গ্রামে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না

ডেস্ক নিউজঃ দেশ জুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে লোডশেডিং পরিস্থিতিতে। এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা মে-জুনে আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট। একই দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং পৌঁছায় ১ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। গত কয়েক দিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত রবি, সোম ও মঙ্গলবারে যথাক্রমে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬.৩, ৩৬.৬ এবং ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনই বিদ্যুতের লোডশেড ১৯০০ মেগাওয়াটের মতো ছিল। বিদ্যুতের পরিমাণ বিবেচনায় এ সময়ে ঢাকা অঞ্চলে লোডশেড বেশি হলেও সময় বিবেচনায় তা ছিল অপেক্ষাকৃত কম। আর বিদ্যুৎ না থাকার সময় বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি লোডশেড হয় বরিশাল অঞ্চলে, দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এরপর বেশি সময় অন্ধকারে থাকা অঞ্চলগুলো হলো যথাক্রমে রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিভাগ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং রংপুর। তবে ঢাকা শহরে লোডশেডিং অপেক্ষাকৃত কম, দৈনিক ১ থেকে ২ ঘণ্টা। এমনকি অনেক এলাকায় লোডশেড প্রায় শূন্য।

গরম যত বাড়ছেতত বাড়ছে ঘাটতি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং একাধিক এলাকায় তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস রয়েছে। এর ফলে আবাসিক খাতে ফ্যান, এসি ও কুলিং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। কৃষিতে বোরো সেচের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাতেও বৈদ্যুতিক জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাত্ লাফিয়ে বাড়লেও উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলেই লোডশেডিং বাড়ছে।

উৎপাদনচাহিদা ও সরবরাহে বাড়ছে ব্যবধান

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে সাবস্টেশন পর্যায়ে বিদ্যুতের দৈনিক গড় চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু প্রকৃত উৎপাদন ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট। এখানেই ঘাটতি প্রায় ১-২ হাজার মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে এই ঘাটতি আরো বেশি। কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা আরো বেশি। তাই বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ও লোডশেড সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি বলে জানান খাত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র। সোমবার ইভিনিং পিক আওয়ারে চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ২০০ মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৩ হাজার ১৯৮ মেগাওয়াট। লোডশেডিং হয়েছে ১ হাজার ৯১২ মেগাওয়াট।  অন্যদিকে দিনের বিভিন্ন সময়ে ৯১৩ থেকে ১৮৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত  লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের বৈষম্য চিত্র

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। আবার ঘাটতিও বেশি এ বিভাগে। তবে যে পরিমাণ বিদ্যুতের ঘাটতি থাকে তাতে ঢাকায় লোডশেড হয় গড়ে ২ ঘণ্টার মতো। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কম। ফলে ঐ অঞ্চলগুলোতে জনগণ দীর্ঘসময় বিদ্যুেসবা বঞ্চিত থাকেন। পিজিসিবির ও পিডিবির সাব স্টেশন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এবং স্থানীয় সূত্রগুলো মতে, বরিশাল অঞ্চলে বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার চেয়ে সবচেয়ে কম। দিনে ৮-১০ বার বিদ্যুৎ গিয়ে ১০-১২ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে ভোগেন মানুষ। কিছু এলাকায় সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকেরও কম।

রাজশাহী অঞ্চলে দিনে ছয় থেকে আট বার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়। এতে ৮-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কৃষি সেচ ও রাতের পিক লোডের সময়ও একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যায় না। খুলনা অঞ্চলে দিনে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বিদ্যুৎ চলে যায় পাঁচ থেকে আট বার। এর ফলে ঐ অঞ্চলের শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়। চট্টগ্রাম শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ অপেক্ষাকৃত ভালো থাকলেও এ বিভাগের গ্রামীণ এলাকায় এবং উপজেলা শহরগুলোতেও দিনে ছয় থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকে না। কিছু এলাকায় ১৬-১৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না। দিনে বিদ্যুৎ যায় ছয় থেকে ১০ বার।

ঢাকা বিভাগে শহরাঞ্চলের বাইরে গ্রামে ও উপজেলা পর্যায়ে দিনে পাঁচ-সাত বার বিদ্যুৎ গিয়ে লোডশেড হয় ছয় থেকে আট ঘণ্টা। কুমিল্লা অঞ্চলেও দিনে ছয় থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ পায় না জনগণ। সেখানেও শহরের চেয়ে গ্রামে লোডশেড ও ভোগান্তি বেশি। ময়মনসিংহে পাঁচ-সাত বার বিদ্যুৎ গিয়ে পাঁচ-আট ঘণ্টা বিদ্যুতের সরবরাহ থাকে না। সিলেটে দিনে গড়ে চার-ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু কিছু উপজেলায় বা এলাকায় দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। রংপুরে দিনে তিন থেকে ছয় বার বিদ্যুৎ গিয়ে সরবরাহ থাকে না তিন-পাঁচ ঘণ্টা। পিক আওয়ারে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩৮ শতাংশই ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। ফলে অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ কমে যায়।

লোডশেডিংয়ের কারণে নওগাঁ, নাটোর, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে ৪৮৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৩১২ মেগাওয়াটের মতো। ফলে প্রতিদিন ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে, যা সরাসরি শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। লোডশেডিংয়ের কারণে গার্মেন্টস ও কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে। সেচ পাম্প পর্যাপ্ত পরিমাণে চালাতে না পারায় বোরো মৌসুমে বিদ্যুৎ ঘাটতি কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, আমদানিসহ দেশে বর্তমানে দৈনিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট। এবার গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা সাড়ে ১৮ হাজার মেগাওয়াট হতে পারে বলে প্রক্ষেপণ করেছে সরকার। কিন্তু গরম বাড়লেও জ্বালানিসংকটে চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না বিদ্যুেকন্দ্রগুলো।




আজ থেকে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই শুরু

ডেস্ক নিউজঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র বাছাই প্রক্রিয়া আজ বুধবার থেকে শুরু হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী আজ বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দিনব্যাপী চলবে এই বাছাই কার্যক্রম।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও সংরক্ষিত নারী আসন নির্বাচন-২০২৬ এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দীন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তির সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ২২ এপ্রিল (বুধবার) দুপুর ২টা থেকে এবং পরদিন ২৩ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টা থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন ভবন অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) এই বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

ইসির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে প্রার্থী নিজে এবং তাদের প্রস্তাবক ও সমর্থকগণ উপস্থিত থাকতে পারবেন।




চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে সংঘর্ষ ‘একটি পা কেটে’ নেওয়ার অভিযোগ শাহজাহান চৌধুরীর, দোষারোপ না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ : চট্টগ্রাম সিটি কলেজে একটি ছাত্রসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে একজনের একটি পা কেটে নিয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি বলেন, নিউমার্কেটে গত ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজকে সিটি কলেজে আক্রমণ করেছে।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘটনার তদন্ত না করে কাউকে দোষারোপ না করার আহ্বান জানান।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে শাহজাহান চৌধুরী সিটি কলেজে ছাত্রদের সংঘর্ষের বিষয় তুলে ধরেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ শব্দ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আজ সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত দুই দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা হাতে উভয় পক্ষের কর্মীদের দেখা গেছে। ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।

এই সংঘর্ষের ঘটনা উল্লেখ করে সংসদে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের নিউমার্কেটের কাছাকাছি সিটি কলেজ। নিউমার্কেটে ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহাসমাবেশে যারা আক্রমণ করেছিল, তারাই আজ সিটি কলেজে সন্ত্রাসী আক্রমণ করেছে একটি ছবি নিয়ে। একজনের পা কেটে ফেলেছে।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই অপরাধীদের নামে মামলাও আছে। চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টি করার জন্য, সিটি কলেজের ছাত্র নামধারী পার্শ্ববর্তী এলাকার অস্ত্রধারীরা, যাদের নামে মামলা আছে, তারা সাধারণ ছাত্রদের ওপর আক্রমণ করে একটি পা কেটে নিল।’ এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষভাবে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।

এ পর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাঁদের দোষারোপ করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে চলমান বিষয় হিসেবে তাঁর কাছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সংবাদ আসে। চট্টগ্রামে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেছে, একটা নিউজ বের হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে তাঁর একটু সময় লাগবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘তবে একতরফা ব্লেম আমি যেমন দিতে চাই না, মাননীয় সদস্যেরও উচিত না কোনো তদন্ত ছাড়া একটা রাজনৈতিক দলের ওপর আক্রমণ হয়েছে ইত্যাদি বলা। উনি নোটিশ দিলেও আমাকে সময় দিতে হবে, আমি ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, কোনো তদন্ত ছাড়া অতীতের সংস্কৃতির মতো এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ না করি। যদি এ রকম ঘটনা হয়, অবশ্যই থানায় মামলা দায়ের করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে তদন্তপ্রক্রিয়া চলবে।’




দেশে জ্বালানি সংকট নেই, অতিরিক্ত তেল না কেনার পরামর্শ

ডেস্ক নিউজ : দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত বিদ্যমান থাকায় জনগণকে অযৌক্তিক ভীতি থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে সরকার। মূলত অসাধু চক্রের বেআইনি মজুতদারি এবং ক্রেতাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতার কারণেই বাজারে একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। আজ মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই বিষয়গুলো স্পষ্ট করেন। এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী উপস্থিত ছিলেন।

জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ পরিসংখ্যান উল্লেখ করে এই উপদেষ্টা জানান, ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল এবং ২৭ হাজার ৬০২ টন অকটেন সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি এক লাখ ৮৪ হাজার ৫৪ টন পেট্রোল এবং ২১ হাজার ৩৮২ টন জেট ফুয়েল মজুত আছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। হঠাৎ চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে গত ২০ এপ্রিল থেকে ডিজেল ও পেট্রোলে ১০ শতাংশ এবং অকটেনে ২০ শতাংশ বেশি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, রাজধানীর আসাদ গেটের পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব পাম্পে গত বছর পুরো মাসে তিন লাখ ১৫ হাজার লিটার অকটেন বিক্রি হলেও চলতি এপ্রিলের মাত্র ১৯ দিনেই দুই লাখ ৭০ হাজার লিটার সরবরাহ করা হয়েছে।

বেআইনিভাবে জ্বালানি আটকে রাখার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী কঠোর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৫৩টি অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মামলার বিপরীতে এক কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার ৭১৫ টাকা জরিমানা আদায় এবং ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে সর্বমোট পাঁচ লাখ ৬২ হাজার ৮২১ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকৃত এই তেলের মধ্যে তিন লাখ ৮১ হাজার ৮০৫ লিটার ডিজেল, ৪০ হাজার ৪০১ লিটার অকটেন, ৯২ হাজার ১১৫ লিটার পেট্রোল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত ৪৮ হাজার ৫০০ লিটার ফার্নেস অয়েল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দেশজুড়ে ‘ফুয়েল পাস বিডি’ অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং ইতিমধ্যে এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন, পাশাপাশি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক ‘এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালু এবং সুন্দরবনে দস্যুতা দমনে ‘অপারেশন রিস্টোর’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ’ চলমান রয়েছে। একই সাথে ইটভাটায় কৃষিজমির মাটির ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ এবং হাওর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ৪০০টি ওয়াইফাই হটস্পট স্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।




ইরানের বন্দর অবরোধ: ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিলো যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের বন্দরে প্রবেশ ও ত্যাগের ওপর অবরোধ শুরুর পর থেকে ২৮টি জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই তথ্য জানিয়েছে।

গত সপ্তাহ থেকে ওয়াশিংটন নৌ অবরোধ বহাল রাখার প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য সামনে এলো। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।

শুক্রবার হরমুজ প্রণালী নৌ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল ইরান। তবে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্যবাধকতা পূরণ না করার অভিযোগ তুলে একদিন পরই আবার জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি। বুধবার ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও অভিযোগ করে বলেন, ‘ইরান একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।’

নতুন দফা আলোচনার জন্য মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান এখনও এই আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পূর্বশর্ত হিসেবে তারা অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।




দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যুব মহিলা লীগ নেত্রী

ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগমকে (৩৭) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিল্পী বেগম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের নেত্রী।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে আদালতের চারতলায় দেখা যায়, ৪৬ দিন বয়সী এক শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন শিল্পী বেগম। পুলিশ যখন তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয়, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উপস্থিত আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোলের শিশুকে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী আদালতে জামিন আবেদন করে বলেন, আসামির কোলে মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের শিশু। সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর মা ও শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি, যা মা ও শিশুর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে হামলা ও লুণ্ঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শিল্পী বেগমের নাম আসে। এছাড়া ২৩ জুলাই তার নির্দেশেই ১২০-১৩০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি রাতুলের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুণ্ঠন চালায়। হামলার সময় বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধর করে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।




হাম ও উপসর্গে ৩ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ : সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ১ হাজার ১৫৯ জনের মধ্যে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ হাজার ৯৩৫ জনে।

এ নিয়ে চলতি বছর হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ জনে। সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জন।

১৫ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৩ হাজার ৮০৫ জন। এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৭ হাজার ৮৫ জন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১৪ হাজার ১০৬ জন।




রেজা-উন-নবী ও মাহফুজুর রহমান পদোন্নতি পেলেও দায়িত্বে নেই, শূন্য সিলেট-বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের পদ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকার সিলেট ও বরিশালের বিভাগীয় কমিশনারকে গ্রেড-১ পদে পদোন্নতি দিয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করায় প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় রোববার (১৯ এপ্রিল) পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী এবং বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানকে গ্রেড-১ পদে উন্নীত করার পাশাপাশি তাদের বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানায়। একই সঙ্গে দুই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নতুন বিভাগীয় কমিশনার এখনো নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।

প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রেড-১ পদোন্নতি সাধারণত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হলেও একই আদেশে ওএসডি করা হলে তা নানা বার্তা বহন করে। অনেক সময় নতুন পদায়নের আগে সাময়িকভাবে কর্মকর্তাদের ওএসডি করা হয়, আবার কখনো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস, নীতিগত সিদ্ধান্ত বা ভবিষ্যৎ রদবদলের অংশ হিসেবেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে দুই বিভাগীয় কমিশনারকে একযোগে পদোন্নতির পর ওএসডি করায় বিষয়টি স্বাভাবিক প্রশাসনিক রদবদল নাকি বড় ধরনের পুনর্বিন্যাসের অংশ—তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সিলেট ও বরিশাল—দুটি বিভাগই প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সিলেট দেশের প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত, অন্যদিকে বরিশাল দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত বিস্তীর্ণ এলাকার প্রশাসনিক কেন্দ্র। এমন দুই বিভাগের শীর্ষ প্রশাসনিক পদে এখনো নতুন নিয়োগ না হওয়ায় মাঠ প্রশাসনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সমন্বয় কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন দায়িত্বের বিষয়ে কিছু উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনের ভেতরে ধারণা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই এ দুটি বিভাগে নতুন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে পদোন্নতি পাওয়া দুই কর্মকর্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্বে আনা হতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছেই।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত শুধু দুই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত পদোন্নতি নয়, বরং উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিতও হতে পারে। এখন নজর সিলেট ও বরিশালে কে আসছেন নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে, আর খান মো. রেজা-উন-নবী ও মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়।




বৈদ্যুতিক মিটার নিয়ে চোর পালালো; মহাখালী রাজউক অফিসে দুর্ধর্ষ চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন-৩ এর কার্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনা ঘটেছে। ২১ এপ্রিল রাতের আধারে ভবনের প্রধান বিদ্যুৎ মিটারটি চোরেরা কেটে নিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন ভাবে চলছে পুরো অফিসের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এবং চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাজউক অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ দেওয়ার পর দেখতে পান কোন ধরনের বিদ্যুৎ চলছে না। প্রাথমিকভাবে একে সাধারণ লোডশেডিং মনে করা হলেও দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না আসায় সন্দেহ তৈরি হয়। পরে বিদ্যুৎ কক্ষ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, মেইন গেট বা নির্ধারিত স্থানের বিদ্যুৎ মিটারটি কৌশলে কেটে নিয়ে গেছে চোর চক্রের সদস্যরা।

বিদ্যুৎ না থাকায় সকাল থেকে রাজউকের সার্ভার এবং কম্পিউটার সিস্টেম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না তারা। রাজউকের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র যাচাই ও ডিজিটাল কাজগুলো স্থবির হয়ে পড়ছে।

তবে একসূত্রে জানা যায়, এমন ঘটনা এর আগেও একবার ঘটেছে। অন্য একজন বলছেন এমন ঘটনা কেন ই বা ঘটবে না অফিস সময় শেষে সবাই চলে যায় আগে নৈশপ্রহরী ছিল এমন ঘটনা ঘটার সুযোগ কম ছিল। এখন অনেক মাস ধরে এখানে নৈশপ্রহরী নেই যে কারণে এমন ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

‎ঘটনার পরপরই ডেসকো (DESCO) কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। রাজউক জোন-৩ এর কর্মকর্তারা জানান, একটি সরকারি অফিসের মিটার চুরির ঘটনাটি বেশ উদ্বেগের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মিটারটি চুরি হলো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

‎বর্তমান অবস্থা দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা হয়ে গেলেও জেনারেটর বা  বিকল্প ব্যবস্থায় কিংবা নতুন মিটার স্থাপনের মাধ্যমে কোন রকম বিদ্যুৎ সংযোগ সচল করা হয়নি। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে কোন অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।




সংসদের অধিবেশন কক্ষে খাচ্ছিলেন এমপি, ধরে ফেললেন স্পিকার

ডেস্ক নিউজঃ জাতীয় সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষে শৃঙ্খলা ও মর্যাদা রক্ষায় খাবার খাওয়া বা পানীয় পানের কোনো অনুমতি নেই। তবে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে এক সংসদ সদস্যের কর্মকাণ্ডে সংসদ কক্ষে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার অধিবেশন পরিচালনার সময় স্পিকারের নজরে আসে যে, একজন সংসদ সদস্য অধিবেশন কক্ষের ভেতরে বসে কিছু খাচ্ছেন। স্পিকার সাথে সাথে মাইকে ওই সংসদ সদস্যের নাম উল্লেখ না করেই জানতে চান, তিনি কী খাচ্ছেন। এমনকি তিনি চা পান করছেন কি না, সেটিও জানতে চান।

জবাবে ওই সংসদ সদস্য জানান যে, তিনি গরম পানি পান করছেন। তবে স্পিকার তার জবাবে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তিনি ক্ষুব্ধ স্বরে বলেন, “পরে আরও কী খাবেন, গড নোজ (ঈশ্বর জানেন)!” ঘটনাটি তাৎক্ষণিক হলেও টিভি ক্যামেরা ওই সংসদ সদস্যের দিকে না থাকায় তার পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধিতে অধিবেশন কক্ষে বসে খাওয়া-দাওয়া বা পান করার ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিষয়ে জানা যায়:

৩১১ নম্বর বিধি: এই বিধি অনুযায়ী, সংসদের মূল কক্ষটি কেবল সংসদীয় বৈঠকের জন্যই ব্যবহৃত হবে। বৈঠক ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কক্ষটি ব্যবহার করা আইনত পরিপন্থী।

সংসদীয় সংস্কৃতি: সংসদ একটি অত্যন্ত মর্যাদাশীল স্থান। সেখানে সাধারণ ক্যাফেটেরিয়ার মতো খাবার খাওয়ার কোনো রেওয়াজ নেই। কক্ষের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদস্যরা ক্যাফেটেরিয়া বা নির্দিষ্ট স্থানে খাবার গ্রহণ করে থাকেন।

সংসদ সদস্যদের জন্য সংসদ ভবনের ভেতরেই আলাদা ক্যাফেটেরিয়া ও ডাইনিংয়ের সুব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সংসদ সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অনুমোদিত ব্যক্তিরা খাবার গ্রহণ করতে পারেন। অধিবেশনের সময় বা কক্ষের ভেতরে খাবার নিয়ে যাওয়া সাধারণত শৃঙ্খলাবিরোধী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।