যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সংযোগ সেতু বন্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নবনির্মিত সংযোগ সেতুর উদ্বোধন আটকে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন তার উত্তরের প্রতিবেশী রাষ্ট্রটিকে যা কিছু দিয়েছে, তার জন্য ‘পূর্ণ ক্ষতিপূরণ’ না পাওয়া পর্যন্ত এই পদক্ষেপ বহাল থাকবে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয, সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “কানাডার অন্টারিও প্রদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সংযোগকারী গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুটি ততক্ষণ পর্যন্ত খুলবে না, যতক্ষণ না অটোয়া ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সেই ন্যায্য ও সম্মানজনক আচরণ করছে, যার দাবিদার আমরা’।”

প্রকল্পের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সেতুটির নির্মাণ ব্যয় সম্পূর্ণ বহন করছে কানাডা সরকার, তবে এটি কানাডা ও মিশিগান উভয় পক্ষের সরকারি মালিকানাধীন হবে।

ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এই উদ্বোধন আটকে দেবেন তা স্পষ্ট নয়। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে অবিলম্বে আলোচনা শুরু হবে। তবে তিনি এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

ডেট্রয়েট নদীর ওপর নির্মিত এই সেতুটি ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক পরীক্ষা ও অনুমোদনের পর যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৮ সালে এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘ দিন ধরে প্রকল্পটি দুই দেশের মধ্যে বিতর্কের বিষয় হয়ে রয়েছে। কানাডিয়ান সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজের তথ্যমতে, এই প্রকল্পে আনুমানিক ৬৪০ কোটি কানাডিয়ান ডলার খরচ হয়েছে।

সোমবার ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, এই সম্পদের ‘অন্তত অর্ধেক মালিকানা’ যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমানে কানাডা সেতুর উভয় পাশ নিয়ন্ত্রণ করছে।

ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা সরকার আশা করে যে, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের কেবল ‘আমেরিকার সুবিধা নেওয়ার’ অনুমতি দেব! আমি এই সেতুটি খুলতে দেব না যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্রকে সবকিছুর জন্য পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে।”

ট্রাম্প সোমবার দুই দেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য বিরোধের কথা উল্লেখ করে বলেন, “কানাডা আমাদের দুগ্ধজাত পণ্যের ওপর অনেক বছর ধরে যে শুল্ক আরোপ করে রেখেছে, তা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে গত মাসে কানাডার স্বাক্ষরিত একটি বাণিজ্য চুক্তির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অটোয়ার জন্য ‘চরম বিপদ ডেকে আনবে’। তিনি বিদ্রূপ করে বলেন, চীন কানাডায় প্রভাব খাটিয়ে তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ‘আইস হকি’ বন্ধ করে দেবে এবং বিখ্যাত ‘স্ট্যানলি কাপ’ টুর্নামেন্ট চিরতরে মুছে ফেলবে।

গর্ডি হাউ আন্তর্জাতিক সেতুর পার্শ্ববর্তী অ্যাম্বাসেডর সেতুর মালিক মার্কিন মোরউন পরিবার ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই নতুন সেতুর নির্মাণ বন্ধ করার আবেদন করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, এটি তাদের টোল আদায়ের একচেটিয়া অধিকারে বাধা সৃষ্টি করছে। তবে সে সময় ট্রাম্প এবং কানাডার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছিলেন, এই সেতুটি দুই দেশের মধ্যে একটি ‘অপরিহার্য অর্থনৈতিক যোগসূত্র’।

বিবিসি জানায়, ট্রাম্পের বর্তমান হুমকির বিষয়ে কানাডার সেতু কর্তৃপক্ষ, অন্টারিওর প্রিমিয়ারের কার্যালয় বা ডেট্রয়েটের মেয়রের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: আল-জাজিরা, বিবিসিসিএনএন




মত বদলে ভারতের সঙ্গে খেলতে রাজি পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ অবশেষে পাকিস্তানের মত বদল। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান।

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আর নানা টানাপোড়েনের জেরে শুরুতে ম্যাচটি বয়কটের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান সরকার। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল আইসিসি এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি।

সোমবার রাতে পাকিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, খেলাধুলার চেতনা সমুন্নত রাখতে এবং বিশ্ব ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও শ্রীলঙ্কাও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুঢ়া কুমারা দিশানায়েকে এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের মধ্যকার আলোচনার পর জট খুলতে শুরু করে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তান বর্তমানে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো কৃতজ্ঞতাকেও তারা ইতিবাচকভাবে দেখছে। পাকিস্তান সরকার আশা প্রকাশ করেছে, তাদের ক্রিকেটাররা জাতীয় গৌরব আর খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা নিয়েই মাঠে নামবে।

সূত্র: খালিজ টাইমস




নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত

ডেস্ক নিউজঃ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিগত আমলের নির্বাচনগুলোকে ‘ফেক’ ও ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে আসন্ন নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও ঐতিহাসিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গতকাল সোমবার প্রায় ৭০ জন সচিবের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের মাত্র দুই দিন আগে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এসব তথ্য জানান।

প্রেস সচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের অতীত চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেগুলো প্রকৃত নির্বাচন ছিল না, বরং ছিল এক ধরনের মকারি। সব কটিই ছিল ভুয়া নির্বাচন। তিনি সচিবদের আশ্বস্ত করেন, এবারের নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি, প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছি। এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনবে।’

প্রধান উপদেষ্টা এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তেমনি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্তি দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষকের আগমনকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রেস সচিব জানান, প্রধান উপদেষ্টা বিগত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেগুলোকে ‘প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেন। ড. ইউনূস বলেন, শেখ হাসিনার আমলের নির্বাচনগুলোর কোনো জনভিত্তি ছিল না এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যবেক্ষকরাও তখন আসেননি। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণায় বড় কোনো উত্তেজনার খবর নেই। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল আচরণ করছে এবং শান্তিপূর্ণভাবে গণসংযোগ চালাচ্ছে।

নির্বাচনকে আরো স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের কথাও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। ভোটারদের সুবিধার জন্য ‘নির্বাচন’ ও ‘নির্বাচন বন্ধু’ নামের দুটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে। তাঁর আশা, প্রযুক্তির এই ব্যবহার এবারের নির্বাচনকে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।

আসন্ন গণভোট প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় পরিবর্তন আসবে।

প্রেস সচিব জানান, গত ১৮ মাসে রাষ্ট্র সংস্কারে সচিবদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা। এই সময়ে প্রায় ১৩০টি জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। এসব কাজ দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সচিবরা যে আন্তরিকতা ও পেশাদারি দেখিয়েছেন, সে জন্য তিনি তাঁদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টা সচিবদের সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে অংশ নেন।

জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য ‘যুগান্তকারী’ : জাপানের সঙ্গে সদ্য স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তিকে (ইপিএ) বাংলাদেশের জন্য ‘যুগান্তকারী’ বলে অভিহিত করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তাঁর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ৬ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই ইপিএ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন। প্রধান উপদেষ্টা এই চুক্তিকে যুগান্তকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এই চুক্তির ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।

শফিকুল আলম বলেন, এই ইপিএ চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের প্রায় সাত হাজার ৪০০ পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এর ফলে বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন, উৎপাদন ও রপ্তানি আরো সহজ হবে।

‘সম্ভবত আজই শেষ প্রেস কনফারেন্স’ : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গতকাল বলেন, ‘আজকেরটাই সম্ভবত শেষ ব্রিফিং। আমি ক্ষমাপ্রার্থী, যদি আমার আচরণে আপনারা কেউ ব্যথিত হয়ে থাকেন, একদম হৃদযন্ত্রের অন্তস্তল থেকে বলছি, আমি আপনাদের কাছে সরি।’

শফিকুল আলম বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দু-একজন উপদেষ্টা ছাড়া অন্য সবাই সম্পদের হিসাব দিয়েছেন। তাঁদের সম্পদের তথ্য শিগগিরই জানা যাবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩৩০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার কথা উল্লেখ করেন উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে সর্বোচ্চ ২১১ জনের মতো পর্যবেক্ষক আসছেন।

‘দেশের ফরেন পলিসি বর্গা দেওয়া হয়েছিল’ : প্রেস সচিব বলেন, আগে বাংলাদেশের ফরেন পলিসি এক দেশের প্রভাবাধীন ছিল। এখন সেটিকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চীন, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে ভালো রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষকদল পাঠাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভারতের গণমাধ্যমের সমালোচনা করে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাসে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রত্যাশিতভাবে এগোয়নি, যার একটি বড় কারণ ছিল ভারতীয় মিডিয়ার ছড়ানো ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।

সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প নিয়ে কাজ চলছে এবং চীন বর্তমানে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করছে, যা সময়সাপেক্ষ।

সংস্কার প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করা একটি বড় সংস্কার। গণমাধ্যম যেন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করেছে এবং বক্তব্যসংক্রান্ত সব মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ভোটের আগে জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা ভাষণ দেবেন বলে জানান তিনি।




নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক: ইইউ’র প্রধান পর্যবেক্ষক

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ খুবই ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান ইভারস আইজাবস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো জানিয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, স্বল্প মেয়াদি ইইউ পর্যবেক্ষকরা আজ থেকে মাঠে থাকবেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ খুবই ইতিবাচক। যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার। তবে, মোটা দাগে পরিবেশ আশাব্যঞ্জক।

ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের প্রধান বলেন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে ইইউ, যেখানে সংখ্যালঘু ও নারীর অংশগ্রহণ থাকবে।




ভোটের দিন পাঁচ ধরনের যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, চলবে যেসব

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে যানবাহন চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে সরকার। এ বিষয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বিধিনিষেধের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩২ ধারা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের দিন বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত  টানা ২৪ ঘণ্টা।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাত ১২টা থেকে ভোট গ্রহণের পরদিন শুক্রবার মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত মোটরসাইকেল চলাচলে বাধা নেই।

ইসি জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন (ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন) চলবে। আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর থেকে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন) চলতে পারবে।

ইসি আরও জানিয়েছে, দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য যেকোনো যানবাহন চলতে পারবে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনী এজেন্টের (যথাযথ নিয়োগপত্র/পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) জন্য একটি গাড়ি (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি ছোট আকৃতির যানবাহন) রিটার্নিং কর্মকর্তার অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।

সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন/রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে বলেও উল্লেখ করেছে ইসি। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা এবং আন্তঃজেলা বা মহানগরে প্রবেশ ও বের হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়।

এদিকে ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (এমটিসিএল) জানিয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার্থে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে।




নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শেষ

ডেস্ক নিউজঃ ভোটার ও প্রার্থীদের নানামুখী উত্সাহ-উদ্দীপনা এবং পারস্পরিক নানা অভিযোগের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা। প্রচার-প্রচারণা শেষে এখন জয়-পরাজয়ের সমীকরণ মেলাতে ব্যস্ত প্রার্থীরা। ইতিমধ্যে ভোটের মাঠ এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার নির্বাচনপূর্ব জরিপে বেশির ভাগ আসনে প্রার্থীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ভোট নিয়ে এতসব ব্যস্ততার মধ্যেও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নানান অভিযোগ নিয়ে আসছেন রাজনৈতিক দলগুলো। গতকাল সোমবার জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ করে নানান অভিযোগ জানান। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও করেছেন অভিযোগ। অন্যদিকে ইসিও বসে নেই। নির্বাচনে সারা দেশের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করার অভিযোগে ২৫৯টি মামলা দায়ের ও ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৯৫০ টাকা জরিমানা করেছেন। এদিকে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু করতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণের পর দিন বিকাল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থানের ওপর বিধিনিষেধ জারি করেছে ইসি। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অবস্থান করতে পারবে না। একই সময়ে কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকেরা মিছিল, শোডাউন বা জনসভাও করতে পারবেন না।

এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিলেও পরবর্তীকালে সাংবাদিকদের তোপের মুখে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ইসি। ভোটগ্রহণের দিন বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি এবং সরকার। এ সময়ে সংস্কারকাজে কোথাও টেলিযোগাযোগ সেবা বিঘ্নিত না করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দুই ঘণ্টা পরপর প্রদত্ত ভোটের হার নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সিস্টেমে আপডেট দেওয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারদের নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

১১ দলীয় জোটের পক্ষে সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ভোটকেন্দ্রে বিএনসিসি রাখা প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রতি ইলেকশনে বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করেন। ওনারা বলেছেন যে, এই ব্যাপারে আরপিওতে কিছু বিধিবদ্ধ বিষয় আছে। তার পরও চূড়ান্তভাবে ওনারা করেননি। এটাকে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তারা বিষয়টি ভাববেন। আমরা বলেছি যে, এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। যেহেতু জনগণের ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে এবং গত তিনটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারার কারণে মানুষের স্বাভাবিকভাবে আবেগ-আগ্রহ এবং উত্সাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি পারা যায় সাপোর্টিং এসব ফোর্সকে দেওয়া উচিত। যাতে সুন্দর শান্তিপূর্ণ নির্বাচনটা নিশ্চিত হয়।’ এ ব্যাপারে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ফজলে বারী মাসুদ বলেছেন, ‘৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়েছে। এটি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ হতে পারে। একটি দল জাল ভোট দিতে গিয়ে সিলসহ ধরা পড়েছে। এটি নিয়ে ইসিকে শঙ্কা জানাই। নির্বাচনী আচরণবিধি আমাদের দল পালন করেছে। অন্য রাজনৈতিক দল সেটি অনুসরণ করেনি।’ অন্যদিকে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে নির্বাচনী আমেজ নষ্টের অপপ্রয়াস দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভিপি সাদিক কয়েম। সাদিক কায়েম বলেন,  ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি তরুণ ভোটার আছেন, তাদের কথাগুলো বলতে এসেছি। নির্বাচনের আমেজকে নষ্ট করার জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রয়াস ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেই ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে আমাদের কনসার্নগুলো জানার জন্য এসেছি।’

সিইসির সঙ্গে দেখা করে কাদের সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উত্সাহ এবং উদ্দীপনা দেখা যায়, তা তিনি রাস্তাঘাটে অনুভব করতে পারছেন না। রাস্তাঘাটে মানুষের উত্সাহ খুবই কম। নির্বাচনে কোথাও জামায়াত এবং কোথাও বিএনপি খুবই শক্তি খাটাবার চেষ্টা করেছে। নির্বাচন কমিশন তার অভিযোগ শুনেছেন। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগত অবস্থানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে ইসি জানিয়েছে—গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রভাবমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্বাচনী কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, নির্বাচন কমিশনের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা বা ভোটার ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে ভোটগ্রহণ সমাপ্তির ২৪ ঘণ্টা পর অর্থাত্ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করা যাবে না।

এদিকে ভোট গ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।

বিমান বাহিনীর ড্রোন থেকে ভোটের মাঠ লাইভ দেখবে ইসি ও সরকার :নির্বাচনে বিমান বাহিনীর ড্রোনের মাধ্যমে ভোটের পরিস্থিতি লাইভ পর্যবেক্ষণ করবে ইসি। একই সঙ্গে ড্রোনের লাইভ ফিড দেওয়া হবে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়েও। নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী তাদের নিজ নিজ ড্রোন ভোটের মাঠে ওড়াবে। ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম ইতিমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক চিঠি পাঠিয়েছেন।




দুই ঘণ্টা পরপর প্রদত্ত ভোটের হার জানাবে ইসি

ডেস্ক নিউজঃ গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের দিন দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের হার জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ লক্ষ্যে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা পাঠাতে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটের দিন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ইএমএস) লগইন করে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে দুই ঘণ্টা পরপর ভোটের সংখ্যা এন্ট্রি করবেন।

ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ভোটের সংখ্যা এন্ট্রি করার পর সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তা যাচাই করে অনুমোদন দেবেন। অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কপ্ট ড্যাশবোর্ডে’ ওই তথ্য দেখা যাবে।




ভেজাল আয়ুর্বেদ–ইউনানি ঔষধে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি: আই,কে গ্রুপের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ দেশে সরকার পরিবর্তনের পর জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও প্রশাসনিক দুর্নীতি বন্ধে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই হতাশাজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঔষধ খাতে অনিয়ম ও ভেজাল কারবার বন্ধে যে কঠোর অবস্থানের কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে—সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠছে। এমন প্রেক্ষাপটে আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড ও আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ নতুন করে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড (উৎপাদন লাইসেন্স নং আয়ু-০৮৬, ঢাকা) এবং আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি) (উৎপাদন লাইসেন্স নং ২৯৮, ঢাকা) বাংলাদেশ জাতীয় আয়ুর্বেদিক ফর্মুলারী ও জাতীয় ইউনানি ফর্মুলারী অনুসরণ না করেই দীর্ঘদিন ধরে ঔষধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছে। বলা হচ্ছে, অনুমোদিত ফর্মুলা উপেক্ষা করে নিজেদের মতো করে রং, ফ্লেভার ও বিভিন্ন কেমিক্যাল মিশিয়ে এসব ঔষধ প্রস্তুত করা হচ্ছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এসব ঔষধ দেখতে আকর্ষণীয় করতে চটকদার নাম, লেবেল ও মোড়ক ব্যবহার করা হলেও গুণগত মান ও নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। ভয়াবহ বিষয় হলো—এই পুরো প্রক্রিয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নথি ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বে থেকেও চোখ বন্ধ করে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তালিকায় একজন পরিচালক, উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক, উচ্চমান সহকারী এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম জড়িত থাকার কথা বলা হচ্ছে।

আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের যেসব পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কামিনী বিদ্রাবণ রস (হালওয়া), শুক্রসুধা (হালওয়া), বৃহৎচন্দ্রোদয় মকরধ্বজ ট্যাবলেট, আইকে আমলকি রসায়ন, আইকে দশমূলারিস্ট, আইকে রোজ ভিট, সরবত তুলসী, আইকে গোল্ড ট্যাবলেট এবং আইকে অর্জুনারিস্ট সিরাপ। অন্যদিকে আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে আরক ডাইকোপ্লেক্স (ফওলাদ সাইয়াল), আরক ডাইকোপ্লেক্স গোল্ড (ফওলাদ সাইয়াল) সিরাপ, নাইট্রিন (জিরিয়ানী), কার্ডিফেক্স সিরাপ, আইকে ভিট সিরাপ, আইকে জিনসিন (শরবত জিনসিন) এবং বাসক সিরাপ।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, আইকে জিনসিন (শরবত জিনসিন) সিরাপে যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রার উপাদান হিসেবে পরিচিত সিলডেনাফিল সাইট্রেট ব্যবহার করা হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে আইকে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেডের শুক্রসুধা ও কামিনী বিদ্রাবণ রস নিয়েও। এসব আয়ুর্বেদ ও ইউনানি ঔষধে এমন কেমিক্যাল ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া আইকে ভিট সিরাপে গবাদি পশু মোটা-তাজাকরণে ব্যবহৃত কেমিক্যাল ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে, যা মানুষের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঔষধ খেলে তাৎক্ষণিকভাবে শরীরে উত্তেজনা বা শক্তি অনুভূত হলেও দীর্ঘমেয়াদে যৌন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া, হরমোনজনিত সমস্যা, লিভার ও কিডনি বিকল হওয়া এবং হৃদযন্ত্রের জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি এসব কেমিক্যাল নিয়মিত গ্রহণে ধীরে ধীরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

আরও উদ্বেগজনক দিক হলো—এই তথাকথিত শক্তিবর্ধক ও যৌন উত্তেজক ঔষধের সহজলভ্যতার কারণে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া কিশোর-কিশোরীরাও এসবের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য জীবনে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত আই,কে আয়ুর্বেদিক ঔষধালয় লিমিটেড ও আই,কে ল্যাবরেটরীজ (ইউনানি)-এর বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর্থিক ও অন্যান্য অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এসব প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘদিন ধরে রক্ষা করে আসছেন। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ভেজাল ও ঝুঁকিপূর্ণ ঔষধ সেবন করছে, যার দায় শেষ পর্যন্ত কেউ নিচ্ছে না।

জনস্বার্থে সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এখন দ্রুত স্বাধীন তদন্ত, দোষীদের শনাক্তকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রশ্ন—জনস্বাস্থ্য নিয়ে এই প্রকাশ্য ছিনিমিনি আর কতদিন চলবে, আর ভেজাল ঔষধে প্রাণহানির দায় শেষ পর্যন্ত কার কাঁধে পড়বে?




থাইল্যান্ডের উপকূলে চট্টগ্রামগামী জাহাজডুবি, ১৬ বাংলাদেশি নাবিক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজঃ মালয়েশিয়া থেকে কন্টেইনার ভর্তি পণ্য নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি জাহাজ ডুবে গেছে। দুর্ঘটনাস্থলের কাছে থাকা একটি মাছ ধরার নৌযান ও থাই নেভির একটি দল জাহাজটিতে থাকা ১৬ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করেছে।

শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে বাংলাদেশি নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। থাইল্যান্ডের অনলাইন সংবাদমাধ্যম দ্য ফুকেট নিউজ আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’। জাহাজটির দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার।

৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর থেকে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। রওনা দেওয়ার দুই দিনের মধ্যেই থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। জাহাজটিতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের ২৯৭ একক কনটেইনার পণ্য ছিল। এর মধ্যে ১৪টি কনটেইনারে বিপজ্জনক পণ্য রয়েছে।

জাহাজটির বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেন বলেন, ফুকেট উপকূল থেকে চার নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ক্যাপ্টেন জাহাজটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। নাবিকদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই সুস্থ আছেন।




পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

ডেস্ক নিউজঃ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে পাবনা-৫ আসনে (সদর) ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে তিনি এ ভোট দেন। রাষ্ট্রপ্রধানের সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে যে ভোট দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, তার পদ্ধতি ছিল প্রথাগত।

এবারই নির্বাচন কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটের পদ্ধতি চালু করেছে। এক্ষেত্রে অনলাইনে নিবন্ধন সেরে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে।

নতুন পদ্ধতিতে কারাগার থেকে ইতোমধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আমলা, পুলিশ, সাংবাদিকসহ ২০ জন ভোট দিয়েছেন।