মধ্যপ্রাচ্যে ঢুকলো মার্কিন রণতরী, ইরান ও হিজবুল্লাহর পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং তার সহায়ক যুদ্ধজাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছেছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় এই মোতায়েনের খবর নিশ্চিত করেছে। 

সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই এই নৌবহরটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত দিয়ে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানোর যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, এই মোতায়েন মূলত তারই অংশ। এর ফলে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা একটি বড় ধরনের সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

মার্কিন এই সামরিক শক্তিবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় ইরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো ধরনের মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের রণতরী মোতায়েন করে ইরানি জাতিকে রক্ষা করার দৃঢ় সংকল্প থেকে তেহরানকে বিচ্যুত করা যাবে না।

তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, যেকোনো হামলাকে তারা ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং এর প্রতিক্রিয়া হবে ‘অনুতাপ উদ্রেককারী’। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া রেষারেষি এবং সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকার জের ধরে দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধংদেহি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক টেলিভিশন ভাষণে জানিয়েছেন, তেহরানের ওপর যেকোনো হামলা হিজবুল্লাহর ওপর হামলা হিসেবেই গণ্য হবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, ইরানের ওপর নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে তা পুরো অঞ্চলকে জ্বালিয়ে দেবে এবং এই লড়াইয়ে হিজবুল্লাহ কখনোই নিরপেক্ষ থাকবে না।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিকূল সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। উল্লেখ্য যে, আবুধাবির দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমান ঘাঁটিটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও আমিরাতের এই অবস্থান কূটনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

পেন্টাগন কেবল রণতরীই নয়, বরং ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান এবং অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করছে। সপ্তাহান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনী ঘোষণা করেছে যে, তারা এই অঞ্চলে একটি মহড়া পরিচালনা করবে যার মূল উদ্দেশ্য হবে প্রতিকূল পরিবেশে বিমান শক্তি মোতায়েন ও টিকিয়ে রাখার সক্ষমতা প্রদর্শন করা।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনে ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রেক্ষিতে ট্রাম্পের এই সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি মূলত ইরান ও আমেরিকার দীর্ঘদিনের বৈরিতাকে এক নতুন ও বিপজ্জনক চূড়ান্ত রূপ দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক বিশাল বারুদস্তূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে যেকোনো একটি ছোট ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও বিধ্বংসী যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড




ঐতিহ্যবাহী গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গুনিয়াউক দরবার শরীফের বার্ষিক ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জানা যায় প্রতিবছরের ন্যায় এবার ও ৩ দিন ব্যাপী এ ওরশ মোবারক চলমান থাকবে।

দরবার শরীফের পীরসাহেব শাহ সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী আল ক্বাদেরী বলেন ২৯/৩০/৩১ জানুয়ারি ২৬ ইং ১৫/১৬/১৭ মাঘ ১৪৩২ বাংলা রোজ বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার ধারাবাহিক ভাবে ওরশের কার্যক্রম চলবে।

উল্লেখ্য যে সৈয়দ আব্দুস সামাদ চিশতী (র:) এবং উনার বড় সাহেবজাদা শাহ সুফি সৈয়দ আবুল কালাম বাবুল চিশতী আল হোসািনী (র:) এর বংশধরেরা আশেকান মুরিদানদের বিভিন্ন তালিমের মাধ্যমে দেশবরেণ্য উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে দুনিয়া ও আখেরাতের সওয়াব হাসিলের জন্য মুলত এ ওরশ মোবারক পরিচালনা করে আসছেন।
হাজার হাজার আশেকান মুরিদান এমন কি নওমুসলিমরা ও দল মত নির্বিশেষে এ ওরশ মোবারকে অংশ গ্রহণ করে বলে জনশ্রুতি আছে।

৩ দিন ব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ধারাবাহিক ভাবে প্রথম দিন সৈয়দ আব্দুল মুকিত বকুল সাহেব দ্বিতীয় দিন সৈয়দ সাদী চিশতী আল হোসাইনী সাহেব এবং তৃতীয় ও সমাপনী দিন সৈয়দ আব্দুল আওয়াল বুলবুল চিশতী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করবেন বলে ওরশ কমিটির সভাপতি প্রতিবেদককে জানান।

বিশ্ব মুসলিমের ক্রান্তিলগ্নে মুসলিম উম্মাহর দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তি ও বিশ্বশান্তির জন্য বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে ওরশের সমাপ্তি হবে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেন৷




গণপূর্তে বদলির বাইরে এক প্রকৌশলী: আওয়ামী ছত্রছায়ায় ঢাকায় স্থায়ী ছিলেন স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি চাকরির বদলি নীতিমালা রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অন্যতম মূল ভিত্তি হলেও গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে সেই নীতিমালার কার্যকারিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এক নির্বাহী প্রকৌশলীর ক্ষেত্রে বদলি বিধি যেন অলিখিতভাবে অকার্যকর ছিল। তিনি হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের সদ্য বদলিকৃত ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল। চাকরি জীবনের শুরু থেকেই রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করা এই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে বদলি যেন কখনোই বাধ্যতামূলক ছিল না।

গণপূর্ত সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অধিদপ্তরে যোগদানের পরই তিনি এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর সুপারিশে ঢাকায় পোস্টিং লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোন ও প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেন। যেখানে নিয়ম অনুযায়ী শতাধিক প্রকৌশলীকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বদলি হতে হয়েছে, সেখানে স্বর্ণেন্দু শেখরের জন্য ঢাকাই যেন হয়ে ওঠে স্থায়ী কর্মস্থল—যেন এটি তার বাপ-দাদার জমিদারি।

ঢাকায় অবস্থানকালেই তিনি দলীয় লবিং ও প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক সুবিধাজনক পদায়ন নিশ্চিত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, উন্নয়ন বা মেরামত প্রকল্প মানেই সেখানে কোটি কোটি টাকার কাজ, আর সেই কাজ ঘিরেই গড়ে ওঠে কমিশন বাণিজ্যের সুযোগ। অভিযোগ রয়েছে, বহু প্রকল্পে মাঠ পর্যায়ে কার্যত কোনো কাজ না করেই কাগজে সম্পূর্ণ দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। ঠিকাদার ও কর্তা সিন্ডিকেটের মধ্যে সেই অর্থ ভাগাভাগি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের।

তাদের আরও দাবি, গত দুই অর্থবছরের টেন্ডার ও বিল সংক্রান্ত নথিপত্র নিরীক্ষা করা হলে এই অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলতে পারে। কাজের মান যাচাই না করেই বিল অনুমোদনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার দায়িত্বে থাকাকালে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলকে নিয়মিত সচিবালয়ে অবস্থান করতে দেখা যেত বলে জানিয়েছেন একাধিক কর্মকর্তা। নিজ কার্যালয়ে তাকে পাওয়া যেত না বললেই চলে। ‘সচিবের একান্ত লোক’ হিসেবে পরিচিত থাকার কারণে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর নির্দেশনাকেও উপেক্ষা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি মৌখিক সতর্কবার্তাও তার কাছে গুরুত্বহীন ছিল বলে দাবি সহকর্মীদের।

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল খুলনা জেলার এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার সন্তান। তার পিতা অর্ধেন্দু শেখর মন্ডল ছিলেন সাতক্ষীরার পাইকগাছা উপজেলার গড়াইখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলীয় পরিচয়ের সুবাদে আওয়ামী লীগ শাসনামলে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরে অঘোষিত ‘সুপারম্যান’ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ সূত্রের দাবি, তিনি সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অঘোষিত ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে আলোচিত ঠিকাদার জিকে শামীম সিন্ডিকেটের ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী হিসেবেও তার নাম উঠে এসেছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগেও তার সংশ্লিষ্টতার কথা বিভিন্ন মহলে আলোচিত।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ভেতরে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও তার ভূমিকা ছিল নিয়ন্ত্রকের মতো—এমন অভিযোগ রয়েছে। উপসহকারী থেকে নির্বাহী পর্যায়ের বহু প্রকৌশলীর বদলি ও পোস্টিংয়ের পেছনে তার প্রত্যক্ষ প্রভাব কাজ করেছে বলে সূত্র জানায়। পদায়ন মানেই মোটা অঙ্কের লেনদেন—এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী আমলাতান্ত্রিক ও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত বিপুল অর্থের বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংকিং তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান চালায়, তবে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের চাপেই তাকে অবশেষে ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জে বদলি করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সেখানেও তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদী ঠিকাদার ও দোসরদের সঙ্গে নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী বলয়ের পুনর্বাসনের কৌশলগত তৎপরতাও চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরে যদি দীর্ঘদিন ধরে এমন দলীয় আশ্রয়ে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সাম্রাজ্য টিকে থাকে, তবে প্রশ্ন উঠবেই—এতদিন কারা তাকে আগলে রেখেছিল? কার স্বার্থে বদলি নীতিমালা অকার্যকর ছিল? আর কার ছত্রছায়ায় এই ফ্যাসিবাদী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল?
এখন সময় এসেছে অদৃশ্য বদলি-রুলের আড়ালে থাকা এসব দুর্নীতির গডফাদারদের মুখোশ উন্মোচনের।




বাংলাদেশিদের সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ডেস্ক নিউজঃ বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। অভিবাসন ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র এবার জানিয়েছে, ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রামের আওতায় সর্বোচ্চ তিন মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি (একবার প্রবেশযোগ্য) ভিসা দেওয়া হবে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তায় ‘ভিসা বন্ড’ পাইলট প্রোগ্রাম কীভাবে কাজ করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

এর আগে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পরে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভিসা বন্ড’ তালিকায় যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা বন্ড কার্যকর হয়েছে ২১ জানুয়ারি থেকে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জানায়, ভিসা বন্ড প্রোগ্রামের আওতায় আবেদনকারীদের জন্য যেসব শর্ত প্রযোজ্য হবে, সেগুলো হলো—

  • ভিসার জন্য অনুমোদন পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ভিসা বন্ড পরিশোধ করতে হবে

  • ভিসা ইন্টারভিউয়ের পর যোগ্য বিবেচিত হলে কনসুলার কর্মকর্তা pay.gov–এর সরাসরি লিংকসহ পরিশোধের নির্দেশনা দেবেন

  • সর্বোচ্চ ৩ মাস মেয়াদি সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হবে

  • নির্ধারিত কিছু পোর্ট অব এন্ট্রি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে

  • যুক্তরাষ্ট্রে কাজ না করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরে এলে
    বন্ডের অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া হবে

ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ায়, বাংলাদেশি নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জামানত (ভিসা বন্ড) জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, এই পাইলট প্রোগ্রামের মূল উদ্দেশ্য হলো ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যারা অবৈধভাবে থেকে যান (ওভারস্টে), তাদের নিরুৎসাহিত করা। যেসব দেশের নাগরিকদের ওভারস্টের হার বেশি, মূলত সেসব দেশকেই এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ভিসা বন্ড প্রদানকারী বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে তিনটি নির্দিষ্ট বিমানবন্দর নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো—

  • বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS)

  • জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK)

  • ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD)

নির্ধারিত এসব বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা প্রস্থান করলে ভিসা বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হতে পারে, যা অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় রয়েছে— আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল ও উগান্ডা। দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ থেকে এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে।

ভিসা বন্ড হলো একটি ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা কিছু দেশ নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের সাময়িক ভিসা দেওয়ার আগে গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে ভিসার শর্ত, বিশেষ করে থাকার সময়সীমা মেনে চলা নিশ্চিত করা হয়।

প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মীকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দেয়। অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করলে সেটিকে ভিসা ওভারস্টে বলা হয়।

উল্লেখ্য, অতীতে নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যও ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে ভিসা বন্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে পরে তা বাতিল করা হয়।




এবার সিনেমায় নিশো-মেহজাবীন জুটি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জুটি বেঁধে নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন অনেকবার। এবার সিনেমায় জুটি বাঁধতে চলেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

নির্মাতা ভিকি জাহেদের সাসপেন্স-থ্রিলার সিনেমা ‌‘পুলসিরাত’-এ দেখা যাবে দুজনকে। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই সিনেমাটির প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির অভিনয়শিল্পী, গল্প ও শুটিং-সংক্রান্ত বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে।

সম্প্রতি রেদওয়ান রনি পরিচালিত সিনেমা ‘দম’-এর শুটিং শেষ করেছেন আফরান নিশো। অন্যদিকে, মেহজাবীন চৌধুরী কাজ করছেন ‘ক্যাকটাস’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে। এতে তার বিপরীতে সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান অভিনয় করছেন।




ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে

মোঃলিমন হোসেন: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের ৭ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানা রোডস্থ ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি জনাব সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন টঙ্গী পূর্ব মেট্রো থানা যুবদলের আহ্বায়ক জনাব আকবর হোসেন ফারুক।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম সাথী, ও আলোর মিছিল শিক্ষা পরিবারের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ আখতার হোসেন, সভাপতিত্ব করেন, বৃহত্তর টঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সহ-সভাপতি জনাব মোঃ আব্দুল্লাহ আল-হাতেম এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বৃহত্তর টঙ্গী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক।



ফটোগ্রাফারদের অনুপ্রাণিত করে তুলতে একযোগে কাজ করবে রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি অপো ও পাঠশালা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশের ফটোগ্রাফারদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়েছে অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট। এই অংশীদারিত্বের মূল উদ্দেশ্য হলো সৃজনশীল প্ল্যাটফর্ম তৈরি, যেখানে পেশাদার মেন্টরশিপ ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশজুড়ে ফটোগ্রাফি-প্রেমীদের উৎসাহিত এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ের মাধ্যমে ছবি তোলাকে অনুপ্রাণিত করা হবে।
এই অংশীদারিত্বের আওতায় অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজির ‘অ্যাকাডেমিক পার্টনার’ হিসেবে কাজ করবে পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট। তারা দেশব্যাপী যৌথভাবে ‘এভরি শট টেলস এ স্টোরি’ থিমে একটি উদ্যোগ পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে ফটোগ্রাফারদের মোবাইল ফটোগ্রাফির সাহায্যে গল্প খুঁজে পেতে উৎসাহিত করা হবে; যেন উন্নত স্মার্টফোন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিদিনের সাধারণ মুহূর্তগুলোকেও আকর্ষণীয় ভিজ্যুয়াল গল্পে রূপান্তর করা যায়।
এই অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে অপো ও পাঠশালা দেশজুড়ে একসাথে বিভিন্ন ফটোগ্রাফি ক্যাম্পেইন ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এই উদ্যোগগুলো ফটোগ্রাফিতে উৎসাহীদের তাদের সৃজনশীল প্রতিভা তুলে ধরা, চারপাশের প্রকৃত গল্পগুলো ক্যামেরাবন্দি করা এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি লাভের সুযোগ করে দেবে। নির্বাচিত অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীরা পাঠশালার অভিজ্ঞ শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে মেন্টরশিপ, পেশাদার মূল্যায়ন ও সার্টিফিকেট পাবেন।
এছাড়াও, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানাধরণের ফটোগ্রাফি ওয়ার্কশপ বা কর্মশালা পরিচালনা করা হবে। এই কর্মশালাগুলো মোবাইল ফটোগ্রাফি কৌশল, ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিং, কম্পোজিশন, নৈতিক চর্চা ও ক্রিয়েটিভ এক্সপ্রেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করবে। কর্মশালাগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আয়োজিত হবে যেন ব্যাকগ্রাউন্ড ও কমিউনিটি নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থী ও উদীয়মান ফটোগ্রাফাররা এতে সহজেই এতে অংশ নিতে পারেন।
এই অংশীতারিত্বের বিষয়ে অপো বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র জানান যে, এই উদ্যোগটি উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও তরুণদের ক্ষমতায়নের প্রতি অপোর দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ওই মুখপাত্র বলেন, “অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজির মাধ্যমে আমরা মোবাইল ফটোগ্রাফির সীমানাকে আরও প্রসারিত করছি। পাঠশালার সাথে এই অংশীদারিত্ব আমাদের ইমেজিং প্রযুক্তির সাথে অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্সের সমন্বয় ঘটানোর সুযোগ করে দিয়েছে, যা তরুণ নির্মাতাদের প্রতিটি ফ্রেমের মাধ্যমে অর্থবহ গল্প বলতে আরও সক্ষম করে তুলবে।”
পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের প্রতিনিধিরা এই অংশীদারিত্বের বিষয়ে যথেষ্ট উদ্দীপনা প্রকাশ করেছেন। তারা সৃজনশীল শিক্ষার সহজলভ্যতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “ফটোগ্রাফি মানে কেবল ছবি তোলা নয়; এটি গল্প বলা, নৈতিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গিরও বিষয়। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশের উচ্চাকাঙ্ক্ষী ফটোগ্রাফারদের অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজির মতো শক্তিশালী টুল ব্যবহার করার পাশাপাশি, পেশাদার নির্দেশনার মাধ্যমে শেখা ও বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে।”
অপো রেনো১৫ সিরিজ ফাইভজি উন্নত হার্ডওয়্যার ও ইন্টেলিজেন্ট ইমেজিং ফিচারের সমন্বয়ে মোবাইল ফটোগ্রাফিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ডিভাইসে রয়েছে ৫০ মেগাপিক্সেল আল্ট্রা-ওয়াইড সেলফি ক্যামেরা, যা ডিটেইল সেলফ-পোট্রেট তুলতে সক্ষম। এতে আরও রয়েছে ৩.৫X টেলিফটো ভাইব পোট্রেট, যা বিষয়ের গভীরতা ও ফোকাস নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলে; একইসাথে এর এআই পোট্রেট গ্লো, যা ত্বকের স্বাভাবিক টেক্সচার ঠিক রেখে ইন্টেলিজেন্টভাবে স্কিন টোন ও লাইটিং উন্নত করে। এই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীদের সাবলীল ও নিখুঁত পোট্রেট ও সিনেমাটিক দৃশ্য ধারণ করতে সহায়তা করে।
বাস্তবমুখী ক্যাম্পেইন ও কর্মশালার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিনের জীবন, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, মানুষের আবেগ ও বাংলাদেশের না বলা গল্পগুলো একত্রিত করতে উৎসাহিত করা হবে। এর ফলে মোবাইল ফটোগ্রাফি হয়ে উঠবে অনুভূতি প্রকাশের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
এই অংশীদারিত্ব প্রযুক্তির সাথে সৃজনশীল শিক্ষার সেতুবন্ধন তৈরিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা উদ্ভাবনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশের সুযোগ করে দেওয়ার পাশাপাশি, বাংলাদেশের সৃজনশীল ইকোসিস্টেম জোরদারে অপোর লক্ষ্যকে আরও শক্তিশালী করবে। আগামী দিনগুলোতে অপো বাংলাদেশ ও পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট যৌথভাবে আসন্ন ক্যাম্পেইন, প্রতিযোগিতা ও কর্মশালার সময়সূচী ঘোষণা করবে।



ফরিদপুরে কাফনের কাপড় পরে নির্বাচনী প্রচারণা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আজ ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল দশটায়, ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন)-এ জাতীয় পার্টি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি রায়হান জামিল রায়হান জামিল -এর নির্বাচনী প্রচারণাকালে হুমকি ও গালাগালির ঘটনার প্রতিবাদে ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি পালন করেছেন তাঁর সমর্থকরা।

চরভদ্রাসন উপজেলার ম্যাজিস্ট্রেট বাজার এলাকায় মুফতি রায়হান জামিলের নেতৃত্বে ও তাঁর সমর্থকদের অংশগ্রহণে কাফনের কাপড় পরিধান করে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। এ কর্মসূচির মাধ্যমে তারা নির্বাচনী পরিবেশে বাধা, ভয়ভীতি ও অশালীন আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।

এ সময় মুফতি রায়হান জামিল বলেন,
“নির্বাচনী প্রচারণায় হুমকি ও গালাগালি জনগণের অধিকার ও ন্যায়সংগত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিপন্থী। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।”

সমর্থকরা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, সব ধরনের ভয়ভীতি বা বাধা উপেক্ষা করেই তারা জনগণের অধিকার রক্ষায় মাঠে থাকবেন।

উল্লেখ্য, মুফতি রায়হান জামিল দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর-৪ এলাকায় সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচিত। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ১০ টাকায় ইলিশ মাছ, ৩০ নভেম্বর ১ টাকা কেজি দরে গরুর মাংস এবং ১১ জুলাই ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের মতো উদ্যোগ নিয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন। এ ছাড়া নির্বাচনী গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল, পাশাপাশি গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিজে মাথায় করে চালের বস্তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে।




নীলফামারীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী হাসপাতাল গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্রে পরিণত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা প্রকল্পটি রোববার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় অনুমোদন পেয়েছে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকায় পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর ৮ম সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস।

একনেক সভায় প্রকল্প অনুমোদন প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই হাসপাতাল শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে একটি কৌশলগত বিনিয়োগ। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকাতেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রংপুর ও ঢাকা-কেন্দ্রিক হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবার বিকেন্দ্রীকরণ জরুরি। নীলফামারীর এই হাসপাতাল সেই লক্ষ্য অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শুধু বাংলাদেশের রোগীরাই নয়, এটি দক্ষিণ এশিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। নেপাল ও ভূটানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর রোগীরাও এখানে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে আঞ্চলিক পর্যায়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে।’

প্রধান উপদেস্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৯ সময়কালে বাস্তবায়িত হবে। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৪৫৯.৩৫ কোটি টাকা, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ১৭৯.২৭ কোটি টাকা এবং বাকি অংশ চীনা অনুদান সহায়তা।

গত বছরের মার্চ মাসে চীন সফরকালে বাংলাদেশে একটি উন্নত হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের কাছে অনুরোধ করেছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে দ্রুততার সঙ্গে চীন এই উদ্যোগ গ্রহণ করে।

প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী সদর উপজেলায় একটি আধুনিক ১০ তলা হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ডরমেটরি ও আবাসিক ভবন, ডিরেক্টরস বাংলা, প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।

এই হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসার পাশাপাশি নেফ্রোলজি, কার্ডিওলজি, অনকোলজি, নিউরোলজি প্রভৃতি বিশেষায়িত বিভাগে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। আধুনিক জরুরি বিভাগ, আইসিইউ, সিসিইউ ও এইচডিইউ, উন্নত ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং অপারেশন থিয়েটারের মাধ্যমে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে।




আইসিসির দ্বিমুখী নীতির আসল চেহারা উন্মোচন করলো উইজডেন

ক্রীড়া ডেস্কঃ নিরাপত্তা শঙ্কায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

অথচ গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের জন্য ভারতের করা একই ধরনের অনুরোধ ঠিকই রেখেছিল আইসিসি। আর দুই ঘটনাকে সামনে রেখে বিখ্যাত ক্রিকেট ম্যাগাজিন উইজডেন প্রশ্ন তুলেছে, এটি কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নয়?

উল্লেখ্য, কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় বিসিসিআই। ওই ঘটনার পরই নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে ভারতে থেকে বিশ্বকাপ ভেন্যু পরিবর্তনের আহ্বান জানায় বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটার, স্টাফ, ফ্যান ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আইসিসিকে ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় বিসিবি।

কিন্তু ভারতীয় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি আমলে নিতে রাজি হয়নি। বাংলাদেশকে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেয় আইসিসি। বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় আইসিসি বদলি হিসেবে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। টুর্নামেন্টটি এককভাবে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ভারত জানিয়ে দেয়, তারা পাকিস্তানে সফর করবে না। নিজেদের ম্যাচের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যুর দাবি তুলেছিল দেশটি। দীর্ঘ আলোচনার পর সে দাবি মেনে নেয় আইসিসি। ভারত তাদের সব ম্যাচ দুবাইয়ে খেলে। ভ্রমণের ধকল না থাকা এবং সব ম্যাচ একই মাঠে খেলার ‘বাড়তি সুবিধা’ কাজে লাগিয়ে টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতে ভারত।

এই দুটি ঘটনা বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ন্যায্যতা আদৌ শর্তসাপেক্ষ কিনা— সে প্রশ্ন তুলেছে উইজডেন। ভারত তাদের সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তিন মাস সময় পেয়েছিল; অন্যদিকে সূচি ও গ্রুপ ঘোষণার পর বাংলাদেশের হাতে ছিল মাত্র এক মাস। শুধু সময়ের ব্যবধানই কি আইসিসির ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ডকে’ ন্যায্যতা দিতে পারে?

উইজডেনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংকট তৈরিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার ভূমিকা কি উপেক্ষা করা যায়? বিসিসিআই কখনোই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে নিরাপত্তার কথা বলেনি। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’—এই একটি কথাই ছিল ব্যাখ্যা।

বাংলাদেশ এটিকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখেছে—যদি একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে পুরো দলকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে? মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ছিল নিঃশর্ত ও অনুতাপহীন। কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই একজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়ে বিসিসিআই স্পষ্ট বার্তা দেয়, ক্রিকেট রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহৃত হতে পারে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্রিকেটের মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে ভারত। বাংলাদেশ তাদের খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় দাঁড়ালেও আত্মসম্মান ও নীতির প্রশ্নে কঠোর অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্য হুমকির পথে গেছে। যার ফলে আইসিসির জন্য না বলাটা সহজ হয়েছে বলে মনে করে উইজডেন।

অন্যদিকে ভারত জানে, অর্থনৈতিক শক্তি ও সুপারস্টারদের কারণে তাদের ছাড়া আইসিসি টুর্নামেন্ট প্রায় অচল। তাই তারা পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পেরেছে। লড়াইয়ের পাল্লা শুরু থেকেই ভারতের দিকেই ভারী ছিল, যা দেখিয়ে দেয় কীভাবে ক্ষমতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক শক্তি, সিদ্ধান্তকে নিজের পক্ষে বাঁকিয়ে নিতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের তেমন সামর্থ্য ছিল না। তাই এমন এক সিদ্ধান্তের খেসারত তাদের দিতে হয়েছে, যার কথা তারা তিন সপ্তাহ আগেও ভাবেনি। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে ছিল, কিন্তু এখন আর নেই। শুধু নিজেদের পক্ষে দাঁড়ানোর কারণেই।