ধুরন্ধর টু’র ট্রেলার প্রকাশ, আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছেন রণবীর

বিনোদন ডেস্কঃ বলিউডের রণবীর সিং অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ এর সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে।

ট্রেলারে প্রথম পর্বের চেয়েও বেশি অ্যাকশন ও রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার আভাস পাওয়া গেছে। পরিচালক আদিত্য ধর পরিচালিত এই সিনেমাটি আগামী ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।

প্রকাশিত ট্রেলারে দেখা যায়, প্রথম পর্বের রেশ ধরে এবার আরও ভয়ঙ্কর রূপে পর্দায় হাজির হচ্ছেন রণবীর সিং।
সিনেমায় তার অভিনীত চরিত্র ‘জসকিরত সিং রঙ্গি’ কীভাবে দুর্ধর্ষ ‘হামজা’ হয়ে উঠল, সেই বিবর্তনের গল্পই এবারের মূল উপজীব্য।

আগের পর্বে অক্ষয় খান্না অভিনীত রহমান বালোচ চরিত্রটি হত্যার পর এবার লিয়ারি অঞ্চলে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নামবেন রণবীর। ট্রেলার জুড়ে তার মারমুখী উপস্থিতি দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

সিনেমাটিতে রণবীর সিং ছাড়াও অভিনয় করেছেন আর মাধবন, সঞ্জয় দত্ত, সারা অর্জুন ও রাকেশ বেদীর মতো পরিচিত মুখরা।

ট্রেলারে আবহসংগীতের ব্যবহারও বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রেলারটি শেয়ার করে রণবীর সিং লিখেছেন, বলেছিলাম না, এবার বিষয়টা ব্যক্তিগত। যা থেকে সিনেমাটির গল্পে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছিল এই সিরিজের প্রথম সিনেমা ‘ধুরন্ধর’।

সিনেমাটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পেলেও গল্পের প্রেক্ষাপট নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে সিনেমাটি ১ হাজার কোটি রুপির বেশি ব্যবসা করে নতুন রেকর্ড গড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সিক্যুয়েল ‘ধুরন্ধর টু’ বক্স অফিসের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।




‘এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেওয়া হবে না’, জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভাষণে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরান তার ভূখণ্ডের এক ইঞ্চিও শত্রুর দখলে যেতে দেবে না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের মাটি ও পানি রক্ষার দায়িত্ব সবার। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের মাধ্যমে যে কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, ইরান প্রতিবেশী ও ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে শত্রুপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে অঞ্চলটিতে বিভাজন ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দাবি, কিছু হামলা অন্য দেশের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে, যার জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সেই দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সরাসরি কোনো বিরোধ রয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে তেহরান এবং উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

ভাষণের শেষ অংশে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জনতার শক্তিই ইরানকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।

তথ্যসূত্র: আলজাজিরা




খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান

ডেস্ক নিউজঃ নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’র মরণোত্তর পুরস্কার পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রায়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

এদিকে, আট বিভাগ থেকে ৩৯ নারীর মধ্যে ৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এদের মধ্যে খুলনার ববিতা খাতুন, চট্টগ্রামের শমলা বেগম, রংপুরের নুরবানু কবীর, ময়মনসিংহের নূরুন নাহার আক্তার, ঢাকার আফরোজা ইয়াসমিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ঢাকা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আরিফা বেগম, মারুফা আক্তার, নাছরিন আক্তার, মুক্তা আক্তার, মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন। রাজশাহী বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: লতা-খাতুন, রিজু তামান্না, মোসা. রাশেদা বেগম, রাজিয়া খাতুন, সুমাইয়া ইসলাম। চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আসমা আক্তার কনা, বেগম তাজকেরা চৌধুরী, বিলকিছ বেগম, শমলা বেগম।সিলেট বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: কুলসুমা বেগম, মোছাম্মৎ আমিনা বেগম, মোছা. রহিমা বেগম, কাঞ্চন বেগম, রিফাত আরা রিফা। খুলনা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: তারানা তাবাচ্ছুম, মোছা. ববিতা খাতুন, লুৎফুন নেছা বেগম, শরিফা ইয়াসমিন, মোছা. রাজিয়া খাতুন। রংপুর বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: ফরিদা পারভীন, রিক্তা বানু, মোসা. রাশেদা বেগম, মোছা. পারভীন আক্তার, খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া। বরিশাল বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন, নাহীদ রুমানা মিতু, দেলোয়ারা বেগম, সালমা আক্তার, রিতা ব্রহ্ম।ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: নুরুন নাহার বেগম, উম্মে রাফিবা জাহান, হাসনা হেনা বারী, নাসরীন বেগম, তাহমিদা। প্রতিটি নারীকে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান ও অদম্য মনোবলের জন্য এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই পুরস্কার প্রথা দেশের নারীদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে এমন ধরনের স্বীকৃতি নারীর সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও অবদানের গল্পকে দেশের জনসাধারণের সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।




নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে আদালতের সমন

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে করা মামলার আবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত।

রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে রমনা থানার বিএনপির বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আসামি নাসীরুদ্দিনকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আমরা আজ সকালে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেই। পরে শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে মির্জা আব্বাসের পক্ষে মামলার আবেদন করেন রমনা থানা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। সে সময় মির্জা আব্বাসের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন।

বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যায়। নির্বাচনের সময় এই আসামি বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশী করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বাদী দেখেন নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারীর মানহানিকর হুবহু বক্তব্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ মিডিয়াতে এসেছে।

বাংলাদেশ ক্রিমিনাল র‍্যাংকিংয়ে নাম্বার ওয়ান গডফাদার ‘মির্জা আব্বাস’ এই বক্তব্যগুলো অত্যন্ত মানহানিকর ও নিন্দনীয় কাজ। এসব বক্তব্য গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামির এসব বক্তব্য ফেসবুকে বাদী ও মির্জা আব্বাস বিস্মিত হয়েছে। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী এসব বক্তব্য দেখেছেন।

নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক বাদী ও মির্জা আব্বাসের সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করে সব প্রকার শিষ্টাচার, সভ্যতার রীতিনীতি বহিঃভূত এবং মানহানিকর বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।




ইয়ামালের গোলে বার্সেলোনার জয়

ক্রীড়া ডেস্কঃ অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে কোপা দেল রে সেমিফাইনালে হারের পর লা লিগায় আবারও জয়ে ফিরেছে বার্সেলোনা। শনিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মাঠ সান মেমেসে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয় পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮তম মিনিটে তার দারুণ বাঁ পায়ের শটে জয়ের দেখা পায় বার্সেলোনা। অ্যাথলেটিক বিলবাও ম্যাচজুড়ে আক্রমণের চেষ্টা করলেও শক্ত রক্ষণে তা সামলে নেয় বার্সা।

এই জয়ে ২৭ ম্যাচ শেষে শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৬৭, আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৬৩।

গোলের মুহূর্তে মাঝমাঠের তারকা পেদ্রির কাছ থেকে বল পান ইয়ামাল। ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে জায়গা তৈরি করেন তিনি। এরপর বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান এই স্প্যানিশ কিশোর।
১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল চলতি মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে করেছেন ১৯। এর আগে ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ৪-১ গোলের জয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি।

আগামী মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ম্যাচে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের মাঠে খেলতে নামবে বার্সেলোনা। সেই ম্যাচের কথা মাথায় রেখে এই ম্যাচে কিছুটা রদবদল করে দল সাজান কোচ হ্যান্সি ফ্লিক। পেদ্রি, রাফিনিয়া ও ফারমিন লোপেজকে শুরুতে বেঞ্চে রেখে একাদশ গঠন করেছিলেন তিনি।

ইনজুরির কারণে ফুলব্যাক জুলেস কুন্দে ও আলেহান্দ্রো বালদের বদলে খেলেছেন এরিক গার্সিয়া ও জোয়াও কানসেলো।




ভালো জীবনের খোঁজে দেশ ছেড়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা

 আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের দেশ ছাড়ার খবরটি এখন কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার দেশান্তর নয়, বরং দেশটির এক গভীর সংকটের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি সিডনিতে সপরিবারে ঘর খুঁজতে দেখা গেছে আরডার্নকে, যার মধ্য দিয়ে তিনি নিউজিল্যান্ডের বর্তমান ‘গণপ্রস্থান’ বা অভিবাসন জোয়ারের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

তবে কেবল আরডার্ন নন, তার মতো হাজার হাজার মধ্যবয়সী নিউজিল্যান্ডের নাগরিক এখন ভালো জীবনের আশায় পাড়ি জমাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে।

পরিসংখ্যান বলছে, গত চার বছরে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সী কিউইদের দেশ ছাড়ার হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। যেখানে আগে কেবল তরুণরা অভিজ্ঞতার জন্য বিদেশ যেত, সেখানে এখন প্রতিষ্ঠিত ক্যারিয়ার ও পরিবার নিয়ে মাঝবয়সীরা দেশ ছাড়ছেন।

গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার মানুষ নিউজিল্যান্ড ত্যাগ করেছেন, যা ২০১২ সালের পর সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবণতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক এবং উদ্বেগজনক। সাধারণত অত্যন্ত কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতি না হলে এই বয়সের মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন করে দেশান্তরী হন না।

এই প্রস্থান বা এক্সোডাসের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে নিউজিল্যান্ডের আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্থবির অর্থনীতি। ওয়েলিংটন থেকে মেলবোর্নে পাড়ি জমানো জেসিন্ডা থর্ন জানান, অস্ট্রেলিয়ায় তার স্বামীর বেতন এক লাফেই ৫০ শতাংশ বেড়েছে, অথচ সেখানে নিত্যপণ্যের দাম এবং চিকিৎসা খরচ নিউজিল্যান্ডের তুলনায় অনেক কম। মেলবোর্নে তাদের সাপ্তাহিক বাজার খরচ ৪০০ ডলার থেকে কমে ২৬৭ ডলারে নেমে এসেছে, আর জ্বালানি ও যাতায়াত খরচ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। নিউজিল্যান্ডে যেখানে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে অস্ট্রেলিয়ায় একদিনে সেবা মিলছে অনেক কম খরচে।

নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অর্থনৈতিক চিত্র বেশ ধূসর। গত দুই বছর ধরে দেশটির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক এবং বেকারত্বের হার গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে; অকল্যান্ড ও ওয়েলিংটনের মতো শহরগুলোতে ঘরের দাম ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। সরকারি চাকরিতে দফায় দফায় ছাঁটাইয়ের কারণে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে স্থায়িত্ব ও উন্নত ভবিষ্যতের খোঁজে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ বেছে নিচ্ছেন প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রেলিয়াকে।

যদিও নিউজিল্যান্ডে এখনো ভারত, ফিলিপাইন ও চীন থেকে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী আসছেন, তবে অর্থনীতিবিদ ব্র্যাড ওলসেনের মতে, এটি কোনো সুষম বিনিময় নয়। অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবীরা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় নিউজিল্যান্ডের উৎপাদনশীলতা ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক দশকের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও মেধা হারিয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে দেশটির অর্থনৈতিক ইঞ্জিন সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যারা দেশ ছাড়ছেন, তারা নিজেদের আজও ‘গর্বিত কিউই’ হিসেবে পরিচয় দেন ঠিকই, তবে স্বদেশের মাটিতে টিকে থাকার মতো ন্যূনতম নিশ্চয়তা না পেয়ে তারা এখন বিদেশের মাটিতেই নতুন করে শিকড় গজানোর চেষ্টা করছেন।

সূত্র: সিএনএন




ট্রেনে ঈদযাত্রা: আজ মিলছে ১৮ মার্চের অগ্রিম টিকিট

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ ও সহজ করতে আজ রোববার (৮ মার্চ) ষষ্ঠ দিনের মতো ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে। আজ যাত্রীরা আগামী ১৮ মার্চের আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

বরাবরের মতো এবারও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ৮টা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলোর টিকিট পাওয়া যাবে দুপুর ২টা থেকে। সম্প্রতি রেল ভবনে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সভায় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সাত দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এর আগে গত ৩ মার্চ থেকে পর্যায়ক্রমে ১৩, ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭ মার্চের টিকিট বিক্রি শেষ হয়েছে। সূচি অনুযায়ী আগামীকাল ৯ মার্চ পাওয়া যাবে ১৯ মার্চের অগ্রিম টিকিট। এছাড়া চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০, ২১ ও ২২ মার্চের টিকিট বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে রেল কর্তৃপক্ষের। যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবার স্টেশনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন যাত্রীরা।

টিকিট কেনার ক্ষেত্রে রেলওয়ে কিছু বিশেষ নিয়ম জারি করেছে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ একবারের জন্য চারটি আসন সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে এই টিকিট পরবর্তীতে ফেরত বা রিফান্ড করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

যাত্রীদের বিশেষ অনুরোধে নন-এসি কোচের ২৫ শতাংশ ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট’ (স্ট্যান্ডিং টিকিট) যাত্রা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে সংগ্রহের সুযোগ রাখা হয়েছে।




রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যের দুটি বিমানবাহী রণতরীর মধ্যে একটি, এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলসকে পোর্টসমাউথ থেকে যাত্রা শুরু করার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানতে পেরেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি বলছে, প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে যে, জাহাজের ক্রুদের পাঁচ দিনের মধ্যে রওনা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। সাধারণত ১৪ দিন সময় রেখে জাহাজটির “যাত্রা শুরুর নোটিশ” দেওয়া হয়।

এর ফলে এটি ভাবা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে হুমকির মুখে পড়া ব্রিটিশ স্বার্থ রক্ষায় ভূমধ্যসাগরে এই জাহাজটি মোতায়েন করা হতে পারে।

এদিকে, শত্রুর ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সাইপ্রাসকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে।

ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে টাইপ ৪৫ ডেস্ট্রয়ার, এইচএমএস ড্রাগন, মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বছরের শেষের দিকে উত্তর আটলান্টিক এবং আর্কটিক মহাসাগরে মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অফ ওয়েলস। সেই লক্ষ্যে পোর্টসমাউথে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিল এটি।

উত্তর মেরুর কাছাকাছি অঞ্চলে রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে মার্কিন, কানাডিয়ান এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে অপারেশন ফায়ারক্রেস্টে এই রণতরীর অংশ নেওয়ার কথা ছিল।

একজন প্রতিরক্ষা সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে যে, প্রিন্স অফ ওয়েলসের “সফরের জন্য পাঁচ দিনের নোটিশে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে”।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা জানুয়ারি মাস থেকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছি। ইতোমধ্যেই ব্রিটিশ জনগণ এবং এই অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের সুরক্ষার জন্য টাইফুন, এফ-৩৫ জেট, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাইপ্রাসে অতিরিক্ত ৪০০ জন কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে”।

“আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে, ব্রিটিশ বিমানগুলোকে ড্রোন ধ্বংস করতে দেখেছি এবং আমাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার জন্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছি”।

সূত্র: বিবিসি




আজ থেকে নতুন পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল বিক্রি, কোন গাড়িতে মিলছে কত লিটার?

ডেস্ক নিউজঃ দেশে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি সংকট এড়াতে আজ রোববার (৮ মার্চ) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি শুরু হয়েছে। নির্দিষ্ট যানের ধরন অনুযায়ী তেলের পরিমাণ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই নতুন পদ্ধতির বিষয়ে পাম্পগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিপিসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একটি মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন সংগ্রহ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়ির (কার) ক্ষেত্রে এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লিটার। এছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্যাল (এসইউভি) বা জিপ এবং মাইক্রোবাসের জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

পরিবহন খাতের জন্য ডিজেল সরবরাহেও রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০ থেকে ৮০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। অন্যদিকে, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনারবাহী ট্রাকের জন্য দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার ডিজেল বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই নতুন বণ্টন ব্যবস্থা তদারকি করতে আজ থেকে সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা মোবাইল কোর্ট নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানি মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং আগামী ৯ মার্চ আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কৃত্রিম সংকট বা পাম্পগুলোর অনিয়ম রোধেই এই কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

গত কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ সারি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় সরকার বারবার আশ্বস্ত করছে। তেলের রেশন নিয়ে পাম্পগুলো যাতে কোনো বৈষম্য না করে এবং নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি করে মজুত দ্রুত শেষ না করে, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।




পরিকল্পিত যাকাত ব্যবস্থাপনায় দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখা সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।’

তিনি বলেছেন, ধনী-দরিদ্র সবমিলিয়ে দেশে বর্তমানে পরিবারের সংখ্যা কমবেশি ৪ কোটি। এসব পরিবারগুলোর মধ্যে যদি দরিদ্র কিংবা হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে প্রতিবছর পর্যায়ক্রমে ৫ লাখ পরিবারকে ১ লাখ টাকা করে যাকাত দেওয়া হয়, আমার বিশ্বাস— এসব পরিবারগুলোর মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারকে পরের বছর আর যাকাত নাও দিতে হতে পারে। লক্ষ্যভিত্তিক এবং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে যাকাত দেওয়া হলে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে শুধু যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই দেশে দারিদ্র বিমোচনে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শনিবার (৭ মার্চ) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এতিম শিশু এবং ওলামা-মাশায়েখদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আয়োজিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইফতার পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ইসলামের বিধান অনুযায়ী আমাদের সমাজে অনেক বিত্তবান নিজ উদ্যোগেই যাকাত দিয়ে থাকেন। কেউ কেউ সরকারের ‘যাকাত বোর্ডের’ মাধ্যমেও যাকাত পরিশোধ করে থাকেন। বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্টে দেখা গেছে, প্রতি বছর বাংলাদেশে এই যাকাতের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি হয়ে থাকে। কেউ কেউ এর পরিমাণ আরো অনেক বেশি বলেছেন। তবে, সুপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিতভাবে যাকাত বন্টন না করায় বিত্তবান ব্যক্তির যাকাত আদায় হয়ে গেলেও যাকাতের অর্থ দারিদ্র্য বিমোচনে কতটা ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এটি একটি  বড় প্রশ্ন।’

তিনি বলেন, ‘যতদূর জানি, যাকাত দাতাদেরকে ইসলামী বিধান এমনভাবে যাকাত বন্টনে উৎসাহিত করে, যাতে একজন যাকাত গ্রহীতা প্রথম বছর যাকাত গ্রহণের পর পরের বছর আর যাকাত গ্রহণ করতে না হয়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পরিকল্পিতভাবে যাকাত বন্টন করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাত যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। এমন বাস্তবতায় সরকার যাকাত ব্যবস্থাপনাকে আরো কার্যকর এবং লক্ষ্যভিত্তিক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’

আলেম-ওলামা মাশায়েখ এবং এতিমদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চলমান বাস্তবতায় এবার আমাদেরকে একটু দেরি করেই আপনাদের সঙ্গে নিয়ে ইফতারের আয়োজন করতে হয়েছে। তবে, বৈশ্বিক পরিস্থিতিটির কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যায় সংকোচন এবং কৃচ্ছতা সাধনের অংশ হিসেবে এবারের রমজানে আজ এবং গতকালের ইফতার মাহফিলসহ মোট দু’টি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছি।’

বৈশ্বিক পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবারের রমজানে এটিই হয়তো শেষ ইফতার মাহফিল। আজকের এই ইফতার মাহফিলের অংশগ্রহণকারী ‘ইয়াতিম সন্তানেরাই’ আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মেহমান। পবিত্র কোরআন এবং হাদিসে ‘এতিমের হক’ আদায়ের ব্যাপারে মুমিন মুসলমানদের প্রতি ইসলামের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে।

এতিমের প্রতি ‘হক আদায়ে’র গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এতিমদের ব্যাপারে রাষ্ট্র এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার ক্ষেত্রে এই ইফতার মাহফিলের অবশ্যই প্রতীকী তাৎপর্য রয়েছে। এই ইফতার মাহফিল এতিমদের প্রতি বিত্তবানদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং দায়-দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে একটি ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিজন বিত্তবান যদি অসহায় এতিমদের প্রতি পবিত্র কোরআন-হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে সচেষ্ট থাকেন, তাহলে আমি বিশ্বাস করি পিতৃহারা এতিম সন্তানেরা এক বুক বেদনা বুকে নিয়েও রাষ্ট্র এবং সমাজে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা খুঁজে পাবে।’

পবিত্র রমজান ত্যাগ এবং সংযমের মাস উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য— রমজান আসলেই আমাদের কেউ কেউ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেন। রমজান মাসকে লোভ-লাভের মাস বানিয়ে ফেলেন। পবিত্র রমজান মাসেও যারা অসাধু পন্থা অবলম্বন করছেন, আপনাদের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান, অনুগ্রহ করে আপনারা মানুষের কষ্টের কারণ হবেন না।’