সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল ইব্রাহিম খলিল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও ঢাবির আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমানসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। শাহবাগ থানার এসআই মো. আমিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।

অন্য আসামিরা হলেন- মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), মঞ্জুরুল আলম (৪৯), কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মো. মহিউল ইসলাম ওরফে বাবু (৬৪), মো. জাকির হোসেন (৭৪), মো. তৌছিফুল বারী খাঁন (৭২), মো. আমির হোসেন সুমন (৩৭), মো. আল আমিন (৪০), মো. নাজমুল আহসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), মো. শফিকুল ইসলাম দেলোয়ার (৬৪), দেওয়ান মোহম্মদ আলী (৫০) ও মো. আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)।

এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক তৌফিক হাসান আসামিদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট সকাল ১০টায় ঢাকার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে ‘মঞ্চ ৭১’ এর ব্যানারে একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত থেকে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্য দেন এবং অন্যদের প্ররোচিত করেন। পরে বৈঠকে অংশ নেওয়া ৭০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে থেকে ১৬ জনকে আটক করে পুলিশ।

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করা সংগঠন ‘মঞ্চ ৭১’-এর লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে জনগণকে আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত করা।

তবে পুলিশের অভিযোগ, এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছিল।




দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে শীতের আগমন, প্রথম শৈত্যপ্রবাহ ডিসেম্বরে

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল দিয়ে ১০ নভেম্বর থেকে শীতের আগমন হতে পারে। তবে সারাদেশে শীতের পুরো আমেজ অনুভব করতে হবে নভেম্বর মাসের শেষ দিকে। এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশের প্রথম শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি ডিসেম্বরে।

বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে আবহাওয়া অনুকূল থাকবে। এই সময় কৃষিকাজ চালানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। ধান কাটা থেকে শুরু করে শীতকালীন শাকসবজি চাষ শুরু করার জন্য এটি সুবিধাজনক সময়।

সংস্থাটি জানিয়েছে, লঘুচাপের প্রভাব কমে যাওয়ায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাত কমতে শুরু করেছে। ৭ নভেম্বর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে ২০ নভেম্বরের আগে বড় কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় ১৭-১৮ নভেম্বর বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা সম্পর্কে বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, ২০ নভেম্বরের আগে সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে ২০ নভেম্বরের পর থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সাগরে ঘূর্ণিঝড়ের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে বৃষ্টি বলয় আসার সম্ভাবনা রয়েছে।




তাপমাত্রা পরিবর্তন নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেওয়া পাঁচ দিনের আবহাওয়া বার্তায় এমন তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। এছাড়া আগামী ৫ দিন এই তাপমাত্রা আরো কমতে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সেইসঙ্গে সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা (১-২) ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেইসঙ্গে সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

তবে শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে।




পানিতে ৬০ দিন টিকে থাকার সক্ষমতা ও উজ্জ্বলতম ডিসপ্লেসহ রিয়েলমি সি৮৫ প্রো উন্মোচন

ডিজিটাল ডেস্কঃ বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত রিয়েলমি সি৮৫ প্রো উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি। ‘ক্যাটাগরির প্রথম অফিসিয়াল ওয়াটারপ্রুফ স্মার্টফোন’ রিয়েলমি সি৭৫-এর অবিশ্বাস্য সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এই সেগমেন্টের সবচেয়ে ওয়াটার-রেজিজট্যান্ট ও উজ্জ্বলতম ফোন হিসেবে এটি নিয়ে আসা হলো।
দেশের সকল রিয়েলমি ব্র্যান্ড স্টোর ও অফিসিয়াল রিসেলার আউটলেট থেকে ক্রেতারা ৫-৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিয়েলমি সি৮৫ প্রো প্রি-বুক করার সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে ব্র্যান্ডের সি-সিরিজ স্মার্টফোনের এক্সক্লুসিভ আগাম অ্যাক্সেস উপভোগ করতে পারবেন। প্রি-বুকিংয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতারা এক্সক্লুসিভ রিয়েলমি ব্যাগের সাথে বাংলালিংকের বিশেষ অফারসহ আকর্ষণীয় উপহার পাবেন। এই প্রি-অর্ডার উপহারগুলো সীমিত সময় এবং শর্তসাপেক্ষে প্রযোজ্য হবে। ফার্স্ট-সেল চলাকালে রিয়েলমি সি৮৫ প্রো সংগ্রহকারী ক্রেতাদের এই উপহার দেওয়া হবে।
রিয়েলমি সি৮৫ প্রোর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ইন্ডাস্ট্রি-লিডিং আইপি৬৯ প্রো ওয়াটারপ্রুফ রেটিং, যা ফোনটিকে পানির নিচে টানা ৬০ দিন পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম করে তোলা। প্রবল বৃষ্টি, দুর্ঘটনাক্রমে কিছু পড়ে যাওয়া বা আউটডোরে অ্যাডভেঞ্চার যাই হোক না কেন, ডিভাইসটি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রস্তুত জানার পর ব্যবহারকারীরা এখন পুরোপুরি দুশ্চিন্তামুক্ত থাকার সুযোগ পাবেন।
ফোনটিতে রয়েছে সুবিশাল ৭০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি, যা সারাদিনের প্রোডাক্টিভিটি, গেমিং ও বিনোদনের জন্য অসাধারণ ব্যাকআপ দেয়। পাশাপাশি, এতে ১০ ওয়াট রিভার্স চার্জিং সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের জন্য অন্য ডিভাইস চার্জ করার সুযোগ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এটিকে একদম যথার্থ সঙ্গী করে তুলবে।
ডিউরেবিলিটির পাশাপাশি, পারফরম্যান্স ও স্টাইলেও কোনো আপস করেনি রিয়েলমি সি৮৫ প্রো। ফোনটিতে ৬.৮ ইঞ্চি ১২০ হার্জ অ্যামোলেড ডিসপ্লে রয়েছে। পাশাপাশি, এর ৪০০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস উজ্জ্বল আলোতেও অত্যন্ত নিখুঁত ও ঝকঝকে ভিজ্যুয়াল নিশ্চিত করে; যা এটিকে এই সেগমেন্টের সবচেয়ে উজ্জ্বল ডিসপ্লেতে পরিণত করেছে। পারফরম্যান্সের জন্য এতে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসর, যা ইন্টেলিজেন্ট এআই অপটিমাইজেশনের মাধ্যমে গেমিং, মাল্টিটাস্কিং, স্ট্রিমিং, ফটোগ্রাফি ও আউটডোর ব্যবহারে নিরবচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে। এছাড়াও, এতে এআই এডিট জিনি ও এআই আউটডোর মোডের সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে অনায়াসে ছবি এডিট করতে পারবেন।
রিয়েলমি সি৮৫ প্রো ‘প্যারট পার্পল’ ও ‘পিকক গ্রিন’ দুটি অনন্য রঙের ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে। এই দুটি রঙই নান্দনিক ও প্রাণবন্ত আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটায়, যা হালকা ও প্রিমিয়াম বিল্ডের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিটি গ্রিপে স্টাইল ও কমফোর্ট নিশ্চিত করে। বাজারে এই ফোন তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে- ৬ জিবি + ১২৮ জিবির মূল্য ২০,৯৯৯ টাকা, ৮ জিবি + ১২৮ জিবির মূল্য ২২,৯৯৯ টাকা ও ৮ জিবি + ২৫৬ জিবি ভার্সনের মূল্য মাত্র ২৪,৯৯৯ টাকা।



সাবেক যুবলীগ সদস্য পারভেজ গাজি এখন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। একসময় আওয়ামী যুবলীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত পারভেজ গাজি এখন বিএনপি-ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সম্প্রতি তিনি মিরপুর থানা কৃষক দলের নবগঠিত কমিটির ৩নং যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।

‎দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই পারভেজ গাজি, পিতা: মো:মনোহর গাজি, মাতা:পারভীন বেগম, বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। কৃষক দলের স্থানীয় কমিটিতে তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই এ নিয়ে মিরপুরের রাজনীতিতে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

‎বাংলাদেশের রাজনীতিতে দলবদল নতুন কিছু নয়, তবে পারভেজ গাজির মতো পরিচিত নেতার অবস্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর অনেকে নতুন দলে যোগ দিয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

‎‎মিরপুরের এই দলবদল ঘটনাটি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা আগামীর নির্বাচনী মাঠে প্রভাব ফেলতে পারে।




২০২৪ সালের সেরা গীতিকার এ্যাওয়ার্ড পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও গীতিকবি রোস্তম মল্লিক

বিনোদন প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন ( বিসিআরএ) এর ৩০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রদত্ত দেশের গুনী শিল্প সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্বদের কর্মের স্বীকৃতি ও সম্মাননা অনুষ্ঠান আগামী ৮ নভেম্বর ২০২৫ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সেগুনবাগিচা ঢাকায় অনুষ্ঠিত যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের সেরা গীতিকার হিসাবে এ্যাওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত হয়েছেন দেশের বিশিষ্ট গীতিকবি রোস্তম মল্লিক। উল্লেখ্য যে, গীতিকবি রোস্তম মল্লিক ৪ হাজার গান লিখেছেন।




মিরপুরে রাজউকের অভিযান: ১১টি ভবনের নির্মাণ কাজ বন্ধ, বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ এলাকায় অবৈধ ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজউকের মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব বেলাল হোসেন এর নেতৃত্বে এবং জোন-৩/২ এর পরিচালক ও অরথায়জিং অফিসার মাসুক আহমেদ এর উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

রাজউকের জোন-৩/২ এলাকায় মিরপুর ৩০ ফিট রোড সংলগ্ন ১১টি নির্মাণাধীন ভবনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ ও সড়ক সংকোচন করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগে ভবনগুলোর সব ধরনের নির্মাণকাজ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় দেখা যায়, কিছু ভবন সীমানা প্রাচীর নির্মাণের সময় রাস্তার জায়গা দখল করেছে। এ কারণে দুটি ভবনের সীমানা প্রতিস্থ ভেঙে ফেলা হয় এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেলাল হোসেন সাংবাদিকদের জানান, আজকের অভিযানে মোট ৯টি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছে এবং ২টি ভবনের বেআইনি সীমানা প্রাচীর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “রাজউকের ভবন নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘন রোধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান চলবে।”

অরথায়জিং অফিসার মাসুক আহমেদ বলেন, “রাজউকের অনুমোদন ছাড়া কেউ ভবন নির্মাণ করতে পারবে না। আমরা নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং ভবিষ্যতেও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।”

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজউক জোন-৩/২ এর সহকারী অরথায়জিং অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার পরিদর্শক মাহবুব কামাল আজম, আলী নূরসহ অন্যান্য পরিদর্শক এবং স্থানীয় পুলিশ সদস্যরা।




অবসরের ১১ বছর পর কাস্টমসের সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রামে অবসরে যাওয়ার এক যুগেরও বেশি সময় পর কাস্টমস বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার আহসান হাবিব ও তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের বিরুদ্ধে মোট তিন কোটি টাকার বেশি মূল্যের সম্পদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে অর্জনের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ থেকে মামলাগুলো দায়ের করেন সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম।

দুদকের তথ্যানুযায়ী, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত আরও ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৩ লাখ টাকার সম্পদ গোপন ও ৬৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা আহসান হাবিব ১৯৮০ সালে কাস্টমস বিভাগে পরিদর্শক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ চাকরি শেষে ২০১২ সালে সহকারী কমিশনার পদে উন্নীত হয়ে ২০১৪ সালে অবসরে যান। কর্মজীবনে তিনি ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে তাঁরা দুজনই দুদকের কাছে তাঁদের সম্পদ বিবরণী জমা দেন।

দুদকের উপপরিচালক সুবেল আহমেদ জানান, আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। একই ধারায় তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানার বিরুদ্ধেও পৃথক মামলা হয়েছে। তবে ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় আহসান হাবিবকেও সহযোগী আসামি করা হয়েছে, কারণ তিনি চাকরিরত অবস্থায় অবৈধ অর্থে স্ত্রীর নামে সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সম্পদ বিবরণীতে আহসান হাবিব নিজ নামে মাত্র ৯ লাখ টাকার কিছু বেশি স্থাবর সম্পদ ও ৫০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে তাঁর স্ত্রী আসমা সুলতানা দেখান প্রায় ২০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ, তবে অস্থাবর সম্পদ নেই বলে দাবি করেন। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করলেও দুদকের তদন্তে তাঁর ব্যবসার কোনো বাস্তব অস্তিত্ব মেলেনি।

চাকরিজীবনের এক দশক পরও দুর্নীতির অভিযোগ থেকে রেহাই মিলল না এই সাবেক কাস্টমস কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর। দুদকের তদন্তে এখন দেখা যাবে—তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা কোটি টাকার এই অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।




গণপূর্তের ক্ষমতাধর প্রকৌশলী ড. মঈনুল: রাজনীতির ছত্রছায়ায় দুর্নীতির সাম্রাজ্য

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের সরকারি স্থাপনা নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি দুর্নীতি, ঘুষ, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য আলোচিত-সমালোচিত। এই অনিয়মের পেছনে অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে নাম এসেছে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মঈনুল ইসলামের।

ড. মঈনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি রাজনৈতিক প্রভাব, কমিশন বাণিজ্য ও ঠিকাদার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলেই দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক শাস্তি ও দুর্নীতির অভিযোগ থেকেও বেঁচে গেছেন।

কর্মজীবনের শুরু থেকেই মঈনুলের নানা বিতর্ক ছিল। ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর যখন ১৫তম ব্যাচের অন্য সহকারী প্রকৌশলীরা যোগ দেন, তিনি যোগ দেন ৯ মাস পর—১৯৯৬ সালের ১২ আগস্ট। এরপর এক সময় ২০০৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা নয় বছর আট মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার পরও তিনি চাকরি হারাননি। বরং আপিলের মাধ্যমে পুনর্বহাল হন—যা স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে তাকে “মিস্টার টেন পার্সেন্ট” নামে ডাকা হতো। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি প্রকল্পে তিনি ১০ শতাংশ কমিশন নিতেন। শুধু তিনটি বড় প্রকল্প থেকেই তিনি শত কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। ঢাকায় বিলাসবহুল বাড়ি, বিদেশে ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগ—সবই তার নামে বা পরিবারের নামে আছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও দুবাইয়ে তিনি বিপুল অর্থ পাচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ড. মঈনুল ইসলামের নাম উঠে আসে কুখ্যাত ঠিকাদার জি কে শামীমের সিন্ডিকেটের সঙ্গেও। র‌্যাবের হাতে শামীম গ্রেফতারের পর তদন্তে প্রকাশ পায়, গণপূর্তের একাধিক উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটের অংশ ছিলেন। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন ভাগাভাগি, প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ—সবকিছুতেই জড়িত ছিলেন মঈনুল। এমনকি তার ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলীরা এক মামলায় ৩১ কোটি টাকারও বেশি আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত হন।

এই সব অভিযোগ তদন্তে নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০২০ সালের শেষ দিকে দুদক তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে এবং ২০২১ সালের জানুয়ারিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকে। দুদক তার সম্পদের উৎস যাচাই করে অনেক অভিযোগের সত্যতাও খুঁজে পায়।

ড. মঈনুলের দুর্নীতির সঙ্গে আরও যুক্ত ছিল খুলনা অঞ্চলের কিছু কর্মকর্তা। খুলনা গণপূর্ত বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ঠিকাদার মাহবুব মোল্লা লিখিত অভিযোগ দেন—টেন্ডারে অনিয়ম, ঠিকাদার বাছাইয়ে পক্ষপাত ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগে। হাসপাতাল, থানা ভবনসহ বিভিন্ন প্রকল্পে ‘ভুতুড়ে’ মেরামতের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এটি কেবল একজন কর্মকর্তার নয়, বরং একটি সাংগঠনিক দুর্নীতির চক্র—যেখানে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা মিলে “দুর্নীতির সিন্ডিকেট” গড়ে তুলেছেন। তারা সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় এবং পরে অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়।

ফলে জনগণের করের টাকায় চলা প্রকল্পগুলোর মান দিন দিন কমছে। সৎ ঠিকাদাররা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ভয় পাচ্ছেন, আর সাধারণ মানুষ ভুগছে নিম্নমানের নির্মাণকাজের ভোগান্তিতে।

একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা যখন রাজনৈতিক প্রভাবের আশ্রয়ে বছরের পর বছর দুর্নীতি চালিয়ে যেতে পারেন, তখন এটি কেবল তার ব্যক্তিগত অপরাধ নয়—বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর ব্যর্থতার প্রতিফলন। প্রশ্নটা সেখানেই—কোন শক্তি এত বছর ধরে তাকে অদৃশ্যভাবে রক্ষা করেছে?




জাবি শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করলেন জামায়াত নেতা জাহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও রেজিস্টার ড. নাহরিন ইসলাম খানের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. জাহিদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব।

অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বর্তমানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী। তিনি অভিযোগ করেন, একটি টেলিভিশন টকশোতে ড. নাহরিন ইসলাম তার সম্পর্কে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা তার ব্যক্তিগত মর্যাদা ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

মামলায় বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর গাজী টেলিভিশনের ‘রেইনবো নেশন বনাম ধর্মীয় কার্ড’ নামের এক আলোচনায়, যা সঞ্চালনা করেন কাজী জেসিন, সেখানে ড. নাহরিন ইসলাম জামায়াত নেতা জাহিদুল ইসলামকে নিয়ে ‘মানহানিকর’ বক্তব্য দেন। তিনি দাবি করেন, বিবিসি বাংলায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের বরাতে জাহিদুল ইসলাম নাকি বলেছিলেন, “আওয়ামী লীগ নেতারা পালিয়ে গেলে তাদের স্ত্রীদের ওপর জামায়াতের হক রয়েছে”—এমন মন্তব্যের মাধ্যমে বোঝানো হয়, জামায়াত নেতারা নারীলোভী।

তবে প্রকৃতপক্ষে বিবিসি বাংলার ওই সাক্ষাৎকারে জাহিদুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা হয়রানির শিকার হলেও জামায়াতের পক্ষ থেকে কারও ক্ষতি করা হয়নি। বরং তাদের ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে উঠবে।

অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “ড. নাহরিন ইসলাম সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। এতে শুধু আমার নয়, আমার দলের সম্মানও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে পরবর্তী পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।