পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আব্দুস সালামকে ঘিরে অনৈতিক সম্পর্ক ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের এক উপ-পরিচালক আব্দুস সালামকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। নারীসংক্রান্ত অনৈতিক সম্পর্ক, প্রতারণার অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্নে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় একাধিক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী দাবি করেছেন, এসব সম্পর্কের মাধ্যমে তারা মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, এই অভিযোগগুলোর পক্ষে কিছু ছবি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে এসব উপাদানের স্বতন্ত্র ও আনুষ্ঠানিক যাচাই এখনো সম্পন্ন হয়নি—যা পুরো বিষয়টিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

হোটেল-রিসোর্টে যাতায়াত নিয়েও প্রশ্ন : বিভিন্ন আবাসিক হোটেল ও রিসোর্টে নিয়মিত যাতায়াতের অভিযোগও উঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি, তথাপি অভিযোগের ধারাবাহিকতা বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি রাখে।

সাংবাদিকদের মুখ বন্ধের চেষ্টা ? অভিযোগ হুমকি ও হয়রানির
অভিযুক্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। বরং তার হয়ে কথা বলতে এগিয়ে আসেন শ্রমিক দলের কথিত এক নেতা জাকারিয়া, যিনি পল্টন এলাকার একটি অফিস থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাংবাদিকদের দাবি, জাকারিয়া শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন এবং কেন এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে তিনি সাংবাদিকদের “ব্ল্যাকমেইলার” ও “চাঁদাবাজ” বলে আখ্যা দেন।
এছাড়া, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা, বারবার ফোন করে চাপ প্রয়োগ এবং হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বিষয়টিকে অনেকেই স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি চাপ ও ভীতির পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।

নীরব অভিযুক্ত, সক্রিয় ‘পক্ষসমর্থক’—কেন এই বৈপরীত্য ?
গুরুতর অভিযোগের মুখে আব্দুস সালামের নীরবতা এবং তার পরিবর্তে তৃতীয় পক্ষের আগ্রাসী অবস্থান নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি অভিযোগ গুলো ভিত্তিহীন হয়, তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির উচিত ছিল সরাসরি সামনে এসে তা খণ্ডন করা।

স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে : প্রশাসনিক নৈতিকতা ও জনআস্থার প্রশ্নে এমন অভিযোগ উপেক্ষা করার সুযোগ নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই বিতর্কের কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব নয়।

শেষ কথা : এই ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—অভিযোগগুলো কি সত্য ? নাকি এর পেছনে রয়েছে পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্র?
যে কোনো উত্তরই হোক, সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে বা তথ্য গোপন রেখে সত্য চাপা দেওয়া সম্ভব নয়। জনস্বার্থে প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি।




ভেষজের আড়ালে কেমিক্যাল? আরগন ও বিগো ফার্মাসিউটিক্যালস নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড এবং ডেমরার বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক নামের দুটি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ময়মনসিংহের ঠিকানায় লাইসেন্স নিলেও তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে ঢাকাকেন্দ্রিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। লাইসেন্সে ‘ল্যাবরেটরি’ নাম থাকলেও বাজারে ভিন্ন নামে পণ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও “ফার্মাসিউটিক্যালস” শব্দ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের আধুনিক ওষুধ প্রস্তুতকারক হিসেবে উপস্থাপন করছে বলে অভিযোগ।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি এসেছে তাদের পণ্যের গুণগত মান নিয়ে। তাদের প্রধান ব্যবসার পণ্যের মধ্যে অনুমোদিত ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ‘ডায়কেয়ার’, যৌনশক্তিবর্ধক হিসেবে প্রচারিত ‘নাইটেক্স’ ও ‘রিস্টোর’ উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, ভেষজ উপাদানের কথা বলে প্রচার করা হলেও বাস্তবে কিছু পণ্যে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও যৌনশক্তি বৃদ্ধির নামে বাজারজাত কিছু পণ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—এসব পণ্যের কার্যকারিতা নিয়ে কোনো স্বচ্ছ তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব পণ্যের অনেকগুলোই অনুমোদিত তালিকায় নেই এবং আয়ুর্বেদিক বা ভেষজ হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে সেগুলোতে রাসায়নিক উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।  

element

প্রতিষ্ঠানটির মালিক হিসেবে আবু বক্করের নাম উঠে এসেছে অভিযোগে। অভিযোগকারীদের দাবি, একটি বড় মার্কেটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশে শোরুম এবং কমিশনভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতিতে এসব পণ্য বিপণন করা হচ্ছে। কিছু অভিযোগে এটিও বলা হয়েছে, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, “ডায়াবেটিস নিরাময়” বা “ইনসুলিন স্বাভাবিকভাবে তৈরি হবে”—এ ধরনের দাবি দিয়ে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যথাযথ গবেষণা ছাড়া এমন প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। 

অন্যদিকে, রাজধানীর ডেমরার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭০নং ওয়ার্ডের মেন্দিপুর এলাকায় বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কারখানায় অবৈধভাবে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। যার স্বত্বাধিকারী মো. শাখাওয়াত হোসেন।

স্থানীয়রা জানায়, তিন তলা ভবন বিশিষ্ট এ কারখানাটি চারদিকে দেয়াল দিয়ে আটকানো এবং যেখানে মূল গেট সেটা দিনরাত সব সময় বন্ধ থাকে। আমাদের এলাকার একটি প্রতিষ্ঠান এখানে আমাদের এলাকার ছেলে মেয়েরা চাকরি করতেন৷ তবে তাদের দিয়ে তৈরি করে নেওয়া হয় যৌন উত্তেজক সিরাপ ও ক্যাপসুল। এসব কারণে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জানায়, বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল নামের এই আয়ুর্বেদিক কোম্পানিতে অভিযান পরিচালনা করেও কোনো লাভ নেই, এটা কেউ বন্ধ করতে পারবে না। কারণ এরা ওপর লেভেলের সকলকে ম্যানেজ করেই অবৈধ কার্যকলাপ করে থাকে।

photo collage.png (36)

স্থানীয় রিপন নামে একজন বলেন, ‘এখানে যে সব যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়, তার কোনো অনুমোদন নেই৷ আমি এক জনের মাধ্যমে কোম্পানির মধ্য বেড়াতে গিয়ে দেখি সেখানে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ যৌন উত্তেজক সিরাপ।’

রানা হোসেন নামে একজন বলেন, ‘এখানে যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয়৷ আমি এই কোম্পানিতে চাকরি করতাম। আমি খেয়াল করেছি মাঝে মাঝে যখন সাংবাদিক আসতো তখন আমাদের বলা হতো গেট খোলা যাবে না। কোনো সাংবাদিককে গেটে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। বিভিন্ন সময় অভিযান হয় একারণে ভয়েই আমি চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিগো ফার্মাসিউটিক্যাল আয়ুর্বেদিক কোম্পানির মালিক শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমার এখানে কোনো যৌন উত্তেজক সিরাপ তৈরি করা হয় না। যা যা তৈরি করা হয় তা নিয়ম মেনেই তৈরি করা হয়।’

এ বিষয়টি ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক বলেন, ‘আপনারা এই বিষয় অবগত করেছেন। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

আরগন ফার্মাসিউটিক্যালসকে ঘিরে আরও অভিযোগ— কোম্পানিটি ডেসটিনির মতন করে ডায়াবেটিস সহ বিভিন্ন রোগের নাম বলে সাধারন মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে কোম্পানির মালিক আবু বক্কর আমেরিকায় ফ্যামিলি সহ থাকেন। সেখানে বসে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আমেরিকায় বসে আরামের জীবন কাটাচ্ছেন। ওষুধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা কোম্পানিদের অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে বলে একাধিক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু বক্করের শাশুড়ির প্রভাব খাটিয়ে নানা কর্মকান্ড চালিয়ে ছিল। সে নিজেও আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা এবং বিভিন্ন কর্মকান্ডে ফান্ডিং করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। 

একটি শক্তিশালী মার্কেটিং নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারাদেশে পণ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে কমিশনভিত্তিক বিক্রয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের ভাষ্যমতে, বিভিন্ন রোগের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করা হচ্ছে এবং চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এসব পণ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগ রয়েছে—প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। যদিও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে অবশ্যই তার অনুমোদন, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং নিবন্ধন যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত পণ্য ব্যবহার মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার বার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।




বিমানের টয়লেটে ১৮ কেজি স্বর্ণ: পাইলট-ক্রু-যাত্রীদের তথ্য তলব

ডেস্ক নিউজঃ দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের শৌচাগার থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ (১৫৩ টি বার) উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ।

চোরাচালান চক্রকে শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটের পাইলট, কেবিন ক্রু, টেকনিক্যাল স্টাফ, ক্লিনিং কর্মীসহ সব যাত্রীর বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ফ্লাইটের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ, বোর্ডিং ব্রিজ ও রানওয়ে এলাকার ভিডিও সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ রাত ৯টা ৮ মিনিটে দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৮ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সি-০২ বোর্ডিং ব্রিজে অবস্থান নেওয়ার পর বিমানে তল্লাশি চালিয়ে শৌচাগার থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার (১৮ কেজি) উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়ের করে। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কাইয়ুম বলেন, তদন্তের স্বার্থে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার তথ্য চাওয়া হয়েছে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ হাতে পাওয়া যায়নি।

একটি সূত্র জানায়, চিঠিতে ফ্লাইটের পাইলট ও কেবিন ক্রুদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয়, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও বায়োডাটা চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারক্রাফটের টেকনিক্যাল মেকানিক, হেলপার ও ক্লিনিং স্টাফদের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া যাত্রীদের তালিকা, পাসপোর্ট নম্বর এবং ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সব তথ্য হাতে এলে স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা সহজ হবে।




বাংলাদেশিদের ভিসা দিতে ১৩ দেশের যৌথ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে ১৩টি দেশ যৌথভাবে একটি নির্দেশনা দিয়েছে। ভিসা, পারমিট ও অন্যান্য কনস্যুলার সেবা গ্রহণে আবেদনকারীদের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া অনুসরণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে দেশগুলো। বুধবার ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন এই নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।

যৌথ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

জাল কাগজপত্র ব্যবহার, অবিশ্বস্ত বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্টের সহায়তা নেওয়া কিংবা অননুমোদিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ প্রদান থেকে বিরত থাকতে আবেদনকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, আর্থিক ক্ষতি, সীমান্তে প্রবেশে বাধা এবং গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো দেশের মিশন বা দূতাবাস কোনো এজেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। ভিসা প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুবিধা বা প্রভাব বিস্তারের দাবি করে এমন মধ্যস্থতাকারীদের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবেদনকারীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাচাইকৃত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমে সব ধরনের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করতে। এতে সবার জন্য নিরাপদ, স্বচ্ছ ও ন্যায্য আবেদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে দেশগুলো।

যৌথ নির্দেশনা দেওয়া ১৩টি দেশ হলো- অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য।




১৪দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণায় বাঁধভাঙা উল্লাসে রাস্তায় নেমেছেন ইরানিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ রাতভর ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।

এদিকে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তেহরানের বাসিন্দাদের মধ্যে উল্লাস-আনন্দ উদযাপন করতে দেখা গেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে দেশটির জনগণ রাস্তায় নেমেছেন। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর তারা উল্লাস করছেন।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইরানি পতাকা এবং দেশটির প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছবি হাতে নিয়ে ইরানিরা রাস্তায় নেমেছেন। অনেকে স্লোগান দিচ্ছেন।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে জানিয়ে শাহবাজ শরিফ বলেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

তিনি বলেছেন, আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আলোচনার জন্য’ ১০ এপ্রিল শুক্রবার ইসলামাবাদে একটি বৈঠক ডেকেছে পাকিস্তান। সেখানে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দলকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এদিকে, সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির খবরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।




দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে বজ্রবৃষ্টির আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের তিনটি অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যশোর, কুষ্টিয়া ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

এসময় এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর ‘খারা মোশাররফ’র নেতৃত্বে হামলা: ১৮ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট

বিশেষ প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘গ্রীন টিভি’ ও ‘প্রতিদিনের বাংলাদেশ’-সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। গত রবিবার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের মারধর করে প্রায় ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের পেশাদার ভিডিও সরঞ্জাম ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এই ঘটনায় গ্রীন টিভির ভিডিও জার্নালিস্ট মোঃ শরীয়তুল্লা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-১৬ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

 

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ মার্চ গ্রীন টিভিতে নাওড়া এলাকার মোশাররফ হোসেনের মাদক ব্যবসা, নারী নির্যাতন ও সাধারণ মানুষের ওপর নিপীড়নের বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৫ এপ্রিল বিকেলে গ্রীন টিভি, প্রতিদিনের বাংলাদেশসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা পুনরায় সংবাদ সংগ্রহে নাওড়া এলাকায় গেলে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা মোশাররফের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

হামলাকারীরা সাংবাদিকদের এলোপাথাড়ি মারধর ও লাঞ্ছিত করে। একপর্যায়ে বিবাদী শরীয়তুল্লা গ্রীন টিভির ১৭ লাখ টাকা মূল্যের একটি প্যানাসনিক-৩৭২ ভিডিও ক্যামেরা, ৪০ হাজার টাকার ট্রাইপড এবং ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ওয়্যারলেস মাইক্রোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে শোরগোল শুরু হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিয়ে এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে দ্রুত সটকে পড়ে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ শরীয়তুল্লা বলেন, “পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে আমাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করার পাশাপাশি আমাদের জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার দাবি করছি।”

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।




ঢাকা ওয়াসার রাজস্ব কর্মকর্তা ইকরামের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা ওয়াসার ২ নম্বর জোনের রাজস্ব কর্মকর্তা এএমএম ইকরামকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। জালিয়াতি, মিথ্যাচার, দলীয় প্রভাব খাটানো, ঘুষ বাণিজ্য এমনকি একই সঙ্গে দুটি সরকারি চাকরি করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট মহলে এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ‘ঢাকা ওয়াসার ইবলিশ’ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, তথ্য গোপন করে একদিকে ঢাকা ওয়াসায় চাকরি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তিনি নোয়াখালী পৌরসভার সচিব হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ৯ বছর ধরে তিনি দুই প্রতিষ্ঠান থেকেই নিয়মিত বেতন তুলেছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি নোয়াখালী পৌরসভার চাকরি ছেড়ে দেন। তবে নিয়ম অনুযায়ী চাকরিচ্যুত হওয়ার কথা থাকলেও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাকে কেবল নিম্নতর বেতন স্কেলে নামিয়ে শাস্তি দিয়ে দায়িত্বে বহাল রাখে।

জানা যায়, ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর উচ্চমান সহকারী (ইউডিএ) পদে ঢাকা ওয়াসায় যোগ দেন ইকরাম। চাকরির শুরুর দিকে তাকে বোতলজাত পানি উৎপাদন প্ল্যান্টে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়ে, যেখানে উল্লেখ করা হয় তিনি একই সময়ে নোয়াখালী পৌরসভায় সচিব হিসেবে কর্মরত থেকে বেতন নিচ্ছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে তার দ্বৈত চাকরির বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়।

সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা-১৯৭৯ অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর একাধিক চাকরি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলেও ইকরামের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তার বেতন স্কেল সামান্য কমিয়ে দেওয়া হয় এবং বরখাস্তকালীন সময়কে ‘অসাধারণ ছুটি’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ওয়াসায় কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি নোয়াখালী পৌরসভায় সচিব পদে আবেদন করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ২০০৫ সালের ৭ জুন সেখানে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দুই জায়গায় সমান্তরালভাবে দায়িত্ব পালন করেন। অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজে উপস্থিত না থেকে অন্য কাউকে দিয়ে দায়িত্ব পালন করাতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদোন্নতি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা ২০১৩ সাল থেকে কার্যকর দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ১৩ জানুয়ারি তাকে রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অথচ তার আগের জ্যেষ্ঠ ২৫ জন কর্মকর্তা এখনো একই পদে রয়ে গেছেন, যা নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে তিনি উপপ্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (ডিসিআরও) পদে পদোন্নতির জন্যও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন, যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে এই পদে উন্নীত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার নেই। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এছাড়াও, প্রেষণ ছাড়াই পিপিআই প্রকল্পে ফিল্ড সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং একই সময়ে একাধিক উৎস থেকে বেতন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার স্ত্রী সালমা আক্তার মিনা ঢাকা ওয়াসার পিএন্ডডি সার্কেলে পিএ কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মাস্টাররোলে কর্মরত আছেন। অভিযোগ আছে, আত্মীয়স্বজনদের আউটসোর্সিং ও মাস্টাররোলে নিয়োগ দিতেও তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন।

এদিকে তার সহকর্মীদের পক্ষ থেকে একাধিক লিখিত অভিযোগ ওয়াসা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া থামিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক নয়, ফৌজদারি অপরাধের মধ্যেও পড়ে। তাদের মতে, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত এবং যারা তাকে লঘুদণ্ড দিয়েছেন তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য এএমএম ইকরামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।




ডিসির বিরুদ্ধে অডিও ক্লিপ ভাইরাল: ইউএনও হোসনে আরাকে আবারও বদলি

ডেস্ক নিউজঃ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সদ্য সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসনে আরাকে এবার সাতক্ষীরার তালা থেকে রাজশাহী বদলি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশজুড়ে আবার নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বরমান হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, হোসনে আরাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হতে প্রত্যাহারপূর্বক সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে পরবর্তী পদায়নের জন্য রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদের বিরুদ্ধে ইউএনও হোসনে আরার একটি অডিও ক্লিপ স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

ছড়িয়ে পড়া অডিওতে ইউএনও হোসনে আরাকে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতে শোনা গেছে।

সেখানে তিনি ওই সাংবাদিককে বলেন, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মাসউদ তাকে (ইউএনও) টাকাসহ বিভিন্ন অনৈতিক প্রস্তাব দেন। তাতে রাজি না হওয়ায় বিধিবহির্ভূতভাবে বদলি করিয়েছেন।

ইউএনও বলেন, ‘একটা মানুষের যত খারাপ দোষ থাকে সব কিছুই তার আছে। মন্ত্রীর পা ছুঁয়ে এসে জামায়াতের গলা ধরেন। তার কোনো চরিত্র নাই। লাখ টাকার দুর্নীতি করেন। তা আপনারা নিউজ করেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি খারাপ লোক। তার সঙ্গে কি নাইট স্টে করতে হবে। বারবার পরিষদে বিধিবহির্ভূত বরাদ্দ নিতে বলেন। আমি তাতে রাজি হয়নি। আমার অসুস্থ দুইটা বাচ্চাকে নিয়ে দ্রুত এখান থেকে চলে যেতে বলেছেন।’

এ ঘটনায় কয়েক দিন আগে তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল।

জেলা সচেতন সমাজের প্রতিনিধি ও মানবাধিকারকর্মী আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার যেখানে নারীর সুশাসন ও ক্ষমতায়নের কথা বলছে, সেখানে এক নারী ইউএনওর সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কয়েক দিন আগেই তাকে ঝিনাইদহ থেকে সাতক্ষীরার তালায় বদলি করা হয়েছিল।

আজ আবার তাকে রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছে। এটা অত্যন্ত পরিতাপের।

আমার মনে হয়, ওই অডিও ক্লিপ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ ক্ষুব্ধ হয়ে এমনটা ঘটাতে পারেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করা উচিত।

এ বিষয়ে ইউএনও হোসনে আরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




রাজউকের মালিবাগ কোয়ার্টার এখন অব্যবস্থাপনা, মাদক ও দুর্নীতির আখড়া

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর মালিবাগে অবস্থিত রাজউকের অফিসার্স কোয়ার্টার এখন যেন বসবাসের অযোগ্য এক পরিবেশে পরিণত হয়েছে। যেখানে উন্নয়ন আর নিরাপদ বসবাসের কথা, সেখানে দেখা যাচ্ছে ময়লা পানি, অপরিচ্ছন্নতা, মশার উপদ্রব এবং নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড। দীর্ঘদিন ধরে এই কোয়ার্টারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের।

অভিযোগ রয়েছে, রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) এবং বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা মো. আবু সাইদের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই সিন্ডিকেট উন্নয়নের নামে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ পেলেও বাস্তবে কাজ হয় খুবই নিম্নমানের। একই কাজ বারবার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কোটি কোটি টাকা খরচ হলেও কোয়ার্টারের বাস্তব চিত্র বদলায়নি।

কোয়ার্টারের বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। ইতিমধ্যে এখানে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। অথচ এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

অভিযোগ আছে, দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজান ও আমিনুল বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে এড়িয়ে যাচ্ছেন। বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করলেও তারা নানা অজুহাতে সময় পার করছেন। ফলে বাসিন্দারা ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কলেরা ও টাইফয়েডের মতো রোগের ঝুঁকিতে বসবাস করছেন।

এদিকে কোয়ার্টারের ভেতরেই গড়ে উঠেছে মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক। পাম্পচালক সুমনের নেতৃত্বে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও মদের ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হিসেবে অফিস সহকারী ইউসুফ, ড্রাইভার ইলিয়াছ, আসাদুল, মেকানিক আবুল কাশেম ওরফে জামাই কাশেম এবং জাহেদ ইবনে নোমান (জুয়েল)-এর নাম উঠে এসেছে। এর আগে সুমন মাদকসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলাও চলমান রয়েছে।

শুধু মাদকই নয়, কোয়ার্টারের ড্রাইভারদের ডরমেটরিতে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। আবুল কাশেম ও ইলিয়াছের নেতৃত্বে এই জুয়ার বোর্ড পরিচালিত হয়। রাতের বেলায় সেখানে বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং মাদক সেবনও চলে। আগে পার্কিং এলাকায় এসব কার্যক্রম হলেও এখন ডরমেটরির ভেতরেই তা চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, করোনাকালীন সময়েও কোয়ার্টারের একটি ভবনের লোহার ফ্রেম কেটে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ টন। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের কারণে বিষয়টি চাপা পড়ে যায়।

বর্তমানে কোয়ার্টারের অনেক রুম অবৈধভাবে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। ড্রাইভার ইলিয়াছ, জুয়েল, খুরশীদ আলম (মিলন), ফারুকসহ অনেকেই একাধিক রুম ভাড়া দিয়েছেন। এসব রুমে বিভিন্ন পেশার লোকজন বসবাস করছেন, যাদের অনেকেই বহিরাগত। এর মাধ্যমে মাসে বড় অঙ্কের অর্থ আয় হচ্ছে, যার একটি অংশ নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তার কাছেও যায়।

এছাড়া এখানে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতও বেড়েছে। জুয়েলের ছেলে আইজান, জাকিরের ছেলে শুভসহ কয়েকজনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এই গ্যাং কোয়ার্টারের পরিবেশ নষ্ট করছে। তারা নিয়মিত আড্ডা, ইভটিজিং এবং মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু বাসায় অতিরিক্ত লোক সাবলেট হিসেবে রাখা হচ্ছে। যেমন ডিডি আসমা বেগমের বাসায় প্রায় ২০ জনের মতো মানুষ থাকেন। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়ম করার অভিযোগও উঠেছে।

সব মিলিয়ে, যেখানে রাজউকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে এখন চলছে দুর্নীতি, মাদক ব্যবসা, জুয়া এবং অব্যবস্থাপনা। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

সচেতন মহলের দাবি, এই কোয়ার্টারের সব অনিয়ম তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি অবৈধ দখল, মাদক ব্যবসা ও জুয়ার আসর বন্ধ করে কোয়ার্টারের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।