প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা পদক হস্তান্তর করবেন আজ

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ পদক তুলে দেবেন তিনি।

এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছাড়াও স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত অন্য ১৪ ব্যক্তি হলেন- মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র উপস্থাপক এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় দেশের টেবিল টেনিসের কিংবদন্তি জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), মো. সাইদুল হক, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষক মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর), জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর), গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক এম এ রহিম ও অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং চ্যানেল আইয়ের পরিচালক আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু)।

এছাড়া স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো-মুক্তিযুদ্ধে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, চিকিৎসাবিদ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), সমাজসেবায় এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।

সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতিবছর স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। স্বাধীনতা পুরস্কারের ক্ষেত্রে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেট মানের ৫০ গ্রামের স্বর্ণপদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।




বাংলাদেশকে ২ কোটি ১৯ লাখ হাম-রুবেলার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশের শিশুদের জন্য ২ কোটি ১৯ লাখের বেশি হাম-রুবেলার জরুরি টিকা দেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় ২ কোটি ১৯ লাখের বেশি টিকা প্রদান করা হবে, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে সুরক্ষা দেবে।

এই উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজির প্রতিফলন। বিদেশে রোগের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ-উভয় দেশকেই নিরাপদ রাখে, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং সংক্রামক রোগ থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখে।




জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ডেস্ক নিউজঃ সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় জনগণকে ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ৫টি জেলার (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনসাধারণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। এই ই-হেলথ কার্ড ইলেকট্রনিক রোগী ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার জন্যই আমরা কিছু না কিছু রেখেছি। শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, দিনমজুর হোক, খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হোক, প্রত্যেকের জন্য আমরা কিছু না কিছু রেখেছি।

তারেক রহমান বলেন, দেশ পরিচালনার জন্য বিএনপিকে বিগত নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করেছে। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে দেশের মানুষের জন্য কাজ করা। সেজন্যই আমাদের ম্যানিফেস্টোতে শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষদের অন্তর্ভুক্ত করেছি। যাতে তারা ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে। সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি। এমনকি বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।  সেটা বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।




দেশের বাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। 

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।

নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ৯ এপ্রিল সংগঠনটি স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেসময় প্রতি ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ দফা দাম বেড়েছে এবং ২৩ দফা কমেছে।

এর আগে, গত বছর মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার বাড়ানো ও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।




বিলাসবহুল হোটেলে সাজানো ফাঁদ: ভুয়া ঐতিহাসিক নিদর্শনে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠলো কৃষকলীগ নেতা মাকসুদ–সোহেলের বিরুদ্ধে

এসএম বদরুল আলমঃ দেশজুড়ে নীরবে বিস্তার ঘটেছে এক ভয়ংকর প্রতারণা সাম্রাজ্যের—যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের দুই প্রভাবশালী নেতা মাকসুদুল ইসলাম ও মাজারুল ইসলাম সোহেল। “প্রাচীন পিলার ও কয়েন” নামের এক অভিনব প্রতারণার ফাঁদ পেতে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে তাদের নেতৃত্বাধীন একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রতারণা নয়—বরং সুপরিকল্পিত, উচ্চপর্যায়ের টার্গেটিং ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশল প্রয়োগ করে গড়ে তোলা একটি শক্তিশালী অপরাধচক্র।

বিলাসবহুল ফাঁদে ‘ঐতিহাসিক সম্পদ’ নাটক : সোহেলের নেতৃত্বে পরিচালিত চক্রটি সাধারণ ধাতব বস্তু, পাথর কিংবা সিলিন্ডার আকৃতির জিনিসকে বিশেষ রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় কৃত্রিমভাবে “প্রাচীন” রূপ দিত। প্যাটিনা, দাগ, ক্ষয়—সবকিছু নিখুঁতভাবে সাজিয়ে এগুলোকে দুর্লভ ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করা হতো। এরপর শুরু হতো মূল খেলা—ঢাকার পাঁচতারকা হোটেলের লাউঞ্জ, কনফারেন্স রুম কিংবা অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজন করা হতো ব্যক্তিগত প্রদর্শনী। নিজেকে “বিশেষজ্ঞ” পরিচয়ে উপস্থাপন করে সম্ভ্রান্ত ও বিত্তশালী ব্যক্তিদের সামনে তৈরি করা হতো এক ধরনের বিশ্বাসযোগ্যতার আবহ। “গোপন বিনিয়োগ সুযোগ”, “আন্তর্জাতিক কালেক্টরদের চাহিদা”—এমন সব গল্পে মোহিত করে কোটি কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন করা হতো।

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ : ভুক্তভোগীদের দেওয়া তথ্য ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে—
প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এস বি ইকবালের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা, ডজলেন গ্রুপের আরিফের কাছ থেকে প্রায় ১৬ কোটি টাকা এবং সিবিএম গ্রুপের জয়নাল ওরফে জামান সাহেবের কাছ থেকে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা।
এ তালিকা এখানেই শেষ নয়—অভিযোগ রয়েছে, আরও বহু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার প্রকৃত পরিমাণ কয়েকশ কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
লেনদেন শেষে প্রতারকেরা হঠাৎ করেই গা ঢাকা দিত অথবা ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে সময়ক্ষেপণ করত। পরবর্তীতে পরীক্ষাগারে যাচাই করে দেখা গেছে—এসব তথাকথিত “প্রাচীন নিদর্শন” আসলে সম্পূর্ণ ভুয়া।

দেশজুড়ে বিস্তৃত প্রতারণা নেটওয়ার্ক : ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক মানুষ। উচ্চবিত্ত, ব্যবসায়ী, এমনকি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও রেহাই পাননি এই সুসংগঠিত প্রতারণা থেকে।

জমি জালিয়াতিতেও জড়িত একই সিন্ডিকেট ? অন্যদিকে, একই চক্রের আরেক মুখ—মাকসুদুল ইসলাম—ইতোমধ্যে জমি জালিয়াতির মামলায় কারাগারে। মিরপুরের বাউনিয়া এলাকায় এক ব্যক্তির জমি জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।

সিআইডি তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে বিচারক মাকসুদুল ইসলামসহ চারজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—অর্থ প্রতারণা ও জমি জালিয়াতি, এই দুই অপরাধই একই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকতে পারে।

প্রমাণের পাহাড়, তবুও প্রশ্ন—কখন হবে বিচার ? ভুক্তভোগীরা ইতোমধ্যে ব্যাংক লেনদেনের তথ্য, রশিদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কথোপকথন, প্রদর্শিত বস্তু এবং প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। তবুও এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এই শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে আদৌ কি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা :
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, “প্রাচীন” দাবি করা যেকোনো বস্তু যাচাই ছাড়া কেনা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ছাড়া এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় পড়ে—যার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।

আস্থার সংকটে সমাজ :
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের সিন্ডিকেট কেবল অর্থ লুটেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি সমাজে আস্থার গভীর সংকট তৈরি করছে। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে যদি এ ধরনের প্রতারণা বারবার পার পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় অপেক্ষা করছে।

শেষ কথা : “দুর্লভ সম্পদ”, “গোপন বিনিয়োগ”, “অস্বাভাবিক লাভ”—এসব শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে ভয়ংকর প্রতারণা। সংশ্লিষ্টরা তাই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—যাচাই ছাড়া কোনো বড় বিনিয়োগ নয়, আর সন্দেহজনক প্রস্তাব দেখলেই সতর্ক থাকুন। এখন দেখার বিষয়—শত কোটি টাকার এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার জাল ভেদ করে সত্য কতদূর সামনে আসে, আর বিচার কতটা নিশ্চিত হয়।




শ্রমিকলীগ থেকে ‘বিএনপি ঘরানা’: পরিচয় বদল, নির্যাতন-দখলদারিত্বের অভিযোগ আরও ভয়ঙ্কর

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকার মতিঝিলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ভবনের নিচতলায় ভয়ঙ্কর এক ‘টর্চার সেল’ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে শ্রমিকলীগের সাবেক নেতা মাজহার, আক্তার ও শফিক গং-এর বিরুদ্ধে—যারা বর্তমানে নিজেদের ‘বিএনপি ঘরানার’ পরিচয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্ট ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রমিক সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত নিচতলার কার্যালয়টি দখল করে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মচারীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

লিফট অপারেটরকে নির্যাতনের অভিযোগ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, সকাল প্রায় ১০টার দিকে ভবনের নিচতলায় লিফট অপারেটর মিজান নামে এক কর্মচারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তার চিৎকারে অন্যান্য কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় আহত মিজান বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পূর্বেও একাধিক নির্যাতনের অভিযোগ : ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগে আজিজুল ইসলাম, মজিবুর রহমান, নুরুল আলম ও আক্কাস হোসেনসহ আরও অনেক কর্মচারী একই ধরনের মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শ্রমিকলীগ থেকে ‘হাইব্রিড বিএনপি’—পরিচয় বদলের অভিযোগ : অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শ্রমিকলীগের ব্যানারে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন। সেই সময় সংগঠনটিকে ব্যবহার করে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, দখলদারিত্ব ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তারা হঠাৎ করেই ‘বিএনপি ঘরানার’ পরিচয়ে নতুন কমিটি নিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা। কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, “পরিচয় বদলালেও চরিত্র বদলায়নি—বরং আগের চেয়েও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

অফিসের বাইরে কর্মস্থল, কিন্তু প্রভাব মতিঝিলে : অভিযোগ অনুযায়ী, মাজহারের বর্তমান কর্মস্থল বরিশালে হলেও তিনি নিয়মিত মতিঝিল অফিসে অবস্থান করেন। একইভাবে তার সহযোগী শফিকুল ইসলামের কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ হলেও তিনিও নিয়মিত মতিঝিলে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ। এদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এবং দখলদারিত্বের মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন কর্মচারীরা।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন :
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে কীভাবে এমন ‘টর্চার সেল’ গড়ে ওঠে? কেন প্রশাসন নীরব?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মচারী দাবি করেন, “উচ্চপর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার ছত্রছায়া থাকায় তারা এতদিন ধরে পার পেয়ে যাচ্ছে।”

ভয় আর আতঙ্কে মুখ খুলতে নারাজ কর্মচারীরা : টর্চার সেলের আতঙ্কে অধিকাংশ কর্মচারী প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন। তবে তাদের দাবি—এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




নতুন তালিকায় ভিসা ছাড়াই ৩৬ দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দুই ধাপ পিছিয়ে এখন ৯৫তম। আগের তালিকায় দেশের অবস্থান ছিল ৯৩তম। নতুন এই সূচক অনুযায়ী, বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এখন আগাম ভিসা ছাড়াই ৩৬টি দেশে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

সম্প্রতি হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত বৈশ্বিক পাসপোর্ট র‌্যাংকিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তালিকা অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের জন্য ভিসামুক্ত বা সহজ ভ্রমণ সুবিধার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- বার্বাডোজ, ভুটান, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কোমোরোস, কুক দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার, মালদ্বীপ, মাইক্রোনেশিয়া ও মন্টসেরাট।

এছাড়াও রয়েছে- নেপাল, নিউই, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, বাহামাস, গাম্বিয়া, তিমুর-লেস্তে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু এবং ভানুয়াতু।

এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন-অ্যারাইভাল ভিসা, অর্থাৎ বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ভিসা নেওয়ার সুবিধা রয়েছে। আবার কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে ভ্রমণের আগে ই-ভিসা নিতে হবে।

অপরদিকে আগের তালিকার মতো নতুন তালিকাতেও সিঙ্গাপুর শীর্ষে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সূচক অনুযায়ী, তৃতীয় স্থানে রয়েছে সুইডেন। চতুর্থ অবস্থানে আছে- বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন এবং সুইজারল্যান্ড। এছাড়া পঞ্চম স্থানে রয়েছে- অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ অবস্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।




আড়াই বছর পর মাঠে ফিরছে বিসিএল, খেলবেন বিজয়–মোসাদ্দেকরাও

খেলাধুলা ডেস্কঃ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) মাঠে ফিরতে যাচ্ছে আড়াই বছর পর। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সবশেষ চারদিনের এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের আসরের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে সিলেটে।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হবে নর্থ জোন ও সাউথ জোন। একই সময়ে মূল গ্রাউন্ডে ইস্ট জোনের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেন্ট্রাল জোন। ম্যাচগুলো চলবে ২১ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত। বিসিএলের ৪ দিনের খেলা দিয়ে আবারো দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরবেন এনামুল হক বিজয়, মোসাদ্দেক হোসেনরা। গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় ক্রিকেট লিগের চার দিনের সংস্করণে খেলার পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিসিএল ওয়ানডে ও অদম্য টি-টোয়েন্টি কাপে রাখা হয়নি তাদের। সেন্ট্রাল জোনে মোসাদ্দেক ও সাউথ জোনে খেলবেন বিজয়।

টুর্নামেন্টের চার দলে অধিনায়কত্ব করবেন মার্শাল আইয়ুব (সেন্ট্রাল জোন), মুমিনুল হক (ইস্ট জোন), মোহাম্মদ মিঠুন (সাউথ জোন) ও আকবর আলি (নর্থ জোন)। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ থাকায় জাতীয় দলের সাদা বলের ক্রিকেটাররা প্রথম রাউন্ডে খেলতে পারবেন না।

সেন্ট্রাল জোন স্কোয়াড

সাদমান ইসলাম অনিক, মোহাম্মদ নাঈম শেখ, আশিকুর রহমান শিবলি, মার্শাল আইয়ুব (অধিনায়ক), মাহফিজুল ইসলাম রবিন, জিসান আলম, আব্দুল মজিদ, শুভাগত হোম চৌধুরী, রকিবুল হাসান, আবু হায়দার রনি, এনামুল হক, আনিসুল ইসলাম ইমন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সুমন খান, ইকবাল হোসেন ইমন।

ইস্ট জোন স্কোয়াড

মাহমুদুল হাসান জয়, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), শাহাদাত হোসেন দীপু, ইয়াসির আলি চৌধুরী, মুশফিকুর রহিম, আসাদুল্লা আল গালিব, জাকের আলি অনিক (উইকেটরক্ষক), ইবাদত হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ, নাঈম হাসান, হাসান মুরাদ, সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইফরান হোসেন।

নর্থ জোন স্কোয়াড

সাব্বির হোসেন, আজিজুল হাকিম তামিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইকবাল হোসেন, আকবর আলি (অধিনায়ক), তানবীর হায়দার, প্রীতম কুমার, এসএম মেহেরব হাসান, তাইজুল ইসলাম, আব্দুল গাফফার সাকলাইন, সানজামুল ইসলাম, রবিউল হক, মুশফিক হাসান, রহিম আহমেদ, আসাদুল্লাহ হিল গালিব।

সাউথ জোন স্কোয়াড

ইফতেখার হোসেন ইফতি, এনামুল হক বিজয়, ফজলে রাব্বি মাহমুদ, মোহাম্মদ মিঠুন (অধিনায়ক), সালমান হোসেন ইমন, কালাম সিদ্দিকি এলিন, মইন খান, রিজান হোসেন, আল ফাহাদ, সামিউন বশির রাতুল, রুয়েল মিয়া, আব্দুল হালিম, ওয়াসি সিদ্দিকি, আশরাফুল হাসান, সফর আলি।




পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিবেদনে বিশ্বকাপের ক্ষণগণনায় ফিফা

খেলাধুলা ডেস্কঃ বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবারের ক্ষণগণনা আরও আকর্ষণীয় করতে প্রতিদিনই পরিসংখ্যানভিত্তিক তথ্য প্রকাশ করছে সংস্থাটি। বিশ্বকাপ শুরু হতে ৫৮ দিন বাকি থাকতে এবার আলোচনায় এসেছে ‘১২ নম্বর জার্সিধারী’ ফুটবলারদের গোল-পরিসংখ্যান।

বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ১২ নম্বর জার্সি পরা খেলোয়াড়রা মোট ৫৮টি গোল করেছেন, যা এসেছে ঠিক ২৯ জন খেলোয়াড়ের পা থেকে।

এই তালিকায় শীর্ষে আছেন ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরি, যিনি করেছেন ৬টি গোল। এরপর রয়েছেন নেদারল্যান্ডসের রব রেনসেনব্রিঙ্ক (৫ গোল)। সমান ৪টি করে গোল করেছেন পোল্যান্ডের কাজিমিয়ের্জ দেনা, পশ্চিম জার্মানির হেলমুট রাহ্ন এবং চেকোস্লোভাকিয়ার জেডেনেক জিকান।

বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা একমাত্র ১২ নম্বর জার্সিধারী খেলোয়াড় হলেন হেলমুট রাহ্ন। ১৯৫৪ সালের ফাইনালে তিনি হাঙ্গেরির বিপক্ষে দুই গোল করেন, যার একটি ছিল জয়সূচক গোল।

১২ নম্বর জার্সিধারীদের অন্যান্য স্মরণীয় গোলগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৪ বিশ্বকাপে পশ্চিম জার্মানির উলফগ্যাং ওভারাথের গোল, ২০০৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরির জয়সূচক গোল এবং ২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের কিয়েরান ট্রিপিয়ারের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক।

ফিফা প্রতিদিনই এভাবে পরিসংখ্যানভিত্তিক গল্প প্রকাশ করে বিশ্বকাপ কাউন্টডাউন চালিয়ে যাচ্ছে।




যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনার দ্বিতীয় দফা আয়োজনে আগ্রহী পাকিস্তান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে প্রথম দফা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে পাকিস্তান। যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে দেশটি। দুইজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয় সম্পর্কে জানা আছে এমন ব্যক্তির বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গ এ খবর দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা বলেছেন যে, প্রস্তাবটি নির্ভর করবে পক্ষগুলো ভিন্ন কোনো স্থানের জন্য অনুরোধ করে কি না তার ওপর।

কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও, প্রথম আলোচনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ছিল না, বরং এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। দ্বিতীয় আলোচনায় একই স্তরের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে কিনা, তা স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ওই কূটনীতিক ও মার্কিন কর্মকর্তারা।

এদিকে, গোপন আলোচনা সম্পর্কে অবগত কর্মকর্তারা ডনকে জানিয়েছেন যে, মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে এবং এই প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাকিস্তান, যাদের সমর্থন দিচ্ছে তুর্কি ও মিশরীয়রা। তারা বলেন, তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হলো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো।

কূটনীতিক ও মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, আয়োজক স্থান হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ নিয়ে আবারও আলোচনা চলছে। তবে, জেনেভাও একটি সম্ভাব্য স্থান হতে পারে। যদিও এর স্থান ও সময় এখনও নির্ধারিত হয়নি, আলোচনাটি বৃহস্পতিবার হতে পারে।