ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা মিরপুর প্রেসক্লাবে ঈদ পরবর্তী এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর পরিবেশে ভরপুর, যেখানে সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ঐক্য ও পেশাগত বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পাঞ্জেরীর সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা তালুকদার রুমী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক মাতৃ জগত পত্রিকার সম্পাদক ও মিরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা খান সেলিম রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম বদরুল আলম এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্য
প্রধান অতিথি তালুকদার রুমী তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা, যা সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে এবং কোনো ধরনের ভয় বা চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি সাংবাদিকদের একটি পরিবার। এই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতা বজায় রাখতে হবে। তিনি তরুণ সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য
বিশেষ অতিথি খান সেলিম রহমান তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সময়ে সাংবাদিকদের সামনে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তিনি মিরপুর প্রেসক্লাবের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, এই ধরনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সহকর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে এবং পেশাগত উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সভাপতির বক্তব্য
সভাপতি এস এম বদরুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাব সবসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, সংগঠনের প্রতিটি সদস্যের অংশগ্রহণেই প্রেসক্লাব আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি সকল সদস্যকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিভেদ নয়—ঐক্যই আমাদের মূল শক্তি। তিনি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
সাধারণ সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এই পুনর্মিলনী শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের প্রতিটি কার্যক্রমে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণই সংগঠনের প্রাণ। তিনি সকলকে একসাথে থেকে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন তার বক্তব্যে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণ, কর্মশালা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের গড়ে তুলতে সিনিয়রদের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মিরপুর প্রেসক্লাবকে একটি আদর্শ সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে মিরপুর প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম পলাশ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি খাইরুল ইসলাম, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সায়মন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সুমন খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আলম, অর্থ সম্পাদক জিএস জয় ও সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন নিপু, দপ্তর সম্পাদক এমএ গাফফার, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, মানবাধিকার সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আখতারুজ্জামান, রশিদি মাহবুব, আলী হোসেন, জাহাঙ্গীর তুষার, ফিরোজ আল মামুন, আপ্যায়ন সম্পাদক এম এ মালেকসহ অসংখ্য প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।




দেশে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত আছে

ডেস্ক নিউজঃ দেশে বর্তমানে আড়াই লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে। ফলে জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা দেশে মোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে।

সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

তিনি জানান, মজুত করা জ্বালানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছে ডিজেল- ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ডিজেল মজুত থাকায় কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

এছাড়া, অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। পেট্রোলের মজুত ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন, ফার্নেস অয়েল ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।

যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, বর্তমান মজুত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধিদল।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।এ সময় পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




সাউন্ড কেলেঙ্কারি নয়, বহুমাত্রিক দুর্নীতি! টেন্ডার ‘ম্যানেজ’ করে একের পর এক কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে একই প্রতিষ্ঠান

এসএম বদরুল আলমঃ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের প্রথম দিনেই ঘটে যাওয়া সাউন্ড সিস্টেম বিপর্যয় এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ‘যান্ত্রিক ত্রুটি’ নয়—এটি ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে একটি সুসংগঠিত, বহুমাত্রিক আর্থিক কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবে।

এর সঙ্গে এবার যুক্ত হলো আরও বিস্ফোরক তথ্য—একই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান আমানত এন্টারপ্রাইজ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে একই কৌশলে কাজ বাগিয়ে নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

সংসদ কেলেঙ্কারি থেকে মুগদা হাসপাতাল—একই চক্র !

সংসদের সাউন্ড সিস্টেম বিপর্যয়ের পেছনে যে আমানত এন্টারপ্রাইজের নাম উঠে এসেছে, সেই একই প্রতিষ্ঠান মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রকল্পেও বিতর্কিতভাবে দুটি বড় কাজ দখল করে— ফায়ার ডিটেকশন ও প্রোটেকশন সিস্টেম — প্রায় ৮ কোটি টাকা, এয়ার কুলিং সিস্টেম — প্রায় ১৬ কোটি টাকা। মোট ২৪ কোটি টাকার এই দুই প্রকল্প ই/এম-৬ ডিভিশনের অধীনে দেওয়া হলেও অভিযোগ রয়েছে— টেন্ডার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘উচ্চ পর্যায়ের আঁতাতে’ কাজ বাগিয়ে নেয় আমানত এন্টারপ্রাইজ।

দুই বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরুই হয়নি !

প্রশ্ন উঠছে— কাজ শুরু না করেই কেন টেন্ডার দেওয়া হলো ? কার স্বার্থে এই দীর্ঘসূত্রতা ? সরকারি অর্থ কি পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে অন্যত্র ব্যবহার করা হচ্ছে ?

“টেন্ডার ক্যাপাসিটি নেই, তবুও সব কাজ একাই !”

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক তথ্য— ই/এম ডিভিশন-৪ এর অধীনে প্রায় ৩০ কোটি টাকার একটি ইলেকট্রিক্যাল কাজও একইভাবে ‘ম্যানেজ’ করে নেয় এই প্রতিষ্ঠান অথচ অভিযোগ— প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত টেন্ডার ক্যাপাসিটি নেই, তবুও এককভাবে বিভিন্ন ডিভিশনে কাজ পাচ্ছে, এতে স্পষ্ট প্রশ্ন— এটি কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নাকি পরিকল্পিতভাবে ‘একক আধিপত্য’ প্রতিষ্ঠার খেলা?

হঠাৎ বদলি—চাপের মুখে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’?

এই ঘটনার মধ্যেই সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস আদেশ— স্মারক নং:- ২৫.৩৬.০০০০.২১১.১২.১০৩.১৭-৪৫২, তারিখ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, কার্যালয়: প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সেগুনবাগিচা, ঢাকা।

প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয় : জনস্বার্থে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাৎক্ষণিক বদলি— মোঃ আনোয়ার হোসেন → ই/এম বিভাগ-৭ থেকে বিভাগ-১২, রিসালাত বারি → বিভাগ-১২ থেকে বিভাগ-৭, সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে: ২ এপ্রিলের মধ্যে যোগদান না করলে ৫ এপ্রিল থেকে “তাৎক্ষণিক অবমুক্ত” বলে গণ্য করা হবে।

প্রশ্ন উঠছে—এই বদলি কি ‘শাস্তি’, নাকি ‘আড়াল’?

বিশেষজ্ঞদের মতে—বড় কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে অনেক সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং এতে তদন্তের গতিপথ ভিন্নদিকে ঘুরে যায়। বিশেষ করে যখন— একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ থাকে
এবং একই ঠিকাদার বারবার বড় প্রকল্প পায় তখন এই ধরনের বদলি আদেশকে অনেকেই দেখছেন “ড্যামেজ কন্ট্রোল অপারেশন” হিসেবে।

সংসদ কেলেঙ্কারি—শুধু শুরু? সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে—

নিম্নমানের কেবল জোড়া দেওয়া তার, পরীক্ষাবিহীন ইনস্টলেশন, অতিরিক্ত দামে যন্ত্রাংশ কেনা এবং তার সঙ্গে— একই ঠিকাদারের একাধিক প্রকল্প দখল, কাজ না করেই কোটি টাকা আটকে রাখা এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম। সব মিলিয়ে এটি এখন আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়— বরং একটি গভীরভাবে প্রোথিত দুর্নীতির নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত।

“মিডিয়া ম্যানেজ” থেকে “প্রকল্প দখল”—সব এক সুতোয় গাঁথা ?

আগেই অভিযোগ উঠেছে—প্রায় ২ কোটি টাকা খরচ করে মিডিয়া ম্যানেজ করা হয়েছে, অনেক অনলাইন পোর্টাল থেকে সংবাদ গায়েব। এখন দেখা যাচ্ছে—একই সময়েই প্রকল্প বণ্টন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং কাজ আটকে রাখা—সবই চলছে সমান্তরালে

শেষ কথা: রাষ্ট্রের অর্থ, কার হাতে ?

জাতীয় সংসদ থেকে হাসপাতাল—রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পগুলো যদি একই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তাহলে প্রশ্ন একটাই—রাষ্ট্রের অর্থ কি উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে, নাকি পরিকল্পিতভাবে লুট হচ্ছে?

আমাদের দাবি : সংসদ ও মুগদা প্রকল্পসহ সংশ্লিষ্ট সব কাজের স্বাধীন ফরেনসিক অডিট, আমানত এন্টারপ্রাইজের সব প্রকল্প তাৎক্ষণিক তদন্তের আওতায় আনা, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব যাচাই এবং বদলি নয়—দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

এই কেলেঙ্কারি এখন শুধু একটি প্রকল্পের নয়—এটি রাষ্ট্রীয় সুশাসনের পরীক্ষার প্রশ্ন।
এখন দেখার—সত্য প্রকাশ পায়, নাকি আবারও কোটি টাকার অনিয়ম চাপা পড়ে যায়।




ইলিয়াস আলীর লাশ ফেলা হয় ধলেশ্বরীতে

ডেস্ক নিউজঃ সাবেক ডিজিএফআই মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গ্রেপ্তারের পর তাকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও রাষ্ট্রীয় অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা। জিজ্ঞাসাবাদে ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে দায় চাপাচ্ছেন অন্যদের উপর। তবে তিনি বিএনপি নেতাকে গুম, নেপথ্য, কারা জড়িত এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টদের। ডিবি তার দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই করছে।

শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন, গুম করার সংকেত আগেই দেয়া হয়েছিল। ইলিয়াস আলী টিপাইমুখ বাঁধ এবং পার্শ্ববর্তী একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ট্রানজিট ও ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। এই বাঁধ ও চুক্তি ওই দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ইলিয়াস আলী এর বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলনও করেছিলেন। এরপরই সরকারের রোষানলে পড়েন। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে ইলিয়াস আলীকে সরিয়ে দেয়া হয়। শেখ হাসিনা তৎকালীন ডিজিএফআই প্রধান ও র‌্যাব’র মহাপরিচালকে গুমের মিশন বাস্তবায়ন করার নির্দেশনা দেন। গুমের পুরো প্রক্রিয়া রেকি ও বাস্তবায়ন করে র‌্যাব-১। আর র‌্যাবকে সহযোগিতা করে ডিজিএফআইয়ের কিছু কর্মকর্তা। সবচেয়ে বড় ভূমিকা ও ইলিয়াস আলী গুম মিশনের নেতৃত্ব দেন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান।

শেখ হাসিনা ঘটনার আগে পরে জিয়াউলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেন। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে বনানী থেকে গুম করে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে। সেখানে ইলিয়াসকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করে মারধর করা হয়। গোয়েন্দাদের সূত্র জানিয়েছে, তুলে নেয়ার পর ১৭ থেকে ২০শে এপ্রিলের কোনো এক রাতে ইলিয়াস আলীকে হত্যা করে ধলেশ্বরী নদীতে লাশ ফেলে দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে গুম হওয়া স্বামীর সন্ধান চেয়ে ২১শে এপ্রিল ইলিয়াসপত্নী সন্তানদের নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। পরে শেখ হাসিনা জিয়াউল আহসানকে ফোন দিলে ইলিয়াস আলীকে চূড়ান্ত গুম করার ইঙ্গিত দেন ওই কর্মকর্তা।

এদিকে সরকারের নির্দেশনায় ইলিয়াস আলীকে গুম করা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তারের পর দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার ৫ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে ফের সাতদিনের রিমান্ড চান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। আদালত আবার তার ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন খালেদ জানান, ইলিয়াস আলীকে গুম করার জন্য কাজ করে ডিজিএফআই ও র‌্যাব’র একটি বিশেষ টিম। তাদের আগে থেকেই ব্রিফ করে তৈরি করা হয়েছিল। সার্বিকভাবে দিকনির্দেশনা মামুন খালেদ নিজেই দিয়েছিলেন।

ইতিমধ্যে আলোচিত এই গুম নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার পর গুমের সঙ্গে জড়িত র‌্যাব ও ডিজিএফআইয়ের সকল সদস্যকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও তাদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করেছেন। কেউ আগেই গা-ঢাকা দিয়েছেন। কেউ অবসরে গেছেন। অনেকেই এখনো চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন। মামুন খালেদ জানিয়েছেন, ইলিয়াস আলী গুম মিশনে ডিজিএফআইতে কর্মরত দু’জন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। আর ইলিয়াস গুমের বিষয়ে অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষপদধারীরা অবগত ছিলেন।

গুমের স্বীকার বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী বেঁচে আছেন নাকি তাকে মারা হয়েছে এমন প্রশ্ন চৌদ্দ বছর ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে তার কর্মী, সমর্থক ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। কিন্তু সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর কেউ দিতে পারেনি। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তো উত্তর মিলেনি বরং ওই সময় ইলিয়াস আলী গুম নিয়ে কোনো তদন্তই হয়নি বলে দাবি করেছেন তার পরিবার ও বিএনপি। একটি পক্ষ আগেই ধারণা করেছিলেন ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে। আর আরেকটি পক্ষ মনে করতেন ইলিয়াস বেঁচে আছেন এবং তিনি ফিরবেন। কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের পর ডিজিএফআই নিয়ন্ত্রণাধীন আয়নাঘর খ্যাত বন্দিশালা থেকে গুমের শিকার অনেকেই মুক্তি পান। তখনো ইলিয়াস আলী ফিরেননি। এরপর থেকে তার ফিরে আসার আশা একেবারেই ক্ষীণ হয়ে আসে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদীর লুনাও এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, আমার স্বামী ইলিয়াস আলী কোথায়?

তদন্ত সূত্র জানায়, ঘটনার রাতে সন্ধ্যার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ইলিয়াস আলী তৎকালীন শেরাটন হোটেলে (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল) বসে মিটিং করছিলেন। রাত ১১টার দিকে তিনি নেতাকর্মীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। তখন থেকেই তাকে অনুসরণ করছিল জিয়াউল আহসানের গুম স্কোয়াডের এক সদস্য। তিনি একটু পর পর ইলিয়াস আলীর গাড়ির অবস্থান জিয়াকে জানিয়ে দেন। মহাখালী পৌঁছার পর ইলিয়াস আলীর গাড়ি সরাসরি অনুসরণ শুরু করে জিয়ার টিম। মহাখালী থেকে বনানীর ২ নম্বর সড়কে যাওয়ার পর গাড়িকে ধাক্কা দিয়ে থামানোর পর ড্রাইভার আনসারসহ ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করে এই টিমের সদস্যরা। তারপর সেখান থেকে নেয়া হয় র‌্যাব-১ সদর দপ্তরে।




ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করল আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাত। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে দেশটিতে আগামী ২৭ মে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।

গালফ নিউজের প্রতিবেদন অনুসারে, আগামী ২৬ মে মঙ্গলবার পবিত্র আরাফাত দিবস পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই হিসেবে পরদিন ২৭ মে বুধবার আরব আমিরাতে ঈদুল আজহা পালিত হবে।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে ২৭ মে বুধবার থেকে ২৯ মে শুক্রবার পর্যন্ত ঈদুল আজহার ছুটি থাকবে আমিরাতে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হলে আমিরাতের বাসিন্দারা টানা ছয় দিনের এক দীর্ঘ ছুটি উপভোগ করতে পারবেন বলে গালফ নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মহান আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর ত্যাগের মহিমাকে স্মরণ করে হিজরি সনের ১২তম ও শেষ মাসে উদযাপিত হয় ঈদুল আজহা। প্রার্থনা, দান-খয়রাত এবং স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগিই এই দিনের মূল অনুষঙ্গ।

ঈদুল আজহার দিনের প্রধান আমল হলো কোরবানি করা। কোরবানি ইসলামের অন্যতম নিদর্শন। শরিয়তে কোরবানির যে পন্থা ও পদ্ধতি নির্দেশিত হয়েছে, তার মূলসূত্র ‘মিল্লাতে ইবরাহিমি’তে বিদ্যমান ছিল। কোরআন ও হাদিস থেকে তা স্পষ্ট জানা যায়। এজন্য কোরবানিকে ‘সুন্নাতে ইবরাহিমি’ নামে অভিহিত করা হয়।




চার অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের সম্ভাবনা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রংপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলে বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যার মধ্যে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমনটি জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বয়ে আসা ঝড়ের সঙ্গে দমকা বাতাস, বৃষ্টি এবং বজ্রসহ বৃষ্টি থাকতে পারে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য ২ নম্বর নৌ-হুঁশিয়ারি সংকেত দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এসব অঞ্চলে নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখানোর নির্দেশ ছিল।

বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে নৌ চলাচলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তাই স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।




চার দিনের সফর শেষে ঢাকা ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক নিউজঃ চার দিনের সরকারি সফর শেষে নিজ জেলা পাবনা থেকে ঢাকায় ফিরেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠের হেলিপ্যাড থেকে হেলিকপ্টারযোগে তিনি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা দেন।

এর আগে শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে বঙ্গভবন থেকে রওনা হয়ে পাবনার শহীদ অ্যাডভোকেট আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে অবতরণের মাধ্যমে তার সফর শুরু হয়। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাকে স্বাগত জানান।

সফরকালে রাষ্ট্রপতি সার্কিট হাউজে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেন এবং সুধীজনদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। দ্বিতীয় দিন তিনি সদর উপজেলার আরিফপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে গিয়ে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন এবং দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এ ছাড়া তিনি পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। 
সোমবার (৩০ মার্চ) রাষ্ট্রপতি ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করেন এবং নিজ বাসভবনে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটান। পাশাপাশি তিনি পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জেলার উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত উদ্যোগ সম্পর্কে অবগত হন এবং সম্ভাবনাময় খাতগুলো কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দলও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সফরকালে তিনি পাবনা সদরের চরভবানিপুরে একটি শাহী জামে মসজিদের নির্মাণ কাজের অগ্রগতিও পরিদর্শন করেন।
পুরো সফরজুড়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় ব্যাপক প্রস্তুতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জোরদার করা হয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 



ভারত ভিসা স্বাভাবিকীকরণ করবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ভারত বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক রাখতে চায় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওরা ভিসা স্বাভাবিকীকরণ করবে। আমি মনে করি দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জনগণ থেকে জনগণের সম্পর্ক, এমনকি মেডিকেল ভিসা স্বাভাবিক করার জন্য ভিসা সহজীকরণ মানে আগের জায়গায় ফিরে যাওয়া উচিত। তারা নিশ্চয়ই এটা করবে, আমাদের তারা বলেছেও।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা জানান।

মানব পাচার বন্ধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় সব দেশেই বাংলাদেশের মানুষ বৈধভাবে যাক। তবে মানব পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ধরা জরুরি। লিবিয়াসহ সব দেশেই লোক যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমস্যাটা হচ্ছে অসাধু লোকেরা সুযোগ নিয়ে লাভের জন্য মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করে; সরকার সেটিই বন্ধ করতে চায়।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বিএনপি সরকার এখন বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে। নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারাই (ভারত) বলেছে, নতুন করে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায়।




হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া বাংলাদেশি ৬ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিলো ইরান

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা বাংলাদেশের ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশেষে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান। 

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমী জাহানাবাদী এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।

তিনি জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কাউন্সিল ইতিমধ্যে বাংলাদেশি জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। বর্তমানে আটকে থাকা এই ছয়টি জাহাজকে নিরাপদ পরিবেশে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ইরান সরকার অত্যন্ত নিবিড়ভাবে ও একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

জাহাজে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রুদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদী এই সৌজন্যমূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বিষয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

তার মতে, বর্তমান এই সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল ‘উদ্বেগ’ প্রকাশ যথেষ্ট নয়, বরং উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দায়ী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধে স্পষ্ট ‘নিন্দা’ জানানো প্রয়োজন ছিল বলে ইরান মনে করে।

সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও ভাইপ্রতিম দেশ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, যেকোনো সংকটের সময়ে দুই দেশ সবসময় একে অপরের পাশে শক্ত অবস্থানে থেকে সহযোগিতা করবে। হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচলের এই অনুমতি পাওয়ায় বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে থাকা অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল, যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের এই জাহাজগুলোও সেখানে আটকা পড়ে।

বর্তমানে জাহাজগুলোর যাত্রা শুরুর প্রক্রিয়া তদারকি করছে ইরানের নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা ছাড়াই জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় পৌঁছাতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি ইতিবাচক প্রতিফলন। তবে রাষ্ট্রদূত জাহানাবাদীর বক্তব্যে এটিও স্পষ্ট হয়েছে, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ করে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তারা বাংলাদেশের কাছ থেকে আরও জোরালো সমর্থন ও সরাসরি নিন্দা প্রস্তাব আশা করছে।