চ এমডি পদে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়, যেখানে বলা হয়েছিল ৬০ বছরের বেশি বয়স হলেও অভিজ্ঞ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তখন আব্দুস সালাম চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা হওয়ায় তিনি অযোগ্য ছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই দিন পর ২৩ মার্চ নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সেই শর্তই বদলে ফেলা হয়— এখন বয়স ৬০ বছরের বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। এতে অনেক অভিজ্ঞ প্রার্থী বাদ পড়ে যান। এরপর তাঁকে দ্রুত পদোন্নতি দিয়ে তৃতীয় গ্রেডে তোলা হয়, যাতে পরের বিজ্ঞপ্তিতে তিনি যোগ্য হয়ে যান।

সর্বশেষ ১৫ জুলাই নতুন বিজ্ঞপ্তিতে তিনি আবেদন করেন, আর কোনো সাক্ষাৎকার ছাড়াই তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় তাঁর নাম শীর্ষে উঠে আসে। দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান এবং তৃতীয় স্থানে এলজিইডির সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হক।

বর্তমানে ওয়াসার পরিচালনা বোর্ড না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে তথাকথিত ‘কর্মসম্পাদন সহায়তা কমিটি’। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আখতার জাহান, আর সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করছেন ওয়াসার সচিব মশিউর রহমান খান। কমিটিতে আরও আছেন জনপ্রশাসন, অর্থ, পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং ছাত্র প্রতিনিধি আহনাফ সাঈদ খান।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ইতিমধ্যে আদালতে রিট হয়েছে। মো. লিয়াকত আলী নামের একজন আবেদনকারী হাইকোর্টে রিট করলে, আদালত ৩ নভেম্বর নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে রুল জারি করেন।

নগর–পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সভাপতি অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেছেন, “পছন্দের মানুষ বসানোর প্রতিযোগিতা যদি সরকারি সংস্থাগুলোর সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হবে। এটি সৎ কর্মকর্তাদের নিরুৎসাহিত করে এবং জনগণের সেবাকে প্রভাবিত করে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারের উচিত স্বচ্ছ নিয়োগনীতি তৈরি করা এবং যাঁরা এই কৌশলগত নিয়োগের পেছনে রয়েছেন, তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা।”




বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে নিয়োগ দুর্নীতিতে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ২০১৩ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)-র বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে নিয়োগ সংক্রান্ত একটি গোপন দুর্নীতি চিত্র উঠে এসেছে।

সেই সময় মোট ২০টি শূন্য আসনে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। স্বাভাবিক নিয়মে বাছাই কমিটি লিখিত পরীক্ষার নম্বর, কোটাসহ বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনায় নিয়ে ১৮ জন প্রার্থীর নিয়োগ সুপারিশ করেছিল। পরে সেই সুপারিশ অনুযায়ী নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর তদন্তে দেখা গেছে, সুপারিশপ্রাপ্ত ওই ১৮ জনের বাইরে ৪২ জন প্রার্থীকে সম্পূর্ণ অনিয়মভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা কেউ আবেদন করেনি, কেউ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়নি — তবু নিয়োগ পেয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, ২৫ জন লিখিত পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। ১৪ জন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও সাক্ষাৎকারে ফেল হয়েছেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর হলো— ৩ জন একদমই আবেদন করেনি, তবুও নিয়োগ পেয়েছে।

এই নিয়ে বারি-র সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সহ মোট ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য আজ সোমবার দুদকের কার্যালয় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অনিয়মের এ ধারা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতায় বড় প্রশ্ন উঠেছে, যা নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে হতাশা ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।




ডিএসসিসি প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

ডিএসসিসির সচিব মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দপ্তর আদেশে (স্মারক নং: ৪৬.২০১.০৩১.০০.০২.০০৯.২০০৮–৩৭৩০, তারিখ ২৬ অক্টোবর ২০২৫) গঠিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পরিবহন) মোহাম্মদ নাছিম আহমেদ। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রধান ভাণ্ডার ও ক্রয় কর্মকর্তা মো. জয়নুল আবেদীন এবং সদস্য–সচিব হিসেবে দায়িত্বে আছেন অঞ্চল–১০ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব।

দপ্তর আদেশে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ইতোমধ্যে কমিটি মাঠপর্যায়ে তদন্ত কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ডিএসসিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হবে।”

সূত্র জানায়, গোলাম কিবরিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকা বেশ কয়েকটি প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ এবং ঠিকাদার নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ঠিকাদার ও সাধারণ নাগরিকরা একাধিক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়ার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনিক সূত্র বলছে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, পদাবনতি কিংবা ফৌজদারি মামলা দায়েরের বিষয়ও রয়েছে। তদন্ত কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে ডিএসসিসি পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেবে।




সারাদেশে তাপমাত্রা কমার আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ কয়েক দিন ধরেই দেশের উত্তরাঞ্চলে বইছে হিমেল হাওয়া, বেড়েছে কাঁপুনি ধরানো শীতের অনুভূতি। বিকেল নামলেই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ঠাণ্ডার ছোঁয়া। মনে হচ্ছে, শীত যেন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। 

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, সামনে আরও কমবে তাপমাত্রা। ইতোমধ্যে রাজশাহীর তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে নেমে এসেছে।

রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) দেশের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে কাজ করা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে আজ রাতেই দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এক ফেসবুক পোস্টে তারা জানায়, রোববার রাত থেকে ১৫ নভেম্বর রাত পর্যন্ত পঞ্চগড়, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, জয়পুরহাট, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, শেরপুর, জামালপুর ও এর পার্শ্ববর্তী কিছু কিছু স্থানে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২-১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে।

এ ছাড়া একই সময়ে দেশের অধিকাংশ স্থানের রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা সারা দেশেই ২৮-৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই দিনে তেমন শীত অনুভব হবে না।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়া বার্তাতেও আগামী কয়েক দিন তাপমাত্রা কমার তথ্য জানানো হয়েছে।




মেট্রো রেলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ছুটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা ও সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সংস্থাটির সর্বস্তরে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

রোববার (৯ নভেম্বর) সংস্থাটির পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, মেট্রোরেল ভবন, ডিপো এলাকা, মেট্রোরেল স্টেশন, ডিএমটিসিএল-এর আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হলো।

একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের এ নির্দেশ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

ডিএমটিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, ছুটি বাতিল সম্পর্কিত দুটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। একটি চিঠিতে বিশেষ নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। আরেকটি চিঠিতে ডিএমটিটিসিএলের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তারা জানান, মেট্রোরেলের সব অবকাঠামো কেপিআইভুক্ত। সম্প্রতি রাজধানীতে আন্দোলনসহ প্রায় প্রতিদিনই নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে মেট্রোরেলের সার্বিক নিরাপত্তায় বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সব কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।




ধামরাইয়ে আমেনার প্রতারণা কাণ্ড: ৬ষ্ঠ স্বামীর ৬০ লক্ষ টাকার সম্পদ হাতিয়ে, শেষে মিথ্যা মামলা করে ফাঁসানোর চেষ্টা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মানুষের বিশ্বাস যখন ব্যবসায় রূপ নেয়, তখন সম্পর্কও হয় প্রতারণার শিকার। ঠিক এমনই এক হৃদয়বিদারক কাহিনি এখন আলোচনায়— ধামরাইয়ের আমেনা বেগম নামের এক নারীর প্রতারণার জাল। একাধিক বিবাহ, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, আর কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এখন তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত স্মারক নং-অপরাধ/২০২৫/৩১১৯/ভি, তারিখ-২৯/০৯/২০২৫ খ্রি. নথি অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবী মোঃ শাহাদাৎ হোসেন (৫২) তার জবানবন্দিতে এক ভয়াবহ সত্য তুলে ধরেছেন।

বিবাহের নামে প্রতারণা, অজান্তেই ষষ্ঠ স্বামী!

২০২২ সালের ৩০ জুন ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে কাবিন সম্পন্ন হয়। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই শাহাদাৎ জানতে পারেন আমেনা বেগমের এটি তার ষষ্ঠ বিবাহ!

পূর্বের পাঁচ স্বামীর তালিকা চাঞ্চল্য তৈরি করেছে:

প্রথম স্বামী, মিজানুর রহমান (মুদি ব্যবসায়ী), ধামরাই, ঢাকা। দ্বিতীয় স্বামী,মোজাম্মেল হক (সৌদি প্রবাসী), টাঙ্গাইল। তৃতীয় স্বামী আলম (সাভার ফুটপাতের ব্যবসায়ী)। চতুর্থ স্বামী ফিরোজ(ড্রাইভার),আশুলিয়া। পঞ্চম স্বামী হায়দার রহমান (ব্যবসায়ী), কুষ্টিয়া। এদের প্রত্যেকের সংসারই ভেঙেছে অবাধ্যতা, অনৈতিক আচরণ ও আর্থিক লোভের কারণে, এমন তথ্য উঠে এসেছে স্থানীয় সূত্রে।

বিশ্বাসের সুযোগে হাতিয়ে নিল ৬০ লক্ষ টাকার সম্পদ:

বিবাহের পর আমেনা বেগমের ষষ্ঠ স্বামী শাহাদাৎ-এর কাছ থেকে একের পর এক অর্থ দাবি করতে শুরু করেন। পুকুর ভরাট”, “বাউন্ডারি ওয়াল”, “বেইজমেন্ট নির্মাণ” ইত্যাদি অজুহাতে কৌশলে তিনি হাতিয়ে নেন প্রায় ৫৯ লক্ষ টাকা, যা শাহাদাৎ হোসেন তার কেরানীগঞ্জের জমি বিক্রি করে ব্যয় করেন।এর বাইরেও তার হাতে ১৭-১৮ লক্ষ টাকা নগদ গচ্ছিত ছিল বলে দাবি করেছেন শাহাদাৎ হোসেন।

তিনি বলেন,”সে দামি পোশাক, স্বর্ণালংকার, মোবাইল, পারফিউম— বিলাসী জীবনযাপনের নামে একের পর এক টাকা নিতে থাকে। আমি বাধা দিলে সে গালাগালি, হুমকি এমনকি শারীরিক নির্যাতনও করত।”

জবানবন্দি থেকে শাহাদাৎ হোসেন তালাকের পর প্রতিশোধ মিথ্যা মামলা দায়ের:

অসহ্য নির্যাতনের কারণে শাহাদাৎ হোসেন ১৫ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ‘তালাকে বায়েন’ প্রদান করেন, যা ১৬ ডিসেম্বর কাজী অফিসে নথিভুক্ত হয়। তবে কিছুদিন পর আমেনা বেগম সংশোধনের অঙ্গীকার” করে ফের সংসারে ফিরে আসেন— কিন্তু পরিস্থিতি হয় আরও ভয়াবহ। অবশেষে শাহাদাৎ দ্বিতীয়বারের মতো তালাক বহাল রাখেন। এরপর আমেনা প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শাহাদাৎ-এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল নং-০৯, ঢাকা-এ পিটিশন মামলা নং-০৭/২৫, ধারা ৯(১) দায়ের করেন।

তদন্তে সত্য উদ্ঘাটন:

এস.আই (নিঃ) জিয়াউর রহমানের নিরপেক্ষ ভূমিকা উক্ত মামলার তদন্তভার পান ধামরাই থানার এস.আই (নিঃ) জিয়াউর রহমান। তদন্তে সাক্ষ্য, প্রতিবেশী বক্তব্য ও আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়— শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হলে আদালতও বিষয়টি প্রতারণা ও প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড বলে মন্তব্য করেন।

তদন্তে উঠে আসা মূল তথ্য: 

আমেনা বেগমের একাধিক বিবাহের প্রমাণ মিলে। তিনি শাহাদাৎ হোসেনের কাছ থেকে মোট ৭৫ লক্ষ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রাথমিক তথ্য।মিথ্যা মামলা দায়ের করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ধামরাই ও সাভার এলাকায় বিবাহ প্রতারণা চক্রের অংশ। শাহাদাৎ হোসেনের দাবি,” আমি শুধু একজন সৎ মানুষ হিসেবে জীবনের সঞ্চয় দিয়ে সংসার গড়তে চেয়েছিলাম। এখন সব হারিয়েছি— মানসম্মান, অর্থ, বিশ্বাস— সবই। আমি চাই প্রশাসন এই নারী প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনুক।”

বঙ্গবন্ধু আইন কলেজের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন,”বিবাহ প্রতারণা এখন একটি সামাজিক মহামারি। এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও উদাহরণমূলক শাস্তি ছাড়া সমাজে নারীর আসল মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়।”




সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনের সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার: অর্থ উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে কমিশন গঠনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার— জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রোববার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে খাদ্য বহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। “চালের দাম এখন মোটামুটি সহনীয়। কিন্তু যাতায়াত ব্যয় ও বাড়িভাড়া কিছুটা বেড়েছে,”— বলেন তিনি।

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের উদ্যোগ

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ইউরিয়া ও টিএসপি সার আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সিদ্ধ চাল আমদানিরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, সামগ্রিকভাবে খাদ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করছে সরকার এবং বর্তমান পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে মনে করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রতি কেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ টাকা, আতপ চাল ৪৯ টাকা, আর সিদ্ধ চাল ৫০ টাকা কেজি দরে সংগ্রহ করা হবে।

এ বছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা— ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান ও আতপ চাল এবং ৬ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করা।




তিতাসে অনিয়মের নেপথ্যে জেনারেল ম্যানেজার আতিয়া বিলকিস: দুদকের অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশেষ প্রতিবেদকঃ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিতে চলছে যেন দুই রকম খেলা—একদিকে চলছে লোক দেখানো অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নের অভিযান, অন্যদিকে আবার কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় অবৈধ সংযোগের বাণিজ্য পুরোদমে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের চেয়ে বহু গুণ দ্রুততায় এই অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্যাস চুরি করে সিস্টেম লস দেখিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। এসব অনিয়মের পেছনে নাম উঠেছে তিতাসের জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা আতিয়া বিলকিসের।

তিতাসের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে কোম্পানির সিস্টেম লস ছিল ১০.৬ শতাংশ। ওই সময় তিতাস দৈনিক ১,৩৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পেয়েছিল, কিন্তু বিক্রির হিসাব দেখানো হয়েছে মাত্র ১,১৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মূল্য কোম্পানির কোষাগারে জমা হয়নি। কর্মকর্তারা এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতির দায় চাপাচ্ছেন আতিয়া বিলকিসের ওপর।

কোম্পানির ভেতরের একাধিক সূত্র জানায়, আতিয়া বিলকিস একসময় দুদকের সাবেক কমিশনার মোজাম্মেল হক খানের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। সেই সম্পর্কের জোরে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তার করেছেন প্রতিষ্ঠানের ভেতরে। দুদক কমিশনারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে যাকে ইচ্ছা হয়রানি করেছেন, আবার নিজের প্রমোশনও আদায় করেছেন সহজেই। এমনকি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাও অনেক সময় তার খামখেয়ালি আচরণের বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পাননি।

তিতাসের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আতিয়া বিলকিসের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস আমাদের নেই। ভয় হয়, চাকরিটাই হারাব।”

সম্প্রতি তিনি ছেলেকে দেখতে কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। সরকারি ছুটি শেষ হলেও সময়মতো ফিরে আসেননি; বরং ‘ডি-নথিতে’ ফাইল তুলে দেশে ফিরেছেন। তদন্তে দেখা যায়, তিনি অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অবস্থান করেছেন এবং তার একাধিক পাসপোর্ট রয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান জেনারেল ম্যানেজার (অর্থ) রশিদুল আলম সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ সত্য—তিনি কানাডায় কয়েকদিন বেশি অবস্থান করেছিলেন।

অন্যদিকে, দুদকও ইতিমধ্যে আতিয়া বিলকিসের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে। তার প্রমোশন সংক্রান্ত নথি, বদলীকৃত কর্মকর্তাদের তথ্য এবং রূপগঞ্জের মুড়াপাড়ায় দেওয়া গ্যাস সংযোগের রেকর্ড চাওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি শিল্প এলাকায় গ্যাস সংযোগের নামে কোটি কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “যেহেতু বিষয়টি দুদকের তদন্তাধীন, তাই আপাতত কোনো মন্তব্য করা যাচ্ছে না। তবে তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আতিয়া বিলকিস। তিনি বলেন, “আমি এখন ৫৮ বছর বয়সে এসে দুর্নীতিতে জড়াব কেন? খিলগাঁওয়ে আমার বাবার জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। ছেলেকে পড়ানোর জন্য অফিস থেকে ঋণ নিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে কিছু কর্মকর্তা এবং বাইরের গোয়েন্দা সংস্থাও।”

তিতাসের আরেক কর্মকর্তা বলেন, “তিনি এমনভাবে ছুটি নেন, মনে হয় অফিস তার ইচ্ছামতো চলে। এত ছুটি অন্য কারও ভাগ্যে জোটেনি।”

গ্যাস চুরি ও সিস্টেম লসের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই-তিন শতাংশ লসকে ‘সিস্টেম লস’ বলা যেতে পারে, কিন্তু ৪০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাস গায়েব হয়ে যাওয়া আসলে ‘চুরি’ নয়—‘ডাকাতি’। বিইআরসির সাবেক সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, “এটা আর দুর্নীতি নয়, সরাসরি ডাকাতি। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের মুখোমুখি আনতেই হবে।”