সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘মেডিটেশনের’ নির্দেশনা

ডেস্ক নিউজঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি)। তাদের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক দিন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের মেডিটেশনভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি মাউশির এক নির্দেশনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মাউশির ওই স্মারকে মোট ১০টি নির্দেশনা দেওয়া হয়ে।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখা হতে বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ সংক্রান্ত ম্যানুয়ালের ভিত্তিতে পরিকল্পনা অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ)-এর শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বিনা মূল্যে এক দিনের প্রশিক্ষণ সম্পাদনের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

১. প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের শিরোনাম : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’

২. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মাউশি ও কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি নিজ নিজ ভেন্যুতে বিনা মূল্যে বাস্তবায়ন করবে।

৩. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের নিবন্ধিত ও নির্ধারিত স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বৈজ্ঞানিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম’ অনুযায়ী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক দিনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আয়োজন করবেন।

৪. প্রশিক্ষণ-পরবর্তী দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রম নিয়মিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-২(গ)-এর ‘বাস্তবায়ন ও মনিটরিং নির্দেশনা’ অনুসারে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি মনিটরিং পুল গঠন করবে।

৫. ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-২-এ অন্তর্ভুক্ত পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের কাউন্সেলিং সেবা প্রদানসহ অবশিষ্ট নির্দেশনাগুলো শিক্ষার্থীদের দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের সঙ্গে প্রয়োজন অনুসারে বাস্তবায়িত হবে।

৬. প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-২ ও ৪–এ বর্ণিত নীতিমালা অনুসারে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

মনিটরিং পুলের কার্যাবলি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল এবং পরিচালনা ও বাস্তবায়ন গাইডলাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। এর বাইরের কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে কোনো অবস্থাতেই সম্পৃক্ত হওয়া যাবে না।
৭. নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মনিটরিং পুল প্রতিবছর নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করবে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বেশি হলে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যাচ আকারে প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে।

৮. অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং অভিভাবকদের এই প্রশিক্ষণ সম্পর্কে অবহিতকরণের অংশ হিসেবে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রয়োজন মনে করলে ম্যানুয়ালের পরিশিষ্ট-৪(১)(৩) অনুযায়ী প্রয়োজনবোধে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের আওতায় এনে কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

৯. প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা সংশ্লিষ্ট অঞ্চল/জেলা/থানা/উপজেলার সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটির বাস্তবায়ন সমন্বয় করবেন। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা প্রশিক্ষণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে প্রয়োজনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের কো-অর্ডিনেটর (মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ) সাইকোলজিস্ট (যোগাযোগ : ০১৮৯২০০৯৯১৪ ও ই-মেইল: (totalfitness@quantummethod.org.bd) এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

১০. প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে এবং প্রশিক্ষণপরবর্তী দৈনিক অনুশীলন কার্যক্রমের মনিটরিং পুলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশ স্কাউটস (স্কাউটস—স্কুল পর্যায়ে ও রোভার স্কাউটস—কলেজ পর্যায়ে) সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকবেন।




বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে আজ

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এছাড়া সারা দেশে আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপের বাড়তি অংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির এ প্রবণতা আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে সারা দেশে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।




ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

এদিন সকালে টিএন্ডডি মাঠে জড়ো হন নিম্ন আয়ের মানুষ। তাদের অনেকের মুঠোফোনেই টাকা জমা হওয়ার সরকারি বার্তা পৌঁছেছে এরইমধ্যে। ঈদের আগে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তায় আনন্দ অশ্রু তাদের চোখেমুখে।

এদিন সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যোগ দেন।

এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম ধাপে দেশের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার মাসিক ভাতা পাবেন।

সরকারের তথ্য অনুযায়ী, পাইলটিং কর্মসূচির আওতায় দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।




কক্সবাজারে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C) কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) বিকেল ৩টায় কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম এবং অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন।

সদস্য কামরুল ইসলামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি খোরশেদ আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হিউম্যান এইড ইন্টারন্যাশনাল কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক, যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নাছিমা আক্তার, দপ্তর সম্পাদক জিন্নাতুন নেছা জিন্নাত, উখিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক এন. আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সদস্য ও দৈনিক আলোকিত কাগজের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রাসেল, দৈনিক দেশ বুলেটিনের প্রতিনিধি আফতাব হোসেন আশিক, মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধি সোলতান আহমদ, দর্পণ টিভির প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক আজকের দিগন্তের সংবাদ প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, দৈনিক পরিবর্তন সংবাদের প্রতিনিধি সালাউদ্দিন, দৈনিক সময় বায়ান্নের প্রতিনিধি আব্দুর রহিমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যবৃন্দ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি সেহলী পারভীন এবং সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল হাসান সরকারের স্বাক্ষরিত অনুমোদনের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন লাভ করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মারধর ও মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে খোরশেদ আলম বলেন, “সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু বাস্তবে আমরা উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছি। যারা জনগণের কাছে সত্য তুলে ধরেন, তারাই আজ নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সারাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

তিনি আরও বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে কাজ করার সাহস হারাবেন এবং জনগণও সঠিক তথ্য জানা থেকে বঞ্চিত হবে।”

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক নুরুল হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতে সাংবাদিকদের টার্গেট করছে। দুর্বল তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অনেক অপরাধী সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে।”

তিনি অবিলম্বে সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মিথ্যা মামলায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি সারাদেশে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। সাংবাদিক নির্যাতন ও মিথ্যা মামলা সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।

আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।




“নিম্নমানের ওষুধ ছড়াচ্ছে এলবিয়ন, লেবেলে এক দাম, বাজারে আরেক— ‘ছায়া সুরক্ষা’ অভিযোগ DGDA কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে”

# মানবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিক # পানিতে না গলা ট্যাবলেট, # আন্ডাররেটে বাজার—প্রশ্নের মুখে ঔষধ প্রশাসন # DGDA-র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ # চট্টগ্রামে বিতর্কিত কয়েক কোম্পানিকে ‘ছায়া সুরক্ষা’ #

এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের রহমতনগরে অবস্থিত এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড আবারও নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ভেজাল, নিম্নমানের এবং মানবহির্ভূত ঔষধ উৎপাদন ও আন্ডাররেটে বাজারজাত করার গুরুতর অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (DGDA)-এর ভূমিকা নিয়েও।

অভিযোগ রয়েছে, ঔষধ প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা, মূল্য নির্ধারণ কমিটি এবং ব্ল্যাকলিস্ট অনুমোদন কমিটির প্রভাবশালী সদস্যদের সঙ্গে অবৈধ সমঝোতার মাধ্যমে এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজ বছরের পর বছর বাজারে নিম্নমানের ওষুধ ছড়িয়ে দিচ্ছে। এতে দেশের জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন লাইসেন্স নম্বর জৈব-১০৯ ও অজৈব-১৯১।

নিষিদ্ধ ডিসপ্রিনের ‘ছদ্মবেশ’—এলবিয়নের ‘এসপ্রিন’ : অভিযোগ অনুযায়ী, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত মাথাব্যথার ট্যাবলেট ডিসপ্রিনের আদলে এলবিয়ন ‘এসপ্রিন’ নামে একটি ট্যাবলেট বাজারে দাপিয়ে বিক্রি করছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য কোনো কোম্পানি যখন নিষিদ্ধ এই ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে না, তখন এলবিয়নের ‘এসপ্রিন’ এককভাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি—
ডিসপ্রিনের মতো পানিতে দ্রবীভূত হওয়ার কথা থাকলেও এলবিয়নের এসপ্রিন ট্যাবলেট পানিতে ঠিকভাবে গলে না, যা ওষুধটির মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।

লেবেলে এক দাম, বাজারে আরেক ! অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এলবিয়নের উৎপাদিত বহু ওষুধের লেবেলে মুদ্রিত দাম এবং পাইকারি বাজারে বিক্রির দামের মধ্যে অস্বাভাবিক পার্থক্য রয়েছে। নিম্নে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো—

ডমপ (ডমপেরিডোন ১০ মি.গ্রা) এমএ নং: ০৯৬-৯৩-০১৪, লেবেল মূল্য: ২০০ টাকা বাজারে বিক্রি: মাত্র ৬৫ টাকা, প্যানটোপ্রাজল-২০

এমএ নং: ০৯৫-১২৯-০৬৭, লেবেল মূল্য: ২১০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৭০ টাকা

ডাইক্লোফেনাক এসআর (১০০ মি.গ্রা) এমএ নং: ০৯৬-১১০-০৬৪, লেবেল মূল্য: ৩০০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৯০ টাকা

সেটিরিজিন ১০ মি.গ্রা, লেবেল মূল্য: ২৫০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৭০ টাকা

ডেসলোরাটাডিন ৫ মি.গ্রা, লেবেল মূল্য: ৪০০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৯৫ টাকা

ডেক্সামেথাসন ০.৫ মি.গ্রা, লেবেল মূল্য: ২০০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৬৫ টাকা

ক্যালসিয়াম-ডি, লেবেল মূল্য: ৩৬০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৯৫ টাকা

লটিল-২০ (ওমেপ্রাজল), লেবেল মূল্য: ৪০০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ১০০–১১০ টাকা

লটিল-৪০, লেবেল মূল্য: ২৪০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৯০ টাকা,           

নাইট্রাম (নাইট্রাজেপাম ৫ মি.গ্রা), লেবেল মূল্য: ১০০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ৩০ টাকা

টলসিড (টনফেনামিক এসিড), লেবেল মূল্য: ২৪০ টাকা,বাজারে বিক্রি: ১১০–১২০ টাকা

ন্যাপ্রোক্সেন প্লাস-৫০০, লেবেল মূল্য: ৩৬০ টাকা, বাজারে বিক্রি: ১৪০–১৫০ টাকা।     

অভিযোগকারীরা জানান, এসব ওষুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকার হাজী রানী মেডিসিন মার্কেটের পাইকারি দোকান থেকে।     

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন— এত কম দামে ওষুধ বাজারজাত হওয়া মানেই উৎপাদন প্রক্রিয়া, কাঁচামাল অথবা মান নিয়ন্ত্রণে গুরুতর সমস্যা রয়েছে।

ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবের ভয়ংকর প্রতিবেদন : ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির বিস্ময়কর তথ্য। চট্টগ্রামের এলবিয়ন ল্যাবরেটরিজের তৈরি মিমক্স ৫০০ মি.গ্রা ক্যাপসুলে অ্যামোক্সিসিলিন একটুও পাওয়া যায়নি। (ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক) সরকারি বিশ্লেষক ডা. মো. হারুন-অর-রশীদ (বর্তমানে অবসরে আছেন) তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন— পরীক্ষিত নমুনায় অ্যামোক্সিসিলিন শনাক্ত হয়নি। ফলে এটি মানবহির্ভূত। শুধু তাই নয়, ইনডোমেথাসিন ক্যাপসুলেও ঘোষিত মাত্রার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি।

একই ভবনে পশু ও মানুষের ওষুধ !

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,
এলবিয়নের কারখানায় পশু ও মানুষের ওষুধ একই ভবনে উৎপাদনের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার GMP (Good Manufacturing Practice) নীতিমালা অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আগেও সিলগালা হয়েছিল কারখানা : মানবহির্ভূত ওষুধ তৈরির অভিযোগে একসময় চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও এলাকায় এলবিয়নের কারখানা ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করে। পরে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমতি নিয়ে সীতাকুণ্ডে নতুন কারখানা স্থাপন করে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০৮ ও ২০০৯ সালেও উৎপাদন স্থগিত : ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী— ২০০৮ সালে এলবিয়নের উৎপাদিত ডাইক্লোফেনাক টি-আর, ডক্সিসাইক্লিন, গ্লাইসোফুলভিন এবং আইবুপ্রোফেন, এই চারটি ওষুধের উৎপাদন, মজুদ ও বাজারজাত স্থগিত করা হয়। ২০০৯ সালে আবারও পলিভিট সিরাপ (ভিটামিন বি কমপ্লেক্স) ভেজাল প্রমাণিত হওয়ায় সেটিও স্থগিত করা হয়।

প্রশ্নের মুখে ঔষধ প্রশাসন :
একাধিক গুরুতর অভিযোগ, মানবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিক, GMP লঙ্ঘন, কারখানা সিলগালা—সব ঘটনার পরও এলবিয়ন কীভাবে বছরের পর বছর উৎপাদন ও বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে—এ প্রশ্ন এখন স্বাস্থ্যখাতে বড় আলোচনার বিষয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
“ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর যদি সময়মতো কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে নিম্নমানের ওষুধ বাজারে ছড়াত না।”

দুর্নীতির অভিযোগ :

অভিযোগ রয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কিছু কর্মকর্তা অবৈধ সুবিধা নিয়ে এলবিয়নসহ চট্টগ্রামের কয়েকটি বিতর্কিত কোম্পানিকে ‘ছায়া সুরক্ষা’ দিচ্ছেন। ফলে, নিম্নমানের ওষুধ, মানবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিক, সন্দেহজনক উৎপাদন, সবকিছু চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ হুমকি :
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন— নিম্নমানের ওষুধ ব্যবহারের ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকিতে পড়ে। তাদের মতে—“এলবিয়নের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নজরদারির আওতায় না আনলে দেশের জনস্বাস্থ্য বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।”




অগাস্টিন পিউরিফিকেশন কেলেঙ্কারি : দুদকের অভিযোগ, তদন্ত ঘুরল অন্য খাতে—অভিযুক্তদের বদলে অভিযোগকারীই কি লক্ষ্যবস্তু?

# দুদকে অভিযোগ # সমবায়ে তদন্ত # কিন্তু অভিযুক্তদের বদলে অভিযোগকারীই যেন তদন্তের মুখে # পুনঃতদন্ত চেয়ে নতুন আবেদন # উঠছে গুরুতর প্রশ্ন ?

এসএম বদরুল আলমঃ চট্টগ্রামের আলোচিত প্রতিষ্ঠান অগাস্টিন পিউরিফিকেশনকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ উঠেছে—দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা গুরুতর অভিযোগের যথাযথ তদন্ত না করে বরং তা ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্যদিকে। এমনকি অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, প্রকৃত তদন্তের বদলে এমন এক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যেখানে অভিযুক্তদের বদলে অভিযোগকারীই হয়ে উঠছেন তদন্তের লক্ষ্যবস্তু। এ ঘটনায় নতুন করে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়ে সমবায় অধিদপ্তরের শীর্ষ পর্যায়ে আবেদন করেছেন অমূল্য লরেন্স পেরেরা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অগাস্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আসছেন।

দুদকের অভিযোগ, কিন্তু তদন্তে সমবায় অফিস ! অমূল্য লরেন্স পেরেরার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অগাস্টিন পিউরিফিকেশন–এর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ সরাসরি দুদকে দাখিল করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রহস্যজনকভাবে সমবায় অধিদপ্তর থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে একটি পত্র জারি করা হয়, যেখানে দুদকের নির্দেশনার উল্লেখ থাকলেও তদন্তের ধরন ও লক্ষ্য নিয়ে দেখা দেয় বড় ধরনের প্রশ্ন।

অভিযোগকারী বলছেন—
তদন্তের নামে মূল অভিযোগের পরিবর্তে দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড–কে কেন্দ্র করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা মূল অভিযোগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত আয়োজন? অমূল্য লরেন্স পেরেরার দাবি, সমবায় অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা—বিশেষ করে বিভাগীয় সমবায় কার্যালয় ঢাকার উপ-নিবন্ধক (বিচার) মো. মিজানুর রহমান, যিনি যাচাই দলের দলনেতা—তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন আচরণ করেছেন, যাতে মনে হচ্ছে তদন্তটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নয়, বরং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে।

তার অভিযোগ, দুদকের নির্দেশনার প্রকৃত কপি বা অনুমোদনের তথ্য তাকে কখনো দেখানো হয়নি। অথচ তার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

কোথায় সেই দুদকের নির্দেশনা?
অভিযোগকারী জানতে চেয়েছেন—
দুদক ঠিক কোন তারিখে ও কোন স্মারকে অগাস্টিন পিউরিফিকেশনের বিরুদ্ধে তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে? সেই নির্দেশনা কেন অভিযোগকারীকে জানানো হয়নি? কেন দুদককে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়নি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেয়ে তিনি সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধকের কাছে পুনঃতদন্তের আবেদন করেছেন।

তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকার দাবি: অভিযোগকারীর দাবি,
তার অভিযোগ শুধু মৌখিক নয়—বরং দি মেট্রোপলিটন খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লিমিটেড–এর বার্ষিক অডিট প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়মের লিখিত প্রমাণ রয়েছে।
তিনি বলেছেন, বিভিন্ন বছরের অডিট রিপোর্টে অনিয়মের তথ্য উল্লেখ আছে, সেইসব প্রতিবেদনের নির্দিষ্ট স্বারক, তারিখ ও পৃষ্ঠাসংখ্যা সংযুক্ত করা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দেশের অন্তত অর্ধশতাধিক সংবাদপত্রে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছে। আদালতে হাজিরা দিতে না পারার ঘটনাও বিতর্কে গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে উচ্চ আদালতে মামলার কারণে তিনি তদন্ত সংক্রান্ত একটি শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বিষয়টি আগেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের—মো. শাকিলুজ্জামান ও আমিনুল—অবহিত করেছিলেন। কিন্তু তারপরও বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।

সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে অনুলিপি :
অমূল্য লরেন্স পেরেরা তার আবেদনপত্রের অনুলিপি পাঠিয়েছেন— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সমবায় অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়।

প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন— দুদকের অভিযোগ থাকলে তদন্ত অন্য খাতে ঘুরল কেন? তদন্তে স্বচ্ছতা না থাকলে কি আসল সত্য চাপা পড়ছে? আর অভিযোগকারীকেই যদি তদন্তের মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে কে?

অনুসন্ধান দাবি বিশেষজ্ঞদের
দুর্নীতি ও সমবায় খাতের বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। তাদের মতে, “যদি সত্যিই অডিট রিপোর্টে অনিয়মের প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া উচিত। আর তদন্ত প্রক্রিয়াই যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হয়।”
এই বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তর, তদন্ত দলের সদস্য এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




যমুনা অয়েলে দ্বৈত নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার: বরখাস্ত মিল্টন, ধরাছোঁয়ার বাইরে জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলাম

এসএম বদরুল আলমঃ ৪ মার্চ “যমুনা অয়েলে দ্বৈতনীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, ডাকাতি মামলার আসামিকে বাঁচাতে তৎপর জিএম এইচআর ও ডিপো ইনচার্জ” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রতিষ্ঠানটির কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনের ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ৫ মার্চ তড়িঘড়ি করে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা হিসেবে আলোচিত কর্মচারী অফিস সহকারী হোসাইন মো. ইসহাক মিল্টনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. মাসুদুল ইসলাম এবং বাঘাবাড়ি ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মো. সাদেকিনের সমন্বয়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। ইসহাক মিল্টন দৈনিক হাজিরা ভিত্তিক কর্মচারী হওয়ায় “নো ওয়ার্ক নো পে” নীতির আওতায় মৌখিক নির্দেশেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, এক মাস সতের দিন জেল হাজতে থাকার পরও কীভাবে ওই কর্মচারী আবার স্বাভাবিকভাবে চাকরিতে যোগদান করতে পারলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই পুরো ঘটনায় মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট ডিপো ইনচার্জের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। অথচ তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি, এমনকি কোনো ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। যমুনা অয়েলের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠানটিতে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়; অতীতেও জেল হাজতে থাকা কর্মচারীর নামে ছুটির আবেদন গ্রহণ ও তা মঞ্জুর করার নজির রয়েছে, যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বর্তমান জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলাম।

২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন মো. মাসুদুল ইসলাম। এরপর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে তার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। মার্কেটিং কিংবা হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কোনো ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিকম তৃতীয় শ্রেণি এবং কেবলমাত্র চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সির কোর্স সম্পন্ন করলেও তিনি বর্তমানে একসঙ্গে মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ), মহাব্যবস্থাপক (বিপণন), কোম্পানি সচিব, বিটুমিন সরবরাহ কমিটির দায়িত্ব এবং অর্থ বিনিয়োগ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এমনকি কিছুদিন তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্বও পালন করেছেন।

যমুনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ে তার জন্য পৃথক তিনটি চেম্বার রয়েছে এবং কর্মকর্তাদের চেম্বার বণ্টনের দায়িত্বও তার হাতেই। অভিযোগ রয়েছে, সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুস্তফা কুদরুত-ই-ইলাহির আশীর্বাদেই প্রতিষ্ঠানে নিজের ক্ষমতার ভিত্তি মজবুত করেন তিনি। পরবর্তীতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আমির মাসুদ দায়িত্ব গ্রহণের পরও তার ক্ষমতায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

এদিকে ২০১৬ সালে যমুনা অয়েলের একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পায় এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। কিন্তু সেই সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর তিনি আবারও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রুটিন দায়িত্ব পান এবং ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিতর্কিত কর্মকর্তা শেখ জাহিদ আহমেদকে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং বদলির ক্ষেত্রেও মাসুদুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ডিজিএম (এইচআর) মোহাম্মদ হাসান ইমামের স্বাক্ষরে তিন সিবিএ নেতাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি একাধিক তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু এতদিন তাদের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ ছিল মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

বরখাস্ত হওয়া সিবিএ নেতা আবুল হোসেন, যিনি যমুনা অয়েল লেবার ইউনিয়নের সভাপতি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন জাতীয় শ্রমিকলীগ বন্দর থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক। তার বরাবর পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, ২১ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট ২০২৫ পর্যন্ত তিনি বিশেষাধিকার ছুটি ভোগ করেছেন এবং পরে অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ তথ্য অনুযায়ী, কোতোয়ালী থানার জি আর মামলা নম্বর ৪১৫/২০২৫–এ তাকে ২১ জুলাই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে অপর সিবিএ নেতা এয়াকুবের ক্ষেত্রেও।

এখানেই প্রশ্ন উঠেছে—যেদিন তারা গ্রেফতার হলেন, সেদিন থেকেই কীভাবে তাদের ছুটি মঞ্জুর হলো। পুলিশ হেফাজতে থেকে তারা কীভাবে ছুটির আবেদন করলেন—তা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মাসুদুল ইসলাম নিজেই তাদের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন তৈরি করেন এবং পরে নিজেই তা অনুমোদন দেন।

এদিকে পদোন্নতির ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত কর্মচারীদের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট তার স্বাক্ষরে প্রকাশিত পদোন্নতির তালিকায় কুতুবউদ্দিন হোসেনসহ কয়েকজন বিতর্কিত কর্মচারী পদোন্নতি পান। কুতুবউদ্দিন নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আজম নাসিরের আত্মীয় বলে জানা গেছে। এছাড়া সহীদুল আলম, শেখ কামাল, ইকরাম ও মীর আরিফসহ ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মচারীকেও পদোন্নতি দেওয়া হয়।

ফতুল্লা ডিপোতে প্রায় পৌনে চার লাখ লিটার ডিজেল গায়েব হওয়ার ঘটনায় একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অভিযোগকারীরাই শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক চাপের মুখে পড়েন। ফতুল্লা ডিপোর অফিসার (অপারেশন) ইমরান হোসেন তেল চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর তাকে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর ঢাকা বিভাগীয় বিক্রয় অফিসে বদলি করা হয়।

এর আগে ২০২০ সালে মংলা অয়েল ইনস্টলেশন ডিপোতে প্রায় ২৯ হাজার ৯২৫ লিটার তেলের অস্বাভাবিক ক্ষতির ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার কোনো সুরাহা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ভালো পোস্টিং দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুধু প্রশাসনিক নয়, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে মাসুদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। শ্রমিক অংশগ্রহণ তহবিলের অর্থ শেয়ারবাজারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিনিয়োগ করে প্রায় চার কোটি ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির ঘটনায় ২০১৬ সালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

১৯৯৬ সালের ১৪ অক্টোবর যমুনা অয়েলে চাকরি শুরু করা মাসুদুল ইসলাম চাকরি জীবনে একাধিকবার গাড়ি কেনার ঋণ নিয়েছেন। এমনকি ২০ লাখ টাকার গাড়ি ঋণ নিয়ে গাড়ি না কিনে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার অভিযোগও ওঠে। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তিনি সেই অর্থ ফেরত দেন।

বর্তমানে চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় তার একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাকলিয়া আবাসিক প্রকল্পে দুটি প্লট, একটি ডেইরি ফার্ম এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিনিয়োগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। দীর্ঘ চাকরি জীবনে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ায় তার সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।




পাকিস্তান সিরিজে নতুন ভূমিকায় লিটন দাস

ক্রীড়া ডেস্কঃ দীর্ঘ বিরতির পর পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে আবারও দলে ফিরছেন লিটন দাস। তবে এবার ওপেনারের ভূমিকায় তাকে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম দেখা যাচ্ছে।

আসন্ন সিরিজ দিয়ে নতুন ভূমিকায় এই উইকেটকিপার-ব্যাটারকে বাজিয়ে দেখার কথা ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

বুধবার (১১ মার্চ) মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এই সিরিজে লিটন দাসকে মিডল অর্ডার ব্যাটারের ভূমিকায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। উল্লেখ্য, লিটনের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পাঁচটি সেঞ্চুরিই এসেছে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমে।

এ বিষয়ে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানিয়েছেন, ওয়ানডে ফরম্যাটে লিটন দাসকে টপ অর্ডার থেকে নামিয়ে মিডল অর্ডারে খেলানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার মতে, ‘দলের স্বার্থ ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে বড়।’

সিরিজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) অল স্টার্স একাদশের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে লিটনকে ৫ নম্বরে ব্যাট করতে দেখা গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, তাকে এখন মিডল অর্ডারে ইনিংস গড়ার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

সালাহউদ্দিন বলেন, দলের মিডল অর্ডারে এখন একটি বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, কারণ অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ওয়ানডে থেকে অবসর নিয়েছেন। সেই জায়গা পূরণ করতে অভিজ্ঞ কাউকে দরকার, আর তাই লিটনকে সেখানে খেলানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিনের মতে, লিটনের মিডল অর্ডারে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। তিনি সাধারণত টেস্টে ৫ বা ৬ নম্বরে ব্যাট করেন এবং সেখানে তার রেকর্ডও বেশ ভালো।

গত বছরের জুলাই থেকে লিটন বাংলাদেশের ওয়ানডে পরিকল্পনার বাইরে ছিলেন। এই সময়ে তিনি মাত্র তিনটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন (বিসিএল একদিনের টুর্নামেন্টে), যেখানে তার রান ছিল ১০, ৫৫ এবং ০।

তবে টি–টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি নিয়মিত খেলেছেন। এই সময়ে ৩০টি স্বীকৃত টি–টোয়েন্টি ম্যাচে তিনি ৬৯৬ রান করেছেন, গড় ২৫.৭৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩০.৫৮, যার মধ্যে ছিল ৫টি অর্ধশতক।

সালাহউদ্দিন স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে লিটন একবার মিডল অর্ডারে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। তাই বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা তার আছে।

এদিকে পাকিস্তানের ১৫ সদস্যের দল গতকাল রবিবার ঢাকায় পৌঁছেছে। সিরিজের ম্যাচগুলো আগামী ১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।




এআই অটো জুম ফিচারে এবার ঈদুল ফিতরের গ্রুপ সেলফি তোলা আরও সহজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর মানেই শেকড়ে ফেরার উৎসব। বাস আর ট্রেনে থাকে উপচে পড়া মানুষের ভিড়। বছরজুড়ে খালি পড়ে থাকা বাড়িগুলো আবার হাসি-আনন্দে মেতে ওঠে। আর প্রিয়জনের সাথে এই আনন্দ আরও বহুগুণ বেড়ে যায় ঈদের সময়ে তোলা সেলফিতে। তবে সবাই মিলে সেলফি তুলতে গেলে কিছু ঝামেলাও পোহাতে হয়।
সেলফির বিষয়টিই এমন। ছবি তোলার সময় হুট করে ফ্রেমে আরও কিছু প্রিয়মুখ ঢুকে যায়। তাদের বাদ দিয়ে তো আর ছবি তোলা যায় না! সাধারণত ক্যামেরার ১x মোডে ফ্রেম ন্যাচারাল আর ব্যালেন্সড আসে। বিপত্তি বাধে তখন, যখন একই সেলফিতে সবাইকে রাখতে গিয়ে ০.৬x আল্ট্রা-ওয়াইড মোডে ক্যামেরা ম্যানুয়ালি সুইচ করা হয়। এইসময় সব ঠিক থাকলেও ছবির আস্পেক্ট বদলে যায়। এতে সবাই ফ্রেমে আটলেও কোণায় থাকা মানুষটি দেখতে কিছুটা অস্বাভাবিক লাগে।
অন্যদিকে ০.৬x আল্ট্রা-ওয়াইড মোড ব্যবহার করলে ফ্রেমে বেশি জায়গা পাওয়া যায় এবং বেশি মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে ছবির কোণায় থাকা মুখ কিছুটা লম্বা বা বিকৃত দেখাতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়—স্বাভাবিক ফ্রেম রাখবেন নাকি বেশি মানুষকে ফ্রেমে আনবেন।
এই পরিস্থিতিতে এআই অটো জুম ফিচার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয় সমাধান হিসেবে কাজ করে। অপোর নতুন এ৬এস প্রো-তে ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেলফি ক্যামেরায় যুক্ত এই প্রযুক্তি সামনে থাকা মানুষের মুখ শনাক্ত করে ফ্রেম অনুযায়ী জুম লেভেল ঠিক করে। ফ্রেমে একজন বা দুজন থাকলে ক্যামেরা স্বাভাবিকভাবে ১x মোডে থাকে। আর ফ্রেমে মানুষের সংখ্যা বাড়লে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ০.৬x আল্ট্রা-ওয়াইড মোডে পরিবর্তিত হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং ব্যবহারকারীকে আলাদা করে কোনো সেটিং পরিবর্তন করতে হয় না।
বাংলাদেশের বাস্তব পরিস্থিতিতে এই ফিচার বিশেষভাবে কার্যকর হতে পারে। ঈদের সময় অনেক পরিবার ছোট উঠান, ঘরের ভেতর, বারান্দা বা ছাদে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। এসব জায়গায় পেছনে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না। ফলে গ্রুপ সেলফি তুলতে গিয়ে সবাইকে ফ্রেমে আনা কঠিন হয়ে পড়ে। এআই অটো জুম প্রযুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফ্রেম বড় করে এই সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
এছাড়া ৫০ মেগাপিক্সেল রেজ্যুলুশনের কারণে আল্ট্রা-ওয়াইড মোডেও ছবির ডিটেইল বজায় থাকে। এতে পোশাকের নকশা, হাতে আঁকা মেহেদি বা আশপাশের পরিবেশ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। গ্রুপ সেলফিতে পেছনের দৃশ্যও ছবির অংশ হয়ে ওঠে, যা অনেক সময় স্মৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টফোন ক্যামেরায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই ধরনের স্বয়ংক্রিয় ফিচার ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে সহজ করে। বিশেষ করে উৎসবের সময় যখন দ্রুত ছবি তুলতে হয়, তখন ম্যানুয়াল সেটিং পরিবর্তনের ঝামেলা কমানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ঈদের সময় তোলা ছবিগুলো অনেকের কাছে দীর্ঘদিনের স্মৃতি হয়ে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার পাশাপাশি এসব ছবি অনেক সময় পরিবারের ব্যক্তিগত আর্কাইভেও সংরক্ষিত থাকে। এআই অটো জুমের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য সেই মুহূর্তগুলোকে আরও সহজভাবে এবং সম্পূর্ণভাবে ক্যামেরায় ধারণ করার সুযোগ তৈরি করছে।
এখনকার দিনে গ্রুপ সেলফি ঈদের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এর সাথে জড়িয়ে থাকে পৈতৃক ভিটেমাটি, সাজানো ডাইনিং টেবিল, ছাদের ওপর খোলা আকাশ; আত্মীয়স্বজনদের হাসিখুশি ছবির হাজারো স্মৃতিময় মুহূর্ত। স্মার্টফোনের এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সবাই যখন হার্ডওয়্যার আর এআই নিয়ে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত, তখন এধরনের কনটেক্সচুয়াল ইন্টেলিজেন্স আমাদের প্রতিদিনের জীবনের বাস্তব ও সাংস্কৃতিক সমস্যার সমাধান নিয়ে এসে আলাদাভাবে নজর কাড়ে।
তাই, এখন একা তোলা ছবি হোক বা পরিবার-পরিজন সবাই সহ গ্রুপ সেলফি, ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেলফি ক্যামেরার ‘এআই অটো জুম’ ফিচার ঈদের প্রতিটি মুহূর্তকেই করে তুলবে বিশেষ ও আনন্দময়।



যুদ্ধের জেরে তীব্র পানিসংকটের ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথভাবে হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। এতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে গোটা মধ্যপ্রাচ্য।

এই যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পানিসংকটের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কেননা, মরুপ্রধান এই অঞ্চলের টিকে থাকার প্রধান অবলম্বন ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট (পানির লবণাক্ততাদূরীকরণ কেন্দ্রগুলো) এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

গত রবিবার বাহরাইনের একটি পানি শোধনগার ইরানি ড্রোনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মাত্র একদিন আগে ইরান জানিয়েছিল, তাদের কেশম দ্বীপের একটি পানি শোধনগারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট কী?

ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট মূলত সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে লবণ ও দূষণ অপসারণ করে পানযোগ্য পানি তৈরি করে।

এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত দুটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়— তাপ প্রয়োগ করে পানি বাষ্পে পরিণত করে পরে তরলে রূপান্তর এবং মেমব্রেন প্রযুক্তি, বিশেষ করে ‘রিভার্স অসমোসিস’, যা লবণ ও অন্যান্য উপাদান আলাদা করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ দেশ এই রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি ব্যবহার করে।

মধ্যপ্রাচ্যে এর গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল প্রাকৃতিকভাবে অত্যন্ত শুষ্ক। বৃষ্টিপাত কম এবং মিঠা পানির উৎস সীমিত। ফলে এই অঞ্চলের দেশগুলো পানির বড় অংশই পায় সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধ করে।

আরব সেন্টার ওয়াশিংটন ডিসির তথ্যমতে, বিশ্বে মোট ডিস্যালাইনেশন সক্ষমতার প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসি সদস্য দেশগুলো। বিশ্বের মোট পরিশুদ্ধ সমুদ্রের পানির প্রায় ৪০ শতাংশ এখানেই উৎপাদিত হয়।

দেশভেদে পানির নির্ভরতার হারও অনেক বেশি। যেমন- কুয়েতে সুপেয় পানির প্রায় ৯০ শতাংশ, ওমানে ৮৬ শতাংশ, সৌদি আরবে প্রায় ৭০ শতাংশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪২ শতাংশ পানি ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্টের ওপর নির্ভরশীল। এসব দেশে চার শতাশিক ডিস্যালাইনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে।

হামলার সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু পানি সরবরাহই নয়, পুরো অর্থনীতি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

অতীতে ১৯৯০–৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাক কুয়েতের বেশিরভাগ ডিস্যালাইনেশন স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়, যার ফলে দেশটির পানি সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হলে- শহরগুলোর পানির সরবরাহ দ্রুত কমে যেতে পারে, কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে চাপ তৈরি হতে পারে, সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন দেশ

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে- যেমন: বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার। কারণ এসব দেশের বিকল্প পানি উৎস খুবই সীমিত এবং কৌশলগত পানির মজুতও তুলনামূলক কম।

তবে বড় দেশগুলো কিছুটা প্রস্তুতি রেখেছে। উদাহরণ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রায় ৪৫ দিনের পানির মজুত ধরে রাখার পরিকল্পনা করেছে।

সমাধানের পথ

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে পানি নিরাপত্তাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- যৌথ আঞ্চলিক পানির মজুত গড়ে তোলা, সমন্বিত ডিস্যালাইনেশন নেটওয়ার্ক তৈরি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিচালিত ছোট প্ল্যান্ট বাড়ানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত ও দীর্ঘ হলে এবং জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোর মতো পানির স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হলে মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে মানবিক এই সংকট তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা