খাজনা দিতে গিয়ে প্রতারণা, রসিদে কম টাকা দেখালেন ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন

মিঠাপুকুর প্রতিনিধিঃ রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড় চলছে। অভিযোগ উঠেছে—অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন মিয়া সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে রসিদে কম পরিমাণ দেখাচ্ছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই ভুক্তভোগী রংপুর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে লতিবপুর এলাকার কামরুজ্জামান অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জমির খাজনা দিতে গেলে আল-আমিন মিয়া তার কাছে মোট ৩৩ হাজার ৭৫৯ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ২৬ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে দেখানো হয় মাত্র দুইটি পরিমাণ—একটি ১ হাজার ৫৬২ টাকা এবং আরেকটি ১ হাজার ৮৭৯ টাকা। বাকি টাকার হিসাব জানতে চাইলে কর্মকর্তা কোনো উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ তার।

একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তাহিয়ারপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মোকলেছুর রহমানও। তিনি জানান, খাজনা বাবদ ৬ হাজার ৮৩ টাকা পরিশোধ করলেও রসিদে লেখা হয় মাত্র ১ হাজার ৮৩ টাকা। তার অভিযোগ, “ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিন নানা কৌশলে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন, কিন্তু রসিদে খুব অল্প দেখান।”

স্থানীয়রা জানান, জায়গীরহাট ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দুর্নীতি এখন নিত্যদিনের ব্যাপার। কোনো কাজ—খারিজ, নামজারি, রেকর্ড সংশোধন বা খাজনা প্রদান—টাকা ছাড়া হয় না। অফিসে একটি দালাল চক্রও কাজ করছে বলে অভিযোগ তাদের। এই চক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ঘুষ দিতে বাধ্য করে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, “এই অফিস এখন ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ভূমি কর্মকর্তা আল-আমিনের অনুমতি ছাড়া কোনো ফাইল সামনে এগোয় না।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আল-আমিন মিয়া নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, “আমরা এখন হাতে হাতে টাকা নেই না। সব কিছু অনলাইনে হয়। আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা।”

তবে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল আলম বলেন, “ঘটনাটি আগে জানা ছিল না, এখন বিষয়টি অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসকের কাছে যেহেতু লিখিত অভিযোগ গেছে, নির্দেশ পেলেই তদন্ত শুরু হবে।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল নিশ্চিত করেছেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




চট্টগ্রামে এরশাদ উল্লাহ হামলার লক্ষ্য ছিলেন না: সরকার

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বিএনপির ভোটের প্রচারে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্ত। এতে একজন নিহত ও ওই আসনের বিএনপির প্রার্থীসহ দুই জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ওই হামলার লক্ষ্য এরশাদ উল্লাহ ছিলেন না। একটি ভ্রান্ত গুলিতে তিনি আহত হয়েছেন।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতের সাংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এই খবর জানানো হয়।

সরকারের ওই বার্তা জানানো হয়, প্রধান উপদেষ্টা নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করে।

সব রাজনৈতিক দল ও তাদের সমর্থকদের শান্ত ও সংযম বজা রেখে ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন শান্তি, মর্যাদা ও ন্যায্যতার পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ার আহবান জানায় সরকার।

বার্তায় বলা হয়, সরকার তার অংশে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে সারা দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।




নাচোল ইউএনও কামাল হোসেন ওএসডি: মুক্তিযোদ্ধা কোটা জালিয়াতি তদন্তে করা হবে ডিএনএ পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামাল হোসেনকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্বহীন করা হয়েছে। বুধবার (৫ নভেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কামাল হোসেনের ডিএনএ পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে তার প্রকৃত বাবা-মায়ের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়। দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার ভিত্তিতে জানা গেছে, কামাল হোসেন মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি পেয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়, তিনি নিজের জন্মদাতা পিতা-মাতা মো. আবুল কাশেম ও মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়েছেন। এই কৌশলে তিনি ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কোটায় চাকরি লাভ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মা–বাবার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য কামাল হোসেনের ডিএনএ নমুনা তার প্রকৃত মা-বাবা এবং চাচা-চাচির ডিএনএ’র সঙ্গে মিলিয়ে দেখার আবেদন করেন। আদালতের অনুমতির পর দুদক এই পরীক্ষার অনুমোদন দেয়। দুদক সূত্র জানায়, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে।




বাংলাদেশে পুলিশ সংস্কারে সহায়তার প্রস্তাব আয়ারল্যান্ডের

ডেস্ক নিউজঃ আয়ারল্যান্ড বাংলাদেশের চলমান পুলিশ সংস্কার প্রচেষ্টায় অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীতে দায়িত্বশীল ও অধিকারভিত্তিক শাসন জোরদারের প্রচেষ্টায়ও আয়ারল্যান্ড পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতে এ প্রস্তাব দেন আয়ারল্যান্ডের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত কেভিন কেলি এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের প্রথম পুলিশ অমবোডসম্যান ব্যারোনেস নুয়ালা ও’লোন।

দুই দিনের বাংলাদেশ সফরে থাকা ব্যারোনেস ও’লোন ১৯৯৮ সালের ‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’র পর সাত বছর উত্তর আয়ারল্যান্ডের পুলিশ ওমবডসম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময়ের দীর্ঘকালীন সংঘাতের পর পুলিশের ভূমিকা এবং জনগণের আস্থার নতুন কাঠামো গড়ে ওঠে।

ব্যারোনেস ও’লোন বলেন, ‘আয়ারল্যান্ডের সংঘাত পরবর্তী অভিজ্ঞতা, ধৈর্য, অংশগ্রহণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দীর্ঘমেয়াদি প্রকৃতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। আমরা এখানে টেকসই পরিবর্তনের বাস্তবসম্মত সময়সীমা সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা ভাগ করতে এসেছি।’

সাক্ষাৎকালে তার সঙ্গে ছিলেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শান্তি এবং স্থিতিশীলতা ইউনিটের পরিচালক ফিয়োনুলা গিলসেনান। বৈঠকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকও উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস আয়ারল্যান্ডের উদ্যোগকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের সংস্কার ও পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দেওয়ার জন্য দেশটির ক্রমাগত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও দায়বদ্ধ প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের সহায়তাকে উচ্চ মূল্য দেই।’

তিনি আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে পড়া রোধে রাষ্ট্রদূত কেলির সহযোগিতাও কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত কেলি বাংলাদেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডের অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বলেন, উভয় দেশই শান্তি, ন্যায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • বাসস

 




সংসদের অর্ধেক আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি নারী নেত্রীদের

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। বুধবার (৫ নভেম্বর) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি জানান তারা।

বৈঠক শেষে উইমেন অন্ট্রাপ্রেনিউরস অব বাংলাদেশ (ওয়েব)–এর প্রেসিডেন্ট নাসরিন ফাতেমা আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন,

‘আমরা চাই অন্তত ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৫০টি সিট যেন নারীদের জন্য থাকে। নারীরা যেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন, সেটাই নিশ্চিত করতে চেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে আমরা সরকারকেও বলতে চাই—নারীরা যারা নির্বাচনে আসছেন তাদের অবশ্যই সহায়তা দিতে হবে। আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে এমন সহায়তা দেওয়া হয়। নারীরা যেন স্বচ্ছন্দে ভোট দিতে পারেন, সেজন্যও আমরা আলোচনা করেছি।’

নির্বাচনী তহবিল প্রসঙ্গে এই নারী নেত্রী বলেন, ‘নারীদের জন্য এই বিষয়টি অনেক কষ্টকর। পরিবার থেকেও সহজে ফান্ড পাওয়া যায় না, যেখানে পুরুষরা তা সহজে পান। সরকার যদি নারীদের কিছু সহায়তা দেয়, তাহলে অনেক নারীই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’

দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও ভারসাম্য আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কোথাও ৫ শতাংশ, কোথাও ৬ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। এটা না করে নির্দিষ্ট একটি শতাংশ নিশ্চিত করলে প্রতিনিধিত্ব আরও ভারসাম্যপূর্ণ হবে।’




বিএনপির কাছে ২০ আসন ও মন্ত্রিসভায় ভাগ চায় এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে নির্বাচন করতে প্রস্তুত জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির পক্ষ থেকে এমন কথা বলা হলেও আসন সমঝোতায় বিএনপির সঙ্গে এনসিপির অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে বলে দেশের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

উভয় দলের একাধিক সূতের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির সঙ্গে এনসিপির অনানুষ্ঠাকিভাবে যোগাযোগ চলছে। এনসিপি ২০ আসন সমঝোতা করতে চায়।

তার মধ্যে ঢাকায় চারটি আসন চাচ্ছে দলটি। দুই দলের মধ্যে বোঝাপড়া হলে সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে বিএনপি প্রয়োজনে প্রার্থী তুলে নেবে। এ ছাড়া বিএনপি ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রিসভায়ও হিস্যা চায়।বিএনপির একটি সূত্র বলছে, কেবল আসন সমঝোতা নয়, এনসিপির নেতারা নিজেদের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার বিষয়ে একটা নিশ্চয়তা চান।

তারা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনসিপি থেকে তিনজনকে মন্ত্রী করার কথাও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় তুলেছেন। বিএনপির দিক থেকে স্পষ্ট করে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে বিএনপি চায় না এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোটে বা সমঝোতায় যাক।এনসিপি-সংশ্লিষ্ট কোনো কোনো সূত্র জানায়, এনসিপির ব্যাপারে জামায়াতেরও আগ্রহ রয়েছে।

জামায়াত বিএনপির চেয়েও বেশি ছাড় দিতে চায়। কিন্তু এনসিপির নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কারও কারও মত হচ্ছে, নতুন এই দলটি ‘ডানপন্থী’ তকমা গায়ে লাগাতে চাইছে না। তারা নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে পরিচিত করতে আগ্রহী।এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, ‘এই মুহূর্তে এনসিপি নির্বাচনী জোট নিয়ে চিন্তা করছে না। অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।

আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। নির্বাচনী আবহটাকে আমরা সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য কাজে লাগাচ্ছি।’তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা এককভাবেই নির্বাচন করতে চাই। কোনো জোট বা সমঝোতা হয় কি না, তা দেখার জন্য নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বা এর শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

এদিকে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতা নিয়ে ২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমাদের মৌলিক দাবিগুলোর সঙ্গে যারা কাছাকাছি আছে, এ রকম দলের সঙ্গে আমাদের যদি ঐক্যবদ্ধ হতে হয় বা কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে হয়, তাহলে সেটা আমরা বিবেচনায় রাখব।’

আজ বুধবার নারায়ণগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত হয়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ গাজী সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তার দল ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে এবং তারা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যেসব আসন থেকে প্রার্থী হবেন, এনসিপি সেসব আসনে প্রার্থী নাও দিতে পারে।

তিনি বলেন, আমাদের সংস্কার আর জুলাই সনদের দাবির সঙ্গে কোনো দল সংহতি প্রকাশ করলে জোটের ব্যাপারটা বিবেচনা করা হবে।




যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত, মানববন্ধন, ধর্মঘটসহ শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ২৯ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আগামী বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও এর সংলগ্ন এলাকা, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকা, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকা, কারওয়ান বাজার, মৎস্য ভবন, অফিসার্স ক্লাব ও মিন্টো রোড সংলগ্ন এলাকায় কোনো ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।

‎নিরাপত্তাজনিত কারণে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে গত ৯ জুন এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।




অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা দুর্নীতির অভিযোগের পর অতিরিক্ত সচিব জিয়া উদ্দীন আহমেদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবু ইউছুফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন যুগ্ম-সচিব রোকেয়া বেগম এবং সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন উপসচিব এস এম নোমান হাসান খান।

জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব থাকাকালীন সময়ে জিয়া উদ্দীনের বিরুদ্ধে অনৈতিক অর্থ দাবি ও হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়। বর্তমানে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগটি করেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রূপসী ফ্লাওয়ার রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলের মালিক মো. মহিদুল হক। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বগুড়ার জেলা প্রশাসক তার মিলকে ওএমএসের একক পেষণ ক্ষমতা প্রদানের সুপারিশসহ প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান। পরবর্তীতে সেই অনুমোদন নথি অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদের টেবিলে গেলে তিনি নথিতে স্বাক্ষর না করে মহিদুল হকের নিকটাত্মীয়, শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মীর শাহে আলমকে সচিবালয়ে ডেকে আনেন। সেখানে অনুমোদনের শর্ত হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মহিদুল হক অভিযোগ করেন, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জিয়াউদ্দিন ফাইল অনুমোদন না দিয়ে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তে তার মিলের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন এলেও জিয়াউদ্দিন তা উপেক্ষা করে তাকে হয়রানি করতে থাকেন।

এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়। গঠিত কমিটিকে প্রাসঙ্গিক বিধি-বিধান অনুসরণ করে তদন্ত পরিচালনা এবং সুস্পষ্ট মতামতসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




ভুয়া অ্যাকাউন্টে সাড়ে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: দুদকের মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ তিন ব্যাংকের ১২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তার যোগসাজশে ভুয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সঞ্চয়পত্রের বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই ঘটনায় মোট ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে সংস্থাটি, যাদের মধ্যে ১০ জনই ব্যাংক কর্মকর্তা।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিটে প্রথম এই জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্প্রতি দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান হোসেন বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন। দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বুধবার (৫ নভেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ক্যাশ অফিসার মো. সিকদার লিয়াকত, রূপালী ব্যাংকের সাবেক জুনিয়র অফিসার (বর্তমানে বরখাস্ত) শিবলী সাদিক ফয়সাল, প্রিন্সিপাল অফিসার মাহবুবুর রহমান, জোনাল অফিসার মো. ফরহাদ হোসেন খান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) সঞ্জয় কুমার সরকার, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (অব.) মো. নাসির উদ্দিন তালুকদার, প্রিন্সিপাল অফিসার রওশন রহমান ও সহকারী অফিসার শিফাইন মোস্তারী।
এছাড়া উত্তরা ব্যাংকের বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত সাবেক অফিসার মেহেদী হাসান, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. মেহেদী হাসান, এবং দুই গ্রাহক মো. সালাউদ্দিন ও সামসুল আহসান বিল্টুকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে তিন ব্যাংকের বিভিন্ন শাখা—বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল শাখা, উত্তরা ব্যাংকের বরিশাল শাখা এবং রূপালী ব্যাংকের সদর রোড কর্পোরেট ও সেন্ট্রাল বাসটার্মিনাল শাখা ব্যবহার করে সঞ্চয়পত্রের ৫ কোটি ৫০ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা আত্মসাৎ করেন।

তদন্তে জানা যায়, তিন দফায় এই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়—প্রথম দফায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ১০ হাজার ৭২৭ টাকা, দ্বিতীয় দফায় ১৫ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৮ টাকা, এবং তৃতীয় দফায় ৪৬ লাখ ৮২ হাজার ৩৪ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রথম ধরা পড়ে ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে, যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বরিশাল অফিসের প্রাইজবন্ড ও সঞ্চয়পত্র শাখা এবং সরকারি হিসাব বিভাগের (পিএডি) মাসিক বিবরণী যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি চোখে পড়ে। এরপর ২০২৩ সালের ৭ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বরিশালের কোতয়ালী থানায় এ বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করে। পরে তদন্তের স্বার্থে পুরো বিষয়টি দুদকের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

দুদক এখন মামলাটি বিস্তারিতভাবে তদন্ত করছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।




সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ সন্ধ্যার মধ্যে দেশের চার জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব/পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এছাড়াও এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।