দেড়যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে কুচকাওয়াজ, থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরক্ষা প্রদর্শনী

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ দেড়যুগ পর আবারও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অংশগ্রহণে স্থল ও আকাশে প্রদর্শিত হবে দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা।

স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে কয়েক দফা মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা।

এবারের কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তুলে ধরা হবে। প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল আসাদুল হক।

প্যারেডে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেবেন। ঘোড়ায় চড়ে প্যারেড কমান্ডারের প্রবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল কুচকাওয়াজ।

এবারের কুচকাওয়াজে থাকবে সাজোয়া, আর্টিলারি, সিগনালস, ইস্ট বেঙ্গল, এয়ার ডিফেন্স, সার্ভিসেস, প্যারা কমান্ডো, নৌবাহিনী ও আধুনিকায়িত ইনফ্যান্ট্রি কন্টিনজেন্টের অংশগ্রহণ।

আকাশপথে প্যারাট্রুপাররা জাতীয় পতাকা নিয়ে অবতরণ করবেন। একইসঙ্গে বিমান বাহিনীর বিভিন্ন কৌশলগত প্রদর্শনীও থাকবে। সবশেষে মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান রাষ্ট্রপতিকে সালাম জানিয়ে প্রদর্শনীর সমাপ্তি ঘটাবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা এই কুচকাওয়াজ স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনকে আরও বর্ণিল ও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।




২৫ ও ২৬ মার্চ আলোকসজ্জা করা যাবে না

ডেস্ক নিউজঃ ‘২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২৬’ পালন উপলক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাসমূহে কোনো অবস্থাতেই ২৫ মার্চ রাতে আলোকসজ্জা করা যাবে না।

উল্লেখ্য, জ্বালানি সংকট মাথায় রেখে কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্দেশ্যে এবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে দেশব্যাপী কোনো আলোকসজ্জা করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

গত ৮ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়।




বাংলাদেশিদের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের কারণ জানাল যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। মূলত সরকারি কল্যাণ সুবিধার ওপর চাপ কমাতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) এক বার্তায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের স্বার্থ রক্ষা করাই এই সিদ্ধান্তের প্রধান উদ্দেশ্য।

দূতাবাসের ভাষ্য অনুযায়ী, “আমাদের দায়িত্ব হলো নিশ্চিত করা যে অভিবাসীরা অবৈধভাবে সরকারি কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ না করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি না করেন।”

বার্তায় আরও বলা হয়, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধা ব্যবহারের হার তুলনামূলক বেশি, সেই বিবেচনায় বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে গত ২১ জানুয়ারি থেকে। এর ফলে অভিবাসন সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া ও নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। অনভিবাসী ভিসা—যেমন পর্যটক বা শিক্ষার্থী ভিসা—এর আওতার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না।




বিআইডব্লিউটিএ-তে ‘অঘোষিত গডফাদার’! শত কোটি টাকার দুর্নীতির কেন্দ্রে নিজাম উদ্দিন পাঠান

এসএম বদরুল আলমঃ নদীমাতৃক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), যার ওপর দেশের নদীপথ, বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার বিশাল দায়িত্ব ন্যস্ত। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানটিকেই ঘিরে উঠেছে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়মের একের পর এক গুরুতর অভিযোগ। সাম্প্রতিক একাধিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—সংস্থাটির ভেতরে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি চক্র, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নিজাম উদ্দিন পাঠান নামের এক কর্মকর্তা। এক সময়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হলেও বর্তমানে তিনি সংস্থার ভেতরে “অঘোষিত চেয়ারম্যান” কিংবা “গডফাদার” হিসেবেই বেশি পরিচিত।

জানা যায়, চাকরির শুরু থেকেই বড় বড় ঠিকাদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করেন নিজাম উদ্দিন পাঠান। সেই সম্পর্কই ধীরে ধীরে তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। পদোন্নতির সিঁড়ি বেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে পৌঁছে তিনি প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠতে থাকে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাব খাটিয়ে বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তিনি। রাজধানীর বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় তার নামে-বেনামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট থাকার কথা বলছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বনশ্রীর জে, এস ও সি ব্লকে একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়াও আশপাশে জমি ও বাড়ির মালিকানার অভিযোগ রয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী হলেও সেখানকার স্থানীয়দের প্রতিও তিনি উদাসীন—এমন কথাও শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রয়েছে নানা বিতর্ক ও গুঞ্জন।

বাঘাবাড়ি নদী বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেই তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদ জাফর নামের এক ঠিকাদারকে পুরো কাজ পাইয়ে দেওয়া হয় এবং বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাস্তবে কাজের অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে-কলমে প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। একইভাবে নগরবাড়ী-বাঘাবাড়ি প্রকল্পেও মাঠপর্যায়ে কাজের অস্তিত্ব না থাকলেও কাগজে সম্পূর্ণ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া ঠিকাদারদের সঙ্গে গোপন অংশীদারিত্বে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতির টাকায় ডেভেলপার ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পড়েন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। “এস এস রহমান কোম্পানি”-র মালিক মোহাম্মদ দিপুকে প্রায় ২৪০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবসায় ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে সচিবালয়ও নড়েচড়ে বসেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর ফাইল প্রস্তুত করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাইয়ে বিল, ভাউচার ও পেমেন্টের নথিপত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। একই কাজের জন্য একাধিকবার বিল তোলা এবং অনেক ক্ষেত্রে কাজ না করেই সম্পন্ন দেখানোর প্রমাণ মিলছে বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, বিআইডব্লিউটিএ-তে দীর্ঘদিন ধরেই একটি অস্বাস্থ্যকর সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে মেধা নয়—প্রভাব ও রাজনৈতিক পরিচয়ই প্রধান বিবেচ্য। নিয়োগে অনিয়ম, পারিবারিক প্রভাব, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আত্মীয়দের পুনঃনিয়োগসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “যে কর্মকর্তা ঠিকাদারের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখে, সেই-ই টিকে থাকে।”

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পেও ভয়াবহ অনিয়ম রয়েছে। কাজ হয়েছে অর্ধেকেরও কম, অথচ কাগজে দেখানো হয়েছে সম্পূর্ণ। নিম্নমানের নির্মাণ, অসম্পূর্ণ অবকাঠামো এবং বাস্তবতার সঙ্গে কাগুজে উন্নয়নের বিশাল ফারাক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে নগরবাড়ী, বাঘাবাড়ী ও খানপুর পোর্ট উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে।

এদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তাদের বক্তব্য—বিষয়টি তদন্তাধীন, তাই এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত সংস্কার না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিতে পারে। স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল মনিটরিং, উন্মুক্ত অডিট এবং টেন্ডার প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বাংলাদেশের নদীপথ অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে বিবেচিত বিআইডব্লিউটিএ যদি দুর্নীতির এই চক্র থেকে মুক্ত না হয়, তবে উন্নয়ন পরিকল্পনা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন আশঙ্কাই করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার প্রশ্ন—নিজাম উদ্দিন পাঠানের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের হাত থেকে আদৌ কি মুক্তি পাবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান?




নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণে টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ ঘিরে গুরুতর টেন্ডার কারসাজির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দরপত্র প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপে অসঙ্গতি, গাণিতিক বিভ্রান্তি এবং উদ্দেশ্যমূলক সংশোধনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এই প্রকল্পের তৃতীয় দফা দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার টেন্ডার আইডি ছিল 1130979। প্রকল্পটির প্রাথমিক দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২৫৪ কোটি ১৯ লাখ টাকা। তবে দরপত্র আহ্বানের এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রথম সংশোধনী প্রকাশ করা হয়, যেখানে TDS ও PCC-এর অসঙ্গতি দূর করার কথা বলা হলেও একইসঙ্গে BOQ-তে নতুন করে ৬০ টন রড (Reinforcement Steel) যোগ করা হয়। গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দর অনুযায়ী এই রডের মূল্য প্রায় ৭২ লাখ টাকা হওয়ায় প্রাক্কলিত মূল্য বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা কমিয়ে ২৫৪ কোটি ১২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা স্পষ্ট গাণিতিক অসঙ্গতির ইঙ্গিত দেয়।

এরপর আরও বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে দরপত্র দাখিলের শেষ সময়ের মাত্র তিন দিন আগে। নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান তার ই-জিপি আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাতে দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ করেন। যদিও এই সংশোধনীতে BOQ-এর কোনো আইটেমের পরিমাণ পরিবর্তন করা হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে—এ সময় গোপনে দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা কমিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ নিয়মে এই ধরনের তথ্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার আইডি থেকেই দেখা সম্ভব, ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রাক্কলিত মূল্য কৌশলে কমিয়ে এনে নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—নুরানী-জামাল জেভি—কে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রাক্কলিত মূল্যের ১০ শতাংশ নিচের দরকে অস্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই প্রকল্পে গ্রহণযোগ্য সীমা প্রায় ২২৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি দর দেয় ২২৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা নিয়ম অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য হওয়ার কথা। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সেই দরকেই Responsive হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দরপত্র চলমান অবস্থায় এ ধরনের মৌলিক পরিবর্তন এবং প্রাক্কলিত মূল্য হেরফের সরাসরি সরকারি ক্রয় আইন (PPA-2006) ও বিধিমালা (PPR-2008) লঙ্ঘনের শামিল। আইনের Section-9 অনুযায়ী স্বচ্ছতা, ন্যায়সংগততা এবং সমান প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও এই ঘটনায় তা স্পষ্টভাবে উপেক্ষিত হয়েছে। একইসঙ্গে Rule-16 অনুযায়ী বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন প্রস্তুত করার বিধান, Rule-31 অনুযায়ী দরপত্রের মৌলিক শর্ত অপরিবর্তিত রাখার নির্দেশনা এবং Rule-33 ও Rule-100 অনুযায়ী দর মূল্যায়নের নীতিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়া, Rule-98 অনুযায়ী উন্মুক্ত দরপত্রে কোনো ধরনের দরকষাকষি নিষিদ্ধ থাকলেও প্রাক্কলিত মূল্য কৌশলে পরিবর্তনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে ‘Lowest Responsive’ বানানোর চেষ্টা পরোক্ষ দরকষাকষি ও যোগসাজশের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রতিযোগী দরদাতা, যেমন ‘হুদা কন্সট্রাকশন’-কে অযোগ্য করার অপচেষ্টার অভিযোগও সামনে এসেছে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছে, এই ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে প্রাক্কলিত মূল্য কমানো, আইটেম যোগ করেও ব্যয় হ্রাস দেখানো এবং অযোগ্য দরকে গ্রহণযোগ্য ঘোষণা করার মতো একাধিক অনিয়মের সমন্বয় ঘটেছে। যা কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং সংঘবদ্ধ দুর্নীতির লক্ষণ হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে, এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।




গণপূর্তে ‘কাগুজে উন্নয়ন’ কেলেঙ্কারি: কাজ নেই, তবু কোটি টাকার বিল—অভিযোগে তোলপাড়

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকার গণপূর্ত বিভাগ-৩, যেটি মূলত সরকারি ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তর, সেটিকেই ঘিরে এখন ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এখানে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা কাগজে উন্নয়ন দেখিয়ে বাস্তবে কোনো কাজ না করেই কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। এই সিন্ডিকেটে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার ইবনে সাঈখ এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদের নাম বারবার উঠে আসছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে কায়সার ইবনে সাঈখ নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে অসম্পূর্ণ কিংবা একেবারেই না হওয়া কাজের বিপরীতে ৪ কোটির বেশি টাকার বিল অনুমোদন দেন। এই অর্থ আবার বৃহৎ একটি বিতর্কিত ব্যয়ের অংশ, যেখানে প্রায় ২০০ কোটি টাকা তড়িঘড়ি করে খরচ দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই—ফলে বড় প্রশ্ন উঠেছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আসলে কোথায় গেল।

একই ধরনের অনিয়ম দেখা গেছে বিভিন্ন সংস্কার প্রকল্পেও। তেজগাঁও ল্যান্ড রেকর্ডস অফিসের বাংলো-১ এবং সেন্ট্রাল রেকর্ড ভবনের জন্য প্রায় ১৯.৮৭ লাখ টাকার সংস্কার কাজ অনুমোদন দেওয়া হয়, কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কোনো কাজই করা হয়নি। সেগুনবাগিচার এনবিআর ভবন এবং অডিট কমপ্লেক্সেও মেরামত ও রংকরণের অনুমোদন দেওয়া হলেও বাস্তবে দেয়াল ভাঙা, ক্ষয়িষ্ণু অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সন্দেহ জোরালো হয়েছে যে এসব প্রকল্প আসলে পরিকল্পিতভাবে টাকা লুটের জন্যই করা হয়েছে।

ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও বেশ গুরুতর। অভিযোগ অনুযায়ী, সতীনাথ বসাক এবং কায়সার ইবনে সাঈখ মিলে অন্তত ৫ শতাংশ কমিশন আদায় করতেন। এই কমিশনের বিনিময়ে তারা অসম্পূর্ণ কাজের বিল পাস করতেন কিংবা কাজ না করেই টাকা তোলার সুযোগ করে দিতেন। অর্থাৎ পুরো প্রক্রিয়াটিই ছিল এক ধরনের সাজানো লেনদেন।

অন্যদিকে, সরকারি ভবনগুলো যখন অবহেলায় জরাজীর্ণ, তখন নির্বাহী প্রকৌশলীর নিজের অফিসে ২১ লাখ টাকা খরচ করে বিলাসবহুল সংস্কারের অভিযোগ উঠেছে। বারবার টাইলস ও মার্বেল পরিবর্তন, এমনকি মাত্র ১০ মাস আগে বসানো টয়লেট ফিটিংসও আবার বদলানো হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে—এগুলো কি সত্যিই প্রয়োজনীয় ছিল, নাকি টাকা আত্মসাতের কৌশল?

সরকারি ক্রয় বিধিমালাও নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে লঙ্ঘন করা হয়েছে। ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার হওয়ার কথা থাকলেও তা পাশ কাটিয়ে ম্যানুয়ালি নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বচ্ছতা পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালনকালে কায়সার ইবনে সাঈখের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে। সেখানে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার বিল ছাড়াতে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে তিনটি মডেল মসজিদ প্রকল্পে প্রায় ১.২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। এসব প্রকল্পের কাজের মানও ছিল খুবই খারাপ—টাইলস খসে পড়া, পাইপে লিক, লিফট বিকল এবং অপারেশন থিয়েটারের এসি পর্যন্ত অচল হয়ে পড়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে, যা সরাসরি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি।

এই পুরো সিন্ডিকেটের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় ফিরোজ আহমেদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ আছে, তিনি সাইট ভিজিট রিপোর্টে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন, কাজের পরিমাপে কারচুপি করেছেন এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল পাশ করাতে সহায়তা করেছেন।

সবচেয়ে বিতর্কিত একটি ঘটনায় দেখা যায়, ২০১৭ সালে হাইকোর্টের রায়ে বাতিল হওয়া তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ৬০ কাঠার একটি প্লট ২০২৩ সালে পুনরায় হস্তান্তরের সুপারিশ করা হয়, যেখানে কায়সার ইবনে সাঈখের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এই বিষয়টি নিয়ে একাধিক মামলা চলমান।

এর আগে ২০১৯ সালে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি এসব অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু বাস্তবে কোনো শাস্তি হয়নি, বরং অভিযুক্তদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ভালো পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে—প্রমাণ থাকার পরও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না?

এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত কোথায় গিয়ে থেমে আছে, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ কে আটকে দিয়েছে, আর এই সিন্ডিকেটের পেছনে কারা রয়েছে—এসব বিষয় নিয়ে জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এখন এমন একটি দপ্তরে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, যেখানে প্রকল্প কাগজে আছে, বিলও আছে, কিন্তু বাস্তবে কাজের কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও প্রকাশ্য তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তির দাবি জানাচ্ছে।




বৃষ্টি ও ঈদ ছুটির প্রভাবে ঢাকায় কমেছে দূষণ

ডেস্ক নিউজঃ ঈদের আগমুহূর্তে রাজধানী ঢাকার বায়ুমানে এসেছে স্বস্তিদায়ক পরিবর্তন। সাধারণত “বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা” শিরোনামের খবর প্রায়ই দেখা গেলেও এবার তার ব্যতিক্রম ঘটেছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টি ও ঈদুল ফিতরের ছুটির কারণে দূষণের শীর্ষ তালিকায় নেই ঢাকা; বরং তালিকার অনেক নিচে নেমে গেছে শহরটির অবস্থান।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের লাইভ সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ৮৮ নম্বরে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল দিল্লি, যার স্কোর ২০২। তালিকায় এরপর রয়েছে লাহোর (১৫৮), সিউল, উলানবাত্তার, কাঠমাণ্ডু, সাংহাই এবং হ্যানয়।

অন্যদিকে একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর ছিল বাতাম, যার স্কোর ছিল শূন্য। নির্মল বায়ুর তালিকায় আরও রয়েছে সিডনি, সিয়েটল, ক্যানবেরা এবং কোপেনহেগেন।

আইকিউএয়ারের তথ্যে দেখা যায়, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বায়ুমানে ভিন্নতা ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে দূষিত এলাকা ছিল শাহবাগ, যেখানে স্কোর ১৪৪। এছাড়া গুলশান-১-এ ৭৫, বাড্ডা-এ ১০২, নিকেতন-এ ৭৫, বারিধারা-এ ৯৩, হাজারীবাগ-এ ৯৭ এবং মিরপুর-এ ৭৭ রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢাকার বায়ুমান আবারও খারাপ হতে পারে।

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) অনুযায়ী, বায়ুর মান ০-৫০ হলে ভালো, ৫১-১০০ মাঝারি, ১০১-১৫০ সতর্কতামূলক, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা চরম অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণজনিত কারণে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত।




সারাদেশে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টির আভাস

আবহওয়া ডেস্কঃ সারা দেশে বজ্রসহ শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে রয়েছে বর্তমানে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ আট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সারা দেশে সামান্য বাড়তে পারে দিন ও রাতের তাপমাত্রা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং বাকি সাত বিভাগের দু-এক জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিনও দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা থাকতে পারে প্রায় অপরিবর্তিত।




সাতসকালে বায়ুদূষণের কবলে ঢাকা

আবহাওয়া ডেস্কঃ ভোরের নির্মল বাতাসের প্রত্যাশা থাকলেও রাজধানী ঢাকাতে দিন শুরু হয়েছে দূষিত বায়ুর মধ্যে দিয়ে। সকালে ওঠার পরই বায়ুদূষণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ৬টা ৪৬ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার-এর তথ্যানুযায়ী, ১১১ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ১২তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। এই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।

তালিকার শীর্ষে রয়েছে দিল্লি, যেখানে বায়ুমানের স্কোর ১৯৩—যা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে লাহোর (স্কোর ১৬৪)। তৃতীয় স্থানে জাকার্তা (স্কোর ১৫৯), চতুর্থ স্থানে ইনচিয়ন (স্কোর ১৫৫) এবং পঞ্চম স্থানে সিউল (স্কোর ১৪২) রয়েছে।

বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, ০ থেকে ৫০ স্কোর ‘ভালো’, ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’ এবং ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে ধরা হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদেরও প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।




ওষুধ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ ওষুধ প্রশাসন !! লাগাম টেনে ধরতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ জরুরি!!

ভেজাল ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল ওষুধের কারণে দেশে লাখো মানুষ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। যৌনশক্তিবর্ধক, ভিটামিন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের নামে বিক্রি হওয়া মানহীন ওষুধে হৃদরোগ, লিভার ও কিডনি সমস্যা এমনকি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর শুধু লাইসেন্স দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছে, কার্যকর তদারকি নেই। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনুমোদনহীন ও ক্ষতিকর ওষুধ বাজারে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এসএম বদরুল আলমঃঐতিহ্যবাহী ইউনানি ও আয়ুর্বেদ ওষুধশিল্প এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অনেক কোম্পানি নির্ধারিত ভেষজ উপাদান ব্যবহার না করে সস্তা ও ক্ষতিকর কেমিক্যাল যেমন সিলডেনাফিল সাইট্রেড ও ডেক্সামেথাসনের ব্যবহার করছে। দ্রুত ফল পাওয়ার লোভে এই ধরনের রাসায়নিক মিশিয়ে ওষুধ তৈরি করা হচ্ছে, যা স্বল্পমেয়াদে কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশেষ করে যৌনশক্তিবর্ধক ও মোটা হওয়ার ওষুধে এসব কেমিক্যালের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। যেখানে আসল ইউনানি-আয়ুর্বেদ ওষুধ ধীরে ধীরে কার্যকর হয়, সেখানে এসব ভেজাল ওষুধ ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই কাজ করছে—যা এর ভেতরে কেমিক্যাল থাকার বড় ইঙ্গিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেক ব্যবহারকারীও দ্রুত ফল পেলেও পরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে বাজারে অসংখ্য কোম্পানি গড়ে উঠেছে, যাদের অনেকেই ফর্মুলারি মেনে চলে না। যেমন হাইম্যাক্স ইউনানি ফার্মাসিউটিক্যালস, আরগন ফার্মাসিটিক্যালস, জিকে ফার্মা ও মডার্ন হারবালের মতো প্রতিষ্ঠানের কিছু পণ্যের বিরুদ্ধে ভেজালের অভিযোগ উঠেছে। এসব কোম্পানি ইংরেজি ট্রেড নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, ফলে অনেকেই এগুলোকে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ মনে করে ভুল করছেন।

ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অনিয়ম রয়েছে। অনেক কোম্পানি বিক্রেতাদের ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিচ্ছে, যা আসল ভেষজ উপাদান ব্যবহার করে সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে সস্তা কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ওষুধই বেশি ছড়িয়ে পড়ছে বাজারে।

এদিকে তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং কিছু অসাধু চক্রের প্রভাবের কারণে ভেজাল ওষুধ প্রস্তুতকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। ফলে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং ঐতিহ্যবাহী এই চিকিৎসা পদ্ধতির বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ভেজালের শীর্ষে যারা
লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইউনানী, আর্য়ূবেদিক ও হারবাল কোম্পানীগুলোর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি বাদে সবাই ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ বিক্রি করছে দেদারছে। এদের প্রধান ব্যবসা হচ্ছে যৌনশক্তি বর্ধক অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রি করা। এদের ২য় বিক্রির তালিকায় রয়েছে রুচি বর্ধক ভেজাল ও ক্ষতিকর ওষুধ। অনুসন্ধানে দেখা দেখা গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভেজালের শীর্ষে আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস
আরগন ফার্মাসিউটিক্যালস ময়মনসিংহের ঠিকানায় লাইসেন্স নিলেও ঢাকায় বসে ব্যবসা পরিচালনা করছে। ‘আরগন ল্যাবরেটরী’ নামে অনুমোদন নিয়ে ভিন্ন নামে ওষুধ বাজারজাত করছে। ইউনানি-আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠানের জন্য নিষিদ্ধ হলেও তারা “ফার্মাসিউটিক্যালস” শব্দ ব্যবহার করে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করছে। তাদের প্রধান ব্যবসা অনুমোদনহীন যৌনশক্তিবর্ধক ‘নাইটেক্স’ ও ‘রিষ্টোর’। এছাড়া ডায়াবেটিস, ভিটামিন ও মিনারেল ওষুধ বিক্রি করছে, যেগুলোর অনেকই অনুমোদিত তালিকায় নেই।

জিকে ফার্মা (ইউনানী)
জিকে ফার্মা-এর লাইসেন্স গাজীপুরে হলেও কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক। ৫০টি ওষুধ উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে কয়েকটি যৌনশক্তিবর্ধক ও ডায়াবেটিস ওষুধই বাজারে আছে। ‘কমান্ড’ ও ‘গোল্ডেন লাইফ’ নামে উচ্চমূল্যের ওষুধ বিক্রি করে। অভিযোগ রয়েছে, ডায়াবেটিসের ওষুধ প্রথমে কাজ করলেও পরে রোগ আরও বেড়ে যায়।

ন্যাচার ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানী) লিঃ
ন্যাচার ফার্মাসিউটিক্যালস অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। মিরপুরে কারখানার পাশাপাশি গোপন ডিপো থেকে এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুরমা ফার্মাসিউটিক্যালস (ইউনানী)
সুরমা ফার্মাসিউটিক্যালস-এর ‘আরক পুদিনা’ ও ‘সেব-এস’ সিরাপ ব্যাপক বিক্রি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব পণ্যে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের কারণে দ্রুত শরীরের পরিবর্তন ঘটে। নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলেও এখনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি, যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

হামজা ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী)
হামজা ল্যাবরেটরীজ বিভিন্ন সিরাপ, ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল বাজারজাত করছে। অভিযোগ আছে, যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধে ভায়াগ্রার উপাদান এবং অন্যান্য রোগের ওষুধে অ্যালোপ্যাথিক কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হতে পারে, যদিও প্রতিষ্ঠানটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চিত্রা ল্যাবরেটরীজ (ইউনানী)
চিত্রা ল্যাবরেটরীজ-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিভিন্ন সিরাপ ও ভিটামিন পণ্যে অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

সব মিলিয়ে ইউনানি, আয়ুর্বেদিক ও হারবাল ওষুধশিল্পের বর্তমান চিত্র গভীর উদ্বেগজনক। একদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়ম ও ভেজাল উৎপাদন, অন্যদিকে তদারকির ঘাটতি—এই দুইয়ের চাপে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত লাভের আশায় ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরি ওষুধ মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক ক্ষতি করছে, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবননাশের কারণও হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কঠোর নজরদারি, নিয়মিত ল্যাব পরীক্ষা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে তারা ভেজাল ও প্রতারণামূলক ওষুধ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।