ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায়

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। তবে ঈদের দিন বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রধান জামাত সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সভাপতিত্বে আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে ১ মার্চ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মামুন আল মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত সভার কার্যবিবরণী তুলে ধরেন। সভায় ঈদের জামাত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার করতে হবে। জাতীয় ঈদগাহে ঈদের জামাতে মুসলিম দেশের কূটনীতিকদের দাওয়াত দিতে হবে। জামাত অনুষ্ঠানের বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার, বেসরকারি টেলিভিশন, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বহুল প্রচার করতে হবে।

সেখানে আরও বলা হয় নারীদের জন্য জাতীয় ঈদগাহের দক্ষিণ দিকে আলাদা প্রবেশপথসহ আসন রাখার ব্যবস্থা রাখার বিষয়টিও প্রচার করতে হবে। ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতের ইমাম মনোনয়নের জন্য তিনজন আলেম, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত পরিচালনার জন্য তিনজন উপস্থাপকের তালিকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাঠাতে হবে।

তালিকা থেকে একজন ইমাম ও বিকল্প ইমাম, একজন ক্কারি ও বিকল্প ক্কারি এবং একজন উপস্থাপক ও বিকল্প উপস্থাপক মনোনয়ন দেবে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ঈদের নামাজের আগে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে হামদ ও নাত এবং ইসলামী গজল পরিবেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

কার্যবিবরণীতে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈদগাহ ময়দান সমতলকরণ, ঘাসকাটা, প্যান্ডেল তৈরি (বৃষ্টির জন্য ত্রিপল স্থাপন) এবং ওযুর-পানি, পাত্র ও ট্যাপ, মোবাইল টয়লেট ও সুপেয় পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। হাইকোর্ট মাজার মসজিদের ওজুর স্থানগুলো আগে থেকেই খোলা রাখতে হবে এবং হাইকোর্ট মাজারের কর্মচারীদের সেখানে নিয়োজিত রাখতে হবে।

অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে পানি সরানোর জন্য গণপূর্ত বিভাগের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসা এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং যৌথ সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে বলে জানানো হয়ছে। ঈদগাহের মাঠের চতুর্পাশে মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

ঈদের দিন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে বিশেষ মেডিকেল টিম রাখার ব্যবস্থা করতে কার্যবিবরণীতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও বলা হয়েছে, মাঠে আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জামাতের প্রথম কাতারটি আগের বছরের মতো লম্বা করতে হবে যেন ভিআইপিরা প্রথম কাতারে দাঁড়াতে পারেন।

কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, বিদেশি রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক এবং তাদের পত্নীদের নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকে স্থান সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে জেলা প্রশাসন ঢাকার নারী কর্মকর্তা নিযুক্ত করতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী (পুলিশ, র‍্যাব, এসএসএফ) এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঈদগাহ ও আশপাশে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেও ওই সভায় জানানো হয়েছে। তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ স্কাউটদের সিটি এসবির ভেটিং সাপেক্ষে নিযুক্ত করতে হবে। প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হবে। অগ্নিনির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিট মোতায়েন থাকবে।

রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার (বাংলা ও আরবি) দিয়ে সাজানো হবে। ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গভবন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আলোকসজ্জা করা হবে।

দেশের সব হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, বৃদ্ধাশ্রম ও দুস্থকল্যাণ কেন্দ্রে ঈদের দিন উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য ঈদের দিন ঢাকার শিশুপার্ক ও জাতীয় জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লায় বিনা মূল্যে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদ উদযাপিত হবে।




ডাকাতি মামলার আসামির পুনর্বহাল: যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড–এ দ্বৈত নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার, একটানা এক মাস সতের দিন জেল হাজত, এরপর জামিনে মুক্তি—আর তারপরই বিনা বাধায় আবার চাকরিতে যোগদান! সরকারি মালিকানাধীন জ্বালানি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড–এর বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোতে ঘটেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা, যা এখন প্রতিষ্ঠানজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম এইচআর) মোঃ মাসুদুল ইসলাম এবং বাঘাবাড়ী ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মোঃ সাদেকিন। তাদের প্রত্যক্ষ মদদে ডাকাতি মামলার আসামি অফিস সহকারী (হাজিরাভিত্তিক) হোসাইন মোঃ ইসহাক মিল্টন কোনো নিয়মনীতি অনুসরণ ছাড়াই ফের চাকরিতে যোগ দিয়েছেন—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

গ্রেফতার, জেল, তারপরও ‘চিকিৎসাধীন’ গল্প ! তথ্য অনুযায়ী, বাঘাবাড়ী অয়েল ডিপোর অফিস সহকারী হোসাইন মোঃ ইসহাক মিল্টন গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ একটি ডাকাতি মামলায় গ্রেফতার হন। চট্টগ্রামের চন্দনাইশ থানার একটি মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাকে আটক করে। প্রায় এক মাস সতের দিন জেল হাজতে থাকার পর তিনি ২২ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান।
তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে রহস্যের ঘনঘটা। ইসহাক মিল্টনের দাবি—তিনি ডাকাতি নয়, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় কারাবন্দি ছিলেন এবং এ সময় অফিস থেকে ছুটি নিয়েছিলেন।

কিন্তু অফিস কর্তৃপক্ষের একাংশ বলছে ভিন্ন কথা। বাঘাবাড়ী ডিপোর ডেপুটি ম্যানেজার আবুল ফজল মোঃ সাদেকিন দাবি করেন, “ইসহাক মিল্টন জেলে ছিলেন—এটা আমি এই প্রথম শুনলাম। আমার জানা মতে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।” অথচ দেড় মাসের বেশি অনুপস্থিতির পর তার পুনরায় যোগদানের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে—একজন কর্মী যদি সত্যিই জেলে থাকেন, তবে সেটি কীভাবে ‘হাসপাতালে চিকিৎসাধীন’ হিসেবে চালানো হলো? আর যদি চিকিৎসাধীনই হন, তাহলে সেই চিকিৎসার কাগজপত্র কোথায় ?

‘বিশ্বস্ত ক্যাশিয়ার’, বদলির সঙ্গী !
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ইসহাক মিল্টন দীর্ঘদিন ধরে ডিপো ইনচার্জ আবুল ফজল মোঃ সাদেকিনের ঘনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত। তাকে অনেকেই ডিপো ইনচার্জের ‘ক্যাশিয়ার’ বলেও উল্লেখ করেন। অভিযোগ রয়েছে, আবুল ফজল যেখানে বদলি হন, সেখানেই সঙ্গে নিয়ে যান ইসহাক মিল্টনকে। পার্বতীপুর ডিপোতে একসঙ্গে কর্মরত থাকার পর বাঘাবাড়ীতে বদলির সময়ও তাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এবারও সেই প্রভাব খাটিয়ে জেল ফেরত কর্মীকে পুনর্বহাল করা হয়েছে—এমনটাই অভিযোগ।

জিএম এইচআর–এর নীরবতা কি ‘সম্মতির সীল ’? বাঘাবাড়ী ডিপো ইনচার্জের সঙ্গে মানবসম্পদ বিভাগের জিএম এইচআর মোঃ মাসুদুল ইসলামের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগও ঘুরছে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে। সেই সম্পর্কের জোরেই নাকি কোনো প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়াই ইসহাক মিল্টনের পুনঃযোগদান নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জিএম এইচআর মাসুদুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার এই নীরবতা কি দায় এড়ানোর কৌশল, নাকি ঘটনার অন্তরালে থাকা প্রভাবশালী চক্রের প্রতি নীরব সমর্থন—সে প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

সিবিএ নেতাদের বরখাস্ত, কিন্তু ‘বিশ্বস্ত’ কর্মীর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম কেন ? আরও বিস্ময়কর হলো, দীর্ঘদিন ধরে জেল হাজতে থাকা যমুনা ওয়েলের সিবিএ নেতা আবুল হোসেন ও মুহাম্মদ এয়াকুব এবং অনুপস্থিত আরেক সিবিএ নেতা জয়নাল আবেদীন টুটুলকে সম্প্রতি সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।

তাহলে প্রশ্ন একটাই—একই প্রতিষ্ঠানে ভিন্ন ভিন্ন মানদণ্ড কেন? সিবিএ নেতাদের ক্ষেত্রে কঠোরতা, আর ডিপো ইনচার্জের ঘনিষ্ঠ কর্মীর ক্ষেত্রে রহস্যজনক নমনীয়তা কেন ? নিয়মের শাসন, নাকি ব্যক্তির প্রভাব ? রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলার প্রশ্ন তোলে না, বরং পুরো ব্যবস্থাপনাকেই সন্দেহের মুখে দাঁড় করায়। একজন কর্মী জেল হাজতে ছিলেন কি না—এ তথ্য জানতেই যদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিভ্রান্তি থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর ? ডাকাতি মামলার আসামি হোক বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলার অভিযুক্ত—যে কোনো ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার হওয়া কর্মীর বিষয়ে স্পষ্ট প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকার কথা। সেখানে কীভাবে নিয়ম ভেঙে ‘বিশেষ ব্যবস্থায়’ পুনঃযোগদান সম্ভব হলো?

এখন দেখার বিষয়—যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ কি এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করবে, নাকি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় সবকিছু ধামাচাপা পড়ে যাবে?
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দ্বৈত নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এই বিস্ফোরক অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।




ইরানি হামলায় ভারত মহাসাগরে জ্বলছে মার্কিন রণতরী?

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ভারত মহাসাগরে মোতায়েন করা একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর আইআরজিসির নৌ শাখা। বুধবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নিশ্চিত করেছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর ধারাবাহিকতায় এই হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের গভীরে একটি মার্কিন ট্যাঙ্কার জাহাজ থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছিল ওই ডেস্ট্রয়ারটি, ঠিক সেই মুহূর্তেই ইরানের অত্যাধুনিক কদর-৩৬০ এবং তালাইয়েহ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মার্কিন ডেস্ট্রয়ার ও ট্যাঙ্কার উভয় জাহাজেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং সমুদ্রের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ইরানি সামরিক বাহিনী এই অভিযানকে ইরানবিরোধী মার্কিন ও জায়নবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত ও দাঁতভাঙা জবাব হিসেবে বর্ণনা করেছে।




চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত ও প্রাণনাশের হুমকি থানায় অভিযোগ, কে এই মাহাবুব হোসেন? তার খুটির জোর কোথায়? 

‎স্টাফ রিপোর্টার, মো: লিমন হোসেনঃ ‎চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহিণীর কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার পর দীর্ঘদিনেও চাকরি না দিয়ে উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাহাবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের ইজারাদার হিসেবে আউটসোর্সিং কোম্পানি খান এন্ড ব্যাদার্সের পরিচালকের পদে দায়িত্বরত আছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমা বেগম (২৬) কামরাঙ্গীরচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
‎এছাড়াও তার আউটসোর্সিং কোম্পানিতে কর্মরত বিভিন্ন চুক্তি ভিত্তিক মজুরিতে নিয়োজিত শ্রমিকদের একাধিক মাসের বেতন না দিয়ে তাদেরকে পুনর্বাসন ও পুন নিয়োগ এর কথা বলে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করেন এই বেক্তি। এ বিষয়ে দেশের  বিভিন্ন স্বনামধন্য গণমাধ্যমে স্পষ্ট ভাবে সংবাদ প্রচারিত হয়। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা জনমনে নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে ভুক্তভোগী সকল শ্রমিক প্রচন্ড রকমের মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
‎এদিকে অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার বেজগাঁও গ্রামের বাসিন্দা নাজমা বেগম একজন গৃহিণী। তার স্বামী মোঃ ফারুক একটি জুতার কারখানায় কর্মরত প্রায় ৯ মাস আগে কামরাঙ্গীরচর থানাধীন হুজুরপাড়া এলাকায় পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি হাসপাতালে ক্লিনারের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেন। চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে ওই ব্যক্তি তার কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
‎ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত ব্যক্তি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও চাকরির কোনো ব্যবস্থা না করে বরং যোগাযোগ  করতে গেলে এড়িয়ে যান। একাধিকবার টাকা ফেরত চাইলে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে ঘুরিয়ে দেন।
‎সর্বশেষ গত ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নাজমা বেগম তার স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে পাওনা টাকা চাইতে গেলে অভিযুক্ত কারি টাকা না দিয়ে উল্টো  তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এমনকি টাকার বিষয় নিয়ে বেশি চাপ দিলে ক্ষয়ক্ষতি করার ভয়ও দেখানো হয় বলে ভুক্তভোগীর দাবি। ‎অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাহাবুব হোসেন নামের এক ব্যক্তি, যিনি খান এন্ড ব্যাদার্সের পরিচালক হিসেবে পরিচিত, চাকরি দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় পূর্বেও গুঞ্জন রয়েছে।
‎ঘটনার পর ভুক্তভোগী আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কামরাঙ্গীরচর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
‎এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানার এক কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে।

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ বিকেএমইএর সভাপতি ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ বলে মন্তব্য করায় অবরুদ্ধ করা হয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্কে দুই ঘণ্টা পর পুলিশ উদ্ধার করে। সদর উপজেলার ফতুল্লায় জামায়াতের ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন।

‎পঞ্চবটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী পেশাজীবী ফোরাম নারায়ণগঞ্জ পূর্ব থানা।আব্দুল্লাহ্ আল আমিন নারায়ণগঞ্জ-৪ (সদর উপজেলার একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব। তিনি এ আসনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।জাতীয় পার্টি–দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বিকেএমইএ সভাপতি থাকাকালে ওই কমিটির নির্বাহী সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ হাতেম। চব্বিশের গণ–অভ্যুত্থানের পর নিটওয়্যার প্রস্তুতকারকদের এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন মোহাম্মদ হাতেমপ্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে ওই ইফতার অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন ও মোহাম্মদ হাতেম আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষের দিকে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল আমিন এসে উপস্থিত হন এবং তিনি মঞ্চে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে দেখে ‘ফ্যাসিস্টদের দোসর’ হিসেবে অভিহিত করে সেখানে বসতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর এই বক্তব্যে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদহাতেমসহ তাঁর অনুসারী ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠান বর্জন করেন। সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ্ আমিনকে অবরুদ্ধ করেন মোহাম্মদ হাতেমের অনুসারী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বিএনপি নেতা–কর্মীরা। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আটটার দিকে আব্দুল্লাহ্ আল আমিনকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) মো. হাসিনুজ্জামান একটি ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্যের বক্তব্য ঘিরে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইফতার অনুষ্ঠান থেকে ওয়াক আউট করেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে এমপি মহোদয়কে নিরাপত্তা দিয়ে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে যান।



উচ্ছেদের ভয় দেখিয়ে আদায় লক্ষ লক্ষ টাকা, লালমনিরহাট রেলওয়েতে তোলপাড়

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ রাজস্ব আদায় ও লাইসেন্স প্রদানের নামে অনিয়ম ও উৎকোচ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এর লালমনিরহাট বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মনজুর হোসেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রথমে স্টেশনসংলগ্ন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়া হয়। পরে দলীয় পরিচয়ধারী কিছু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে শুরু হয় দরবার। একপর্যায়ে অফিসের বাইরে নির্ধারিত নয় এমন স্থানে লেনদেন সম্পন্ন হয়।

রংপুর বিভাগের আট জেলার ৮৪টি স্টেশন এলাকা লালমনিরহাট রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগের আওতায়। এসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা শত শত দোকানকে নিয়মিত অভিযানের কথা বলে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দ্বিগুণ-তিনগুণ আদায়ের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, অফিসে ডেকে বাণিজ্যিক ভাড়া ও অন্যান্য ফি বাবদ একটি কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখিত টাকার দ্বিগুণ কিংবা তিনগুণ পর্যন্ত আদায় করা হয়। সরকারি কোষাগারে জমার রশিদ চাইলে তা দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ তাদের।

হাতীবান্ধা উপজেলার দুই ব্যবসায়ী রনিউল ইসলাম ও ফজলে রহমান দাবি করেন:

রনিউলের কাছ থেকে নেওয়া হয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, কিন্তু সরকারি চালানে জমা দেখানো হয়েছে ৫৩ হাজার টাকা। ফজলে রহমানের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৮৪ হাজার টাকা, কিন্তু জমা দেখানো হয়েছে ৩৬ হাজার টাকা। বাকি অর্থের কোনো হিসাব তারা পাননি। তাদের হাতে যে লাইসেন্স কপি দেওয়া হয়েছে, তা মূলত সফটওয়্যার থেকে প্রিন্ট করা কাগজ মাত্র বলেও অভিযোগ করেন তারা।

রেলের সর্বশেষ ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, মাষ্টারপ্ল্যানভুক্ত করে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্যিক লিজ বা লাইসেন্স দেওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বরং লাইসেন্স বাতিল, উচ্ছেদ কিংবা মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা মনজুর হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

রাজস্ব আদায়ের নামে যদি ব্যক্তিগত লেনদেনই চলে, তবে সরকারি কোষাগার কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে..? ভুক্তভোগীরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।




‘বিনা পুঁজিতে’ ৩ হাজার শেয়ার, কোটি টাকার হিসাবহীনতা—বনলতা ল্যান্ডমার্কে অডিট বাধা ও দ্বৈত কোম্পানির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রিয়েল এস্টেট খাতে উচ্চাভিলাষী সূচনার পর আজ প্রশ্নের মুখে বনলতা ল্যান্ডমার্ক লিমিটেড। শেয়ার বণ্টনে অনিয়ম, গ্রাহকের কোটি কোটি টাকার হিসাবহীনতা, একই প্রকল্পের নামে পৃথক কোম্পানি খোলা, অডিটে বাধা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুকেন্দ্র দাস।

শেয়ার দখলের অভিযোগ: ‘বিনা পুঁজিতে’ ৩ হাজার শেয়ার!
কোম্পানির চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী খান ফেরদৌস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়ের করা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন—২০১৮ সালের ১৩ আগস্ট প্রলোভন দেখিয়ে সুকেন্দ্র দাস প্রথমে ১২০০ শেয়ার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে চেয়ারম্যান দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকাকালে আরও ১৮০০ শেয়ার নিজের নামে নিয়ে মোট ৩০০০ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেন—কোনো পুঁজি বিনিয়োগ ছাড়াই।

অভিযোগে বলা হয়, ব্যাংক হিসাবও এককভাবে এমডির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ৩১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত এক্সট্রা অর্ডিনারি জেনারেল মিটিংয়ে আর্টিকেল সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংক পরিচালনার ক্ষমতা এমডির হাতে তুলে দেওয়া হয়—যেখানে কোরাম পূরণ হয়নি এবং চেয়ারম্যানকে অবহিত করা হয়নি বলে অভিযোগ।

২৮ কোটি টাকার লেনদেন—কিন্তু জমি কোম্পানির নামে নয় !
অভ্যন্তরীণ অডিট সূত্রের দাবি—চলমান প্রায় ২১৮ জন গ্রাহকের কাছ থেকে বুকিং ও কিস্তি বাবদ ২৮ কোটির বেশি টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। অথচ কোম্পানির নামে পর্যাপ্ত জমির দলিল বা বায়নার প্রমাণ নেই। অডিট পর্যবেক্ষণে আরও উঠে আসে—১৭টি দলিলের মধ্যে ১৬টি ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত নামে এবং মাত্র একটি চেয়ারম্যানের নামে।
প্রশ্ন উঠছে—গ্রাহকের অর্থ কি ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তরিত হয়েছে ? একইসঙ্গে প্রায় ৫.৫৫ কোটি টাকার ব্যয়ের ক্ষেত্রে বোর্ড রেজুলেশন বা যথাযথ ভাউচার অনুপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে।

একই প্রকল্পের নামে আলাদা কোম্পানি ! “বনলতা রিভারগেট টাউন” প্রকল্পের নাম ব্যবহার করে পৃথক কোম্পানি খোলার অভিযোগ রয়েছে। চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের নামের সঙ্গে মিল রেখে “বনলতা রিভারগেট টাউন লিমিটেড” নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়।

এছাড়া “গাডওয়াল হোল্ডিংস লিমিটেড” নামে আরেকটি কোম্পানি একই অফিস ঠিকানায় পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—এতে গ্রাহক বিভ্রান্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অর্থ স্থানান্তরের পথ সহজ হয়েছে।

অডিটে বাধা ও ফাইল গায়েব!
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯–২০২১ সময়কালের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই। অডিট চলাকালে নির্ধারিত কক্ষে তালা ভাঙা, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গায়েব হওয়া এবং অডিট টিমকে বাধা দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ রয়েছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়—বরং প্রমাণ নষ্টেরও ইঙ্গিত বহন করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ, থানায় জিডি : চেয়ারম্যান আহম্মদ আলী খান বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পাশাপাশি বনানী থানা-এ সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ১৬৪, তারিখ ০৩/০১/২০২৬) করেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন—হিসাব চাইতে গেলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং ‘খুন করে লাশ গুম’ করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

এছাড়া কোম্পানির এইচআর ও অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তা শারমীন আক্তারও পৃথকভাবে জিডি (নং ৭৩৮, তারিখ ০৮/০১/২০২৬) করেন। তিনি অভিযোগ করেন—অফিসে তাকে হুমকি ও মারধরের চেষ্টা করা হয়েছে, ফলে তিনি মানসিকভাবে আতঙ্কিত।

ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধি: গাড়ি ও পূর্বাচল প্লট : অভিযোগে আরও বলা হয়েছে—কোম্পানির অর্থ ব্যবহার করে বিলাসবহুল গাড়ি ক্রয় এবং পূর্বাচলে প্লট কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তদন্ত এখনো সম্পন্ন হয়নি।

এমডির নীরবতা : উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সুকেন্দ্র দাসের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রশ্নগুলোর উত্তর কে দেবে ?
২৮ কোটির বেশি গ্রাহক অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে ? কেন অধিকাংশ জমির দলিল ব্যক্তিগত নামে ? একই প্রকল্পের নামে পৃথক কোম্পানি খোলার উদ্দেশ্য কী ? অডিটে বাধা ও নথি গায়েব হওয়ার দায় কার ? ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগের পেছনে কী সত্য লুকিয়ে আছে ?

রিয়েল এস্টেট খাতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িত এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

(পরবর্তী পর্বে: গ্রাহকদের সরাসরি অভিযোগ, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ, বোর্ডের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা বিশ্লেষণ।)




বাবার সঙ্গে বিরোধের ‘বলি’ শিশু ইরা মনি

ডেস্ক নিউজঃ প্রতিবেশীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরে আট বছরের শিশু ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন বাবু শেখ (৪৫)। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা এবং পরে গলা কেটে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন এ তথ্য জানান। পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার বাবু শেখ এসব তথ্য স্বীকার করেছেন।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিহত শিশুর বাবা মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বাবু শেখের দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময় তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো। এরই প্রতিশোধ নিতে মনিরুল ইসলামের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত রোববার সকালে ইরা মনিকে চকলেট কিনে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে বাবু শেখ। পরে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে নিয়ে যান। সেখান থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার দুর্গম পাহাড়ে ওঠেন। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ সময় ইরা চিৎকার করে ঘটনাটি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।

রক্তাক্ত অবস্থায় জঙ্গল থেকে হেঁটে বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন সড়কের কাছে পৌঁছালে শ্রমিকরা তাকে দেখতে পান। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শিশুটির বাড়ি ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা মনি।

মঙ্গলবার সকালে কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি কুমিরায় মনিরুল ইসলামের বাড়ির পাশেই ভাড়া থাকতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত, বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তেল উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এই অঞ্চলের রফতানি বন্ধ হওয়ার ফলে বুধবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১ ডলারেরও বেশি বেড়ে গেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট তেলের দাম ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের পর সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনী ইরানজুড়ে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এই হামলার কারণে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষতি হয়, যা বিশ্বব্যাপী তেল উৎপাদনের এক তৃতীয়াংশেরও কম।

সংবাদমাধ্যমকে কর্মকর্তারা জানান, পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনকারী ইরাক উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। মজুদের সীমাবদ্ধতা এবং রফতানি রুট বন্ধ থাকায় দৈনিক প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন কমেছে, যা দেশটির উৎপাদনের অর্ধেক। যদি রফতানি পুনরায় শুরু না হয়, তবে কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৩ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ করতে হতে পারে।

ইরান হরমুজ প্রণালিতেও ট্যাংকারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এই পথে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রবাহিত হয়। পাঁচটি জাহাজে হামলার পর চতুর্থ দিনের জন্য প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে তেল পরিবহনে সহায়তা করবে, যাতে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার উপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আনা যায়। তিনি মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থ করপোরেশনকে উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা এবং আর্থিক গ্যারান্টি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে জাহাজ মালিক ও বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন, সামরিক এসকর্ট ও বীমা কি বিশ্ববাজারে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট হবে? দেশ এবং কোম্পানিগুলো বিকল্প রুট ও সরবরাহ খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎস খুঁজছে, আবার কিছু চীনা শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

সৌদি তেল জায়ান্ট আরামকো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে কিছু রফতানি রুট পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। সূত্র: রয়টার্স




দুবাইয়ে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের ফেরাতে ইউএস-বাংলার বিশেষ ফ্লাইট

ডেস্ক নিউজঃ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি আটকে পড়েছে তাদের দেশে ফেরাতে ঢাকা–দুবাই–ঢাকা রুটে দুটি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।

‘মানবিক দিক বিবেচনা করে’ ইউএস-বাংলা ওই দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বলে বুধবার (৪ মার্চ) এয়ারলাইনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।

এয়ারলাইনটি জানিয়েছে, বুধবার প্রথম বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশে উড়াল দিবে। একই ফ্লাইট দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।

বৃহস্পতিবার অপর বিশেষ ফ্লাইটটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে উড়বে। পরে দুবাই থেকে স্থানীয় সময় রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে।

ইউএস-বাংলা জানিয়েছে, ৪৩৬ আসনবিশিষ্ট এয়ারবাস এ৩৩০-৩০০ উড়োজাহাজের মাধ্যমে ফ্লাইটগুলো পরিচালিত হবে। ঢাকা–দুবাই ফ্লাইট নম্বর: বিএস-৩৪১ এবং দুবাই-ঢাকা ফ্লাইট নম্বর: বিএস-৩৪২।

দুবাই এয়ারপোর্ট অথরিটি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, এমিরেটস, এয়ার ইন্ডিয়াসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্সকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

ইউএস-বাংলা বলছে, যেসব বাংলাদেশি যাত্রীর ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে অথবা শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে, তাদেরকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া হবে।

টিকেট বুকিং সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের যে কোনো সেলস সেন্টার অথবা নিকটস্থ ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।

এছাড়া, বিস্তারিত তথ্যের জানা যাবে হটলাইন: ১৩৬০৫, মোবাইল: ০১৭৭৭৭৭৭৮০০–৮০৬ নম্বরে।