গণপূর্তের ‘স্বর্ণখনি’ ঢাকা বিভাগ–৪: ফ্যাসিবাদী আমলে অবৈধ অর্থ সংগ্রহের নীরব কারখানা

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গত জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরকে সাবেক আওয়ামী ফ্যাসিবাদী চক্রের অবৈধ অর্থ সংগ্রহের অন্যতম প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হতো। বিশেষ করে যেসব বিভাগে প্রকল্প ও বাজেটের পরিমাণ বেশি, সেসব জায়গায় দীর্ঘদিন ধরেই ঘুষ, কমিশন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে আলোচিত। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই তথাকথিত ‘লাভজনক’ বিভাগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিল ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪-এ সাধারণত ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক মহলের আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত প্রকৌশলীদেরই পদায়ন দেওয়া হতো। অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারসহ গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিয়মিতভাবে এই বিভাগ থেকে বিভিন্ন সুবিধা গ্রহণ করতেন।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৩-এ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. মাসুদ রানা সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামীপন্থী মহলের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজনে পরিণত হন। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই তাকে পরবর্তীতে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয় বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

২০২২–২৩ এবং ২০২৩–২৪ অর্থবছরে শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ–৩-এ দায়িত্ব পালনকালে এপিপি প্রকল্পের কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ আওয়ামীপন্থী ঠিকাদারদের হাতে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য, দরপত্র প্রক্রিয়ায় কৌশলগত পরিবর্তন এনে মোটা অঙ্কের কমিশনের বিনিময়ে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ছাত্রজীবন থেকেই মো. মাসুদ রানা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ছাত্র ও জনতার ওপর হামলা ও গণহত্যা সংক্রান্ত একটি মামলায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারসহ ১৫ জন কর্মকর্তা আসামি হলেও রহস্যজনকভাবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার নাম মামলার তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। এই বিষয়টি প্রশাসনিক ও আইনগত মহলে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে, মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাদীর সঙ্গে দেন-দরবার চালাচ্ছেন সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ও তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা। মামলার মীমাংসার জন্য বিপুল অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয় মোহাম্মদ শামীম আখতারের আস্থাভাজনদের ওপর। সেই তালিকায় নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার নামও রয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর এপিপির একাধিক প্রকল্পে এলটিএমের পরিবর্তে এনসিটি পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। কারণ এর আগেই প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট ই-জিপি আইডি নম্বর—১০৩৫৯১০, ১০৩৫৯৩৩, ১০৩৫৯৮৯, ১০৩৬১২৯, ১০৩৬১৪৬, ১০৩৬৪১৫, ১০৩৬৯৫৮ ও ১০৩৭১৩৪—সংক্রান্ত দরপত্র বিষয়ে স্পষ্ট অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল। অথচ সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই দরপত্র আহ্বান করা হয়।

উল্লিখিত প্রকল্পগুলোর অধিকাংশই পূর্ত ভবন ও মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট। এর মধ্যে ১০৩৫৯১০ ও ১০৩৬১২৯ নম্বর আইডির কাজ ছিল ফার্নিচার সরবরাহের। প্রশ্ন উঠেছে—গণপূর্ত অধিদপ্তরের নিজস্ব গণপূর্ত কারখানা বিভাগ থাকা সত্ত্বেও কেন এই ফার্নিচার সরবরাহের দরপত্র ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪ থেকে আহ্বান করা হলো। সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত অর্থ সংগ্রহই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।

হাসপাতালের বিশেষ বরাদ্দের একাধিক প্রকল্পেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয় এবং নামমাত্র কাজ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এসব অনিয়মের মূল হোতা হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার নাম উঠে এসেছে।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এপিপি বরাদ্দের পাঁচটি কাজে এলটিএমের পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এসব কাজ থেকেও মোটা অঙ্কের কমিশন লেনদেন হয়েছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে গণপূর্ত অঙ্গনে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ–৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়—অফিস আদেশ উপেক্ষা করে দরপত্র পদ্ধতি বদলের নেপথ্যে কারা জড়িত? নিজস্ব কারখানা থাকা সত্ত্বেও ফার্নিচার সরবরাহে বাইরের দরপত্র আহ্বানের উদ্দেশ্য কী? মামলা থেকে নাম বাদ পড়া কি নিছক কাকতালীয়, নাকি প্রভাব খাটানোর ফল? গণ–অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ‘স্বর্ণখনি’ বিভাগগুলোতে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।




রাজনীতি–প্রশাসন–অর্থনীতির যোগসাজশ: নাহিদ গ্রুপ ঘিরে আওয়ামী মাফিয়া নেটওয়ার্কের অনুসন্ধান

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক বলয়ের ছত্রচ্ছায়ায় যখন প্রশাসনিক জবাবদিহি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, তখন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আড়ালে জন্ম নেয় ভয়ংকর মাফিয়া কাঠামো। নাহিদ গ্রুপকে ঘিরে এমনই একটি সংগঠিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে, যার নেপথ্যে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যত জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই সিন্ডিকেটের মূল ছায়া-নিয়ন্ত্রক হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ ঝন্টু কুমার সাহা। তার নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে অপারেশনাল ভূমিকা পালন করছেন তন্ময় দাস ও কিতাব আলী। প্রশাসন, রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন এমন এক দমনযন্ত্র, যার বিরুদ্ধে কথা বলাই হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক।

কিতাব আলীকে এই নেটওয়ার্কের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ‘ম্যানেজার’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন একাধিক সূত্র। আনোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি একটি ভ্যাট সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থাকলেও, অভিযোগ রয়েছে—তার অবস্থান ব্যবহার করে তিনি সিন্ডিকেটের অবৈধ কর্মকাণ্ডে প্রশাসনিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেন। কোনো অভিযোগ বা অনুসন্ধান শুরু হলেই তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা কিংবা থামিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ—এমনটাই দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।

এছাড়া কিতাব আলীর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবন ও অফিসিয়াল সুযোগ–সুবিধার অপব্যবহার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নির্দিষ্ট মহলে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও নীরব অস্বস্তি বিরাজ করছে।

ঝন্টু কুমার সাহার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সামনে এলেই তা ‘ম্যানেজ’ করার দায়িত্বে থাকতেন কিতাব আলী—এমন অভিযোগ উঠেছে বারবার। রাজনৈতিক মহলে অর্থ পৌঁছে দেওয়া, প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি এবং মামলার ফাইল স্থবির করে দেওয়ার মতো কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই এই সিন্ডিকেট একটি সংগঠিত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার রূপ নিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

এই চক্রের আর্থিক মেরুদণ্ড হিসেবে উঠে এসেছে তন্ময় দাসের নাম। স্থানীয়দের ভাষায়, ঝন্টু কুমার সাহার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহযোগী এবং সিন্ডিকেটের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারী হলেন তন্ময় দাস। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তার নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, তন্ময় দাসের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কোনো দৃশ্যমান ও বৈধ পেশা ছাড়াই এত অল্প সময়ে এমন বিপুল সম্পদ অর্জন কীভাবে সম্ভব—সে প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। অভিযোগ রয়েছে, নাহিদ গ্রুপের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং আওয়ামী ঘনিষ্ঠ কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়াতেই এই সম্পদের উত্থান ঘটেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ঝন্টু কুমার সাহার সব ধরনের অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, অপরাধমূলক যোগাযোগ এবং কালো টাকার হিসাবরক্ষণ সরাসরি তন্ময় দাসই পরিচালনা করতেন। এই অর্থনৈতিক শক্তির ওপর ভর করেই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছে।

ফ্যাসিবাদী দমননীতির পরিচিত কৌশল—মামলা দিয়ে কণ্ঠরোধ—এই সিন্ডিকেটের ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কথা বলায় অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তন্ময় দাসকে বাদী বানিয়ে ১৪ থেকে ১৫টি হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব মামলার পেছনে সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন ঝন্টু কুমার সাহা এবং কিতাব আলী। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে প্রতিবাদ ও সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ করা।

এই পরিস্থিতিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এটি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির গল্প নয়; বরং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার একটি বাস্তব প্রতিচ্ছবি, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনের শাসনকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

নাগরিকদের পক্ষ থেকে তন্ময় দাসের সম্পদের উৎস দুদকের মাধ্যমে তদন্ত, কিতাব আলীকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে আইনি পদক্ষেপ এবং সাজানো মামলাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। এক ভুক্তভোগীর ভাষায়, “ফ্যাসিবাদ যত শক্তিশালীই হোক, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই। এই চক্রের বিচার বাংলার মাটিতেই হবে।”

সবশেষে বলা যায়, নাহিদ গ্রুপের নাম ব্যবহার করে গড়ে ওঠা এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী মাফিয়া সিন্ডিকেট এখন রাষ্ট্র ও সমাজ—উভয়ের জন্যই হুমকি। আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হলে ঝন্টু কুমার সাহা, তন্ময় দাস ও কিতাব আলীর কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও গভীর তদন্তের কোনো বিকল্প নেই।





বিআইডব্লিউটিএর অঘোষিত ক্ষমতার কেন্দ্র নিজাম উদ্দিন পাঠান: উন্নয়নের আড়ালে দুর্নীতির বিস্তৃত নেটওয়ার্ক

বিশেষ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ—বিআইডব্লিউটিএ—দেশের নদীপথ, নৌ-বন্দর ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় সংস্থা। নদীমাতৃক বাংলাদেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘিরে নিয়োগ, পদোন্নতি, টেন্ডার বণ্টন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ সামনে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে উঠে এসেছে এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার নাম—নিজাম উদ্দিন পাঠান।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আত্মীয়তার সূত্র ধরেই বিআইডব্লিউটিএতে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন নিজাম উদ্দিন পাঠান। তার এক আত্মীয় সংস্থাটিতে চাকরিরত ছিলেন, সেই পরিচয়কে পুঁজি করেই তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিয়োগ পান বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই কিছু প্রভাবশালী ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অল্প সময়ের মধ্যেই সেই সম্পর্ক ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে উন্নীত হন।

এরপর ধাপে ধাপে নিজাম উদ্দিন পাঠানের ক্ষমতা বাড়তে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর ভেতরে এমন অবস্থানে পৌঁছে যান, যেখানে প্রকল্পের অনুমোদন, টেন্ডার বণ্টন কিংবা বিল ছাড়—সবকিছুতেই তার অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভাষায়, তিনি কার্যত সংস্থার এক ধরনের ‘অঘোষিত চেয়ারম্যান’ বা গডফাদারে পরিণত হন।

ক্ষমতার সঙ্গে সঙ্গে তার সম্পদের পরিমাণও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, রাজধানীর বনশ্রী ও রামপুরা এলাকায় নিজাম উদ্দিন পাঠানের নামে ও বেনামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ রয়েছে। বনশ্রীর জে ব্লকে দুটি, এস ব্লকে একটি এবং সি ব্লকে তিনটি অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এ ছাড়া আশপাশের এলাকায় রয়েছে একাধিক প্লট ও বাড়ি। গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে তার এসব সম্পদ নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও রাজধানীতে তার সম্পদের বিস্তার নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে। ব্যক্তিজীবন নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন—অফিস ও ব্যক্তিগত জীবনে আলাদা সংসার পরিচালনার অভিযোগ থাকলেও এসব বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে বাঘাবাড়ি নদী বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে নিজাম উদ্দিন পাঠান এই প্রকল্পকে উন্নয়নের বদলে লুটপাটের উৎসে পরিণত করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মোহাম্মদ জাফর নামে এক ঠিকাদারকে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বিনিময়ে নিজাম উদ্দিন পাঠান আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নগরবাড়ী–বাঘাবাড়ি প্রকল্পে মাঠপর্যায়ে কাজ না করেই কাগজে কাজ দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। বাস্তব কাজের সঙ্গে নথিপত্রের মিল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ এখানেই শেষ নয়। আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে মোহাম্মদ জাফরের সঙ্গে যৌথভাবে ডেভেলপার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন নিজাম উদ্দিন পাঠান—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি “এস এস রহমান কোম্পানি”-র মালিক মোহাম্মদ দিপুকে প্রায় ২৪০ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিয়ে সেখান থেকেও বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মের প্রমাণ হিসেবে খানপুর প্রকল্পের এসি পিডি প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও ফাইল প্রস্তুত করে সচিবালয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তে ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে বিআইডব্লিউটিএর ভেতরের আরও একটি ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে ‘পারিবারিক কোটায়’ নিয়োগ ও পদোন্নতির অভিযোগ রয়েছে। কোনো কর্মকর্তা অবসর নিলে বা মারা গেলে তার আত্মীয়স্বজন নানা প্রভাব খাটিয়ে একই বা সংশ্লিষ্ট পদে সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা। এতে যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন, আর পুরো প্রতিষ্ঠানটি প্রভাবনির্ভর এক কাঠামোয় রূপ নিচ্ছে।

নগরবাড়ী নদী বন্দর আধুনিকায়ন, বাঘাবাড়ি টার্মিনাল উন্নয়ন ও খানপুর পোর্ট ডেভেলপমেন্টসহ একাধিক বড় প্রকল্পে বাজেট বরাদ্দ ও বাস্তব কাজের মধ্যে মারাত্মক অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। কাজের মান যাচাই না করেই বিল পরিশোধ করা হয়েছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। এক অভিজ্ঞ ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে উল্টো বাধার মুখে পড়তে হয়, আর যাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তারাই সুবিধা পান।

সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নিরীক্ষা প্রতিবেদন জমা পড়েছে। কোথাও একই কাজের জন্য একাধিকবার বিল তোলা হয়েছে, কোথাও কাগজে উন্নয়ন দেখিয়ে মাঠপর্যায়ে শূন্য বাস্তবতা পাওয়া গেছে। এসব অনিয়ম বিআইডব্লিউটিএকে আজ এক ভয়ংকর দুর্নীতিচক্রের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে—আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় গড়ে ওঠা এই প্রভাবশালী দুর্নীতির নেটওয়ার্ক কি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেও বহাল থাকবে? নাকি অবশেষে রাষ্ট্রীয় সংস্থায় জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা পাবে?




গুনিয়াউক দরবার শরীফের তৃতীয় ও শেষ দিনের ওরশ সম্পন্ন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণ বাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩১ জানুয়ারি বাদ জোহর চার তরিকার অনুসারী পীরে তরিকত রাহনুমায়ে শরীয়ত হয়রত মাওলানা সৈয়দ আব্দুস সামাদ (র:) এর ছোট সাহেব জাদা সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী (র:) ও উনার ছেলে সৈয়দ গোলাম হোসাইন আলিফ চিশতীর ওরশ মোবারক হাজার হাজার আশেকান মুরিদান ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে সারারাত ব্যাপী জিকির আসকারের সমন্বয়ে সারা জাহানের মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করা হয়।

শুরুতে ওরসেকুল ফাতেহা শরীফ পাঠ,মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তাবারক বিতরন, হামদ ও নাত পাঠের ফাকে ফাকে জিকির আজকার করা হয়৷

দেশের বিভিন্ন স্হান থেকে আগত ওলামায়ে কেরামগন রাত ব্যাপী ওয়াজ নসিহত করে বাদ ফজর আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশ মোবারকের সমাপ্তি ঘোষণা করেন সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী সাহেব।
এক প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী বলেন, মানবজাতির কল্যাণে যুগেযুগে আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন৷ উনাদের সিলসিলা অনুসরণ করেই মুলত ইসালে সওয়াব, নসিহতের উদ্দ্যেশ্য এবং আমার বাপ দাদার ও পীর মাশায়েখের রুহানী তাওয়াজ্জুহ কামনা, আশেকান মুরিদানদের জন্য দোয়া করাই ওরশ মোবারকের মুল উদ্দেশ্য।

রাত বাড়ার সাথে সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা আগামী সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দোয়া নিতে হাজির হন৷ বিশেষ করে হবিগঞ্জ ০৪ আসনের আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন আততাহেরীর উপস্থিতি ওরশ মোবারকে এক অনন্য নজির স্হাপন করে।

এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শুধু মুসলিম ই নয় নওমুসলিম পুরুষ মহিলারা ও দল বেধে ওরশ মোবারকে অংশগ্রহণ করেন। যা ভ্রাতৃত্বের অপরুপ নিদর্শন বটে।




কুখ্যাত এপস্টেইন নথিতে বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এতে নতুন করে বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। এরপরেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এপস্টেইন ফাইলে পাওয়া একটি ই-মেইলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি নামও উঠে এসেছে।

ই-মেইলে আইসিডিডিআরবি’কে বাংলাদেশে একটি ‘অতি সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘমেয়াদী প্রোবায়োটিক গবেষণায় বিনিয়োগের প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।

ওই ই-মেইলের বিষয় ‘আন্ত্রিক জীবাণুবিদ্যা-আইসিডিডিআরবি’ ছিল বলে প্রকাশিত নথির বরাতে জানা গেছে। ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল ই-মেইলটি কুখ্যাত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে তার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীর পক্ষ থেকে পাঠানো হয়।

ই-মেইলে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবিকে কেন্দ্র করে একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে গবেষণা উদ্যোগ গড়ে তোলা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানে তুলনামূলক কম বিনিয়োগে ভবিষ্যতে উৎপাদিত যেকোনো প্রোবায়োটিক বা সংশ্লিষ্ট পণ্যের মুনাফা থেকে ৩ শতাংশ নিশ্চিত লাভ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে ই-মেইলে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া আইসিডিডিআরবি একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদাপ্রাপ্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০১(সি)(৩) কাঠামোর আওতায় এ ধরনের বিনিয়োগ করছাড়ের সুবিধাও পেতে পারে বলে ই-মেইলে বলা হয়েছে।

কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইন ফাইলে অন্তর্ভুক্ত আরেক ই-মেইলে দেখা যায়, এপস্টেইনের এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ২০১০ সালের ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ ও ভারতে ভ্রমণ করেছিলেন।

তবে ওই সফরের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বা কার্যক্রম সম্পর্কে নথিতে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি।




ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে আশাবাদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল রবিবার এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এর আগে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা সতর্ক করেছিলেন, ইরানে যেকোনো মার্কিন হামলা আঞ্চলিক সংঘাত উসকে দেবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গতকাল এক ভাষণে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে একটি ‘অভ্যুত্থান’চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত, তারা যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।’ তিনি জনগণকে ট্রাম্পের হুমকিতে ভীত না হওয়ার আহ্বান জানান।

খামেনি বলেন, তারা (বিক্ষোভকারী) পুলিশ, সরকারি কেন্দ্র, আইআরজিসি কেন্দ্র, ব্যাংক ও মসজিদে হামলা করেছে। তারা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে। এটি একটি অভ্যুত্থানের মতো, যা শেষ পর্যন্ত দমন করা হয়েছে।

খামেনির এ বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘তিনি তো এমন কথা বলবেনই। দেখা যাক কী হয়। আশা করছি, আমাদের একটি চুক্তি হবে। আর যদি না হয়, তবে তিনি (খামেনি) ঠিক না ভুল, তা সময়ই বলে দেবে।’

গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রশাসনের কঠোর দমন–পীড়নের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই অংশ হিসেবে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী একটি রণতরি পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বিক্ষোভকে ইরান সরকার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি হিসেবে দেখছে। সরকার স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তিদের বড় অংশই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। অন্যদিকে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা ৬ হাজার ৮৪২–এর বেশি, যাদের অধিকাংশই বিক্ষোভকারী।

এত উত্তেজনার মধ্যেও আলোচনার ক্ষীণ আলো দেখছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প যদি ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন, তবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে একটি ‘সুষ্ঠু ও সমতাপূর্ণ’ চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, অঞ্চলের কিছু দেশ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারি জানিও বলেছেন, সংবাদমাধ্যমের প্রচারণার আড়ালে আলোচনার পরিকাঠামো তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। ট্রাম্পও আলোচনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না। সূত্র: এএফপি




এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: দল থেকে ইস্তফা সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এরপরেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কুখ্যাত এই যৌন অপরাধীর সঙ্গে সম্পর্ককে ঘিরে নতুন বিতর্কের মুখে লেবার পার্টির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন। খবর বিবিসির। 

খবরে বলা হয়েছে, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি ইস্যুতে লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন তিনি কোনোভাবেই আর লেবার পার্টিকে ‘বিব্রত’ করতে চান না বলে উল্লেখ করেছেন। গত শুক্রবার প্রকাশিত নতুন এপস্টেইন ফাইলে নিজের নাম থাকায় দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসন।

এর আগে গত বছর সাবেক এই ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এপস্টেইনের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্কের কারণেই তার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এপস্টেইন নথিতে দাবি করা হয়েছে, লর্ড ম্যান্ডেলসনকে ২০০৩-২০০৪ সালে এপস্টেইন তিন দফায় ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার (প্রায় ৫৫ হাজার পাউন্ড)  দিয়েছিলেন।

লেবার পার্টির মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে লর্ড ম্যান্ডেলসন বলেন, এই সপ্তাহান্তে এপস্টেইনকে ঘিরে সৃষ্ট স্বাভাবিক ক্ষোভের সঙ্গে আমাকে আবারও যুক্ত করা হয়েছে। এতে আমি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

তিনি দাবি করেছেন, ২০ বছর আগে এপস্টেইন আমার সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করেছিলেন; এমন অভিযোগ মিথ্যা এবং যার কোনো নথি বা স্মৃতি আমার নেই। আমার পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। আমি লেবার পার্টিকে এই প্রক্রিয়ায় আর কোনো বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে চাই না। তাই আমি দলটির সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।




যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, ৮২ মেট্রো স্টেশনকে আশ্রয়কেন্দ্র ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের আশঙ্কা ঘিরে ইরানের রাজধানী তেহরানে নেয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতি। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে শহরজুড়ে মেট্রো স্টেশন, পার্কিং এলাকা ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।  এ সব স্থানে খাদ্য মজুতসহ অন্যান্য সুবিধা ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং ২৫ লাখ মানুষের আশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। সম্ভাব্য যুদ্ধের জল্পনা জোরালো হওয়ায় কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চাইছে না তেহরান। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীজুড়ে আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করছে ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। শনিবার তেহরানে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান তেহরান সংকট ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান আলী নাসিরি।

সাধারণভাবে তেহরানের জনসংখ্যা এক থেকে এক কোটি ২০ লাখের মধ্যে ধরা হয়। তবে বৃহত্তর মহানগর এলাকা যুক্ত করলে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় এক কোটি ৫০ থেকে এক কোটি ৬০ লাখে। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনের সরাসরি সামরিক সংঘাতের সময় তেহরানের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয় নিতে মেট্রো স্টেশনগুলোতে ছুটে গিয়েছিলেন।

প্রাণঘাতী সেই সংঘাতের পর থেকেই তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় মেট্রো স্টেশন, পার্কিং সুবিধা ও অন্যান্য স্থাপনাকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে উন্নত করার উদ্যোগ নেয় ইরানের সংকট ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।

মূলত সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দিকে বিশাল নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেয়ার পর নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়েছে।

অন্যদিকে ইরান সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশটির ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তার জবাব দেয়া হবে অত্যন্ত কঠোর ও শক্তভাবে।

সূত্র: টিআরটি




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-হাসপাতালের ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজানো নিষিদ্ধ

ডেস্ক নিউজঃ অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটারের মধ্যে হর্ন বাজালে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য জানানো হয়।

ডিএমপি জানিয়েছে, অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ মিটার বিস্তৃত এলাকাকে নীরব এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এসব নীরব এলাকায় হর্ন বাজালে জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা তিন মাসের কারাদণ্ড হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় (সচিবালয়ের চারদিকের ও অভ্যন্তরীণ রাস্তাসমূহ ও পার্কিং এলাকা) বিধি অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে অর্থাৎ হর্ন বাজালে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (অর্থদণ্ড) কার্যকর করবে।

এতে বলা হয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের উপস্থিতিতে বিআরটিএ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও ডিএমপির ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে সমন্বিত অভিযান (বিশেষ মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা ও জনসচেতনতামূলক সমাবেশ হবে। শব্দ দূষণ কমাতে সকল সরকারি ও বেসরকারি গাড়িচালকদের শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২৫ অনুসরণপূর্বক বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন না বাজানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।




মানুষের হাতে এখন ধ্বংস হচ্ছে সমুদ্রতলের বিস্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সমুদ্রপৃষ্ঠের বহু নিচে থাকা রহস্যময় এক জগতকে ঘিরে এখন বাড়ছে মানুষের আগ্রহ আর বিনিয়োগ। ব্যাটারি ও শিল্পের কাঁচামাল জোগাড়ের নামে গভীর সমুদ্রে খনি খনন নিয়ে বিজ্ঞানীরা যখন সতর্ক করছেন তখনই নতুন করে সামনে এসেছে বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের চিত্র। অজানা এই পরিবেশে মানুষের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে তা নিয়েই উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।

বিশ্বের ২০টিরও বেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গভীর সমুদ্রে খনি খননে অর্থায়ন না করার অঙ্গীকার করলেও জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ডিপ সি মাইনিং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিতে অন্তত ৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ রয়েছে।

ব্যাটারি ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত নিকেল কোবাল্ট তামার সন্ধানে সমুদ্রপৃষ্ঠের হাজার হাজার মিটার নিচে খননকাজ চলছে। অথচ এই পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান অত্যন্ত সীমিত। এখন পর্যন্ত সমুদ্রতলের মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য এক শতাংশ অংশ অন্বেষণ করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রিনপিসের ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের নথি বিশ্লেষণ করে ডয়চে ভেলে জানিয়েছে এই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে রয়েছে ডয়েচে ব্যাংক, ইউবিএস, ক্রেডিট সুইস, ক্রেডিট এগ্রিকোল। এসব বিনিয়োগের তথ্য সামনে এসেছে এমন এক সময়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র গভীর সমুদ্রে খননকে ভবিষ্যতের খনিজ উৎস হিসেবে এগিয়ে নিতে চাইছে। বিপরীতে প্রায় ৪০টি দেশ এই কার্যক্রম স্থগিতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী দিভা আমন বলেন গভীর সমুদ্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অথচ মানবজাতির জন্য অপরিহার্য। আমরা যা ধ্বংস করতে যাচ্ছি সে সম্পর্কে আমাদের ন্যূনতম ধারণাও নেই এবং একবার হারালে তা আর ফেরানো যাবে না।

ডয়েচে ব্যাংক ও ক্রেডিট এগ্রিকোল দাবি করেছে তাদের অঙ্গীকার নির্দিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়নের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে সমালোচকদের মতে এভাবে বিনিয়োগ চালিয়ে যাওয়া আসলে গ্রিনওয়াশিংয়ের শামিল।

গ্রিনপিসের সাবেক ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট মাউরিসিও ভার্গাস বলেন পরিবেশগত বিতর্ক এড়াতেই ব্যাংকগুলো এমন কৌশল নেয়। অন্যদিকে নরওয়ের স্টোরব্র্যান্ড গ্রুপ গভীর সমুদ্রে খনি খননের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানি থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে সতর্কতামূলক নীতির দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে।

ডয়চে ভেলের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে জনগণের করের টাকা এমনকি পেনশন তহবিলও এই খাতের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিতে বিনিয়োগ হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলছেন পলিমেটালিক নোডুলস অপসারণ করলে কয়েক মিলিয়ন বছরের জন্য পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে।

জাতিসংঘের সমুদ্রবিষয়ক বিশেষ দূত পিটার থমসন গভীর সমুদ্রে খনি খননে অন্তত ১০ বছরের স্থগিতাদেশের আহ্বান জানিয়েছেন। পরীক্ষামূলক খননের প্রাথমিক ফলাফলেও দেখা গেছে সমুদ্রতলের প্রাণবৈচিত্র্য এক তৃতীয়াংশের বেশি কমে গেছে।

দিভা আমনের ভাষায় গভীর সমুদ্র সম্পর্কে মানুষ যদি আরও জানত তবে সেখানে খনি খননের কথা ভাবত না।