দুধ-মাংস উৎপাদন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম: পছন্দের লোক নিয়োগে কোটি টাকার সিন্ডিকেটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারের প্রাণিসম্পদ খাতের একটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুধ ও মাংস উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া এই প্রকল্পে জনবল নিয়োগের আড়ালে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সবচেয়ে বেশি অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল পরিকল্পিত এবং অর্থ লেনদেননির্ভর।

জানা গেছে, প্রকল্পটিতে সাতটি ভিন্ন পদে মোট ১৩১ জনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা ছিল। এই নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘ধলেশ্বরী সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্লিনিং সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু নিয়োগ শুরুর পর থেকেই ঘুষ, তদবির এবং পছন্দের লোক নিয়োগ নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি পেতে প্রার্থীদের কাছ থেকে পদ অনুযায়ী ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। গড়ে হিসাব করলে প্রায় ৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকারও বেশি লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভাষ্য, এই টাকার একটি অংশ সরাসরি প্রকল্প পরিচালকের কাছে পৌঁছেছে। যদিও মো. শফিকুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নিয়োগ কার্যক্রম পুরোপুরি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি নিয়োগের দায়িত্ব শুধু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকে, তাহলে প্রকল্প পরিচালকের ঘনিষ্ঠ ও পছন্দের অন্তত ১৩ জন কীভাবে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই চাকরি পেলেন?

অভিযোগ রয়েছে, যোগ্য অনেক প্রার্থীকে বাদ দিয়ে বিশেষ একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিজেদের লোকজনকে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকৃত মেধাবীরা বঞ্চিত হয়েছেন। নিয়োগে স্বচ্ছতা না থাকায় পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন ক্ষোভ বাড়ছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুর রহমানের স্বাক্ষরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ‘নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ ও আর্থিক লেনদেন। অভিযোগ আছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুপারিশ ছাড়া অনেকেই চাকরির সুযোগ পাননি।

এদিকে দায়িত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান ‘ধলেশ্বরী সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্লিনিং সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অফিস রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় ছোট পরিসরে পরিচালিত হলেও তাদের বিরুদ্ধে এত বড় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। তার নীরবতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও বলছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এর আগেও অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এমনকি কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই নিয়োগ বাণিজ্যের তথ্য প্রকাশ না করতে সাংবাদিকদের ওপরও চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সুশাসন নিয়ে কাজ করা বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পের নামে যদি এভাবে দুর্নীতি, ঘুষ বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার চলতে থাকে, তাহলে প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যাবে। তারা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।




মাইলস্টোনে বিমান দুর্ঘটনা : ড. ইউনূস-আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে মামলাটির আবেদন করেন নিহত শিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন।

মামলায় অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান ও সাবেক প্রেসসচিব শফিকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট ১৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এতে ৩৬ জন নিহত হন, এর মধ্যে ২৮ জনই শিক্ষার্থী। বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামও নিহত হন।




জুনের মধ্যে ব্যারাকে ফিরে যাবে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজঃ আগামী জুন মাসের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে থাকা সব সেনাসদস্যকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।  মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে।

শুরুতে দূরবর্তী জেলা থেকে সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফেরানো হবে। পরবর্তীকালে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠ পর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কারফিউ জারি করে সেনা নামিয়েছিল তত্কালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের পুরোটা সময় মাঠে ছিলেন তারা।

সূত্র জানায়, আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী ৬ জুন থেকে সেনাসদস্যদের চূড়ান্ত প্রত্যাহার শুরু হবে। প্রথমে দূরবর্তী জেলা থেকে প্রত্যাহার হবে, পরে ধাপে ধাপে বিভাগীয় শহর এবং বড় জেলা থেকে তুলে আনা হবে। জুন মাসের মধ্যে সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে মাঠপর্যায় থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

 ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর মঙ্গলবার কোর কমিটি প্রথম সভায় বসে। গত ২১ এপ্রিল আইনশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় কর্মপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে এই কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টার এই সভায় মাঠ থেকে চূড়ান্তভাবে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সারা দেশের চাঁদাবাজি, পুলিশের পোশাক পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।




রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ জনগণের বিশ্বাস: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশ ও জনগণের কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। তাই দেশ ও জনগণের কল্যাণে নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন।

তিনি বলেন, সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে ধীরে ধীরে বিশ্বাস গড়ে উঠে। এই ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

বুধবার (৬ মে) রাতে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের যেকোনো আইনগত ও মানবিক উদ্যোগে সরকার সহায়তা দেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম। আমি একটি বিষয় গভীরভাবে বিশ্বাস করি- আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। আমাদের দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড যেটি আছে, এর সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যা জনসম্পদে পরিণত হবে। বিশ্বাস রাখুন, এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের এই প্রিয় বাংলাদেশকে।

জনপ্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের প্রশাসকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাই। রাষ্ট্র ও সমাজের ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদেরকে সম্ভাব্য সকল উপায় বের করা প্রয়োজন। আমাদেরকে পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি সবাই একটা ছোট্ট বিষয় মনে রাখি, সেটি হলো- একটি রাষ্ট্রের খুবই ক্ষুদ্র ইউনিট একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো, লক্ষ কোটি পরিবারের সম্মেলনই হলো আমাদের এই রাষ্ট্র। সুতরাং পরিবারগুলো ধর্মীয় সামাজিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত থাকলে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ সুসংহত হয়।

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনে কেন্দ্রে ডিসি সম্মেলন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এই বার্ষিক সম্মেলন হয়। এতে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের পরিবারও অংশ নেয়।

গত ৩ মে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা জেলা প্রশাসকদের দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন এবং জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

এছাড়া ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারগণ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

জেলা প্রশাসক সম্মেলনের সমাপনীতে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে পুনর্মিলনীর এই অনুষ্ঠান হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, তিন বাহিনী প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়। বক্তব্যের পর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের চার দিনের সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই আগামীকাল যার যার কর্মস্থলে ফিরে যাবেন এবং যথারীতি কাজ শুরু করবেন। এই চার দিনের সম্মেলনে আপনারা একদিকে প্রশাসনিক বিষয়গুলো সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পেয়েছেন। অপরদিকে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে হাতে কলমে অবগত হয়েছেন।

তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যে সকল ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছেন। সুতরাং এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়, বরং এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার।

ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা। জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের সাফল্য শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়। আমি বলি, জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাগণ বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকগণ হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর।

বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সকল যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমত পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ যদি সত্যিই রাষ্ট্রের মালিক হয়, তাহলে এই মালিকরা যখন অফিস আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন। সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্বের অংশ বলে আমি মনে করি।

তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের সাথে আন্তরিক ব্যবহার করলে তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে বৃদ্ধি করে। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হন না, বরং একইসাথে রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়। সুতরাং রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে জনগণের আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জনপ্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে সরকার প্রধান বলেন, প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতেই হবে আমাদের। সেই কাজটি আপনাদের ভূমিকার ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে বলা যায়। আমাদের সরকার এমন একটি জনমুখী সরকার, যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়া সম্মানের সাথে দ্রুত সেবা পাবেন। এ বিষয়টি আপনারা নিশ্চিত করতে পারেন।

তিনি বলেন, আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মানবিকতাও আরো বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ যখন আপনাদের অফিসের সামনে কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করাও খুব জরুরি। সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা তাদের কাছে রাষ্ট্র ও সরকারের ব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো আমাদের অনেকের কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু জনমনের প্রভাব অনেক বেশি। ভবিষ্যতে এসব বিষয়ের প্রতি আরো মনোযোগী এবং যত্নবান থাকার জন্য আমি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে সচিবালয়ের অফিস থেকে আগারগাঁও শেরে বাংলা নগরে ‘বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে’ বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন অনুষ্ঠানে গিয়ে যোগ দেন। এ সময় গাড়িতে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।




একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম

ডেস্ক নিউজঃ একদিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম। এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২১৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে, গতকাল সকালে সবশেষ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।

এ ছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩৫ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২৮ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।




মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ছেঁটে গণপূর্তের নতুন স্পেসিফিকেশন, ফের সীমিত হচ্ছে লিফট টেন্ডারের প্রতিযোগিতা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দীর্ঘদিন ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের লিফট ক্রয় ও সরবরাহকে ঘিরে সীমিত প্রতিযোগিতা, অতিমূল্য নির্ধারণ এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছিল সংশ্লিষ্ট মহলে। সরকারি ভবনে ব্যবহৃত লিফট কেনাকাটায় বারবার একই ধরনের কোম্পানির আধিপত্য এবং কঠোর শর্তে দরপত্র সীমাবদ্ধ করার অভিযোগ এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আমলে নিতে বাধ্য হয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার—দরপত্রে অধিকসংখ্যক যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক শর্ত শিথিল করা এবং বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে ঠিক উল্টো। মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশ পাশ কাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর নিজস্বভাবে স্পেসিফিকেশন পরিবর্তন করে এমন কিছু শর্ত আরোপ করেছে, যা আবারও সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

মন্ত্রণালয়ের কমিটি বনাম গণপূর্তের ‘কাটাছেঁড়া’ : নথিপত্রে দেখা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অনুবিভাগ)-কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। কমিটিতে ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক পদমর্যাদার প্রতিনিধি, গণপূর্তের ই/এম সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং ই/এম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। কমিটি বাজার বিশ্লেষণ, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত মানদণ্ড এবং বিদ্যমান ই/এম দর তপশিল পর্যালোচনা করে দেখতে পায়—গণপূর্তের বিদ্যমান শর্ত এতটাই কঠিন ও বাছাইকৃত যে অধিকাংশ কোম্পানি দরপত্রে অংশ নিতে পারে না। এর ফলে সীমিত সংখ্যক প্রতিষ্ঠান উচ্চমূল্যে দরপত্র দাখিল করছে এবং প্রতিযোগিতা কার্যত অনুপস্থিত হয়ে পড়েছে। কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে আসে, কাস্টমস ডিউটি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি কঠোর স্পেসিফিকেশনই লিফটের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

‘৬৫ বছরের অভিজ্ঞতা’—কার স্বার্থে ?

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিদ্যমান তপশিলে ‘এ’ টাইপ লিফটের জন্য ৬৫ বছরের উৎপাদন অভিজ্ঞতা এবং ১০ মিটার/সেকেন্ড গতির উৎপাদন সক্ষমতার শর্ত ছিল। এই ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল কো-নে, মিৎসুবিশি, ওটিআইএস, শিন্ডলার, টিকেই, ফুজিটেক ও হিটাচির মতো কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে।

কিন্তু কমিটি দেখতে পায়, বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত অধিকাংশ আন্তর্জাতিক কোম্পানিরই ৬৫ বছরের অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এই শর্ত বাস্তবে প্রতিযোগিতা সীমিত করছে। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো—গণপূর্তের নিজস্ব তপশিলেই ৪ মিটার/সেকেন্ডের বেশি গতির লিফটের বিস্তারিত কারিগরি বিবরণ নেই, অথচ ১০ মিটার/সেকেন্ড সক্ষমতার শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিএনবিসি-২০২০ অনুযায়ী ভবনে লিফটের সর্বোচ্চ গতি ৫ মিটার/সেকেন্ড উল্লেখ রয়েছে।

এসব বিবেচনায় কমিটি সুপারিশ করে, ৬৫ বছরের পরিবর্তে ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা, ১০ মিটার/সেকেন্ড শর্ত শিথিল, ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী আলাদা লিফট ক্যাটাগরি নির্ধারণ।

ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী নতুন কাঠামো : কমিটি ‘এ১’, ‘এ২’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ টাইপে নতুনভাবে শ্রেণিবিন্যাসের সুপারিশ করে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী:

৫–২০ মিটার ভবন: বাংলাদেশে তৈরি বা সংযোজিত লিফট গ্রহণযোগ্য, ২০–৩০ মিটার ভবন: যে কোনো দেশের উৎপাদিত লিফট ৩০–১০০ মিটার ভবন: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান বা ইউরোপীয় ইউনিয়নের লিফট।

১০০ মিটারের বেশি ভবন: উচ্চগতির আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন লিফট। কমিটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে—কারিগরি শর্ত এমন হওয়া যাবে না, যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ে গেল ভিন্ন প্রস্তাব : অভিযোগ উঠেছে, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ গণপূর্ত অধিদপ্তর “কাটাছেঁড়া” করে নিজেদের মতো করে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। আর সেখানেই শুরু হয় বিতর্ক। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত নথিতে দেখা যায়:

দেশ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, নির্দিষ্ট সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, টেস্টিং টাওয়ার, আরঅ্যান্ডডি সেন্টার, নিজস্ব কন্ট্রোলার-পিসিবি উৎপাদনের মতো শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

বিশেষ করে ‘বি১’ টাইপ লিফটের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে:

প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব টেস্টিং টাওয়ার থাকতে হবে, নিজস্ব আরঅ্যান্ডডি ইউনিট থাকতে হবে, নিজস্ব কারখানায় কন্ট্রোলার, ইনভার্টার, মাদারবোর্ড, পিসিবি উৎপাদন করতে হবে, আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট থাকতে হবে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এই ধরনের শর্ত বাস্তবে বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই পূরণ করা সম্ভব।

“সিন্ডিকেট ভাঙতে গিয়ে সিন্ডিকেটই আরও শক্তিশালী ?”

গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, বহু বছর ধরে লিফট সরবরাহে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্তের কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও নির্দিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগসাজশ রয়েছে।

এর আগে ওয়ালটন কোম্পানির অর্থায়নে গণপূর্তের চারজন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং একজন প্রকৌশলীর স্ত্রীসহ বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগও উঠেছিল। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সে সময় তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারের প্রত্যক্ষ মদদের অভিযোগও ওঠে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন স্পেসিফিকেশনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বাজারে দেশীয়ভাবে লিফট উৎপাদন ও সংযোজনকারী বহু প্রতিষ্ঠান থাকলেও এমন শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা পূরণ করতে পারবে কেবল দু-একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বা তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা। ফলে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তারা কার্যত প্রতিযোগিতা থেকেই ছিটকে পড়ছেন।

“উচ্চতা অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন মানা হয়নি” :

কমিটির অন্যতম সদস্য এবং বুয়েটের অধ্যাপক ড. শরীফ মোহাম্মদ মমিনুজ্জামান বলেন,
“বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব পণ্য আনা হয় তার কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে হবে। একই ধরনের পণ্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই জায়গাতেই হয়। তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা জরুরি। উচ্চতা অনুযায়ী স্পেসিফিকেশন হওয়া উচিত।”

তবে সুপারিশ পরিবর্তন করে নতুন স্পেসিফিকেশন তৈরির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন,
“মন্ত্রণালয় থেকে কোনো বিষয়ে কাগজ এলে তাতে যা উল্লেখ থাকে, তার বাইরে কিছু করা হয় না। কিছু বিষয় কৌশল হিসেবে নেওয়া হয়।”

প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা :

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ক্রয়ে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা জরুরি হলেও এমন শর্ত আরোপ করা উচিত নয়, যা প্রতিযোগিতাকে বাধাগ্রস্ত করে। কারণ প্রতিযোগিতা কমে গেলে দরপত্রের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, নতুন উদ্যোক্তারা বাজার থেকে ছিটকে পড়ে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়, এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি।

এখন বড় প্রশ্ন হলো— গণপূর্ত অধিদপ্তরের লিফট ক্রয়ের নতুন তপশিল কি সত্যিই “গুণগত মান নিশ্চিতের কৌশল”, নাকি এটি আবারও পুরনো সিন্ডিকেটকে রক্ষা করার নতুন ছক?




সম্পদের পাহাড়, টেন্ডার সিন্ডিকেট ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্তের মোহাম্মদ বদরুল আলম খান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর, যা দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে রয়েছে, সেই প্রতিষ্ঠানটিকেই ঘিরে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খান। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে, যা নিয়ে দপ্তরের ভেতরে-বাইরে আলোচনা বাড়ছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা একটি অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বদরুল আলম খান তার সরকারি আয়ের তুলনায় অনেক বেশি সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামার, এমনকি ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ রয়েছে তার বা তার পরিবারের নামে। তবে এসব সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। যদিও এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

দপ্তরের কিছু সূত্রের দাবি, তার নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও ঢাকার কিছু ঠিকাদার একসঙ্গে কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার বারবার কাজ পাচ্ছেন।

আরও বলা হচ্ছে, বিভিন্ন প্রকল্পে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে ফোনের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়। মিরপুর ও ভাষানটেকের মতো এলাকায় চলমান কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে এমন অভিযোগ ঘুরছে দপ্তরের ভেতরে। যদিও এসব বিষয় নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ হয়নি।

রাজনৈতিক প্রভাব নিয়েও কথা উঠেছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ বলছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালেও বদরুল আলম খানের অবস্থান অপরিবর্তিত থেকেছে। তবে এই দাবিরও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি।

এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের নামে ডেভেলপার ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে, যা প্রমাণিত হলে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে জনপ্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও শোনা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

আরও কিছু গুরুতর অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করা, ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে প্রভাব খাটানো এবং টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসের মতো বিষয়। তবে এসব অভিযোগেরও এখনো কোনো নিরপেক্ষ যাচাই হয়নি।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ বদরুল আলম খান সব অভিযোগই সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি সততার সঙ্গে কাজ করছেন এবং একটি মহল ইচ্ছাকৃতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর কি এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবে, নাকি এই বিতর্ক আরও দীর্ঘায়িত হবে—এটাই এখন দেখার বিষয়।




সরকার জনমুখী প্রশাসন চায়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রশাসনকে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য একটি জনমুখী প্রশাসন গড়ে তোলা, যেখানে সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে গিয়ে সম্মানের সঙ্গে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবে।

বুধবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’র বার্ষিক সম্মিলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। এময় তিনি জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্ভয়ে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা (ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার) নির্ভয় নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যেকোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এ বিশ্বাস কিন্তু ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এ ব্যাপারেও আপনারা যত্নবান থাকবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা, বিশেষ করে বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকরা হচ্ছেন মাঠ পর্যায়ে সরকারের প্রশাসনিক অ্যাম্বাসেডর।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আমরা দলীয়ভাবে যেসব ইশতেহার প্রণয়ন করেছিলাম, সেই ইশতেহারের পক্ষে দেশের জনগণ সমর্থন জানিয়েছে। সুতরাং, এটি এখন আর বিএনপির দলীয় ইশতেহার নয়। এটি এখন দেশের জনগণের ইশতেহার। এটি এখন জনগণের জন্য সরকারের ইশতেহার। সুতরাং, এখন ইশতেহার বাস্তবায়নের পালা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনস্বার্থে নেওয়া সরকারের কাজগুলো বাস্তবায়নের প্রধান দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। সুতরাং, সরকারের কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনপ্রশাসনের সাফল্য, শেষ পর্যন্ত সরকারের সাফল্য হয়ে দাঁড়ায়।’

জনগণের প্রত্যাশা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের ওপর জনগণের প্রত্যাশা অনেক। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের সব যৌক্তিক প্রত্যাশা সাধ্যমতো পূরণ করতে বদ্ধপরিকর। এটি জনগণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।’

সরকারি সেবার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন,‘আমরা কথায় কথায় বলি, জনগণ রাষ্ট্রের মালিক। জনগণ যদি মালিক হয় তাহলে এই মালিক অর্থাৎ সেবাগ্রহীতারা যখন অফিস আদালতে তাদের সমস্যা নিয়ে যান, তারা যেন আপনাদের সেবায় কিছুটা হলেও রাষ্ট্রের মালিকানা অনুভব করতে পারেন- সেটি নিশ্চিত করা আপনাদের দায়িত্ব।’

একজন সাধারণ নাগরিকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন,‘ধরা যাক একজন সাধারণ নাগরিক কিংবা একজন দিনমজুর, তিনি যখন জন্মনিবন্ধন সনদ সংশোধন করার জন্য আপনাদের অফিসে যান, তিনি হয়তো জানেন না কোন টেবিলে যেতে হবে, কোন কর্মকর্তাকে কী বলতে হবে।’

তিনি বলেন,‘এমন পরিস্থিতিতে সেবাগ্রহীতা যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আন্তরিক ব্যবহার পান তাহলে এটি রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাস বাড়ায়। আর যদি হয়রানির শিকার হন, তাহলে তিনি শুধু একটি সেবা থেকেই বঞ্চিত হলেন না। বরং, রাষ্ট্র এবং সরকারের প্রতি তার শ্রদ্ধা এবং বিশ্বাস নষ্ট হয়।’

তিনি আরও বলেন,‘রাষ্ট্র এবং সরকারের সঙ্গে জনগণের জন-আস্থা তৈরির ক্ষেত্রে আপনাদের কার্যক্রম মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে হয়তো সবার সবকিছু সমাধান করে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু ভুক্তভোগীর মনে অন্তত এই ধারণা জন্মানো জরুরি যে, আপনি কিংবা আপনার অফিস তার সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে আন্তরিক।’

প্রশাসনকে জনমুখী করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন,‘প্রশাসনকে জনমুখী করে গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সরকার এমন একটি জনমুখী প্রশাসন চায় যেখানে সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ সম্মানের সঙ্গে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাবে। এ বিষয়টি আপনাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, মানবিকতা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ।’

বয়স্ক ও অসুস্থ নাগরিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন বৃদ্ধ কিংবা অসুস্থ মানুষ আপনাদের অফিসে আসেন কিংবা সেবার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন, তখন তাদের বিষয়গুলো আইনগত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি তাদের প্রতি মানবিক আচরণও জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেবাগ্রহীতার প্রতি আপনাদের আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল ব্যবহার, তাদের প্রতি রাষ্ট্র এবং সরকারব্যবস্থা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণার জন্ম দেয়। হয়তো এই বিষয়গুলো ছোট, কিন্তু জনমনে এর প্রভাব অনেক বেশি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণের বিশ্বাস। সরকার এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনমনে এই বিশ্বাস গড়ে উঠে। আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রশাসন শুধু আইন প্রয়োগের যন্ত্র নয়, এটি মানুষের সেবার একটি মাধ্যম।’

দেশের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সমস্যা অসংখ্য, তবে সম্ভাবনাও কম নয়। আমাদের দেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্টের সুযোগ নিয়ে আমরা যদি তরুণ এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পারি, তাহলে এই জনসংখ্যাই হবে আমাদের জনসম্পদ। এরাই বদলে দিতে পারবে আমাদের বাংলাদেশ।’

ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘যথাসম্ভব মানুষের উপকার করার মানসিকতা থাকতে হবে। রাষ্ট্র এবং সমাজের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে জাগিয়ে রাখতে আমাদেরকে সম্ভাব্য সব উপায় বের করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হতে হবে। একটি রাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ইউনিট একটি পরিবার। একইভাবে অনেকগুলো পরিবারের সম্মিলনই হলো আমাদের রাষ্ট্র।’

সবশেষে তিনি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশ এবং জনগণের কল্যাণে আপনারা নির্ভয়ে নিরপেক্ষভাবে কাজ করুন। সরকার আপনাদের যে কোনো আইনগত এবং মানবিক উদ্যোগে সক্রিয় সহায়তা দেবে।’




সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ৪৯ জন প্রার্থী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

বিকেলে নির্বাচন ভবনে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এই ৪৯ জন প্রার্থীর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করা হবে। বুধবার ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (প্রত্যাহারের সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা) কোনো প্রার্থীই তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় তারা এখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

মঈন উদ্দীন খান আরও জানান, চূড়ান্ত তালিকায় থাকা ৪৯ জনের মধ্যে বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী রয়েছেন ৩৬ জন। এছাড়া জামায়াত-এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র থেকে একজন প্রার্থী বৈধ হিসেবে গেজেটভুক্ত হচ্ছেন। একটি আসনের প্রার্থীর বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকায় আপাতত সেটির ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। ওই একটি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আপাতত ৫০টি আসনের মধ্যে এই ৪৯ জনের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের মূল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে যাচ্ছে কমিশন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারিভাবে নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যদের নাম, ঠিকানাসহ গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবালয়। এরপর শপথ আয়োজনের জন্য সংসদ সচিবালয়ে গেজেট পাঠানো হবে।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যরা সাধারণত সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক আসনসংখ্যার ভিত্তিতে মনোনীত হয়ে নির্বাচিত হন।




বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়াল সরকার

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ববাজারের পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে ভোজ্যতেলের মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছন, বোতলজাত ভোজ্যতেলের দাম প্রতি লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ভোজ্যতেলের মূল্য পর্যালোচনা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম প্রতি লিটার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১ হাজার ৪০ টাকা ও প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।