আজ পহেলা বসন্ত

নুসরাত জাহানঃ পয়লা ফাল্গুন এলেই আমার ভেতরটা কেমন যেন দুলে ওঠে। মনে হয়, শীতের ধূসর ক্লান্তি মুছে কোথা থেকে এক অদৃশ্য হাত এসে জানালার পাল্লা খুলে দিয়েছে। বাতাসে হালকা উষ্ণতার ছোঁয়া, মাটির সোঁদা গন্ধ, আর অকারণ এক ভালো লাগা—এই নিয়েই যেন বসন্তের শুরু।

সকালে বাইরে বেরিয়ে দেখি, প্রকৃতি এখনো পুরোপুরি শীত ঝেড়ে ফেলতে পারেনি। কোথাও কুয়াশার স্মৃতি, কোথাও হিমেল হাওয়া। তবু আজকের দিনটা আলাদা। মনে হয়, অদৃশ্য কোনো বাঁশি বাজছে—‘বসন্ত এসে গেছে’। কবিগুরুর গান অকারণেই মনে ভেসে ওঠে, দখিন দুয়ার খুলে বসন্তকে ডাকতে ইচ্ছে করে। আবার কখনো মনে পড়ে সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের সেই উচ্চারণ—ফুল ফুটুক না ফুটুক, আজ বসন্ত। সত্যিই তো, সব ফুল না ফুটলেও, মন তো ফুটছে!

চারপাশে তাকালে দেখি, গাছের ডালে ডালে কচি পাতার আভাস। শীতের ক্লান্তিতে বিবর্ণ হয়ে থাকা জারুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়া—সবাই যেন প্রস্তুত হচ্ছে রঙে রঙে ভরে উঠতে। আম্রমুকুলের গন্ধ হালকা ভেসে আসে। মনে হয়, প্রকৃতি নিঃশব্দে সাজছে, একটু পরেই রঙের বিস্ফোরণ ঘটবে।

বসন্ত আমার কাছে শুধু ফুলের ঋতু নয়, অনুভূতিরও ঋতু। এই সময়টায় মন অকারণেই উচাটন হয়। হঠাৎ কাউকে খুব আপন মনে হয়, কারও পাশে দাঁড়ালেই ভালো লাগে। কচি পাতায় আলোর নাচন যেমন চোখে লাগে, তেমনি তরুণ হৃদয়ে লাগে দোলা। মনে হয়, জীবন আবার নতুন করে শুরু করা যায়।

কিন্তু বসন্ত মানেই শুধু প্রেম নয়—এ ঋতু আমাদের ইতিহাসও মনে করিয়ে দেয়। একুশের রক্তঝরা স্মৃতি, ভাষার জন্য আত্মত্যাগ—সবই তো এই সময়ের। বসন্তের রঙের সঙ্গে মিশে আছে সংগ্রামের রঙও। তাই বসন্ত এলে আমার মনে হয়, এ শুধু প্রকৃতির জাগরণ নয়, জাতিরও জাগরণ।

শহরের ব্যস্ত, যান্ত্রিক জীবনে হয়তো বসন্তের আবেশ আগের মতো তীব্র নয়। তবু আজ পয়লা ফাল্গুনে ঢাকার পথে পথে অনুষ্ঠান হবে, রঙিন পোশাকে তরুণ-তরুণীরা বের হবে, কোকিল ডাকবে পাতার আড়াল থেকে। আর আমি মনে মনে গুনগুন করে উঠব—মনেতে ফাগুন এলো।

বসন্ত আমার কাছে একসঙ্গে প্রেম আর প্রতিবাদের ঋতু। একটুখানি ছোঁয়া, একটুখানি কথা—এই দিয়েই আমি নিজের ভেতরে রচনা করি আমার ফাল্গুন। তাই আজও মনে হয়, যত ক্লান্তিই থাকুক, যত অনিশ্চয়তাই থাকুক—বসন্ত এলে জীবনকে আবার নতুন করে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে।




গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ

ডেস্ক নিউজঃ গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।

গেজেটে ফলাফলের দেখা গেছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ না ভোট।

এতে আরো দেখা গেছে, গণভোটে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ২৮৬টি। ভোট বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি এবং মোট ভোট ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের ওপর জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন ২৯৭ আসনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে। পরে এদিন রাতে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ২৯৭ আসনের গেজেট ঘোষণা করে ইসি।




রেকর্ড গড়ে দেশের নেতৃত্বে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি গঠনের পর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি প্রথম অংশগ্রহণ করে। ওই নির্বাচনে বিএনপি ২২০টি আসনে জয়লাভ করে। এরপর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে। ’৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ৬ষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ২৮৭টি আসনে জয়ী হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১১৬টি আসনে জয়লাভ করে। ২০০১ সালের ১ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ১৯৩টি আসনে জয়ী হয়। পিতা ও মায়ের রাজনৈতিক সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি আরেক নতুন রেকর্ড গড়ে তুলেছে। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রথম দায়িত্ব নিয়েই তিনি এই বিস্ময়কর রেকর্ড সৃষ্টি করলেন।

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক হয়ে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মুক্তি পান তারেক রহমান। এরপর চিকিৎসার জন্য ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি সপরিবারে লন্ডনে পাড়ি জমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মমতাময়ী মাকে হারান তারেক রহমান। গত ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে ছেড়ে জাগতিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে দিয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলাদেশের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। মাতৃ বিয়োগের কঠিন শোক কাটতে না কাটতেই জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব প্রদানের কঠিন চ্যালেঞ্জ হাতে নিলেন অপেক্ষাকৃত তরুণ এ রাজনীতিবিদ। নিজেও দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সমগ্র বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা চষে বেড়ালেন দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণায়। জীবনে প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানেই অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের সব ষড়যন্ত্র ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং মোকাবিলা করে দলের জন্য তিনি বয়ে আনেন এক অনন্য বিজয়। এবারের জাতীয় নির্বাচনে একমাত্র তিনিই দুটি আসনে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া- ৬) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুটিতেই রেকর্ড বিজয় অর্জন করেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে চলেছে। ফলে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়ে প্রথমবারেই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এই তরুণ-তুর্কি রাজনীতিক তারেক রহমান।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একজন অপেক্ষাকৃত তরুণ রাজনীতিক দেশের বাইরে থেকে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে নেতৃত্ব দিয়ে সুসংগঠিত করে সম্পূর্ণ নিজের ক্যারিশমায় দলকে সাফল্যের শিকড়ে তুলে নেওয়ার রেকর্ড গড়লেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে ধৈর্যের পরিচয় দানের ক্ষেত্রেও তিনি আরেক রেকর্ড নজির তৈরি করলেন। দেশিবিদেশি চক্রান্তসহ প্রতিপক্ষের শত উসকানি সত্ত্বেও তিনি নিজেও যেমন কোনো ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দেননি, তেমনি দলীয় নেতা-কর্মীদেরও এ ধরনের কোনো ফাঁদে পড়তে দেননি। সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের প্রতি অসীম ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দেন। যারা এ নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন- তাদের বিরুদ্ধে নিয়েছেন সাংগঠনিকভাবে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে নিজের দলের সাড়ে সাত হাজার নেতা-কর্মীকে শুধু অভিযোগের ভিত্তিতেই দল থেকে বহিষ্কার করে এক রেকর্ড সৃষ্টি করেন। তাঁর সবচেয়ে বড় পারফরমেন্স হলো- বিদেশে বসে তিনি শুধু নিজের দলের নেতৃত্বই দেননি- আগামী দিনের রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা সাজিয়েছেন তিনি। ৩১ দফা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, হেলথ কার্ডসহ মানুষের কর্মসংস্থান ও দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী করার বাস্তবমুখী নানান পরিকল্পনা নিয়ে দেশে ফিরেই বললেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান, আই হ্যাভ আ ড্রিম’। যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষের মাঝে প্রতিহিংসার উদ্ভব করলেও সারা দেশে জনসাধারণের মাঝে টনিকের মতো কাজ করেছে।

এসব কিছুর বাইরেও তারেক রহমান মানবিকতায় এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের জুলুম-নির্যাতনের মাঝেও। দেশের যেকোনো স্থানে কোনো মানুষ কিংবা পরিবারের কোনো সমস্যার কথা শোনা মাত্রই তিনি তাঁর দলের প্রতিনিধি পাঠিয়ে সমাধানমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। এজন্যে তাঁর নির্দেশনায় গঠিত ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামে একটি মানবিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতাও করে যাচ্ছেন। শুধু মানব সহযোগিতার মাঝেই তাঁর এই মানবিকতা সীমাবদ্ধ নয়, প্রাণী সেবায়ও তাঁর ভূমিকা এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের দিন রাজধানীর বনানীতে ‘অ্যানিম্যাল হসপিটালের’ উদ্বোধনই তার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজের নেতৃত্বে ভূমিধস বিজয় এনে সরকার গঠনের এক অনন্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি।




মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। বিএনপির এই মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সবার নজর এখন সেদিকে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোরালো আলোচনা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তাঁরা আশা করছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই শপথ পড়ানো হবে এবং দেশবাসী নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের মিশেলে। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদে তাঁরা জায়গা পাবেন। দল থেকে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়ভিত্তিক যাঁরা এক্সপার্ট, তাঁরাই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন। ঢাউস কোনো মন্ত্রিসভা করা হবে না বলে জানা গেছে।
নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যে যাত্রা শুরু হলো, তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সব রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে—এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই আমরা আমাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আমরা অক্ষর অক্ষরে পালন করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিকেলের (গতকাল শুক্রবার) মধ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করবে এবং তার পর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে। সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবেই হবে।’

তারেক রহমান এবার দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে তাঁর ওপর দলের গুরুদায়িত্ব বর্তায়। নিজের পরিশ্রম, মেধা দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে দেশের মানুষের মন জয় করে বিএনপিকে নিরষ্কুুশ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

নতুন সরকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল আলোচনায় আছেন।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজন আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর, জিয়া হায়দারসহ কয়েকজন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেলও আলোচনায় আছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটে শরিকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ কয়েকজন।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ ধরনের কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।




ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন সংশোধন

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ সংশোধন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। যা ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজ অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

তিনি বলেন, ‘যে দেশে একসময় টেলিকম আইনের নিবর্তনমূলক ধারার অপব্যবহার করে বেআইনি নজরদারি চালানো হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, এবং যার পরিণতিতে অসংখ্য গুম ও প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে- সেই দেশে টেলিযোগাযোগ আইনের এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সংশোধন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

ফাইজ তাইয়েব আহমেদের ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো-

নতুন যাত্রা: ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ আইনে ঐতিহাসিক সংশোধন

পর্বতসম দৃঢ়তা, অটল সংকল্প, অবিচল নিষ্ঠা এবং সর্বোচ্চ অঙ্গীকারের সমন্বয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ আইনে এক মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করেছে। এই সংশোধন কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়- এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ককে নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করানোর এক সাহসী পদক্ষেপ।

আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে-

১। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুরক্ষা: পূর্ববর্তী আইনে হেইট স্পিচকে সরাসরি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। সংশোধিত আইনে সেটি পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে। এখন কেবল তখনই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে, যখন বক্তব্যের সাথে সহিংসতা উসকে দেওয়ার সরাসরি সম্পর্ক থাকবে। নাগরিকের বাক্‌স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখাই এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য।

২। নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা প্রায় শতভাগ পুনর্বহাল: মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। ঘনঘন প্রদত্ত লাইসেন্স, পারমিট, এনলিস্টমেন্ট, ট্যারিফ পরিবর্তন, মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্টসহ অধিকাংশ কার্যকরী ক্ষমতা পুনরায় বিটিআরসি-র নিকট ন্যস্ত করা হয়েছে।

শুধুমাত্র জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ‘ওয়ান্স ইন এ টাইম’ লাইসেন্সের ক্ষেত্রে- স্বাধীন ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া যৌথ গবেষণার ভিত্তিতে মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার শর্ত রাখা হয়েছে।

৩। বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগনির্ভর এই খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সকল জরিমানা এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত বিনিয়োগকারীদের ডিউ-ডিলিজেন্স ও ফিজিবিলিটি মূল্যায়নে আর নেতিবাচক সংকেত দেবে না।
৪। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ: মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসি’র কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোয়াসি-জুডিশিয়াল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ করবে।

৫। সংসদীয় জবাবদিহি: নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির নিকট নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।

৬। ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ: এ আইনের সবচেয়ে ঐতিহাসিক দিক- বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষমতা আইনি কাঠামো থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাগরিকদের অধিকার ও সংযোগ, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিকতা এখন আইনি সুরক্ষা পেয়েছে।

৭। আন্তর্জাতিক মানের আইনসম্মত নজরদারি ব্যবস্থা: পূর্ববর্তী অস্বচ্ছ ও নিকৃষ্ট নজরদারি কাঠামোর পরিবর্তে (আর্টিকেল ৯৭ সংশোধন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ডসম্মত ল’ফুল ইন্টারসেপশন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে।

নজরদারিকে ‘জরুরি’ ও ‘অ-জরুরি’- এই দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রি-অ্যাপ্রুভাল ও পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ, কেস-বাই-কেস স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর, সময়সীমা নির্ধারণ, ইভেন্ট লগিং, অ্যাক্সেস কন্ট্রোল- এই সবকিছু স্পষ্টভাবে কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

যে দেশে এক সময় টেলিকম আইনের নিবর্তনমূলক ধারার অপব্যবহার করে বেআইনি নজরদারি চালানো হয়েছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, এবং যার পরিণতিতে অসংখ্য গুম ও প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে- সেই দেশে টেলিযোগাযোগ আইনের এমন মানবিক, দায়িত্বশীল ও ন্যায়ভিত্তিক সংশোধন নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক ঘটনা।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই মৌলিক সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে। এটি শুধু একটি আইনি পরিবর্তন নয়- এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি সাহসী পদক্ষেপ। এই মৌলিক সংস্কার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

প্রফেসর ড মুহাম্মদ ইউনূস, আপনাকে অভিনন্দন। অভিনন্দন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর টপ ম্যানেজমেন্টকে, যারা আন্তরিক সহযোগিতা না করলে এ মাইলফলক অর্জন সম্ভব হতো না।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের বৈঠক

ডেস্ক নিউজঃ ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে তারা সংস্কার এজেন্ডা এবং ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের জন্য সামগ্রিক প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।

ইইউ মিশন জানায়, ঐতিহাসিক সংসদ নির্বাচনের একদিন আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দল বৈঠক করে।

বৈঠকে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান  ইভার্স ইজাবস, ইউরোপীয় সংসদ প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস জেডেচোভস্কি ছাড়াও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য লুকাস ম্যান্ডল, লরান্ট ভিঞ্চে, লেইরে পাজিন, সার্বান দিমিত্রি স্টার্ডজা, মাইকেল ম্যাকনামারা, ক্যাটারিনা ভিয়েরা, বাংলাদেশে ইইউ রাষ্ট্রদূত  মাইকেল মিলার ও ইইএএসের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিষয়ক বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মার্টিন বিলে হারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন দীর্ঘমেয়াদি ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।  ২০০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলে  মিশনে ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরাও  যুক্ত রয়েছেন।




জাল ভোট দিলে যেসব শাস্তি হতে পারে

ডেস্ক নিউজঃ ভোটাধিকার গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি। কিন্তু জালিয়াতির মাধ্যমে এই অধিকার অপব্যবহার করা হলে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। বাংলাদেশে নির্বাচন ব্যবস্থার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাল ভোটকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

জাল ভোট প্রদান, অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া, ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা এ ধরনের কাজে সহায়তা করা— সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের হতে পারে এবং দোষ প্রমাণিত হলে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

নির্বাচনী অপরাধ দমনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। ফলে জাল ভোট কেবল অনৈতিক কাজ নয়; এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজের ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারেন।

জাল ভোট কী?

জাল ভোট বলতে এমন ভোটকে বোঝায়, যা প্রকৃত ভোটার নিজ ইচ্ছায় দেননি বা দিতে পারেননি। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে—অন্য কেউ কোনো ভোটারের পরিচয় ব্যবহার করে ভোট দেওয়া, ভোটার উপস্থিত না থাকলেও ব্যালট বা ইভিএমে ভোট পড়ে যাওয়া, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা, কিংবা একজন ব্যক্তির একাধিকবার ভোট প্রদান। সহজভাবে বললে, যেখানে ভোটারের স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা অনুপস্থিত, সেখানেই জাল ভোটের ঘটনা ঘটে।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জাল ভোটের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব অভিযোগ কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে অনাস্থা তৈরি করেছে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরেও জাল ভোটের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, জাল ভোট প্রতিরোধে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে তারা। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক মামলা, গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে কমিশন স্পষ্ট করেছে।

জাল ভোট দেওয়ার আইন ও শাস্তি

নির্বাচনী আইনে জাল ভোটকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৩ থেকে ৮৭ অনুচ্ছেদে- ভোটকেন্দ্রে বেআইনি আচরণ ও অপরাধের জন্য নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রে অনধিকার প্রবেশের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান আছে। ভোটের মাঠে দায়িত্বরত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম অপরাধ বিবেচনা করে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করবেন।

কী কী কাজ জাল ভোট হিসেবে গণ্য

  • গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ৭৪ অনুচ্ছেদে বলা আছে যদি কোনো ব্যক্তি কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনে সুবিধা প্রদান বা বাধাগ্রস্ত করিবার উদ্দেশ্যে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করেন বা সাহায্য গ্রহণ বা প্ররোচিত করার চেষ্টা করেন।
  • ভোট দেওয়ার যোগ্য নন বা অযোগ্য জানা সত্ত্বেও কোনো নির্বাচনে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • একই ভোটকেন্দ্রে একাধিকবার ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • একই নির্বাচনে একাধিক ভোট কেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বা ভোট প্রদানের জন্য ব্যালট পেপার চান।
  • ভোট চলাকালে কোনো ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার সরিয়ে ফেলেন।
  • জ্ঞাতসারে এসব কাজ করার জন্য কোনো ব্যক্তিকে প্ররোচিত করেন বা তার সাহায্য চান।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সারা দেশে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।




সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন ও ভোট কেন্দ্র ধুমপানমুক্ত ঘোষণা বরগুনা জেলা প্রশাসকের

রিপোর্ট – মৃধা বেলালঃ সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে বরগুনা-১ আসনের ৩১২ ভোটদান কেন্দ্রগুলোকে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করেছেন বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার। গত রবিবার এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন তিনি। এ গণবিজ্ঞপ্তি ওইদিন রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সর্বস্তরের মানুষ জেলা প্রশাসকের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
জানাগেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বরগুনা জেলায় দুইটি সংসদীয় আসন রয়েছে। এ সংসদীয় আসন দুটিতে সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে ভোটের দিন ৩১২টি ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে ধুমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বরগুনা জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তারের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ পোস্ট করেছেন। এতে জেলা প্রশাসনের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টদাতা বরগুনা প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ জাফর বলেন, ভালো উদ্যোগ। এর বাস্তবায়ন চাই।
আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি পরিতোষ কর্মকার বলেন, বরগুনা জেলা প্রশাসকের গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। এমন গণবিজ্ঞপ্তি সহসা দেখা যায় না। জেলা প্রশাসকের এমন মহতী উদ্যোগ সমাজে ভালো কিছু বয়ে আনবে। বরগুনা জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার তাছলিমা আক্তার বলেন, সুষ্ঠু, সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে এ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।



যমুনা সেতু থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি টাকা টোল আদায়

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চারদিনের ছুটিতে গ্রামে ছুটছে মানুষ। ফলে অতিরিক্ত পরিবহনের চাপ পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন যমুনা সেতু পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ১২ হাজার ৯৩৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫০ টাকা। অপরদিকে ঢাকাগামী ৩৬ হাজার ৯২৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় ২ কোটি ৮৭ লাখ ৭ হাজার ৬৫০ টাকা।

এ ব্যাপারে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার দিনের ছুটিতে উত্তরাঞ্চলসহ আশপাশের ২৩ জেলার মানুষ যাতায়াত করছে। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। মহাসড়কে যানজট এড়াতে বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে পুলিশ।




“লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই, তবুও লড়ছি”—নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে জি এম কাদেরের খোলামেলা বক্তব্য

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সারা দেশে এখন ভোটের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের নির্বাচনি পরিবেশ, দলীয় অবস্থান, পোস্টাল ব্যালট ও গণভোট নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন।

জি এম কাদের বলেন, রংপুর এলাকায় তারা মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে প্রচার চালাতে পারছেন এবং সদর আসনে আপাতত বড় কোনো বাধা দেখছেন না। তবে বগুড়ায় তাদের এক প্রার্থী নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তার দাবি, ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলাকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি হয়েছিল। অনেক কর্মীকে নাকি পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল—যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হতে পারে। জি এম কাদের অভিযোগ করেন, বর্তমানে গ্রেপ্তারের পর সহজে জামিন পাওয়া যায় না, বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়। এমনকি জামিন পেলেও আবার নতুন মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব কারণে কর্মীরা আতঙ্কিত, যা সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ নষ্ট করছে বলে তার বক্তব্য।

তিনি আরও বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়ায় নিরপেক্ষতা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি দল এনসিপি সক্রিয় রয়েছে এবং জামায়াত অনেক ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও সরকারি দলের প্রভাবমুক্ত নির্বাচন সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। অতীতে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টি এবার কোনো জোটে না গিয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ—দুই বড় দলই নানা কৌশলে জাতীয় পার্টিকে দুর্বল করেছে বলে তাদের অভিযোগ। মামলা, রাজনৈতিক চাপ, বাধা ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে দলকে কোণঠাসা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এবার প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা জনগণের কাছে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরছেন। বিশেষ করে নির্যাতিত, বঞ্চিত ও বৈষম্যের শিকার মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে জাতীয় পার্টিকে মানুষ গ্রহণ করছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আসনসংখ্যা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও জি এম কাদের জানান, এবার তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। শুধু শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, গোড়া থেকে সংগঠন শক্তিশালী করতেই তারা এককভাবে নির্বাচনে লড়ছেন। ফলাফল যাই হোক, এই নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান যাচাই করতে চান তারা।

পোস্টাল ব্যালট নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন জি এম কাদের। তার দাবি, এ ব্যবস্থায় কারচুপি বা ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচন কমিশনে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তাদের বিশেষজ্ঞরা এবং সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে তাকে অবহিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার জন্য বিএনপিকেও অবহিত করেছেন।

গণভোট প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির অবস্থান ‘না’-এর পক্ষে। জি এম কাদেরের ভাষ্য, এই গণভোটের উদ্দেশ্য ও প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ‘না’ ভোট জয়ী না হলে দেশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। তার মতে, এ মুহূর্তে গণভোটের প্রয়োজনীয়তা নেই এবং এটি দেশের জন্য অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে।