ভিন্ন রূপে জায়েদ খান, আলোচনায় ‘আমেরিকান ড্রিম’

বিনোদন ডেস্কঃ ঢাকাই সিনেমার পরিচিত মুখ জায়েদ খান বেশ কয়েক মাস ধরেই নিউ ইয়র্কে অবস্থান করছেন। গেল সপ্তাহে হঠাৎ করেই অন্তর্জালে একটি ছবি ভাইরাল হয় তার। যেখানে এই চিত্রনায়ককে নিউ ইয়র্কের রাস্তায় শ্রমিকের কাজ করতে দেখা যায়!

বিষয়টি নিয়ে যখন বেশ আলোচনা, ঠিক তখনই নিজের ফেসবুকে জায়েদ খান তার নতুন একটি কন্টেন্ট-এর পোস্টার প্রকাশ করেন। এর পরই ভাইরাল সেই ছবি নিয়ে খটকা দূর হতে থাকে অনেকের। শুক্রবার সন্ধ্যার পরই নিউ ইয়র্কভিত্তিক ঠিকানা খোলাসা করে সব। ঠিকানা তাদের পেজে আড়াই মিনিটের কন্টেন্ট পোস্ট করে জানায়, মূলত এটি একটি শর্টফিল্ম। যার নাম ‘আমেরিকান ড্রিম’। আর এটি নির্মাণ করেছেন সংগীতশিল্পী জন কবির।

এ বিষয়ে ঠিকানা জানায়, ৩৭ বছর ধরে ‘ঠিকানা’ প্রবাসে বাংলাদেশের নাম, ভাষা ও সংস্কৃতিকে গর্বের সাথে তুলে ধরছে। এবার সেই গল্প বলার আরেকটি নতুন মাধ্যম, ঠিকানার প্রথম অরিজিনাল শর্টফিল্ম ‘আমেরিকান ড্রিম’, অভিনয়ে জায়েদ খান।

শর্টফিল্মটি নিয়ে ঠিকানা থেকে জানানো হয়, প্রবাসীদের জীবনে ‘আমেরিকান ড্রিম’ শুধু স্বপ্ন নয়, তার পেছনে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ এবং অনেক অদেখা বাস্তবতা। ‘ইমিগ্রেন্ট ডায়েরিস’ প্রথম পর্বে আমরা সেই যাত্রার একটি ছোট ঝলক তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

মাত্র আড়াই মিনিটে জায়েদ খানের অভিনয়, অভিব্যক্তি সাড়া পাচ্ছে সর্বত্র। যারাই দেখছেন, বলছেন- জায়েদকে এভাবে এর আগে কেউ কখনো তুলে ধরেনি। নেটিজেনদের অনেকেই জায়েদ খানের এই নতুন কাজের প্রশংসা করেছেন।




ইরান যুদ্ধের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণঘাতী সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালে এর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে খোদ আমেরিকা। গত সপ্তাহান্ত জুড়ে নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং শিকাগোসহ অন্তত ৫০টি প্রধান শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এই যুদ্ধের অবসান দাবি করেছেন।  

বিক্ষোভকারীরা ‘ইরান থেকে হাত সরাও’ এবং ‘মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবাজ নীতির তীব্র নিন্দা জানান। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে অবস্থিত ইউনিয়ন স্কয়ারে সমবেত কয়েকশ বিক্ষোভকারী স্লোগান দেন যে, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসন। তারা দাবি করেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা যুদ্ধের পেছনে ব্যয় না করে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা হোক।

নিউইয়র্কে বিক্ষোভ অংশ নেওয়া মায়া নামের এক আন্দোলনকারী সিনহুয়াকে বলেন, এটি একটি অন্যায় যুদ্ধ এবং মূলত অন্য একটি দেশের ভূখণ্ড দখল ও সম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যে এই ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের চক্রান্ত করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, যখন আমেরিকার সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন এই যুদ্ধের পেছনে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জনস্বাস্থ্য, শিশু যত্ন এবং গণপরিবহনের উন্নয়নে ব্যয় করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। অন্য এক বিক্ষোভকারী ম্যাগি মোরালেস বলেন, এই যুদ্ধ কেবল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষা করছে, যা পুরো দেশকে আরও বেশি বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে অন্য দেশে হামলা চালানো অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গত সপ্তাহে ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ শুরু করে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কস থেকে আসা আন্দ্রে ইস্টন তার বক্তৃতায় বলেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থা এই রক্তপাত বন্ধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় পক্ষই কংগ্রেসে ‘ওয়ার পাওয়ার্স রেজোলিউশন’ পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, কেবল বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধই এই যুদ্ধ মেশিনকে থামাতে পারে। বক্তারা হোয়াইট হাউসের এই সামরিক পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্যকে এক অরাজক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল বলে অভিহিত করেছেন।

একই চিত্র দেখা গেছে লস অ্যাঞ্জেলেসেও, যেখানে সিটি হলের সামনে কয়েকশ মানুষ ইরানের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে সমবেত হন। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ‘ইরানে বোমাবর্ষণ একটি অপরাধ’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক বিক্ষোভকারী বলেন, এই যুদ্ধ মূলত ‘এপস্টাইন ফাইল’ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরাতেই শুরু করা হয়েছে এবং এতে অকারণে অগণিত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। তিনি বিশ্ববাসীকে এই অন্তহীন যুদ্ধের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। আমেরিকার উপকূল থেকে উপকূলে ছড়িয়ে পড়া এই গণবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা তাদের সরকারের যুদ্ধংদেহী অবস্থানকে মেনে নিতে পারছেন না এবং অবিলম্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: জিনহুয়া




ট্রাম্পকে ‘নিজের চরকায় তেল দেওয়ার’ পরামর্শ কমল হাসানের

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির প্রবীণ অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ কমল হাসান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেছেন, অন্য দেশের জ্বালানি নীতিতে হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া উচিত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কমল হাসান ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি বলেন, আমরা ভারতের জনগণ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের নাগরিক। দূরবর্তী বিদেশি শক্তির কাছ থেকে নির্দেশ নেওয়ার সময় অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সার্বভৌম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাই টেকসই বিশ্বশান্তির ভিত্তি। পোস্টের শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও তার জনগণের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন তিনি। বার্তাটিতে তিনি নিজেকে একজন গর্বিত ভারতীয় নাগরিক এবং তার দল মক্কাল নিধি মায়ামের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে পশ্চিম এশিয়ার চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভারতকে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ মার্চের আগে জাহাজে তোলা তেল ভারতীয় পরিশোধনাগারগুলো কিনতে পারবে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই অনুমতি ৩০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এর মেয়াদ শেষ হবে ৪ এপ্রিল। এর উদ্দেশ্য সমুদ্রে আটকে থাকা তেল দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলের রুটে উত্তেজনার কারণে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ বিঘ্ন কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারত ইতোমধ্যে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ আংশিকভাবে মেনে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটও একই বক্তব্য দিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার কাছাকাছি অবস্থান করা জাহাজে থাকা রাশিয়ান তেল দ্রুত পরিশোধন করে বাজারে ছাড়ার সুযোগ দিতে ভারতকে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।




পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাভার ক্যান্টনমেন্টে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিল অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ, দোয়া ও মাহফিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব। শনিবার সাভার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। (৭’ই মার্চ ২০২৬) শনিবার, সাভার ক্যান্টনমেন্টে আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ এর সভাপতি আরঙ্গজেব কামাল।

সভাপতির বক্তব্যে খান সেলিম রহমান বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রত্যেক সামর্থ্যবান মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব সব সময় মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরঙ্গজেব কামাল বলেন, পবিত্র রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস। তিনি এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক সমাজ যদি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার সিনিয়র সহ-সম্পাদক ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দৈনিক জন জাগরণ প্রকাশক ও সম্পাদক মোঃ শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর মোহাম্মদ মাহবুব উদ্দিন, সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সহ-সভাপতি ভূঁইয়া কামরুল হাসান সোহাগ, জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার চিফ রিপোর্টার ও বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর দপ্তর সম্পাদক শেখ মোঃ হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব (B.C.P.C)-এর সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়জুল্লাহ স্বাধীন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শফিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ লাইজু আহমেদ, আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি, ডাঃ মোঃ দুলাল আহম্মেদ, গণি জেনারেল হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোঃ বাকি উল্লাহ, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজিদ শেখ ও মোঃ জহির উদ্দিন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। এছাড়াও সমাজসেবক মোঃ ফিরোজ প্রামাণিক উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মোহাম্মদ রমজান সরকার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C), এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তাসলিমা আক্তার, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, মোঃ আসাদুজ্জামান, মোঃ নজরুল ইসলাম ও শেখ রিবণ রায়হানসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয় এবং অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়।




সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বড় পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। আজ সোমবার ফজরের নামাজের পর বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে বাহিনীর সদস্যরা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ কারণে তারা অভিযানে কৌশল অবলম্বন করছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার মো. রাসেল আজ সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত পরে জানানো হবে।’

আজ সকালে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বাহিরের পথগুলোতে বসানো হয় তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে প্রধান আসামি করা হয় মোহাম্মদ ইয়াসিনকে। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ২০০ জনকে।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় তা হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের ‘নিরাপদ আস্তানা’। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট-বাণিজ্য। আর এই বাণিজ্য ও দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকাটিতে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী। এলাকাটিতে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পাহারায় থাকে এসব সন্ত্রাসী।

পুলিশ ও জঙ্গল সলিমপুরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকাটিতে দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন, অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন।

ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের নেতা এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন।

র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে আসলাম চৌধুরী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই। ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন।




এবার মির্জা আব্বাসকে ‘গালি’ দিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে গালি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, ‘তুমি কোন ….. আব্বাস, তুমি আসছো এখানে মামলা করতে। তোমাকে গোনার টাইম নাই।’

রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে বরিশাল নগরের হালিমা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, ‘সভ্য হতে শিখুন। আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করি। অসভ্য আচরণ করবেন না। অসভ্য আচরণ যদি করেন, কীভাবে আপনাদের সভ্য করতে হয়, এটা আমাদের ভালো করে জানা আছে।’

এর আগে আজ রবিবার সকালে মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। রাজধানীর রমনা থানার বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে মামলা দায়েরের আবেদন করেন। মামলার পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।

এ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আজকে আমার নামে একটা মামলা হলো। মানহানির মামলা। যে ব্যক্তি চাঁদাবাজি করে, এমন লোকের কোনো মান থাকতে পারে না। যার মান আছে তারই তো মানহানি হয়। মামলা করেছে আরেকজনকে দিয়ে। তিনি গোপনে সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়েছে। এগুলোকে আমরা বলবো গুপ্ত।’

তিনি অতীতের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে আমাকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে পা উপরে তুলে সারারাত নির্যাতন করেছিল। কখনো আপস করার চেষ্টা করি নাই। তুমি আব্বাস কোন …..। তুমি আসছো এখানে মামলা করতে। তোমাকে গোনার টাইম নাই। সিনিয়র সিটিজেন আছেন, সিনিয়র সিটিজেন থাকেন। আমরা সম্মান করতে চাই। কিন্তু নিজের সম্মান যদি ধরে রাখতে না পারেন যারা ইয়াং জেনারেশন, জেনজিরা আপনার পুরা সম্মানের চাদর খুলে বুড়িগঙ্গায় নিক্ষেপ করবে।’

বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। অনুষ্ঠানে দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।




জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত রাখতে পরিচালিত হবে মোবাইল কোর্ট

ডেস্ক নিউজঃ জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যে এখন থেকে মাঠপর্যায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। রবিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের বাজারে সংকট তৈরির লক্ষ্যে অবৈধ মজুত করছে মর্মে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এ সংকট নিরসনকল্পে ইতোমধ্যে সরকার যানবাহনভিত্তিক তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করেছে। তথাপি বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প/ফিলিং স্টেশনে সরকার নির্ধারিত মূলের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রয়, অধিক মুনাফার লোভে অতিরিক্ত মজুত, খোলা বাজারে বিক্রি, পাচারের প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি, খোলা বাজারে বিক্রি বন্ধ ও পাচার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নিমিত্ত জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।




১৫ মার্চের মধ্যে সম্মানী পাবেন ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় নেতারা

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে মাসিক সম্মানী পাবেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ধর্মীয় নেতারাও এই সম্মানীর আওতায় আসবেন। আগামী ১৪ মার্চ এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে ধর্মমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সেলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে গঠিত সেলের সভা শেষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এমপি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র নির্বাচনি ইশতেহারে প্রধান প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করতে সব ধর্মের উপাসনালয়ের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি ঘোষণা করা হয়। সরকারের এ নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতরের পূর্বেই মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য মাসিক সম্মানী প্রদানের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রথম পর্যায়ে পাইলট স্কিমের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা হতে একটি করে মোট ৪,৯০৮ টি মসজিদ নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা হতে ০২টি করে মোট ৯৯০ টি মন্দির, বৌদ্ধ বিহার রয়েছে এমন ৭২ টি উপজেলার প্রতিটি হতে দুইটি করে মোট ১৪৪ টি বৌদ্ধ বিহার নির্বাচন করা হয়েছে। এছাড়া, গির্জা আছে এরূপ ১৯৮টি উপজেলার প্রতিটি হতে দুইটি করে মোট ৩৯৬ গির্জা নির্বাচন করা হয়েছে।

উপদেষ্টা জানান, এ পাইলট স্কিমের আওতায় নির্বাচিত মসজিদের ইমামকে পাঁচ হাজার, মুয়াজ্জিনকে তিন হাজার ও খাদেমকে দুই হাজার টাকা মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে। নির্বাচিত মন্দিরের পুরোহিত পাঁচ হাজার ও সেবাইত তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ পাঁচ হাজার ও উপাধ্যক্ষ তিন হাজার এবং গির্জার পালক বা যাজক পাঁচ হাজার ও সহকারী পালক বা যাজককে তিন হাজার টাকা সম্মানী দেওয়া হবে।

এছাড়া, প্রতিবছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাতে সংশ্লিষ্ট ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমকে এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা প্রদান করা হবে। অন্যান্য ধর্মের নির্বাচিত উপাসনালয়ের ব্যক্তিরা তাদের প্রধান একটি ধর্মীয় উৎসবে দুই হাজার করে উৎসব ভাতা পাবেন বলে জানান তিনি।

মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য স্থায়ীভাবে মাসিক সম্মানী প্রদানের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়নের জন্য ধর্ম সচিবকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের খণ্ডকালীন বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে।

এছাড়া, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় প্রধানদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।




গণপূর্তের ‘ডন’ কামরুপ কামরুল: মূতা বিয়ে, নারী কেলেঙ্কারি ও টেন্ডার সিন্ডিকেটে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো যেন কোনো সাধারণ দুর্নীতির গল্প নয়, বরং ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী কেলেঙ্কারি ও টেন্ডার কারসাজির এক জটিল চিত্র। হবিগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী এবং নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের সদ্য সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুল হাছান, যিনি অনেকের কাছে ‘কামরুপ’ নামে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।

মোঃ কামরুল হাছান (৫০), পিতা মৃত মোঃ রেয়াজ উদ্দীন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার তিতাস উপজেলার গৌরিপুরের কড়িকান্দি গ্রামে। তিনি ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত) ক্যাডারের কর্মকর্তা। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পান এবং ৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ তারিখে প্রথম নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন পান নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত। তার স্ত্রী ডা. জান্নাতুল মাওয়া টুম্পা (৪৯) পিরোজপুর জেলার একজন পরিচিত গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং বর্তমানে পিরোজপুর জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি কেয়ার ফাস্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও নিয়মিত রোগী দেখেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে—কন্যা আদিবাতুন নাবিহা (১৩) এবং পুত্র আব্দুল্লাহ আল নাবহান (১৪)। পারিবারিকভাবে তার ছোট ভাই ডা. মুক্তার হোসেন নাসের ঢাকা মেডিকেলে কর্মরত এবং ছোট বোন রিনা তার স্বামীর সাথে চট্টগ্রামে বসবাস করেন।

তবে কর্মজীবনে তার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে নোয়াখালীতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে। সাধারণত একজন নির্বাহী প্রকৌশলী একটি জেলায় দুই থেকে তিন বছরের বেশি থাকেন না। কিন্তু কামরুল হাছান নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে টানা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আত্মীয় হওয়ার কারণে তিনি সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে সক্ষম হন।

এই সময়েই তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি একপর্যায়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিতেও আসে। পরে তাকে নোয়াখালী থেকে সরিয়ে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন করা হয়।

কামরুল হাছানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো তথাকথিত ‘মূতা বিয়ে’ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নোয়াখালীতে কর্মরত অবস্থায় নিম্নবিত্ত ও অসহায় পরিবারের তরুণীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অস্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। কয়েক সপ্তাহ বা মাস পর ওই নারীদের অর্থ দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হতো। স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের দাবি, নোয়াখালীতে থাকার সময় তিনি দুই দফায় প্রায় চল্লিশটিরও বেশি এ ধরনের মূতা বিয়ে করেছিলেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু ঠিকাদার তার জন্য এসব ব্যবস্থাপনা করতেন এবং বিনিময়ে তারা বড় বড় সরকারি কাজ পেতেন। অভিযোগ রয়েছে, ‘ম’ অদ্যাক্ষরের এক ঠিকাদার এই কাজে প্রধান সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করতেন এবং তার প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০ কোটি টাকার সরকারি কাজ পেয়েছে।

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মূতা বিয়ে বহু আগেই নিষিদ্ধ হয়েছে এবং বাংলাদেশেও এর কোনো আইনি বৈধতা নেই। তাই প্রশাসনিক ও সামাজিকভাবে এমন কর্মকাণ্ডকে অনৈতিক ও বেআইনি হিসেবে দেখা হয়।

এদিকে নোয়াখালীর মাইজদী এলাকার একটি ঘটনাও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফকিরপুরের রশিদ কলোনীতে এক কিশোরীর সাথে শারীরিক সম্পর্কের পর মেয়েটির গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুলকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় এক ঠিকাদারের ক্লিনিকে ওই কিশোরীর চিকিৎসা করানো হয়।

নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। অভিযোগ রয়েছে, কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি অধস্তন কর্মচারীর স্ত্রীসহ একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। পটুয়াখালীতে কর্মরত থাকাকালে তার অধীনস্থ এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর স্ত্রী ঝুমুরের সাথে সম্পর্কের ঘটনাও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে ওই প্রকৌশলী বিষয়টি জানতে পেরে স্ত্রীর সাথে বিচ্ছেদ ঘটান।

নোয়াখালীতে থাকার সময় ঝুমুরের জন্য আলাদা বাসার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, একসময় তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এলে কামরুল হাছান স্থানীয়দের রোষানলেও পড়েন।

এছাড়া তার বিরুদ্ধে সম্বন্ধীর স্ত্রীর সাথেও অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নারী পেশায় একজন নার্স এবং তিনি প্রায়ই নোয়াখালীর সরকারি বাংলোতে আসতেন।

নারী কেলেঙ্কারির পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে গুরুতর টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। নোয়াখালীতে কর্মরত অবস্থায় তিনি একটি শক্তিশালী কমিশন সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই সিন্ডিকেটের বাইরে কোনো ঠিকাদার কাজ পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল বলে স্থানীয় ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন।

২০২০ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তিনি একই ঠিকাদারকে ধারাবাহিকভাবে একাধিক কাজ প্রদান করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক টেন্ডারে মাত্র একটি দরপত্র জমা পড়েছিল এবং সেই একই প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে। এমনকি একই দিনে ছয়টি টেন্ডারে একই প্রতিষ্ঠানের বিজয়ী হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া নোয়াখালী মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ কাজের টেন্ডারেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে প্রাক্কলিত মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা কমিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালে একই কাজের বিপরীতে দুইবার বিল দিয়ে ১৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। হাতিয়া মডেল মসজিদ প্রকল্পেও কাজ না করেই বিল প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, তিনি ব্যক্তিগত খরচের ক্ষেত্রেও ঠিকাদারদের উপর নির্ভর করতেন। এমনকি পেট্রোল পাম্প ও বিভিন্ন দোকানে তার বিপুল বকেয়া থাকার কথাও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালীতে থাকার সময় তিনি তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময়ও তিনি অর্থের যোগান দিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

পরবর্তীতে বরিশালে বদলি হওয়ার পরও তিনি নতুন করে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সব মিলিয়ে মোঃ কামরুল হাছানকে ঘিরে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী কেলেঙ্কারি ও টেন্ডার কারসাজির যেসব অভিযোগ উঠেছে, তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




কোম্পানির টাকায় আমেরিকা সফর: অবসরপ্রাপ্তির মুখে প্রকৌশলীসহ আট কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ নিয়ে সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অবসরের মাত্র কয়েক মাস বাকি। এর মধ্যেই ‘কারিগরি প্রশিক্ষণ’-এর নামে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইএম) মো. আশ্রাফুল হক। একই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা উপসচিব মো. নাজমুল আলম। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এইচভিএসি (HVAC) সিস্টেমের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত হাতে-কলমে এই প্রশিক্ষণে তাদের অংশগ্রহণ কতটা যৌক্তিক—তা নিয়ে ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা ও সমালোচনা। অনেকেই মনে করছেন, প্রকৃত প্রশিক্ষণের চেয়ে এটি যেন বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ার আরেকটি আমলাতান্ত্রিক কৌশল।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে অভিযোগ উঠেছে, প্রশিক্ষণের নামে এবারও দেখা যাচ্ছে ‘আমলা তোষণের’ পুরোনো চিত্র। যুক্তরাষ্ট্রে পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া আট কর্মকর্তার তালিকায় রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীরা। অথচ তালিকায় থাকা একজন প্রকৌশলী অবসরের খুব কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছেন। ফলে প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিদেশ সফরের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করাই যেন এখানে প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এইচভিএসি সিস্টেমের নিরাপত্তা, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা-৭ থেকে একটি সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়। তবে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তালিকায় থাকা একাধিক কর্মকর্তা সরাসরি এই প্রযুক্তিগত কাজের সঙ্গে যুক্ত নন।

প্রশিক্ষণে অংশ নিতে যাওয়া আরেক প্রভাবশালী কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হাসান। তিনি মূলত সংস্থাপন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন এবং বদলি, নিয়োগ, পদোন্নতি ও সরকারি বাসা বরাদ্দসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত। সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, আটটি বিভাগীয় শহরে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের কথা বলা হলেও প্রকল্পটির সঙ্গে ফিরোজ হাসানের সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, দীর্ঘ এক যুগ ধরে ঢাকায় কর্মরত এই প্রকৌশলী সব সময় ক্ষমতার কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিবর্তনের পর তার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। ফলে বর্তমানে কোন প্রকল্পে কে বিদেশ সফরে যাবেন কিংবা কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসবেন—এসব বিষয়েও তিনি প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণে সাধারণত মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করা প্রকৌশলীদের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। এই সফরে অংশ নিতে যাওয়া অন্য কর্মকর্তারা হলেন—প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ই/এম) মো. আশরাফুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী (ই/এম), বরিশাল জোন মো. রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) রিসালত বারী।

বিদেশ সফর সম্পর্কে জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ইএম) মো. আশ্রাফুল হকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাতবার কল করা হলেও তিনি কয়েকবার কল কেটে দেন। পরে তাকে খুদে বার্তার মাধ্যমে প্রশ্ন করা হয়—শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ শেখার জন্য আটজন কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন, যদিও কোম্পানির অর্থায়নে বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করার নীতির কথা সরকার আগেই বলেছে। এরপরও কেন এই সফরে অংশ নিচ্ছেন—এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

এদিকে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নাজমুল আলম এ বিষয়ে বলেন, এই সফরের ব্যয় বাংলাদেশ সরকার বহন করছে না। তার ভাষায়, “ওদের টাকায় বিদেশ যাওয়া হচ্ছে। এতে সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা নেই।” সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে ‘ডানহাম-বুশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান, যা এইচভিএসি সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

তবে বিষয়টিকে স্বার্থের দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন সুশাসনকর্মীরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোম্পানির অর্থায়নে বিদেশ সফরের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরে আমলাতন্ত্রে বিদ্যমান একটি সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রেই এসব সফরের বাস্তব কোনো ফলাফল দেখা যায় না। তার মতে, সরকারের সরাসরি অর্থ ব্যয় না হলেও এটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সঙ্গে সরকারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এতে স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, যা সরকারি ক্রয়নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনলাইনেই প্রযুক্তিগত তথ্য ও পণ্য সম্পর্কে জানা সম্ভব। অথচ কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গিয়ে সেই সময়ের জন্য সরকারি বেতন-ভাতাও গ্রহণ করেন, যা অনৈতিক বলেই মনে করেন তিনি।

সব মিলিয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ সফরের তালিকায় অবসরের দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রকৌশলী, প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের উদ্যোগ, নাকি ক্ষমতার প্রভাবে তৈরি আরেকটি প্রশিক্ষণের আড়ালে প্রমোদ ভ্রমণ?