বরিশালে তারেক রহমানের জনসভা, নেতাকর্মীদের ঢল

ডেস্ক নিউজঃ বরিশালে বাড়ছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল। দীর্ঘ ২০ বছর পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশাল আগমনকে ঘিরে সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠ ও আশপাশের এলাকায় জনসমাগম ক্রমেই বাড়ছে। সড়ক ও নৌপথে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হচ্ছেন।

মাঠজুড়ে বিরাজ করছে সাজ সাজ রব। বেলুন, ধানের শীষ প্রতীক ও দলীয় রঙে সাজানো হয়েছে বেলস পার্ক মাঠ। ব্যানার–ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে।

বুধবার দুপুর ১২টায় এখানে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই সমাবেশে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও মিত্র জোটের প্রার্থীরা উপস্থিত থাকবেন।

ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন নেতাকর্মীরা। অনেকেই ফজরের নামাজ শেষে মাঠে অবস্থান নেন। নারী নেতাকর্মীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগান নিয়ে মাঠে প্রবেশ করছেন।

ঝালকাঠি থেকে আসা ছাত্রনেতা আসিফ আল ইমরান বলেন, দীর্ঘদিন পর নেতা বরিশালে আসছেন,তরুণদের প্রত্যাশার প্রতিফলন আজকের জনসমাগম।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে নৌপথে আসা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মজিবর মোল্লা বলেন, কষ্ট হলেও গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনে সবাই মাঠে আছে।

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া থেকে আসা মহিলা দলের কর্মী নাজমা বেগম বলেন, নারীরাও এই আন্দোলনের অংশ,শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর বাংলাদেশের প্রত্যাশা নিয়েই তারা সমাবেশে এসেছেন।

সমাবেশস্থলে প্রস্তুতিও সম্পন্ন। মাঠের উত্তর পাশে বড় মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। নারী নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরো এলাকা তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তারেক রহমানের বরিশাল আগমন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার বহিঃপ্রকাশ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে তারা পরিবর্তন ও গণতন্ত্র চায়।

উল্লেখ্য, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বেলস পার্ক মাঠে সর্বশেষ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জনসভা করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ ১৬ বছর পর একই মাঠে তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।




কুরিয়ার ব্যবসা থেকে কথিত শত কোটি টাকার মালিক: বেনাপোলের কামাল হোসেনকে ঘিরে যত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান ও অবৈধ পণ্য পাচারের যে অভিযোগ শোনা যায়, সেই আলোচনায় বারবার উঠে আসছে এক নাম—কামাল হোসেন। স্থানীয় সূত্র ও ব্যবসায়ী মহলের দাবি, এক সময় সাধারণ কুরিয়ার এজেন্ট হিসেবে কাজ করা এই ব্যক্তি বর্তমানে কথিতভাবে শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

জানা যায়, কর্মজীবনের শুরুতে কামাল মোবাইলের লোড ও ছোটখাটো ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বেনাপোল কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিসের বেনাপোল অফিসের দায়িত্ব নেন। অভিযোগ রয়েছে, এই কুরিয়ার সার্ভিস ব্যবহার করেই ধীরে ধীরে চোরাচালান পণ্য পারাপারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখান থেকেই কামালের উত্থান শুরু।

কামাল হোসেন বেনাপোল ৫ নম্বর দিঘীরপাড় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হক খোকেনের ছেলে। এলাকাবাসীর দাবি, যিনি একসময় নুন আনতে পানতা ফুরানোর অবস্থায় ছিলেন, তিনিই আজ বেনাপোল কাগজপুকুর এলাকায় বিলাসবহুল মার্কেট, দিঘীরপাড়ে আলিশান বাড়ি, যশোর শহরে একাধিক জমি ও ফ্ল্যাটের মালিক। দামি গাড়িতে চলাফেরা করাও তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের চাপ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কামাল সাংবাদিকতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা সীমিত হলেও বড় অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তিনি দেশের বহুল প্রচারিত দৈনিক যুগান্তর ও যমুনা টিভির বেনাপোল প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিতি পান। তার বিরুদ্ধে ভুয়া ও জাল সার্টিফিকেট ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বর্তমানে তিনি নাভারণ কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএ কোর্সে অধ্যয়নরত, যার রোল নম্বর ২০-০-২৩-৯২৫-০০৫।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে জানান, সাংবাদিক পরিচয়ের ছত্রচ্ছায়ায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই ছিল তার মূল কৌশল। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এই নীরব চাঁদাবাজির মাধ্যমেই অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হন কামাল—এমনটাই দাবি স্থানীয়দের।

আরও অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকতার আড়ালে কামালের স্মাগলিং ও হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গেও সম্পৃক্ততা রয়েছে। বেনাপোল সীমান্ত এলাকার একাধিক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার সখ্যতার কথাও উঠে এসেছে। কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস পরিচালনার সময় চোরাচালানি চন্দন কাঠ বহনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিজিবির মামলা রয়েছে বলেও জানা যায়।

কাস্টমস ও স্থলবন্দরের একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বেনাপোল কাস্টম হাউসে পণ্য খালাসকে কেন্দ্র করে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের সঙ্গে কামালের নাম জড়িত। সম্প্রতি একটি পার্টসের চালান আটক হওয়ার পর তা ছাড় করাতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া শরিফুল নামের এক ব্যবসায়ীর পণ্য বিশেষ সুবিধায় খালাস করিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কথাও আলোচনায় এসেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী জানান, বেনাপোল স্থলবন্দরে সাংবাদিক পরিচয়ধারী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির একটি বলয় তৈরি হয়েছে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও এসব সিন্ডিকেটের মধ্যে পারস্পরিক যোগসাজশে সৎ কর্মকর্তারা চাপে পড়েন, আর বাধা দিলেই তাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সংবাদ প্রকাশ করা হয়—এমন অভিযোগও রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সাংবাদিকতার মতো পেশায় যেখানে স্বাভাবিকভাবে সংসার চালানো কঠিন, সেখানে দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যবসা ছাড়াই কামালের বিপুল সম্পদের উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা দুদকসহ সরকারি গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত ও অবৈধ সম্পদের হিসাব চেয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কামাল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগ সম্পর্কে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




রমজানে সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও মাংস বিক্রি করবে সরকার

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সাধারণ জনগণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাসব্যাপী সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, গরুর মাংস ও ড্রেসড ব্রয়লার বিক্রি করবে সরকার।

মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো: মামুন হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাংস, ডিম ও দুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে রবিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার।

সভায় বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, রমজানের আগের দিন থেকে ২৫ রমজান পর্যন্ত মোট ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রেসড ব্রয়লার, দুধ, ডিম ও গরুর মাংস সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হবে। এ কর্মসূচির আওতায় ড্রেসড ব্রয়লারের মাংস প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, পাস্তুরিত দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা, ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা এবং গরুর মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকায় ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।

সভায় আরো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়-প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভাগীয় পরিচালক ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাগণ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ঢাকা শহরের বাইরে অন্যান্য বিভাগীয় ও জেলা শহরেও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস ও ব্রয়লার বিপণনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। সুলভ মূল্যে প্রাণিজ পণ্য বিক্রির জন্য জনগণের চাহিদা বিবেচনায় ঢাকা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রাথমিকভাবে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

প্রস্তাবিত স্থানসমূহ হলো-সচিবালয়ের পাশে (আব্দুল গনি রোড), খামারবাড়ি (ফার্মগেট), ষাটফুট রোড (মিরপুর), আজিমপুর মাতৃসদন, নয়াবাজার (পুরান ঢাকা), উত্তরা হাউজ বিল্ডিং, রামপুরা বাজার, হাজারীবাগ, আরামবাগ (মতিঝিল), কালশী (মিরপুর), মানিক নগর গলির মুখ (যাত্রাবাড়ী), শাহজাদপুর (বাড্ডা), কড়াইল বস্তি (বনানী), কামরাঙ্গীরচর, খিলগাঁও (রেল ক্রসিং দক্ষিণ), নাখালপাড়া (লুকাস মোড়), সেগুনবাগিচা (কাঁচা বাজার), মোহাম্মদপুর (বাবর রোড), মোহাম্মদপুর (বসিলা), কাকরাইল, বনশ্রী, মিরপুর-১০, কল্যাণপুর, তেজগাঁও এবং পুরান ঢাকা (বঙ্গবাজার)।

এছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ বিক্রয়ের জন্য স্থায়ী স্পট নির্ধারণের মাধ্যমে বিক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি করা হবে।




দেশে এসেছে ২ লাখ ৯৭ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫০টি পোস্টাল ব্যালট বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান এ তথ্য জানান।

সালীম আহমাদ খান জানান, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসীদের কাছে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮০ জন প্রবাসী তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন এবং ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭০৭ জন ইতোমধ্যে ভোটদান সম্পন্ন করেছেন।

এ ছাড়া ৪ লাখ ২৩ হাজার ৭১২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বিভাগে জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৬ হাজার ৪২টি ব্যালট ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তারা বুঝে পেয়েছেন।

বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের ভেতরে ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৬৮ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ৯৬ হাজার ৬৩২ জন ভোট দিয়েছেন এবং ৭০ হাজার ৮১০ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৬৫৫টি ব্যালট গ্রহণ করেছেন।

সালীম আহমাদ খান আরো জানান, এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।




তাপমাত্রা নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

আবহাওয়া ডেস্কঃ সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। মঙ্গলবার এমন পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম জানিয়েছেন, বুধবার সকাল পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

বুধবার সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারী ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে সামান্য কমতে পারে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা।




চালকদের বদঅভ্যাসের কারণেই দেশে শব্দদূষণ বাড়ছে : পরিবেশ উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছেন, অযথা হর্ন বাজানো শুধু বিরক্তিকর নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

তিনি আরও বলেন, চালকদের বদঅভ্যাসের কারণেই দেশে শব্দদূষণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শিক্ষা চত্বরে ঢাকা মহানগর পুলিশ আয়োজিত হর্ন বাজানো ও শব্দদূষণ প্রতিরোধ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তিনি জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শব্দদূষণ রোধে একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যা আগে কোনো সরকার করেনি। এ আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পরিবেশ উপদেষ্টা আরও বলেন, ঢাকার যেসব এলাকা নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো নির্বাচনের পর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে।

অযথা হর্ন বাজানো বন্ধে জরিমানা ও শাস্তির আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা গেলে শব্দদূষণ এবং অপ্রয়োজনীয় হর্ন বাজানো অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।




শবে বরাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শবে বরাত উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে বরাত। হিজরি সনের শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী রাত শবে বরাত হিসেবে পালন করে থাকেন মুসলমানরা।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশসহ বিশ্বের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মুহাম্মদ ইউনূস তার বার্তায় বলেন, পবিত্র শবে বরাত আমাদের জীবনে রহমত, মাগফেরাত ও আত্মিক পরিশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। হাদিসে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষভাবে ক্ষমা করেন। তাই এ রাতকে সৌভাগ্যময় রজনী হিসেবে বিশ্বাস করা হয়।

ড. ইউনূস বলেন, মহিমান্বিত এই রাতে আমরা ইবাদত-বন্দেগি, দান-সদকার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভ করতে পারি। আত্মসমালোচনা ও তওবার মাধ্যমে জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং গুনাহ থেকে পরিশুদ্ধ হওয়ার প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা অর্জন করতে পারি আল্লাহ তায়ালার অসীম অনুগ্রহ, বরকত ও মাগফেরাত।

তিনি বলেন, আসুন, পবিত্র শবে বরাতকে আল্লাহর রহমত লাভের এক অসাধারণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণে প্রার্থনা করি এবং মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। সব অন্যায়, অবিচার, অনাচার ও কুসংস্কার পরিহার করে শান্তির ধর্ম ইসলামের অনুপম সৌন্দর্যে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনকে আলোকিত করি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ আমাদের সবাইকে ক্ষমা ও হেফাজত করুন।




আমলারা প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী: আসিফ নজরুল

ডেস্ক নিউজঃ আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর সমালোচনা করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, আমলারা বাংলাদেশে প্রকৃতিগতভাবে সংস্কারবিরোধী। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘এটা উনাদের ব্যক্তি হিসেবে দোষ, নাকি আমাদের সিস্টেমের দোষ, আমি জানি না।’

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে আয়োজিত একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান–এর লেখা ‘বাংলাদেশের সমাজ ও রাজনীতি’ বইটির প্রকাশনা হয়।

আমলাদের কাজের ধরন নিয়ে হতাশার কথা জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, তরুণ কর্মকর্তাদের তিনি বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন যে তারা কেরানি নন; একজন কর্মকর্তার স্বাধীন বিচারবুদ্ধি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন।

নিজের কাজের চাপের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উপদেষ্টা হওয়ার আগে রাজনৈতিক সমালোচনার কারণে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। এখন প্রতিদিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাতভর বৈঠক শেষে আবার ভোরে কাজ শুরু করতে হয়; শারীরিকভাবে তা ক্লান্তিকর হয়ে উঠছে, তবু সমালোচনা থেমে নেই।

আইন উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক দুর্নীতির অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। উদাহরণ হিসেবে একটি ইউটিউব ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানকে ঘিরে যেসব দাবি করা হয়েছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত বিনোদনের গল্পে পরিণত হয়।

বইটির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের লেখা কেবল স্মৃতিকথা নয়; রাষ্ট্র, মানবিকতা ও নাগরিক দায়িত্ব নিয়ে গভীর অন্তর্দৃষ্টি দেয়। এসব বই আরও বেশি পাঠকের কাছে পৌঁছানো জরুরি।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন তথ্য ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ মাহবুবউল্লাহ, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।




ভোররাতে ভূমিকম্পে কাঁপলো দেশ

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ৪ দশমিক ১ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। ভূপৃষ্ঠ থেকে এর গভীরতা ছিল ১৫০ কিলোমিটার। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্র (ইএমএসসি) এবং ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)-ও একই তথ্য প্রদান করেছে।

ভূমিকম্পটি মৃদু হওয়ায় এবং গভীরতা বেশি থাকায় বড় ধরনের কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোট ও মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হচ্ছে, যা নিয়ে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।




গণপূর্তে অদৃশ্য দুর্নীতির সাম্রাজ্য: জাতীয় স্মৃতিসৌধ থেকে কোটি টাকা লোপাটের ভয়ংকর নকশা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) একসময় রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ও অবকাঠামো বাস্তবায়নের অন্যতম ভরসাস্থল হলেও, সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে উঠে আসা চিত্র ভিন্ন বাস্তবতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চক্রের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে গড়ে উঠেছে একটি সুসংগঠিত দুর্নীতির কাঠামো, যেখানে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ যেন নিয়মিত ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়া এখানে অলিখিত সংস্কৃতিতে রূপ নিয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে পাওয়া নথি, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা এবং অডিট রিপোর্ট বলছে—এটি আর গুজব বা বিচ্ছিন্ন অভিযোগ নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা দুর্নীতির একটি পূর্ণাঙ্গ নকশা। এর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রনিক ও মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল–ঢাকা।

অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন ই/এম সার্কেল–ঢাকা-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেন, যিনি কিছু নথিতে আলমগীর খান নামেও পরিচিত। অভিযোগ অনুযায়ী, সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ‘নিরাপত্তা জোরদার’-এর নামে একটি সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের কাগজপত্রে দেখা যায়, এতে তিনটি ১৬-চ্যানেল ডিভিআর, বারোটি পিটিজেড (PTZ) ক্যামেরা, দশটি ডে-নাইট ভিশন ক্যামেরা, তিনটি ডিসপ্লে মনিটরসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি দেখানো হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একাধিক ক্যামেরা অচল, কিছু যন্ত্রপাতি ব্যবহার অনুপযোগী এবং কোথাও কোথাও ক্যামেরা বসানোই হয়নি। এসব গুরুতর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটিকে “সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত” দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে ১ কোটি ১৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সরকারি আর্থিক বিধিমালা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন নীতিমালার সরাসরি লঙ্ঘন। এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে বলেও জানা গেছে।

নথি পর্যালোচনায় আরও ভয়ংকর অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) লঙ্ঘনের ঘটনায়। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর স্মারক নং ৩৫০২ (১৪ জুন ২০১৬), স্মারক নং ৩৫০৭ (১৫ জুন ২০১৬) এবং স্মারক নং ৩৫০৮ (১৫ জুন ২০১৬)—এই তিনটি স্মারকের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে একই ঠিকাদারকে তিনটি কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিযোগিতা এড়িয়ে নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে বেআইনিভাবে সুবিধা দেওয়ার এই ঘটনা পিপিআর-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সূত্রের দাবি, এসব কার্যাদেশ অনুমোদন ও বিল ছাড়ের পেছনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর হোসেনের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও নির্দেশনা ছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ২০১৬–১৭ অর্থবছরের অডিট রিপোর্টে এসব অনিয়ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে অধিদপ্তরের ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় আর্থিক অনিয়মের পরও অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নীরবতাই এখন সংশ্লিষ্ট মহলে রহস্যের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থে মো. আলমগীর হোসেন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় একাধিক বাড়ি ও অ্যাপার্টমেন্ট, বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্লট ক্রয় করেছেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পিডব্লিউডির ই/এম ঢাকা জোনকে ঘিরে একটি রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষিত দুর্নীতির বলয় গড়ে উঠেছে, যেখানে কিছু কর্মকর্তা বছরের পর বছর জবাবদিহির বাইরে রয়ে গেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগও উঠেছে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকাশ্যে বলেন—“আমার বিরুদ্ধে লেখালেখি করলে পরিণাম হবে ভয়াবহ… কাউকে ভয় পাই না।” এ ধরনের বক্তব্য সাংবাদিক মহলে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এবং এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন, সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বার্থ রক্ষা করা হলে সাধারণ ঠিকাদাররা বঞ্চিত হন। পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া কিংবা ভুয়া প্রকল্প দেখানো—এসবই সরাসরি দুর্নীতির উদাহরণ। অডিট রিপোর্ট থাকার পরও ব্যবস্থা না নেওয়াটা অত্যন্ত গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দেয়।

সবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়—অডিট রিপোর্ট থাকা সত্ত্বেও কেন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই? হুমকিমূলক আচরণের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তা কীভাবে এখনও ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান করছেন? দুর্নীতি দমন কমিশন আদৌ কবে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, নাকি রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের এই অভিযোগ আবারও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাপা পড়ে যাবে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।