অবসরের আগের কয়েক দিনে এলজিইডিতে বদলি–বাণিজ্য, আলোচনায় জাবেদ করিম

বিশেষ প্রতিবেদকঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, অবসরে যাওয়ার ঠিক আগে কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নিয়োগ, পদায়ন ও বদলিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার লেনদেনে জড়ান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, সবকিছু করা হয় অত্যন্ত গোপনে এবং দ্রুততার সঙ্গে।

গত ৩ নভেম্বর রুটিন দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পান জাবেদ করিম। এই দায়িত্বকাল ছিল মাত্র ২৭ দিনের। এ সময় তাকে খুব একটা সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায়নি বলে সহকর্মীরা জানান। নিয়মিত অফিসে এলেও তিনি হাতে গোনা কয়েকটি ফাইলে সই করতেন, দুপুরের পরই বের হয়ে যেতেন। বেশিরভাগ সময় তিনি মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক থাকতেন। তবে ২৬ নভেম্বর হঠাৎ করেই তার কর্মকাণ্ডে নাটকীয় পরিবর্তন আসে।

ওই দিন তিনি এলজিইডি ভবনের সপ্তম তলায় নিজের পুরোনো কক্ষে যান এবং সেখানে গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখান থেকেই একাধিক নিয়োগ ও বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শফিক আহমেদ এসব কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন বলে কর্মচারীদের একাংশ দাবি করেছেন।

একই দিনে সহকারী প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রকৌশলীদের বেশ কয়েকটি বদলি ও পদায়ন চূড়ান্ত হয়। পাশাপাশি রুরাল ট্রান্সপোর্ট আপগ্রেডেশন প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি)-এর প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) ফারুক আহমেদকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি।

৩০ নভেম্বর, তার শেষ কর্মদিবসেও দুপুর পর্যন্ত তিনি আরও কিছু বদলির আদেশে সই করেন। এরপর সন্ধ্যায় বিদায় নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত সাত কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন হয়েছে। অনেকের মতে, চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর আশায় কিংবা ভবিষ্যৎ সুবিধা নিশ্চিত করতেই তিনি এই অর্থ সংগ্রহে তৎপর ছিলেন।

এছাড়া নিজের জেলা নোয়াখালীর বিভিন্ন সড়ক সংস্কারের জন্য ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, রুটিন দায়িত্বে থাকা একজন প্রধান প্রকৌশলীর এসব বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনগত ক্ষমতা আদৌ ছিল কি না। তবে সংশ্লিষ্ট কোনো দপ্তর এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

জাবেদ করিমের চাকরি জীবনের শুরুটাও ছিল বিতর্কে ঘেরা। কুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ থেকে বিএসসি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগেই তিনি এলজিইডির রাজস্ব খাতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পান। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে বিএসসি ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের শর্ত ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এমন অনিয়ম প্রমাণিত হলে চাকরি বাতিলসহ শাস্তির বিধান থাকলেও তার ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময় লক্ষ্মীপুরের জিয়া উল হক জিয়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। একই জেলার বাসিন্দা হওয়ায় জাবেদ করিম তখন জুনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পান। তৎকালীন এলজিইডি প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল হাসান বিষয়টিকে নিয়মবহির্ভূত বলে আপত্তি জানালেও মন্ত্রীর চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন।

নিয়ম অনুযায়ী যেখানে দুই বছরের বেশি কোনো কর্মকর্তা একই দায়িত্বে থাকতে পারেন না, সেখানে জাবেদ করিম প্রায় পাঁচ বছর ওই পদে ছিলেন। এ সময় তিনি জেলার উন্নয়ন তহবিল ও আর্থিক ক্ষমতার বড় অংশ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখেন। অভিযোগ রয়েছে, হাতে লেখা টেন্ডারের সুযোগ নিয়ে তিনি শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

২০০৭ সালে এক-এগারোর সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তার নাম উঠে আসে। তবে উচ্চশিক্ষার অজুহাতে দ্রুত তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর তিনি হঠাৎ করেই নিজেকে জাতীয়তাবাদী ঘরানার সঙ্গে যুক্ত করেন বলে আলোচনা রয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, প্রকল্প পরিচালক হওয়ার জন্য ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে। বদলি ও পদায়নেও নিয়মিত কোটি টাকার বাণিজ্য চলত। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আরইউটিডিপি প্রকল্প পরিচালক ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান। এরপর একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে আর পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত জাবেদ করিমের মোবাইল নম্বরেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি কল ফরওয়ার্ড অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।




ভুয়া কাজ আর কাগুজে বিলে কোটি টাকার অভিযোগ: বারবার ঢাকায় ‘সুবিধার পোস্টিং’ পাচ্ছেন কায়সার ইবনে সাঈখ

এসএম বদরুল আলমঃ কাজ না করেই সরকারি টাকা তুলে নেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং একের পর এক লাভজনক পোস্টিং—গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে এমনই একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার ইবনে সাঈখের নাম। বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহুল দপ্তরে দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বর্তমানে তিনি প্রেষণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকা ডিভিশন-১ (মিরপুর)-এ কর্মরত। এর আগে ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব জায়গায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো শাস্তি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ২০২১-২২ অর্থবছরে তিনি প্রায় ২২৫টি কাজের চাহিদাপত্র জমা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজের বড় অংশ বাস্তবে করা হয়নি অথবা খুবই সামান্য কাজ করে কাগজে-কলমে পুরো কাজ শেষ দেখানো হয়। এরপর ঠিকাদারদের বিল ছাড় করে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়। যেসব টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো নানা হিসাবের গোঁজামিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ৫ জুন তেজগাঁওয়ের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বাংলো-১ এবং কেন্দ্রীয় রেকর্ড ভবনের বিভিন্ন মেরামতের জন্য প্রায় ১৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছরের শেষ দিকে এসব কাজ বাস্তবে শেষ না করেই কায়সার ইবনে সাঈখ কাগজে সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন। এটি সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও বিলম্ব জরিমানা (LD) কাটা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারি ইনস্যুরেন্স ছাড়াই বিল দেওয়া হয়েছে। পরিমাপের চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে এবং এসব অনিয়মের বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তারিক হাসান এবং সদস্য ছিলেন ড. মইনুল ইসলাম। একই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর অফিস থেকেও বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনে কায়সার ইবনে সাঈখের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে তার কোনো শাস্তি হয়নি। বরং ঝিনাইদহ থেকে তাকে চাঁদপুরে এবং পরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ পদায়ন করা হয়। প্রশাসনের ভেতরে এ ধরনের বদলিকে অনেকেই ‘পুরস্কার বদলি’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালনকালে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৪৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার একটি বিল ছাড় করতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলে ঠিকাদারদের অভিযোগ। একইভাবে ৩টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা, সেখানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা, ঠিকাদারদের হয়রানি করা এবং পরে কাজ পুনর্বণ্টনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই অনিয়মের প্রভাব হাসপাতাল চালু হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের টাইলস খসে পড়া, পাইপলাইনে লিক, এক বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ বার লিফট বিকল হওয়া এবং অপারেশন থিয়েটারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এসব বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই দুর্নীতির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া কাজের সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার ইবনে সাঈখের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বারবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পোস্টিং পান? কার প্রভাব ও আশ্রয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন তাকিয়ে আছে সচেতন নাগরিক সমাজ।




নির্বাচন উপলক্ষে সাধারণ ছুটি আরও বাড়লো

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই লম্বা ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ইসলামী ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবেবরাত পালিত হবে। সে উপলক্ষে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দিন ৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার)।

এ অবস্থায় কেবল এক দিনের ছুটি নিলেই টানা চার দিনের ছুটি কাটানো যাবে। কেননা এর পরের দুদিন যথাক্রমে ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) ও ৭ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি। সুতরাং মাত্র এক দিনের ছুটি নিলেই সরকারি চাকরিজীবীরা টানা চার দিনের ছুটি কাটাতে পারবেন। এদিকে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ক্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সে উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর পরের দুদিন ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ এখানে মিলছে টানা চার দিনের ছুটি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

আর ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ছুটি থাকবে। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, যা আগেই ঘোষণা করা হয়।’

অন্যদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী, চলতি বছরে মোট ১৪ দিন সাধারণ ছুটি ও ১৪ দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। এর মধ্যে ৯ দিন শুক্র ও শনিবারে পড়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালে ধর্মভিত্তিক ঐচ্ছিক ছুটি নির্ধারিত হয়েছে।

সে অনুযায়ী মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৫ দিন; হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৯ দিন; খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৮ দিন; বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য ৭ দিন এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ২ দিন।




নির্বাচনকে ঘিরে রেলে নাশকতার আশঙ্কা, সর্বোচ্চ সতর্কতার নির্দেশ

ডেস্ক নিউজঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রেলপথে নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় রেলের যাত্রী, ট্রেন ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাতেমা তুজ জোহরার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। গণপরিবহন হিসেবে রেলকে লক্ষ্য করে এ ধরনের অপচেষ্টার ঝুঁকি রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে রেলের যাত্রী, ট্রেন ও অবকাঠামোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ, তা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কোনো নাশকতা বা রেল সম্পদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ রেলস্টেশনের কর্মচারী, গেটকিপার অথবা রেল পুলিশকে জানাতে সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ ফোন করেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা যাবে বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।




লিটারে ২ টাকা কমল জ্বালানি তেলের দাম

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়েছে সরকার। ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, পেট্রোলের দাম ১১৮ টাকা, অকটেনের দাম ১২০ টাকা ও কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস বা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতিমাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণের লক্ষ্যে সংশোধিত প্রাইসিং ফর্মুলার আলোকে ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।’

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে অকটেনের দাম প্রতি লিটার ১২২ টাকা থেকে কমিয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়া পেট্রোলের দাম লিটার ১১৮ টাকা থেকে ২ টাকা কমিয়ে ১১৬ টাকা এবং কেরোসিনের দাম ১১৪ টাকা থেকে কমিয়ে ১১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই নতুন মূল্যহার রোববার থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে বছরের প্রথম মাসের জন্যও সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা কমিয়েছিল সরকার।

সরকার স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাসভিত্তিক জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে আসছে।




বয়কট গুঞ্জনের মধ্যেই বিশ্বকাপের জার্সি উন্মোচন স্থগিত করলো পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্কঃ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে পাকিস্তান দলের নতুন জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম মিনিট মিররের প্রতিবেদন, বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত করা অফিশিয়াল কিট উন্মোচনের পরিকল্পনা ছিল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচের টসের পর। তবে পিসিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনিবার্য কারণে শেষ মুহূর্তে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

জোর আলোচনা চলছে, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই জার্সি উন্মোচন বাতিল করা হয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না পাকিস্তান। এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি পিসিবি। শুক্রবার ও সোমবার সিদ্ধান্ত জানানোর কথা বলেছিলেন বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভি। গতকাল অবশ্য এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি তারা।

গত সপ্তাহে নাকভি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গত ২৬ জানুয়ারি ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং পিসিবির পৃষ্ঠপোষক শেখবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন নাকভি। সেখানে বিশ্বকাপে দলের অংশগ্রহণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

পিসিবির পক্ষ থেকেও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়ে অফিশিয়ালি কিছু জানানো হয়নি। তবে পিসিবির একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। পাকিস্তান তাদের গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ খেলার কথা শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে। বিশ্লেষকদের ধারণা, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক নানা বিষয় সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও জার্সি উন্মোচন একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন, তবে এটি বিশ্বকাপের আগে বড় ধরনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। এতে সমর্থকদের আগ্রহ বাড়ে এবং স্পন্সরদের প্রচারও নিশ্চিত হয়।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর এক সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায় দ্রুত সিদ্ধান্ত জানাতে চাপ বাড়ছে পিসিবির ওপর। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও সংবাদমাধ্যমের লজিস্টিক প্রস্তুতির জন্যও বিষয়টি জরুরি হয়ে উঠেছে।




শীতের তীব্রতা ফের বাড়ার আভাস

ডেস্ক নিউজঃ দেশে গত কয়েকদিন ধরে শীতের তীব্রতা কিছুটা কম। তবে ফের বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। 

সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী ৫ দিন দেশজুড়ে তাপমাত্রা কখনো কমবে, কখনো অপরিবর্তিত থাকতে পারে আবার কখনো বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ৫ দিনই অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ের মধ্যে শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে।

এছাড়া আজ শনিবার সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে ও দিনের প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে গতকাল আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। রোববার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

পরদিন মঙ্গলবার সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নেই।

এদিকে আজ সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেডর্ক করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।




বাতিল হলো ১২ ‘জুলাই যোদ্ধার’ গেজেট

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত আরও ১২ জনের নাম বাতিল করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এর আগে, গত বছর মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়া ও দুই বার নাম থাকায় ১২৮ জুলাই যোদ্ধার গেজেট বাতিল করা হয়েছিল।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ১১(৪) ধারা এবং রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর শিডিউল-১ অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দিনাজপুর জেলার পাঁচজন এবং চাঁদপুর জেলার সাতজন রয়েছেন। দিনাজপুরের বাতিলকৃতরা হলেন- তাসফিয়াহ রিফা, মো. আসাদুজ্জামান নূর, মো. সুরুজ মিয়া, মোছা. কহিনুর ও মোছা. সখিনা। চাঁদপুরের বাতিলকৃতরা হলেন- মো. কামরুল হাসান রাব্বি, মো. রায়হান, মো. ইউছুব আলী, নাহিদুল ইসলাম রাতুল, শাহজালাল ও মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

কেন এই ১২ জনের ‘জুলাই যোদ্ধা’ গেজেট বাতিল করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে কিছু জানানো হয়নি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, মিথ্যা তথ্য দিয়ে গেজেটভুক্ত হওয়ায় তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।




গণপূর্তে ভুয়া কাজের অভিযোগ: কোটি টাকা তুলে নেওয়ার পরও নিরাপদ এক প্রকৌশলী

এসএম বদরুল আলমঃ কাজ না করেই সরকারি টাকা তুলে নেওয়া, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং একের পর এক লাভজনক পোস্টিং—গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে এমনই একটি বিতর্কিত অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার ইবনে সাঈখের নাম। বিভিন্ন সময় গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহুল দপ্তরে দায়িত্ব পাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করেছে বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

বর্তমানে তিনি প্রেষণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঢাকা ডিভিশন-১ (মিরপুর)-এ কর্মরত। এর আগে ঝিনাইদহ, চাঁদপুর, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব জায়গায় দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো শাস্তি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ২০২১-২২ অর্থবছরে তিনি প্রায় ২২৫টি কাজের চাহিদাপত্র জমা দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কাজের বড় অংশ বাস্তবে করা হয়নি অথবা খুবই সামান্য কাজ করে কাগজে-কলমে পুরো কাজ শেষ দেখানো হয়। এরপর ঠিকাদারদের বিল ছাড় করে সরকারি অর্থ তুলে নেওয়া হয়। যেসব টাকা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলো নানা হিসাবের গোঁজামিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

২০২২ সালের ৫ জুন তেজগাঁওয়ের ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের বাংলো-১ এবং কেন্দ্রীয় রেকর্ড ভবনের বিভিন্ন মেরামতের জন্য প্রায় ১৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অর্থবছরের শেষ দিকে এসব কাজ বাস্তবে শেষ না করেই কায়সার ইবনে সাঈখ কাগজে সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারকে পুরো বিল পরিশোধ করেন। এটি সরকারি আর্থিক বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও অভিযোগ আছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলেও বিলম্ব জরিমানা (LD) কাটা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারি ইনস্যুরেন্স ছাড়াই বিল দেওয়া হয়েছে। পরিমাপের চেয়ে বেশি কাজ দেখিয়ে বিল তৈরি করা হয়েছে এবং এসব অনিয়মের বিনিময়ে ঠিকাদারদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের সুবিধা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন তারিক হাসান এবং সদস্য ছিলেন ড. মইনুল ইসলাম। একই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের যশোর অফিস থেকেও বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়।

বিশ্বস্ত সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনে কায়সার ইবনে সাঈখের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ থাকলেও বাস্তবে তার কোনো শাস্তি হয়নি। বরং ঝিনাইদহ থেকে তাকে চাঁদপুরে এবং পরে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ পদায়ন করা হয়। প্রশাসনের ভেতরে এ ধরনের বদলিকে অনেকেই ‘পুরস্কার বদলি’ বা ‘প্রাইজ পোস্টিং’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

ঝিনাইদহে দায়িত্ব পালনকালে ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পেও তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৪৩ কোটি ৬১ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার একটি বিল ছাড় করতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়েছিল বলে ঠিকাদারদের অভিযোগ। একইভাবে ৩টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পে, যার মোট ব্যয় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা, সেখানে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা কমিশন দাবি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুষ না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রাখা, ঠিকাদারদের হয়রানি করা এবং পরে কাজ পুনর্বণ্টনের ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই অনিয়মের প্রভাব হাসপাতাল চালু হওয়ার পর আরও স্পষ্ট হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের টাইলস খসে পড়া, পাইপলাইনে লিক, এক বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ বার লিফট বিকল হওয়া এবং অপারেশন থিয়েটারের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার মতো সমস্যার মুখে পড়তে হয়। এসব বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই দুর্নীতির সঙ্গে সহযোগী হিসেবে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ আহমেদের নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ভুয়া কাজের সার্টিফিকেট দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে সহায়তা করেছেন।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কায়সার ইবনে সাঈখের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একজন কর্মকর্তা বারবার ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক পোস্টিং পান? কার প্রভাব ও আশ্রয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে এখন তাকিয়ে আছে সচেতন নাগরিক সমাজ।

 




দরপত্রের আড়ালে শতকোটি টাকার খেলা: গণপূর্তের কাঠের কারখানায় দুর্নীতির নতুন চিত্র

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আলোচিত বদলির পরও এই ইউনিটে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী ফার্নিচার সিন্ডিকেট কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, যাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করে শতকোটি টাকার কাজ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দরপত্র ব্যবস্থাকে কার্যত নিয়ন্ত্রণে নেন। প্রকল্পের এস্টিমেট তৈরি হওয়ার পর নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার ও ফার্নিচার প্রতিষ্ঠানের কাছে গোপনে রেট-কোড সরবরাহ করা হতো। এর বিনিময়ে আগেভাগেই ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে দরপত্র প্রক্রিয়া চালু থাকলেও বাস্তবে কাজ পেতেন কেবল পূর্বনির্ধারিত প্রতিষ্ঠানগুলো।

যেসব সাধারণ লাইসেন্সধারী ঠিকাদার নিয়ম মেনে দরপত্রে অংশ নিতেন, তারা একের পর এক প্রকল্প থেকে বাদ পড়তেন। অনেককে “পরের কাজ দেওয়া হবে” বলে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে রাখা হতো। কেউ কেউ অগ্রিম টাকা দিয়েও কাজ না পেয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আবার কেউ কাজ পেলে তাকেও বাধ্য করা হতো নির্দিষ্ট ফার্নিচার কোম্পানি থেকে মালামাল নিতে অথবা কাজের বড় অংশ সাব-কন্ট্রাক্ট দিতে। নির্দেশ অমান্য করলে বিল আটকে দেওয়া বা চুক্তি বাতিলের মৌখিক হুমকির অভিযোগও রয়েছে।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, “ফার্নিচার কনসেপ্ট এন্ড ইন্টেরিয়র লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠান গত দুই অর্থবছরে অস্বাভাবিক পরিমাণ সরকারি কাজ পেয়েছে। নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫/১৩ নং লটে ৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি, ২০২৫/৩ ও ২০২৫/৪ নং লটে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা করে কাজ পায়, যা মডেল মসজিদ প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন সংক্রান্ত। এছাড়া রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, শহীদ নায়েব সুবেদার আশরাফ আলী খান বীরবিক্রম লাইব্রেরি এবং পাবলিক লাইব্রেরী বহুমুখী ভবনেও কোটি টাকার কাছাকাছি কাজ প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি প্রকল্পে ভবনের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ফার্নিচার সরবরাহের চুক্তি ও বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যা সরকারি ক্রয় বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আরও অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই বিল ছাড় করা হয়েছে। একাধিক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তারা স্বাক্ষর না দিলেও ঊর্ধ্বতন চাপের কারণে বিল পাস হয়ে গেছে।

একই সময়ে আকতার ফার্নিচারস, নদীয়া ফার্নিচার ও হাতিলসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেটের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ বণ্টনের সুবিধা পেয়েছে। এর ফলে সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন মানসম্পন্ন কাজ করা অনেক অভিজ্ঞ ঠিকাদার এখন কার্যত কাজবঞ্চিত।

জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, অতীতে অন্য বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে এপিপি প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে বেনামী ঠিকাদারি ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি বারবার গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। যদিও সর্বশেষ রাজশাহীতে বদলির পর ঢাকায় ফেরার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে অফিসের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একাধিক সূত্র জানায়, নারী সহকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন ছিল। কয়েকজন নারী প্রকৌশলী দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার আগেই বদলি নিয়েছেন বলেও তথ্য পাওয়া গেছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানিয়েছে, স্পেশাল ইউনিটে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা হবে।

সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের এই ইউনিট আবারও একটি সীমিত গোষ্ঠীর লুটপাটের কেন্দ্রে পরিণত হবে, যেখানে সরকারি অর্থের অপচয় এবং যোগ্য ঠিকাদারদের পেশা হারানো অব্যাহত থাকবে।