সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আটক

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের নিজ বাসভবন থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, ডিবির একটি বিশেষ দল গভীর রাতে এই অভিযান পরিচালনা করে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরীকে অবশেষে আইনের আওতায় আনা হলো।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে চাঞ্চল্যকর খবরও ছড়িয়ে পড়ে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে টানা এক দশকেরও বেশি সময় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ পুনরায় সরকার গঠন করলে তাকে আবারও স্পিকার নির্বাচিত করা হয়। তিনি রংপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও তার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।




তাপদাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি, কমতে পারে তাপমাত্রা

আবহাওয়া ডেস্কঃ গেল সপ্তাহের তীব্র তাপদাহের পর কালবৈশাখী ও বৃষ্টিতে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দেশের আট বিভাগেই ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালেও ৫ এপ্রিল থেকে আবহাওয়া বদলাতে শুরু করে। গতকাল দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখীর সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় গরমের তীব্রতা কমে আসে। এর মধ্যে সিলেটে সর্বোচ্চ ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আজকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে আজ সকালে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গতকাল রবিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাজধানী ঢাকায় ছিল ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।




৫৫ ডিপো জুড়ে তেল চুরির মহোৎসব: সিবিএ নেতা ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট সক্রিয়

এসএম বদরুল আলমঃ দেশজুড়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির প্রায় ৫৫টি ডিপো রয়েছে, আর এই ডিপোগুলোকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে তেল চুরির অভিযোগ ঘুরে ফিরে আসছে। বিভিন্ন কৌশলে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল গায়েব হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই চুরির সঙ্গে শুধু সাধারণ কর্মচারী নয়, বরং সিবিএ নেতা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী কর্মকর্তা পর্যন্ত অনেকেই জড়িত বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর দেশজুড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চোরাই তেল উদ্ধার হওয়ায় এই সিন্ডিকেট আবার আলোচনায় এসেছে।

সম্প্রতি পদ্মা অয়েলের গোদনাইল ডিপো থেকে কুর্মিটোলার পথে প্রায় ৭২ হাজার লিটার জেট ফুয়েল চুরির ঘটনা সামনে আসে। চারটি ট্যাংকার কাগজে-কলমে গন্তব্যে পৌঁছালেও বাস্তবে সেগুলো পৌঁছায়নি। এই জেট ফুয়েল মূলত বিমানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে কম দামের কারণে এটি অকটেনের সঙ্গে মিশিয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহা. মফিজুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন।

এর আগেও বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২০২৪ সালের জুনে যমুনা অয়েলের দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপো থেকে প্রায় ৬ লাখ লিটার তেল উধাও হয়ে যায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং দেড় বছর পর কয়েকজন কর্মচারীকে মৌখিকভাবে বদলির সুপারিশ করা হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এরপরও একই ডিপো থেকে আবার ৪৫ হাজার লিটার তেল গায়েব হয়ে যায়। অভিযোগ আছে, অডিট করতে গেলেও কৌশলে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া হয়। কিছু ডিলারের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে কাগজে-কলমে হিসাব মিলিয়ে দেওয়া হয়।

এই ডিপোতে দায়িত্বে থাকা সুপারভাইজার সমির পালের বিরুদ্ধেও পুরনো অভিযোগ রয়েছে। ২০১৭ সালে পতেঙ্গার গুপ্তখাল ডিপো থেকে তেল পাচারের ঘটনায় তিনি বরখাস্ত হয়েছিলেন। পরে কিছু টাকা আদায় করে তাকে আবার চাকরিতে ফিরিয়ে আনা হয় এবং বিভিন্ন ডিপো ঘুরে আবার একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরেক আলোচিত নাম হেলাল উদ্দিন, যিনি যমুনা অয়েলের সাবেক ইনচার্জ থেকে পরে ডিজিএম (অপারেশন) পদে উন্নীত হন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তেল চুরির টাকায় তিনি শত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। চট্টগ্রামে একাধিক বাড়ি, বিদেশে ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি—সবই তার সম্পদের অংশ। এমনকি তার বাসা থেকেই এক সময় ২৫ লাখ টাকা চুরি হলেও তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি, কারণ এতে নিজেই বিপদে পড়তে পারেন বলে ধারণা করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত শুরু করলেও তা শেষ পর্যন্ত থেমে যায়।

তেল চুরির এই সিন্ডিকেটে সিবিএ নেতারাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব দীর্ঘদিন ধরে এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তারা সাময়িক বরখাস্ত হলেও তাদের অনুসারী নাসির উদ্দিন বর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি শ্রমিকদের কল্যাণ তহবিল থেকে জোরপূর্বক অর্থ কেটে নেওয়ার জন্য চিঠিও দিয়েছেন, যা সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অন্যদিকে মোংলা ডিপোতে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল পাওয়া গেছে, যার কোনো হিসাব দিতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় ডিপোর ম্যানেজার আল আমিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এলাকায়ও প্রকাশ্যে চোরাই তেল বিক্রির চিত্র দেখা যাচ্ছে। ফতুল্লা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি যেমন স্বপন, কালাম, হৃদয়, রনি, পাগলা রাজু, ফয়সাল, কাইল্লা সোহেল, নাসির উদ্দিন, জালাল মিয়া, মাসুদ ও ইকবাল চৌধুরীর নেতৃত্বে আলাদা আলাদা চক্র সক্রিয় রয়েছে। তারা ট্যাংকার থেকে অতিরিক্ত তেল সরিয়ে বিক্রি করে দেয়। এছাড়া নদীপথে জাহাজ থেকে তেল নামানোর সময়ও চুরি হয়।

অনেক ক্ষেত্রে ট্যাংকারে ১০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতা থাকলেও কাগজে ৯ হাজার লিটার দেখানো হয়, আর বাড়তি তেল মাঝপথেই বিক্রি হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় খোলা বাজারে অবৈধভাবে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে, যার সঙ্গে ডিপোর কিছু কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, তেল চুরি এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কারণে রাষ্ট্রীয় সম্পদের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে, আর জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।




আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনায় অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির অভিযোগে চাপে সাউথইস্ট ব্যাংক, নজরে বাংলাদেশ ব্যাংক

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের ব্যাংকিং খাতে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে সাউথইস্ট ব্যাংক। আর্থিক সক্ষমতা, পরিচালনা কাঠামো এবং নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক অভিযোগ ও প্রশ্ন ঘিরে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সংশ্লিষ্ট মহলে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান এম এ কাসেম এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মুশফিকুর রহমান-কে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেটের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ছায়া, নীতিনির্ধারণে হস্তক্ষেপের অভিযোগ : সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সক্রিয় প্রভাব রয়েছে। শুধু নীতিনির্ধারণেই নয়—নিয়োগ, বদলি ও পদায়নেও এই গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন শাখা ও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি অপছন্দের কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়া এবং পছন্দের ব্যক্তিদের বসানোর মাধ্যমে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলার কথাও শোনা যাচ্ছে।

নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন, আস্থাহীনতায় আমানতকারীরা : ব্যাংকের গ্রাহক ও আমানতকারীদের একটি অংশ চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন দায়িত্বে থাকলেও বয়সজনিত কারণে তিনি আগের মতো সক্রিয় নন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি ও পেশাদারিত্বের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি ব্যাংকের সামগ্রিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন তারা।

তারল্য সংকটের শঙ্কা, টাকা তুলতে শুরু গ্রাহকরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আগের তুলনায় আর্থিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং কিছু আমানতকারী ইতোমধ্যে তাদের জমাকৃত অর্থ তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবুও গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।

‘লজিস্টিকস সিন্ডিকেট’ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ : ব্যাংকের অভ্যন্তরে মুশফিকুর রহমানকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। তিনি সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও লজিস্টিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ, ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে তার প্রভাবের কারণে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ভিতরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, লজিস্টিক বিভাগকে ঘিরে সরঞ্জাম ক্রয় ও অবকাঠামোগত কাজে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললে চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

দুদকের তদন্তে নতুন মাত্রা :
এদিকে চেয়ারম্যান এম এ কাসেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিন সদস্যের একটি তদন্ত দল ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এই অভিযোগগুলোর একটি বড় অংশ সংশ্লিষ্ট নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়-কে কেন্দ্র করে।

অভিযোগ রয়েছে, জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কম মূল্যের জমি বেশি দামে দেখানো, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জমি কেনায় অনিয়ম, এবং ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্যে জমি ক্রয়ের বিষয়গুলো তদন্তাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ : অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিলাসবহুল গাড়ি কেনা হয়েছে। এসব গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি ও চালকের ব্যয়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে বহন করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত কমিটি গঠন করে সিটিং অ্যালাউন্স নেওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন :
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল অর্থ একই ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখার অভিযোগও উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের লেনদেন স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং একটি ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোর নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আস্থার সংকটে ব্যাংকিং খাত:
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আস্থা। পরিচালনায় স্বচ্ছতা না থাকলে দ্রুত গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, যা সরাসরি আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলে।

এখন কী করণীয় ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন। পরিচালনা পর্ষদে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটের ঝুঁকি রয়েছে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ভূমিকাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া গেলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সাউথইস্ট ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের সংকট নয়—এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার।




প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একনেক সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এই সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।




এলকেএসএসে সিন্ডিকেটের দাপট: আউটসোর্সিং নিয়োগে লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর আওতাধীন এলকেএসএস-এর একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার নূরুল ইসলাম এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালনা করছেন।

অভিযোগে বলা হয়, প্রধান প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রমে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন। এ কারণে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) কর্মকর্তারাও অনেক ক্ষেত্রে তার প্রভাবের কাছে অসহায় হয়ে পড়ছেন বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

WhatsApp Image 2026 04 05 at 1.44.12 PM

ছবি: নূরুল ইসলামের প্রধান সহযোগী এসি এডমিনের সহকারী সোহেল ও এইচআরসি’র পিয়ন হাবিব

সূত্রগুলো জানায়, নূরুল ইসলাম একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যার মাধ্যমে এলকেএসএস-এইচআরসি শাখায় নিয়োগ বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে। এই সিন্ডিকেটে তার পিয়ন হাবিব এবং প্রশাসনিক শাখার (এসি এডমিন) সহকারী সোহেলের সম্পৃক্ততার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের এক্সএন অফিসে কর্মরত পিয়ন হাবিবকে বিশেষভাবে ঢাকায় এনে নিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার প্রধান কাজ হলো চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং প্রক্রিয়াজাত করা।

অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমেই অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয় এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়গুলোও তার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে আরও জানা যায়, গত রমজান মাসে ঈদের আগে জাইকা প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রায় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

একইভাবে চলতি বছরের মার্চ মাসে রিভার প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জে সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রায় ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়, আউটসোর্সিং নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফাইল অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হচ্ছে। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে ২০০-র বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এসব নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই পিয়ন হাবিবের মাধ্যমে সিভি জমা ও অর্থ লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও, অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চাকরি প্রত্যাশী আরও অনেক ব্যক্তির কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেছেন ম্যানেজার নূরুল ইসলাম।

WhatsApp Image 2026 04 05 at 1.44.12 PM (1)

ছবি: অফিসে খোশগল্পে নূরুল ইসলাম

নীতি, নৈতিকতা ও আইনি দৃষ্টিকোণ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং এটি গুরুতর দুর্নীতি এবং দণ্ডনীয় অপরাধের শামিল।

সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতা, মেধা ও সমতার নীতি লঙ্ঘন হলে তা রাষ্ট্রীয় সুশাসনের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী—

  • ঘুষ গ্রহণ ও প্রদান দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
  • নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
  • ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তার সরকারি চাকরি বিধিমালার গুরুতর লঙ্ঘন।

সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রত্যাশিত পদক্ষেপ:

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি-

  • অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত।
  • অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • ভবিষ্যতে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
  • ডিজিটাল ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা।

এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানে জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।




এলজিইডিতে গতি ফেরাতে ১৯৭ প্রকৌশলীকে চলতি দায়িত্ব

এসএম বদরুল আলমঃ অবশেষে এলজিইডির দীর্ঘ দিনের জট খুলতে শুরু করেছে ১৯৭ জনকে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে। এ বিষয়ে ২ এপ্রিল ২৬ বৃহষ্পতিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ ০৫.০০.০০০০.১৭০.১১.০১৭.২১.৯৭ প্রজ্ঞাপনের ৩(ক) ও (ঘ) এর ভিত্তি অনুযায়ী এলজিইডির কাজের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারী করেছে।

স্হানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর দিক নির্দেশনায় ১৯৭ জন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীকে এলজিইডির শুন্য পদে চলতি দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

এলজিইডি বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতা পর থেকে দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় শীর্ষে পৌছে দিয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জনবলের অভাবে এ উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হচ্ছিল। এ বিষয়টি চিন্তা করে বর্তমান সরকার চলতি দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যম্যে এলজিইডির চলমান জনবলের সমস্য দূর করার চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন নির্বাহী প্রকৌশলীর কয়েক শত পদ শূন্য থাকলেও নানা জটিলতায় পদোন্নতি দেওয়া যাচ্ছিলনা।

আওয়ামী সরকারের পতনের পরও ছাত্রলীগ পন্থী এবং আওয়ামী সরকারের কতিপয় সুবিধাভোগী কোটি কোটি টাকা খরচ করে সব কিছু দখল করে বসে আছে।

বিগত সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া প্রকল্প পরিচালকদের দ্রুত অপসারণ করে এবং অর্থ লোপাট বন্ধ করলে এলজিইডি পূর্বের ন্যায় দাপটের সাথে সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে।

এবিষয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।

চলতি দায়িত্বের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, চলতি দায়িত্ব ও অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী চলতি দায়িত্বকে কোনোভাবেই পদোন্নতি হিসেবে গন্য করা যাবেনা।




পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার (৩১ মার্চ): দৈনিক সবুজ বাংলাদেশ পত্রিকার বর্ষ ১-এর ৩০০ তম সংখ্যায় প্রকাশিতসহ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় “ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দুই পরিচালক (চঃ দাঃ) এর খুঁটির জোর কোথায়?” শিরোনামের প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রতিবেদনে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোঃ নাঈম গোলদার এবং পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হলেও, সংশ্লিষ্টদের দাবি—উল্লেখিত অভিযোগসমূহ যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশ করা হয়েছে এবং এতে বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।

“মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন” : অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে, তার অধিকাংশই ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের ফল। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এমন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।

পদোন্নতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে ব্যাখ্যা : নাঈম গোলদারের পদোন্নতি প্রসঙ্গে কর্মকর্তারা জানান, তিনি চাকরির শুরু থেকেই মেধা, দক্ষতা ও কর্মনিষ্ঠার মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করেন। নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তিনি পর্যায়ক্রমে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অন্যদিকে, শফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতেই তাকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে বলে দাবি করেন সহকর্মীরা।

অভিযোগের পেছনে “স্বার্থান্বেষী মহল” : অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যায়, কিছু প্রভাবশালী ও অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে উক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কর্মপরিবেশ নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।

রিড ফার্মা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রিড ফার্মা লিমিটেড সংক্রান্ত ঘটনায় পরিচালক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা পুরনো একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার আংশিক ও বিকৃত উপস্থাপন বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিষয়টি তখনকার প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল এবং এতে ব্যক্তিগত অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া :
অধিদপ্তরের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এটি মূলত দুই কর্মকর্তাকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা। তারা মনে করেন, এমন সংবাদ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

উপসংহার : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকাশিত এমন সংবাদ শুধু ব্যক্তি নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার মাধ্যমে সত্যনিষ্ঠ ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।




বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে হাতিরঝিলে যাবেন সাফজয়ী ফুটবলাররা

ক্রীড়া ডেস্কঃ অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ফাইনালে টাইব্রেকারে ভারতকে হারিয়ে শিরোপা নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশের যুবারা। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য  হাতিরঝিলে ফুটবলারদের সংবর্ধনার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় দেশের মাটিতে পা রাখবেন সাফজয়ী বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে হাতিরঝিলে যাবেন সাফজয়ী ফুটবলাররা।

জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাতিরঝিলে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে আনুমানিক রাত সাড়ে সাতটায় আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এ উপলক্ষে সমর্থক ও সাধারণ জনগণকে শোভাযাত্রা এবং সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল দলকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে যাবেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেখানে বাফুফে কর্মকর্তারাও উপস্থিত থাকবেন।