ফায়ার সার্ভিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অস্থিরতা, জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা সংস্থা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠছে। সংস্থাটির বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) এবং তার ঘনিষ্ঠ কিছু কর্মকর্তাকে ঘিরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলে অভ্যন্তরীণভাবে অভিযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের কারণে সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি সেবার মানও কমে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে জনবল সংকট। প্রায় ৫০০ স্টেশন অফিসারের প্রয়োজন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ৩৫০টির মতো পদ খালি পড়ে আছে। ফলে আগুন বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এই অবস্থার মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, আগেই তালিকা ঠিক করে রাখা, আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচনের মতো গুরুতর অভিযোগ করেছেন অনেক কর্মকর্তা। এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কিছু ব্যক্তিকে চাকরিতে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

শুধু নিয়োগই নয়, ফায়ার সার্ভিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ—ফায়ার সেফটি রিপোর্ট তৈরিতেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন ভবন বা স্থাপনার নিরাপত্তা রিপোর্ট দেওয়ার সময় ঘুষ নিয়ে অনুকূল প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে, যা সরাসরি মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

বদলি বা ট্রান্সফারের ক্ষেত্রেও একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছেমতো বদলি করা হচ্ছে। চেইন অব কমান্ড ভেঙে জুনিয়র কর্মকর্তাদের দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে, যা পুরো প্রশাসনিক কাঠামোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে বাজেট ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের অসংগতি দেখা গেছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জ্বালানির জন্য অর্থের সংকট থাকলেও বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। এমনকি গত অর্থবছরে কিছু অর্থ খরচ না করে ফেরত দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে ভেতরে ক্ষোভ রয়েছে।

মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য সদর দপ্তর স্থানান্তরের অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘদিনের সদর দপ্তর সিদ্দিক বাজার থেকে মিরপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইভাবে ট্রেনিং কমপ্লেক্স নারায়ণগঞ্জে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অর্থ ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন কোর্স থেকে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা আয় হলেও ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে মাত্র ৫৭ লাখ টাকা। বাকি বিপুল অর্থের কোনো স্পষ্ট হিসাব নেই এবং এখন পর্যন্ত কোনো অডিটও হয়নি। প্যাকেজ সেলের আয় নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, যেখানে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা আয় হলেও তা নিয়ম মেনে খরচ করা হচ্ছে না।

এর আগে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের ঘটনাও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিক সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজে এসব গাড়ি, ড্রাইভার ও অন্যান্য কর্মচারী ব্যবহার করছেন, যা নিয়মবহির্ভূত।

এছাড়া ট্রেনিং কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের জোর করে নারায়ণগঞ্জে বদলি করা হলেও তারা এখনও সিটি অ্যালাউন্স নিচ্ছেন, যা সরকারি বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে অডিট আপত্তিও উঠেছে।

ফায়ার সার্ভিসের অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স বিভাগের পরিচালকের বিরুদ্ধেও অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে। তার দায়িত্ব পালনের পর মাঠপর্যায়ে তদারকি কমে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তিনি অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে পুরো কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সব মিলিয়ে, ফায়ার সার্ভিসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভেতরে-বাইরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, নইলে এই গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়বে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।

 




ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩: কাগজে কাজ, বাস্তবে শূন্য—কোটির পর কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ

এসএম বদরুল আলমঃ ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এখন যেন সাধারণ একটি সরকারি অফিস নয়, বরং অভিযোগ উঠেছে এটি একটি সংগঠিত দুর্নীতির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে শুরু করে পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই দপ্তরে একের পর এক অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন নথি, বিল-ভাউচার, টেন্ডার রেকর্ড এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মোঃ কায়সার ইবনে সাঈখ, যিনি তখন নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকা গণপূর্ত মেট্রোপলিটন জোনের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সতীনাথ বসাক এবং সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদের নামও বারবার উঠে এসেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে বাজেট শেষ করার নামে প্রায় ৪ কোটি টাকার বিল অনুমোদন করা হয়, যেখানে কাজের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এই টাকা ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকার একটি বড় ব্যয়ের অংশ, যা দ্রুত খরচ দেখানোর জন্য নানা কৌশলে ব্যয় দেখানো হয়। প্রকল্পের কাগজপত্র থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ সম্পন্ন হয়নি—এমন তথ্যও উঠে এসেছে।

একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো তেজগাঁও ল্যান্ড রেকর্ডস অফিসের একটি সংস্কার কাজ, যেখানে প্রায় ১৯.৮৭ লাখ টাকার বিল পাশ করা হয়। কাগজে দেখানো হয়েছিল থাই গ্লাস, টাইলস, রং এবং সিভারেজ লাইনের কাজ হয়েছে। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব কাজের কোনো চিহ্নই নেই। একইভাবে এনবিআর ভবন এবং অডিট কমপ্লেক্সে মেরামতের বিল অনুমোদন করা হলেও বাস্তবে ভবনের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, কোনো সংস্কারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এই পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। বলা হচ্ছে, কায়সার ইবনে সাঈখ এবং সতীনাথ বসাক ঠিকাদারদের কাছ থেকে অন্তত ৫ শতাংশ কমিশন নিতেন। এর বিনিময়ে ঠিকাদাররা অসম্পূর্ণ বা কোনো কাজ না করেই বিল তুলতে পারতেন। ফলে সরকারি অর্থ সরাসরি লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়।

অন্যদিকে, সরকারি ভবনগুলোর অবস্থা যেখানে নাজুক, সেখানে নিজের অফিস রুমের জন্য প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয় করার অভিযোগ উঠেছে কায়সারের বিরুদ্ধে। বারবার টাইলস ও মার্বেল পরিবর্তন, অপ্রয়োজনীয় টয়লেট ফিটিংস বসানো—এসবকে অনেকেই অর্থ অপচয়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করার নিয়ম থাকলেও সেটিকে পাশ কাটিয়ে ম্যানুয়ালি নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি সরকারি ক্রয় বিধিমালার লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।

হাসপাতাল ও মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পেও ঘুষের নির্দিষ্ট হার নির্ধারণের অভিযোগ এসেছে। ২৫০ শয্যার একটি জেনারেল হাসপাতালের ৩ কোটি টাকার বিল থেকে ১০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হয়েছিল বলে জানা যায়। এছাড়া তিনটি মডেল মসজিদ প্রকল্পে প্রায় ১.২ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। এর ফলাফল হিসেবে দেখা গেছে—টাইলস খসে পড়া, পাইপ লাইনে লিকেজ, লিফট বিকল, অপারেশন থিয়েটারের এসি অকেজো এবং বৈদ্যুতিক সমস্যাসহ নানা ত্রুটি।

এই পুরো সিন্ডিকেটে মাঠপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাইট পরিদর্শন রিপোর্টে ভুল তথ্য দিয়েছেন, কাজের পরিমাপে জালিয়াতি করেছেন এবং অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল পাশ করাতে সহায়তা করেছেন।

এছাড়াও, হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে একটি প্লট হস্তান্তরের সুপারিশ করার অভিযোগও রয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ৬০ কাঠার একটি প্লট, যার ওপর ২০১৭ সালে আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল, সেটির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য ২০২৩ সালে সুপারিশ করেন কায়সার ইবনে সাঈখ। বর্তমানে এ বিষয়ে একাধিক মামলা চলমান।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এত অভিযোগ, তদন্ত এবং প্রমাণ থাকার পরও কেন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ২০১৯ সালে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনও নথি পরীক্ষা করে। তদন্তে শাস্তির সুপারিশ করা হলেও বাস্তবে কাউকে শাস্তি দেওয়া হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি এবং পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই পুরো চক্রের পেছনে কারা রয়েছে এবং কেন এত বড় অনিয়মের পরও তারা দায়মুক্তি পাচ্ছে। সরকারি নথি, টেন্ডার রেকর্ড, বিল-ভাউচার এবং সরেজমিনের প্রমাণ থাকার পরও যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে এই দুর্নীতির দায়ভার শেষ পর্যন্ত কার ওপর বর্তায়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

 




জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজঃ রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম জাতীয় ঈদগাহ পরিদর্শন শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান, ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠেয় এই প্রধান জামাতে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ময়দানে এবার একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন, যেখানে নারীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা প্রবেশ পথ ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা।

ডিএসসিসি প্রশাসক ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে জানান যে, মুসল্লিদের স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত নিশ্চিত করতে পুরো প্যান্ডেলজুড়ে পর্যাপ্ত ফ্যান, লাইট এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বর্তমান সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ময়দানে স্থাপন করা হয়েছে বৃষ্টি নিরোধক সামিয়ানা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। যদি আবহাওয়া কোনো কারণে প্রতিকূল হয়ে পড়ে, তবে ঈদের প্রধান জামাত বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহের প্যান্ডেলের ভেতরে প্রায় ১৪০ জন মুসল্লি একসঙ্গে অজু করার সুবিধা পাবেন এবং প্রবেশপথসহ ময়দানের বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ টয়লেটের ব্যবস্থাও সচল থাকবে।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্যান্ডেলে প্রবেশের জন্য ভিআইপি ও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ৪টি পৃথক ফটক এবং বের হওয়ার জন্য ৭টি ফটক নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম আরও জানান যে, এই জামাতে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায়ের স্বার্থে মুসল্লিদের কোনো প্রকার ধারালো সরঞ্জাম বা দাহ্য পদার্থ সঙ্গে না আনার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রশাসক নগরবাসীকে পবিত্র ঈদের আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় ঈদগাহের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।




ঈদের ফিরতি ট্রেনযাত্রায় আজ মিলছে ২৭ মার্চের টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ ঈদযাত্রার ফিরতি অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মিলছে আগামী ২৭ মার্চের ট্রেনের আসনের টিকিট। 

এর আগে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) ঈদযাত্রার ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়। ওইদিন ২৩ মার্চের টিকিট বিক্রি হয়।

প্রত্যেকবারের মতো এবারও আন্তঃনগর ট্রেনের সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হচ্ছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ৮টা থেকে অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। এ সময় পাওয়া যাবে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের টিকিট। অন্যদিকে দুপুর ২টা থেকে বিক্রি শুরু হবে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের আসনের অগ্রিম টিকিট।

সম্প্রতি রাজধানীর রেল ভবনে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনযাত্রার প্রস্তুতিমূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ মার্চের টিকিট ১৪ মার্চ ও ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ। এছাড়া ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে।

এছাড়াও চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রি করা হবে। যাত্রীদের অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট যাত্রা শুরুর আগে প্রারম্ভিক স্টেশন থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

উল্লেখ্য, ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবার কিনতে পারবেন। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ চারটি আসন সংগ্রহ করা যাবে। ঈদ যাত্রার কোনো টিকিট রিফান্ড করা হবে না।




দুপুর ১টার মধ্যে ছয় জেলায় ৬০ কি.মি. বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঈদুল ফিতরের ছুটির আনন্দ যখন তুঙ্গে, ঠিক এমন সময়ই দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অফিস। দেশের ছয় জেলার ওপর দিয়ে দুপুর ১টার মধ্যে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়া অফিসের দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এছাড়াও এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুন.) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা অষ্টম, শীর্ষে দিল্লি

আবহাওয়া ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক বায়ুমান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, মেগাসিটি ঢাকার বায়ুদূষণ পরিস্থিতি আবারও অবনতির দিকে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল সোয়া ৯টার দিকে ১৫২ স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় অষ্টম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী। 

বায়ুমান সূচকের এই স্কোর অনুযায়ী ঢাকার বাতাস বর্তমানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মাঝে কিছু দিন ঢাকার বায়ুমানের কিছুটা উন্নতি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক দূষণের ফলে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

বৈশ্বিক এই তালিকায় ২০৩ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। দিল্লির বায়ুমান বর্তমানে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে রয়েছে যা সাধারণ নাগরিকদের জন্য চরম উদ্বেগজনক। দিল্লির তুলনায় ভারতের অন্য একটি বড় শহর কলকাতার অবস্থা তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো; মাত্র ৭৮ স্কোর নিয়ে তালিকায় এই শহরটির অবস্থান ২৮তম।

অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের লাহোর ১৭৯ স্কোর নিয়ে দূষণের তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও দেশটির বাণিজ্যিক শহর করাচি ১০২ স্কোর নিয়ে ১৭তম অবস্থানে রয়েছে।

দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে চীনের বেইজিং, সৌদি আরবের রিয়াদ, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন ও সিউল, উগান্ডার কামপালা, নেপালের কাঠমান্ডু এবং কিরগিস্তানের বিশকেক।

পরিবেশবিজ্ঞানীদের মতে, একিউআই বা বায়ুমান সূচক ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেহেতু ঢাকার স্কোর এই সীমার মধ্যে প্রবেশ করেছে, তাই সাধারণ মানুষকে বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

একিউআই স্কোর বিশ্লেষণে দেখা যায়, শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত স্কোর থাকলে সেই বাতাসকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে ‘মাঝারি’ বলা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বর্তমানে দিল্লির মতো যে শহরগুলোর স্কোর ২০০ এর বেশি, সেখানে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে থাকার এবং সুস্থ ব্যক্তিদের বাইরের ভারী কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি এই সূচক ৩০০ ছাড়িয়ে যায়, তবে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয় যা যে কোনো নগরের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যসংকট তৈরি করতে পারে।




পাকিস্তানের হামলায় কাবুলে ৪০০ নিহত, দাবি তালেবানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে পাকিস্তানের বিমান হামলায় প্রায় ৪০০ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তালেবান সরকার। এই ঘটনায় আরও প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, কাবুলের একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্রে (পুনর্বাসন হাসপাতাল) হামলা চালানো হয়। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামিদুল্লাহ ফিতরাত জানান, হামলায় হাসপাতালের বড় একটি অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এর আগে আফগান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শরাফাত জামান বলেছিলেন, এই হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ওই হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ জানিয়েছে, কাবুলের নবম পুলিশ জেলায় অবস্থিত একটি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে এই বিমান হামলা চালানো হয়। এতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির খবর পাওয়া গেছে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে তীব্র সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে পাকিস্তান পুনর্বাসন কেন্দ্রে হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেছে, কাবুলে কোনো হাসপাতাল লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়নি।

পাকিস্তানের দাবি, ১৬ মার্চ রাতে তারা কাবুল ও নানগারহার এলাকায় নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তাকারী অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনা পাকিস্তানের বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছিল বলে তাদের দাবি।

মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, হামলার পর সেখানে মজুদ থাকা গোলাবারুদ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের হামলা ছিল অত্যন্ত নির্ভুল এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি এড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তালেবান মুখপাত্রের অভিযোগকে ইসলামাবাদ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলেও উল্লেখ করেছে।




গণপূর্তে ‘মিস্ত্রী সিন্ডিকেট’—দুর্নীতি, টেন্ডার বাণিজ্য ও ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারিতে আলোচনায় সমীরণ মিস্ত্রী

এসএম বদরুল আলমঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একটি বড় প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানেই দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও অনিয়মের একটি শক্তিশালী চক্র কাজ করছে—এমন অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীকে ঘিরে। ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং এবং অফিসের ভেতরে বিতর্কিত ব্যক্তিগত সম্পর্ক—সব মিলিয়ে তাকে নিয়ে এখন নানা আলোচনা চলছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা এক অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন সমীরণ মিস্ত্রী। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি একা নন—তার ভাই উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মিঠুন মিস্ত্রী এবং আরেক উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকে সঙ্গে নিয়ে গণপূর্তে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেট বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার নির্বাচন, কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সমীরণ মিস্ত্রীর নামে একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট এবং বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে। শুধু রাজধানীতেই নয়, তার গ্রামের বাড়িতেও রয়েছে অত্যাধুনিক বাংলো এবং খামারবাড়ি। এসব সম্পদের বেশিরভাগই তার সরকারি আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, সমীরণ মিস্ত্রী ও তার ভাই মিঠুন মিস্ত্রী ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও সম্পদ কিনেছেন। কলকাতায় বাড়ি এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ করার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ মানিলন্ডারিং করে ভারতে পাচার করা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাংকে কয়েক কোটি টাকার স্থায়ী আমানত বা এফডিআর থাকার তথ্যও অভিযোগে উঠে এসেছে, যা তাদের সরকারি আয়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে বলা হয়েছে।

শুধু সম্পদ অর্জনই নয়, আয়কর ফাইলে এসব সম্পদের প্রকৃত তথ্য গোপন করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সমীরণ মিস্ত্রী এবং তার পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত আয়কর দাখিল করলেও সেখানে প্রকৃত সম্পদের তথ্য লুকিয়ে রেখে আয়কর ফাঁকি দিয়ে আসছেন।

গণপূর্তের বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও সমীরণ মিস্ত্রীর প্রভাব থাকার অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, তিনি ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের দিয়ে কাজ পাইয়ে দিতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনদের নাম ব্যবহার করে পরোক্ষভাবে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করতেন। এসব কাজে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসী।

এই দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে অফিসের ভেতরেও নানা বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন একই বিভাগে কাজ করার সুবাদে সমীরণ মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর মধ্যে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। ব্যক্তিগত এই সম্পর্কের কারণে দপ্তরের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তাদের একসঙ্গে ভারত সফরের ঘটনাও অফিসের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

সমীরণ মিস্ত্রী প্রায় সাত বছর গণপূর্তের ইএম সার্কেল–৩ এর অধীন ইএম বিভাগ–৭-এ দায়িত্ব পালন করেন, যার আওতায় জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা পড়ে। এই সময়েই তাকে নিয়ে নানা অভিযোগ ছড়ায় এবং অনেকেই তাকে ব্যঙ্গ করে “জাতীয় সংসদের টাকাখেকো ইঞ্জিন” বলেও উল্লেখ করতে শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় তিনি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে নিজের অবস্থান শক্ত করেছিলেন।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত “আমব্রেলা প্রজেক্ট” নিয়ে। বলা হচ্ছে, জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গভিত্তিক প্রকল্প দেখিয়ে ৩০ থেকে ৪০টি দরপত্র দেওয়া হয়। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো—এই প্রকল্পগুলোর কার্যাদেশ দেওয়া, অনুমোদন এবং বাস্তবায়নের পুরো প্রক্রিয়াতেই সমীরণ মিস্ত্রীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছিল বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর সমীরণ মিস্ত্রীকে ইএম বিভাগ–৭ থেকে পিএন্ডডি বিভাগ–১-এ বদলি করা হয়। একই সময়ে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সিফাত ওয়াসীকেও সেখানে বদলি করা হয়। এই ঘটনা নিয়েও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম, পরে গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার এবং গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফ আহমেদের প্রভাব ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন একই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিজের পোস্টিং ধরে রেখেছিলেন।

এদিকে সিফাত ওয়াসীর বিরুদ্ধেও দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, পুরো সময়জুড়ে তিনি মূলত নির্বাহী প্রকৌশলী সমীরণ মিস্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেই কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্তে তার প্রভাবই ছিল প্রধান।

এতসব গুরুতর অভিযোগ সামনে আসার পরও এখন পর্যন্ত সমীরণ মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় কাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমীরণ মিস্ত্রী, মিঠুন মিস্ত্রী ও সিফাত ওয়াসীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে অভিযোগপত্রসহ বার্তা পাঠানো হলে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে যোগাযোগকারীকে ব্লক করে দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের করা আবেদনে সমীরণ মিস্ত্রী, মিঠুন মিস্ত্রী এবং সিফাত ওয়াসীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, মানিলন্ডারিং, আয়কর ফাঁকি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরবর্তীতে সমীরণ মিস্ত্রী পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি প্রভাবশালী নেতা ওবায়দুল কাদের–এর নাম ব্যবহার করে মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।




ক্ষমতার আড়ালে কামরুল হাছানের অন্ধকার সাম্রাজ্য: দুর্নীতি, নারী কেলেঙ্কারি ও বিতর্কের দীর্ঘ ছায়া

এসএম বদরুল আলমঃ বাংলাদেশের গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছানকে ঘিরে বিভিন্ন সময় নানা গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন, ক্ষমতার ব্যবহার এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। অনেকের মতে, তার কর্মজীবনের গল্প শুধু প্রশাসনিক কাজের নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব এবং বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের সমন্বয়ে তৈরি এক জটিল অধ্যায়।

কামরুল হাছান, যিনি অনেক জায়গায় “কামরুপ” নামেও পরিচিত, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গৌরিপুরের কড়িকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৫০ বছর। পারিবারিক দিক থেকেও তিনি প্রভাবশালী একটি পরিবারের সদস্য। তার স্ত্রী ডা. জান্নাতুল মাওয়া টুম্পা পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে গাইনী বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত এবং একই সঙ্গে ‘কেয়ার ফাস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এ রোগী দেখেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—কন্যা আদিবাতুন নাবিহা এবং পুত্র আব্দুল্লাহ আল নাবহান। কামরুলের ছোট ভাই ডা. মুক্তার হোসেন নাসের ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এবং তার স্ত্রী ডা. টুম্পা শিকদারও মেডিকেল কলেজে চাকরি করেন। পরিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হলেও তার কর্মজীবনের নানা ঘটনা তাকে বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান, যিনি অনেক জায়গায় “কামরুপ” নামেও পরিচিত, তাকে ঘিরে নানা সময় নানা বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব ও কৌশল ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও তাকে অনেকেই অত্যন্ত দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে দীর্ঘ সময় শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন। অনেকের মতে, সে সময় তার প্রভাব এতটাই বেশি ছিল যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও তার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিতেন।

২০১৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্থানীয়ভাবে শক্তিশালী একটি প্রভাব বলয় গড়ে তোলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই সময় তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতা ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ মহলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়ে প্রভাব খাটান। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি বিপুল অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা আরও দৃঢ় করেন বলে সমালোচকদের দাবি।

পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের কারণে তাকে নোয়াখালী থেকে বরিশালে বদলি করা হলে সেখানেও তিনি নতুন করে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার আত্মীয় হিসেবে পরিচিত সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার সমন্বয়ের কথাও অনেকের মুখে শোনা যায়। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় দরপত্র প্রক্রিয়ায় নিয়মিত পদ্ধতির পরিবর্তে ভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করা হতো। এলটিএম (LTM) পদ্ধতির বদলে ওটিএম (OTM) পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করে কমিশনভিত্তিক একটি বাণিজ্য চালু করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।

সমালোচকদের মতে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ১০ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে বড় বড় সরকারি কাজ বণ্টন করা হতো এবং এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতবদল হয়েছে। বরিশালের মেডিকেল সাবডিভিশনের কিছু প্রকল্প নিয়েও তখন নানা অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তবে এত আলোচনা ও অভিযোগ সত্ত্বেও প্রশাসনিক প্রভাব এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কোনো বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হননি বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।

আরেকটি আলোচিত অভিযোগ ছিল নিজের ব্যাচমেট প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিবকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি জাল ডিও (ডেমি অফিসিয়াল) লেটার তৈরির পরিকল্পনা। বলা হয়, প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, যাতে আন্দালিবকে বদলি করা যায় এবং নোয়াখালীতে আবারও নিজের প্রভাব প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়। এই ঘটনাও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল।

এই সময়টাতে তার বিরুদ্ধে একদিকে প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক সামনে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছিলেন। স্থানীয় কিছু ঠিকাদার তার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি কাজ বণ্টনের অভিযোগ ওঠে। ভাঙারি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মামুন, যার প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স আব্দুল ছাত্তার আহাদ, তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথাও বিভিন্ন সূত্রে উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে বারবার কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা ছাড়া বা একক দরপত্রের মাধ্যমে কাজ দেওয়া হয়েছে।

একাধিক ঘটনার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের শেষদিকে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিক কাজ একই ঠিকাদারের কাছে দেওয়া হয়। আবার ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ২২টি কার্যাদেশ জারি করার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় অনেকেই মনে করেন, টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়নি।

নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প নিয়েও তার বিরুদ্ধে কারসাজির অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, দরপত্র জমা দেওয়ার ঠিক আগে প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার সুবিধা পায়। একইভাবে হাতিয়া মডেল মসজিদ প্রকল্পেও কাজের অগ্রগতি কম হলেও তুলনামূলক বেশি বিল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু প্রশাসনিক বিষয়ই নয়, তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নানা বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারি, পরকীয়া এবং অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। পটুয়াখালীতে কর্মরত থাকার সময় এক অধস্তন কর্মকর্তার স্ত্রী ঝুমুরের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে বড় ধরনের আলোচনা শুরু হয়। অভিযোগ আছে, ওই কর্মকর্তা অন্য কাজে বাইরে গেলে কামরুল নিয়মিত তার বাসায় যাতায়াত করতেন। এমনকি যাতায়াত গোপন রাখার জন্য বাসার পেছনের দেয়ালে আলাদা দরজা তৈরি করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। বিষয়টি একসময় প্রতিবেশীদের নজরে এলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাটি নিয়ে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে ওই দম্পতির সংসার ভেঙে যায় বলে জানা যায়।

আরেক ঘটনায় বলা হয়, নোয়াখালীর মাইজদী এলাকায় এক কিশোরীকে নিয়ে বিতর্কিত একটি ঘটনায় স্থানীয় মানুষের হাতে তিনি মারধরের শিকার হন। অভিযোগ ওঠে, ওই কিশোরীর সঙ্গে তার আপত্তিকর সম্পর্কের ঘটনা সামনে আসার পর এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ঘিরে ফেলে। পরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে তথাকথিত “মুতা বিয়ে” নামে সাময়িক সম্পর্কের অভিযোগও বহুবার আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিক নারীর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করতেন এবং এটিকে অনেক সময় বিয়ের নামে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হতো। তবে ইসলামী শরীয়াহ ও বাংলাদেশের আইনে এ ধরনের বিয়ের কোনো স্বীকৃতি নেই বলে ধর্মীয় ও আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।

তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের তালিকায় আত্মীয়স্বজনদের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এক পর্যায়ে তার সম্বন্ধীর স্ত্রী ফিরোজার সঙ্গেও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ সামনে আসে। ফিরোজা পেশায় একজন নার্স এবং তার স্বামী একজন চিকিৎসক। এ ঘটনাও পরিবারিক ও সামাজিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।

এদিকে প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ান বলে অনেকের দাবি। বরিশালে বদলি হওয়ার পরও তিনি নতুন একটি টেন্ডার সিন্ডিকেট তৈরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সাদিক আব্দুল্লাহর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কথাও আলোচনায় আসে।

আরেকটি বিতর্কিত ঘটনা হলো নিজের ব্যাচমেট প্রকৌশলী সাদ মোহাম্মদ আন্দালিবকে সরাতে একটি জাল ডিও লেটার তৈরি করার অভিযোগ। বলা হয়, তিনি প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করেন এবং সেটি মন্ত্রণালয়ে পাঠান, যাতে আন্দালিবকে বদলি করা হয়। পরে এই ঘটনাটি প্রশাসনিক মহলেও আলোচনার জন্ম দেয়।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা এসব অভিযোগ, বিতর্ক এবং অনিয়মের কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে নোয়াখালী থেকে সরিয়ে অন্য জেলায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাকে হবিগঞ্জে পদায়ন করা হয়। তবে বিভিন্ন মহলে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে—এত অভিযোগ ও বিতর্কের পরও কীভাবে তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

এই ঘটনাগুলো প্রশাসনের স্বচ্ছতা, নৈতিকতা এবং ক্ষমতার ব্যবহারের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকের মতে, এমন অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে সত্য ঘটনা সামনে আসে এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।




ঢাকাসহ ১৫ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৫ জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক সতর্কবার্তায় দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়।

সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এর সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বজ্রসহ বৃষ্টির এ প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।