নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের ‘চাপ’, আজই যুদ্ধবিরতির আলাপে বসছে ইসরায়েল-লেবানন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চলমান সংঘাত নিয়ে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার ফোনালাপ করবেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক সদস্য গালিয়া গামলিয়েল ইসরায়েলি আর্মি রেডিওকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সামাজিক মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের করা একটি পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর গালিয়া গামলিয়েল এমন তথ্য দিলেন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘ইসরায়েল ও লেবাননের নেতারা আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আলোচনা করবেন।’

গামলিয়েলের ঘোষণার আগে লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো যোগাযোগের বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।

ফোনালাপ নিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পর লেবানিজ গণমাধ্যম ‘আল-জাদিদ’-এর বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই)। এতে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় ফোনালাপ আয়োজনের তোড়জোড় চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফোনালাপের মূল বিষয়বস্তু হতে পারে দুই দেশের মধ্যে একটি কার্যকর যুদ্ধবিরতি শুরু করা। এছাড়া একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার পৃথক একটি প্রতিবেদনে টাইমস অব ইসরায়েল লিখেছে, লেবাননে সাময়িক যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য নেতানিয়াহুর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা বুধবার রাতে এক জরুরি বৈঠকে বসেছিল। এরপরই জেরুজালেমের রাজনৈতিক মহলে একটি ধারণা জোরালো হয়। সেটি হলো- যুক্তরাষ্ট্রের প্রচণ্ড চাপের মুখে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ছাড়া ইসরায়েলের আর কোনো উপায় নেই।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, মন্ত্রী গালিয়া ইসরায়েলের আর্মি রেডিওকে বলেন, ‘এত বছরের সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পর’ এ কথোপকথন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আশা করা যায়, এ পদক্ষেপ শেষপর্যন্ত সমৃদ্ধির দিকে ধাবিত করবে।

তবে কিছু সংবাদমাধ্যম লেবাননের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, ইসরায়েলের সঙ্গে এমন কোনো যোগাযোগ বা আলোচনার বিষয়ে তারা অবগত নন।




মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন মাহেরীন চৌধুরী

ডেস্ক নিউজঃ সমাজসেবায় গৌরবোজ্জ্বল কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত সেই শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। মাহেরীন চৌধুরীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন তার স্বামী মনসুর হেলাল।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দেশের জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাদের এই পদক প্রদান করা হয়।

২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনে আছড়ে পড়লে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।

ওই রাতেই জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার এই কৃতি সন্তানকে তার অসামান্য ত্যাগের জন্য সমাজসেবা বা জনসেবা ক্ষেত্রে এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া হয়।

এবারের তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর এ সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।

স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এ ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।




সংস্কৃতিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন হানিফ সংকেত

ডেস্ক নিউজঃ সংস্কৃতিতে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন হানিফ সংকেত (এ কে এম হানিফ)। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এই পুরস্কার গ্রহণ করেন। 

এর আগে, এদিন প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম  খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি জাইমা রহমান।

এদিকে খালেদা জিয়া ছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত) ও বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক ও রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।




খালেদা জিয়ার পক্ষে স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করলেন নাতনি জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজঃ প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার গ্রহণ করেছেন তার নাতনি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়ার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এর আগে, এদিন বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা, জাতীয় জীবনে গৌরবোজ্জ্বল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মন্ত্রিসভার সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত আছেন।

চলতি বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এছাড়াও ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ পদক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মনোনীত অন্য ব্যক্তিরা হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

উল্লেখ্য, স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে সরকার। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে পাঁচ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।




আমার এলাকার হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’: সংসদে রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ সংসদীয় এলাকা সরাইলের হাসপাতাল ‘নিজেই একটা রোগীর মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ২০০ শয্যার একটি হাসপাতাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ওপর সংশোধনী বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এ মন্তব্য করেন।

এ সময় তিনি সরাইল হাসপাতালের জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার নয়টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের জন্য একটি হাসপাতাল আছে। যেটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। সেই হাসপাতালটি নিজেই একটা রোগীর মতো।’

রুমিন ফারহানা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ব্যাপক সংকট রয়েছে। কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের ৯টি, নার্সের ৬টি, মেডিকেল টেকনোলজিস্টের ২টি, ফিল্ড স্টাফের ১৫টি এবং স্বাস্থ্য সহকারীর ৮টিসহ মোট ৬৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়তলা ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় এখনো পুরোনো দোতলা ভবনেই চিকিৎসাসেবা চলছে।

এ আলোচনায় অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার হাসপাতালের সংকট, শয্যা বৃদ্ধি এবং নতুন হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান।




দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে বন্ধ দোকানে মিলল ব্যবসায়ীরা মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর লালদিঘীরপাড় এলাকা থেকে একটি বন্ধ দোকান থেকে পচা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মরদেহের সন্ধান পান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল। প্রথমে ব্যবসায়ীরা ধারণা করেন, কোনো ইঁদুর মারা গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। তবে গন্ধ সহ্যের বাইরে চলে গেলে তারা নিজেরাই অনুসন্ধানে নামেন। একপর্যায়ে পাশের একটি দোকানের ভেতরে উঁকি দিয়ে তারা একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। দোকানটি তালাবদ্ধ ছিল না।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর ব্যবসায়ী নাজিম আহমদ (২৫) ও পাভেল আহমদ (২৬) মরদেহটি দেখতে পান এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে বিকেলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, নিহত ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম (৫০)। তিনি দক্ষিণ সুরমার কামালবাজার এলাকার পুরানগাঁও গ্রামের আরফান আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে তরকারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজিম ও পাভেল জানান, গত দুই দিন ধরে দোকান এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল। প্রথমে তারা বিষয়টিকে সাধারণ মনে করলেও পরে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

সিলেট কোতোয়ালি থানার বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. সুলেমান মিয়া বলেন, ধারণা করা হচ্ছে নুরুল ইসলামের মৃত্যু অন্তত দুই দিন আগে হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

লালদিঘীরপাড় নতুন হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সামছুল আলম জানান, নুরুল ইসলাম দুই কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মার্কেটে ব্যবসা করতেন এবং বিভিন্ন বাজার থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে বন্দরবাজার এলাকায় বিক্রি করতেন।




মাছ খেলে আপনাদের বাংলাদেশি বলা হবে: মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে মৎস্যজীবীদের উন্নতি, নানা প্রতিশ্রুতি উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের প্রার্থীদের বক্তব্যে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর৷ অন্য যে বিষয়গুলি উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম বাঙালির খাদ্যাভ্যাস৷

মাছে-ভাতে বাঙালি এটাই তাদের পরিচয়। বাঙালির পাতে অপরিহার্য মাছ৷ বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, এমন প্রচারণা চালাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভায় বলেছেন, ‘বিজেপি আপনাদের মাছ খেতে দেবে না৷ মাংস, ডিমও খেতে দেবে না৷ যদি আপনারা খান, তাহলে আপনাদের বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করবে৷’

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, তিনি টানা ১৫ দিন এ রাজ্যে থাকবেন৷ তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইলিশ ভাপা, পাবদার ঝাল, চিংড়ি মাছের মালাইকারি ও কষা মাংসের ছবি পোস্ট করেন৷ সেখানে লেখা হয়, ‘পর্যটকদের স্বাগত জানাই পশ্চিমবঙ্গে। এখানে এলে এসব খাবার মিস করবেন না।’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জনসভায় বলেছেন, ‘বাংলায় মাছের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এর উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ স্বনির্ভর নয়৷ এখানে মাছের চাহিদা মেটানোর জন্য অন্য রাজ্য থেকে আমদানি করতে হয়৷ গত ১১ বছরে দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার সেটা করতে পারেনি৷’

মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা দাবি করেছেন, ‘আগে হায়দ্রাবাদ থেকে মাছ আসতো৷ এখন আর আসে না৷ বিজেপি বিহার, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থানে মাছ খেতে দেয় না৷ দোকান বন্ধ করে দিয়েছে৷’

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, অনেকে মাছের প্রসঙ্গে তৃণমূলকে জবাব দিয়েছেন৷ মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে মৎস্যজীবীদের উন্নতি, নানা প্রতিশ্রুতি উঠে আসছে তাদের বক্তব্যে৷

মাছ নিয়ে প্রচারে প্রার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে৷ বিধাননগরের বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় একটা বড় আকারের কাতলা মাছ হাতে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে প্রচার করেছেন৷ ভোটারদের বলেছেন, বিজেপি এলে মাছ খাওয়া বন্ধ হবে না৷ খড়গপুরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ প্রচার করতে করতে ঢুকে পড়েন মাছের বাজারে৷

নববর্ষের সকালে টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস অভিনব প্রচারে বার হয়েছিলেন৷ গড়িয়া এলাকায় তার সমর্থকরা দুটো বড় ট্রেতে রুই মাছ নিয়ে প্রার্থীর পাশে হাঁটছিলেন৷ অরূপ বিশ্বাস বলেন, ‘বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ খাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে৷ মাছ ফেলে দেওয়া হচ্ছে৷ এখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালি মাছ খেতে পারবে না৷’




সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে শিলাবৃষ্টিও। বৃহস্পতিবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

সহকারী আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।




আগামীকাল হজ ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আগামীকাল শুক্রবার হজ ফ্লাইট-২০২৬ এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বর্ধিত ফ্লাইট সিডিউল ও হ্রাসকৃত বিমান ভাড়ায় হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে হজ ফ্লাইট ২০২৬-এর উদ্বোধন করবেন।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ পালন করবেন ৭৮ হাজার ৫০০ জন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় ৪১৯জন যাত্রী নিয়ে শুরু হবে হজের প্রথম ফ্লাইট।

এ উপলক্ষে রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে চলছে সব শেষ প্রস্তুতি। এবার কমানো হয়েছে টিকিট মূল্য।

গতবারের তুলনায় ১২ হাজার টাকা কমে টিকিট কিনতে পারছেন হজযাত্রীরা। এরই মধ্যে সৌদি আরব পৌঁছেছে ১৭১ জনের মেডিকেল টিম।




বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর স্মরণে শোকসভা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের আপসহীন বিপ্লবী নেতা কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর শোকসভা আগামীকাল ১৭ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার, বিকাল ৪টায়, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে। শোকসভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোকসভা আয়োজক জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি ব্রিগেঃ জেনাঃ (অবঃ) ডাঃ এম. জাহাঙ্গীর হোসেন। শোকসভা সফল করতে সর্বস্তরের সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সকল গণতান্ত্রিক ব্যক্তি, শক্তি ও সংগঠনের নেতা-কর্মি-দরদি-সমর্থকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হলো।

উল্লেখ্য, কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী-লেনিনবাদী-এ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পলিট ব্যুরোর সদস্য। তিনি ১৯৫১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা থানার পদ্মা পাড়ের ফারাকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুর রহিম রেলওয়েতে কর্মরত ছিলেন এবং মা আমেনা খাতুন ছিলেন গৃহিনী। তিনি ৫ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে বড় বোনের পর দ্বিতীয় এবং ভাইদের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি দৌলতপুর মহসিন স্কুল থেকে ১৯৬৭ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৯ সালে বিএল কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। ১৯৬৯-৭০ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায় পার্টি বিপ্লব অগ্রসর করার লক্ষ্যে ব্যক্তিগত সুখ, স্বাচ্ছন্দ্য এবং আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহ ত্যাগ করে সার্বক্ষণিক বিপ্লবী কর্মি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময়টা দক্ষিণ এশিয়া ও পাকিস্তানের রাজনীতিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার যেমন মুখোমুখি অবস্থান ছিলো, তেমনই বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদ ও তাদের দালাল বিরোধী গণআন্দোলন-গণসংগ্রাম ও বিপ্লবের ছিল উত্তাল সময়। এ সময়ে বিশ্বের পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে শ্রমিকশ্রেণির নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব তথা বিশ্ববিপ্লবকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত তীব্রতর হয়ে উঠে।

সমাজাতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নে ১৯৫৩ সালে কমরেড স্ট্যালিনের মৃত্যু এবং ১৯৫৪ সালে সংশোধনবাদী ক্রুশ্চেভ চক্র ক্ষমতাসীন হয়ে ১৯৫৬-এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬০-এর দশকে ক্রুশ্চেভ-ব্রেজনেভ সংশোধনবাদ সামনে আনা হলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহাবিতর্ক শুরু হয়। প্রয়াত কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল) এই মহাবিতর্কে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বিকল্প বিপ্লবী ধারার পক্ষে থাকেন। তিনি ১৯৬৮-৬৯-এর গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে খুলনায় মন্ত্রী সবুর খানের বাড়ী ঘেরাও কর্মসূচির রূপকার ও নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সভ্যপদ লাভ করেন। ১৯৭০-৭১ সালে পার্টির খুলনা জেলা কমিটির নবীন ও সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালের বিপ্লবী যুদ্ধে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করেন। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চীন ঘেরাও নীতির প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার ভারতের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯৬২-এর চীন-ভারত যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ১৯৬৫ সালে ভারতকে দিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ সংঘটিত করে। এতে লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৯৬৬ সালে আওয়ামীলীগকে দিয়ে ৬-দফার আন্দোলন প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানকে দ্বিখন্ডিত করার পরিকল্পনায় অগ্রসর হয়। এ সময়ে প্রতিপক্ষ সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদও বসে থাকে না। এ প্রেক্ষিতে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যুদ্ধ শুরু হয়।

প্রতিবিপ্লবী এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী যুদ্ধ গড়ে তোলা হয়। দেশব্যাপী বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করার প্রেক্ষিতে ‘গণমুক্তি ফৌজ (PLA-Peoples Liberation Army)’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিপ্লবী সেনাবাহিনী, গেরিলা স্কোয়াড, ঘাঁটি এলাকা, মৌসুমি ঘাঁটি এলাকা ইত্যাদি গড়ে তুলে বিপ্লবী যুদ্ধকে অগ্রসর করা হয়। খুলনা জেলার বিভিন্ন লড়াইতে গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বকারী ভূমিকা পালন করেন কমরেড রউফ। এ সময়ে ২৬ নভেম্বর ১৯৭১ সালে কমরেড রউফ গুলিতে আহত হন। আহত হয়ে প্যারালাইজড অবস্থায় তাকে স্ট্রেচারে করে চলাচল করতে হতো। এ সময়ে এলাকার পতন না হওয়া পর্যন্ত তিনি নৌকায়, পায়ে পায়ে স্ট্রেচারে করে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপ্লবী সেনাবাহিনীর সাথেই থাকতেন। বাংলাদেশ হওয়ার পর ১৯৭২ সালে কমরেড রউফকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় পাঠানো হয়। তাঁর চিকিৎসায় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। চিকিৎসায় কমরেড আব্দুর রউফ জীবনে বেঁচে গেলেও তাঁর নিম্নাঙ্গ অর্থাৎ মেরুদন্ডের নীচের অংশ দুই পা অকার্যকর হয়ে যায়। তখন থেকে তিনি পায়ে ভর করে চলাফেরা করতে পারতেন না। দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করতেন। কোলকাতা থেকে ফিরে আসার পর তিনি বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে চলেন। ফিরে আসার পর প্রথমে খুলনা জেলার সাথে যুক্ত হন।

বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামে তিনি উগ্র বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর আন্তর্জাতিকতাবাদী লাইনের পক্ষে কমরেড রউফ দৃঢ় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনে সামরিক শাসক মার্কিনের দালাল জিয়াউর রহমান সরকারকে মোহাম্মাদ তোয়হা’র নেতৃত্বে সাম্যবাদী দল ‘দেশপ্রেমিক সরকার’ এবং ইদ্রিস লোহানী-সত্য মৈত্রী’র নেতৃত্বে বিসিপি (এম-এল)’র ‘জাতীয় সরকার’ হিসেবে বক্তব্য প্রদান করে। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল) বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র এবং জিয়াউর রহমানকে মার্কিনের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করে পাটির্র মূল্যায়ন উর্ধ্বে তুলে ধরা হয়। এ প্রেক্ষিতে কমরেড রউফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৭ সালে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রদত্ত সংশোধনবাদী ‘তিন বিশ্ব তত্ত্ব’-এর বিরুদ্ধে কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে পার্টির তুলে ধরা মার্কসবাদ-লেনিনবাদী লাইনকে প্রতিষ্ঠায় তিনি নেতৃত্বকারী ভূমিকা রাখেন। ১৯৮৩ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ পার্টি কংগ্রেসে পার্টির তাত্ত্বিক ভিত্তি হিসেবে মাও সেতুং চিন্তাধারা বাদ দিয়ে মার্কসবাদ-লেনিনবাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, পার্টির সামরিক লাইন উন্নত করতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা গ্রহণ এবং কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য হিসেবে কমরেড রউফ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশেষ কংগ্রেসে মাও সেতুং চিন্তাধারার মূল্যায়ন ও এর স্বরূপ উন্মোচনে কমরেড আবদুল হক-এর সাথে তিনি অনন্য ভূমিকা গ্রহণ পালন করেন।

১৯৯০-৯১ সালে আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দোলনে সাম্রাজ্যবাদী পরিকল্পনায় যে মহাবিপর্যয় সৃষ্টি করা হয় তা মোকাবেলায় কমরেড আবদুল হক-এর নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের এক বছর এগিয়ে এনে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির নেতৃত্বে সকল রূপের সংশোধনবাদের বিরুদ্ধে মার্কসবাদ-লেনিনবাদের ভিত্তিতে পার্টি লাইনে সংগঠন-সংগ্রাম পরিচালনার যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় তা কার্যকরী করতে ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত হয়। কমরেড আবদুল হক-এর জীবদ্দশায় কমরেড আব্দুর রউফ পার্টির ৮ম কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯৫ সালে কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুকে তাৎপর্যমন্ডিত করাসহ বাংলাদেশে বিসিপি’র ট্রটস্কিবাদী অবস্থান থেকে সংশোধনবাদের স্বরূপ উন্মোচন করে মতাদর্শিক ও রাজনৈতিক সংগ্রামকে সফল পরিণতিতে নেওয়া হয়। কমরেড আব্দুর রউফ-এর নেতৃত্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত পার্টির ৯ম পার্টি কংগ্রেসে পার্টির সামরিক লাইনে সশস্ত্র সংগ্রাম ও বিপ্লবী যুদ্ধের সাথে গণআন্দোলন-গণঅভ্যুত্থানের সার্থক সমন্বয় সাধনের প্রেক্ষিতে সামরিক লাইন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ৯ম কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অব্যাহত থাকেন। শারীরিক কারণে ২০০৬ এবং ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত দশম ও একাদশ কংগ্রেসে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে না থাকলেও কার্যত তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর তাত্ত্বিক নেতা।

কমরেড আব্দুর রউফ (মুকুল)-এর মৃত্যুতে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (এম-এল)-এর কেন্দ্রীয় কমিটি গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তাঁর অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে দীপ্ত শপথ গ্রহণ করছে। তাঁর মৃত্যুতে সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও আমলা-মুৎসুদ্দিপুঁজি বিরোধী জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লবী আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হলো। একই সাথে দেশের শ্রমিক-কৃষক-জনগণ হারালো তাদের অকৃত্রিম বন্ধু ও বিপ্লবী নেতাকে । কমরেড মুকুল ছিলেন দৃঢ়, সাহসী, নীতিনিষ্ঠ, প্রখর ও গভীর জ্ঞানের অধিকারী আপসহীন কমিউনিস্ট বিপ্লবী নেতা। তিনি সর্বদা দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদী দর্শন এবং মার্কসবাদ-লেনিনবাদকে ভিত্তি করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতেন। কমরেড আবদুল হক-এর মৃত্যুর পর কমরেড রউফ ছিলেন এ দেশের কমিউনিস্ট বিপ্লবের অবিসংবাদিত তাত্ত্বিক নেতা। সদালাপি, সদা হাস্যমুখ এবং সৎ চরিত্রের অধিকারী এ মহান বিপ্লবী শ্রমিক-কৃষক-জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে পার্টি ও বিপ্লবের স্বার্থকে সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জনগণের প্রতি অগাধ ভালোবাসা এবং সহযোদ্ধাদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ছিলো কমরেড আব্দুর রউফ-এর জীবনের অন্যতম সুমহান বৈশিষ্ট্য। কমরেড আব্দুর রউফ-এর রেখে যাওয়া অসমাপ্ত বিপ্লবী দায়িত্ব পালনে আজ প্রয়োজন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ও দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম অগ্রসর করা।