মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নিজ জেলা পাবনা সদরের আরিফপুর কবরস্থানে তার মা-বাবার কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মা-বাবার কবর জিয়ারত করেন তিনি। 

এর আগে, এদিন সকালে পঞ্চমবারের মতো দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জেলা পাবনায় এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে‌ পাবনা জেলা স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে পৌঁছান।

এসময় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ এনডিসি এবং রাজশাহী ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান তাকে স্বাগত জানান। পরে পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন তিনি।

এর আগে, এদিন সকাল ৯টায় তেজগাঁও হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, এরপরে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে অবস্থান, নিকট আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎসহ সার্কিট হাউজে রাত্রিযাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। সফরের শেষ দিন রোববার সকালে সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ শেষে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো পাবনায় আসছেন‌ মো. সাহাবুদ্দিন। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এপর্যন্ত ৪ বার জন্মস্থান পাবনা সফর করেন।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই বছরের ১৫ মে পাবনাতে প্রথমবার সফর আছেন। এরপর ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ৯ জুন চতুর্থবারের মতো পাবনা সফর করেন তিনি।




বছরের শেষে মিলবে টানা ৩ দিনের ছুটি

ডেস্ক নিউজঃ চলতি বছরের শেষ প্রান্তে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আসছে টানা তিন দিনের ছুটি। সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ২৫ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) খ্রিস্টানদের বড়দিনের সরকারি ছুটি পড়েছে। এর পরদিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা তিন দিন বন্ধ থাকছে অফিস।

চলতি বছরের ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এখনো দুটি সাধারণ ছুটি বাকি রয়েছে। তবে নভেম্বর মাসে কোনো সরকারি ছুটি নেই। ডিসেম্বরের দুই ছুটির মধ্যে একটির সঙ্গেই মিলেছে সাপ্তাহিক ছুটি, ফলে তিন দিনের বিরতি উপভোগ করতে পারবেন চাকরিজীবীরা। এর আগে চলতি বছরের সরকারি ছুটির মধ্যে বিজয় দিবস মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পড়েছে।

২০২৬ সালের ছুটির তালিকাও সম্প্রতি অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। তবে আগামী বছরের মোট ছুটি এবার কমে ২৮ দিন, যার মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে মূল ছুটি হবে ১৯ দিন।




চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জাহাজ

ডেস্ক নিউজঃ চার দিনের শুভেচ্ছা সফরে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজ ‘পিএনএস সাইফ’। শনিবার (৮ নভেম্বর) জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছালে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডারের পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের স্বাগত জানান।

নোবাহিনী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে। জাহাজটিকে স্বাগত জানাতে অন্যান্যদের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রতিনিধিসহ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ বানৌজা স্বাধীনতা অভ্যর্থনা জানায় তাদের।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে জাহাজটির অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাসহ একটি প্রতিনিধিদল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কামান্ডার বিএন ফ্লিট, এরিয়া সুপারিনটেনডেন্ট ডকইয়ার্ডের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলে অবস্থানকালীন জাহাজের অফিসার, নাবিক ও প্রশিক্ষণার্থীগণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান, নৌবাহিনী জাহাজ ও ঘাঁটি পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকগণও পাকিস্তানের জাহাজটি পরিদর্শন করবেন।

পাকিস্তান নৌবাহিনী জাহাজের বাংলাদেশ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যকার সৌহার্দপূর্ণ দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়।

 উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে আগামী বুধবার (১২ নভেম্বর) বাংলাদেশ ত্যাগ করবে জাহাজটি।




রেলওয়ের ওয়াশিং প্ল্যান্টসহ একাধিক প্রকল্পে দুর্নীতির আশঙ্কায় দুদকের বিশেষ অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ রেলওয়ের ‘ট্রেন স্বয়ংক্রিয় ধৌতকরণ ব্যবস্থা (ওয়াশিংপ্ল্যান্ট)’ প্রকল্পের অধীনে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নয় শুধু তাই—ভাঙ্গা উপজেলার তালকান্দা খালের ওপর নির্মিত সেতু সংযোগ সড়ক, পাশাপাশি সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও অনিয়ম ও সেবার মানহ্রাসের আশঙ্কায় দুদক একটি সঙ্গবদ্ধ অভিযান পরিচালনা করেছে।

রেকর্ডভিত্তিক সম্ভাব্য অনিয়মের কারণ দেখিয়ে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

রেলওয়ের প্রকল্পে ২০০টি মিটারগেজ কোচ ও ৫০টি ব্রডগেজ কোচসহ দুটি অটোমেটিক ওয়াশিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ওয়াশিং প্ল্যান্ট দুইটির যন্ত্রপাতি সচল থাকলেও সঠিক স্থানে বসানো হয়নি এবং প্রকল্পটির রূপায়ণে অপারেশনাল চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেই দীর্ঘদিন এটি ব্যবহারবর্জিত অবস্থায় পড়ে আছে। এছাড়া ২০১৬ সালে সংশ্লিষ্টভাবে ১৫০টি মিটারগেজ কোচ কেনার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে; এই খাতে রেকর্ডপত্র চেয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের এক পর্যায়ে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের তালকান্দা খালের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ বিভাগের কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করা হয়। সেখানে দেখা গেছে—নিচুমানের নির্মাণ সঙ্কুচিত হয়নি, মান নিয়ন্ত্রণে নানা দুর্নীতির আলামত পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে টিম বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

একইসঙ্গে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা ব্যাপকভাবে তলানিতে রয়েছে—রুগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, সেবার মান ও পরিবেশ আশানুরূপ নয়। রেজিস্টার, উপস্থিতি খাতা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অভিযানে সংগৃহীত তথ্যাবলি পর্যালোচনা করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।




চট্টগ্রাম বন্দরে বদলি হয়েও প্রভাবশালী ক্যাপ্টেন ফরিদের বিরুদ্ধে ফের দুর্নীতির অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকা উপ-সংরক্ষক ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে আবারও গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বদলি হয়েও এখনো চট্টগ্রাম বন্দরে প্রভাব খাটাচ্ছেন এবং নিজের পছন্দের ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন।

কয়েক মাস আগে দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বদলি করে পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরে পাঠায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। বর্তমানে তিনি পায়রা বন্দরে পরিচালক (ট্রাফিক) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নতুন করে প্রায় ৪ কোটি টাকার বিল তোলার চেষ্টা এবং বন্দরে ফেরার জন্য তদবির করার অভিযোগে ফের আলোচনায় এসেছেন এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রাম বন্দরের নথি ঘেঁটে দেখা গেছে, বন্দরের টাগবোট ‘এমটি কাণ্ডারি-৮’-এর মেরামত, পাইপিং, আন্ডারওয়াটার ওয়ার্ক ও পেইন্টিংসহ আনুষঙ্গিক কাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে ক্যাপ্টেন ফরিদ তার পছন্দের ঠিকাদার মাহি এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেন। মাত্র আট দিনের মধ্যে বিশাল কাজ শেষ হয়েছে দেখিয়ে তিনি বিল পরিশোধের সুপারিশও করেন।

২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি পরিদর্শন কমিটির পক্ষ থেকে রিপোর্ট দেন যে কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং মালামাল গ্রহণের সুপারিশ করেন। বাকি সদস্যরাও সেই প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান প্রশ্ন তোলেন—এত বড় কাজ কীভাবে মাত্র আট দিনে শেষ হলো? তদন্তে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়ম হয়েছে এবং প্রক্রিয়া না মেনে বিল উত্তোলনের চেষ্টা চলছিল।

এর পরই বন্দর কর্তৃপক্ষ ২৭ এপ্রিল নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়ে ক্যাপ্টেন ফরিদকে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানান অনিয়মে জড়িত এবং চট্টগ্রাম বন্দরে তার উপস্থিতি প্রশাসনিকভাবে অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বদলি হলেও তিনি বাইরের লোকজনের মাধ্যমে এখনো বন্দরের বিভিন্ন দপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এমনকি তাকে সদস্য (অর্থ) পদে বসানোর জন্য নানা মহলে তদবিরও চালাচ্ছেন। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

এই প্রথম নয়—ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলমের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ২০১৩ সালে ইন্দোনেশিয়ান জাহাজ ‘এমভি গ্লেডিস’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি তাকে দায়ী করে। এছাড়া ২০১১ সালের ভিটিএমএস প্রকল্পে (Vessel Traffic Management System) নিয়ম ভেঙে ২ কোটি টাকার বেশি বিল আগাম পরিশোধের অভিযোগও প্রমাণিত হয়। সে সময় তাকে স্বেচ্ছাচারী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে আখ্যা দিয়ে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল।

সব অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে চাকরি করছেন—এ বিষয়টি নিয়েই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের অনেক কর্মকর্তা।

বিষয়টি জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, “ক্যাপ্টেন ফরিদের বদলি ও পদোন্নতির বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে। আমরা এখান থেকে কিছু করতে পারব না। টাগবোটের বিষয়েও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, ক্যাপ্টেন ফরিদ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, “সব কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে। আমার একক সিদ্ধান্তে কিছু হয়নি। বন্দর কর্তৃপক্ষের ৯০ শতাংশ কাজই এমনভাবে হয়।”

কাজটি মাত্র ৮ দিনে শেষ করার প্রশ্নে তিনি বলেন, “এই কাজ আসলে আগেই শুরু হয়েছিল। তদন্ত কমিটি আমার বিরুদ্ধে কিছুই পায়নি।” তবে কেন তাকে বদলি করা হলো, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমাকে কেন জড়ানো হচ্ছে জানি না। আমি আমার জবাব দিয়েছি। হয়তো কাউকে দোষী দেখাতে আমাকে টানা হয়েছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “আমি প্রমোশন চেয়েছি, এটা অপরাধ নয়। আমার আগের সাতজন একই পদ থেকে পদোন্নতি পেয়েছেন।”

তবে বন্দরে বাইরের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তিনি স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেন।

বন্দর সূত্র বলছে, ক্যাপ্টেন ফরিদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযোগগুলো এখন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনাধীন আছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, তার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাকে দীর্ঘদিন ধরে কোনো না কোনোভাবে রক্ষা করা হচ্ছে—যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর বার্তা দিচ্ছে।




‘সুফল’ নয়, কেলেঙ্কারি: বন অধিদপ্তরের বিশাল প্রকল্পে দুর্নীতির জাল ফাঁস করল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বনজ সম্পদ উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে বন অধিদপ্তর শুরু করেছিল প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার ‘টেকসই বন ও জীবিকা’ বা ‘সুফল’ প্রকল্প। লক্ষ্য ছিল দেশের বিভিন্ন জেলায় বনভূমি বৃদ্ধি ও মানুষের জীবিকা উন্নয়ন। কিন্তু মাঠপর্যায়ে গিয়ে দেখা গেছে, প্রকৃত কাজের তুলনায় কাগজে-কলমে তৈরি হয়েছে সাফল্যের গল্প।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি এই প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে—ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে, অনেক জায়গায় কেবল চারা লাগানোর নামেই টাকা গায়েব, আবার কিছু কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নের মাধ্যমে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছেন।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযান শেষে কমিশনের টিম একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেটি বিশ্লেষণ করে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১ জুলাই শুরু হয়ে ২০২৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হলেও প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা বিট এলাকায় ৫১০ হেক্টর বনভূমিতে বনায়নের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বাস্তবে বনায়ন হয়েছে মাত্র ১৬০ হেক্টরে। একইভাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৩৬২ হেক্টরের মধ্যে অনিয়ম ধরা পড়েছে উল্লেখযোগ্য অংশে।

সরকারি নথিতে দেখানো হয়েছে যে, প্রকল্পের আওতায় দেশের ২৪টি জেলায় মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর এলাকায় বনায়ন হয়েছে। এর মধ্যে শুধু কক্সবাজারেই ২০ হাজার ১৩৬ হেক্টর এবং বাকি ৮৩ হাজার ৮২৪ হেক্টর বন বিভাগের বিভিন্ন জেলায় ছড়ানো। উদাহরণস্বরূপ—ঢাকা বন বিভাগে ২,৮১০ হেক্টর, চট্টগ্রাম উত্তর বিভাগে ৯,২৭৩ হেক্টর, দক্ষিণে ৮,৬৭০ হেক্টর, চট্টগ্রাম শহরাঞ্চলে ৯,২১০ হেক্টর, ভোলায় ৮,৪২০ হেক্টর, পটুয়াখালীতে ৮,৩২০ হেক্টর, রাজশাহীর সামাজিক বন বিভাগে ১৭৭ হেক্টর, দিনাজপুরে ২,০৩০ হেক্টর, মৌলভীবাজারে ২৯০ হেক্টর, চট্টগ্রামে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ বিভাগে ২,৬২০ হেক্টর, কক্সবাজার উত্তরে ৮,৪৬৮ হেক্টর, দক্ষিণে ১১,৬৬৮ হেক্টর, ময়মনসিংহে ৪,৪৪৩ হেক্টর, টাঙ্গাইলে ২,৭১৩ হেক্টর, নোয়াখালীর উপকূলীয় বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১৯,৯৯০ হেক্টর, সিলেটে ৪,৬৪৮ হেক্টর এবং ঢাকার বন্যপ্রাণী বিভাগে ২০৫ হেক্টর বনায়নের কথা বলা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। শেরপুরের নকশী সীমান্ত ফাঁড়ির কাছাকাছি রংটিয়া রেঞ্জ এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বনায়নের জায়গায় টিকে আছে মাত্র একটি চাপালিশ গাছ। অথচ সরকারি প্রতিবেদনে ওই জায়গায় বিশাল বাগান তৈরির কথা বলা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয়—গাছগুলোতে বন্য হাতির আক্রমণের কোনো চিহ্ন নেই, বরং অক্ষতভাবে দণ্ডায়মান।

দুদকের সূত্র বলছে, এই প্রকল্পে কেবল অর্থ নয়, বদলি বাণিজ্য ও সিন্ডিকেট গঠন করে কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে সুবিধা বণ্টন করেছেন। একাধিক জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন অধিদপ্তরের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দুদকের প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া এসব নথি যাচাই-বাছাইয়ের পর পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। বন সংরক্ষণ ও উন্নয়নের নামেই যে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, তা এখন পরিণত হয়েছে দুর্নীতি ও অনিয়মের বনে।




দুই দিনের সরকারি সফরে পাবনায় পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পঞ্চমবারের মতো দুই দিনের সরকারি সফরে নিজ জন্মভূমি পাবনায় পৌঁছেছেন। 

শনিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে পাবনা জেলা স্টেডিয়ামের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন রাষ্ট্রপতি। তাকে স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোরতোজা আলী খান। এর আগে সকাল ৯টায় তেজগাঁও হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি পাবনার উদ্দেশে রওনা দেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, হেলিপ্যাডে পৌঁছানোর পর তিনি পাবনা সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। বেলা ১১টায় আরিফপুর কবরস্থানে মা-বাবার কবর জিয়ারত এবং পরে রাষ্ট্রপতির নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সার্কিট হাউজে রাত্রীযাপন করবেন তিনি। সফরের শেষ দিন রোববার সকালে গার্ড অব অনার গ্রহণের পর হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এটি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের প্রথম পাবনা সফর। দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর তিনি চারবার পাবনা সফর করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর ১৫ মে প্রথম, ২৭ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়, ২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় এবং ৯ জুন চতুর্থবারের মতো তিনি পাবনায় সফর করেন।




তবিবুরের রাজত্ব: বিশ্বব্যাংকের অর্থে গরিবের প্রকল্পে লুটপাটের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গরিবদের স্যানিটেশন ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নেওয়া প্রকল্পে চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হতে আর এক মাসও নেই, কিন্তু কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৭ শতাংশ। যা হয়েছে, তার বেশির ভাগই অনিয়ম আর নিম্নমানের কাজের জালে জড়ানো।

প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এলাকায় পাবলিক টয়লেট, ল্যাট্রিন ও ছোট পানির স্কিম নির্মাণের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, অধিকাংশ টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্টেশন এখন ভাঙাচোরা, বন্ধ বা সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। অনেক জায়গায় নির্মাণকাজে প্রকৌশল স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি। মাটির নিচে নির্ধারিত গভীরতায় পাইপ বসানো হয়নি, টাইলস নষ্ট, ফিটিংস চুরি হয়ে গেছে, আর পানিতে অস্বাভাবিক আয়রন—সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে বহুগুণ।

সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা ৪৭টি পানির স্কিমের মধ্যে মাত্র ৪টিতে নিয়ম মেনে কাজ হয়েছে। পাবলিক টয়লেটের ৮০ শতাংশ এখন ব্যবহারযোগ্য নয়। কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য নির্মিত ১৯টি টয়লেটের মধ্যে ১৭টিই বন্ধ বা ভাঙা।

এদিকে এই প্রকল্পের মূল নিয়ন্ত্রক—প্রকল্প পরিচালক (পিডি) মো. তবিবুর রহমান তালুকদারের বিরুদ্ধে উঠেছে কোটি কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে তিনি প্রকল্পের বিল নিজের ইচ্ছেমতো পাশ করেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি বিল পরিশোধের চেকেও একমাত্র তারই সই থাকত, ফলে মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীরা কার্যত কিছুই করতে পারতেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তবিবুর রহমান দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরে মায়ের নামে ছয়তলা ভবন, ধানমন্ডিতে ৫ হাজার স্কয়ারফুটের বাণিজ্যিক ফ্লোর, আরও দুটি ফ্ল্যাট এবং ব্যাংককেও একটি ফ্ল্যাটের মালিক তিনি। একাধিক গাড়ি তো আছেই, পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে নানা বিতর্ক। অভিযোগ আছে, তিনি ছয়টি বিয়ে করেছেন এবং প্রতিটি স্ত্রীর জন্য আলাদা বাড়িও তৈরি করেছেন।

সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো—এই তবিবুর রহমানকেই আবার নতুন করে ১,৮৮৯ কোটি টাকার আরেকটি স্যানিটেশন প্রকল্পের পিডি করা হয়েছে, সেটিও বিশ্বব্যাংকের অর্থে। এতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনার ঝড়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী বলেন, “আইএমইডির প্রতিবেদনটি আমার হাতে আসেনি, তবে বিষয়টি দেখে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অন্যদিকে মো. তবিবুর রহমান তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি ফোনে কিছু বলব না, দেখা হলে কথা বলা যাবে।”

সূত্র বলছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ যাচাই করছে, যদিও তবিবুর প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ আছে।

গরিবের টয়লেট ও পানি সরবরাহের নামে এমন লুটপাট কেবল সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, সাধারণ মানুষের প্রতি এক নির্মম তামাশাও বটে। উন্নয়নের নাম ভাঙিয়ে যারা এভাবে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।




অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত ছিল রাজু ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়া: ফরহাদ মজহার

ডেস্ক নিউজঃ ফরহাদ মজহার বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় বঙ্গভবনে শপথ নেওয়া ছিল “মারাত্মক ভুল।” তার মতে, শপথ নেওয়া উচিত ছিল রাজু ভাস্কর্য বা শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নভেম্বর থেকে জুলাই: বিপ্লব থেকে বিপ্লবে’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই, ফলে এই সরকার কোনো কমিশন গঠনের এখতিয়ারও রাখে না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ফরহাদ মজহার বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। এই সরকারের কোনো এখতিয়ার নেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের। এটা একটা ইলিগ্যাল গভর্নমেন্ট।”

তিনি আরও বলেন, “যে সংবিধান শেখ হাসিনার সময়ে তৈরি, সেটি মেনে শপথ নিলে তা রক্ষা করতে হবে। এটিকে পরিবর্তন বা সংস্কার করা যায় না।”

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবকে ‘গণবিরোধী’ উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, “যারা এতে অংশ নিয়েছে, তারা গণবিরোধী। কারণ আমাদের আন্দোলন ছিল দলীয় নয়, গণঐক্যের ভিত্তিতে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্যের সম্ভাবনা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, “তারা কখনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারবে না, কারণ প্রতিটি দল করপোরেট স্বার্থ রক্ষা করে।”

তিনি সংস্কার প্রক্রিয়ায় জনগণ ও নাগরিক সমাজকে অন্তর্ভুক্ত না করারও সমালোচনা করে বলেন, “সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে মাফিয়া শ্রেণির সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে নয়। নারীদের সঙ্গেও নয়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া তখনকার ভুল স্বীকার করে বলেন, “৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর রাজনৈতিক নেতারা এস্টাবলিশমেন্টের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তরুণ হিসেবে আমাদেরও ভুল ছিল, তবে আমাদের হাতে তখন তেমন কিছুই ছিল না।”

এ সময় ফরহাদ মজহার আহ্বান জানান, “৫ আগস্ট আমরা ভুল করেছি, কিন্তু আমরা সেটি ঠিক করব। এখনই গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের সময়।”

আলোচনায় আরও অংশ নেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাসুম, কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন, পুসাবের স্থায়ী কমিটির সদস্য ফাহমিদুর রহমান, এবং অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট মোহাম্মদ সজল।
বৈঠকের সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ।




আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা ব্যাপক অবদান রাখছেন: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। অবকাঠামো ও শিল্প থেকে শুরু করে সবক্ষেত্রে তাদের সেবা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা আমাদের আধুনিক অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে ব্যাপক অবদান রাখছে। 

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) ‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি বৃহত্তর পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে আইডিইবি এই দক্ষ কর্মীবাহিনীকে লালন-পালন, কারিগরি শিক্ষার প্রচার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করছে।

তিনি বলেন, গণপ্রকৌশল দিবস-২০২৫ ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)’র ৫৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সংগঠনের সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে উল্লেখ করে ড. ইউনূস বলেন, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল তার প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যেই নয়, বরং তার জনগণের জ্ঞান, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মধ্যেও নিহিত।

তিনি বলেন, অব্যাহত প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং উদ্ভাবনের চেতনার মাধ্যমে আইডিইবি’র সদস্যরা আমাদের জাতি গঠনের প্রচেষ্টার অগ্রভাগে থাকবেন। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং আমাদের জাতীয় আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অবদান রাখবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।

‘গণপ্রকৌশল দিবস ও আইডিইবি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আইডিইবি প্রতিবছর ৮ নভেম্বর ‘গণপ্রকৌশল দিবস’ পালন করে থাকে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘দক্ষ জনশক্তি-দেশ গঠনের মূল ভিত্তি’।