জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবাগত প্রধানমন্ত্রী শ্রদ্ধা জানাবেন, সবার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক নিউজঃ শপথ গ্রহণের পর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির প্রতীক জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। এ উপলক্ষে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে চলছে নানা প্রস্তুতি। একদিকে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে, অন্যদিকে নিরাপত্তার কারণে সর্বসাধারণের প্রবেশ সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় জাতীয় স্মৃতিসৌধের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ শ্রদ্ধা জানানোর পর আবার জাতীয় স্মৃতিসৌধ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

একাধিক সূত্র জানায়, কাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এমপি ও বিকেল ৪টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করবে। এরপর নবাগত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে।  সে জন্য সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের বিভিন্ন প্রাঙ্গণ ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।




একসঙ্গে মন্ত্রিসভায় থাকার আলোচনায় দুই ভাই

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। জেলার গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত দুই ভাই বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। 

টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে জয়ী হয়েছেন তার ছোট ভাই ও দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এই দুই সহোদর এখন একসঙ্গেই জাতীয় সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

টাঙ্গাইল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আবদুস সালাম পিন্টু ১ লাখ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হুমায়ুন কবির পেয়েছেন ৬০ হাজার ৮৭১ ভোট। এই আসনের মোট ১৩৯টি কেন্দ্রে ৬৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে এবং ৫ হাজার ৫৫৫টি ভোট বাতিল হয়েছে।

উল্লেখ্য, আবদুস সালাম পিন্টু টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং ইতিপূর্বে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর তিনি আবারও সংসদীয় রাজনীতিতে ফিরলেন।

অন্যদিকে, টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বেসরকারিভাবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আহসান হাবিব মাসুদ ৮০ হাজার ৮২৩ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরহাদ ইকবাল ৬৯ হাজার ৪০৮ ভোট পেয়েছেন।

এই আসনে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪১২ জন ভোটারের মধ্যে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটার তাদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং ৪ হাজার ৪০১টি ভোট বাতিল হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক এই সভাপতি এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হলেন।

দুই ভাইয়ের এই যুগপৎ বিজয় টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। আবদুস সালাম পিন্টু ইতিপূর্বে শিক্ষা ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও টুকু এবারই প্রথম সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন সাফল্যে স্থানীয় ভোটাররা তাদের কাছ থেকে সমন্বিত উন্নয়নের প্রত্যাশা করছেন। আগামী মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই ভাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের সংসদীয় দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।




যমুনাই হবে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন!

ডেস্ক নিউজঃ বর্তমানে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট স্থায়ী সরকারি বাসভবন নেই। ‘গণভবন’কে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলার পর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে—সেটি এখনো প্রস্তুত হয়নি। অথচ মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর এখন সবার নজর রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে। এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে শপথ নেওয়ার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান কোথায় থাকবেন? এ নিয়ে সরকারি-বেসরকারি মহলে চলছে নানামুখী আলোচনা।

সরকারি সূত্র বলছে, বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস দায়িত্ব ছাড়ার পর যমুনাই হবে প্রধানমন্ত্রীর ঠিকানা। তবে সেটি প্রস্তুত করতেও কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে। কারণ দায়িত্ব ছাড়ার পরের দিন থেকেই যমুনা খালি হচ্ছে না। ড. মুহাম্মদ ইউনূস কবে যমুনা ছাড়বেন তা সুনির্দিষ্ট নয়। আবার ছাড়ার পরেও তা নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বাসযোগ্য করতে পুরো যমুনা সংস্কার ও আসবাবপত্র সংযোজনের জন্য কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগবে।

তবে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার জন্য ২৯ নম্বর বাড়ি এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য হেয়ার রোড ও বেইলি রোডে ১৫টি বাংলো ও অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ রয়েছে। এ ছাড়া বেইলি রোডে তিনটি মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টে ৩০ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী থাকার জন্য সুবিশাল ফ্ল্যাট বাসার ব্যবস্থাও আছে।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, মায়ের স্মৃতি ধরে রাখতে তারেক রহমান ফিরোজায় থাকতে পারেন। আবার কেউ বলছেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটিতেও থাকতে পারেন তিনি। লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর পরিবার নিয়ে সেখানেই বাস করছেন তারেক রহমান। সেখানে থেকেই কিছু দিন তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ করবেন। ইতিমধ্যে ঐ বাড়িসহ পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাড়িতে শুধু তিনি একা পরিবার পরিজন নিয়ে থাকলেই হবে না, তার দপ্তর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতদের বাসস্থানেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে। যা গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে নেই।

আবার কেউ কেউ বলছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্মিত হতে পারে নতুন বাসভবন। তবে সেটি সময়সাপেক্ষ। আবার তারেক রহমানের পছন্দ এবং প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ফোর্স, বিশেষ করে এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) পরামর্শের ওপরও বিষয়টি অনেকটা নির্ভরশীল।

জানা গেছে, গত বছরের ৭ জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা।

নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে ঐ কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বাস্তবতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কারণ স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি বানালে তারা কোথায় থাকবেন? এর বাইরে স্থপতি লুই আই কানের নকশা সংরক্ষণ না করার অভিযোগ তো রয়েছেই। পরবর্তী সময়ে শেরেবাংলা নগরের পরিত্যক্ত বাণিজ্য মেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন করে বাড়ি বানানোর বিষয়টিও বিবেচনায় আনে ইউনূস সরকার। সেখান থেকে জাতীয় সংসদ ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে যাওয়া আসার ক্ষেত্রে দূরত্বও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে পড়ে। তবে সাধারণ মানুষের বিড়ম্বনার কথা বিবেচনা করে সেটিও বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টা যেখানে (যমুনা) আছেন সেটিই আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হতে পারে, তবে আমি নিশ্চিত নই। হয়তো নতুন প্রধানমন্ত্রী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন ওনার জন্য কোনটি যথাযথ হবে।’




নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে থাকছেন দেশি–বিদেশি ১২০০ অতিথি

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ দুই যুগ পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার মসনদে ফিরতে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাতে পারেন।

এই রাজকীয় আয়োজনে ভারত, পাকিস্তান ও ভুটানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি এবং দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ১ হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র। গত বৃহস্পতিবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি।

শপথ অনুষ্ঠানের এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে সরাসরি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।

এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসাও ঢাকার এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে যে, শেষ মুহূর্তে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু নিজেও ঢাকায় আসতে পারেন। যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিবে বলে ধরণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিনের শুরুতেই বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবে, যিনি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের হাল ধরবেন।

এর আগে গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নিজেদের কর্মকাল ও অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের এই স্থানটি বিএনপির পক্ষ থেকেই নির্বাচন করা হয়েছে। প্রথা অনুযায়ী এই অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, বিশিষ্ট আইনজীবী, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে পূর্বনির্ধারিত ‘ইন্ডিয়া-এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’ থাকায় তার পরিবর্তে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




গণপূর্ত অধিদপ্তর-এ নিয়ম ভেঙে কাজ সম্পন্নের অভিযোগ: তদন্তে উঠল কোটি টাকার অনিয়মের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাষ্ট্রের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি যেখানে বাধ্যতামূলক, সেখানে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই কোটি কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন—এ যেন আইনের বুকের ওপর দিয়েই হেঁটে যাওয়ার দৃষ্টান্ত। অভিযোগ উঠেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর বাউন্ডারি ওয়াল উঁচুকরণ, বিচারপতি ভবনে নতুন গেট স্থাপন ও সংস্কার, সীমানাপ্রাচীর মেরামত এবং নিরাপত্তা গ্রিল স্থাপনের মতো উন্নয়নকাজ দরপত্র আহ্বান ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর টেন্ডার ডেকে বিল পরিশোধ—এই অস্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে প্রশাসনে। একই ধাঁচের ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার-এর গেটের দেয়াল নির্মাণ ও মাটি ভরাট কাজেও। বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে এবং দরপত্রের আগে এ ধরনের বিধিবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার কাজ—কীভাবে সম্ভব হলো ‘আগে কাজ, পরে টেন্ডার’ ? তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দুদকের বাউন্ডারি ওয়ালের গ্রিলনেট দিয়ে ১৬ ফুট উঁচুকরণ, মিডিয়া সেন্টারের ভেতরে একাধিক কক্ষ নির্মাণ, একটি ফ্লোরের মেরামত ও সংস্কারসহ নানা কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬৬ টাকা। কাজের তালিকায় রয়েছে—ফ্লোর নবায়ন, থাইপার্টিশন, দরজা পরিবর্তন, ফলস সিলিং, স্যানিটারি ফিটিংস বদল, নতুন টাইলস বসানো এবং পুরো ভবন রঙ করা।
অন্যদিকে কাকরাইলের ২০ তলা বিচারপতি ভবনের উত্তর পাশে দুটি নতুন গেট স্থাপন, প্রধান চারটি গেটের সংস্কার ও মজবুতকরণ, সীমানাপ্রাচীর ঊর্ধ্বমুখী করে নিরাপত্তা গ্রিল বসানোসহ বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮২২ টাকা। অভিযোগ—এর একটি অংশের কাজ দরপত্র ছাড়াই শুরু ও সম্পন্ন করা হয়েছে; পরে টেন্ডার ডাকা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রশ্ন: “আইনের সুযোগ কোথায় ?” তদন্ত কমিটির সদস্য, রাজউকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. ছাবের আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করার আইনগত কোনো সুযোগ নেই। “তারা সেই কাজটাই করেছেন। কেন করতে হলো—তা খুঁজে বের করতে বলেছি,”—বলেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের চর্চা পুরো বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। কমিটির আরেক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “যত তাড়াই থাকুক, একজন প্রকৌশলীকে আইন-কানুন মেনেই কাজ করতে হবে। তারা তা উপেক্ষা করেছেন। ই-জিপি সিস্টেমে কাজ কে পাবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাহলে যে ঠিকাদার কাজটি করল, সে কীভাবে নিশ্চিত হলো যে পরবর্তী টেন্ডারে তিনিই কার্যাদেশ পাবেন?”
তার ইঙ্গিত আরও গভীরে—“এখানে হয়তো তাকে আগেই এস্টিমেট জানানো হয়েছে। এটাই দুর্নীতি। অথবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর নিকটাত্মীয়। অথবা প্রকৌশলী নিজেই বেনামে ঠিকাদারি করেন। অথবা রাজনৈতিক চাপ ছিল। এর মধ্যে একটি রহস্য অবশ্যই আছে।”

“অনুরোধপত্র পেয়েছি’—গণপূর্তের সাফাই : গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর মেইনটেন্যান্স বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবির বলেন, দুদকের সাবেক সচিব খোরশেদা বেগমের অনুরোধপত্র পেয়ে তারা কাজ করেছেন। “তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ করতে হয়েছে। আমরা নিয়ম মেনেই কাজ করেছি।” কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়—কোন নিয়মে আগে কাজ, পরে টেন্ডার? সরকারি ক্রয়বিধি কি ‘পরিস্থিতি বিবেচনায়’ স্থগিত রাখা যায়? গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব দপ্তরে না থাকলেও ফোনে স্বীকার করেন, কাজগুলো তারা করেছেন। তবে অনিয়ম হয়েছে কিনা—তা কাগজপত্র না দেখে বলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেন।

স্বচ্ছতার মুখে তালা, দুর্নীতির দরজা খোলা ? তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকে না; দুর্নীতির পথ সুগম হয়। সরকারি অর্থ ব্যয়ের আগে, প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান বাধ্যতামূলক—এটাই আইনের মর্ম। না হলে “শুভংকরের ফাঁকি” থেকে যায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—এ ঘটনা ঘটেছে এমন একটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নকাজে, যার কাজই হলো দুর্নীতি দমন। সেখানে যদি ‘আগে কাজ, পরে টেন্ডার’ সংস্কৃতি চালু হয়, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার জন্যও এক বিপজ্জনক বার্তা।

এখন কী ? তদন্ত কমিটি তাদের ফাইন্ডিংস জমা দিয়েছে। এখন সিদ্ধান্তের পালা গণপূর্ত বিভাগের।
প্রশ্ন একটাই—এই কোটি টাকার কাজের নেপথ্যের ‘রহস্য’ উন্মোচিত হবে, নাকি ফাইলের ভাঁজে চাপা পড়ে যাবে ? রাষ্ট্রের অর্থ, রাষ্ট্রের আইন, রাষ্ট্রের জবাবদিহি—সবকিছুর পরীক্ষাই এখন এখানেই।




কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ডের সিদ্ধান্তে খালেদা জিয়া পরিষদের ২০২৬–২৮ আংশিক কার্যনির্বাহী পরিষদ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খালেদা জিয়া পরিষদ দলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিগত রবিবার (০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ খ্রিঃ ) কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ড সংগঠনের সাংগঠনিক গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ ২,৩ ও ৪ এর স্ব-পদ কার্যবিবরণী অনুসারে অনুচ্ছেদ-২০ এর ক্ষমতা বলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ-১৪ অনুযায়ী পরিষদের সকল শর্তা পূরণ সাপেক্ষে কেন্দ্রীয় সমন্বয় বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ০৪(চার) সদস্য বিশিষ্ট খালেদা জিয়া পরিষদ দলের এ কমিটি অনুমোদন করেন।

উক্ত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে আছেন জনাব মোঃ মাসুদুর রহমান মোল্লা, সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জনাব কাজী আব্দুল্লাহ আল মামুন, আইন সম্পাদক (সহ সভাপতি পদ-মর্যাদায়) দায়িত্বে আছেন এ্যাভঃ আহসান হাবিব এবং দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন জনাব মোঃ আরিফ হোসেন মিলন।

আংশিক কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০২৬-২৮ খ্রিঃ এর পর্যায়ক্রমিক আংশিক প্যানেল হিসেবে ২০ জনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত এবং মনোনীত করা হবে।




রাজশাহীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে মারধর, হত্যার হুমকি

ডেস্ক নিউজঃ রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থককে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুঠিয়া উপজেলার বিড়ালদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত আহসান হাবীব জানান, তিনি নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী ইসফা খায়রুল হক (শিমুল)-এর ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে কাজ করেছিলেন। এ কারণে ধানের শীষের সমর্থকেরা তার ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, তার ডান হাতের দুটি আঙুলে ব্যান্ডেজ করা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আহসান হাবীবের ভাষ্য, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে বিড়ালদহ বাজারে কেনাকাটার সময় একই গ্রামের রশিদসহ ১৫–১৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরেন। হামলাকারীরা তাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘শালা, তুই ইসফা খায়রুল হক শিমুলের (ঘোড়া) প্রতীকের ভোট করেছিস, আজ তোকে জানে মেরে ফেলব।’

তিনি অভিযোগ করেন, রশিদের নির্দেশে তার ছেলে রাসেল লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। মাথা বাঁচাতে গেলে ডান হাতের মাঝের দুটি আঙুল ভেঙে যায়। এ সময় আজাদ, শাকিল, মারুফ, লাল্টু, ইমনসহ আরও কয়েকজন লাঠি, রড ও হকিস্টিক দিয়ে মারধর করেন। প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি চালের দোকানে আশ্রয় নিতে গেলে সেখানেও তাকে ফেলে পেটানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার রহমান বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম এ ধরনের সহিংসতার বিরোধী। তিনি সবাইকে নিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের পক্ষের মানুষ। তিনি এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার কথা শুনেছেন তবে এ বিষয়ে এখনো থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি।




রোজায় ট্রাকসেলের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে টিসিবি

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সারা দেশে ট্রাক করে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, বর্তমানে স্মার্ট কার্ডধারী পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি রমজান মাসে বিশেষ ট্রাকসেলের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ ভোক্তার কাছে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।

টিসিবি জানায়, রোজায় নিয়মিত পণ্য হিসেবে তেল, ডাল ও চিনির পাশাপাশি ছোলা ও খেজুরও বিক্রি করা হবে।

তবে ট্রাকসেলের আওতায় পণ্যের নির্ধারিত পরিমাণ ও মূল্য পরে জানানো হবে।

টিসিবি আরো জানায়, রমজান মাস শুরুর আগের দিন থেকেই ট্রাকসেল কার্যক্রম শুরু হতে পারে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার লক্ষ্য নিয়েছে টিসিবি।




বঙ্গভবন নয়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে নতুন সরকার

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। এর আগে একই দিনে সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। শনিবার রাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানান, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের আয়োজন করা হচ্ছে দক্ষিণ প্লাজায়।

সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।

নতুন সরকারের শপথ সাধারণত রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে পড়িয়ে থাকেন। তবে এবার স্থান পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত করা হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানাতে চাননি সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।

চব্বিশের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে শপথ নিয়েছিল। ফলে এবার স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এদিকে শপথ আয়োজনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু—দুজনই বর্তমানে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

সংসদ সদস্যদের শপথের পর সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এরপরই নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে।




নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

ডেস্ক নিউজঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন সরকার শপথ নিতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির একাধিক সূত্র সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রসঙ্গত, আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পায় বিএনপি জোট।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার শপথ নিচ্ছেন। ওই দিন সকালে তাদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।