মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নিয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান

ডেস্ক নিউজঃ মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল নিয়ে অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

রবিবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের অপতথ্য ও অনুমাননির্ভর বক্তব্য প্রচারিত হচ্ছে।

এতে আরও বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তিগত কারণে তিনি নির্বাচনের কিছুদিন আগেই প্রধান উপদেষ্টার কাছে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান।

তবে নির্বাচন সন্নিকটে চলে আসায় মাঠ প্রশাসনের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার স্বার্থে প্রধান উপদেষ্টার অনুরোধে তিনি নির্বাচনকাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনে সম্মত হন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে অহেতুক অনুমাননির্ভর তথ্য বা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হচ্ছে।




মিটফোর্ডকেন্দ্রিক ওষুধ সিন্ডিকেটের অভিযোগ: গোপন উৎপাদন ও দেশজুড়ে সরবরাহে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

এসএম বদরুল আলমঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ওষুধ পাইকারি বাজার মিটফোর্ডকে ঘিরে অবৈধ ওষুধ মজুদ, গোপন উৎপাদন এবং দেশব্যাপী সরবরাহের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিভিন্ন মেডিসিন মার্কেটকে কেন্দ্র করে সংগঠিতভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

অভিযোগে যেসব প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে শওকত আলী মেডিসিন মার্কেটের ২য় তলায় অবস্থিত রহিম ড্রাগ হাউস ও শাহিদা ড্রাগ হাউস, একই মার্কেটের নিচতলার দেবস্মিতা ড্রাগ হাউস। আলিফ লাম মিম মেডিসিন মার্কেটে উত্তরা ব্যাংকের পাশে অবস্থিত বেপারী ড্রাগ হাউস, বিসমিল্লাহ ড্রাগ হাউস ও রনি ড্রাগ হাউসের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আমির মেডিসিন মার্কেটের ২য় তলার ত্রিরত্ন ড্রাগ হাউস এবং ভুঁইয়া মেডিসিন মার্কেটের নিচতলার রিপন ড্রাগ হাউসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমন্বিতভাবে অবৈধ ওষুধ বাজারজাত করা হচ্ছে।

এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে মোহাম্মদ দিদার নাম উঠে এসেছে, যাকে অভিযোগকারীরা ‘গডফাদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। জানা গেছে, এক-দুই বছর আগেও তিনি ইসলামপুর রোডের খান মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত “ইছামতি ড্রাগ হাউস”-এ কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে একই মার্কেটের তৃতীয় তলায় “নাসিমা ফার্মা” নামে একটি অফিস পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গে সাদিক সৈকতসহ আরও কয়েকজন অংশীদার জড়িত থাকার দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, কিছু কোম্পানি থেকে বৈধভাবে পণ্য ক্রয় করে সেসবের জনপ্রিয় ও চলতি পণ্য আলাদা করে গোপনে পুনরুৎপাদন করিয়ে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অভিযোগ আরও বিস্তৃত হয়ে গাজীপুরের একটি ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানার দিকে ইঙ্গিত করে, যেখানে গোপনে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার দাবি করা হয়েছে। উৎপাদিত পণ্য মিটফোর্ডসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি উত্তরা সেক্টর-৬-এর একটি বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ডে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মজুদের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যেখান থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় প্রশাসন ও কিছু সংগঠনের সঙ্গে সখ্যতা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অতীতে কয়েকটি দোকানে অভিযান পরিচালিত হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া, প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার এবং বড় ফ্ল্যাট ক্রয়ের মতো বিষয়গুলোর আর্থিক উৎস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। প্রায় ১০০ কোটি টাকার একটি সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ আনা হলেও এর স্বাধীন যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন বা নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত হলে তা সরাসরি রোগীর জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়। এতে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে। ওষুধ খাতে অনিয়ম কেবল আর্থিক অপরাধ নয়—এটি জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হওয়া উচিত।

অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে জনস্বার্থে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বাজারে ভেজাল বা অবৈধ ওষুধ প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।




এনসিপির ঝুলিতে ৬ আসন: নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাফল্য অর্জন করায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক অভিনন্দন বার্তায় নাহিদ ইসলামের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন রাজনৈতিক দল হিসেবে ত্রিশটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, তার মধ্যে ছয়টিতে বিজয় অর্জন করা এবং আরও কয়েকটি আসনে তীব্র ও সম্মানজনক প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা- এ এক অসাধারণ অর্জন। এই সাফল্য কেবল নির্বাচনী পরিসংখ্যানের বিষয় নয়; এটি তরুণ প্রজন্মের আত্মপ্রত্যয়, স্বপ্ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার শক্তিশালী প্রকাশ।’

তিনি বলেন, ‘চব্বিশের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা আজও আমাদের স্মৃতিতে অম্লান। আপনার নেতৃত্ব, সাহসিকতা ও অদম্য মনোবল সেই আন্দোলনকে সুশৃঙ্খল ও লক্ষ্যাভিমুখী করে তুলেছিল। আপনার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থান জাতির হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার অনুভূতি জাগ্রত করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং জাতির পক্ষ থেকে আপনাদের সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাকে কিছুদিন উপদেষ্টা পরিষদে সহকর্মী হিসেবে পাওয়ার সুযোগ আমার জন্য এক মূল্যবান অভিজ্ঞতা। সেই সময়ে আপনার কর্মদক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক গভীরতা, নীতিগত দৃঢ়তা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বোঝার আগ্রহ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

প্রফেসর ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র তখনই বিকশিত হয়, যখন নতুন কণ্ঠস্বর উঠে আসে, নতুন ধারণা স্থান পায় এবং প্রজন্মান্তরের সেতুবন্ধন তৈরি হয়। আপনার দলের এই অল্প সময়ের সাফল্য প্রমাণ করে- বাংলাদেশের জনগণ, বিশেষত তরুণ সমাজ, নীতিনিষ্ঠ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থা রাখতে প্রস্তুত। এই আস্থা রক্ষা করা এখন আপনাদের বড় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সংসদে অর্জিত প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে আপনারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা, বিশেষত তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা তুলে ধরার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ পেয়েছেন। আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনমূলক, যুক্তিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজকের এই অর্জন আগামী দিনের আরও বড় দায়িত্বের পূর্বাভাস। সংগ্রামের পথ থেকে রাজনীতির মূলধারায় প্রবেশ- এই রূপান্তর যেন আদর্শ ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ন রাখে, সেটিই আমাদের সবার প্রত্যাশা।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’




কর্মস্থলে ফিরতে ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করলেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুর

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর নিজ সংসদীয় এলাকার ভোটারদের রাজধানীর কর্মস্থলে ফেরার জন্য ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছেন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর।

শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেইজে এক বার্তায় এ সংক্রান্ত একটি ঘোষণা দেন নুর।

পোস্টে নুর বলেছে, ‌‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের গলাচিপা-দশমিনার সম্মানিত ভোটারদের কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে পটুয়াখালী-০৩ (গলাচিপা-দশমিনা) এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর এর পক্ষ থেকে দেয়া ফ্রি লঞ্চ সার্ভিসের রয়েল ক্রুজ-০২ আজ বিকাল ৪টায় চরকাজল লঞ্চঘাট হতে চর শিবা, আউলিয়াপুর, দশমিনা, বাশবাড়িয়া চাঁদপুর হয়ে ঢাকা আসবে।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ‘ট্রাক’ প্রতীক নিয়ে ৯৬ হাজার ৭৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।




হাতির আক্রমণে একই পরিবারের ৪ জনসহ ৬ জনের প্রাণহানি

ডেস্ক নিউজঃ বন্য হাতির পালের আক্রমণে ভারতের ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় একই পরিবারের চার সদস্যসহ কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে একজন বন কর্মকর্তা। স্থানীয় সময় শুক্রবার এই ঘটনা ঘটে।

গত কয়েকদিন ধরে বেশ কয়েকজনকে আক্রমণ করেছে একই হাতির দল। গত বৃহস্পতিবার রাতে চুরচু ব্লকের গোন্ডোয়ার গ্রামে প্রবেশ করে শুক্রবার ভোরে ছয়জনকে পদদলিত করে হত্যা করে বলে জানিয়েছেন হাজারিবাগ পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) বিকাশ কুমার উজ্জ্বল।

উজ্জ্বল বলেন, ‘নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন। একটি শিশুও গুরুতর আহত হয়েছে।’ শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাজারিবাগের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

গত কয়েকদিন ধরে বোকারো, রামগড় এবং হাজারিবাগ জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল হাতির দলটি। এর আগে বোকারোতেও তাদের আক্রমণে প্রাণহানি ঘটনা ঘটেছে বলে উজ্জ্বল আরো জানান। সূত্র: এনডিটিভি




আমিনুলের পাশে সাবেক ক্রীড়াবিদরা

ক্রীড়া ডেস্কঃ দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনের আলোচিত এক প্রার্থী ছিলেন আমিনুল হক। দেশের সাবেক তারকা ফুটবলার। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি জয় পাননি। তার দাবি তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমিনুলের পরাজয় মেনে নিতে পাছেন না দেশের সাবেক ক্রীড়াবিদরা। মিরপুরে আমিনুলের বাসায় গিয়ে সাবেক তারকারা আমিনুলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।

জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক মো. সুজন, ডন, জাহেদ চৌধুরী থেকে শুরু করে ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবালসহ বিভিন্ন খেলার মানুষরা এ সময় আমিনুলের পাশে দাঁড়ান। তারা কেউ আমিনুলের এই ফল মেনে নিতে পারছেন না। সবার বিশ্বাস আমিনুলের জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমিনুলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫৪৬৭ ভোট, তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮৮২৮ ভোট। ৩৩৬১ ভোট ব্যবধান।

সাবেক ক্রীড়াবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশার কথা জানিয়েছেন। জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য অবাক হয়ে লিখেছেন তিনি নির্বাক। এত ত্যাগ, এত নির্যাতন, কারাবাস, নিপীড়ন জেল-জুলুম সহ্য করেছেন আমিনুল। আমার বন্ধু আমিনুল সব কিছু নীরবে সহ্য করেছেন। আমিনুল ছিলেন মিরপুরের মানুষের চোখের মণি। কিন্তু পেছন থেকে নীল ষড়যন্ত্র তাকে হারিয়ে দিয়েছে।

সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না জানিয়েছেন আমিনুলকে হারানো হয়েছে। যে মানুষটি দেশের জন্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কাজ করছিলেন, তার জনপ্রিয়তার কাছে ঈর্ষা করে হারানোর নীল নকশা করা হয়েছিল। আমিনুল নীল নকশা বুঝেন না। তিনি বুঝেন দেশের মানুষের মঙ্গল।’ রত্না জানিয়েছেন ক্রিকেটের তামিম ইকবাল ভাইও এসেছিলেন আমিনুলের বাসায়। দেশের অনেক ক্রীড়াবিদ গিয়েছিলেন মিরপুরে আমিনুলের বাসায়।’

বিপ্লব বলেছেন, ‘আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমার বন্ধু আমিনুল হককে যথাযথ সম্মান জানাবেন। তারা আমিনুলকে ক্রীড়া নেতৃত্বে দেখতে চান। ক্রীড়া উন্নয়নে তিনি যেভাবে কাজ করার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন তা অন্য কারো মুখ থেকে শোনেননি বলে জানিয়েছেন সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না। তিনি বলেন, ‘আমিনুল দেশের ক্রীড়া নেতৃত্বে এলে দেশের সব ক্রীড়াবিদের জন্য মঙ্গলজনক।’




আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভালোবাসার দিন। বিশ্ব ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবস।

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সিকদারঃ ঋতুরাজ বসন্তের দ্বিতীয় দিনে ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও আজ হয় পবিত্র। ফুলে রাঙা আর বাসন্তী মোহে মুগ্ধ। ভালোবাসা দিবসে যুগলদের মনের এই উচ্ছ্বাসকে বাড়িয়ে দেবে কয়েকগুণ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের মানুষই ভালোবাসার এই দিনে একসঙ্গে সময় কাটাবেন।

দিনটি পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসে বাঙালি মনের ভালোবাসাও যেন পায় নতুন রূপ। আজকের এ ভালোবাসা শুধুই প্রেমিক আর প্রেমিকার জন্য নয়। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসার জয়গানে আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেয়া-নেয়া।রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন আয়োজন ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে সারা দিন ঘোরাঘুরি করে কাটাবে ভালোবাসার মানুষগুলো। তাদের পরনে লাল, নীল, সাদা, বেগুনি, গোলাপি বিভিন্ন রঙের পোশাক আর সাজসজ্জায় ভালোবাসার দিনটি যেন বর্ণিল রঙে রঙিন হয়ে উঠবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে কনসার্টেরও আয়োজন করা হয়েছে। অনেকের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায়। পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু`ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুষঙ্গ।

ইতিহাসবিদদের মতে, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এ উৎসবের সূত্রপাত। এক খ্রিস্টান পাদ্রী ও চিকিৎসক ফাদার সেন্ট ভ্যালেনটাইনের নামানুসারে দিনটির নাম ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ করা হয়। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি খ্রিস্টানবিরোধী রোমান সম্রাট গথিকাস আহত সেনাদের চিকিৎসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মৃত্যুর আগে ফাদার ভ্যালেনটাইন তার আদরের একমাত্র মেয়েকে একটি ছোট্ট চিঠি লেখেন, যেখানে তিনি নাম সই করেছিলেন ‘ফ্রম ইওর ভ্যালেনটাইন’। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মেয়ে এবং তার প্রেমিক মিলে পরের বছর থেকে বাবার মৃত্যুর দিনটিকে ভ্যালেনটাইনস ডে হিসেবে পালন করা শুরু করেন। যুদ্ধে আহত মানুষকে সেবার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সেন্ট ভ্যালেনটাইনকে ভালোবেসে দিনটি বিশেষভাবে পালন করার রীতি ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।ভ্যালেনটাইনস ডে সার্বজনীন হয়ে ওঠে আরও পরে প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে।

দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার পেছনে রয়েছে আরও একটি কারণ। সেন্ট ভ্যালেনটাইনের মৃত্যুর আগে প্রতি বছর রোমানরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পালন করত ‘জুনো’ উৎসব। রোমান পুরানের বিয়ে ও সন্তানের দেবী জুনোর নামানুসারে এর নামকরণ। এ দিন অবিবাহিত তরুণরা কাগজে নাম লিখে লটারির মাধ্যমে তার নাচের সঙ্গীকে বেছে নিত। ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা যখন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীতে পরিণত হয় তখন ‘জুনো’ উৎসব আর সেন্ট ভ্যালেনটাইনের আত্মত্যাগের দিনটিকে একই সূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘ভ্যালেনটাইনস ডে’ হিসেবে উদযাপন শুরু হয়। কালক্রমে এটি সমগ্র ইউরোপ এবং ইউরোপ থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।




জামায়াত আমিরকে প্রধান উপদেষ্টার বার্তা

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল অর্জন করায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

শনিবার এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত আমির বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরবর্তীতে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারপর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময় পর্যন্ত আপনার রাজনৈতিক শিষ্টাচার, সংযম, দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্তিপূর্ণ আচরণের আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার দল যে গঠনমূলক সমর্থন, পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করেছে, তার জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। বৈশ্বিক অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, জলবায়ু পরিবর্তন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আমাদের সামনে বহু চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুসংহত করতে হলে সরকার ও বিরোধী দল-উভয়েরই দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করি, আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি গঠনমূলক ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে জাতীয় সংসদ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে-এমনটাই আমাদের আকাঙ্ক্ষা।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আপনি অতীতে যে ভূমিকা রেখেছেন ভবিষ্যতের দিনগুলোতে তা অব্যাহত রাখবেন বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। জাতীয় ঐক্যই আমাদের শক্তি।

তিনি বলেন, আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আপনার ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক মঙ্গল কামনা করছি।’




তারেক রহমানকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বার্তা দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ— এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

‘পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক- এই কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

অভিনন্দন বার্তায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনার প্রজ্ঞা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণমুখী চেতনার আলোকে আপনি দেশকে একটি স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উন্নয়নমুখী পথে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি স্মরণ করছি আপনার পিতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও রাষ্ট্রদর্শন এবং আপনার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোসহীন নেতৃত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকারের কথা। তাদের আদর্শ ও মহান কর্ম আপনার আগামী দিনের চলার পথকে আলোকিত করবে বলে আমি একান্তভাবে আশা করি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক রূপান্তর, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু সহনশীলতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ— এসব ক্ষেত্রে সুসমন্বিত মেধা, মননশীলতা ও প্রজ্ঞার প্রয়োগ অপরিহার্য। আশা করি, আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালনকালে আপনার মূল্যবান সহযোগিতা ও গঠনমূলক ভূমিকার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পরিবর্তনের এই সংবেদনশীল সময়ে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখা, সহনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ক্ষেত্রে আপনার ইতিবাচক অবস্থান জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

‘পরিশেষে, দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আপনার সকল উদ্যোগ সফল হোক- এই কামনা করি। মহান আল্লাহ আপনাকে দেশ ও জাতির সেবায় প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করুন,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টা।




নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিনের নেতৃত্বে কমিশন অনুমোদন দেওয়ার পর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরিত গেজেট প্রকাশ করা হয়।

এবারের নির্বাচন ২৯৯ আসনে অনুষ্ঠিত হলেও গেজেট হয়েছে ২৯৭ আসনের। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে শেরপুর-৩ আসনে।

ইসি সচিব জানান, বেসরকারি ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নাম ও পরিচয় সম্বলিত অফিসিয়াল গেজেট প্রকাশ। গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই রেকর্ডসংখ্যক রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল এই নির্বাচনি লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ২৯ জন; যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ২৭৪ জন। নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন। এবারের নির্বাচনে মোট ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এদিকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি শুরু করেছে সংসদ সচিবালয়। বৈঠকে শপথের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুহূর্তটি সফলভাবে করতে প্রটোকল, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সেবার বিষয় অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো হয়েছে সব পরিকল্পনা।

গত বৃহস্পতিবার সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরে শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

এদিন ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪ শতাংশ। এ হার ২৯৭ আসনের প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। আর গণভোটে প্রদত্ত ভোটের হার ৬০.২৬ শতাংশ। ২৯৯ আসনের গণভোটের তথ্য একীভূত ফলাফলে এ হার।

ইসির তথ্যানুসারে, বিএনপি সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয় পেয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৭৭টি আসন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৭টি আসন এবং স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দল বাকি আসনগুলো লাভ করেছে।