নেপালে তুষারধসে ৭ পর্বতারোহীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নেপালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে হিমালয়ের ইয়ালুং রি পর্বতের বেস ক্যাম্পের কাছে ভয়াবহ তুষারধসে অন্তত সাত পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন বিদেশি ও দুজন নেপালি গাইড বলে জানিয়েছে অভিযান সংস্থা সেভেন সামিট ট্রেকস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

এতে বলা হয়, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। উদ্ধারকর্মীরা এখন পর্যন্ত দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন। বাকি পাঁচজন এখনো বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আহত আটজনকে উদ্ধার করে রাজধানী কাঠমান্ডুতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশ প্রধান বিবিসি নেপালিকে জানিয়েছেন, তুষারধসের সময় তারা বেস ক্যাম্পের দিক থেকে আরোহণ শুরু করেছিলেন। সেভেন সামিট ট্রেকসের চেয়ারম্যান মিংমা শেরপা বলেন, বাকি পাঁচজনের দেহ বরফের ১০ থেকে ১৫ ফুট গভীরে থাকতে পারে। তাদের খুঁজে বের করতে সময় লাগবে। নিহতদের মধ্যে আছেন দুই ইতালীয়, একজন কানাডীয়, একজন জার্মান, একজন ফরাসি এবং দুই নেপালি গাইড।

ডোলাখা জেলার উপপুলিশ পরিদর্শক গ্যান কুমার মহাতো জানান, উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় খারাপ আবহাওয়া ও দুরূহ ভৌগোলিক পরিস্থিতির কারণে হেলিকপ্টার নামাতে ও হেঁটে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। একজন আহত পর্বতারোহী দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট-কে বলেন, আমরা বারবার সাহায্যের জন্য ফোন করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। যদি উদ্ধার দল সময়মতো আসত, আরও অনেক প্রাণ বাঁচানো যেত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দলটি মূলত ৬৩৩২ মিটার উচ্চতার ডোলমা খাং শৃঙ্গ আরোহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযানের অংশ হিসেবে তারা ৫৬৩০ মিটার উচ্চতার ইয়ালুং রি পর্বতে অভিযানে গিয়েছিল অভিযোজন অনুশীলনের জন্য। অন্যদিকে পশ্চিম নেপালের পানবারি পর্বতে নিখোঁজ দুই ইতালীয় পর্বতারোহী- স্টেফানো ফারোনাটো ও আলেসান্দ্রো কাপুটোকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তাদের সঙ্গী ভেলটার পার্লিনো (৬৫)-কে ইতিমধ্যেই উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রতিবছরের শরতে নেপালে পর্বতারোহণের জনপ্রিয় মৌসুম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘূর্ণিঝড় মন্থা’র প্রভাবে তুষারপাত ও প্রবল বর্ষণে হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। গত সপ্তাহেই দুই বৃটিশ ও এক আইরিশ নারীসহ কয়েকজন পর্বতারোহী পশ্চিমাঞ্চলীয় মুস্তাং এলাকায় আটকা পড়েছিলেন, যাদের পরবর্তীতে উদ্ধার করা হয়। অক্টোবরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাউন্ট এভারেস্টের কাছেও শতাধিক পর্বতারোহী আটকা পড়েছিলেন।




তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরাতে ফের শুনানি আজ

ডেস্ক নিউজঃ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে চূড়ান্ত আপিল শুনানি সপ্তম দিনের মতো শেষ হয়েছে মঙ্গলবার। ওই দিন শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ আজ বুধবার পর্যন্ত আদালত মুলতবি করেন।

মঙ্গলবার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।

এর আগে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি শেষ করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

তারও আগে পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া।

১৯৯৬ সালে সংবিধানে ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট এম সলিম উল্লাহসহ তিনজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট করেন।

২০১১ সালের ১০ মে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করেন।

এরপর ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপসহ কয়েকটি বিষয়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয় ২০১১ সালের ৩০ জুন। একই বছরের ৩ জুলাই তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল সংক্রান্ত রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিক ও এক ব্যক্তি আবেদন করেন। ওই রিভিউ আবেদন থেকে আপিল শুনানির জন্য গত ২৭ আগস্ট ‘লিভ টু আপিল’ মঞ্জুর করে ২১ অক্টোবর শুনানির দিন নির্ধারণ করেন আদালত।

এদিকে গত ১৭ ডিসেম্বর বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন।




বিএনপিতে যোগ দিলেন শহীদ মুগ্ধের ভাই স্নিগ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ মীর মুগ্ধের যমজ ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

মঙ্গলবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। এসময় মীর স্নিগ্ধের হাতে বিএনপির সদস্য ফরম তুলে দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান,  আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির  আহবায়ক আমিনুল হক ও স্নিগ্ধের পিতা  মোস্তাফিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।




এনসিপিকে ‌‘শাপলা কলি’ দিয়ে ইসির বিজ্ঞপ্তি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-কে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলকেও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ‘শাপলা কলি’, বাংলাদেশ আম জনগণ পার্টি পেয়েছে ‘হ্যান্ডশেক’ আর বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল পেয়েছে ‘কাঁচি’ প্রতীক।

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বা প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে কারো আপত্তি থাকলে ১২ নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ লিখিতভাবে ইসির সিনিয়র সচিবের কাছে জমা দিতে হবে।




দুপুরের মধ্যে ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের ছয় জেলায় দুপুরের মধ্যে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

বুধবার (৫ নভেম্বর) আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ/দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এ জন্য এসব এলাকার নৌবন্দরগুলোরকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




মুসলিম কমিউনিটিতে আনন্দের বন্যা, মামদানির বিজয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ বিশাল ভোটের ব্যবধানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে পরাজিত করে ডেমক্র্যাট জোহরান মামদানি (৩৪) নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচিত হলেন। মামদানির বিজয়ে নিউইয়র্ক সিটির সীমানা পেরিয়ে সারা আমেরিকায় মুসলিম কমিউনিটিতে আনন্দের জোয়ার বইছে।

নিউইয়র্ক সিটির বহুল আলোচিত এই নির্বাচনে সর্বাধিকসংখ্যক ভোটার অংশ নিয়েছেন। ২০ লাখ ভোটের ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ পেয়েছেন মামদানি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্যুমো পেয়েছেন ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ। অপরদিকে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ৭ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নানা হুমকি-ধমকি পাত্তা না দিয়ে মুসলিম ভোটারসহ তরুণ ভোটারেরা শেষ পর্যন্ত সরব থাকায় মামদানির বিজয় নিশ্চিত হয়েছে বলেও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মন্তব্য করেছেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় মামদানি নিউইয়র্কবাসীর জন্য ভাড়াবৃদ্ধি স্থগিত, বিনামূল্যে গণপরিবহন এবং সব শিশুর জন্য সেবা চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। এই কর্মসূচিগুলো অর্থায়নের জন্য তিনি ধনীদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন।

উল্লেখ্য, ১ জানুয়ারি শপথ গ্রহণের পরই ১১১তম মেয়র হিসেবে অধিষ্ঠিত হবেন জোহরান মামদানি। একইসঙ্গে মামদানি হবেন এই সিটির প্রথম মুসলিম এবং দক্ষিণ এশিয়ান ইমিগ্র্যান্ট মেয়র।




মামদানিকে ঠেকাতে তৎপর ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র পদে বামপন্থি প্রার্থী জোহরান মামদানিকে নির্বাচিত না করতে ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি, মামদানি মেয়র নির্বাচিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ নিউ ইয়র্কে আসতে দিতে চাইবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।

একই সাথে, নিজে রিপাবলিকান দলের হলেও ডেমোক্র্যাট পার্টির সদস্য যিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন, সেই অ্যান্ড্রু কুওমোকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

“আপনি ব্যক্তিগতভাবে অ্যান্ড্রু কুওমোকে পছন্দ করুন বা না করুন, আপনার আসলে কোনো বিকল্প নেই। আপনাকে অবশ্যই তাকে ভোট দিতে হবে এবং আশা করি তিনি দুর্দান্ত কাজ করবেন,” সোমবার সন্ধ্যায় সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এমন একটি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প।

তিনি আরো লিখেছেন, তিনি এটি করতে সক্ষম, মামদানি নন!

বহুল আলোচিত নির্বাচনের মাত্র কদিন আগে ট্রাম্পের এই সমর্থন এলো, যিনি এক সময় নিউ ইয়র্কের গভর্নর ছিলেন।

এর আগে রোরবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ঘোষণা দিয়েছিলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে তিনি তার শহর নিউইয়র্কে ফেডারেল তহবিল পাঠানো বন্ধ করবেন।

ট্রাম্প বলেছেন, আপনার নিউইয়র্ক পরিচালনাকারী যদি একজন কমিউনিস্ট হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার জন্য নিউইয়র্কে প্রচুর অর্থ দেওয়া কঠিন হবে, কারণ আপনি সেখানে পাঠানো অর্থ কেবল নষ্টই করছেন।

এদিকে জনমত জরিপে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী মামদানি কুওমোর চেয়ে এগিয়ে। ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মামদানির কাছে হেরে যাওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন কুওমো। তাদের দুইজনের চেয়েই পিছিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়াও।

ট্রাম্প, যিনি নিজেও একজন রিপাবলিকান, তার পোস্টে স্লিওয়াকে সমর্থন করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, কার্টিস স্লিওয়ার পক্ষে ভোট মানে মামদানির পক্ষেই ভোট।

ফেডারেল তহবিল সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, মামদানি নির্বাচিত হলে, প্রয়োজনীয় ন্যূনতম পরিমাণ ছাড়া, আমার ফেডারেল তহবিলের অবদান রাখার সম্ভাবনা খুবই কম।

ট্রাম্প প্রশাসন বারবার ডেমোক্র্যাট-শাসিত এলাকায় অবস্থিত প্রকল্পগুলোর জন্য ফেডারেল অনুদান এবং তহবিল হ্রাস করার চেষ্টা করেছে। নিউ ইয়র্ক সিটি এই অর্থবছরে ৭.৪ বিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল পেয়েছে।

রোববার সিবিএসের সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানের সঙ্গে এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, মেয়র মামদানি নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক বামপন্থি মেয়র বিল ডি ব্লাসিওর মতোই হবেন, চমৎকার দেখাবে।

আমি ডি ব্লাসিওকে দেখেছি তিনি কতটা খারাপ মেয়র ছিলেন এবং এই লোকটি ডি ব্লাসিওর চেয়েও খারাপ কাজ করবে, মামদানি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন।

ট্রাম্প নিউ ইয়র্কের কুইন্স বরোতে বেড়ে উঠেছেন এবং এখনো ওই শহরে তার সম্পত্তি রয়েছে।

“আমি কোনোভাবেই কুওমোর ভক্ত নই। তবে যদি এটি একজন খারাপ ডেমোক্র্যাট এবং একজন কমিউনিস্টের মধ্যে হয়, তাহলে আপনার সাথে সৎ হতে, আমি সর্বদা খারাপ ডেমোক্র্যাটকেই বেছে নেব, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন সিবিএসকে।

মামদানি, যিনি নির্বাচিত হলে একটি বিশ্ব আর্থিক কেন্দ্র পরিচালনা করবেন, তিনি একজন স্ব-ঘোষিত গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক, যদিও তিনি নিজেকে কমিউনিস্ট বলে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে রসিকতা করে বলেছেন যে তিনি “একটু স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাজনীতিকের মতো” কেবল আরেকটু স্পষ্টবাদী।

মামদানি ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জিতেছেন, আর কুওমো দ্বিতীয় হয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী এই নেতা নিউ ইয়র্কের সাবেক গভর্নরকে ট্রাম্পের ‘পুতুল’ এবং ‘তোতাপাখি’ বলে অভিহিত করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি মানেই সিটি হলে তার প্রতিচ্ছবি তৈরি করা নয়, সোমবার মামদানি বলেন।

তিনি আরও বলেছেন, এটি এমন একটি বিকল্প তৈরি করা যেখানে নিউ ইয়র্কবাসী তাদের নিজস্ব শহরে যা দেখতে চায় এবং তারা প্রতিদিন নিজেদের ও তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে যা খুঁজে পায় তার সাথে কথা বলতে পারে – এমন একটি শহর যা এই জায়গাটিকে যারা বাড়ি বলে তাদের প্রত্যেকের মর্যাদায় বিশ্বাস করে।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে মোকাবিলা করার জন্য যথেষ্ট অভিজ্ঞ একমাত্র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন কুওমো। এমনকি সেই আক্রমণাত্মক ধারাকে প্রতিহত করার চেষ্টার কথাও বলছেন তিনি।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় তিনি নিউ ইয়র্কের গভর্নর ছিলেন, যখন অনেক রাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। যদিও রাজ্য তদন্তকারীরা যখন আবিষ্কার করেছিলেন যে প্রাদুর্ভাবের সময় নার্সিং হোমে মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছিল, তখন কুওমো নিজেও তদন্তের মুখোমুখি হন।

“আমি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে লড়াই করেছি,” কুওমো একটি বিতর্কের সময় বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, যখন আমি নিউ ইয়র্কের জন্য লড়াই করছি, তখন আমি থামব না।

অপরাধ দমনের অংশ হিসেবে ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন শহরগুলোতে ন্যাশনাল গার্ড সেনা মোতায়েন করেছেন ট্রাম্প, একই সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাদের বিচারব্যবস্থার তহবিলও ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।




এটাই হয়তো আমার শেষ নির্বাচন: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজনীতির আকা-বাঁকা পথ পেরুনো গল্প লিখে এয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়তো তার শেষ নির্বাচন বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি কথা লিখেছেন।

রাজনীতিতে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত বিএনপি মহাসচিব লিখেছেন, আমরা যারা সারাজীবন রাজনীতি করেছি, জেলে গেছি, আমাদের নিজেদের একটা গল্প থাকে! অনেকেই তা জানে না! আমি যখন ১৯৮৭ তে সিদ্ধান্ত নেই, আবার রাজনীতিতে ফিরব, আমার মেয়ে দুটো একদমই ছোট ছিলো! ঢাকায় পড়ত। আমার স্ত্রীর বয়স অনেক কম ছিলো! সে প্রথমে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিল! বুঝতে পারছিল কি ভয়াবহ অনিশ্চিত জীবনে পা দিতে যাচ্ছে!

তিনি বলেন, আমার মেয়ে দুটোর হাত ধরে সেই নিয়ে গেছে স্কুলে, ডাক্তারের কাছে! মনে পরে আমার বড় মেয়ের একটা অপারেশন হবে, আমি সারা রাত গাড়িতে ছিলাম, ঢাকার পথে! যাতে মেয়ের পাশে থাকতে পারি! গল্পগুলো অন্য কোনও দিন বলব যদি আল্লাহ চান! এরকম গল্প আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীর আছে! এই নির্বাচন হয়তো আমার শেষ নির্বাচন!

মির্জা ফখরুল আরো লিখেছেন, মহান আল্লাহর রহমতে বিএনপি আমাকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনীত করেছে! আমি বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, এবং সকল নেতা এবং নেত্রীকে আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। দলের সকল কর্মীকে জানাই আমার আন্তরিক ধন্যবাদ, আজীবন আমার সঙ্গে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

যারা মনোনয় পাননি তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা মনোনয়ন পায়নি, বিশ্বাস রাখুন, ইনশাআল্লাহ দল আপনাদের যথাযথ দায়িত্ব ও সম্মান দেবে! আসুন সবাই একসাথে কাজ করি।

মির্জা ফখরুল লিখেছেন, আপনারা সবাই আমার জন্য দু‘আ করবেন, আমাদের দলের প্রতিটি নেতা কর্মীর জন্য দু‘আ করবেন। আমরা সবাই মিলে আপনাদের পাশে থাকব এবং কাজ করবো। বিএনপির সেই যোগ্যতা আছে, দেশকে মর্যাদার সঙ্গে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার! ইনশাআল্লাহ! আপনারা পাশে থাকবেন।




ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন প্রার্থী

ডেস্ক নিউজঃ একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় ভোটার প্রতি ১০ টাকা হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এর থেকে বেশি খরচ করলে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৩ নভেম্বর) আইন মন্ত্রণালয় এ অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

এবারের সংশোধনায় নির্বাচনী ব্যয় ও রাজনৈতিক দলের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনুদান হিসেবে প্রাপ্ত অর্থের বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের জন্য বিশেষভাবে নির্দেশনা যোগ করা হয়েছে, যা প্রার্থীরা তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবেন।

চূড়ান্ত আরপিও-র অনুচ্ছেদ ৪৪-এ নতুন সংযোজন অনুসারে, প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও অনুচ্ছেদ ১৩-এ প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা জামানত, যা আগে ২০ হাজার টাকা ছিল।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সমতা নিশ্চিত করা হবে বলে আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।




রুমিন ফারহানাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় হিরো আলমের নিন্দা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ৬৩ আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। এর মধ্যে বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার প্রত্যাশিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন রয়েছে।

সোমবার (৩ নভেম্বর) প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর ফেসবুকে এক পোস্টে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম লিখেছেন, ‘বিএনপির দুঃসময়ের সাথী, ত্যাগী নেত্রী, স্বৈরাচারের জম, প্রতিবাদী কণ্ঠ রুমিন ফারহানা আপা। আমার ওপর বারবার হামলা হলে বজ্রকণ্ঠে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন তিনি। বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সবার চেয়ে বহু গুণ এগিয়েছিলেন তিনি। সেই রুমিন ফারহানা আপাকে নমিনেশন না দিয়ে তার প্রতি বিএনপি অনেক বড় অবিচার করেছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’

হিরো আলম লিখেন, ‘সেই সঙ্গে আগামী দিনের দেশ গড়ার নায়ক তারেক রহমান ভাইয়ের প্রতি অনুরোধ, বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করবেন। স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে রুমিন ফারহানা আপার মতো মানুষের আমাদের ভীষণ দরকার।’