ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে নিয়ে জল্পনা কোনোভাবেই থামছে না। এবার সেই জল্পনার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (১৫ মার্চ) সিএনএনের লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।  

শনিবার এনবিসি নিউজকে ৩০ মিনিট টেলিফোনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তখনই ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের অবস্থা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনিকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, মোজতবা আদৌ বেঁচে আছেন কি না, আমি জানি না। এখন পর্যন্ত কেউ তার উপস্থিতির প্রমাণ দিতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি শুনছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা বেঁচে নেই। ট্রাম্প বলেন, মোজতবা যদি বেঁচে থাকেন, তবে নিজের দেশের স্বার্থে তার একটি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ করা উচিত। আর তা হলো আত্মসমর্পণ করা।

তবে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য মোজতবা খামেনির মৃত্যুর খবরকে একটি ‘গুজব’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তিনি নির্দিষ্ট কাউকে সমর্থন করেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি শুধু বলেন, আমাদের কাছে এমন কিছু মানুষ আছেন, যারা ওই দেশের ভবিষ্যতের জন্য দুর্দান্ত নেতা হতে পারেন।

টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেছেন, ‘একটি চুক্তি করতে চায় ইরান। কিন্তু আমি এখনই তা করতে চাই না, কারণ চুক্তির শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট ভালো নয়।’




কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুলের এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালকে ঘিরে যৌন হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ, ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকার গুলশান এলাকায় অবস্থিত কানাডিয়ান ট্রিলিনিয়াম স্কুল ও এর সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পাসগুলোকে ঘিরে সম্প্রতি নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। স্কুলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুর রহমান পিয়ালের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান ও সাবেক কিছু শিক্ষক-কর্মকর্তা। এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিভিন্ন অনিয়মের খবর চাপা দিতে পিয়াল প্রভাব খাটানোর পাশাপাশি কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে সাংবাদিক ও স্কুলের সাবেক-বর্তমান কর্মীদের হুমকি দিচ্ছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহমুদুল হাসান বাদল নামের এক ব্যক্তি পিয়ালের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিভিন্ন সময় সাংবাদিকদের ফোন করে দেখা করতে বলেন এবং সেখানে গিয়ে সাংবাদিকরা নানাভাবে ভয়ভীতি ও চাপের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বলেন যে স্কুলের এমডির বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু সাংবাদিকরাই নন, স্কুলের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা ও শিক্ষকও একই ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন।

স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন অনেক কর্মী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৮০ শতাংশ কর্মী নারী হলেও তাদের নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত করার মতো পরিবেশ নেই। কিছু কর্মীর দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও অন্য বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, যারা এমডির ব্যক্তিগত ইচ্ছার সঙ্গে সায় দেন তাদের পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি হয়, আর যারা এতে রাজি হন না তারা মানসিক চাপ ও অপমানের মুখে পড়েন কিংবা একসময় চাকরি হারান।

স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত পাকিস্তানি নাগরিক আয়েশাকে ঘিরেও নানা প্রশ্ন তুলেছেন কিছু কর্মী। তাদের বক্তব্য, তিনি প্রথমে শিক্ষক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেও পরে দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ভাইস প্রিন্সিপাল হন। কিছু কর্মীর দাবি, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়ালের সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার কারণেই এই পদোন্নতি হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করেন। একইভাবে আয়েশার স্বামী জিয়াকেও স্কুলে রিক্রুট ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যদিও তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষক।

এছাড়া স্কুলের ভেতরে আরও কয়েকজন নারী কর্মকর্তা—শুভ্রা সরকার, অবন্তী ও রিফাত—নিয়ে নানা অভিযোগ করেছেন কিছু কর্মী। তাদের দাবি, এই ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাব বিস্তার করে অন্য শিক্ষিকাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং অনেক ক্ষেত্রে এমডির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করতে বিভিন্নভাবে প্ররোচনা দেন। অনেক নারী শিক্ষক নাকি এই পরিস্থিতিতে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একজন নারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেকেই ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করেন। তার দাবি, কোনো নারী কর্মী যদি এমডির ব্যক্তিগত প্রস্তাবে রাজি না হন, তাহলে তাকে নানাভাবে অপমান করা হয় বা চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

আরেকটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তাকে নিয়ে কক্সবাজারে একটি ভ্রমণের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে এমডি মাহমুদুর রহমান পিয়াল, আয়েশা, অবন্তী, রিফাতসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ নিয়েও কর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আরও কিছু প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এর মধ্যে রয়েছে আয়কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত অনিয়ম, যথাযথ অনুমোদন ছাড়া বিদেশি শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কিছু ক্যাম্পাস পরিচালনার বিষয়। এসব অভিযোগের পাশাপাশি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারী শিক্ষক তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে পোস্ট দিলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। সেখানে তিনি দাবি করেন, এইচআর ম্যানেজার শুভ্রা সরকার তাকে একদিন এমডির বাসায় নিয়ে যান এবং পরে একা রেখে চলে গেলে তিনি অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েন।

স্কুলের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা মনে করেন, এসব অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্নভাবে শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে বলতে সাহস পাননি। তারা এখন বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।




কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেমেও সংসদে শব্দ সংকট, হেডফোনে অসুস্থতা—প্রকৌশলীদের গাফিলতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনসভা জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনেই বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। প্রায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা নতুন সাউন্ড সিস্টেম এবং হেডফোন ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় অধিবেশন চলাকালে একাধিকবার মাইক কাজ করেনি। এমনকি স্পিকারকে নিজের বক্তব্য দিতে গিয়ে বাধ্য হয়ে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হয়েছে। নতুন হেডফোন ব্যবহারের পর কয়েকজন সংসদ সদস্যও শারীরিক অসুবিধার অভিযোগ করেছেন। তারা বলেছেন, হেডফোন ব্যবহার করার কিছু সময়ের মধ্যেই কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা শুরু হয়েছে এবং শব্দের মানও খুবই খারাপ।

ঢাকা–১৪ আসনের সংসদ সদস্য মির আহমেদ বিন কাশেম (ব্যারিস্টার আরমান) হেডফোনের মান নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, সংসদে দেওয়া হেডফোন এতটাই নিম্নমানের যে কিছুক্ষণ ব্যবহার করতেই কান ও মাথায় ব্যথা শুরু হয়। তার মতে, সংসদের আগের পুরোনো অডিও ডিভাইসগুলোও সম্ভবত এর চেয়ে ভালো শব্দ দিত। তার এই মন্তব্যের পর আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য জানান যে তাদের হেডফোন ঠিকমতো কাজ করেনি এবং অডিও পরিষ্কার শোনা যাচ্ছিল না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সময় নতুন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য শুরু করতে গিয়ে দেখেন মাইক থেকে কোনো শব্দ বের হচ্ছে না। কয়েকবার চেষ্টা করেও কাজ না করায় তাকে শেষ পর্যন্ত হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি সংসদ সদস্যদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ করেন এবং জানান যে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে শব্দ সঠিকভাবে শোনা যাচ্ছে না। পরে প্রায় ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখতে বাধ্য হন তিনি। বিরতির পর আবার অধিবেশন শুরু হয়।

এই ঘটনার পর সংসদের অডিও সিস্টেম স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা হলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আশ্রাফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফুর রহমান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কোনো নতুন প্রযুক্তি চালুর আগে অন্তত ১০ থেকে ১২ দিন ধরে পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখার নিয়ম থাকলেও এবার সেই নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে উদ্বোধনী অধিবেশনেই পুরো ব্যবস্থার দুর্বলতা সামনে চলে আসে।

এ ঘটনায় পুরোনো একটি ঘটনাও আবার আলোচনায় এসেছে। জানা যায়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আশ্রাফুল হক আগে ২০১৮ সালেও সংসদ ভবনের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময় অধিবেশন চলাকালে প্রায় ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। ফলে তার দায়িত্ব পালন নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

সংসদের হেডফোন এবং গুজনেক মাইক্রোফোন বসানোর কাজ দেওয়া হয় আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের আগে সংসদ ভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কাজ করার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সংসদের অডিও সিস্টেমের কাজ করা প্রতিষ্ঠান **কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেড**কে বাদ দিয়ে নতুন এই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। কমিউনিকেশন টেকনোলজি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান জোয়ারদার দাবি করেন, তারা বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে সিস্টেম পরীক্ষা করিয়ে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা কৌশলে তাদের বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংসদ ভবনে এসি, আলো, অডিও সিস্টেম ও মাইক্রোফোনসহ মোট প্রায় ১২ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে শুধু হেডফোন ও গুজনেক মাইক্রোফোন স্থাপনেই প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একটি গুজনেক মাইক্রোফোনের দাম প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা এবং প্রতিটি হেডফোনের দাম প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। কিন্তু এত টাকা খরচের পরও কেন এই ধরনের ত্রুটি দেখা দিল—তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কেউ স্পষ্টভাবে দায় স্বীকার করতে চাননি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, তিনি শুনেছেন যে হেডফোন ও মাইক্রোফোনে সমস্যা হয়েছে, তবে বিস্তারিত বিষয়টি তিনি জানেন না। অন্যদিকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, এই ঘটনার দায় তার নয়, তাই তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।

এদিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আরেকটি বিষয় নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। জানা গেছে, সংসদের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (HVAC) রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণের জন্য কয়েকজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মো. আশ্রাফুল হক, মো. নাজমুল আলম, কাজী মো. ফিরোজ হাসান, ডা. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, মো. আশরাফুল ইসলাম, মো. রাজু আহমেদ, সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং রিসালত বারী। এই সফরের সমস্ত খরচ বহন করবে ডানহাম–বুশ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উপসচিব মো. নাজমুল আলম বলেন, এই সফরের ব্যয় সরকার দিচ্ছে না, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই সব খরচ বহন করবে।

তবে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন Transparency International Bangladesh–এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তার মতে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থে বিদেশ সফরে যাওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে আমলাতন্ত্রের একটি সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে এবং সরকারি ক্রয়নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক প্রযুক্তিগত জ্ঞান অনলাইনের মাধ্যমেই পাওয়া সম্ভব, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসব প্রশিক্ষণ আসলে বিদেশ সফরের সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

সব মিলিয়ে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কোটি টাকার আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম বসানোর পরও উদ্বোধনী অধিবেশনেই মাইক বিকল হয়ে যাওয়া, হেডফোন নিয়ে অভিযোগ এবং অধিবেশন স্থগিত হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; বরং ঠিকাদারি নির্বাচন, তদারকির অভাব এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার ফলও হতে পারে। এখন সবার প্রশ্ন—এত বড় প্রকল্পের পরও কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো এবং এর দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে।




যমুনা অয়েলে সিবিএ নেতা নাসিরের চিঠিতে কর্মচারীদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা কর্তনের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যমুনা ওয়েলের লেবার ইউনিয়ন ইউনিয়নের সভাপতি আবুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ এয়াকুব দীর্ঘ দিন ধরে জেল হাজতে । ইতিমধ্যে দুই জনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে । এদের অনুপস্থিতিতে বর্তমানে যমুনা অয়েলের একক রাজত্ব তাদেরই অত্যান্ত বিশ্বস্ত অনুসারী অপর সিবিএ নেতা মো: নাসির উদ্দিনের৷ বর্তমানে তিনি সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকেও বটে । চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামিলীগ নেতা বদিউল আলমের ভাতিজা নাসির উদ্দিন নিজেও যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আওয়ামী ঘরনার রাজনৈতিক নেতা বর্তমানে ভোল্ট পাল্টিয়ে হয়ে গেছে বিএনপি ঘরনার । পুরো যমুনা অয়েলে ইচ্ছেমতো চলছে তার চাঁদাবাজি, বদলী ও পদোন্নতি বানিজ্য । বলা চলে তার ইশারায় চলছে যমুনা অয়েল কোম্পানি। জেল হাজতে থাকা দুই সিবিএ নেতাকে জামিনে বের করতে কোটি টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে এই নাসির উদ্দিন৷ এমনকি দুই সিবিএ নেতার সাময়এ বরখাস্ত প্রত্যাহারের জন্য যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগেরও অভিযোগ উঠেছে এই সিবিএ নেতার বিরুদ্ধে।

এদিকে ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রতিষ্ঠানটির ডিজিএম ফ্যাইন্যান্স বরাবর সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিনের দেয়া একটা চিঠি আমাদের কাছে হস্তগত হয়েছে৷ চিঠিতে বিষয় হিসাবে বলা হয়েছে চাঁদা কর্তন। এতে আরও বলা হয়েছে ( সিবিএ) এর কার্যকরী পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং শ্রমিক কর্মচারীদের মৌখিক সম্পত্তির ভিত্তিতে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরের শ্রমিক কল্যান তহবিলে জমাকৃত অর্থ যাহা সুবিধাভোগীদের মাঝে বন্টন করা হবে। তা হইতে সকল শ্রমিক – কর্মচারী ও সিকিউরিটি সহ প্রতিজনের হিসাব হতে পাঁচ হাজার টাকা করে কর্তন করা অনুরোধ জানান হলো। এধরণের চিঠি দেখে হতবাক যমুনা অয়েলের সাধারণ কর্মচারীরা৷ ইচ্ছে করলেই কর্মচারীরা এর প্রতিবাদ করারও সাহস রাখেনি৷ প্রতিবাদ করতে গেলেই উল্টো তাদেরকে হেনেস্তার শিকার হতে হয়৷ বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ডিজিএম ফাইন্যান্সকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি৷ এদিকে যমুনা অয়েলের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন এধরণের চিঠি দেয়ার এখতিয়ার সিবিএ নেতা নাসির উদ্দিন রাখেনা, তারা দাবি করেন এটা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজির শামিল। তারা এও অভিযোগ করে যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় চলছে এরকম প্রকাশ্য চাঁদাবাজির ঘটনা৷ অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির জিএম এইচ আর মো: মাসুদুল ইসলাম প্রকাশ্যে সিবিএ নেতা নাসিরকে সহযোগিতা করেছে। তার সহয়তায় এই সিবিএ নেতা প্রতিষ্ঠানটিতে দানবের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে ।

এদিকে চাঁদাবাজি ছাড়াও নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রয়েছে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ। শ্রমিক কর্মচারী বিশেষে ইনক্রিমেন্ট, গ্রেডিং, পদোন্নতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও টাকার বিনিময়ে তিনি বদলী, পদোন্নতি বিশেষ ইনক্রিমেন্ট করে থাকেন । অপু দে নামক এক অফিস সহকারী, নারী নির্যাতন মামলায় ছয় মাস জেল হাজতে ছিলেন, যেখানে তার সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার কথা সেখানে নাসিরের ক্ষমতার বদৌলতে বিশেষ ইনক্রিমেন্ট দেয়া হয়৷




সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়ালো চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে চীন সরাসরি ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শিক্ষার্থীদের মৃত্যুতে চীনের সরকার ২ লাখ ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা ঘোষণা করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন (১৩ মার্চ, শুক্রবার) জানিয়েছেন, সহায়তা দেওয়া হবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে এবং এটি নিহতদের পরিবার ও আহতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক।

চীনের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন বলেন, স্কুলে হামলা এবং নিরপরাধ শিশুদের প্রাণহানি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। চীন সব সময় মানবিক চেতনায় বিশ্বাসী এবং এই কঠিন সময়ে ইরানের জনগণের পাশে থেকে সংকট কাটিয়ে উঠতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। সব দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা সম্মান করতে হবে, এবং সব পক্ষকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফিরতে হবে যাতে সংঘাত ছড়িয়ে না পড়ে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ শিক্ষার্থী নিহত হন। এ ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সহ ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।




দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু ১৬ মার্চ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-৩ শাখা থেকে এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে ৫৪টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খননের মাধ্যমে ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

একই সঙ্গে আরও ৫৩টি জেলায় মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ ও সংসদ সদস্যরা এ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন।

কৃষি ও সেচ কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি এ কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সহায়ক হবে এবং গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।




ব্যাটিং ধসে ১১৪ রানেই থামল বাংলাদেশ, সমতায় ফিরল পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ বৃষ্টির আগে ৬ ওভার ৩ বলে দলীয় ২৭ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। এতে করে পুনরায় যখন বল মাঠে গড়ায়, তখন বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্যটা হয়ে উঠে আরও চ্যালেঞ্জিং। পাকিস্তানকে হারাতে বৃষ্টি আইনে টাইগারদের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। অর্থাৎ, বাকি ২৫.৩ ওভারে ২১৬ রান করতে হতো। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই থেমেছে মেহেদী মিরাজের দল। ফলে ১২৮ রানের বড় জয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল পাকিস্তান।

শুক্রবার মিরপুর শের-ই বাংলা স্টেডিয়ামে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ লিটন দাস ৪১ এবং তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে আসে ২৮ রান। পাকিস্তানের সমান ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন হারিস রউফ ও মাজ সাদাকাত।

পাকিস্তানের দেওয়া ২৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় ১৩ রানের মাথায় পরপর সাজঘরে ফেলেন দুই ওপেনার তানজিদ তামিম (১) ও সাইফ হাসান (১২)। এরপর স্কোরবোর্ডে ২ রান যোগ হতেই ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্তও।  রানের খাতা খোলার আগেই শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। বিপর্যয় সামলানোর লক্ষ্যে উইকেটে আসেন লিটন ও হৃদয়। কিছুক্ষণ বাদেই অবশ্য তুমুল বাতাস ও বৃষ্টি শুরু হলে তাদের মাঠ ছাড়তে হয়।

নতুন লক্ষ্য পাওয়ার পর লিটন-হৃদয়ের শুরুটা ছিল দারুণ। টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মতোই আগ্রাসী হতে হতো, সেটাই করছিলেন তারা। কিন্তু দু’জনের জুটিতে ৫৮ রান হতেই সাদাকাতের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন লিটন। ফেরার আগে ৩৩ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪১ রান করেন তিনি। আফিফ হোসেনকেও (১৪) ফেরান তরুণ এই স্পিনার। এরপর মিরাজ (১) ও রিশাদ হোসেনও (২) ব্যাট হাতে ব্যর্থ। লিটনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে থাকা হৃদয়ও দ্রুতই দম হারান। ৩৮ বলে তিনি করেন ২৮ রান।

শেষ ১৯ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। অথচ তখনও ম্যাচের ৫১ বল বাকি। ১২৮ রানের এই হারে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেই হবে সিরিজনির্ধারণী লড়াই। আগামী ১৫ মার্চ মিরপুরে ফাইনাল ম্যাচটিতে লড়বে বাংলাদেশ-পাকিস্তান।

এর আগে, মাজ সাদাকাতের ৭৫, সালমান আগার ৬৪ এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪৪ রানে ভয় করে ২৭৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। দুটি উইকেট পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর একটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।




ইমাম-মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও যাজকসহ ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানী প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।

অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং খ্রিস্টান চার্চের পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

জাতীয় পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




যুক্তরাষ্ট্র কেন খারগ দ্বীপে হামলা চালালো, ইরানের কাছে দ্বীপটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের খারগ দ্বীপের সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি বলেছেন, সেখানকার তেল অবকাঠামোর কোনো ক্ষতি করা হয়নি। 

বিবিসির মাইকি কে’র ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয় এবং এটিকে তেহরানের অর্থনীতির লাইফলাইন বলা হয়।

এর আগে দুজন কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি মেরিন ইউনিট এবং আরও যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। 

খারগ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ১৫ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ মাইল লম্বা একটি ছোট দ্বীপ। এই দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

দ্বীপটিতে অল্প কিছু মানুষ বাস করে। বরং ইরানের রপ্তানি করা অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের মাধ্যমে যায়।

বড় বড় তেলবাহী ট্যাংকার প্রথমে এই দ্বীপ থেকে তেল নিয়ে তারপর সেখান থেকে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যায়। এর অন্যতম হলো চীন। দেশটি ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা।

ইরানের এই দ্বীপে প্রবেশ বা ব্যবহার বন্ধ হলে দেশটির অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এদিকে সিএনএনকে যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা কর্মকর্তা জানান, খারগ দ্বীপে হামলার ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজার ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ চলে যেতে পারে।

মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মার্ক কিমিট বলেন, সেখানে মার্কিন হামলার অর্থ হলো আমরা এই যুদ্ধে ঝুঁকির মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছি। বিষয়টি এখন আর শুধু ‘সামরিক বাহিনী বা সরকারকে হটিয়ে দেওয়ার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।  বরং আমরা এখন ইরানের অর্থনৈতিক প্রাণভোমরাকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করছি।




ঈদে ফিরতি ট্রেনযাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট বিক্রি আজ

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের জন্য অগ্রিম টিকিট বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবারও শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ঈদ ফেরত যাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। শনিবার (১৪ মার্চ) ৮টা থেকে ফিরতি ট্রেন যাত্রার দ্বিতীয় দিনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে এবং দুপুর ২টা থেকে পূর্বাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে।

রেলওয়ের ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এর আগে গত ১৩ মার্চ বিক্রি হয়েছে ২৩ মার্চের টিকিট।

ধারাবাহিকভাবে ২৫ মার্চের টিকিট ১৫ মার্চ, ২৬ মার্চের টিকিট ১৬ মার্চ, ২৭ মার্চের টিকিট ১৭ মার্চ, ২৮ মার্চের টিকিট ১৮ মার্চ এবং ২৯ মার্চের টিকিট ১৯ মার্চ বিক্রি করা হবে। এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।