মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে বাবা বানিয়ে চাকরি নেওয়া সেই সহকারী সচিব বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজঃ মুক্তিযোদ্ধা কোটার অপব্যবহারের অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) মো. কামাল হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে নিজের বাবা হিসেবে দেখিয়ে কোটার সুবিধা নিয়ে বিসিএস ক্যাডার হন।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কামাল হোসেন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী সচিব) গত ২৮ জানুয়ারি ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কোর্টে হাজির হয়ে দুদকের মামলায় জামিন প্রার্থনা করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী সরকার তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করেন। তাই সরকারি চাকরি আইনের ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ওএসডি সিনিয়র সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকার সময় ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে মামলা হয়। সেই মামলায় গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং চাকরি লাভসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগের উদ্দেশ্যে জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে আপন চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নেন। প্রতারণা ও জাল–জালিয়াতির অভিযোগে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, মো. কামাল হোসেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়নকালীন পিতার নাম হিসেবে তার প্রকৃত জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেমের নাম ব্যবহার করেন।

পরবর্তী সময় একই স্কুলে নবম শ্রেণিতে তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা সাজিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।




ফের আসছে শৈত্যপ্রবাহ, হানা দেবে বজ্র ও শিলাবৃষ্টি

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশজুড়ে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমলেও দাপট এখনই শেষ হচ্ছে না। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে দেশের বিভিন্ন এলাকায় একটি মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এ মাসেই অন্তত দুই দিন বজ্রসহ বৃষ্টি অথবা শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল রবিবার দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশে স্বাভাবিকের অপেক্ষা কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। সেই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নাই। তবে এ মাসের প্রথমার্ধে দেশের উত্তর, পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ১টি মৃদু (৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

এতে আরো বলা হয়েছে, দেশের নদী অববাহিকায় মাঝারি বা ঘন কুয়াশা এবং অন্যত্র হালকা অথবা মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এ ছাড়া দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অপেক্ষা বেশি থাকতে পারে। এ মাসের শেষার্ধে দেশের কোথাও কোথাও ১-২ দিন বজ্রবৃষ্টি বা শিলাসহ বজ্র বৃষ্টি হতে পারে। প্রধান নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বজায় থাকতে পারে।




ইইউ-এর সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (ইউরোচ্যাম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক নির্বিঘ্ন রাখা এবং দেশের ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন নিয়েও কথা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে। এর ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, যাতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ দেশটির পণ্যগুলো ভবিষ্যতেও ইইউ বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের রফতানি পণ্যের জন্য নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা অবশ্যই ইইউর সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের আশা করছি, যাতে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়।”

ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ তার বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে ইইউর সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি এফটিএ ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইইউর সঙ্গে এফটিএ স্বাক্ষরের পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম এরই মধ্যে এমন চুক্তি করেছে, যার ফলে উভয় মধ্যম আয়ের দেশ ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা একটি এফটিএর পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলছি। আমি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।”

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ বাণিজ্যিক সম্পর্কের রূপান্তর ঘটবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।

তিনি বলেন, প্রায় ২০ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার ক্ষেত্রে ইইউ গভীর আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে তিনি ২০২৬ সালে একটি ইইউ–বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও জানান।

মাইকেল মিলার বলেন, “আমরা চাই প্রাথমিক রাজনৈতিক সংকেত—যাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো নিশ্চিত হয় যে তারা বাংলাদেশে আসতে উৎসাহ পাবে এবং সমান সুযোগ পাবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে দক্ষ জনশক্তির বিশাল ভাণ্ডার থেকে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হতে পারে।

অধ্যাপক ড. ইউনূস বলেন, “আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা। আমরা বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ চাই।”

আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে আস্থার বড় প্রতিফলন।”

ড. ইউনূস আরও যোগ করেন, নির্বাচন প্রচারণার সামগ্রিক চিত্র “খুবই ইতিবাচক।”

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।




তারেক রহমানকে বরণে প্রস্তুত খুলনা

ডেস্ক নিউজঃ উত্তরাঞ্চলে তিনদিনের নির্বাচনী সফর শেষে আজ সোমবার খুলনায় সমাবেশে যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

ঢাকা থেকে তারেক রহমান হেলিকপ্টারে খুলনায় পৌঁছাবেন। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে খালিশপুর প্রভাতী হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য হেলিকপ্টারে যশোরে পৌঁছাবেন তিনি।

দীর্ঘ ২২ বছর পর দলীয় প্রধানের খুলনায় আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। তার এই আগমন উপলক্ষে খুলনা উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। আনন্দ মুখর পরিবেশে তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত হয়েছে খুলনাবাসী।

জনসভার ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মিছিল নিয়ে জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরারর ধানের শীষের ১৪ জন সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।

খুলনা-২ আসনের নির্বাচনী পরিকল্পনা ও প্রচার সেলের সমন্বয়ক রোটাঃ আল জামাল ভূঁইয়া বলেন, খুলনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করতে আমরা সব ধরণের প্রস্ততি নিয়েছি। তার আগমণকে ঘিরে ৯০ সফল সাবেক ছাএদল নেতারা আজ ঐক্যবদ্ধ। দিন যতই যাবে ধানের শীষের বিজয় হবেই। ইনশাআল্লাহ।

খুলনা-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, আমাদের নেতা কর্মীরা চেয়ারম্যানকে বরণ করতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।




নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম)-এর চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই কথা জানান। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়ানো, বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মসৃণ করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ জোরদারে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রফতানি- বিশেষ করে তৈরি পোশাক- ইইউ’র বাজারে অব্যাহতভাবে প্রবেশাধিকার পায়, সেজন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পন্ন করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩০০-এর বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এ অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে চায় সরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এতে রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ হলে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে।’

ইউরোচেমের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশ বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারাতে পারে। তাই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু করা জরুরি। তাঁর মতে, এ ধরনের চুক্তি হলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি আরও জোরদার হবে।

নুরিয়া লোপেজ আরও বলেন, ভারত ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ করার পথে রয়েছে এবং ভিয়েতনাম আগে থেকেই এ ধরনের চুক্তির আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এতে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তারা ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করেছে। ‘আমরা এফটি’র পক্ষে কাজ করছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব,’ বলেন তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ-ইইউ বাণিজ্য সম্পর্কের ধরন বদলাবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়। তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি মানুষের বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার বিষয়ে ইইউ আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬ সালে একটি ইইউ-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতিও রয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, ‘ইইউ’র কোম্পানিগুলো যেন বাংলাদেশে এসে সমান সুযোগ পায় এবং বিনিয়োগে উৎসাহ পায়- এজন্য আগাম রাজনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় সুযোগ পেতে পারে। দক্ষ শ্রমশক্তি ও তুলনামূলক কম ব্যয় বাংলাদেশের বড় শক্তি। তিনি জানান, সরকার একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত করা।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ইইউ’র পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি আমাদের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে বড় আস্থার প্রতীক।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক পরিবেশ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক।’

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।




বিশ্বের প্রথম ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি নিয়ে এলো রিয়েলমি পি৪ পাওয়ার ফাইভজি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ তরুণদের পছন্দের স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিয়েলমি আবারও উদ্ভাবনের সীমা ছাড়িয়ে তাদের নতুন স্মার্টফোন রিয়েলমি পি৪ পাওয়ার ফাইভজি বিশ্ববাজারে উন্মোচন করেছে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত বিশ্বের প্রথম ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি সহ এ ডিভাইসটির মাধ্যমে স্মার্টফোন খাত ১০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার যুগে প্রবেশ করছে। ব্যাটারি নিয়ে দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জকে চিহ্নিত করার মাধ্যমে রিয়েলমি বৈশ্বিক ব্যাটারি টেক পাইওনিয়র হিসেবে নিজের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
দ্রুত পরিবর্তনশীল এই ডিজিটাল যুগে ৫,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি নিয়ে তরুণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা প্রায়ই সমস্যায় পড়েন। দীর্ঘ যাত্রা হোক, বা লাইভ কন্টেন্ট স্ট্রিমিং অথবা পাওয়ার ওঠানামার সময়েও কানেক্টেড থাকার ক্ষেত্রে এখন ‘আল্ট্রা-অ্যান্ডুরেন্সের’ চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিতে খুব অল্পসময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে রিয়েলমি। নতুন এই ফোনটি সপ্তাহব্যাপী পাওয়ার ব্যাকআপ নিশ্চিত করবে, যা ব্যবহারকারীকে ভারী পাওয়ার ব্যাংক বহন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে।
নেক্সট-জেনারেশন সিলিকন-কার্বন অ্যানোড প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০,০০১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার টাইটান ব্যাটারি তৈরি করা হয়েছে। ফলে, ডিভাইসটি ৯.০৮ মিলিমিটার পাতলা ও মাত্র ২১৯ গ্রাম ওজনের ভেতর রাখা সম্ভব হয়েছে, যা সক্ষমতার পাশাপাশি, আরামদায়ক এর্গোনোমিক্সের চমৎকার ভারসাম্য নিশ্চিত করেছে। দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতার জন্য ডিজাইন করা এই ব্যাটারিটি বিশ্বের প্রথম টিইউভি ফাইভ-স্টার ব্যাটারি সেফটি সার্টিফিকেশন অর্জন করেছে, যা –৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার চরম পরিস্থিতিতেও কার্যকর থাকে। এছাড়াও, এর ইন্টেলিজেন্ট চার্জিং ম্যানেজমেন্ট টানা আট বছর ব্যবহারের পরও ব্যাটারি হেলথ ৮০ শতাংশের ওপরে থাকার নিশ্চয়তা দেয়।
এই ব্যাটারি সক্ষমতার সাথে পাল্লা দিতে পি৪ পাওয়ার ফোনে ৮০ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং ও অন্যান্য অ্যাকসেসরিজে চার্জ করতে সক্ষম এমন বিশ্বের দ্রুততম ২৭ ওয়াট রিভার্স চার্জিং ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও, এতে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ডাইমেনসিটি ৭৪০০ আল্ট্রা ফাইভজি চিপসেট, ১৪৪ হার্জ হাইপারগ্লো ৪ডি কার্ভ+ অ্যামোলেড ডিসপ্লে এবং প্রখর সূর্যালোকেও নিখুঁত ভিজ্যুয়াল নিশ্চিতে রেকর্ড-ব্রেকিং ৬,৫০০ নিটস পিক ব্রাইটনেস নিয়ে আসা হয়েছে।
ফ্ল্যাশ অরেঞ্জ ও পাওয়ার সিলভার, এই দুইটি অনন্য রঙে নিয়ে আসা পি৪ পাওয়ার ফাইভজি ডিভাইসটিতে ‘ভিজিবল পাওয়ার’ ডিজাইন ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে ট্রান্সপারেন্ট অংশের মাধ্যমে ইন্টারনাল সার্কিট দেখানো হয়েছে। আইপি৬৯ গ্রেড প্রোটেকশন ও আর্মারশেল ডিউরেবিলিটির সমন্বয়ে ডিভাইসটি বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম। স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজারে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড নিয়ে এসেছে ডিভাইসটি।



টঙ্গীর শিল্পনগরীতে মাদকের ‘নিরাপদ ঘাঁটি’ জাভান হোটেল সন্ধ্যার পর নাচানাচি ও মাদক সেবনের অভিযোগ –পর্ব ২য়

কনা আক্তার: শিল্পনগরী টঙ্গীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত টঙ্গী জাভান হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন, অবৈধ মাদক বাণিজ্য ও অসামাজিক কার্যকলাপের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক সূত্রের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হোটেলটিতে নিয়মিতভাবে মাদকের আসর বসে এবং বিভিন্ন স্থান থেকে আনা নারীদের দিয়ে চলে উশৃঙ্খল নাচানাচি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দিনের বেলায় সাধারণ আবাসিক হোটেল হিসেবে কার্যক্রম চললেও সন্ধ্যার পর হোটেলটির চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়ে যায় এবং প্রকাশ্যেই চলে মাদক সেবন ও কেনাবেচা এমন অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী।
যুবসমাজ ধ্বংসের আশঙ্কা।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিল্প এলাকায় কর্মরত তরুণ শ্রমিক ও যুবসমাজ সহজেই এই হোটেলকে মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে। ফলে দিন দিন যুবসমাজ নৈতিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
এতসব অভিযোগের পরও কীভাবে টঙ্গী জাভান হোটেল বৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে—তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, হোটেলটির লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়ায় যথাযথ যাচাই হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাব প্রয়োজন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগেও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করেছে। কোনো কোনো অভিযানে মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আটক করা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অভিযান সাময়িক হলেও হোটেলটির মূল কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা গোপন সূত্রে জানা যায় যে, মালিকপক্ষ প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রশাসনের একটি অংশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, হোটেলের লাইসেন্স যাচাই, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।



ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের মোহরে ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।

স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৮টা ১১ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। মাটি থেকে ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার।

জার্মানির ভূবিদ্যা গবেষণা কেন্দ্র ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি অনেকেই এটি অনুভব করেছেন। তবে এটির আঘাতে বড় ধরনের কোনও ভূমিকম্প হয়নি। বলা হচ্ছে, ভূমিকম্পটি যে মাত্রার ছিল এটির প্রভাবে শেলফ থেকে জিনিসপত্র পড়ে যাওয়া, ঘরের জানালা ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

অগ্ন্যুৎপাত ও ভূমিকম্প বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পটি ৫ দশমিক ৩ মাত্রার ছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। সূত্র: খালিজ টাইমসসিজিটিএনভলকানো ডিসকভারি




এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম, ভারতজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ যৌন অপরাধী এপস্টেইন এর সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এর মাধ্যমে দেশটির সরকারের দিক থেকে এ বিষয়ে সবচেয়ে বড় সংখ্যায় নথি প্রকাশ করা হলো।

এপস্টেইন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ পাতা, ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি এবং ২ হাজার ভিডিও শুক্রবার প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশ করা নথিপত্রগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম এসেছে শত শত বার। এ ছাড়া এসব নথিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামও এসেছে।

এনিয়ে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।

শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক ভিডিও বিবৃতিতে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নাম উল্লেখ থাকার দাবি পুরোপুরি ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’। তিনি দাবি করেছেন, এর বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। এগুলো সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা উচিত।

তবে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এপস্টেইনের নথিতে মোদির নাম থাকাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। দলটি এই ঘটনায় আরও ব্যাখ্যা চেয়েছে।

দেশটির রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সদস্য জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা সর্বশেষ নথিগুলোয় মোদির নাম একাধিকবার এসেছে। এনিয়ে সরকারের মুখপাত্রকে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়েছে। এরপরও অনেক প্রশ্ন এখনো রয়েছে।

এ ছাড়া এই ঘটনায় সরাসরি মোদির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছেন কংগ্রেস নেতা পবন খেরা। তিনি এক্সে লেখেন, বিষয়টি আমাদের জন্য “জাতীয় লজ্জা”।




রাজউক–রূপায়ণ গ্রুপ ঘিরে বড় দুর্নীতি মামলা, ঋণ জালিয়াতি ও জমি দখলের অভিযোগে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও রূপায়ণ গ্রুপকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের একটি দুর্নীতি মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটিতে মোট ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান, পরিচালক ও তাদের পরিবারের সদস্যসহ ছয়জন এবং রাজউকের বিভিন্ন স্তরের ৩৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। দুদকের তদন্ত নম্বর অনুযায়ী এই মামলা ইতোমধ্যে নথিভুক্ত হয়েছে এবং প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গুলশানসহ ঢাকার কয়েকটি অভিজাত এলাকায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি বেআইনিভাবে দখল করে সেখানে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের নকশা অনুমোদন ও প্ল্যান পাসের ক্ষেত্রে রাজউকের কিছু কর্মকর্তার অনৈতিক সহায়তা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম না মেনেই ভবনের অনুমোদন দেওয়া, কাগজপত্রে অসঙ্গতি রাখা এবং জলাভূমি ভরাটের মতো গুরুতর অনিয়মের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, একই জমিকে ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক ব্যাংকে বন্ধক রেখে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এভাবে নেওয়া ঋণের পরিমাণ চার হাজার কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এসব ঋণের একটি বড় অংশ প্রকল্পে ব্যবহার না করে বিভিন্ন পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে সন্দেহ করছে তদন্ত সংস্থা। জমি ও প্রকল্পসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রেখে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।

দুদক জানিয়েছে, মামলার এজাহারে আসামিদের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের ব্যাংক হিসাব, শেয়ার, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেউ যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সে জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। মামলার বিষয়ে আগে থেকেই বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ (BFIU) এবং পুলিশের সংশ্লিষ্ট শাখাকে অবহিত করা হয়েছিল।

দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে কোনো ধরনের প্রভাব, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া বা সম্পত্তি লুকানোর চেষ্টা ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও, তদন্তের ব্যাপ্তি ও আইনি জটিলতার কারণে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতেই বিস্তারিত শুনানি ও যুক্তিতর্কের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।