মানবাধিকার রক্ষা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও আস্থার ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা, মানবাধিকার সুরক্ষা, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের সংস্কৃতি গড়ে তুলতেও সরকার সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে বাসসকে এসব তথ্য জানান।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সমৃদ্ধি গড়ে ওঠে সহযোগিতা ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে, বিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে নয়।  ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের প্রতিনিধিরা, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যরা ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। ইফতারের পূর্বে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, আজকের এই ইফতার শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় নানা জাতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও ঐক্যের গুরুত্বের কথা। এই মূল্যবোধই একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল সমাজ গঠনের ভিত্তি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ নীতি অনুসরণ করবে, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ আরো সহজ করবে এবং দায়িত্বশীল বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলবে। আমাদের লক্ষ্য আমাদের জনগণ ও বেসরকারি খাতের পূর্ণ সম্ভাবনাকে উন্মোচিত করা। পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত’্ব নীতির আলোকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে বাস্তববাদী ও টেকসই।

তিনি বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সমাজের সব স্তরে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়নে অগ্রসর হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেবে। উদ্যোগ ও উদ্ভাবনকে উত্সাহিত করে এমন উদার অর্থনৈতিক নীতিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি বহুমুখী, প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা, যা আমাদের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটাবে, উদ্যোক্তা সৃষ্টিকে উত্সাহিত করবে এবং সবার জন্য সমৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

তিনি আরো বলেন, সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা জোরদার করা, পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সমপ্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যায়। আমাদের কাছে গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অন্তর্ভুক্তি, স্বচ্ছতা ও সংলাপের ধারাবাহিক অঙ্গীকার।

তিনি আরো বলেন, সরকারের উদ্যোগে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করা হবে, যাতে প্রতিটি পরিবারের নারী সদস্য এবং কৃষি সমপ্রদায়ের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা প্রদান করা যায়।

পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে আমরা আমাদের বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সমর্থনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বক্তব্য রাখেন।




দেশে মজুত ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন কতদিন চলবে?

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টন ব্যবহারযোগ্য জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, পরিশোধিত জ্বালানিতে এই মুহূর্তে কোনো তাত্ক্ষণিক সংকট নেই, তবে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ব্যাঘাত ঘটার শঙ্কা রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বিশ্বের জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা পড়ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে, এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদার প্রায় ১০০ শতাংশই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে, যা সরবরাহ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল আসে ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।

বিপিসির তথ্যানুযায়ী, মজুত তেলের হিসাব, ডিজেল: ১১ দিনের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত। পেট্রল: ১২ দিনের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত। অকটেন: ২৫ দিনের চাহিদা পূরণে পর্যাপ্ত।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, “প্রিমিয়াম তেলের ক্ষেত্রে আমাদের দাম জুন পর্যন্ত নির্ধারিত। বিশ্ববাজারের ওঠানামা এই মুহূর্তে আমাদের ওপর তেমন প্রভাব ফেলছে না। তবে বিকল্প উৎস এবং ক্রয় পরিকল্পনা এখন আমাদের প্রধান দৃষ্টি।”

দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহেও প্রভাব পড়তে পারে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) জানিয়েছে, দেশে বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন এলএনজি আমদানি হয়। এর মধ্যে ৪০ লাখ টন আসে কাতার থেকে, বাকিটা আসে ওমান ও খোলা বাজার থেকে। ইরানের হামলার পর কাতার গ্যাস উৎপাদন স্থগিত রাখায় শিল্প ও কৃষি খাত উদ্বিগ্ন।

বাণিজ্যিক ও কৃষি খাতে সমস্যা এড়াতে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রয়োজনে বেশি দামে হলেও বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি করা জরুরি। সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “স্পট প্রাইসে তেল ক্রয় করতে হবে। উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।”

এলপিজি খাতেও সংকট দেখা দিতে পারে। দেশে বার্ষিক এলপিজির চাহিদা প্রায় ১৪ লাখ টন, অর্থাৎ প্রতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টন এলপিজি প্রয়োজন, যা সম্পূর্ণভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানির মাধ্যমে আসে।




অ্যান্টিবায়োটিকে নেই অ্যামোক্সিসিলিন: এলবিয়নের ওষুধে ‘মানবহির্ভূত’ উপাদান, জনস্বাস্থ্য আতঙ্ক

এসএম বদরুল আলমঃ দেশের ওষুধ বাজারে চাঞ্চল্যকর এক তথ্য সামনে এসেছে। জাতীয় পরীক্ষাগারে পরীক্ষায় দেখা গেছে—একটি অ্যান্টিবায়োটিক ক্যাপসুলে মূল উপাদান অ্যামোক্সিসিলিনের অস্তিত্বই নেই। পরিবর্তে সেখানে পাওয়া গেছে অজানা সাদা দানাদার পাউডার, যা ল্যাব প্রতিবেদনে সরাসরি “মানবহির্ভূত” বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (IPH)-এর ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরির বিশ্লেষণে এই ভয়াবহ তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মিমক্স ৫০০ এমজি (অ্যামোক্সিসিলিন) ক্যাপসুলের ব্যাচ নম্বর ০১১২১২ পরীক্ষায় দেখা গেছে—ক্যাপসুলে অ্যামোক্সিসিলিন নেই, বরং রয়েছে অজানা সাদা পাউডার। ক্যাপসুলের গড় ওজন পাওয়া গেছে ৩৯০.২ মি.গ্রা।

 

 

ল্যাব প্রতিবেদনের ভাষায়—
“ইহা মানবহির্ভূত। অ্যামোক্সিসিলিন শনাক্ত হয়নি।” এই তথ্য প্রকাশের পর জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ চিকিৎসকরা যে ওষুধ রোগীদের দিচ্ছেন, সেখানে যদি মূল অ্যান্টিবায়োটিকই না থাকে, তাহলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ তো দূরের কথা, রোগীর জীবনই ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইনডোমেথাসিনেও গুরুতর ঘাটতি : শুধু অ্যান্টিবায়োটিক নয়, ব্যথানাশক ওষুধেও ধরা পড়েছে বড় ধরনের অমিল। পরীক্ষায় ইনডোমেথাসিন ক্যাপসুলে ঘোষিত মাত্রা ২৫ মি.গ্রা হলেও পাওয়া গেছে ২৪.১১ মি.গ্রা ও ২২.৫৯ মি.গ্রা, যা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি।

কর্মকর্তাদের বক্তব্য : নথি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নাঈম গোলদার বলেন, “যথাযথ প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্যদিকে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) আশরাফ হোসেন জানান, “নমুনা সংগ্রহ করে নতুন করে আবার পরীক্ষা করা হচ্ছে।”

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন—
জাতীয় পরীক্ষাগারে অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যামোক্সিসিলিন নেই—এটাই কি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়?

নিষিদ্ধ ডিসপ্রিনের ছায়ায় ‘এসপ্রিন’ : অভিযোগ রয়েছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত মাথাব্যথার ওষুধ ডিসপ্রিন বন্ধ হলেও এলবিয়ন বাজারে এনেছে প্রায় একই ধরনের একটি ওষুধ—‘এসপ্রিন’ ট্যাবলেট।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এই ট্যাবলেট পানিতে দ্রবীভূতই হয় না, যা এর কার্যকারিতা ও মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এলবিয়নের বিরুদ্ধে নিম্নমান ও আন্ডাররেট বাণিজ্যের অভিযোগ :
চট্টগ্রামের রহমতনগর, সীতাকুণ্ডে অবস্থিত এলবিয়ন ল্যাবরেটরীজ লিমিটেড (উৎপাদন লাইসেন্স নম্বর: জৈব-১০৯ ও অজৈব-১৯১) দীর্ঘদিন ধরে নিম্নমানের ও আন্ডাররেট ওষুধ বাজারজাত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, লেবেলে মুদ্রিত মূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিক কম দামে ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে পাইকারি বাজারে। যেমন— ডমপ (ডমপেরিডোন ১০ মি.গ্রা) — ২০০ টাকার বক্স বিক্রি ৬৫ টাকায়, প্যানটোপ্রাজল-২০ — ২১০ টাকার বক্স বিক্রি ৭০ টাকায়, ডাইক্লোফেনাক SR — ৩০০ টাকার বক্স বিক্রি ৯০ টাকায়, সেটিরিজিন — ২৫০ টাকার বক্স বিক্রি ৭০ টাকায়, ডেসলোরাটাডিন — ৪০০ টাকার বক্স বিক্রি ৯৫ টাকায়, ডেক্সামেথাসন — ২০০ টাকার বক্স বিক্রি ৬৫ টাকায়, ক্যালসিয়াম-ডি — ৩৬০ টাকার বক্স বিক্রি ৯৫ টাকায়, লটিল-২০ — ৪০০ টাকার বক্স বিক্রি ১০০-১১০ টাকায় লটিল-৪০ — ২৪০ টাকার বক্স বিক্রি ৯০ টাকায়, নাইট্রাম — ১০০ টাকার বক্স বিক্রি ৩০ টাকায়, টলসিড — ২৪০ টাকার বক্স বিক্রি ১১০-১২০ টাকায়, ন্যাপ্রোক্সেন প্লাস — ৩৬০ টাকার বক্স বিক্রি ১৪০-১৫০ টাকায়।

এসব ওষুধ রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকার হাজী রানী মেডিসিন মার্কেটের একটি পাইকারি দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।

একই এমএ নম্বর দুই ওষুধে: আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো—
সেটিরিজিন ১০ মি.গ্রা এবং ডেসলোরাটাডিন ৫ মি.গ্রা—এই দুই ভিন্ন ওষুধে একই এমএ নম্বর ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।

অতীতেও ছিল নিষেধাজ্ঞা : ২০০৮ সালে ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি এলবিয়নের চারটি ওষুধের উৎপাদন ও বাজারজাত সাময়িক স্থগিত করেছিল।
সেগুলো হলো— ডাইক্লোফেনাক TR ক্যাপসুল, ডি-ক্যাপসুল (ডক্সিসাইক্লিন), গ্লাইসোফুলভিন ট্যাবলেট, এলফ্লাম (আইবুপ্রোফেন), ২০০৯ সালে আবারও পলিভিট সিরাপ (ভিটামিন বি কমপ্লেক্স) নিম্নমানের হওয়ায় উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ করা হয়। সিল হয়েছিল কারখানাও। চট্টগ্রামের চাঁদগাঁও কারখানা ভ্রাম্যমাণ আদালত সিলগালা করেছিল। পরে DGDA-এর অনুমতি নিয়ে সীতাকুণ্ডে নতুন কারখানা স্থাপন করা হয়।

তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—
মানবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিক, GMP লঙ্ঘন, নিম্নমানের ওষুধ, আগেও কারখানা সিল। এসব ঘটনার পরও এলবিয়ন কীভাবে নিয়মিত উৎপাদন ও বিপণন চালিয়ে যাচ্ছে?

বড় প্রশ্ন: এতদিন কী করছিল ঔষধ প্রশাসন ? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে—“DGDA আরও আগেই ব্যবস্থা নিলে বাজারে নিম্নমানের ওষুধের বিস্তার ঘটত না।” প্রতিবছর সরকার জনস্বাস্থ্য রক্ষায় হাজার কোটি টাকা ব্যয় করলেও, যদি বাজারে মানবহির্ভূত অ্যান্টিবায়োটিক ঘুরে বেড়ায়, তাহলে তা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের দায় নয়— এটি পুরো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।

এখন প্রশ্ন একটাই— দেশের মানুষের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মান নিশ্চিত করতে প্রশাসন কি কঠোর পদক্ষেপ নেবে, নাকি বাজারে ‘ভেজাল ওষুধের সাম্রাজ্য’ চলতেই থাকবে?




ঈদের দিনের আবহাওয়া নিয়ে দুঃসংবাদ

আবহাওয়া ডেস্কঃ ঈদুল ফিতরের দিন দেশে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ এই দুঃসংবাদ জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ঈদের দিন ও ঈদের পূর্বের দিন পুরো বাংলাদেশের উপর দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড়, শিলাবৃষ্টি ও তীব্র বজ্রপাত অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ১৬, ১৭ ও ১৮ মার্চ এই ৩ দিন বাংলাদেশের উপরে দিয়ে শক্তিশালী কালবৈশাখী ঝড় অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।’




সচিবালয়ে নিজের কক্ষের বিদ্যুৎ ব্যবহার কমালেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক লাইট ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে এসে এই উদ্যোগ নেন।

আতিকুর রহমান রুমন জানান, সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজ কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎ প্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। সেইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভায় বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগের পরে তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সকল মন্ত্রণালয়, সারাদেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়ি-ঘরের পর্দার জানালার সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্য সবাইকে প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন।




লক্ষ্মীপুরে গণপূর্ত অফিসে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলীকে হুমকির অভিযোগ, জিডি দায়ের

বিশেষ প্রতিবেদকঃ লক্ষ্মীপুরে গণপূর্ত বিভাগের কার্যালয়ে ঢুকে নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান চৌধুরীকে হুমকি ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার মো. শিপন লাহাড়ির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অফিসের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২ মার্চ) বিকেলের দিকে শিপন লাহাড়ি হঠাৎ করেই লক্ষ্মীপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে ঢুকে তিনি উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান চৌধুরীসহ অফিসের অন্যান্য স্টাফদের উদ্দেশ করে হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি মারধর করার জন্য তেড়ে যান বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।

এ ঘটনার পর গণপূর্ত বিভাগের নির্দেশে ওই কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, বহিরাগত হিসেবে অফিসে ঢুকে শিপন লাহাড়ি অশোভন আচরণ করেন, কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখান এবং মারধরের হুমকি দেন।

উপ-সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন জানান, শিপন লাহাড়ি অফিসের নিয়ম-কানুন না মেনে কার্যালয়ে এসে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। তিনি হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অফিসের নির্দেশেই থানায় জিডি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করতে সেখানে গিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়াই তার কাজ। কিন্তু শিপন লাহাড়ি কার্যালয়ে এসে যে আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত অশোভন এবং এতে তিনি বিব্রতবোধ করছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিপন লাহাড়ি। মোবাইলফোনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। কিছু মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে উসকানি দিয়ে বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে জিডির তদন্তের দায়িত্বে থাকা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নুরুল করিম চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে করা সাধারণ ডায়েরি আদালতের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




চিকিৎসা নিচ্ছেন বাহরাইনে ইরানি হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানি হামলায় আহত দুই বাংলাদেশি বাহরাইনের কিং হামাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান।

বুধবার (৪ মার্চ) বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রইস হাসান সরোয়ার বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাহরাইন ডিফেন্স ফোর্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ কিং হামাদ হাসপাতালে ইরানের হামলায় বাহরাইনে আহত প্রবাসী বাংলাদেশি নাজিমউদ্দিন ও কামরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার খোঁজ খবর নেন। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

এছাড়াও, দূতাবাসের পক্ষ থেকে আহত পরিবারের সদস্যদের সব প্রকার সহযোগিতার আশ্বাস দেন।




পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি)  সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এই বিশাল কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি শক্তিশালী সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ‘কৃষক কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়; এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হবে।’ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন সরকারি সেবা লাভ করবেন। এর আওতায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি, সহজ শর্তে কৃষিঋণ এবং কৃষি বীমার মতো অত্যাবশ্যকীয় সুবিধা পাবেন।

শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নয়, বরং মৎস্য চাষী ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়াও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকেরা আবহাওয়া, বাজার তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সারা দেশের সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। এরপর প্রাক-পাইলট পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ৯টি নির্বাচিত উপজেলার ৯টি ব্লকে এই কার্ড বিতরণ করা হবে।

নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। এ ছাড়াও খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি দেশের কৃষি খাতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।




বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরলেন দুবাইয়ে আটকেপড়া ১৮৯ বাংলাদেশি

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৭টা ৭ মিনিটে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি।

বুধবার (৪ মার্চ) প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটটি একই বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। ফিরতি ফ্লাইটটি দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে ছাড়বে।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দুবাই এয়ারপোর্ট অথরিটি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস ও এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।  যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে অথবা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।




১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব, অনুমোদন হলে ঈদের ছুটি হবে সাত দিন

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পূর্বঘোষিত ছুটির পাশাপাশি ১৮ মার্চও ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আর এটি অনুমোদন করা হলে এবার কার্যত ছুটি হবে মোট সাত দিন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২১ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখ ধরে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির তারিখ নির্ধারণ করে রেখেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি নির্ধারণ করা রয়েছে।

এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এ ছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পরে ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।

এখন ঈদের আগে ১৮ মার্চ ছুটি হলে কার্যত ঈদের আগে ছুটি হবে চার দিন। কারণ, ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটি হওয়ার কথা। ফলে ঈদের দিন এবং পরের দুই দিন মিলিয়ে এবার ঈদের মোট ছুটি হবে সাত দিন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র ১৮ মার্চ ছুটির প্রস্তাবের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে ওই সূত্রটি বলেছে, আগামীকাল এ বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। ঈদের পরে ছুটি হলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরে শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে ছুটি অনেক বেশি হওয়ায় ঈদের আগে ছুটির প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। জনগণের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এ ছুটি বাড়তে পারে।