গাজীপুরে সাবেক মেয়র মজিবুরের টেন্ডার কেলেঙ্কারি খতিয়ে দেখছে দুদক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গত বৃহস্পতিবার (৬/১১/২৫) পৌরসভায় হঠাৎ অভিযান চালিয়ে তারা বিভিন্ন প্রকল্পের টেন্ডার ও রেকর্ডপত্র জব্দ করে। দুদকের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযানের সময় দুদকের টিম পৌরসভার রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও প্যালাসাইডিং সংক্রান্ত কাজগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। অভিযোগ রয়েছে, ব্রাউন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিং নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ১৩ কোটি ৯২ লাখ টাকার কাজের কার্যাদেশ পেয়েছিল। এসব কাজের অনুমোদন দেওয়া হয় তৎকালীন মেয়র মজিবুর রহমানের সময়েই। কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই কাজগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় গাজীপুরের উপপরিচালক নাজমুল হোসাইন বলেন, “ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে টেন্ডার পাওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠায় দুদকের ঢাকা অফিস থেকে নির্দেশ পেয়ে আমরা অভিযান চালাই। সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, “রাস্তা সংস্কার, ড্রেন নির্মাণ ও প্যালাসাইডিংসহ ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বেশ কিছু কাজের মান ও প্রক্রিয়া যাচাই করে রিপোর্ট কমিশনে পাঠানো হবে।”

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, আইইউজিই প্রকল্পের চতুর্থ প্যাকেজের অধীনে ২০২৪ সালের এপ্রিলে কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক, আনসার একাডেমি, পাশা গেট ও লালটেকিরসহ কয়েকটি এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। তবে দরপত্র যাচাই না করেই ব্রাউন ফিল্ড ইঞ্জিনিয়ারিংকে কাজ দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করলে দুদক বিষয়টি অনুসন্ধানে নেয়।

এর আগেও ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মজিবুর রহমানকে দুদক তলব করেছিল তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে। দুদক জানতে পারে, তার স্ত্রী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠদের নামে জমি, বাড়ি, দোকান, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে জবাব দিতে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তিনি প্রভাব খাটিয়ে নিজেকে দায়মুক্ত করার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, মজিবুর রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি দুই মেয়াদে কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে তিনি ক্ষমতা ও প্রভাব ব্যবহার করে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদেরও হয়রানি করতেন।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও শনিবার একাধিকবার কল দিয়েও সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। পাঠানো এসএমএসেরও কোনো জবাব মেলেনি।




চট্টগ্রাম বন্দরে লিফট কেলেঙ্কারি: ‘এ’ গ্রেডের নামে ‘ডি’ গ্রেড লিফট, আত্মসাৎ কোটি টাকার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রাম বন্দরে লিফট কেনাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা সরকারি অর্থ লুটে নিচ্ছে প্রকাশ্যে। বিদ্যুৎ বিভাগের সাম্প্রতিক ছয়টি প্রকল্পে উচ্চমানের ‘এ’ গ্রেড লিফট সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হয়েছে নিম্নমানের ‘সি’ ও ‘ডি’ গ্রেড লিফট। প্রতিটি লিফটের দাম ধরা হয়েছিল প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ টাকা, অথচ বাজারে একই লিফটের দাম সর্বোচ্চ ১৮ লাখ টাকার মতো। এই কারসাজির মাধ্যমে প্রকল্পগুলো থেকে আত্মসাৎ হয়েছে সাত কোটিরও বেশি টাকা।

বন্দরের বিভিন্ন ভবনে এই লিফটগুলো স্থাপন করা হলেও, শুরু থেকেই দেখা দিচ্ছে নানা ত্রুটি—প্রায়ই লিফট আটকে যাচ্ছে, যাত্রীদের আটকা পড়ার ঘটনাও ঘটছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বন্দরের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক এসএম সাইফুল ইসলাম, উপপ্রধান প্রকৌশলী মো. মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি আলি আজগর এবং সাবেক নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদের ব্যক্তিগত সহকারী ইঞ্জিনিয়ার আরশাদ পারভেজ।

এই চক্র টেন্ডারের নিয়মই বদলে দেয়—যেখানে প্রকল্পগুলো ‘গুডস’ ক্যাটাগরির হওয়া উচিত ছিল, সেখানে তারা কাগজে-কলমে ‘ওয়ার্কস’ প্রকল্প দেখিয়ে আন্তর্জাতিক মান যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যায়। ফলে নিম্নমানের লিফট সরবরাহ করা হলেও তাতে কোনো প্রশ্ন তোলা যায়নি।

২০২২ সালে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিসিং বিল্ডিং’-এর জন্য চারটি ‘এ’ গ্রেড লিফট কেনার চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছিল চার কোটি ৫৮ লাখ টাকা। শর্ত ছিল ফুজিটেক, হিটাচি, মিৎসুবিশি বা কোনের মতো স্বীকৃত ব্র্যান্ডের লিফট দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে স্থাপন করা হয়েছে ‘ফুজাও’ নামের এক চায়না কোম্পানির ‘ডি’ গ্রেড লিফট, যার দাম ১২ থেকে ১৮ লাখ টাকার মধ্যে। ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলমের প্রতিষ্ঠান ‘এ অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনাল’ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে, এবং এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। একই বছরের অন্যান্য প্রকল্পেও—অফিসার্স কোয়ার্টার, ডরমিটরি, স্টোর ভবন, কার শেড ও প্রশাসনিক ভবনে—একই ধরনের অনিয়ম হয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান: ‘এ অ্যান্ড জে ইন্টারন্যাশনাল’, ‘ম্যাক্সওয়েল সিমেন্স পাওয়ার প্লাস’ এবং ‘এবিএম ওয়াটার কোম্পানি’। মালিকরা—জাহাঙ্গীর আলম, শাখাওয়াত হোসেন ও আতাউল করিম সেলিম—বন্দরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে দরপত্র বণ্টনে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। স্থানীয় ঠিকাদারদের ভাষায়, এখন “বন্দরের টেন্ডার মানেই আগে থেকে ভাগ করে রাখা প্যাকেজ”—সবাই জানে কে কাজ পাবে, বাকিরা শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, ‘এ’ গ্রেড লিফটে ইউরোপীয় সনদপ্রাপ্ত কন্ট্রোল ইউনিট, গিয়ারলেস মোটর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বন্দরে স্থাপিত লিফটগুলোয় এসবের কোনোটি নেই। এক প্রকৌশলী মন্তব্য করেছেন, “এগুলো শুধু নিম্নমানের নয়, জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি করছে।”

বন্দরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, অনিয়মে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। এমনকি তাদের বিদেশে অর্থ পাচারের বিষয়েও তথ্য হাতে পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী বলেছেন, “এক কোটি টাকার নামে ১৮ লাখ টাকার লিফট দেওয়া হয়েছে, বাকিটা ভাগ হয়েছে সিন্ডিকেটের মধ্যে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির একটি দৃষ্টান্ত।” তিনি দ্রুত দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত ঠিকাদার মো. জাহাঙ্গীর আলমকে ফোনে পাওয়া না গেলেও হোয়াটসঅ্যাপে তিনি জানান, “লিফট যেভাবে চাওয়া হয়েছে, সেভাবেই দেওয়া হয়েছে।” এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

বন্দরের বিদ্যুৎ বিভাগের পরিচালক এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, “আপনারা আগে সরেজমিনে দেখে নিন, তারপর লিখুন।” যখন প্রতিবেদক তাকে নিম্নমানের লিফট দেখানোর কথা বলেন, তিনি বলেন, “চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ না হলে সরকারি কাজে তা গ্রহণযোগ্য নয়।” তবে উপপ্রধান প্রকৌশলী মেসবাহ উদ্দিন চৌধুরী একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও মন্তব্য দেননি।

চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনাল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা ভয়াবহ দুর্নীতিরই উদাহরণ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”




দুদকের নোটিশ: স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাবেক দুই কর্মকর্তার সম্পদ যাচাই শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের সাবেক দুই ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের নামে থাকা সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। সম্প্রতি পাঠানো এ নোটিশের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদক সূত্র জানায়, দায়িত্ব পালনকালে অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন, প্রভাব খাটানো ও অনিয়মের অভিযোগে প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে এ নোটিশ পাঠানো হয়। তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পদের উৎস ও বিস্তারিত বিবরণ দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, এর আগে তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানকে তলব করে দুদক জিজ্ঞাসাবাদ করে। সে সময় তাদের কাছ থেকে আয়-ব্যয়ের প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ওই তথ্য যাচাইয়ের পরই সম্পদের বিস্তারিত হিসাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়।

দুদক জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের হিসাব না দিলে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কয়েকটি অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

দুদক সূত্রের ভাষ্য, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের অপব্যবহার, নিয়োগ বাণিজ্য ও সরবরাহ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের সম্পদ যাচাই শুরু হয়।

এর আগে গত ২১ মে দুদক তুহিন ফারাবী, ডা. মাহমুদুল হাসান ও এনসিপির বহিষ্কৃত যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দীন তানভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদবির, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শাখার কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করেন। সে সময় তাদের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায় এবং সম্পদের উৎস জানতে চাওয়া হয়।

তুহিন ফারাবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দপ্তরে কাজ করার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার ও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে নামে-বেনামে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাকে নিজের, স্ত্রী ও সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়করের হালনাগাদ নথি এবং ব্যাংক হিসাবের বিবরণী জমা দিতে বলা হয়।

অন্যদিকে, ডা. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার ও টেন্ডারবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তাকেও নিজের ও পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, আয়কর নথি এবং ব্যাংক বিবরণীসহ হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

পরে গত ২৭ মে ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন গালিব তুহিন ফারাবী ও মাহমুদুল হাসানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা এবং তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লকের নির্দেশ দেন।




২০২৬ সালে দুই ঈদের ছুটি ১১ দিন, দুর্গাপূজায় ২ দিন

ডেস্ক নিউজঃ ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, আগামী বছর সাধারণ ছুটি এবং নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ছুটি হবে ২৮ দিন। এর মধ্যে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি পড়ায় মূল ছুটি হবে ১৯ দিন।

সূত্রের খবর, চলতি বছরের মতো আগামী বছরও দুই ঈদ এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় ছুটি থাকবে। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি ৫ দিন, ঈদুল আজহায় ৬ দিন এবং শারদীয় দুর্গাপূজায় ২ দিন। রোববার (৮ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ‘২০২৬ সালের ছুটির তালিকায় সাধারণ ছুটি ও নির্বাহী আদেশের ছুটি মিলিয়ে মোট ২৮ দিন। তবে এর মধ্যে ৯ দিন শুক্রবার ও শনিবার পড়েছে, ফলে কার্যত সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল ছুটি ১৯ দিন হবে।’

এর আগে গত বছর ১৭ অক্টোবর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৫ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করা হয়েছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ছুটি ছিল ২৬ দিন। এর মধ্যে সাধারণ ছুটি ছিল ১২ দিন এবং নির্বাহী আদেশের ছুটি ছিল ১৪ দিন। তবে সাধারণ ছুটির মধ্যে পাঁচ দিন এবং নির্বাহী আদেশের মধ্যে চার দিনই সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ছুটি সংক্রান্ত এই অনুমোদন আগে থেকে ধারাবাহিকভাবে দেশের কাজকর্ম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পনার সুযোগ দেবে। বিশেষত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দীর্ঘ ছুটি থাকায় মানুষ পরিবার ও আতিথ্য-সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিতে সুবিধা পাবেন। শারদীয় দুর্গাপূজার দুই দিনের ছুটিও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে সমর্থন করবে।




ডেঙ্গুতে মৃত্যুর অর্ধেকের বেশি তরুণ

স্বাস্থ্য ডেস্কঃ দেশে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু বেড়েই চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৭,০০০। উদ্বেগজনকভাবে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মধ্যে ৫৩ শতাংশই তরুণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগে এত মানুষের মৃত্যু ‘জাতির জন্য লজ্জা’র বিষয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারীদের ৫৩ শতাংশের বয়স ১৬ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, আর ১৫ শতাংশ হলো শিশু।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির পেছনে তিনটি মূল কারণ রয়েছে—জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম এবং জনসচেতনতার অভাব। তাদের মতে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে টেকসই ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গতকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যদিও এ সময়ে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. এম মুশতাক হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল উপায় হলো মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। আমরা এক টন ময়লা সরাচ্ছি, কিন্তু দশ টন নতুন করে জমছে। নিয়মিত এ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যথেষ্ট নয়—আমাদের হাজারো স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘বৃষ্টি থেমে গেলেও ডেঙ্গু অন্তত আরও দুই মাস চলবে—প্রথম মাসে সংক্রমণ বাড়বে, পরের মাসে ধীরে ধীরে কমবে।’

তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রাদুর্ভাব চলতে পারে জানুয়ারির মাঝামারি পর্যন্ত।

ডা. মুশতাক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধযোগ্য রোগ, তবুও মানুষ মারা যাচ্ছে—এটি লজ্জাজনক। আমাদের প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা আছে, কিন্তু সমন্বিতভাবে কাজ না করার কারণেই মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস) জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে মৃত্যুর প্রধান কারণ ছিল ডেঙ্গু শক সিনড্রোম, এর পরের অবস্থানে ছিল এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোম।




ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির মতবিনিময় সভায় ঐক্যের আহ্বান

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় তরুণ পার্টির উদ্যোগে এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তরুণ পার্টির আহবায়ক জাকির হোসেন মৃধা। সভায় প্রধান বক্তা ছিলেন মোড়ল জিয়াউর রহমান।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জাতীয় তরুণ পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহবায়ক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব মহিন উদ্দিন মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহবায়কবৃন্দ— এডভোকেট সাদেকুর মিয়া, মোঃ মান্নান হাওলাদার, খবীর গাজী, এডভোকেট এনামুল হক, মোঃ তৌহিদ খান, আবুজার ইসলাম ও শ্রী উজ্জ্বল শাহা।

এছাড়া মহানগর নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মোঃ আরিফুর রহমান আরমান, মোঃ আবদুল হালিম হাওলাদার, মাহবুব তালুকদার, শরীফ হোসেন, আমির হোসেন, রুহুল আমিন, মিরাজ হোসেন, জাকির হোসেন, মাহবুবর রহমান, মিনারা সুলতানা, সোহেব মুন্সি, আরিফ হোসেন, তরিকুল ইসলাম, নুরে আলম, নাহিদ ইসলাম, জব্বার আহমেদ, এরশাদ চৌধুরী, সাইদুল হক, রমজান আলী ও মেজ্জামেল হক।

বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতিতে তরুণদের ভূমিকা এখন সময়ের দাবি। জাতীয় তরুণ পার্টিকে আরও সংগঠিত, সক্রিয় ও ঐক্যবদ্ধ করে তোলার মাধ্যমে জাতীয় পার্টির ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীরা ঐক্য ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ডে নব উদ্যমে অংশগ্রহণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




দিল্লিতে ভয়াবহ দূষণ, ঢাকায়ও ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বাতাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ বিশ্বের বড় শহরগুলোতে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। ভারতের রাজধানী দিল্লি এখন এ দূষণে সবচেয়ে শীর্ষে, আর বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও রয়েছে বিপজ্জনক অবস্থায়।

রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পরিমাপক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, দিল্লির একিউআই (AQI) স্কোর ছিল ৬৩৫, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। এটি বায়ুদূষণের ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ স্তর হিসেবে গণ্য।

একই সময়ে ২০৯ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে ছিল ঢাকা। এই মাত্রার বাতাসকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়।

তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর (স্কোর ৩৫৫), তৃতীয় কুয়েত সিটি (২৫৭) এবং পঞ্চম ইরাকের বাগদাদ (১৭৫)।
একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।

২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়া ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা একিউআই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।




শাহজালাল বিমানবন্দরে লাগেজ ও পণ্য চুরি: লোডারদের জালে কার্গো সিন্ডিকেট

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের প্রধান বিমানঘাঁটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখন লাগেজ গায়েব ও পণ্য চোর সিন্ডিকেটের কবলে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে যাত্রীদের লাগেজ কিংবা রপ্তানি কার্গোর মূল্যবান পণ্য। বহু ফরওয়ার্ডিং কোম্পানি বারবার লিখিত অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা পাচ্ছে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যবসায়ীরা, আর ধীরে ধীরে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের আস্থাও হারাচ্ছে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কার্গো ভিলেজে দামি ব্র্যান্ডের পণ্য চুরির পেছনে বেশ কয়েকটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়। তারা আগে থেকেই জেনে নেয় কোন কোম্পানি কী ধরনের পণ্য রপ্তানি করছে। সেই তথ্য পেয়ে টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে চুরি করে নেয় পণ্য। সিসিটিভি ক্যামেরার সীমিত কভারেজ, নষ্ট ক্যামেরা আর মনিটরিংয়ের ঘাটতির সুযোগে এই চক্র নির্ভয়ে কাজ করছে।

অভ্যন্তরীণ তদন্তে দেখা গেছে, চুরি করা মালামাল বেশিরভাগ সময় ওয়্যারহাউজের ময়লার স্তূপে লুকিয়ে রাখা হয়। পরে ময়লার গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। আবার কেউ কেউ শৌচাগারে গিয়ে পোশাক বদলে পণ্য শরীরে লুকিয়ে বাইরে চলে আসে। কখনো স্ক্যানিংয়ের সময়, কখনো লোডিংয়ের সময়, আবার অনেক সময় ওয়্যারহাউজের বাইরে রেখেও চুরি হয় পণ্য।

চুরি শুধু কার্গো ভিলেজেই নয়—টার্মিনালের ক্যানোপি এলাকাতেও ঘটছে। স্বজনদের জন্য অপেক্ষার জায়গা থেকে অনেক সময় ব্যাগ বা পণ্য উধাও হয়ে যাচ্ছে। ৫ নভেম্বর এমনই এক ঘটনায় ইয়াংওয়ান করপোরেশনের শিপমেন্ট থেকে নয়টি পোশাক চুরি হয়। ফরওয়ার্ডার কোম্পানির উদ্যোগে বাফার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চোরাই পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় চোর সোজা প্রধান গেট দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যক্তি বিমান নিরাপত্তা অফিসে খাদ্য সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করেন, তবে তিনি কোনো স্থায়ী কর্মচারী নন এবং কার্গো ভিলেজে প্রবেশের অনুমতিও ছিল না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেখানেই কাজ করছিলেন। বাফার সুপারভাইজারের সহযোগিতায় চুরি যাওয়া নয়টির মধ্যে ছয়টি পণ্য ফেরত আনা সম্ভব হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কার্গো ভিলেজের অনেক সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো বা ভাঙা অবস্থায় আছে। কিছু ক্যামেরা স্থির অবস্থায় ঘুরছে না, ফলে পুরো জায়গা কভার হচ্ছে না। এমনকি ছাদে ক্যামেরা না থাকায় কার্গোর স্তূপের আড়ালের দৃশ্য অদৃশ্যই থেকে যাচ্ছে। এই সুযোগে চোরচক্র নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বাফা (Bangladesh Freight Forwarders Association)–এর কিছু সদস্য ছাড়াও বিমানের নিজস্ব লোডাররাও এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকে চোরচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা। এমনকি বিমান কর্তৃপক্ষ, সিভিল এভিয়েশন ও সিকিউরিটি কর্মকর্তাদের কাছেও এসব তথ্য আছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই।

টাওয়ার ফ্রেইট লজিস্টিক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ১৪ অক্টোবর, ৬ নভেম্বর এবং এর আগেও একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন রপ্তানি কার্গো ভিলেজের মহাব্যবস্থাপকের কাছে। গত বছরের মার্চ মাসেও তারা একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়েও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা একদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারিয়ে রপ্তানি আদেশ প্রতিযোগী দেশগুলোতে চলে যাচ্ছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ঘাঁটি বিমানবন্দর যদি চোরচক্রের কবলে চলে যায়, তাহলে এটি শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশের ভাবমূর্তির জন্যও বড় হুমকি। তারা বলছেন, দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে এর প্রভাব রপ্তানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে আন্তর্জাতিক মহল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্গো বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার এ বি বি নোজমুল হুদা জানান, জনসংযোগ বিভাগে যোগাযোগ করতে। কিন্তু জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে বাফার ইনচার্জ আবু বকর সিদ্দিক সাংবাদিক পরিচয় জানার পর ফোন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ অক্টোবর কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর সিলগালা করা স্ট্রংরুমে রাখা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারের তালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে ২৭ অক্টোবর জিডি করা হলেও ৪ নভেম্বর বিষয়টি প্রকাশ পায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেও কিছু অস্ত্র চুরি গেছে। ওই ঘটনার পর ৫ নভেম্বর আবারও দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য জেনারুল ভস্মীভূত দ্রব্যের মধ্যে লুকানো ১৫টি বাটন ফোন চুরির চেষ্টা করলে পরদিন তাকে আটক করা হয়।




ঢাকার নতুন ডিসি শফিউল আলম

ডেস্ক নিউজঃ মাঠ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের অংশ হিসেবে ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্যে ঢাকার ডিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলম।

শনিবার (৮ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের মধ্যে বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা ও খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।




দেশের ১৫ জেলায় নতুন ডিসি, প্রজ্ঞাপন জারি

ডেস্ক নিউজঃ দেশের ১৫ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শনিবার (৮ নভেম্বর) মধ্যরাতে এ নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

বদলিকৃতদের মধ্যে বাগেরহাটের ডিসি আহমেদ কামরুল হাসানকে নোয়াখালী, কুষ্টিয়ার ডিসি আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীনকে হবিগঞ্জ, ভোলার ডিসি মো. আজাদ জাহানকে গাজীপুর, বরগুনার ডিসি মোহাম্মদ শফিউল আলমকে ঢাকা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মুহাম্মদ নজরুল ইসলামকে গাইবান্ধা ও খুলনার ডিসি মো. তৌফিকুর রহমানকে বগুড়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহকে বরগুনা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব (উপসচিব) মো. আমিনুল ইসলামকে সিরাজগঞ্জ, বাণিজ্য উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে মাগুরা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবু সাঈদকে পিরোজপুর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর পাবনার জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতারকে সাতক্ষীরা, স্থানীয় সরকার ফেনীর উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মো. বাতেনকে বাগেরহাট, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) একান্ত সচিব স. ম. জামশেদ খোন্দকারকে খুলনা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিচালক মো. ইকবাল হোসেনকে কুষ্টিয়া এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব ডা. শামীম রহমানকে ভোলার ডিসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।