পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণে সিদ্ধান্ত আজ

ডেস্ক নিউজঃ বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

বুধবার সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে নতুন বাস ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, সভায় পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ হয়নি। বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, পরিবহন খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামগ্রিক যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

এ অবস্থায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।




পরীক্ষাকেন্দ্রে চরম অবহেলা: দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি রামপুরার প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যেখানে দায়িত্ববোধ, সততা আর শৃঙ্খলার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে নেমে এলো চরম অবহেলার অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারেই যেন নিভে গেল এক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের প্রদীপ। ঢাকার রামপুরার একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব মোঃ মিজানুর রহমান-কে চলমান পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। বুধবার (২২ এপ্রিল), বোর্ড চেয়ারম্যান ড. খোন্দকার এহসানুল কবির-এর স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তি যেন বজ্রপাতের মতো নেমে আসে। অভিযোগ—দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা!

কেন্দ্রের ভেতরের চিত্র: দায়িত্বের জায়গায় শৈথিল্য : ঢাকা-৪৪ কেন্দ্র (কোড-৪৭১)—যেখানে শত শত শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় পরীক্ষার খাতায়, সেই কেন্দ্রের নেতৃত্বেই ছিলেন মিজানুর রহমান। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন—নিয়মের জায়গায় অনিয়ম, শৃঙ্খলার জায়গায় শৈথিল্য। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দায়িত্বহীনতার প্রমাণ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অপসারণ ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।

অব্যাহতির পরও শেষ নয়—আসছে কঠোর ব্যবস্থা : এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি পদচ্যুতি নয়—বরং বড় ধরনের প্রশাসনিক ঝড়ের ইঙ্গিত। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি পাঠানো হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-এর মহাপরিচালকের কাছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের পাঠানো একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগের স্তূপ: দীর্ঘদিনের জমে থাকা বিস্ফোরণ : এই ঘটনা হঠাৎ নয়—বরং বহুদিনের জমে থাকা অভিযোগের বিস্ফোরণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো রীতিমতো চাঞ্চল্যকর ! অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়, স্কুলের কক্ষ ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিয়ে ফরম পূরণ।

যোগ্য শিক্ষককে বাদ দিয়ে নিজে বিদেশ সফরে যাওয়া :
আইসিটি ক্লাস না নিয়েও প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণ

অব্যাহতির খবর প্রকাশের পর এসব অভিযোগ আবার নতুন করে সামনে এসেছে, যা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

নেটিজেনদের বিস্ফোরক প্রশ্ন :
সামাজিক মাধ্যমে চলছে তীব্র সমালোচনা। প্রশ্ন উঠছে একের পর এক—যিনি ক্লাসই নেন না, তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে গেলেন কীভাবে ? যোগ্যদের বঞ্চিত করে এই সুবিধা কেন নিজের জন্য ? এই প্রশ্নগুলো শুধু অভিযোগ নয়—বরং এক প্রজন্মের ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিফলন।

পুরনো বিতর্কের ছায়া: গাজীপুর থেকেও অভিযোগ : মিজানুর রহমানের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের ইতিহাস আরও পুরনো। গাজীপুরে তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনও হয়েছিল। তারপরও অভিযোগ রয়েছে—অসাধু কমিটির সহায়তায় তিনি রামপুরার এই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান।

শেষ না শুরু ?
এই অব্যাহতি কি কেবল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, নাকি বড় কোনো তদন্তের সূচনা—তা এখনো অনিশ্চিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—শিক্ষাঙ্গনে দায়িত্বহীনতার এই ঘটনা এক কঠিন সতর্কবার্তা হয়ে রইল।

বিশ্বাসের জায়গায় ফাটল ধরলে পতন শুধু সময়ের ব্যাপার—আর সেই বাস্তবতার নির্মম উদাহরণ হয়ে উঠলেন এক প্রধান শিক্ষক।




বীরশ্রেষ্ঠদের নামে জাতীয় সংসদে গ্যালারির নামকরণ

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির নাম পরিবর্তন করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা বীরশ্রেষ্ঠদের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংসদ ভবনের ভেতরে স্থাপিত নতুন নামফলকগুলোতে এখন স্থান পেয়েছে সাত বীর শ্রেষ্ঠের নাম। এগুলো হলো- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোস্তফা কামাল গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিন রুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন গ্যালারি, বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্যালারি এবং বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ গ্যালারি।

এর আগে গ্যালারিগুলোর নাম ছিল সাধারণ বা ভৌগোলিক ভিত্তিতে নির্ধারিত। নতুন নামকরণের ফলে সংসদ ভবনের প্রতিটি গ্যালারি এখন মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি সংসদে আগত দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় সংসদে এই নামফলক স্থাপনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে আরও দৃশ্যমান ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।




শিলা ও বজ্রবৃষ্টির আভাস, অপরিবর্তিত থাকতে পারে তাপমাত্রা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সন্ধ্যার পর দেশের কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা থেকে দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দু-এক জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। কোথাও কোথাও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, রাজশাহী জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য এলাকা ও খুলনা বিভাগসহ ঢাকা, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, দিনাজপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায় মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।

আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩১ মিনিটে।




যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তায় বাড়ছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। একই সময়ে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষা করছেন, শান্তি আলোচনা আবার শুরু হবে কি না তা দেখার জন্য।

এদিকে হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে নতুন করে হামলা বা সংঘাত শুরুর আশঙ্কা কাটেনি। এ কারণেই তেল ব্যবসায়ীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

যদিও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যে ধাক্কা লেগেছিল, তা কাটিয়ে ওয়াল স্ট্রিটের প্রধান সূচকগুলো আবারও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয় পক্ষই যুদ্ধের অবসান চায়। কারণ এই সংঘাতের ফলে তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়েছে, যা বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রেড নেশনের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক ডেভিড মরিসন বলেন, শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে, অথবা এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে না, যদিও জ্বালানির দাম এখনো উঁচু রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো বাড়তি মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও বাজারে উদ্বেগ কমেনি, কারণ জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তা এখনো রয়ে গেছে।




প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী

ডেস্ক নিউজ : বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক শাহীনা ফেরদৌসীকে (বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলির আদেশাধীন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দিয়েছে সরকার।

বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

অপর এক আদেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানকে জনপ্রশাসনের মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।




যুদ্ধে চাকরি হারিয়েছেন ২০ লাখ ইরানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধের প্রভাবে ইরানে ২০ লাখের বেশি মানুষ চাকরি হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির শ্রম উপমন্ত্রী গোলাম হোসেন মোহাম্মাদি। এতে আগে থেকেই নিষেধাজ্ঞা ও ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটে বিপর্যস্ত ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে পড়েছে

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে মোহাম্মাদি বলেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের কারণে ১০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সব মিলিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ বেকার হয়ে পড়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের তেল ও গ্যাসক্ষেত্র, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম কারখানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে উৎপাদন, সরবরাহ ও শিল্প কার্যক্রমে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

এদিকে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট বিভ্রাট এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চলমান ব্ল্যাকআউট দেশটির ডিজিটাল অর্থনীতিকেও প্রায় স্থবির করে দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসংস্থান সংকট আরও বাড়তে পারে। ইরানের সামাজিক নিরাপত্তা সংস্থার সাবেক অর্থনীতিবিদ হাদি কাহালজাদেহ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশটির মোট শ্রমশক্তির প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ১ কোটি থেকে ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের চাকরি এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি




ইরানের সঙ্গে শুক্রবারের মধ্যে আলোচনা ‘সম্ভব’: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনা নিয়ে আগামী শুক্রবারের মাঝে ‘সুসংবাদ’ আসতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পাকিস্তানের একাধিক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।

ইসলামাবাদের কয়েকটি সূত্র তেহরানের সঙ্গে তাদের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, আগামী ‘৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার’ মধ্যে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সম্ভাব্য অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে এক ক্ষুদে নিউইয়র্ক পোস্টকে ট্রাম্প বলেন, ‌‌‘‘এটি সম্ভব! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।’

ইরানের নেতারা ‘একীভূত প্রস্তাব’ না নিয়ে আসা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর এই ইতিবাচক খবর এলো।

এর আগে, মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমি আমাদের সামরিক বাহিনীকে অবরোধ অব্যাহত রাখার এবং অন্য সব ক্ষেত্রে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। তাই তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে দিচ্ছি।’’




জ্বালানি সংকটে বিপর্যস্ত গার্মেন্টস খাত, উৎপাদন কমে বাজার হারানোর শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ : দেশে তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আঘাত হানছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে। দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং, ডিজেলের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সব মিলিয়ে কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে উদ্যোক্তাদের মধ্যে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনেক কারখানায় দিনে ১০ ঘণ্টার মধ্যে ৫-৭ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে ডিজেল সংকটের কারণে সেটিও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে অনেক কারখানায় কাজ বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতিতে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমে গেছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকিও বাড়ছে।

জ্বালানি সংকট শুধু উৎপাদন কমায়নি, বরং ব্যয়ও বাড়িয়েছে কয়েকগুণ। আগে যেখানে মাসিক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ ছিল ১৫-১৬ লাখ টাকা, এখন তা বেড়ে প্রায় ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন একাধিক কারখানা মালিক।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি—যা সামগ্রিক উৎপাদন খরচকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান বাজার। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মার্চ মাসে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আর চলতি অর্থবছরের সামগ্রিক হিসাবেও প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় রয়েছে।

উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সামনের মাসগুলোতে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে বাংলাদেশি পোশাক খাত এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন অর্ডার কমে যাচ্ছে, অনেক ক্রেতা অপেক্ষায় থাকছে অথবা বিকল্প বাজার খুঁজছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতারা অন্য দেশে ঝুঁকে পড়তে পারেন—যা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সংকট মোকাবিলায় সরকার কিছু তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে। পোশাক কারখানাগুলোর জন্য বিশেষ ‘ফুয়েল কার্ড’ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ সহজ করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

তবে খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত স্থায়ী সমাধান না এলে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাতটি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন আরও কমবে, রপ্তানি হ্রাস পাবে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়বে।

অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।




বৃহস্পতিবার আসতে পারে নতুন বাসভাড়ার ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে দেশের গণপরিবহন খাতে। নতুন করে বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণের সিদ্ধান্ত আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, ভাড়া সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। সব পক্ষের মতামত বিবেচনা করে দ্রুতই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে রবিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), মন্ত্রণালয় এবং পরিবহন মালিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বৈঠকে ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে মতভেদ থেকেই যায়।

পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও আলোচনায় ২৫ পয়সা বাড়ানোর বিষয়ে প্রাথমিক ঐকমত্যের কথা শোনা যায়। তবে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেনি।

সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানি আমদানি ও দাম উভয় ক্ষেত্রেই চাপ বেড়েছে। এর প্রভাবেই সরকার সম্প্রতি ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম সমন্বয় করে, যা ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়।

জ্বালানির দাম বাড়ার পর থেকেই গণপরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো দ্রুত ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানায়।

এদিকে নতুন ভাড়া ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া না নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পরিবহন মালিক সমিতি। তবে বাস্তবে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ও বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে।