ইরানের পক্ষে ইসরায়েলে দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। এক বিবৃতিতে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।

শনিবার ইরানের পক্ষে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে এই দ্বিতীয় দফা আক্রমণ চালালো হুথিরা। ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েল যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের ‘আগ্রাসন ও হামলা’ বন্ধ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আগামী দিনগুলোতেও হুথিদের এই সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।

হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের বেশ কিছু ‘গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। লেবানন, ইরান ও ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, এই হুমকি মোকাবিলায় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করার পর ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে হামলা হওয়ার বিষয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি।

হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আমরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি। ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে যদি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে অন্য কেউ যোগ দেয়, তবে আমাদের আঙুল সবসময় বন্দুকের ট্রিগারে রয়েছে।’

এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। হুথিদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।




হোয়াইট হাউসে ফোন দিতেই স্ক্রিনে ভেসে উঠলো ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে ফোন করলে কিছু সাংবাদিকের মোবাইল স্ক্রিনে কলার আইডি হিসেবে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি দেখা যায়।

বুধবার (২৫ মার্চ) এই ঘটনাটি ঘটার পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ওয়াশিংটন পোস্টের কয়েকজন সাংবাদিক প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে গুগলের পিক্সেল সিরিজের অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করার সময় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হচ্ছিল। তবে আইফোন থেকে কল করলে এমনটি দেখা যায়নি; সেখানে কেবল ফোন নম্বরই দেখা গেছে।

ওই দিন হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আয়োজনে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বনেতাদের স্ত্রীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ‘ফিগার ০৩’ নামের একটি মানবসদৃশ রোবট অতিথিদের ১১টি ভাষায় শুভেচ্ছা জানায়।

এই অনুষ্ঠানেই মেলানিয়া ট্রাম্পের পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের ‘স্টাইল’ বিভাগ হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে যোগাযোগ করে। সেই সময়ই কয়েকজন সাংবাদিকের ফোনে অস্বাভাবিক এই কলার আইডি দেখা যায়।

এ বিষয়ে গুগলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল জানান, গুগল ম্যাপে ভুয়া তথ্য সংযোজন বা ‘ফেক এডিট’-এর কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তার মতে, গুগলের কলার আইডি সিস্টেম সাময়িকভাবে ভুল তথ্যটি গ্রহণ করায় ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি প্রদর্শিত হয়েছিল।

তিনি আরও জানান, ত্রুটিটি ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য সংযোজনকারী ব্যবহারকারীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বর্তমানে পিক্সেল ফোন থেকে হোয়াইট হাউসে কল করলে আর এমন কোনো নাম দেখা যাচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেন, এই কলার আইডি বিভ্রাট সম্পূর্ণরূপে বাহ্যিক প্রযুক্তিগত সমস্যার ফল। এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ টেলিফোন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কের কারণে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। নারী ও শিশু পাচারসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত এপস্টেইনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতীত সম্পর্ক নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

ক্যারিবীয় অঞ্চলের লিটল সেন্ট জেমস দ্বীপে জেফরি এপস্টেইনের একটি ব্যক্তিগত এস্টেট ছিল, যা ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, গুগল ম্যাপে ভুয়া নাম, ভুল ফোন নম্বর বা বিভ্রান্তিকর ব্যবসায়িক তথ্য যুক্ত হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন স্কুল, প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর পরিবর্তন করা বা মিমভিত্তিক নাম যুক্ত করার মতো ঘটনা ঘটেছে।

সর্বশেষ এই ঘটনাটি আবারও প্রশ্ন তুলেছে—জনপ্রিয় ডিজিটাল ম্যাপ ও কলার আইডি প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য যাচাই ব্যবস্থা কতটা নির্ভরযোগ্য?




সচিবালয়ে কর্মরতদের সঠিক সময়ে উপস্থিতি নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর ঝটিকা সফর

ডেস্ক নিউজঃ সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৯টার কিছুক্ষণ পর তিনি সচিবালয়ে পৌঁছান। সেখানে প্রবেশের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে না গিয়ে সরাসরি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে বের হন।

প্রথমে তিনি ৬ নম্বর ভবনে গিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে একই ভবনের বিভিন্ন তলায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পানি সম্পদ, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন।

এরপর তিনি ৫ নম্বর ভবনের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ৩ নম্বর ভবনের বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ঘুরে দেখেন। সব মিলিয়ে সচিবালয়ের অন্তত আটটি মন্ত্রণালয়ে আকস্মিকভাবে পরিদর্শন শেষে তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ফিরে যান।

এদিকে, দিনের অন্যান্য কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে কৃষক কার্ড সংক্রান্ত এক সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এতে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, অর্থ, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।




প্রিপেইড মিটারে মাসিক চার্জ থাকছে না: বিদ্যুৎমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অসন্তোষের অবসান ঘটিয়ে প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া (মিটার চার্জ) প্রত্যাহার করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (২৯ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, “প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই এক ধরণের অস্বস্তি ও অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বিষয়টি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। একটি গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই আমরা এই মিটার চার্জ পদ্ধতিটি পুরোপুরি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বর্তমানে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী প্রত্যেক গ্রাহককে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে গুনতে হয়। গ্রাহকদের মূল অভিযোগ ছিল— মিটারের নির্ধারিত দাম পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও বছরের পর বছর ধরে এই চার্জ কেন নেওয়া হচ্ছে। এই চার্জ বাতিলের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও দাবি জানিয়ে আসছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।




তাহেরীর মাহফিলে ইউএনওর ১৪৪ ধারা, স্বেচ্ছাচারিতা নাকি তাবেদারি

মাধবপুর থেকে ফিরে : হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার শিমুলঘর গ্রামে ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী’র ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি “নাটকীয় পরিস্থিতি” সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

জানা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত কমিটির উদ্যোগে শনিবার(২৮ মার্চ) অনুষ্ঠিতব্য মাহফিলের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন, আয়োজকদের দাবি, প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধের তৎপরতা শুরু হয়।

পরবর্তীতে ২৭ মার্চ শুক্রবার মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাসেম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, “নূরে মদিনা গাউছিয়া” নামে একটি পৃথক কমিটির ব্যানারে ভুয়া একটি ওয়াজ মাহফিলের পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উল্লেখিত সভাপতি ও বক্তাদের কেউই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ভুয়া পোস্টার তৈরি করে এলাকায় পাল্টাপাল্টি মাহফিলের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করেছে।

ভুয়া পোস্টারে সভাপতি হিসেবে দেখানো স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা রোকন উদ্দিন সালেহী বলেন,“আমার নাম ব্যবহার করে যে পোস্টার তৈরি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভুয়া। আমি এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও জানান, প্রকৃত মাহফিলটি আয়োজন করছেন মুফতি মুজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন কমিটি। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করার কথা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরীর।

মাহফিল পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে মুফতি মুজাম্মেল হক মাসুমী অভিযোগ করেন,
“একটি চক্র প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করে আমাদের মাহফিল বন্ধ করার চেষ্টা করছে। আমরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রয়োজনে আমরা আইনগত ব্যবস্থায় যাব।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য কামাল মিয়া বলেন,“তাহেরী হুজুরের মাহফিলকে বাধাগ্রস্ত করতেই একটি চক্র এ কাজ করেছে। আমরা প্রশাসনকে বলেছি ১৪৪ ধারার প্রয়োজন ছিল না। তারপরও এটি জারি করা হয়েছে। আমরা চাই মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হোক।”

এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ১৪৪ ধারার সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান।

এ বিষয়ে ইউএনও জাহিদ বিন কাসেমের কাছে মাহফিল ও ভুয়া পোস্টার প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে এলাকার কয়েকজন প্রবীণ নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ মাহফিল বন্ধ করা হয়েছে। কারণ হিসাবে উনারা জানান বিগত নির্বাচনে হবিগঞ্জ -০৪ আসন থেকে চীপ প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার আমিনুল ইসলাম বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তাছাড়া মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি সরাসরি নির্বাচনে অনশগ্রহণ করেন পরাজিত হন। রাজনীতির মারপ্যাঁচে মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি ও চীপ প্রসিকিউটর এক মঞ্চে মানেই নতুন সমীকরণ। ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে তাই কৌশলে স্হানীয় গণমাধ্যম কর্মী (এম,এ,কাদের) কে বলির পাঠা বানিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি করে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। কেউ কেউ এই ১৪৪ ধারা কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর স্বেচ্ছাচারিতা হিসাবে মনে করলেও অনেকের মতে তাবেদারির শামিল।

কারণ শুক্রবার বিকেলে ই কথিত আরেকটি মাহফিলের প্যান্ডেল উধাও করে ফেলে কুচক্রীমহল। তাছাড়া কথিত প্যান্ডেল টি বিএনপির একটা মিটিংয়ের জন্য তৈরি বলে ডেকোরেটার্স মালিক জানান৷ সুশীল সমাজের ব্যাক্তিবর্গ মনে করেন বিএনপির অনুষ্ঠান শুক্রবার আর ওয়াজ মাহফিল শনিবার তাই এখানে ১৪৪ জারি উদ্দেশ্য প্রনোদিত।




ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত ৫ জনের বাড়ি একই গ্রামে, এলাকাজুড়ে শোক

ডেস্ক নিউজঃ টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে একই পরিবারের সদস্যসহ পাঁচ গার্মেন্টস শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে শোকের মাতম চলছে। নিহত সবার বাড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের নিজপাড়া গ্রামে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। ইতোমধ্যে কবর খননের কাজ চলছে। দুপুর বেলা বাদ যোহর জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের সমাহিত করা হবে।

গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন—নিজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে সুলতান মাহমুদ (২৮), তার চাচাতো বোন রিফা রেসা (২৪), প্রতিবেশী নার্গিস আক্তার (৪২), তার ১২ বছর বয়সী ছেলে নিরব এবং নিরবের বড় ভাইয়ের শাশুড়ি দোলা বেগম (৪৫)। নিহত নার্গিস আক্তার ওই গ্রামের হামিদুজ্জামানের স্ত্রী। তারা সবাই সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয় এবং জীবিকার তাগিদে ঢাকায় গার্মেন্টস শ্রমিকের কাজ করতেন।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ধলাটেংগর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এ সময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের পাশের রেললাইনে বসে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি কাটাতে তারা যখন গল্পে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখনই সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকা অতিক্রম করছিল। রেললাইনে বসে থাকা যাত্রীরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ পাঁচজন প্রাণ হারান।

ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করে জানান, মৃতরা সবাই অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সদস্য ছিলেন। কাজের সন্ধানে তারা ঢাকা যাচ্ছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা তাদের চিরতরে স্তব্ধ করে দিল। প্রিয়জনদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলোকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন প্রতিবেশীরাও। ঘাতক ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে একই গ্রামের পাঁচটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।




চট্টগ্রাম বন্দরে প্রভাবের অদৃশ্য জাল: কর্মকর্তা-শ্রমিক নেতাদের ঘিরে নতুন করে অভিযোগের বিস্তার

এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রাম বন্দরের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকার কথা শোনা যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন তথ্য, নথি এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি আগের ধারণার চেয়েও অনেক বড় ও জটিল। এখানে শুধু শ্রমিক রাজনীতি নয়, বরং কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক কাজ করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

এই আলোচনার কেন্দ্রে যাদের নাম ঘুরে ফিরে আসছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন সিবিএ সংশ্লিষ্ট নেতা নায়েবুল ইসলাম ফটিক, শ্রমিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ইব্রাহিম খোকন ও শেখ নূরুল্লাহ বাহার। এছাড়া পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম, শিপিং শাখার প্রধান সহকারী রফিকুল ইসলাম সেতু, প্রশাসনিক কর্মচারী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রধান সহকারী সরোয়ার হোসেন লাভলুর নামও বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক সুবিধা নেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নায়েবুল ইসলাম ফটিককে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে তার তথাকথিত ‘অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ’ নিয়ে। অভিযোগ আছে, দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তার প্রভাব কমেনি। বরং তার ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে তার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্তেও তার মতামত কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

অন্যদিকে, ইব্রাহিম খোকন ও শেখ নূরুল্লাহ বাহারকে ঘিরে শ্রমিক রাজনীতির আড়ালে প্রভাব বলয় তৈরির অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, তারা শুধু শ্রমিক সংগঠনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন, বরং বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও প্রভাব খাটাচ্ছেন। কমিশন বাণিজ্য, সুবিধা আদায় এবং নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দেওয়ার মতো অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে।

পরিচালক পর্যায়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পক্ষপাত দেখান, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের সুবিধা দেন এবং কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। যদিও এসব বিষয় নিয়ে তার পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

শিপিং শাখা ও প্রশাসনিক স্তরেও অনিয়মের অভিযোগ কম নয়। রফিকুল ইসলাম সেতু, আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সরোয়ার হোসেন লাভলুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, তথ্য ফাঁস এবং প্রভাব খাটানোর মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায় না।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইস্যুতেও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যক্তি একদিকে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন, আবার অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। এতে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

এর পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সঙ্গে মিল না থাকা সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে। একাধিক স্থানে সম্পত্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং অস্বচ্ছ আর্থিক লেনদেন নিয়ে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন ২০২৪ সালে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তলব করে তাদের সম্পদের হিসাব চেয়েছিল এবং একটি প্রাথমিক অনুসন্ধানও শুরু হয়। তবে সেই তদন্তের অগ্রগতি এখনো পরিষ্কার নয়।

সব মিলিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—এত অভিযোগ থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা কোথায়? অনুপস্থিত কর্মচারী এখনও বহাল, বিতর্কিত বদলি কার্যকর হয়নি, অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেকে দায়িত্বে রয়েছেন। এতে করে বন্দর প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। তাই এখানে যদি সত্যিই এমন একটি প্রভাবশালী বলয় সক্রিয় থাকে, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়—পুরো জাতীয় অর্থনীতির জন্যই উদ্বেগজনক। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।




ঢাকায় গণপূর্তে গোপন প্রভাববলয়: সমীরণ মিস্ত্রীকে ঘিরে বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ঘিরে আবারও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। ভেতরের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর দাবি, পুরো বিভাগজুড়ে এক ধরনের অদৃশ্য প্রভাববলয় কাজ করছে। এই বলয়ের কেন্দ্রীয় ব্যক্তি হিসেবে বারবার উঠে আসছে সমীরণ মিস্ত্রীর নাম। অফিসের ভেতরে-বাইরে তার প্রভাব নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। অনেকে মনে করেছিলেন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাবে, কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রভাবশালী কিছু প্রকৌশলী এখনও রাজধানীতেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করে রেখেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারর ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী এখনও সক্রিয় রয়েছে এবং সেই গোষ্ঠীর অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে সমীরণ মিস্ত্রীর নাম সামনে আসছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, প্রকল্প বণ্টন, এমনকি কর্মকর্তাদের কোথায় পোস্টিং হবে—এসব ক্ষেত্রেও তার প্রভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, অনেক সিদ্ধান্তই নাকি আনুষ্ঠানিকভাবে নয়, বরং অঘোষিতভাবে এই প্রভাববলয়ের মাধ্যমে ঠিক করা হয়।

শেরেবাংলা নগর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে মেরামতের নামে প্রায় ৮০ কোটি টাকার কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে তার উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, এসব প্রকল্পের বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং সেই টাকা কিছু ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারের মধ্যে ভাগ হয়ে গেছে। একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সংসদ সচিবালয়ের কাজ নিয়েও, যেখানে প্রকল্পের প্রকৃত কাজের তুলনায় খরচ অনেক বেশি দেখানো হয়েছে।

এছাড়া বদলি বাণিজ্য নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভেতরের তথ্য অনুযায়ী, পছন্দের জায়গায় পোস্টিং পেতে কর্মকর্তাদের বড় অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে। এই তথাকথিত ‘পেইড পোস্টিং’ সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমীরণ মিস্ত্রীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, ভালো পদে যেতে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হচ্ছে।

সমীরণ মিস্ত্রী দীর্ঘ সময় ধরে গণপূর্তের গুরুত্বপূর্ণ ইএম বিভাগ-৭ এ দায়িত্ব পালন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, পরে গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার এবং প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদর প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়ম বহির্ভূতভাবে একই বিভাগে বছরের পর বছর অবস্থান ধরে রাখেন। এমনকি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের—যেমন শেখ হেলালশেখ জুয়েল—সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাকে ইএম বিভাগ-৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ-১ এ বদলি করা হয় এবং তার জায়গায় দায়িত্ব পান আনোয়ার হোসেন। কিন্তু বদলির পরও তার প্রভাব পুরোপুরি কমেনি বলে অভিযোগ। বিশেষ করে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা চলছে। বলা হচ্ছে, সমীরণ মিস্ত্রীর অনুরোধেই পরবর্তীতে সিফাত ওয়াসীকেও তার নতুন কর্মস্থলে বদলি করা হয়, যা ঘটেছে সরকারি ছুটির দিনেই—যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

সিফাত ওয়াসীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি নিজ আওতাধীন এলাকায় দায়িত্ব পালনে চরম অদক্ষতা ও দুর্নীতির পরিচয় দেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো বারবার আড়াল করা হয়েছে সমীরণ মিস্ত্রীর প্রভাবের কারণে। দায়িত্ব পালনের পুরো সময়টিতেই তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর সঙ্গে লেপ্টে ছিলেন।

এ নিয়ে সে সময়ে নানা কথাবার্তা উঠলেও সমীরণ তার ক্ষমতাবলে আগলে রেখেছিলেন সিফাত ওয়াসীকে। সাবেক গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের স্ত্রী সিফাত ওয়াসীকে বদলি করার জন্য প্রধান প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানালেও সমীরণ নিজ ক্ষমতাবলে তা আটকে দিয়েছিলেন। সে সময়ে গুঞ্জন উঠেছিল তারা বিয়ে করেছেন।

ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও এই দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে, যা অফিসের পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও এসব বিষয়ে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তাদের নীরবতা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর কিছুটা পরিবর্তনের আশা তৈরি হলেও এখনো পর্যন্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই প্রভাবশালী চক্র এখনো আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠছে—গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও অনিয়মের অবসান আদৌ হবে কি না, নাকি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে সবকিছু আগের মতোই চলতে থাকবে। এখন সবার নজর নতুন নেতৃত্বের দিকে, তারা কতটা কার্যকরভাবে এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন, সেটাই দেখার বিষয়।




স্মৃতিসৌধে জাতীয় পার্টি-ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, জাতীয় পার্টির নেতা আহত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের আগমুহূর্তে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় এ ঘটনা ঘটে।

হাতাহাতি ও উত্তেজনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অন্যদিকে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব।

এ ঘটনায় জাতীয় পার্টির অন্তত একজন নেতা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।

জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ব্যানারসহ মিছিল ও ফুল নিয়ে লাইনে অপেক্ষা করার সময় একটি গ্রুপ তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এ সময় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা ভদ্রভাবে তা প্রতিরোধ করেন।

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, জাতীয় পার্টি স্লোগান দেওয়ার সময় ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকেও “মুজিববাদের দালালেরা হুশিয়ার সাবধান”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া শুরু হলে জাতীয় পার্টির এক নেতা ছাত্রশক্তির সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি নাঈম আবেদিনের ওপর হামলা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা জাতীয় পার্টির ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।

ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, “আমরা এখনো জানি না কারা করেছে (হামলা)। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, একাত্তরবিরোধী চক্র—যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, যারা পাকিস্তানকে ধারণ করে, যারা পাকিস্তানে আবার ফিরে যেতে চায়—তারা এই পবিত্র জায়গায় এই অপবিত্র কাজটি করতে পারে।”

তিনি বলেন, “আমরা যখন মিছিল নিয়ে আসছিলাম, তখন কিছু ছেলেপেলে আমাদের মিছিলে আক্রমণ করেছে। তবে আমাদের নেতাকর্মীরা সেটিকে ভদ্রভাষায় প্রতিহত করেছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, “এই ঘটনায় জাতীয় পার্টির কেউ হতাহত হয়নি। আমরা সর্বোচ্চ সাহসিকতার সঙ্গে ব্যাপারটি দেখেছি, আমরা তাদের উগ্র ফাঁদে পা দেইনি।”

অন্যদিকে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির সিনিয়র সহ-সভাপতি আহসান লাবীব বলেন, “সেখানে জাতীয় পার্টির লোকজন নানা ধরনের স্লোগান দিচ্ছিল। এসময় আমরাও স্লোগান দেওয়া শুরু করি, ‘মুজিববাদের দালালেরা হুঁশিয়ার, সাবধান’। এসময় জাতীয় পার্টির একজন নেতা আমাদের ছাত্রশক্তির একজন নেতার ওপর হামলা করেন, পরে আমাদের ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা তাদের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন।”

এদিকে শামীম হায়দার পাটোয়ারী দাবি করেন, নির্বাচনে হীন প্রক্রিয়া ও নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “একটা হীন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, একটা নীল নকশার মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে পার্লামেন্ট থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদে এই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। জাতীয় পার্টি ফিরে আসছে এবং বারবার ফিরে আসবে।”

তিনি বলেন, “২৬শে মার্চ আমাদের হাজার বছরের বাঙালির অর্জন। স্বাধীনতার চেতনা নিয়ে জাতীয় পার্টি এগিয়ে চলছে এবং সামনেও এগিয়ে চলবে।”

“আমরা একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, একটা সমতার বাংলাদেশ চাই, একটা সকলের বাংলাদেশ চাই। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তার নিজস্ব দলের। কিছু ব্যক্তি মনে করে বাংলাদেশ তাদের পৈতৃক ধন। এই বাংলাদেশের মালিক বাংলাদেশের জনগণ, আর জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল দল হিসাবে জাতীয় পার্টি রাজনীতি করছে। সামনেও রাজনীতি করবে”, যোগ করেন শামীম।




স্বাধীনতা দিবসে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ডেস্ক নিউজঃ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর পরই তিনি মা-বাবার সমাধিসৌধে উপস্থিত হন। পরে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়েও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এর আগে, আজ সকাল ৬টায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী।