নববর্ষ উদযাপনে দেশব্যাপী সরকারের নানা কর্মসূচি গ্রহণ

ডেস্ক নিউজঃ বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষ্যে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের বাণী সম্বলিত বাংলা নববর্ষের বিশেষ ক্রোড়পত্র বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করা হবে।

আগামী ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখের দিন সকালে রমনা বটমূলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করবে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ও ছায়ানট। বাংলা নববর্ষের অনুষ্ঠান আবশ্যিকভাবে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গান পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ প্রতি বছরের ন্যায় পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’র আয়োজন করবে। শোভাযাত্রায় এ বছরের প্রতিবাদ্য ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। অনুষ্ঠানগুলো সব সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন, রেডিও, বাণিজ্যিক রেডিও ও কমিউনিটি রেডিওতে সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন কর্তৃক বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১৪ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী নববর্ষের মেলা, আলোচনা সভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হবে।

সেইসঙ্গে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রতিষ্ঠানটির প্রাঙ্গণে ২০ এপ্রিল থেকে ১৪ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা আয়োজন করা হবে।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে সব কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবারে ঐতিহ্যবাহী খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা ও শিশু পরিবারের শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

সব জাদুঘর ও প্রত্নস্থান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। শিশু-কিশোর, ছাত্রছাত্রী প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ থাকবে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় পহেলা বৈশাখে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

জেলা শহর ও সব উপজেলায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

এছাড়া, উপজেলা প্রশাসন প্রতিটি ইউনিয়নে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ আয়োজনসহ বাংলা নববর্ষ উদযাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করবে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট অথবা কেন্দ্র বা অ্যাকাডেমিগুলো তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।

বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে অভিজাত হোটেল ও ক্লাবগুলোতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন ও ঐতিহ্যবাহী খাবার পরিবেশন করা হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্ক সংলগ্ন সুবিধাজনক স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসা সেবাকেন্দ্র, প্রয়োজনীয় সংখ্যক টয়লেট স্থাপন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করবে।

জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানসহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।




সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বসুন্ধরায় ‘আপন হেলথ কেয়ার লিঃ’ এর শুভ উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : “স্বাস্থ্য সচেতন হোন- আপনার সুস্বাস্থ্যই আমাদের লক্ষ্য”এই স্লোগানকে ধারণ করে *APON HEALTHCARE LTD*, রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় এ-ব্লকের প্রাইম লোকেশনে যাত্রা শুরু করলো বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবার আধুনিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড”।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান। এ সময় তিনি আপন হেলথ কেয়ারের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। দেশের স্বনামধন্য চিকিৎসক, খ্যাতনামা ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ জহির রায়হান বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) এমডি আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান ও স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কে নিয়ে ‘আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রতিষ্ঠানটির বিস্তারিত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেডের উপদেষ্টা এম এম মাসুমুজ্জামান। আপন হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বলেন-

“মানব সেবা এবং সঠিক নির্ভুল রোগ নির্ণয় তথা স্বাস্থ্য সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে আজ আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড এর যাত্রা শুরু করতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া আদায় করছি। আমার উদ্দেশ্য ব্যবসা নয়। সঠিক রোগ নির্ণয় তথা সুচিকিৎসার ব্যবস্থাসহ সর্ব সাধারণের জন্য সহজ ও নিরাপদ এবং হাতের নাগালে যেন সকল চিকিৎসা সেবা পায় সেই ব্যাবস্থা করা।”

প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা মাসুমুজ্জান বলেন,

“এখানে স্বল্প মূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হবে ইনশাল্লাহ। দেশের স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সম্পৃক্ততায় থাকছে চিকিৎসা ব্যবস্থা পত্র। আমাদের আধুনিক ল্যাবে দুই-লেয়ার মেশিন থাকছে। এতে করে আমরা সঠিক টেস্ট রেজাল্ট নির্ধারণ করতে পারবো। আমাদের এই সেন্টারে দেশের বাইরে যেভাবে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয় তাই আমরা সুনিশ্চিত করতে চাচ্ছি। যাতে করে রোগীদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমে আসে। এবং আপনাদেরকে আমরা আরো আশ্বস্ত করছি যে,খুব শিগগিরই আমাদের নতুন ইউনিট চালু হবে ইনশাল্লাহ। সেখানে থাকবে ডেন্টাল, আই এস্হেটিক ও ফিজিওথেরাপি ইউনিট। ডে-কেয়ার কেমোথেরাপি সেন্টার এবং ডে-কেয়ার ডায়ালাইসিস সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আপনারা জেনে আরো খুশি হবেন যে  আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করতে যাচ্ছি এবং বিনামূল্যে হোম স্যাম্পল কালেকশনের সুযোগ থাকবে।”

এমএম মাসুদুজ্জামান আরো বলেন,

“সবার দোয়া ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ‘আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর চিকিৎসা সেবার পরিধি আরো সম্প্রসারণ করা হবে। ২৪ ঘন্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য স্পেশাল আলাদা সেবা নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের বিশেষ কিছু পরিকল্পনার মধ্যে ডে-কেয়ার ডায়ালাইসিস সেন্টার এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ফ্রি-ফ্রাইডে ক্লিনিকের মাধ্যমে গরিব মানুষের চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করবো ইনশাল্লাহ।”

ছবি ক্যাপশন : আপন হেলথ কেয়ার লিমিটেড’ এর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের (টিবিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ ইব্রাহিম সোবহান।




যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তির পথে ‘সবচেয়ে বড় বাধা’ ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় বড় কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা না থাকলেও কিছু ইতিবাচক দিক সামনে এসেছে, যা ভবিষ্যতের জন্য আশার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ডনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আলোচনার শুরু হওয়াটাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। উভয় পক্ষ ইতোমধ্যে লিখিত খসড়া বিনিময় করেছে, যা কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।

খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা কমাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ মুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালির মতো জটিল ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত থাকায় চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। এই দীর্ঘ সংকট স্বল্প সময়ে সমাধান সম্ভব নয় এবং পারস্পরিক আস্থা তৈরিতে সময় লাগবে।

বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারিতে আলোচনার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে—এমন ধারণা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করেছে।

তবে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গভীর মতপার্থক্য থাকলেও একটি প্রাথমিক চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের আলোচনা বন্ধ রাখা এবং ইরানের জনগণের ওপর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থনের মতো ইস্যুগুলো সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মধ্যেই সমাধান হওয়া উচিত বলেও মত দেওয়া হয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যুতেও সমাধানের সম্ভাবনা রয়েছে। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র যদি সম্মানজনক অবস্থান নেয়, তবে ইরানের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া আসতে পারে।

তবে সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান সম্পর্কের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা ইসরায়েল এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরে তাদের প্রভাবশালী লবি। এই প্রভাব কমানো না গেলে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া কঠিন হবে।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, আলোচনা চললেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান থামবে না।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বড় প্রশ্ন—তারা কি ইসরায়েলের প্রভাবিত পথে এগোবে, নাকি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করবে।

বিশ্লেষণে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রথম পথটি অঞ্চলকে আরও একটি বড় সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে। তবে ইতোমধ্যে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে।




সপরিবার মঞ্চনাটক দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে মঞ্চনাটক দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার দিকে মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে তাঁরা শিশুতোষ নাটক কবি চিতাবাঘ উপভোগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

মহিলা সমিতিতে অবস্থানকালে আতিকুর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রী এখানে এসেছেন। এখন তাঁরা নাটক দেখছেন।’

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নাটক দেখতে এসেছেন—এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মিলনায়তনে থাকা শিশু দর্শক ও অভিভাবকদের মধ্যে ভিন্ন অনুভূতির সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেন অতিরিক্ত প্রেস সচিব।

এর আগে ৩ এপ্রিল মেয়ে জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় সীমান্ত সম্ভার সিনেমা হলে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেদিন সন্ধ্যায় প্রজেক্ট হেইল মেরি সিনেমা দেখেন তাঁরা।

এবার বেইলি রোডে মহিলা সমিতির মিলনায়তনে হঠাৎ সরকারপ্রধানের আগমনে শিশুশিল্পীসহ দর্শকদের হকচকিত হতে দেখা যায়। কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দেখে অনেককে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন পুরো মিলনায়তনের দর্শকেরা তুমুল করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘বিনোদনের জন্য নাটক দেখতে নয়, মূলত প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শিশুশিল্পীদের উৎসাহ দিতেই এখানে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী পরে শিশুশিল্পীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেন।’




টানা ৫ দিন বৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়া পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। 

শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা বা পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এ অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সে. বাড়তে পারে।

রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময় সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ও রাতের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সে. বাড়তে পারে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত ৫ (পাঁচ) দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বাড়তে পারে।




ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা দেওয়া হবে আজ

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ মোট চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় আজ থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

ঢাকা ছাড়াও ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মূলত ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের এই মরণঘাতী রোগ থেকে সুরক্ষা দিতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী এই কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অভিভাবকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বর্তমান হাম পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্বাস্থ্য সচিব বিগত প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচিতে কিছু ত্রুটি বা ভুলের কারণে দেশে বর্তমানে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর মতে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সঠিকভাবে চলমান থাকলে আজ এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

উল্লেখ্য, গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশে হাম প্রতিরোধে বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে এবং ওই দিন থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এমআর টিকা প্রয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি হামের প্রকোপ বাড়ার খবর পাওয়া গেছে এবং অনেক শিশুকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বড় শহরগুলোতে যাতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের এই বিশেষ এমআর ক্যাম্পেইন একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলক অনলাইন ক্লাস শুরু

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে আজ থেকে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। 

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় অনলাইন ক্লাস।

শিক্ষকরা কলেজের নিজ নিজ ক্লাসরুমে এসেই ভার্চুয়ালি ক্লাস করান শিক্ষার্থীদের। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বাসায় বসে অংশ নেন এই ভার্চুয়াল ক্লাস।

শিক্ষকরা জানান, বৈসাবির ছুটি থাকায় পরীক্ষামূলকভাবে কলেজ শাখায় ক্লাস শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে স্কুলেও এই কার্যক্রম শুরু করা হবে। এছাড়াও সপ্তাহে তিনদিন রোব, মঙ্গল, বৃহস্পতি অনলাইন এবং শনি, সোম, বুধ অফলাইন ক্লাস নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের মহনগরের স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মতামত নিতে অংশীজনদের সঙ্গে গত ৮ এপ্রিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরদিন ৯ এপ্রিল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, রাজধানীর কয়েকটি স্কুলকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় এনে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আগামী শনিবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ডিজিটাল অ্যাডুকেশনের দিকে মোটিভেটেড করাই এটার লক্ষ্য। এটি সফল হলে ধীরে ধীরে সারা দেশে কার্যকর করা যেতে পারে।

তিনি আরও জানান, শনিবার স্কুলে এসে ক্লাস হবে। রোববার অনলাইনে, সোমবার অফলাইনে, মঙ্গলবার অনলাইনে, বুধবার অফলাইনে এবং বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস হবে। তিন দিন অনলাইনে ও তিন দিন অফলাইনে হবে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গিয়েই অনলাইনে ক্লাস শুরু করবেন।




ভেষজের আড়ালে কেমিক্যাল? আরগন ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ- ২য় পর্ব

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম পরিচালনাকারী আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ডেমরাভিত্তিক বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক—এই দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখন আর বিচ্ছিন্ন অনিয়মের পর্যায়ে নেই; বরং তা রূপ নিয়েছে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক গভীর, সুপরিকল্পিত হুমকিতে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভেষজ বা আয়ুর্বেদিক পরিচয়ের আড়ালে এসব প্রতিষ্ঠানে তৈরি হচ্ছে এমন সব পণ্য, যেগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক উপাদান—যার ফলাফল ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ভেষজের নামে রাসায়নিক বিষ-কি আছে এসব ওষুধে ?

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, যৌনশক্তিবর্ধক সিরাপ ও ক্যাপসুলে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে— সিলডেনাফিল সাইট্রেট (যা সাধারণত প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ) ট্রাডালাফিল সাইট্রেট, ক্যাফেইন (অতিরিক্ত মাত্রায়), এছাড়া তথাকথিত “ভিটামিন” বা “স্বাস্থ্যবর্ধক” ওষুধে পাওয়া যাচ্ছে—গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ব্যবহৃত নিষিদ্ধ কেমিক্যাল সিপ্রোহেপ্টাডিন (Cyproheptadine) শক্তিশালী স্টেরয়েড গ্রুপের ডেক্সামেথাসন এবং মাত্রাতিরিক্ত সিএমসি (Carboxymethyl Cellulose), এইসব উপাদান দীর্ঘদিন সেবনের ফলে মানবদেহে ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে- লিভার বিকল কিডনি নষ্ট, হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি, হরমোনাল ভারসাম্য নষ্ট
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, “এগুলো কার্যত ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার মতোই অপরাধ।”

IMG 20260409 150203.jpg

আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস: লাইসেন্স এক জায়গায়, অপারেশন আরেক জায়গায় : আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ময়মনসিংহের ঠিকানায় লাইসেন্স নিলেও তাদের কার্যক্রম মূলত ঢাকাকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। লাইসেন্সে ‘ল্যাবরেটরি’ উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তারা বাজারে বিভিন্ন নামে পণ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া তারা অনলাইনেও এই ওষুধের প্রচার প্রসার এবং ওষুধ বিক্রয় করছে। যেটার অনুমোদন তাদের নেই।

অভিযোগ রয়েছে—“ডায়কেয়ার, ‘নাইটেক্স, ‘রিস্টোর সহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে ডায়াবেটিস নিরাময়” বা “ইনসুলিন স্বাভাবিক হবে – এমন বিভ্রান্তিকর দাবি করা হচ্ছে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছাড়াই রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, *ডায়াবেটিস নিরাময়ের মতো দাবি করা অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং প্রমাণ ছাড়া এটি সরাসরি প্রতারণার শামিল।”

WhatsApp Image 2026 04 11 at 2.23.16 PM

ডেসটিনি মডেলের পুনরাবৃত্তি? কমিশনভিত্তিক প্রতারণা নেটওয়ার্ক : ভুক্তভোগীদের অভিযোগ— একটি শক্তিশালী মার্কেটিং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সারাদেশে কমিশনভিত্তিক বিক্রয় চালানো হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্কে— সাধারণ মানুষকে “ব্যবসা” করার লোভ দেখানো হচ্ছে, রোগ নিরাময়ের গল্প ছড়িয়ে পণ্য বিক্রি বাড়ানো হচ্ছে, কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনেকে এটিকে অতীতের বহুল আলোচিত মাল্টিলেভেল মার্কেটিং প্রতারণার নতুন সংস্করণ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।

বিদেশে বসে ‘ব্যবসা’, দেশে মৃত্যুর মিছিল ? অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু বক্কর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারসহ অবস্থান করে বাংলাদেশে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য—“দেশের সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হচ্ছে।” এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগও উঠেছে, যা এই চক্রকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

element

হুমকি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
এই অনুসন্ধানের সময় ইকরামুল ওরফে সোহেল নামে এক ব্যক্তি এই পত্রিকার সাংবাদিককে হুমকি ধুমকি দিয়ে বলে— “আমরা অনলাইনে ব্যবসা করি আর কেমিক্যাল দিয়ে মাল তৈরি করি, কিন্তু আপনার কী? ঔষধ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, আপনারা লিখে কিছুই করতে পারবেন না।”

পরবর্তীতে প্রশ্ন শুরু করলে সে প্রশ্নের উত্তর দিতে না পেরে ফোন কেটে দেয়।

পরবর্তীতে আমরা যাচাই-বাছাই করে জানতে পারলাম, সে আরগন ফার্মাসিটিক্যালের মালিক আবু বক্করের আপন ছোট ভাই।
আরো জানা যায়, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুয়া নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন লোককে ফোন দিয়ে থাকে এবং অনেকের সঙ্গেই সে খারাপ আচরণ করে।

photo collage.png (38)

ডেমরার বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল: দেয়ালঘেরা ‘রহস্য কারখানা’ : ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় অবস্থিত বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কারখানাকে ঘিরে অভিযোগ আরও ভয়াবহ।

স্থানীয়দের দাবি— তিনতলা ভবনটি চারদিকে দেয়ালঘেরা গেট প্রায় সবসময় বন্ধ থাকে সাংবাদিক বা বাইরের কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

সাবেক কর্মচারীদের ভাষ্য—এখানে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ক্যাপসুল তৈরি হয়, অভিযান বা সাংবাদিক আসার খবর পেলেই গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, ভয়ের কারণে অনেক কর্মী চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন, তবে মালিক শাখাওয়াত হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “সবকিছু নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়।”

photo collage.png (36)

মৃত মানুষের ওপর দাঁড়িয়ে কোটি টাকার সাম্রাজ্য : সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগ— এইসব পণ্য সেবনের ফলে অসংখ্য মানুষ ধীরে ধীরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কেউ লিভার নষ্ট হয়ে, কেউ কিডনি বিকল হয়ে, কেউ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে জীবন হারাচ্ছেন—আর সেই মৃত মানুষের ওপর দাঁড়িয়েই গড়ে উঠছে কোটি টাকার অবৈধ সাম্রাজ্য। অভিযোগ রয়েছে, এই লুটপাটের ভাগ পাচ্ছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলও।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে— “বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে-এতদিন কেন এসব কার্যক্রম চলতে পারলো? কারা দিচ্ছে এই অবৈধ সুরক্ষা?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা : বিশেষজ্ঞদের মতে—
অনুমোদনবিহীন বা অজানা উৎসের ওষুধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে “ভেষজ” বা “প্রাকৃতিক” নাম দেখেই বিশ্বাস করা যাবে না চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ গ্রহণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

শেষ কথা: নীরব হত্যাযজ্ঞ থামাবে কে? আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালসকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ শুধু দুটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়—এটি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর এক গভীর আঘাত।

যদি দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়— তাহলে এই ভেষজের আড়ালে বিষের ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। এখন দেখার-কর্তৃপক্ষ জাগবে, নাকি এই নীরব মৃত্যুর মিছিল চলতেই থাকবে?




লোন একাউন্ট বাইপাসে কোটি টাকার চেক নগদায়ন: হাতিয়া মসজিদ প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ লোন একাউন্ট বাইপাস করে চেক নগদায়ন: ব্যাংক ধ্বংসের পেছনে এখনো লেগে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রেতাত্মারা বিগত সরকারের আমলে শেখ হাসিনার সহযোগীরা দেশের ব্যাংকিং সেক্টর কার্যত ধ্বংস করে গিয়েছিল। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছানের মতো তার প্রেতাত্মারা এখনো রয়ে গেছে। তারা এখনো দেশের ব্যাংকিং সেক্টর স্থিতিশীল হতে দিতে চায়না।

পূবালী ব্যাংকের একটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, গত ০৭/১২/২০২০ তারিখে হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV) এর সঙ্গে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের ১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার ওসমান গণি পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখায় ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ঋণ আবেদন করেন। সরকারি প্রকল্পে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অন্যতম শর্ত হচ্ছে কাজের বিপরীতে বিল পরিশোধের অর্থ সরাসরি ব্যাংকের নির্ধারিত লোন একাউন্টে আসবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর চিঠির মাধ্যমে নিশ্চয়তা দেয় এবং চেকের গায়েই নির্দিষ্ট ব্যাংক-একাউন্ট নম্বর, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম লিখে দেওয়া হয় যাতে অই চেক অন্য কোনো একাউন্টে নগদায়ন করা না যায়। এ ক্ষেত্রেও ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের বিপরীতে ইস্যুকৃত সকল চেক তিনি পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখার অধীন KE-OG-DESH (JV) হিসাব নম্বর ০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭ এর বরাবর ইস্যু করবেন। শুধুমাত্র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান এর এই নিশ্চয়তার ভিত্তিতেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মোঃ ওসমান গনির KE-OG-DESH (JV) প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৭,৪৬৪,৫১৮.১৪ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ৩.০০ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুর করেন।

কামরুল হাছান গত ২৬/০৯/২০২৪ ইং তারিখে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে ৩য় বারের মতো একপ্রকার জোর করে পদায়ন নিয়েই শুরু করেন অনিয়ম ও দূর্নীতি। দায়িত্ব নেয়ার নিয়েই কামরুল ঠিকাদার ওসমান গনির ঋণ একাউন্ট বাইপাস করে চেক ইস্যু করা শুরু করেন। একে একে ৪ মাসে তিনি ৬ টি চেক ইস্যু করেন। যার চেক নং স-৯৬২০৮০২, স-৯৬২০৮৬৭, স-৯৬২০৮৮৪, স-৯৬২২৬২৩, স-৯৬২২৬২৪, স-৯৬২২৬৪২ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ৬৫৩১৭২৬.০০, ৮১০২৫০০.০০, ৩৮২২৩৬.০০, ১২১৫৩৭৫০.০০, ৩৬৪৬১২৫.০০, ৯৯৪৬০৭.০০ অর্থাৎ ৬টি চেকের মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষ টাকার চেক ইস্যু করেন যার প্রতিটিই ছিলো ব্যাংকের লোন একাউন্ট বাইপাস করে। বিনিময়ে কামরুল হাছান নিয়েছেন বিপুল অর্থ।

কাজ শেষ না হতেই সুরক্ষা জামানত অবমুক্ত
ঠিকাদারের করা কাজের বিপরীতে প্রদেয় বিলে ৫/১০% সুরক্ষা জামানত সরকারি কোষাগারে জমা রাখার নিয়ম। এ টাকা ঠিকাদার কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার এক বছর পরে প্রদান করতে হয়। এখানে ঠিকাদারের এখনো কাজের ৫০% ই শেষ হয়নি অথচ বিলের বিপরীতে রক্ষিত সম্পূর্ণ জামানত অবমুক্ত করেছেন, বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব কামরুল হাছান হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল অর্থ। জামানত বাবদ রক্ষিত ছিলো ৫১ লক্ষ টাকা এর মধ্যে তিনি তিনটি চেক এর মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকাই দিয়ে দিয়েছেন। চেক নং স-৯৬২০৮০৯ , স-৯৬২২৬৭৭, স-২৪৫৬২০১ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ২০ লক্ষ ও ৫ লক্ষ অর্থাৎ ৫০ লক্ষ টাকার জামানত এর অর্থের চেক তিনি প্রদান করেন লোন একাউন্ট বাদ দিয়ে। জানা গেছে লোন একাউন্ট বাইপাস করে চেক প্রদান করার জন্য কামরুল হাছান ঠিকাদারের থেকে নিয়েছেন ৪২ লক্ষ টাকা।

ব্যাংকের একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে এ কাজের বিপরীতে কামরুল হাছান এর ইস্যুকৃত ৯টি চেক “জালিয়াতির মাধ্যমে” ভিন্ন একাউন্টে নগদায়ন করার ফলে ঠিকাদারের নিকট পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১,৯৫,৭৫,৯১১.৬৫ টাকা এবং সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ অনিয়ম ব্যাংককে আরও একটি খেলাপি ঋণের কবলে ফেলেছে।ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মতে শেখ হাসিনার আমলে সরাসরি তার তত্ত্বাবধানে ব্যাংকিং সেক্টরে লুটপাট চালিয়ে দেশের অর্থনীতি পংগু করা হয়েছে কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর এখনো যদি কামরুল হাছানের মতো লোকজনের শাস্তি না হয় তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।

“দেশ সংস্কারের এই সময়েও যদি কামরুল হাছানদের মতো লুটেরাদের কঠোর শাস্তি না হয়, তবে ব্যাংকিং সেক্টরের ধ্বংস ঠেকানো অসম্ভব।” — সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা।

কাজ ছাড়াই বিল
এই কাজের বিপরীতে গত ০৯-১০-২০২৪ হতে ১৬-০৩-২০২৫ তারিখ পর্যন্ত প্রদানকৃত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজই হয়নি। অর্থাৎ কাজ ছাড়াই বিল দিয়েছেন। ঠিকাদার ওসমান গণি এর একজন ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কামরুল স্যার যখন তিন কোটি টাকার চেক দিয়েছিলেন সেসময় সেই ৩ কোটি টাকার কোনো কাজ মাঠ পর্যায়ে ছিলোনা। গত প্রায় বছরখানেক ধরে এডভান্স বিলের মধ্যে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ করা হলেও এখনো তার ২ কোটি টাকার কাজ হয়নি। আর মাঠ পর্যায়ের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ সহকারী প্রকৌশলীদের থেকে জোর করে ও ভয় ভীতি দেখিয়ে কিছু বিলে স্বাক্ষর নেয়া হলেও এখনো কিছু বিল স্বাক্ষর বিহীন রয়েছে।

নিম্নমানের কাঠ বাশের সেন্টারিং: আল্লাহর ঘরে নিম্নমানের কাজ!
গত সপ্তাহে হাতিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ পরিদর্শনে নিম্নমানের কাঠ বাশের সাটার ব্যবহার করে ছেন্টারিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান অবগত নন বলে জানান এবং দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর ওপর ন্যস্ত বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জানান যে, গত ০৯-০৩-২০২৫ তারিখে স্মারক নং-১৫৩ এর মাধ্যমে ঠিকাদারকে লিখিতভাবে নিম্নমানের কাঠ বাশের সাটার অপসারণ এবং স্টিল সাটার ব্যতীত অন্য কিছু ব্যবহার না করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছিল। পূর্বেও একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা সত্ত্বেও ঠিকাদার কোনো সংশোধনী ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি এবং বিষয়টি ০৯/০৩/২০২৫ তারিখে স্বারক নং ১৫৪ এর মাধ্যমে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছানকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এরপরেও তিনি কেনো অবগত নন বলেছেন সেটা আমার জানা নাই। স্থানীয় লোকমুখে প্রচলিত আছে যে কামরুল হাছান আর ওসমান গনি ব্যাবসায়িক পার্টনার, এতোদিন সেটা বিশ্বাস না করলেও এখন তো মনে হচ্ছে কথা সত্য।

উল্লেখ্য যে, GCC ক্লজ 51.1 অনুসারে কাজ অবশ্যই অনুমোদিত Specifications অনুযায়ী হতে হবে; GCC ক্লজ 27.1(b) অনুযায়ী সাইটের নিরাপত্তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ঠিকাদারের বাধ্যবাধকতা। কাঠ/বাঁশের অনঅনুমোদিত ছেন্টারিং ব্যবহার উভয় ধারারই লঙ্ঘন। আর, নির্দেশ অমান্য করে ত্রুটিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় GCC 55 (Rejection of defective work) ও GCC 56 (Removal and re-execution) অনুযায়ী ঐ কাজ প্রত্যাখ্যান ও অপসারণ/পুনঃকাজের ব্যয়ভার সম্পূর্ণরূপে ঠিকাদারের দায় হবে।

আইন বিশেষজ্ঞ এর মত: প্রচলিত আইন ও বিধিমালা লঙ্ঘন
এ বিষয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আইন ও বিধি বিধান বিশেষজ্ঞ সুপ্রিম কোর্টের বিখ্যাত আইনজীবী এডভোকেট সজীব বলেন, আলোচ্য ঘটনায় নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান সরকারি অর্থ বা সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থেকে তা আত্মসাৎ বা অপব্যবহার করেছেন ফলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (Penal Code, 1860) এর ধারা ৪০৯ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বিশ্বাসভঙ্গ, ধারা ৪২০ (প্রতারণা): ব্যাংকের সাথে করা চুক্তি (ঋণ একাউন্টে চেক দেওয়ার নিশ্চয়তা) ভঙ্গ করে প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া, ধারা ৪৬৭/৪৬৮ (জালিয়াতি): বিলের চেকে জালিয়াতি বা স্বাক্ষরবিহীন বিলে অর্থ ছাড় করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭: সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো আর্থিক লাভের ব্যবস্থা করা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২: ঘুষের অর্থ (৪২ লক্ষ টাকা) গ্রহণ এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর করার দায়ে দায়ী।

এছাড়াও কামরুল হাছান সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা, দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া এবং পদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার জন্য অসদাচরণ (Misconduct), ঘুষ গ্রহণ (৪২ লক্ষ টাকা) এবং সাইটে কাজ না থাকা সত্ত্বেও বিল প্রদান এর জন্য দুর্নীতি (Corruption) এর দায়ে দায়ী হবেন।

আবার আর্থিক বিধিবিধান ও চেক নিরাপত্তা লঙ্ঘন সরকারি অর্থ ব্যয় ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে তিনি গুরুতর আর্থিক বিধি ভঙ্গ করেছেন। গ্যারান্টি ও ঋণের শর্ত লঙ্ঘন (Breach of Assignment)

ব্যাংককে দেওয়া লিখিত নিশ্চয়তা (Letter of Comfort/Undertaking) অনুযায়ী চেকগুলো নির্দিষ্ট ঋণ একাউন্টে (হিসাব নং ০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭) এ জমা হওয়ার কথা ছিল। এটি অমান্য করে অন্য একাউন্টে চেক নগদায়ন করার ব্যবস্থা করা Account Payee Crossing নীতির সরাসরি লঙ্ঘন। কাজের অগ্রগতি ব্যতীত বিল প্রদান করায় (Advance/Excess Payment) সরকারি আর্থিক বিধি অনুযায়ী, কাজ যতটুকু সম্পন্ন হয়েছে তার ভিত্তিতে বিল পরিশোধ করতে হয়। মাঠ পর্যায়ে কাজ না থাকা সত্ত্বেও ৩/৩.৫ কোটি টাকা বিল প্রদান করা সরকারি অর্থের চরম অপচয় এবং সরাসরি আত্মসাৎ। সাধারণত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া এবং ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড পার না হওয়া পর্যন্ত জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া যায় না। কাজ চলাকালীন জামানতের ৫১ লক্ষ টাকার মধ্যে ৫০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ায় জামানত (Security Deposit) অবমুক্তকরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত হবেন। বিভাগীয় হিসাবরক্ষকের যোগসাজশে স্বাক্ষরবিহীন বিলে অর্থ ছাড় করা এবং চেকে ব্যাংক ও শাখার নাম উল্লেখ না করা CPWA Code (Central Public Works Accounts Code) এর সরাসরি লঙ্ঘনের দায়ে দায়ী হবেন।

ভোল পাল্টানো রাজনীতির ‘খলিফা’
একসময় সাবেক এমপি একরামুল করিম চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলীর ছত্রছায়ায় থাকা ওসমান গণি ৫ই আগস্টের পর ভোল পাল্টেছেন নিমিষেই। ভাইয়ের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এখন তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতার সান্নিধ্য পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

প্রকৌশলীর বক্তব্য বনাম বাস্তবতা
নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান এখন ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার ভয় দেখালেও পর্দার আড়ালে তার যোগসাজশের প্রমাণ মিলছে ব্যাংকের নথিতে। পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখা এখন প্রায় ২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে, কারণ প্রকৌশলী সাহেব ব্যাংকের সাথে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে চেকগুলো অন্য হাতে তুলে দিয়েছেন।

এ প্রকল্প ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, একাধিক চেক নির্ধারিত ঋণ-একাউন্টের বাইরে নগদায়ন করা হয়েছে, বাস্তব অগ্রগতির তুলনায় বিল দেওয়া হয়েছে, এবং ৫০ শতাংশ কাজ শেষ না হলেও জামানতের অর্থ অবমুক্ত করা হয়েছে। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা স্বাধীন তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়; তবে অভিযোগের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান এখন সময়ের দাবি।

মসজিদটি এখন শুধু একটি নির্মাণাধীন ভবন নয়—এটি ধীরগতি, প্রশ্নবিদ্ধ বাস্তবায়ন এবং জনঅসন্তোষের এক অস্বস্তিকর প্রতীক।

হাতিয়ার মানুষের প্রশ্ন একটাই—আর কত বছর ঝুলিয়ে রাখা হবে এই পবিত্র স্থাপনা? নাকি দুর্নীতির এই মহাকাব্য চলতেই থাকবে?




বাইকের নামে বিনিয়োগ, শেষে প্রতারণা—বাজাজ মামুন চক্রের উত্থান ও পতনের গল্প

এসএম বদরুল আলমঃ দেশে ই-কমার্স খাতের দ্রুত প্রসারের সুযোগে এক ভয়াবহ আর্থিক প্রতারণার চক্র গড়ে ওঠার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়, বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়—যার বড় অংশ আজও অধরাই রয়ে গেছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ‘বাইক ডেলিভারি’র আড়ালে “চেক ডেলিভারি” নামে অভিনব এক কৌশল ব্যবহার করে আলোচনায় আসেন এস কে ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী বাজাজ আল মামুন। অভিযোগ রয়েছে, বাইক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে স্বল্প সময়েই শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে যান তিনি এবং পরবর্তীতে অর্থ পাচারের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়েন।

ই-কমার্স জায়ান্টদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ : এই প্রতারণা চক্রে বাজাজ আল মামুনের সহযোগী হিসেবে নাম এসেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির সিইও মো. রাসেল এবং আলিশা মার্টের চেয়ারম্যান মো. মনজুর আলম শিকদারের। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের যোগসাজশে এই চক্র শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইতোমধ্যে বাজাজ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। বনানী থানার মামলা নং-৪০ (স্মারক নং ৩২১৬(৫)/১, তারিখ: ১ জুন ২০২৩)। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডির ফিনান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। এ মামলায় আলিশা মার্টের চেয়ারম্যানকে ১ নম্বর এবং বাজাজ মামুনকে ৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ : সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাফরুল থানায় ইভ্যালির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই অর্থের একটি বড় অংশ এস কে ট্রেডার্সের মাধ্যমে বাজাজ মামুনের কাছে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘চেক ডেলিভারি’—প্রতারণার নতুন ফাঁদ : প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ কৌশল। গ্রাহকরা অনলাইনে বাইক অর্ডার করলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাইক না দিয়ে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হতো পোস্ট-ডেটেড চেক।

প্রথমদিকে সেই চেক নগদায়ন হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি হয়। পরে অধিক লাভের আশায় অনেকেই একাধিক—কখনো ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত বাইক অর্ডার দেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে বাইকের প্রয়োজন না থাকলেও নগদ লাভের আশায় বিনিয়োগ করতেন গ্রাহকরা।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিত্র পাল্টে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, এক পর্যায়ে বাইক কিংবা টাকা—কোনোটিই আর ফেরত দেওয়া হয়নি। এতে এক লাখের বেশি বাইক অর্ডার জমা পড়ে।

উৎপাদন সক্ষমতার বাইরে অর্ডার :
তদন্তে জানা গেছে, এস কে ট্রেডার্স যে পরিমাণ বাইকের অর্ডার নিয়েছিল, তার উৎপাদন সক্ষমতা মূল কোম্পানি উত্তরা মোটরসের পক্ষেও সম্ভব ছিল না। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বাইকের কোনো বৈধ কাগজপত্র—চেসিস নম্বর, ইঞ্জিন নম্বর বা আমদানির নথিও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ রয়েছে, বাজাজ মামুন নিজস্ব ইনভয়েসের মাধ্যমে বাইক অর্ডার গ্রহণ করতেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল নিয়ন্ত্রণহীন ও অস্বচ্ছ।

বিলাসবহুল জীবনযাপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ : সিআইডির তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ইভ্যালির রাসেল ও শামীমা নাসরিন গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে তা পণ্য সরবরাহে ব্যয় না করে বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয়, সম্পদ অর্জন এবং বিদেশ ভ্রমণে ব্যবহার করেছেন। গ্রাহকদের বারবার ভুয়া ডেলিভারি তারিখ দিয়ে আশ্বস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি—যা সরাসরি প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের শামিল।

বিস্তৃত চক্রের সন্ধানে সিআইডি :
সিআইডি জানিয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থের প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করতে গভীর তদন্ত চলছে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ শুরু করেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি : ভুক্তভোগীদের দাবি, ইভ্যালি ও আলিশা মার্টের শতকোটি টাকা এখনো বাজাজ আল মামুনের কাছে রয়েছে। তারা আলিশা মার্টের অর্থপাচার মামলার পাশাপাশি ইভ্যালির মামলাতেও বাজাজ মামুনকে অভিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

শেষ কথা : ই-কমার্সের মোড়কে গড়ে ওঠা এই প্রতারণার জাল শুধু হাজারো গ্রাহকের সঞ্চয়ই গ্রাস করেনি, বরং দেশের ডিজিটাল বাণিজ্যের ওপর আস্থাকেও বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়—আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত কত দ্রুত এই জটিল আর্থিক জাল উন্মোচন করতে পারে এবং ভুক্তভোগীরা আদৌ তাদের অর্থ ফেরত পান কি না।