এক লাফে ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বেড়ে দেশে স্বর্ণের দামে নতুন ইতিহাস

ডেস্ক নিউজঃ ১ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। 

এবার ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। যা দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০ টা ১৫ মিনিট থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।




রমনা গণপূর্ত স্টোরের রাস্তা: উন্নয়নের আড়ালে প্রশ্নবিদ্ধ কাজ ও দায় এড়ানোর সংস্কৃতি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ রমনা গণপূর্ত স্টোর কম্পাউন্ডের ভেতরের রাস্তা উন্নয়নকে ঘিরে এখন তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাইরে থেকে দেখলে এটি একটি সাধারণ উন্নয়ন প্রকল্প মনে হলেও ভেতরের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। একদিকে কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এখানে নাকি উন্নতমানের বিটুমিনাস কার্পেটিং দিয়ে টেকসই রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আবার অন্যদিকে উঠে আসছে নিম্নমানের কাজ, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে যোগসাজশ এবং সরকারি অর্থ অপচয়ের গুরুতর অভিযোগ। এই দুই বিপরীত চিত্র সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন তৈরি করছে—এটি কি সত্যিকারের উন্নয়ন, নাকি উন্নয়নের নাম করে দুর্নীতি?

প্রশংসামূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সেই ধারাবাহিকতায় রমনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-১, শাখা-২-এর আওতায় রমনা স্টোর এলাকার অভ্যন্তরীণ রাস্তায় গড়ে তিন ইঞ্চির বেশি পুরু বিটুমিনাস কার্পেটিং, উন্নতমানের রেডি মিক্স ও ওয়াটার বাউন্ড ম্যাকাডাম ব্যবহারের কথা বলা হয়। এসব লেখায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার মমিনুর রহমান এবং উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ মেহবুবার রহমানের সততা, দক্ষতা ও তদারকির ভূয়সী প্রশংসা করা হয়।

তবে এই প্রশংসামূলক বর্ণনার ভাষা ও উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মধ্যে। সমালোচকদের মতে, এসব লেখায় প্রকল্পের বাস্তব কাজের মান যাচাইয়ের চেয়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশংসাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। এমনকি যারা কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তাদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা’ চালানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।

এর বিপরীতে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে একেবারে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, রমনা স্টোর কম্পাউন্ডের রাস্তা নির্মাণে নির্ধারিত কারিগরি নিয়ম মানা হয়নি। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী পুরোনো রাস্তা ভেঙে মাটি খনন করে বড় ইটের খোয়া, বালু, ডাউন পাথর ও রোলার দিয়ে শক্ত ভিত্তি তৈরির কথা, সেখানে বাস্তবে পুরোনো রাস্তা সামান্য পরিষ্কার করে তার ওপর পাতলা বিটুমিনাস কার্পেটিং দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে কাজ করা শ্রমিকদের বক্তব্যেও এই অভিযোগের মিল পাওয়া যায়। তারা জানিয়েছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ীই তারা কাজ করেছেন। কোথাও সঠিক বেস লেয়ার বা বড় পাথরের ব্যবহার চোখে পড়েনি। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—এই রাস্তা কতদিন টিকবে, আর এর পেছনে বরাদ্দকৃত অর্থ আদৌ সঠিকভাবে ব্যয় হয়েছে কি না।

এই প্রকল্পে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বরাদ্দ পাওয়া অর্থ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে। এতে করে কিছুদিন পরই রাস্তা নষ্ট হবে এবং আবার নতুন করে মেরামতের নামে বরাদ্দ আনা যাবে। এভাবে একই স্থানে বারবার কাজ দেখিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের একটি চক্র তৈরি করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

এই কাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জারিন ইন্টারন্যাশনাল। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী আহমেদ হোসেন জানিয়েছেন, তিনি প্রকৌশলীদের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে দায় প্রকৌশলীদের ওপর চাপানোর চেষ্টা দেখা যায়। অন্যদিকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার মমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ বুঝে নিয়েছেন এবং এর বাইরে তার কিছু বলার নেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খায়রুল ইসলামও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এমন বক্তব্যকে অনেকেই প্রশাসনিক দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছেন।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে—কার স্বার্থে এত বিপরীতধর্মী বর্ণনা সামনে আসছে? একদিকে নিম্নমানের কাজ ও অর্থ লোপাটের অভিযোগ, অন্যদিকে হঠাৎ করে কিছু প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা ও দক্ষতার প্রশংসা করে সব অভিযোগকে ‘প্রপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দুর্নীতির অভিযোগ ঢাকতে পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ হতে পারে।

সব মিলিয়ে রমনা গণপূর্ত স্টোরের রাস্তা উন্নয়ন প্রকল্প এখন আর শুধু একটি নির্মাণকাজ নয়। এটি পরিণত হয়েছে সম্ভাব্য দুর্নীতি, দায়িত্বহীনতা, নিম্নমানের নির্মাণ এবং প্রশাসনিক গাফিলতির একটি উদাহরণে। নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এই অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই সম্ভব নয়। তদন্ত না হলে উন্নয়নের গল্পের আড়ালেই চাপা পড়ে যেতে পারে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের বাস্তব চিত্র।

 




সরকারি চাকুরেরা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না

ডেস্ক নিউজঃ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে সরকারি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো পক্ষ নিতে পারবেন না। তাঁরা যদি ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর  পক্ষে প্রচার চালান সেটি হবে দণ্ডনীয় অপরাধ। গতকাল মঙ্গলবার দুজন নির্বাচন কমিশনার গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এবং গণভোট অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ ও ধারা  উল্লেখ করে জানিয়েছেন, শুধু ভোট গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই নন, তাঁরা ছাড়াও যেসব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন তাঁদের দণ্ডনীয় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হতে হবে।

সরকারি চাকুরেরা কোনো পক্ষ নিতে পারবেন নানির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আইন অনুসারে আমি জোর দিয়ে বলছি, গণভোটের প্রচারে কী কী প্রস্তাব রয়েছে সেসব উল্লেখ করাতে কোনো সমস্যা নেই।

খোদ নির্বাচন কমিশনও এটা করছে। কিভাবে কী ধরনের ব্যালটে ভোট দিতে হবে—এগুলো  নির্বাচন কমিশন প্রচার করছে। গণভোট সম্পর্কে অ্যাওয়ারনেস বিল্ডিংয়ের জন্য এটা করা হচ্ছে। কিন্তু রিটার্নিং, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসাররা তো বটেই,   কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘হ্যাঁ’ পক্ষে দেন বা বিপক্ষে ‘না’ ভোট  দেন এটা বলতে পারবেন না। এটা একেবারেই নিষেধ।

তিনি বলেন, “আপনারা হয়তো প্রশ্ন করবেন, উপদেষ্টা মহোদয়রা তো ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার করছেন। আমি বলব, উপদেষ্টা মহোদয়রা সরকারি চাকুরে নন। তাঁরা পাবলিক সার্ভেন্ট। গভর্নমেন্ট সার্ভেন্ট বা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নন। কাজেই উপদেষ্টারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বলতে পারবেন।  উনারা নিজেরাই জাতির জন্য অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে এ বিষয়ে একটা উদ্যোগ নিয়েছেন। সে কারণে উপদেষ্টাদের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবেন—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তা পারবেন না। শুধু না পারার বিষয় না, গণভোটের হ্যাঁ-না-এর পক্ষে বা বিপক্ষে বলাটা তাঁদের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ।”

এই বিষয়ে কি নির্বাচন কমিশন থেকে কোনো নির্দেশনা জারি করা হয়েছে—এ প্রশ্নে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘একটু আগেই আমরা (নির্বাচন কমিশন) আলাপ-আলোচনা করেছি। পরিপত্র জারি করতেও পারি। তবে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানিয়ে দিচ্ছি। কয়েক দিন আগে আমি চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম। সেখানকার জেলা প্রশাসককে আইনের বিষয়টি জানিয়েছি।  আপনাদের  (গণমাধ্যম) এসব কথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আপনারাও এ বিষয়ে বিধি-নিষেধগুলো প্রচার করেন। আমরা পরিপত্র জারি না করলেও এই আইন তো বলবৎ রয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) এর ৮৬  অনুচ্ছেদে এবং  গণভোট অধ্যাদেশের (অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি) ২১ ধারায়  এ বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা আছে যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যদি নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন তাহলে এটা শুধু অপরাধই নয়, দণ্ডনীয় অপরাধ।’

উল্লেখ্য, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) এর ৮৬ অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘যদি প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি কোনোভাবে নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করিবার উদ্দেশে তাঁর সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করেন, তাহা হইলে তিনি (অনধিক পাঁচ বৎসর এবং অন্যূন এক বৎসরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডে দণ্ডিত) দণ্ডনীয় কোনো  অপরাধে দোষী  সাব্যস্ত হইবেন।’

আর গণভোট অধ্যাদেশের (অপরাধ, দণ্ড ও বিচার পদ্ধতি) ২১ ধরায় বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ার সম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’

আরেকজন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার গতকাল নির্বাচন ভবনে তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তারা গণভোটের প্রচার করতে পারবেন। তবে তাঁরা ‘হ্যাঁ’-‘না’ এর পক্ষে কিংবা বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না। গণভোটের বিষয়ে কমিশনের অবস্থান কী—এমন প্রশ্নে মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, গণভোটের জন্য আমরা ভোটারদের ভোট দিতে  উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনী কাজের দায়িত্বে যাঁরা থাকবেন, তাঁরা আইনগতভাবে এ বিষয়ে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। নির্বাচনী দায়িত্বে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার এবং অন্যান্য যাঁরা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন তাঁরা গণভোটের প্রচার করতে পারবেন, কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার চালানো যাবে না। রিটার্নিং অফিসার যখনই তিনি হয়েছেন, তখনই তিনি কোনো পক্ষের লোক না। কোনো রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার  গণভোটের কোনো পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন না বলেই জানি।’

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে অবস্থানে প্রচারণা করছেন। এটা কতটা আইনসংগত—এ প্রশ্নে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এ  বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। তবে কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশনের এই অবস্থানের বিপরীতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান  সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চলমান। সরকারি ভবনগুলোতে শোভা পাচ্ছে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন। উপদেষ্টা পরিষদের পক্ষে এমন দাবিও রয়েছে যে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই। বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা এই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৪৮টি গণভোট হয়েছে, তার বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা,  নৈতিকভাবে এটা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। গত ২৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ সিলেটের বিভাগীয় মতবিনিময়সভায় এসব কথা বলেন।

বিশেষজ্ঞ বক্তব্য : এ বিষয়ে  সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রীম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদ্যমান আইন অনসুারে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারও গণভোটে ‘হ্যা’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে পারেন বলে মনে হয় না। কারণ তারাও তো প্রজাতন্ত্রের বাইরের কেউ না। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারির জন্য যে বিধি-নিষেধ প্রযোজ্য, মন্ত্রী, উপমন্ত্রী পর্যায়ের উপদেষ্টাদের জন্যও একই বিধান প্রয়োজ্য। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাঁরা যে প্রচার চালাচ্ছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সরকারি কর্মকর্তা- কর্মচারিদের দিয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে যেভাবে প্রচার চলছে তা সংশ্লিষ্ট আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য বেগম জেসমিন টুলি  বলেন, ‘আমি আগেই বলেছিলাম, গণভোটের আইন করতে হলে, এর পক্ষে কিভাবে প্রচার চালাতে হবে, না হবে, সেটি আইনেই স্পষ্ট করে দিতে  হতো। কিন্তু তা না করে এটি সংসদ নির্বাচনের আইনের সঙ্গে এক করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যমান আইন অনুসারে কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী গণভোটের কোনো পক্ষেই প্রচার চালাতে পারবেন না।  নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল আইনের এই বাধ্যবাধকতা আগেই সবাইকে জানিয়ে দেওয়া।

চারটি বিষয়ে গণভোট, এক উত্তর ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ : গণভোট অনুষ্ঠিত হবে চারটি বিষয়ে। এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণকে মতামত জানাতে হবে।

বিষয়গুলো হচ্ছে—ক. নির্বাচনের সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে। খ. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে। গ. সংসদে নারী প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে। ঘ. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

গণভোটের দিন এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে  ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে মতামত জানাতে হবে।




পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে

মোহাম্মদ লোকমান হোসেনঃ পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় সেনাবাহিনীর একটি চৌকস দল যৌথ অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে। সোমবার গভীর রাতে ভাণ্ডারিয়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষিপুরা মহল্লায় ইকবাল মল্লিকের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভাণ্ডারিয়া সেনা ক্যাম্প সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় বাড়ি থেকে দুইটি রামদা, একটি কুঠার, একটি ছেনি, একটি হাতুড়ি, একটি বাটাল, একটি ড্রিল মেশিন এবং কয়েকটি চাকুসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ইকবাল মল্লিককে বাড়িতে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সেনা সূত্র আরও জানায়, অভিযানের নেতৃত্ব দেন ভাণ্ডারিয়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোস্তাক ফাহাদ জোয়ারদ্দার। উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সেনাবাহিনীর এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এমন অভিযান অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন।



পিরোজপুরে ‎নিখোঁজের ৩ দিন পরে শিশুর বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার : চাচা সহ গ্রেপ্তার ৪

পিরোজপর প্রতিনিধি: ‎পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় মোঃ রাইয়ান মল্লিক নামে এক শিশুর বস্তাভর্তি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে প্রতিবেশী এক গৃহস্থের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫ টায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পিরোজপরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‎নিহত রাইয়ান (০৫) ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের প্রবাসি রাসেল মল্লিক এর ছেলে। শিশুটি স্থানীয় পশারিবুনীয়া আফছারিয়া নূরানী কিণ্ডার গার্টেন এ শিশু শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। পরিবারের অভিযোগ প্রতিপক্ষ চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক শিশুটিকে হত্যার পর লাশ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছে।

‎গ্রেপ্তাররা হলেন, মো. রিয়াদ মল্লিক (১৯), মো. মিজান মল্লিক (৪২), মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬), মোসা. পারভীন বেগম (৩৫)। গ্রেপ্তার হওয়া সবার বাড়ি ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর আতরখালী গ্রামে।
‎পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শিশু রাইয়ান সকলের অগোচরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। খুঁজে না পেয়ে শিশুটির মা তন্নী আক্তার ভাণ্ডারিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল অনুসন্ধান চালিয়ে প্রতিবেশী এক গৃহস্থের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
‎পিরোজপরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী  জানান, আসামী রিয়াদ মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে  ভিকটিম রাইয়ান মল্লিক কোথায় আছে তা জানে বলে জানান। পরবর্তিতে রিয়াদ মল্লিককে সঙ্গে নিয়ে ভান্ডারিয়া ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে রিয়াদ মল্লিক এর দেখানো মতে তাদের বসত ঘরের সামনের গোয়াল ঘরের মধ্য হতে খরকুটার ভিতর বস্তাভর্তি অবস্থায় ভিকটিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।



বরিশালে যাত্রী বাহী বাস থেকে জাটকা উদ্ধার

শান্ত ইসলাম, বরিশাল ব্যুরোঃ গত কাল বেলা ১০:৩০ এর দিকে বিভাগীয় কমিশনার এর কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি যাত্রী বাহী বাস থেকে বিপুল পরিমাণ জাটকা আটক করা হয়েছে। এন এস আই এর তথ্যের ভিত্তিতে ও তাদের মাধ্যমে যাত্রী বাহী বাসে এই অবৈধ মাছ তোলার সময় আটক করা হয়েছে বলে জানা যায়। পরে বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা দের খবর দিলে তারা ধ্রুত ঘটনা স্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে মাজিস্ট্রেট এর মাধ্যমে বরিশালের বিভিন্ন এতিম খানায় ও বৃদ্ধাশ্রম এ এ সকল জাটকা বিতরন করা হয়।
জাটকা নিধন সারা বছর ব্যাপী নিষিদ্ধ। কিন্তু অসাধু জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা মিলে একটি শক্ত সিন্ডিকেট তৈরি করে সারা দেশে এসকল জাটকা মাস স্বীকার করে ছড়িয়ে দিচ্ছে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায়।
বরিশাল সদর উপজেলা মৎস কর্মকর্তা জনাব জামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন জেলেরা সচেতন না হলে কোনো ক্রমেই এই জাটকা নিধন বন্ধ করা সম্ভব না। তাছাড়া জনগনের ও সচেতন ভাবে সহযোগিতা করা দরকার। তারা যদি জাটকা না কিনে তাহলেই জাটকা মাছ স্বীকার বন্ধ হতে পারে বলে মনে করেন।



আসন্ন নির্বাচনে ভোটার সচেতনতা বাড়াতে লালমনিরহাটে ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জহুরুল হক জনি, লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে লালমনিরহাটে জেলা ইমাম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জেলা মডেল মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক এইচ এম রকিব হায়দার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান।
ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের উপ-পরিচালক রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফাউন্ডেশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোঃ আব্দুল হামিদ খান এবং ইসলামী ফাউন্ডেশন রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমামগণ।
সম্মেলনে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং আদিতমারী মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জয়নুল আবেদীন।
বক্তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ ভোটারদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেশের গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এছাড়া সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটাধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমাম ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে ইসলামী ফাউন্ডেশন লালমনিরহাটের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।



জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের রাজনীতিতে জুলাই আন্দোলন যেমন নতুন সম্ভাবনার দাড় উন্মোচন করেছিল তেমনই ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার উন্মোচন করবে। জুলাই আন্দোলনকারীরাই একদিন বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে। জুলাই অভুত্থ্যানে ইন্টারনেট বন্ধ করার পর যে বিক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তার কারণেই মহাশক্তিশালী এক সরকারের পতন ঘটেছিল।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল খাতই বর্তমানে মূল খাত। কারণ এটি থেকেই পরিবর্তন আসবে। এ খাত থেকেই অন্যান্য সব খাত প্রভাবিত হবে।’

জালিয়াতি প্রথা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হয়েছে। এতে বিদেশে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমাদেরকে প্রযুক্তিতে ভালো করতে হলে এই জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে নিয়ে আমরা মাথা উঁচু করে চলতে চাই। আমাদের সেই সামর্থ্য রয়েছে।’

সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এটি একটি দাস প্রথার সামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে।’

সরকারি কর্মকর্তাদের পাঁচ বছরের বেশি সরকারি চাকরি করা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি। বলেন, ‘তাহলে তার মাইন্ড সেট হয়ে যায়। সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পর পর নতুন করে শুরু করা উচিত। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য পরিবর্তন হলেও মানুষরা সেই প্রতিষ্ঠানে পুরোনো ধ্যান ধারণা নিয়ে বসে রয়েছে।’




বিশ্বের ‘সবচেয়ে বাজে’ লিগের তকমা পেল বিপিএল

ক্রীড়া ডেস্কঃ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) নিয়ে যেন বিতর্ক থামছেই না। ঘরোয়া গণ্ডি ছাড়িয়ে সেসব বিতর্কের খবর বিশ্বের নামকরা সংবাদমাধ্যমেও পৌঁছায়, যার আঁচ পাওয়া গেল ব্রিটিশ ম্যাগাজিন ‘দ্য ক্রিকেটার’ এর পর্যালোচনায়। 

তাদের করা র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে তলানির ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বাংলাদেশের এই আসর।

আইসিসি স্বীকৃত ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) অবস্থান দশম। চারটি মানদণ্ডের ওপর ভিত্তি করে এই র‌্যাংকিং করেছে দ্য ক্রিকেটার। 
সেগুলো হলো- বিনোদনমূল্য, খেলার মান, গ্রহণযোগ্যতা এবং সামগ্রিক অবস্থান। দশটি লিগের মধ্যে চালানো এই পর্যালোচনায় বিপিএল তিনটি ক্যাটাগরিতেই রয়েছে দশ নম্বরে। শুধু স্থায়িত্ব বা গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি ২০ রয়েছে দশম স্থানে, যেখানে বিপিএল নবম।
সামগ্রিক বিচারে আইপিএল, বিগ ব্যাশ, এসএ টি-টোয়েন্টি, দ্য হানড্রেড তো বটেই, বিপিএলের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) এবং যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটও। অনুমিতভাবেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগ ভারতের আইপিএল রয়েছে শীর্ষে, তারপরেই দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টি-টোয়েন্টির  অবস্থান। ক্রিকেটের মান এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে আইপিএল এক নম্বরে থাকলেও বিনোদনের দিক থেকে এসএ টি-টোয়েন্টিকে প্রথমে রাখা হয়েছে।
‘দ্য ক্রিকেটার’ জানিয়েছে, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কম রেটিং পেয়েছে লংকান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। 

তাদের মতে, ‘সবচেয়ে নিচে থাকা দুটি টুর্নামেন্ট এলপিএল এবং বিপিএল, যেগুলোর সঙ্গে আর্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ লেগেই আছে।’




৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে মার্কিন ডলারের দাম

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের মূল্যে বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং এটি গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান নির্ণয়কারী সূচক বা ‘ডলার ইনডেক্স’ ৯৫ দশমিক ৫৬৬-এ নেমে এসেছে।

এটি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে ডলারের সবচেয়ে দুর্বল অবস্থান। ডলারের এই নজিরবিহীন দরপতনের সরাসরি প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২০০ ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনিশ্চয়তাই ডলারের এই পতনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক নীতি সুদহার আরও কমানোর সম্ভাবনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতি ডলারের মানকে চাপের মুখে ফেলেছে। এছাড়া শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে।

বিনিয়োগকারীরা এখন ডলারের চেয়ে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ বা অন্যান্য বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ করাকে অধিক লাভজনক মনে করছেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মার্কিন অর্থনীতির এই অস্থিতিশীলতা বজায় থাকলে ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ডলারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই আইওয়ায় এক ভাষণের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তিনি ডলারের মান আরও কমে যাক—এমনটি চান না। ডলারের বর্তমান অবস্থানকে তিনি ‘দারুণ’ হিসেবে অভিহিত করলেও তাঁর এই মন্তব্য বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হয়েছে।

উল্টো ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ডলারের পতন আরও ত্বরান্বিত হয়েছে বলে লক্ষ করা গেছে। সিনিয়র বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওংয়ের মতে, হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরা ভবিষ্যতে ডলারের মান আরও কমিয়ে রাখতে পারেন—এমন একটি ধারণা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জেঁকে বসেছে, যা স্বর্ণের বাজারকে আরও চাঙা করে তুলছে।

ডলারের মান চার বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসার ফলে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায় এবং বুধবার তা ৫ হাজার ২০০ ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যায়। এই পরিস্থিতি বিশ্বব্যাপী আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষ করে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য ডলারের এই দুর্বলতা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারলেও স্বর্ণ ও জ্বালানি তেলের মতো পণ্যের উচ্চমূল্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মহল এখন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।

সূত্র-রয়টার্স