পরকিয়ার টানে টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রবাসী স্বামীর ঘর ছেড়ে মিথ্যা মামলা

তৌহিদুর রহমানঃ মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলায় প্রবাসী স্বামীর ৩ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে স্ত্রী চম্পট দেয়ার পর স্বামী সহ শশুর, দেবর ও ননদের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি কালকিনি থানার উত্তর রমজানপুর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটেছে।

জানা যায়, সৌদি আরব প্রবাসী স্বামীর নাম নাঈম হাওলাদার। সে ওই গ্রামের মিজান হাওলাদারের বড় ছেলে। স্ত্রী বিথী আক্তার হলেন মাদারীপুর জেলার কালকিনি থানার আইরকান্দি গ্রামের শহীদ ফকিরের মেয়ে। বর্তমানে শহীদ ফকির ডিএমপি’র কদমতলী থানার দক্ষিণ ধনিয়ার কুদ্রত আলী বাজারের ১৪৮১ নম্বর বাড়িতে সপরিবারে বসবাস করেন। মিথ‍্যা মামলা সহ তাদের অত‍্যাচার নির্যাতন থকে রক্ষা পেতে ওই প্রবাসীর ছোট ভাই আফিফ হাসান কাউসার (আসামী) ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখ নিজে বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী,আইন সচিব, আইজিপি, ঢাকার চীপ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ ও আবেদন করেন । কাউসার তার অভিযোগ ও আবেদনের বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও কাল্পনিক নাটক সাজিয়ে আদালতে অবৈধ মামলা করে হয়রানির অভিযোগ তোলেন। একই সাথে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,একাধিক পর-পরুষে আসক্ত ওই প্রবাসীর স্ত্রী বিথী আক্তার। হানি ট্রাফের মাধ্যমে যুবকদের থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়াই তার নেশা ও পেশা। বিথীর এসব অনৈতিক কাজে তার মা-বাবার সহযোগিতার হাত রয়েছে বলে সুত্র নিশ্চিত করে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে ২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব প্রবাসী নাঈম হাওলাদার এর সাথে বিথীর ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কাবিন মূল‍্যে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। এরপর নাঈম তার স্ত্রীকে বাবা- মায়ের কাছে রেখে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট পুনরায় সৌদি আরবে যান। এরপর পরোকিয়া আসক্ত স্ত্রী বিথী ২৮ মার্চ ২০২৫, সকাল ১০ টার দিকে বাবার বাড়ি থেকে খালাতো বোনের বিয়েতে যাবার ছলনা করে তার শাশুড়ির কাছে থাকা সব স্বর্ণের গহনা (৩ ভরি) চেয়ে নেয়। তারপর প্রসাধনী জিনিসপত্র ও কাপড়- চোপড় বড় লাগেজে ভরে তার বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে একাই বেরিয়ে যায়। এরপর স্বামী নাঈম ও তার শশুর-শাশুড়ি একাধিক বার মোবাইলে ফোনে তাকে বাড়ি আসতে বল্লেও সে বিভিন্ন তালবাহানা করে কালক্ষেপণ করতে থাকে। এ বিষয়টি বিথীর বাবা-মাকে একাধিকবার জানালেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

দীর্ঘদিন পর এক পর্যায়ে বিথী আক্তারের বাবা-মা নাঈমের বাবা-কে মোবাইল ফোনে জানায়, আমার মেয়ে বিথী আর তোমাদের বাড়ি যাবে না এবং তোমার ছেলের সংসারও করবে না। একইভাবে তারা বিথীর স্বামী প্রবাসী নাঈমকে মোবাইলে জানায়, আমার মেয়ে তোমার ঘর করবে না, আমার মেয়ের চিন্তা আর তোমাকে করতে হবে না, সময় মত কাগজ হাতে পেয়ে যাবা ইত্যাদি। তার কিছুদিন পর নাইমের পরিবার জানতে পারে বীথিকে দিয়ে তার বাবা শহীদ ফকির, তার মা ওমেনা বেগম,ভাই তানভীর হোসেন বিল্লাল ও তার ছোট খালু কাউসার মোল্লা বিথির কাছে থাকা নাঈমের ৩ লাখ টাকা ও ৩ ভরি স্বর্নের গহনা। যার বাজার মূল্য ৮ লক্ষাধিক টাকা। এছাড়া লক্ষাধিক টাকার বিভিন্ন জিনিসপত্র আত্মসাৎ করার নেশায় মেতে উঠেছে । তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিথীকে কু-পরামর্শ দিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে সরিয়ে বাপের বাড়ি আনে। এরপর বিথীকে দিয়ে স্বামী নাঈম হাওলাদার, নাঈমের বাবা মিজান হাওলাদার, ভাই আফিফ হাসান কাউসার ও তার বড় বোন মিতু বেগম এর বিরুদ্ধে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্নসাৎ করার উদ্দেশ্য আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

জানা গেছে ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এর কদমতলী থানার আমলী ২০ নম্বর আদালতের ওই মামলা নম্বর-৮৮২/২০২৫। ধারা- যৌতুক নিরোধ আইনের-৩। নাঈম হাওলাদার প্রবাসে অবস্থান কালে মিথ্যা মামলায় আসামি হওয়ায় পুলিশি হয়রানি ও গ্রেফতারের ভয়ে দেশে আসতে সাহস পাচ্ছে না। বিথী ও তার পরিবারের লোকেরা মিথ্যা মামলা দিয়ে মোটা অংকের টাকা আদায়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। তারা স্বশরীরে ও মোবাইল ফোনে নাঈম ও তার মা- বাবা,ভাই ও বোনকে একাধিক মামলা দিয়ে জেল খাটাবার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারা মামলা প্রত্যাহার করতে কাবিনের টাকা সহ ১০ লাখ টাকা আদায়ের পাঁয়তারা করছে। অভিযোগকারী তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন বিথী আক্তার বিভিন্ন পর- পুরুষের সাথে ভয়ানকভাবে পরকীয়া আসক্ত। সে সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে বিভিন্ন পর পুরুষের সাথে কুরুচিপূর্ণ আলাপ করে এবং ভিডিও কলে নিজের শারীরিক সৌন্দর্য ও অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে তাদেরকে আকৃষ্ট করে। বিকৃত চরিত্রের এই সুন্দরী তরুণী একাধিক যুবক-কে পরকীয়া প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নেয়। এসব লুটের অর্থ তার বাবা-মার হাতে তুলে দিয়ে প্রচুর সম্পদ গড়েছে বলে স্বামীর পরিবারের দাবি । ওই লম্পট তরুণী বিভিন্ন নামে এক ডজন এরও বেশি ফেসবুক আইডি ও পেইজ খুলে এসব অনৈতিক কাজে ব্যবহার করে। এর মধ্যে বৈশাখী আক্তার বিথী, বিথী আক্তার, বিথী আক্তার বিথী, মেডিবয় বিথী পেইজ, খাদিজা আইডি ও পেইজ ইত্যাদির নাম জানা গেছে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন, বিথি বিয়ের পরবর্তী সময় হতে স্বামীর বাড়ির কারো কোন কথা শোনে না। সংসারের কোন কাজকর্মও করতো না। নিজের ইচ্ছামতো বেপর্দায় বেপরোয়াভাবে চলাফেরা করতো। এসব বিষয়ে নাঈমের পরিবারের লোকেরা তার বাবা- মা, ভাই ও ছোট খালুর সাথে কথা বললেও কোন কর্ণপাত করে নাই । বরং তারা আরো উৎসাহ দিয়ে তার জীবন ধ্বংস করেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চেয়ে মিথ্যা মামলা কারিনী বিথী ও তার বাবা শহীদ ফকিরের মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিবেদকের কাছে সব অভিযোগ অস্বীকার করে। অপরদিকে ভুক্তভোগী আফিফ হাসান কাউসার তার অভিযোগে বিথির মামলার আরজির সকল অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও কাল্পনিক কাহিনী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন ওইসব অভিযোগের কোন দালিলিক তথ্য প্রমান নেই। সবই সাজানো নাটকের উপকরণ মাত্র।

এছাড়া এই মিথ্যা মামলাটি আদালতে তুলে দীর্ঘায়িত করে রাষ্ট্রের অর্থ অপচায় ও মূল্যবান সময় নষ্ট না করার আবেদন করেন তিনি। একই সাথে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গ্রহণসহ মিথ্যা মামলাবাঁজ ও প্রকৃত অপরাধির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান ওই ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।




মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজঃ ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা।

শুক্রবার সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপির এই নেতাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার কথা ছিল। তবে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দেশেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিন বিকেল ৩টার পর তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার আগেই প্রথম দফায় তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। এরপর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। সন্ধ্যার পর আবারও দ্বিতীয় দফায় তার অস্ত্রোপচার হয়।

এর আগে, জুমার নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসকে দেখতে যান। মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে তাকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

মির্জা আব্বাসের চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডে অধ্যাপক আলী উজ্জামান জোয়ার্দার, অধ্যাপক কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক রাজিউল হক, অধ্যাপক সৈয়দ সাঈদ আহমেদ, অধ্যাপক কাদের শেখ ও অধ্যাপক শফিকুল ইসলামসহ এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা রয়েছেন।




দেশে ফিরলেন কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতারে আটকে পড়া  ৪৩০ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে তাদের বহনকারী কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আটকেপড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ট্রানজিটে থাকা যাত্রী ও দূতাবাসের কর্মীরাও ছিলেন।

রাগীব সামাদ জানান, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না। তাই বাংলাদেশ সরকার কাতার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে।

এর আগে ১১ মার্চ জারি করা এক জরুরি বার্তায় দূতাবাস জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভ্রমণ সহজ করতে তারা কাতার সরকার ও কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশে ফিরতে চাওয়া যাত্রীদের মধ্যে পরিবার, নারী, শিশু ও বয়স্কদের এই বিশেষ ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

দূতাবাস আরও জানায়, আগ্রহী যাত্রীদের তালিকা তৈরির জন্য তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি ‘গুগল ফর্ম’–এর লিংক প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিশেষ ব্যবস্থায় দেশে আসার জন্য আটকেপড়া বাংলাদেশিদের যত দ্রুত সম্ভব ওই ফর্মের মাধ্যমে নিজেদের তথ্য জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।




বুধবার পর্যন্ত দেশে বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

আবহাওয়া ডেস্কঃ আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ‘এ ঝড়বৃষ্টির পরিমাণ হয়তো বেশি হবে না। আবার দীর্ঘ সময় ধরেও থাকবে না। দেশজুড়েই যে এমনটা ঘটবে তা নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিচ্ছিন্নভাবে তা হতে পারে।’

শুক্রবার (১৩ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা বলেন, ‘ইতোমধ্যে কালবৈশাখী শুরু হয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বুধবার পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এটা চলতে পারে। তবে, তা বিচ্ছিন্নভাবে হতে পারে। আসলে এ সময়ের এটাই বৈশিষ্ট্য। বিচ্ছিন্নভাবে ঝড়বৃষ্টি হয়। স্থানীয়ভাবে মেঘ সৃষ্টি হওয়ার ফলেই ঝড়বৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়, শনিবার (১৪ মার্চ) রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ-চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

রবিবার (১৫ মার্চ) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ-চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। সোম, মঙ্গল ও বুধবারও রয়েছে বৃষ্টির পূর্বাভাস। বুধবারের পরের পাঁচদিনেও বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।




প্রায় ৫ কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেম বিকল, সংসদে হেডফোন কেলেঙ্কারি—গণপূর্তের পাঁচ প্রকৌশলীর গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত বিপর্যয়। প্রায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত নতুন সাউন্ড সিস্টেম হঠাৎ করেই অচল হয়ে পড়ায় সাময়িকভাবে থমকে যায় সংসদের কার্যক্রম। একই সময়ে সংসদ সদস্যদের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা হেডফোনের নিম্নমান নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—এই ব্যর্থতার দায় কার।

ঘটনার শুরু অধিবেশন চলাকালেই। নতুন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বক্তব্য দিতে শুরু করলে হঠাৎ করেই সংসদের মূল সাউন্ড সিস্টেমে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মাইকে কথা বললেও তা পরিষ্কারভাবে শোনা যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত তাকে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বক্তব্য চালিয়ে যেতে হয়। এ সময় স্পিকার অধিবেশন ২০ মিনিটের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। বিরতির পর অধিবেশন আবার শুরু হলেও কিছু সময় পর্যন্ত শব্দ বিভ্রাট অব্যাহত ছিল। সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন প্রযুক্তিগত সমস্যাকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে এই ঘটনার আগেই সংসদে সরবরাহ করা হেডফোনের মান নিয়ে সরব হন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মির আহমেদ বিন কাশেম, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামেও পরিচিত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি কালো রঙের হেডফোনের ছবি পোস্ট করে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে দেওয়া হেডফোনের মান এতটাই নিম্নমানের যে ব্যবহার করতে গিয়ে কান থেকে মাথা পর্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়েছে এবং শব্দের মানও অত্যন্ত খারাপ। তার এই মন্তব্য দ্রুতই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন এই সাউন্ড সিস্টেম কেনার জন্য প্রায় ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। সাধারণত সংসদের মতো উচ্চ নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে নতুন কোনো প্রযুক্তি চালুর আগে ১০ থেকে ১২ দিন পর্যন্ত নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কিন্তু এই সিস্টেমের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, সাউন্ড সিস্টেমটি সরবরাহ করেছে আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যার মালিক দুলাল। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

সংসদ ভবনের বৈদ্যুতিক ও প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন প্রকৌশলী। তাদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ই/এম) আশ্রাফুল হক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফুর রহমান এবং উপসহকারী প্রকৌশলী সামসুল ইসলাম রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তদারকির ঘাটতি, অযোগ্যতা ও অবহেলার কারণেই নতুন সাউন্ড সিস্টেম প্রথম দিনেই কার্যত ভেঙে পড়েছে।

এই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে আরও একটি পুরোনো বিতর্কও সামনে এসেছে। জানা গেছে, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক ২০১৮ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে সংসদ ভবনের দায়িত্বে থাকাকালেও অধিবেশন চলাকালে প্রায় ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও কেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে বিদেশ সফরকে ঘিরে। সংসদ ভবনের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশ্রাফুল হক অবসরের মাত্র কয়েক মাস আগে কারিগরি প্রশিক্ষণের নামে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সফরে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজমুল আলমসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার। এই প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তু হচ্ছে HVAC সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ, যা সাধারণত মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন এমন ব্যক্তিরাও এই সফরের তালিকায় রয়েছেন। ফলে অনেকেই এটিকে প্রশিক্ষণের আড়ালে আমলাতান্ত্রিক প্রমোদ ভ্রমণ বলে মন্তব্য করছেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই সফরের ব্যয় বহন করবে ডানহাম–বুশ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যারা HVAC রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নাজমুল আলম বলেছেন, এই সফরের খরচ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানই বহন করবে এবং এতে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন দুর্নীতি বিরোধী বিশ্লেষকরা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোম্পানির টাকায় বিদেশ সফরের সংস্কৃতি দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক সমস্যার অংশ, যা স্পষ্ট স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে এবং সরকারি ক্রয়নীতির সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। তার মতে, অনলাইন যুগে প্রযুক্তিগত তথ্য জানার জন্য বিদেশ সফর অপরিহার্য নয়; বরং অনেক ক্ষেত্রে এসব সফর ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করে।

এদিকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই যখন প্রায় পাঁচ কোটি টাকার সাউন্ড সিস্টেম কার্যত অচল হয়ে পড়ে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এই ক্রয় প্রক্রিয়া তদারকি করেছেন কারা এবং কেন যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এটি চালু করা হলো। এখন দেখার বিষয়, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, নাকি আগের মতোই সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে।




আউটসোর্সিংয়ের আড়ালে ৩০ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ : প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক শাহজামান তুহিনের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ কার্যক্রম ঘিরে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে সারা দেশের উপজেলাগুলোতে কৃত্রিম প্রজনন (এআই) টেকনিশিয়ান নিয়োগের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার একটি বাণিজ্যিক পরিকল্পনার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিনের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করছে, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর আগেই নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো ব্যবস্থাকে সাজিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সরকারি ক্রয় ও নিয়োগ নীতিমালার পরিপন্থী।

জানা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় মোট ৪৯৫টি পদের অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক মো. শাহজামান খান তুহিন জনবল সরবরাহকারী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য পত্রিকায় দরপত্র আহ্বান করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে বাস্তবে মাত্র তিন থেকে চারটি প্রতিষ্ঠানই অংশ নিতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শর্তগুলো পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে আগে থেকেই নির্ধারিত একটি প্রতিষ্ঠান সহজেই কাজটি পেয়ে যায়।

সূত্রগুলো আরও দাবি করছে, পরিচালক শাহজামান খান তুহিন বগুড়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আগেই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন। সেই সমঝোতার ভিত্তিতেই কাজটি ওই প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, যে কাজটি করার কথা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের, সেটির বড় একটি অংশ নিজেই আগেভাগে সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

এরই অংশ হিসেবে গত ১ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেশের প্রতিটি উপজেলায় চিঠি পাঠিয়ে তিনজন করে অভিজ্ঞ এআই টেকনিশিয়ানের নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহ করার এই পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, এটি মূলত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আগাম দরদাম বা সমঝোতার একটি কৌশল হতে পারে।

নিয়ম অনুযায়ী, আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানই পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই এবং প্রার্থী নির্বাচন করে থাকে। এরপর নির্বাচিতদের বায়োডাটা দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে অভিযোগ উঠেছে, এই পুরো প্রক্রিয়াই আগেভাগে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন পরিচালক শাহজামান খান তুহিন। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যে কাজটি ঠিকাদারের করার কথা, সেটি পরিচালক নিজেই হাজার হাজার টাকা ব্যয় করে করে ফেলছেন। এতে বোঝা যায়, পুরো বিষয়টি আগেই পরিকল্পনা করে সাজানো হয়েছে।”

আরও জানা গেছে, বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রশিক্ষিত এআই টেকনিশিয়ান রয়েছেন। স্বাভাবিক নিয়মে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে এই প্রশিক্ষিত কর্মীরাই আবেদন করতেন এবং সেখান থেকে যোগ্যদের নির্বাচন করা হতো। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে একটি নিয়ন্ত্রিত তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে।

এদিকে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা অনুযায়ী, রাজস্ব খাতে সৃষ্ট আউটসোর্সিং পদের নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব মহাপরিচালকের দপ্তরের ওপরই ন্যস্ত থাকে। অতীতেও একই নিয়মে এই ধরনের নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এবার সেই প্রচলিত প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে পুরো বিষয়টি প্রকল্প পরিচালকের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই প্রক্রিয়া নিজের হাতে নেওয়া হয়েছে।

অধিদপ্তরের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, পুরো আউটসোর্সিং প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার একটি বড় আর্থিক লেনদেনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে ঠিকাদারও আগে থেকে ঠিক, প্রার্থীদের তালিকাও ঠিক করা হচ্ছে। এখন কেবল কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়ে যাবে।”

এমন পরিস্থিতিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকল্প পরিচালক শাহজামান খান তুহিনকে অবিলম্বে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে এআই টেকনিশিয়ান নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া পুনরায় মহাপরিচালকের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনা উচিত।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—একজন প্রকল্প পরিচালক কীভাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এলেন, দরপত্রের শর্ত কেন এমনভাবে নির্ধারণ করা হলো যাতে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে যায়, এবং ঠিকাদার নিয়োগের আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা সংগ্রহের পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা। তবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরে ও বাইরে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এটি কি সত্যিই একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া, নাকি ৩০ কোটি টাকার একটি সাজানো খেলা?




সংসদের দর্শক সারিতে ড. ইউনূস-জুবাইদা রহমান-জাইমা রহমান-তিন বাহিনীর প্রধানরা

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ দেড় বছরের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা পেরিয়ে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক নতুন সোপানে পদার্পণ করল বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম ঐতিহাসিক অধিবেশন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সংসদকে ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও প্রত্যাশা।

অধিবেশনের শুরুতে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক পরিস্থিতির অবতারণা হয়। বিগত সরকারের পতনের পর স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী প্রবীণ রাজনীতিবিদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে কার্যক্রম শুরু হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নাম প্রস্তাবকালে ১৯৭৩ সালের উদাহরণ টেনে বলেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও মাওলানা আব্দুর রশিদ তর্কবাগীশের নাম প্রস্তাব করেছিলেন। বর্তমান সংকটকালীন প্রেক্ষাপটে প্রবীণ এই সংসদ সদস্যের হাত ধরেই শুরু হলো সংসদের যাত্রা।

অধিবেশনের দর্শক সারিতে আজ দেখা গেছে বিশিষ্টজনদের এক অনন্য সমাহার। সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান উপস্থিত থেকে এই মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমান। নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ বিদেশি কূটনীতিক ও দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সংসদ কক্ষ ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মাথায় আজ এই অধিবেশন শুরু হলো।



এলজিইডির সড়ক ও আয়রন ব্রিজ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ, ময়মনসিংহ ও পিরোজপুরে দুদকের অভিযান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা Local Government Engineering Department (এলজিইডি) পরিচালিত সড়ক উন্নয়ন ও আয়রন ব্রিজ নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের পর অভিযান চালিয়েছে Anti-Corruption Commission (দুদক)। অভিযোগের ভিত্তিতে ময়মনসিংহ ও পিরোজপুর জেলায় পৃথকভাবে এনফোর্সমেন্ট টিম পাঠানো হয় এবং সেখানে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা যাচাই করা হয়।

দুদকের একটি টিম হালুয়াঘাট উপজেলা, ময়মনসিংহ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযোগ ছিল, এলজিইডির সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ বরাদ্দ নেওয়া হলেও বাস্তবে কাজ ঠিকভাবে করা হয়নি এবং কাজের মানও অত্যন্ত নিম্নমানের। এনফোর্সমেন্ট টিম স্বদেশী ইউনিয়নের মিলনবাজার সংলগ্ন নির্মাণাধীন সড়ক পরিদর্শন করে। সেখানে গিয়ে তারা প্রকল্পের নথিপত্র পরীক্ষা করে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে। অভিযানের সময় সড়কের বিভিন্ন স্থানে মাপজোক করা হয় এবং কয়েকটি জায়গায় রাস্তা খনন করে কাজের মান যাচাই করা হয়। প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, কাগজে-কলমে যে পরিমাণ কাজ দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার সঙ্গে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য থাকতে পারে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য প্রকল্প-সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করেছে দুদক।

এদিকে আরেকটি অভিযান চালানো হয় পিরোজপুর জেলায়। অভিযোগ রয়েছে, সদর উপজেলার কদমতলী ইউনিয়নের বাগমারা আবাসন এলাকা এবং ভান্ডারিয়া উপজেলা-এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি স্থানে আয়রন ব্রিজ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় কাজ পুরোপুরি শেষ করা হয়নি। অথচ প্রকল্পের অর্থ তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পর পিরোজপুরে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে। সেখানে বিভিন্ন ব্রিজের কাজের অগ্রগতি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রকল্প অনুযায়ী বরাদ্দ অর্থের সঙ্গে বাস্তব কাজের মিল রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রাথমিক যাচাইয়ে অভিযোগের কিছু সত্যতা মিলেছে। ইতোমধ্যে এই বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত মোট আটটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকল্পগুলোর পরিমাপ নেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কাজ কম দেখিয়ে বা কাজ না করেই বিল তোলার ঘটনা ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম দুটি অভিযানে সংগ্রহ করা নথিপত্র ও তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




আজ থেকে দেশে আবার গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজ থেকে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ কথা বলেছেন তিনি।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পর বেলা সোয়া ১১টার কিছু আগে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আন্দোলন– সংগ্রামে সব শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে বাংলাদেশে আবারও গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলো। সরকার এই সংসদকে তর্ক-বিতর্ক আর জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোস করেননি। এ সময় খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, দল–মত নির্বিশেষে তিনি দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই বিএনপির লক্ষ্য। এতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী ।




সংসদের স্পিকার পদে নির্বাচিত মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার পদে নির্বাচিত হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।  

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংসদ অধিবেশনে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের নাম প্রস্তাব করেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। এই প্রস্তাব সমর্থন করেন খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম।

সংসদের সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সংসদের সামনে স্পিকার নির্বাচনের বিষয়টি পেশ করেন। পরে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।

বেলা ১১টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আহ্বানে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে সংসদীয় নেতা তারেক রহমান তার বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন। এতে পূর্ণ সমর্থন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা।

এদিকে, তারেক রহমানের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, এ বিষয়ে আগে আলোচনা করলে খুশি হতেন তারা।