বিদেশি মদ উদ্ধার: খালাস পেলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর

বিনোদন ডেস্কঃ চার বোতল বিদেশি মদ নিজ হেফাজতে রাখার অভিযোগে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের বিরুদ্ধে করা মামলায় তাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৯ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়ে এ রায় দেন।

এর আগে, গত ৩ মার্চ আদালত মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন ও রায় ঘোষণার জন্য সোমবার (৯ মার্চ) দিন নির্ধারণ করেন। শুনানিকালে আসিফ আকবর আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় তিনি জানান, তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ৬ জুন তেজগাঁও থানার অন্তর্ভুক্ত পান্থপথে আর্ব এন্টারটেইনমেন্টের অফিস থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের একটি মামলায় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার অফিস কক্ষে চার বোতল অবৈধ টাকিলা মদ পাওয়া যায়। পরে মদগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। লাইসেন্স ছাড়া বিদেশি মদ নিজের দখলে রাখার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ জুলাই সিআইডি পুলিশের সাইবার তদন্ত শাখার উপ-পরিদর্শক প্রশান্ত কুমার সিকদার রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) উপ-পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দিন তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।




ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় ইরানের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দখলদার ইসরায়েলের তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সশস্ত্র বাহিনীর হেডকোয়ার্টারের এক মুখপাত্র বলেছেন, নতুন হামলায় ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোকে টার্গেট করা হয়েছে।

তারা বলেছে, ইসরায়েলের হাইফা শহরে থাকা তেল ও গ্যাস শোধনাগার এবং মজুদ ট্যাংক লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। এছাড়া বাণিজ্যিক রাজধানী তেলআবিবের কাছের একটি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টারও ধ্বংস করা হয়েছে।

ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ এর ৩৩তম দফায় এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। তারা বলেছে, ইরানের তেল ডিপোতে হামলার জবাব হিসেবে এ পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে।




১২ দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৯১ ফ্লাইট বাতিল

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

যার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১১ মার্চ) মোট ২৪টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানায়, যুদ্ধপরিস্থিতিতে আকাশপথ বন্ধের কারণে ঢাকা থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি ফ্লাইট, ২ মার্চ ৪৬টি এবং ৩ মার্চ ৩৯টি, ৪ মার্চ ২৮টি, ৫ মার্চ ৩৬টি, ৬ মার্চ ৩৪টি, ৭ মার্চ ২৮টি, ৮ মার্চ ২৮টি এবং ৯ মার্চ ৩৩টি, ১০ মার্চ ৩২ টি ফ্লাইট বাতিল হয়।

আজ বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে– কুয়েত এয়ারের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার (শারজাহ, ইউএই) ৪টি, গালফ এয়ারের (বাহরাইন) ২টি, কাতার এয়ারওয়েজের (কাতার) ৪টি, এমিরেটস এয়ারলাইনসের (ইউএই) ৪টি, জাজিরা এয়ারের (কুয়েত) ৪টি, ফ্লাইদুবাইয়ের (ইউএই) ৪টি।

সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সর্বমোট বাতিল করা ফ্লাইটের সংখ্যা ৩৯১টি।




১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারা দেশে মোট ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন করা হবে।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘আগামী ১৬ মার্চ দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রী মূল কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিনে দেশের আরও ৫৪টি জেলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে এই কর্মসূচির সূচনা করবেন।’

চার বছর মেয়াদি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় করবে সরকারের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়: পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘এবারের খনন কর্মসূচিতে যান্ত্রিক এক্সকাভেটরের চেয়ে মানুষের শ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কাজের অন্তত ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সাধারণ শ্রমিকদের মাধ্যমে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং হাইস্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও এই জাতীয় কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত করার বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চান সাধারণ মানুষ এবং শ্রমিকরা সরাসরি এই কাজের সুফল ভোগ করুক। এটি একটি জনবান্ধব রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

অতীতে খাল খনন প্রকল্পের নামে অর্থ লোপাটের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আমরা জনসম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছি। যেহেতু মাঠ পর্যায়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরাসরি তদারকি করবেন এবং শ্রমনির্ভর পদ্ধতিতে কাজ হবে, তাই অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।’




রাজধানী ঢাকায় বাড়তে শুরু করেছে গরমের তীব্রতা

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকেই গরমের প্রভাব আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও বুধবার (১১ মার্চ) সকালের দিকে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন ছিল, তবে তাপমাত্রার পারদ গতকালের চেয়ে ঊর্ধ্বমুখী। 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আজ সকাল ৭টায় প্রকাশিত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার বিশেষ পূর্বাভাসে জানানো হয় যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৬ শতাংশ, যার ফলে ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে যে, আজ দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এই সময়ে পশ্চিম অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে মৃদু বাতাস বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাতাসের গতি কম থাকায় এবং আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে যে মনোরম আবহাওয়া ছিল, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা গরমের তীব্রতায় রূপ নিতে পারে। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, আজ সারাদিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আজকের দিনপঞ্জি অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৬ মিনিটে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ১১ মিনিটে। বসন্তের এই সময়ে তাপমাত্রার এমন পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ গরমের অনুভূতি বেশি হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে আর্দ্রতা বেশি থাকায় বাইরে চলাচলের ক্ষেত্রে নগরবাসীকে বাড়তি সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দুপুরের পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে গেলে রোদের তেজ আরও বাড়তে পারে বলে আবহাওয়া চিত্রের বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের এই পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতি আগামী কয়েক দিন একই রকম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট প্রদান করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের বৃষ্টিপাতের কোনো পূর্বাভাস না থাকায় গরমের এই ধারা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।




আগামী মাসের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানী টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তার মধ্যে যেগুলো আমাদের প্রায়োরিটি প্রয়োজন ছিল, সেগুলোর মধ্যে আরেকটি আছে কৃষক কার্ড। সেই কৃষক কার্ডের কাজও আমরা শুরু করেছি ইনশাআল্লাহ। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে ৩৭ হাজার নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হয়েছি, ঠিক একইভাবে আগামী মাসের মধ্যে আমরা কৃষক ভাইদের কাছেও কৃষক কার্ড তুলে দিতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশের কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে তাদের কৃষি ঋণ মওকুফ করবো। আল্লাহর রহমতে আমরা গত সপ্তাহে সেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সরকারের পক্ষ থেকে মওকুফ করে দেওয়া হয়েছে সুদসহ। এইভাবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। যেই প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের মাধ্যমে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে, সেই প্রতিশ্রুতিগুলো আমরা ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে যে কোনো মূল্যে পূরণের চেষ্টা করব।




‘শূন্য রিটার্ন’ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি, তদন্তে ৯৫৩ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান

এসএম বদরুল আলমঃ দেশে হুইলচেয়ার, কমোড চেয়ার, হাঁটার লাঠি ও বিভিন্ন পোর্টেবল চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সরকার বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দেয়। এসব পণ্য জরুরি চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রী হওয়ায় আমদানির সময় ব্যবসায়ীদের কোনো শুল্ক বা কর দিতে হয় না। তবে নিয়ম অনুযায়ী, এসব পণ্য দেশে বিক্রি করার সময় মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হয়। কিন্তু তদন্তে দেখা গেছে, অনেক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান সেই ভ্যাট না দিয়েই বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ার জন্য ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ বা ‘নিল রিটার্ন’ নামে একটি কৌশল ব্যবহার করছে। অর্থাৎ তারা প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিলেও সেখানে দেখাচ্ছে যে তাদের কোনো ভ্যাটযোগ্য বিক্রি হয়নি। বাস্তবে তারা নিয়মিত পণ্য বিক্রি করলেও কাগজে–কলমে বিক্রির তথ্য গোপন রেখে সরকারের কাছ থেকে ভ্যাট লুকিয়ে রাখছে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের আমদানি ও বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তারা এই অনিয়মের বড় চিত্র খুঁজে পেয়েছেন। তাদের অনুসন্ধানে হুইলচেয়ার ও চিকিৎসা সহায়ক সরঞ্জাম আমদানির সঙ্গে জড়িত মোট ৯৫৩টি প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর মধ্যে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই নিয়মিত শূন্য রিটার্ন জমা দিয়েছে, যদিও বাস্তবে তারা বাজারে এসব পণ্য বিক্রি করেছে।

প্রাথমিক তদন্তে ইতোমধ্যে ২১টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ভ্যাট ফাঁকির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো গত পাঁচ বছরে মোট ৫৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি ভ্যাট পরিশোধ করেনি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই টাকার ওপর সুদ ও জরিমানা যোগ হলে প্রকৃত অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে এবং তা শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ট্রেড ভিশন লিমিটেড। এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এরপর রয়েছে ইউনিমিড লিমিটেড, যাদের বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৮ টাকা ভ্যাট না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাজ ট্রেডার্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রায় ৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮২২ টাকা, এসএস এন্টারপ্রাইজ প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লাখ ৩০ হাজার ৬৪২ টাকা এবং মেডিকিট ইন্টারন্যাশনাল প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ ২৬ হাজার ৩০৯ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে বলে তদন্তে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া রুশদা এন্টারপ্রাইজ প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪৪১ টাকা এবং ইউনাইটেড সার্জিক্যাল লিমিটেড প্রায় ১ কোটি ৫৪ লাখ ৯৫ হাজার ৬২৭ টাকার ভ্যাট পরিশোধ করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। একই তালিকায় আরও রয়েছে বিপরা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল (৮১ লাখ ৭৬ হাজার ৮০২ টাকা), ইউরো মিলেনিয়াম ট্রেডিং (৯৪ লাখ ৫ হাজার ৩৬৩ টাকা), দেশ মিডিকা (৯১ লাখ ১১ হাজার ৬৪৯ টাকা), ইয়ামিন টেক ইন্টারন্যাশনাল (৮৩ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৩ টাকা), মেহেদী সার্জিক্যাল স্টোর (৫৮ লাখ ২৭ হাজার ৮৬১ টাকা), সুপার হেলথ কেয়ার (৫৬ লাখ ২৯ হাজার ৫৯৭ টাকা), স্ট্যান্ডার্ড মেডিকেল সিস্টেম (৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৬৫ টাকা) এবং ম্যাক্সটন এলাইন্স (৫৩ লাখ ৮ হাজার ৫০১ টাকা)।

তালিকায় থাকা আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও উল্লেখযোগ্য ভ্যাট ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে মেসার্স ট্রেড ফেয়ার, সাজ্জাদ ইনট্রাস্ট ট্রেড, নুসাইবা ট্রেডিং, বায়োটেক সার্ভিসেস, মেডিকম এবং মন্ডল সার্জিক্যাল অ্যান্ড ট্রেডিং। এসব প্রতিষ্ঠান কয়েক লাখ থেকে কয়েক দশ লাখ টাকা পর্যন্ত ভ্যাট পরিশোধ না করে বছরের পর বছর ব্যবসা চালিয়ে গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, দেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ হুইলচেয়ার, হাঁটার লাঠি ও পোর্টেবল কমোড চেয়ার বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এসব পণ্য আমদানিকারকরা পরে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করেন। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান বিক্রির প্রকৃত তথ্য গোপন করে ভ্যাট রিটার্নে শূন্য দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে।

ইতোমধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের কাছ থেকে বকেয়া ভ্যাট আদায়ের জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জনবল সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাকি ৯৩২টি প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তদন্ত এখনো সম্পূর্ণ করা যায়নি। এজন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১২টি ভ্যাট কমিশনারেটকে এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবপত্র যাচাই করে ভ্যাট ফাঁকির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সব প্রতিষ্ঠানের হিসাব যাচাই শেষ হলে এই খাতে মোট ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদি গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট নিবন্ধন বা বিআইএন স্থগিত কিংবা বাতিল করা হতে পারে। পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা হতে পারে, যেখানে কারাদণ্ড ও বড় অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ভ্যাট আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভ্যাট ফাঁকি দেয়, তাহলে প্রথমে সেই বকেয়া কর আদায় করা হয়। এরপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ করা হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে ফাঁকি দেওয়া টাকার সমপরিমাণ বা তারও বেশি হতে পারে। এছাড়া ওই টাকার ওপর সুদও যোগ করা হয়। গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ করা, নথিপত্র জব্দ করা বা আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানার শাস্তিও দেওয়া হতে পারে।

তদন্ত কর্মকর্তারা মনে করছেন, ‘শূন্য ভ্যাট রিটার্ন’ দেখিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার এই কৌশল দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। সাম্প্রতিক তদন্তে বিষয়টি বড় আকারে সামনে এসেছে এবং ধীরে ধীরে আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রকাশ পেতে পারে।




লালমনিরহাটে সিলিন্ডারবাহী ট্রাকে পুলিশের হানা, বিপুল গাঁজাসহ আটক ০২

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশনমোড়ে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগের এক যৌথ ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ সময় ট্রাকের চালক ও সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে শহরের ব্যস্ততম মিশনমোড় গোলচত্বর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। মাদক পরিবহনের অভিযোগে ট্রাকের চালক ও সহকারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়

আটককৃতরা হলেন সদর উপজেলার ফুলগাছ এলাকার আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে ট্রাক চালক মোঃ রাকু মিয়া (৩০) এবং দুরাকুটি এলাকার মৃত মনছুর আলীর ছেলে সহকারী মোঃ লুৎফর মিয়া (২৮)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকে করে মাদকের বড় একটি চালান পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ ও স্থানীয় ট্রাফিক সার্জেন্ট রাহুল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে মিশনমোড় গোলচত্বরে বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

বিকেল ৫টার দিকে নির্দিষ্ট ট্রাকটি (গ্যাস সিলিন্ডার বোঝাই) ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় পুলিশ সেটিকে থামানোর সংকেত দেয়। পরে ট্রাকটির কেবিনে তল্লাশি চালিয়ে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে এই ঘটনার পর ট্রাকের মালিক শাহ আলমকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, এক সময়ের সাধারণ রিকশাচালক শাহ আলম কীভাবে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে ছোট-বড় ১৫ থেকে ২০টি ট্রাকের মালিক হলেন, তা রহস্যজনক।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন?এই বিপুল সম্পদের পেছনে কি মাদক ব্যবসার কোনো যোগসূত্র রয়েছে? এলাকাবাসী বিষয়টি তদন্ত করে শাহ আলমের আয়ের প্রকৃত উৎস খতিয়ে দেখার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

অভিযান প্রসঙ্গে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মতিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রাকের কেবিন থেকে গাঁজার প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মাদকের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ওজন করার কাজ চলছে।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও জানান, মাদকের গডফাদার বা পর্দার আড়ালের হোতাদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধনের দিনেই অ্যাকাউন্টে এসেছে টাকা

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনের আগেই উপকারভোগীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে আড়াই হাজার টাকা জমা হওয়া শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি মাঠে এই প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন কড়াইল বস্তির নিম্নআয়ের বাসিন্দাদের আনন্দ করতে দেখা গেছে।

অনেকের মুঠোফোনেই অর্থ জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছানোর পর অনুষ্ঠানস্থলে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আসন্ন ঈদের আগে সরাসরি রাষ্ট্রীয় এই আর্থিক সহায়তা পেয়ে অনেক অসহায় মানুষের চোখে পানি চলে আসে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কোনো ধরনের দলীয় প্রভাব ছাড়াই এই অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আসা সাধারণ মানুষ এই সহায়তার টাকা নিয়ে তাদের ব্যক্তিগত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। কেউ এই অর্থ দিয়ে জরুরি ওষুধের ব্যয় মেটানোর স্বপ্ন দেখছেন, আবার কেউ সামান্য কিছু সঞ্চয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবার চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি টাকা জমা হওয়ায় সুবিধাভোগীদের আর কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হচ্ছে না, যা প্রান্তিক পর্যায়ে জনতুষ্টি বাড়িয়েছে।

সরকার এই মানবিক কর্মসূচিটি বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করছে। মাঠ পর্যায়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থদের তথ্য যাচাই করে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রকৃত হকদাররা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই সরকারি এই সুবিধা পান, তা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই উদ্যোগটি দরিদ্র পরিবারের জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। কড়াইল বস্তিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা এই অর্থ সহায়তাকে তাদের জন্য বড় এক স্বস্তি হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এই আড়াই হাজার টাকা সাধারণ মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরীক্ষামূলক পর্যায়ের এই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কর্মসূচির পরিধি আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।




পূর্ব তেহরানে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৪০

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ পূর্ব তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূর্ব তেহরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকেই।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাদের প্রতিবেদকেরা তেহরানে সোমবার রাতে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। তবে বিস্ফোরণের লক্ষ্যবস্তু এবং প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সোমবার (দিনভর) তেহরানের পরিস্থিতি ছিল বেশ অস্থির। প্রতি এক বা দুই ঘণ্টা পরপর শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানসহ আরও কয়েকটি বড় শহরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইসফাহানে অত্যন্ত তীব্র বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনার কাছাকাছি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটায় সেখানে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া একটি গভর্নরের কার্যালয়ও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ইউনেসকো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত একটি প্রাচীন প্রাসাদও বোমা হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা