আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ডেস্ক নিউজঃ আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকে। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিতেই দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত থাকবে।

দিবসটি ঘিরে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তায় মোতায়েন থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশ-এর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য। পুলিশের পাশাপাশি দেশজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ১৯৪৮ সালের মার্চে তা সীমিত আকারে বিস্তার লাভ করে এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি এর চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষও রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানায় এবং মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ভাষা শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা গুঁড়িয়ে দেয় সরকার। তবে এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর ৭ মে গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ১৯৫৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি সংবিধানে সংশোধন এনে বাংলাকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করা হয়। পরে ১৯৮৭ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে ‘বাংলা ভাষা প্রচলন বিল’ পাস হয় এবং একই বছরের ৮ মার্চ থেকে তা কার্যকর করা হয়।

বাংলা ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ২০১০ সালে, যখন জাতিসংঘ প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।




নওয়াপাড়ায় নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের অফিস সম্পাদক নিয়ামুল হক রিকোর ওপর নৃশংস হামলা ও শ্রমিক নেতাদের ওপর হামলায় ক্ষোভে ফুঁসছে শ্রমিক সমাজ – মিথ্যা অভিযোগ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ।

বিশেষ প্রতিবেদকঃ যশোরের নওয়াপাড়া নৌবন্দরে সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনা ঘিরে চরম উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ, রাজনৈতিক অপপ্রচার এবং সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একটি বিতর্কিত চক্র পরিকল্পিতভাবে সংগঠনের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া দমিয়ে রাখতে অপপ্রচার ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখা কার্যালয়ে জরুরি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নেতারা অভিযোগ করেন, “নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন” নামে একটি সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাদের সদস্য সংখ্যা খুবই কম হলেও তারা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সভায় তারা ফেডারেশনের নেতাদের বিএনপি আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পেছনে একটি পুরনো আর্থিক বিরোধও সামনে এসেছে। ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি আবদুর রহমানের মালিকানাধীন নাইটার এমভি সেভেন সীজ-৪ নামের একটি জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়ে। এ ঘটনায় মেসার্স এম আর শিপিং কর্পোরেশন ও মেসার্স এম এম শিপিং ট্রান্সপোর্টের মধ্যে ক্ষতিপূরণ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিষয়টি খুলনায় বাংলাদেশ নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে শালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত তারিখে পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। কয়েকটি চেক দিলেও সেগুলোর টাকা উত্তোলন সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি জানা যায়, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি নওয়াপাড়ার গোল্ডেন টু ঘাটে অবস্থান করছে। পাওনা অর্থের বিষয়ে কথা বলতে ফেডারেশনের নেতারা জাহাজের মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মালিকপক্ষকে বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানান। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ হাসান মুন্সী মাস্টার এবং ফেডারেশনের নওয়াপাড়া শাখার অফিস সহকারী মোঃ নিয়ামুল হক রিকো গোল্ডেন টু ঘাট এলাকায় গেলে সেখানে তাদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে একটি ইট দিয়ে নিয়ামুল হক রিকোর মাথায় আঘাত করা হয়। তিনি মাথায় গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আরও কয়েকজন মিলে তাকে কিল-ঘুষি ও রড দিয়ে মারধর করে আহত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা রিকোকে হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।

ফেডারেশনের নেতারা দাবি করেন, নওয়াপাড়া লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ শাহাদাত হোসেন মাস্টার অতীতে সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাত এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ছিল। বহিষ্কারের পর তিনি আলাদা সংগঠন গঠন করলেও সাধারণ শ্রমিকদের সমর্থন পাননি বলে অভিযোগ করা হয়।

শুধু এই একটি ঘটনা নয়, এর আগেও ১১ দফা দাবিতে চলমান কর্মসূচির সময় চেঙ্গুটিয়া এলাকায় ফেডারেশনের নেতা-কর্মীদের ওপর লোহার পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠে। পরে উল্টো ফেডারেশনের নেতাদের বিরুদ্ধেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়, যা শ্রমিকদের কাছে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে মনে হয়েছে।

নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নওয়াপাড়া নৌবন্দরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, জাহাজ থেকে মাসোহারা আদায়, মোবাইল ফোন ছিনতাই এবং শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো অপরাধে জড়িত। ইকবাল হোসেন, সাইফুল, হৃদয় ও রানা নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

পরিস্থিতি আরও গুরুতর আকার নেয় যখন ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ামুল হক রিকোর ওপর লাঠি ও লোহার রড দিয়ে আবারও হামলার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়। ফেডারেশনের নেতারা এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে আখ্যা দেন।

নওয়াপাড়া শাখার সভাপতি নূরুল হুদা মাস্টারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নেতারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন দমাতে সন্ত্রাস ও অপপ্রচার চালানো হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নওয়াপাড়া নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ের সামনে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মোঃ হাসান মুন্সী, সভাপতি বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহারুল ইসলাম বাহার, বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। বিশেষ বক্তা ছিলেন শ্রমিক নেতা আশুতোষ বিশ্বাস, সভাপতি বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ যশোর জেলা ও উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। এছাড়া বক্তব্য দেন মোঃ জামাল মাস্টার, সহ-সভাপতি বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা এবং মোঃ জসিম মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা। সভা পরিচালনা করেন নাজমুল হোসাইন, উপদেষ্টা বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা ও অফিস কর্মকর্তা নওয়াপাড়া এবং সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ অভয়নগর থানা।

নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে শ্রমিকরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।




মেট্রোরেলে ইফতার করা যাবে?

ডেস্ক নিউজঃ শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাস। এই মাসে অফিস সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজান থেকে বিশেষ সময়সূচিতে চলাচল করছে মেট্রোরেল।

ঢাকা শহরের ব্যস্ত জীবনে অনেক সময়েই ইফতারের আগে ঘরে পৌঁছাতে পারেন না ঘরমুখো মানুষ, ইফতার পথেই সেরে নেন। সেদিকে লক্ষ্য রেখে ইফতারের সময় যাত্রীদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রমজানের সময় ইফতারে পানি পান করার জন্য প্রত্যেক যাত্রী মেট্রোরেল ও স্টেশন এলাকায় শুধু ২৫০ মিলিলিটার পানির বোতল বহন করতে পারবেন। তবে পানি যেন পড়ে না যায় সে বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

ব্যবহৃত পানির বোতল অবশ্যই প্ল্যাটফর্ম/কনকোর্স/এন্ট্রি ও এক্সিট গেইটে রক্ষিত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স ও মেট্রোরেলের অভ্যন্তরে অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রমজান মাসের অফিস সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রথম রমজান থেকে ঈদুল ফিতরের আগের দিন পর্যন্ত সাপ্তাহিক কর্মদিবসে মেট্রোরেল বিশেষ সময়সূচিতে চলবে। তবে শনিবার ও অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন এবং শুক্রবার সময়সূচি অপরিবর্তিত থাকবে।




দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হলেন অধ্যক্ষ হাবিব দুলু

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের মন্ত্রিসভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

পূর্ব অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক ভূমিকা: আসাদুল হাবিব দুলুর সংসদীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তিনি ১৯৯৬ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবার লালমনিরহাট-০৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সে সময় উত্তরবঙ্গের মঙ্গা নিরসন ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় তার সক্রিয় ভূমিকা আলোচিত হয়। এবার তিনি পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বৃহত্তর পরিসরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ কার্যক্রম ও দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন।

শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন: ১৯৬০ সালের ০৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আসাদুল হাবিব দুলু। বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবুল কাশেম মিঞা ও প্রয়াত হাবিবা খাতুনের সন্তান তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত, তার সহধর্মিণী লায়লা হাবিব। তাদের দুই পুত্র আহনাফ হাবিব ইনতিসার ও আহমিক হাবিব ইয়ারদান।

শিক্ষাজীবন শুরু করেন আমবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে রংপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন কারমাইকেল কলেজ থেকে এবং অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

রাজনৈতিক পথচলা: ১৯৭৬ সালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবন শুরু। ১৯৮৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এর নেতৃত্বে বিএনপিতে যোগ দেন। একই বছর লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন এবং অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯০ সালে লালমনিরহাট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হয়ে অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়াও তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন “জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই”-এর প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লালমনিরহাট-০৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন তিনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আসাদুল হাবিব দুলু মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় লালমনিরহাট জেলায় আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে।




ড্রিম নায়িকা অলিভিয়া আড়ালে থাকা এক স্বপ্ন নায়িকা “শুভ জন্মদিন”

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অভিনন্দন – অলিভিয়া আড়ালে থাকা এক স্বপ্ন নায়িকা শুভ জন্মদিন। তাঁর পুরো নাম অলিভিয়া গোমেজ। ঢাকার চলচ্চিত্রের সত্তর দশকের একমাত্র আবেদনময়ী তারকা অভিনেত্রি অলিভিয়া দীর্ঘদিন থেকে সকলের চোখের আড়ালে রয়েছেন। 
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তিনি সম্প্রতি আলোচনায় চলে আসেন। ইউটিউব থেকে ‘দি রেইন’সহ তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি গান এবং বিভিন্ন ভিডিও ক্লিপিং মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ওঠে এসেছে দর্শক শ্রোতাদের অন্তরে লালিত বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া। একজন শ্রোতা লিখেছেন –
তিনি সুচিত্রা সেনের মতোই সকলের চোখের আড়ালে চলে গেছেন ভালো করেছেন। তাঁকে আমরা চলচ্চিত্রে যেমন দেখেছি তেমন ইমেজ নিয়েই আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন।অলিভিয়া অভিনীত সর্বশেষ ছবি ‘দুশমনি’ মুক্তি পায় ১৯৯৫ সালে। এরপর থেকে এই অভিনেত্রি পর্দা কিংবা বাস্তবে আর কারও মুখোমুখি হননি। অনেকটা নীরবে নিভৃতেই কাটছে তাঁর জীবন।
জানা গেছে, ধর্ম কর্ম পালন ও সংসারধর্ম নিয়েই পরম সুখে কাটছে তাঁর জীবন। অলিভিয়ার জন্ম ১৯৫৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি করাচিতে। পড়াশোনা করেছেন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মডেলিং শুরু করেন। রিসিপশনিস্ট পদে চাকরি করেছেন কিছুদিন হোটেল পূর্বাণীতে। এরপর কাজ করেন ‘দৈনিক অবজারভার’ পত্রিকায়। চাকরিরত অবস্থায় কয়েকটি বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। হয়েছিলেন লাক্স সাবানের বিজ্ঞাপনের মডেল।
১৯৭২ সালে চিত্রনির্মাতা এস এম শফি তাঁর ‘ছন্দ হারিয়ে গেলো’ ছবিতে প্রথম ব্রেক দেন অলিভিয়াকে। পরে সেবছরই মুক্তিপ্রাপ্ত জীবন চৌধুরীর ‘শপথ নিলাম’ চলচ্চিত্রে রাজ্জাক ও কবিতার সাথে একটি বিয়োগান্তক সহনায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ছবিটিতে তাঁর ঠোঁটে একটি রবীন্দ্রসংগীত ছিল ‘এ মনিহার আমায় নাহি সাজে’।
যদিও এর আগে প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এবং বেবি ইসলামের ‘সঙ্গীতা’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার কথা ছিল তাঁর।
‘ছন্দ হারিয়ে গেল’ থেকে ‘দুশমনি’ পর্যন্ত তিনি ৫০টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। পোশাকি, ফ্যান্টাসি এবং সামাজিক সব ধরনের চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং গ্ল্যামার নায়িকা হিসেবেই বেশি প্রতিষ্ঠা পান তিনি। নায়ক ওয়াসিমের সঙ্গে তাঁর জুটি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৬ সালে মুক্তি পাওয়া এই জুটির ‘দি রেইন’ ছবিটি দেশেবিদেশে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
প্রথম স্বামী চিত্র পরিচালক এস এম শফির মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র ত্যাগ করেন অলিভিয়া। এরপর বিয়ে করেন ফতুল্লার মুনলাইট টেক্সটাইল মিলের কর্ণধার হাসানকে। বসবাস করছেন বনানীর ডিওএসএইচ এর বাড়িতে। 
অলিভিয়া ধর্মান্তরিত হবার পর সুরাইয়া নাম ধারণ করে এস এম শফির সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ১৯৭২ সালে।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো – ছন্দ হারিয়ে গেল, জীবন সঙ্গীত, দূর থেকে কাছে, টাকার খেলা, মাসুদ রানা, দি রেইন, বাহাদুর, বহ্নিশিখা, তীর ভাঙ্গা ঢেউ, শাপমুক্তি, আদালত, যাদুর বাঁশি, আগুনের আলো, পাগলা রাজা, শীষনাগ, কুয়াশা, শ্রীমতি ৪২০, একালের নায়ক, বেদ্বীন প্রভৃতি। তবে তাঁর অভিনয়  জীবনের সেরা কাজ ছিল ‘মাসুদ রানা’ ও ‘যাদুর বাঁশি’ চলচ্চিত্রে।
ববিতার পর অলিভিয়াই ছিলেন একমাত্র নায়িকা যিনি কলকাতার ছবিতে অভিনয় করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। ছবির নাম ‘বহ্নিশিখা’। ছবিতে তাঁর নায়ক ছিলেন রঞ্জিত মল্লিক, সাথে ছিলেন উত্তম কুমার।
ফেসবুক পরিবারের পক্ষে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা আজকের এই বিশেষ দিনটিতে।
— কনা আক্তার



রোজার মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট চলতি রমজান মাসেই করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শিগগিরই নির্বাচনের তপশিল দেওয়া হতে পারে। আইন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে বিএনপি পাচ্ছে ৩৫টি সংরক্ষিত আসন, জামায়াত ১১টি এবং এনসিপি একটি আসন। 

এছাড়া একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত হওয়া শেরপুর-৩ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। এদিকে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনেরও প্রস্তুতি শুরু করেছে ইসি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে ইসির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে নিবাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছি। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চাই আমরা। এছাড়া শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন ঈদের পরে করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায় সে অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতি ছয় জনের বিপরীতে একটি নারী আসন পাওয়া যায়। স্বতন্ত্ররা এককভাবে নারী আসন পান না। তবে তারা জোট করে আবেদন করলে নারী আসন পেতে পারেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুইটি এবং খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন পেয়েছে একটি করে আসন। নির্বাচনে অংশ নিলেও জাতীয় পার্টিসহ ৪১টি দল কোনো আসন পায়নি।

জাতীয় সংসদের নারী আসনের নির্বাচনের আইন অনুযায়ী, কোনো দল সংসদে যতগুলো আসন পায়, সেই সংখ্যাকে ৫০ দিয়ে গুণ করে প্রাপ্ত ফলাফলকে ৩০০ দিয়ে ভাগ করলে যে ফল আসে সেটিই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দলের সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা। এ হিসেবে সংরক্ষিত আসনের মধ্যে বিএনপি ৩৪ দশমিক ৬৬ বা ৩৫টি আসন পাবে। জামায়াতে ইসলামী ১১ দশমিক ৩৩ বা ১১ টি আসন পাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১টি আসন পাবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি পাবে ১টি আসন।

সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য চিঠি এসেছে। বিষয়টি কমিশনে উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের পাঠানো পৃথক দুই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ২ জুন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সে অনুযায়ী গত বছরের ১ জুন এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। আর ২০২০ সালের ৩ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়, যার মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। এছাড়া ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়; সে হিসাবে এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর একটি সিটি করপোরেশনের মেয়াদ গণনা করা হয়। মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।




দেশে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশে মৃদু ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

ইউরোপিয়ান-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পের উত্তপত্তি বলে জানিয়েছে ইএমএসসি।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরও। আর মাই আর্থকোয়েক অ্যালার্ট জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উত্তপত্তিস্থল ঢাকা থেকে ১৮১ কিলোমিটার দূরে সুনামগঞ্জের ছাতকে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহ মোহাম্মদ সজীব হোসাইন গণমাধ্যমকে জানান, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ১০ এবং এর গভীরতা স্বল্পমাত্রার হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬২৬ কিলোমিটার গভীরে। এই ভূমিকম্পে এখনও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।




আমি জনগণের কামলা, মাননীয় মন্ত্রী বললে খারাপ লাগে: ধর্মমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজঃ ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেইন কায়কোবাদ।  

বুধবার (১৮ ফ্রেব্রুয়ারি) প্রথম দিনেই তাকে সভাপতিত্ব করতে হয়েছে চাঁদ দেখা কমিটিতে। সেই কমিটির সভা শেষেই ঘোষণা আসে বাংলাদেশে রমজান মাস শুরুর।

তবে সেখানে তিনি জানিয়েছেন, কেউ তাকে ‘মাননীয় মন্ত্রী’ বললে বেশ ব্যথিত হন তিনি।

গতকাল সংবাদ ব্রিফিংয়ের সময় তিনি কুমিল্লার আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, ‘আসলে আপনারা যে আমারে মাননীয় মন্ত্রী কন, আমি তো জনগণের কামলা। মাননীয় মন্ত্রী কইলে খারাপ লাগে, কারণ জনগণ আমারে ভোট দিয়া বানাইসে কাম করনের লাইগা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে নিয়োগ দিয়েছেন জনগণের কামলা হিসেবে, তাদের কাজ করার জন্য।’

তিনি এরপর বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের মাধ্যমে একটা আহ্বান আমি দেশবাসীর কাছে করতে চাই। ভাই ও বোনেরা, এই রমজান মাসে আপনারা ২ রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমাদের হেদায়েত দান করেন, সহি বুঝ দান করেন, আমরা যেন আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী দেশটাকে চালাতে পারি।’

ছয়বারের এমপি কায়কোবাদ দায়িত্ব পালনের প্রথম দিনে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে অংশ নেন। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের সাথে কথা বলেন। শেষে চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানেই এসব কথা বলেন তিনি।




লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন ড. ইউনূস

ডেস্ক নিউজঃ সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন পাসপোর্টটি হস্তান্তর করেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার অনেকে ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি।

স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টার পদমর্যাদার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা সপ্তাহখানেক আগে পাসপোর্ট ছেড়েছেন। অন্যরাও ভোটের আগে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন।

সরকারের এক কর্মকর্তা বলেন, বিদায়ী সরকারের বেশিরভাগ উপদেষ্টা কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। বাকিরা যারা এখনো হস্তান্তর করেননি, এমন নয় যে তাদের কালকে এটি ছেড়ে দিতে হবে। একটা সময় পর তাদের বাধ্য হয়ে ছেড়ে দিতে হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদায়ী উপদেষ্টাদের মধ্যে লাল পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও আছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

এ ছাড়া লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব (তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন)।

সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাদের দায়িত্ব হস্তান্তরের পরপরই কূটনৈতিক পাসেপোর্ট ছেড়েছিলেন।




প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার দ্বিতীয় দিনেও সচিবালয়ে গেছেন। সচিবালয়ে নিজ দফতরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানেরা।

বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

এ সময় বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম (অব.)।

এর আগে সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।