ঢাবিতে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে

ডেস্ক নিউজঃ বাংলা নববর্ষ-১৪৩৩ উদযাপনে কর্মসূচি প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা নববর্ষ সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি ও অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’। উপাচার্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষ উদযাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক এবং চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখকে সদস্য-সচিব করে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উপ-কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এদিকে সভায় জানানো হয়, নববর্ষ উপলক্ষে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি ঘুরে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। নববর্ষের সব অনুষ্ঠান বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে। সভায় আরও জানানো হয়, এদিন বিকেল ৫টার পর ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে, তবে বের হওয়া যাবে। নববর্ষের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। নববর্ষের দিন ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে এবং মোটরসাইকেল চালানোও নিষেধ করা হয়েছে।

পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের মুখোশ পরা ও ব্যাগ বহন করা যাবে না। তবে চারুকলা অনুষদ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মুখোশ হাতে নিয়ে প্রদর্শন করা যাবে। এছাড়া ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করে তা মনিটরিংয়ের জন্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।




দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বৃদ্ধি, ভরিতে ৩২৬৬ টাকা

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা স্বর্ণ) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মঙ্গলবার সকালে বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গত ২৮ মার্চ দুদফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয় ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। অবশ্য তার আগে টানা সাত দফায় ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম কমানো হয় ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা।

এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৩ হাজার ১৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ২১৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৩ টাকা।

এর আগে গত ২৮ মার্চ বিকেল ৪টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ৪ হাজার ১৪০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের ৩ হাজার ৬১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ হাজার ৯১৬ টাকা বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৪৭ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।

এখন স্বর্ণের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো রয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৩৪ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

ডেস্ক নিউজঃ নবনিযুক্ত ৪২টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে রাত সাড়ে ৯টায় কার্যালয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। নিয়োগের পর এটিই প্রশাসকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জেলা পরিষদের প্রশাসকদের মাঠ পর্যায়ে কার্যকরভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার কাঠামো শক্তিশালী করা, তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবা নিশ্চিতের বিষয়ে নবনিযুক্ত প্রশাসকদের নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।




৬ জেলায় দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঢাকাসহ দেশের ৬ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়া অধিদফতরের দেয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়েছে, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বাড়তি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এ ছাড়া, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এ পরিস্থিতিতে দেশের সব বিভাগে আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।




হামের ভ্যাকসিন আনতে দ্রুত কাজ করছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহে জোর দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) খাতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে- এমনটাই জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ইপিআই  খাতে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। ভ্যাকসিন কেনার জন্য পারচেজ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ফাইন্যান্স কমিটিতেও এটি পাস হয়েছে। আমরা হামের ভ্যাকসিন আনতে দ্রুত কাজ করছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের টিকা আসবে। টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দ্রুত আমাদের জনগণকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করব। আমরা জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই— আমাদের সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইনশাআল্লাহ, আমরা আমাদের এই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।’

আপনারা জানেন, বর্তমানে হামের একটি আক্রমণ চলছে উল্লেখ করে মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা দ্রুত ভেন্টিলেটর, আইসিইউ ইউনিট এবং ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করেছি- যা অতীতে কখনো হয়নি। আমরা এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’

তিনি বলেন, ‘হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকলে আমরা ডিএনসিসির কোভিড মোকাবিলার জন্য তৈরি বড় স্পেসগুলো পরিষ্কার করে পুনরায় চালু করি। শিশু ও হাম রোগীদের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড, আইসোলেশন এবং ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মানিকগঞ্জে ৮ শয্যার আইসিইউ ইউনিট ভেন্টিলেটরসহ চালু করা হয়েছে। রাজশাহীতে আমরা পাঁচটি ভেন্টিলেটর পাঠিয়েছি।’

এদিকে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বর্তমানে হামের একটি তীব্র আক্রমণের মুখোমুখি। হঠাৎ করে কেন এটি বেড়ে গেল, সেটাও বুঝতে হবে। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নিয়মিত ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা ছিল। ২০১৮ সালে একটি ক্যাম্পেইন হয়েছিল, যা প্রতি চার বছর পরপর হওয়ার কথা। এই ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য হলো- যেসব শিশু বাদ পড়ে গেছে বা নতুন জন্ম নেওয়া শিশুদের টিকা দেওয়া। কিন্তু ২০১৮ সালের পর আর কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। ফলে যেসব শিশু টিকা পায়নি, তাদের মধ্যেই এখন হাম বেশি ছড়াচ্ছে এবং মারাত্মক আকার ধারণ করছে।’




জাতীয় ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজঃ ক্রীড়াকে পেশা ও জীবিকার মাধ্যমে উন্নীত করতে সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় ক্রীড়াবিদদের বেতনের আওতায় এনেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে তেজগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ক্রীড়া ভাতা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রথম পর্যায়ে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে। বেতনের পাশাপাশি সরকার তাদের সম্মাননা ও প্রণোদনা প্রদান করেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো ধাপে ধাপে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই বেতন কাঠামোর আওতায় আনা।
যেসব ক্রীড়াবিদ এই সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। পারফরম্যান্স ধরে রাখলে সুবিধা অব্যাহত থাকবে, আর ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়বেন।
সব ক্রীড়াবিদকে সমান বেতন দেওয়া হবে, তবে এর নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এটি ঘোষণা করা হবে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা।



সংসদের সাউন্ড সিস্টেমে গণ্ডগোল, আড়ালে তার চুরি ও দুর্নীতির অভিযোগ -নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের দিকে সন্দেহের তীর

এসএম বদরুল আলমঃ জাতীয় সংসদের নতুন অধিবেশনের শুরুতেই বড় ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যখন স্পিকারের বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ করেই মূল সাউন্ড সিস্টেম বিকল হয়ে যায়। নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বারবার চেষ্টা করেও মাইক্রোফোন চালু করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে বাধ্য হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিবেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় এবং পরে আবার তা শুরু করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয় এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। সংসদ ভবনের সাউন্ড সিস্টেম, আলো ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি উন্নয়নের জন্য প্রথমে প্রায় ২৩ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাব করা হলেও পরে তা কমিয়ে ১২ কোটি টাকায় অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পে বিদেশি বিশেষজ্ঞ লারস ভিডেক্যামকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি পুরো সিস্টেম বদল না করে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ মেরামত করার পরামর্শ দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি।

পরবর্তীতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন হেডফোন ও গুজনেক মাইক্রোফোন স্থাপন করা হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, এসব যন্ত্রপাতি ঠিকমতো বসানো হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনভিজ্ঞ ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানোর কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই যন্ত্রপাতি পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে, যা রাষ্ট্রের আরও অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

এই প্রকল্পে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘আমানত এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ঢাকা গণপূর্ত ইএম জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেনের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া প্রকল্প তদারকির সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলী আসিফুর রহমান ও সামসুল ইসলামকেও দায়ী করা হচ্ছে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে। তিনি পূর্বে দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পের নিয়ম ভেঙে নিজের পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। এমনকি তার কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার তদন্তও হয়েছে এবং তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছিল। তবে পরে তিনি আবার গুরুত্বপূর্ণ পদে ফিরে আসেন, যেখানে আশ্রাফুল হকের সহায়তার কথাও শোনা যাচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাউন্ড সিস্টেমের তার বা কেবল নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় উচ্চমানের কেবল ব্যবহার করা জরুরি। কিন্তু এখানে নিম্নমানের কেবল ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে তার জোড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সাউন্ড সিস্টেমে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। আরও অভিযোগ আছে, ব্যবহৃত কেবলগুলোর কোনো মান যাচাই বা পরীক্ষার প্রমাণও নেই।

এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গণমাধ্যমে দাবি করছেন, তারা আন্তর্জাতিক মানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেছেন এবং তাদের কোনো গাফিলতি নেই। তবে সমালোচকদের মতে, হেডফোন বা মাইক্রোফোনের বিষয়টি সামনে এনে মূল সমস্যাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই ঘটনায় শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং পরিকল্পনা, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এসেছে। এখন সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর না ঘটে।




এলকেএসএসকে ঘিরে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগে তোলপাড়, তদন্তে বেরোচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

এসএম বদরুল আলমঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি সমবায়ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এলকেএসএস হিউম্যান রিসোর্স সেন্টারকে ঘিরে নানা ধরনের গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনবল গঠনের কথা বললেও এখন অভিযোগ উঠেছে, এসবের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার, জাল নথি ব্যবহার, কর ফাঁকি এবং কর্মীদের অর্থ আত্মসাতের মতো অনিয়ম চলেছে।

এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে বর্তমানে তদন্ত চলছে, যার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম-মহাপরিদর্শক মোঃ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এলকেএসএস-এর বিভিন্ন কার্যক্রমে অসংখ্য অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানটির নাম ব্যবহার, জমা দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদ, প্রকল্প সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ভ্যাট-ট্যাক্স সংক্রান্ত তথ্যের মধ্যে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে।

সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো—লাইসেন্স ছাড়া আউটসোর্সিং জনবল সরবরাহ। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এলকেএসএস সেই লাইসেন্স না পেয়েও লাইসেন্সের আবেদনের ফটোকপি ব্যবহার করে টেন্ডারে অংশ নিয়েছে এবং প্রভাব খাটিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ বাগিয়ে নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এইভাবে প্রতিষ্ঠানটি হাজার কোটি টাকার বেশি সরকারি প্রকল্পের কাজ নিয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও উঠেছে বড় অভিযোগ। অনেকের দাবি, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিয়োগ না দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় নির্দিষ্ট কিছু লোককে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে একটি অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনের চক্র গড়ে ওঠে, যেখানে নিয়োগ পেতে অর্থ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির ভেতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এসব বিষয়ে অসন্তোষ থাকলেও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর কারণে বিষয়গুলো চাপা পড়ে গেছে।

লাইসেন্সের বিষয়টিও বেশ জটিল। জানা গেছে, ২০১৮ সালে এলকেএসএস হিউম্যান রিসোর্স সেন্টার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে জমা দেওয়া কাগজপত্রে অসত্য তথ্য পাওয়ায় সেই আবেদন বাতিল করা হয়। তারপরও তারা কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং টেন্ডার পেয়েছে—যা বড় ধরনের অনিয়ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্যাক্স ও ভ্যাট সংক্রান্ত বিষয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ টিন বা ভ্যাট সনদ ছিল না। অথচ তারা ভুয়া নথি ব্যবহার করে কাজ নিয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে প্রায় ৫৬০০ কর্মীর বেতনের বিপরীতে যে ভ্যাট-ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা ছিল, তার একটি বড় অংশ জমা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় সাড়ে আট কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অথচ টিন সনদ নেওয়া হয়েছে ২০২৪ সালে এবং ভ্যাট নিবন্ধন করা হয়েছে ২০২৫ সালে—যা আগের কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো কর্মীদের অর্থ আত্মসাৎ। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মীর জন্য এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখার কথা, যা চাকরি শেষে ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ জমা না দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

নথি জালিয়াতির অভিযোগও সামনে এসেছে। বিভিন্ন টেন্ডারে জমা দেওয়া অভিজ্ঞতার সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করে সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে। এসব প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এদিকে সিরাজগঞ্জের হাটিকামরুল এলাকায় জমি ক্রয়, ভবন নির্মাণ এবং একটি রেস্টুরেন্ট প্রকল্প নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এলজিইডির প্রকল্পের টাকা ব্যবহার করে সেখানে অবকাঠামো তৈরি করা হয় এবং পরে সেটি ভাড়া দেওয়া হয়। ভাড়ার অগ্রিম অর্থ সরকারি হিসাবে জমা না দিয়ে সংশ্লিষ্টরা ভাগাভাগি করে নেন। পরে সরকার ওই জায়গা অধিগ্রহণ করলে প্রায় সাড়ে তের কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হয়, যা সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে। বিষয়টি সরকারি অর্থ তছরুপের বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই পুরো ঘটনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—এলকেএসএস কি সত্যিই জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান, নাকি এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আর্থিক স্বার্থ রক্ষার মাধ্যম? কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হলেও বাস্তবে নিয়োগ কতটা স্বচ্ছ ছিল, তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজুর রহমান ভূইয়া জানিয়েছেন, ব্যক্তিগতভাবে কাউকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, পুরো প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকি। তাই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

 




শাহজালালে ফ্লাইট বিপর্যয়, এক মাসে ৮৫৮ ফ্লাইট বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা সংকট, আকাশসীমা বন্ধ এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রভাবে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত এক মাসে বড় ধরনের ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী ও মধ্যপ্রাচ্যফেরত মোট ৮৫৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে একই সময়ে সীমিত পরিসরে মোট ১,১৯০টি ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রবিবার রাতে বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান- এই কয়েকটি দেশের আকাশসীমা আংশিক বা পূর্ণভাবে বন্ধ থাকা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এই বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া প্রবাসী কর্মী, ট্রানজিট যাত্রী এবং পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারীদের ওপর।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও ওমান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত-গামী কিছু ফ্লাইট ধাপে ধাপে চালু রাখা হয়। বিশেষ করে মার্চের মাঝামাঝি থেকে কিছু রুটে ফ্লাইট চলাচল বাড়তে থাকে।

তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত হয় ৬টি ফ্লাইট, ১ মার্চ ২০টি, ২ মার্চ ১৮টি, ৩ মার্চ ২২টি, ৪ মার্চ ৩৫টি, ৫ মার্চ ৩৮টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ৩৯টি, ৮ মার্চ ৩১টি, ৯ মার্চ ৪০টি, ১০ মার্চ ৪২টি, ১১ মার্চ ৩৬টি, ১২ মার্চ ৪৮টি, ১৩ মার্চ ৩৭টি, ১৪ মার্চ ৪৪টি, ১৫ মার্চ ৪৯টি, ১৬ মার্চ ৪০টি, ১৭ মার্চ ৪৫টি, ১৮ মার্চ ৪৫টি, ১৯ মার্চ ৪৫টি, ২০ মার্চ ৩৬টি, ২১ মার্চ ৩৭টি, ২২ মার্চ ৩৮টি, ২৩ মার্চ ৪৫টি, ২৪ মার্চ ৫০টি, ২৫ মার্চ ৪৫টি, ২৬ মার্চ ৫০টি, ২৭ মার্চ ৪৩টি, ২৮ মার্চ ৩৭টি, ২৯ মার্চ ৪৫টি এবং ৩০ মার্চ (পরিকল্পিত) রয়েছে ৫০টি ফ্লাইট।

এই সময়ে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর বড় অংশ ছিল ওমানের মাস্কাট, সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্য এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহ-গামী।

সবচেয়ে বেশি ফ্লাইট গেছে সৌদি আরব ও আমিরাতে

বিমানবন্দর সূত্রের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মার্চজুড়ে পরিচালিত ফ্লাইটের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সৌদি আরবগামী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতগামী ফ্লাইট।
বিশেষ করে ২৪, ২৬ ও ৩০ মার্চ- এই তিন দিনে প্রতিদিন ৫০টি করে ফ্লাইট পরিচালিত বা পরিকল্পিত হয়েছে, যা পুরো সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এছাড়া মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে দুবাইগামী ফ্লাইটের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি পর্যন্ত দুবাইগামী ফ্লাইট পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে।

যে কারণে বাতিল হলো শত শত ফ্লাইট

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ায় অনেক এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত, পুনঃনির্ধারণ বা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রুটে ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান ও ইউএইর আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়, সেসব রুটে শিডিউল বিপর্যয় বেশি হয়েছে।

ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, যেদিন ২৩টি ফ্লাইট বাতিল হয়। এরপর ১ মার্চ ৪০টি, ২ মার্চ ৪৬টি, ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ৩২টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি, ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২টি, ১১ মার্চ ২৭টি, ১২ মার্চ ২৮টি, ১৩ মার্চ ২৫টি, ১৪ মার্চ ২৬টি, ১৫ মার্চ ২৩টি, ১৬ মার্চ ৩১টি, ১৭ মার্চ ৩১টি, ১৮ মার্চ ২৬টি, ১৯ মার্চ ২৬টি, ২০ মার্চ ২৮টি, ২১ মার্চ ২৫টি, ২২ মার্চ ২০টি, ২৩ মার্চ ২০টি, ২৪ মার্চ ২০টি, ২৫ মার্চ ২০টি, ২৬ মার্চ ২২টি, ২৭ মার্চ ২২টি, ২৮ মার্চ ২১টি এবং ২৯ মার্চ ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।

সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত মোট বাতিল হয়েছে ৮৫৮টি ফ্লাইট।

৩০ মার্চও বাতিল থাকছে ১৮টি ফ্লাইট

বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, সোমবার (৩০ মার্চ) কয়েকটি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মোট ১৮টি ফ্লাইট বাতিল রয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে- কুয়েত এয়ারওয়েজ- ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়া, শারজাহ- ৪টি, গালফ এয়ার, বাহরাইন- ২টি, কাতার এয়ারওয়েজ- ৪টি, এমিরেটস ও ইউএই- ২টি, জাজিরা এয়ারওয়েজ, কুয়েত- ৪টি।

ফ্লাইট বাতিল ও শিডিউল পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী কর্মীদের ওপর। বিশেষ করে ঈদ-পরবর্তী সময়ে বহু যাত্রী কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে বাতিল, বিলম্ব ও পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইটের কারণে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে যাত্রীরা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিমানবন্দরে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন, অন্যদিকে শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের কারণে মানসিক চাপ, অতিরিক্ত ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট অপারেশন, যাত্রী ব্যবস্থাপনা ও এয়ারলাইন্স সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের সর্বশেষ ফ্লাইট আপডেট জেনে বিমানবন্দরে আসারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফ্লাইট অপারেশনও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায় অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।




লেবাননে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে ইসরাইলের হামলা, শান্তিরক্ষী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের একটি কন্টিনজেন্টের সদর দপ্তরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় এক শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউএন শান্তিরক্ষা মিশন (ইউএনআইএফআইএল)।

দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের মারজায়উন জেলার আদশিত আল-কুসায়ের এলাকায় শান্তিরক্ষীদের ওই ঘাঁটি ইসরায়েলি গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। এতে সেখানে থাকা ইন্দোনেশিয়ার শান্তিরক্ষীরা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছেন।

লেবাননের বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাদিদ জানায়, এ হামলার ঘটনায় হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহতদের এরই মধ্যে হেলিকপ্টারে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা জানানো হয়নি।

এছাড়াও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের শাকরা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। এতে আহত হয়েছেন আরও দুজন।

সূত্র : আল জাজিরা