মাদকাসক্তির শীর্ষে ঢাকা, সর্বনিম্নে বরিশাল

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশের মাদক ব্যবহারকারীদের ৬০ শতাংশের বেশি প্রথমবার মাদক গ্রহণ করে। মাদক গ্রহণ শুরুর পেছনে বড় ভূমিকা রাখে বন্ধুদের প্রভাব। বর্তমানে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ। দেশে মাদক সমস্যা নিয়ে এক জাতীয় গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অর্থায়নে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্ট লিমিটেড।

গবেষণা মতে, এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে আর সর্বনিম্ন বরিশাল বিভাগে। গবেষকরা জানান, তরুণদের পাশাপাশি কিশোরদের মধ্যেও মাদক ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল বিএমইউর কনফারেন্স হলে ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণগগুলো’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। গবেষণায় দেশের আট বিভাগের ১৩টি জেলা ও ২৬টি উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার ২৮০ জনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এতে পরিমাণগত ও গুণগত উভয় পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮২ লাখ, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। তাদের বড় একটি অংশ তরুণ বয়সী। গবেষণায় উঠে আসে, মাদক ব্যবহার এখন শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর সমান গুরুত্ব না দিলে এই সংকট আরো গভীর হবে। গবেষণার এই ফল এবং প্রস্তাবিত পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলো বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি গ্রহণে সহায়ক হবে।

গবেষণাটির প্রধান গবেষক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ‘দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত মাদক হলো গাঁজা। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ইয়াবা, হেরোইন, ফেনসিডিল ও কোডিনজাত কাশির সিরাপ।’

তিনি বলেন, ‘ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা এইচআইভি, হেপাটাইটিসসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। বিষয়টি এখন বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।’

গবেষণায় দেখা যায়, শহরাঞ্চলে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হলেও গ্রামাঞ্চলেও এর বিস্তার দ্রুত বাড়ছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক এবং বরিশাল বিভাগে সর্বনিম্ন। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলা এবং বড় শহরের আশপাশের এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবহার ও সরবরাহের ঝুঁকি বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষণায় মাদক গ্রহণের প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বন্ধুদের প্রভাব, কৌতূহল, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ। অনেক ক্ষেত্রে কিশোররা সামাজিক পরিবেশ ও সঙ্গদোষে অল্প বয়সেই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে গবেষকরা জানান।

গবেষণায় আরো বলা হয়, মাদকাসক্তদের বড় একটি অংশ কখনোই চিকিৎসা বা পুনর্বাসন সেবা গ্রহণ করে না। যারা চিকিৎসা নেয়, তাদের অনেকেই ধারাবাহিক ও মানসম্মত সেবা পায় না। ফলে পুনরায় মাদক গ্রহণে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় হিসেবে দেখলে সমাধান আসবে না। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিরোধের পাশাপাশি চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর ও তরুণদের লক্ষ করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা বিস্তারের লক্ষ্যে সরকার ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ।

তিনি বলেন, ‘দেশে মাদক ব্যবহার এখন আর বিচ্ছিন্ন কিছু মানুষের সমস্যা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবার থেকেই এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।’

ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, ‘শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন, সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই যদি প্রতিরোধ শুরু না হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না।’

মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে হাসান মারুফ জানান, এই সংকট মোকাবেলায় ঢাকার বাইরে আরো সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে বর্তমান সরকার। এই কেন্দ্রগুলো চালু হলে বিভাগীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ বাড়বে এবং মাদকাসক্তদের সমাজে পুনঃ অন্তর্ভুক্তির পথ সহজ হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শাহিনুল আলম বলেন, ‘মাদক প্রতিরোধে রাজনৈতিক কমিটমেন্ট এবং আরো গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, কিছুসংখ্যক খারাপ মানুষই শুধু মাদকাসক্ত এবং আমরা বা আমাদের সন্তানেরা নিরাপদ। প্রকৃতপক্ষে আমরা সবাই এবং আমাদের সন্তানরাও মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছি। এই ঝুঁকি মোকাবেলায় ব্যক্তি বা একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সব স্তরের মানুষকে সচেতন হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার বলেন, ‘মাদক সমস্যার সমাধানে শুধু সরবরাহ বন্ধ করলেই হবে না, একই সঙ্গে চাহিদাও কমাতে হবে। বিশেষ করে শিশুরা ও তরুণরা জীবনকে ঠিকভাবে বুঝে ওঠার আগেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’




আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’- কে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা গ্রহীতা ও অংশীজনদের অভিনন্দন জানান।

বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালুসহ কাস্টমস কার্যক্রম আধুনিকায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমস প্রশাসন অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, পেশাগত দক্ষতা, বিশেষায়িত জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




২ মাস পর এনআইডি সংশোধন কার্যক্রম চালু

ডেস্ক নিউজঃ দীর্ঘ দুই মাস বন্ধ থাকার পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের সুযোগ পুনরায় চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল থেকে এই সেবাটি সাধারণ মানুষের জন্য আবারও সচল করা হয়েছে।

এনআইডি মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন থেকে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে এনআইডি সংশোধন করা যাবে।

কেন এতদিন এই কার্যক্রম বন্ধ ছিল–এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পোস্টাল ভোটের (ওসিভি ও আইপিসিভি) নিবন্ধন ও প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করার মতো বড় কাজগুলো চলছিল। এই জটিল টেকনিক্যাল কাজগুলো চলাকালীন এনআইডি সংশোধনের ডেটাবেজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন সেই কাজগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় আমরা স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে এসেছি।’

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং এনআইডি সংক্রান্ত যে কোনো অপব্যবহার বা ভুল তথ্য পরিবর্তন ঠেকাতে গত বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে এই কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল ইসি। আজ নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে এটি আবারও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

এখন থেকে নাগরিকরা যে কোনো ভুল সংশোধন বা তথ্য পরিবর্তনের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে আবেদন করতে পারবেন।




একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই

ডেস্ক নিউজঃ বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক ও একাত্তরে বাংলাদেশের বন্ধু মার্ক টালি আর নেই। রোববার (২৫ জানুয়ারি) দিল্লির একটি বেরসকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

মার্ক টালি দীর্ঘদিন বিবিসিতে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওর মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ ও বাঙালির দুর্দশার চিত্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেন তিনি। মার্ক টালি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।

ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার অন্যতম উৎস।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্ক টালির জন্ম ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে। পেশাগত জীবনের বড় অংশ তিনি কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।

বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে খবর সংগ্রহ করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে একাত্তরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন। সেই প্রথম এবং শেষ বারের মতো পাকিস্তানী সরকার দুই সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। মার্ক টালি ১৯৭১ সালের সেই সফরে ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে মার্ক টালি বলেছিলেন, ‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছালো এবং তারা মনে করলো যে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। আমার সঙ্গে তখন ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।’

বিবিসি বাংলাকে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেহেতু স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ পেয়েছি, সেজন্য আমাদের সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে সড়কের দু’পাশে দেখেছিলাম যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার জন্য মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দেয় বাংলাদেশ। বিবিসি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।




আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আগামীকাল আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত এবারের প্রতিপাদ্য- ‘অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস’- কে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপন হচ্ছে। এ উপলক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশ কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সেবা গ্রহীতা ও অংশীজনদের অভিনন্দন জানান।

বাণীতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষা, নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সীমান্ত অংশীদারিত্ব শক্তিশালীকরণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য ব্যবস্থা সহজীকরণে বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালুসহ কাস্টমস কার্যক্রম আধুনিকায়নে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ, জবাবদিহিতামূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে কাস্টমস প্রশাসন অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে ভূমিকা রেখে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করছে।

বাণীতে তিনি আরও বলেন, পেশাগত দক্ষতা, বিশেষায়িত জ্ঞান ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বাংলাদেশের কাস্টমস কর্মকর্তারা একটি আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা বিনির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করেন।




মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলার শীর্ষ অবস্থানে

ডেস্ক নিউজঃ মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলার ২০১৪ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। চলতি সপ্তাহে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগত অবস্থান অপরিবর্তিত রাখতে পারে—এমন প্রত্যাশার মধ্যেই মুদ্রাটির এই উত্থান দেখা যাচ্ছে।

জাপানের সম্ভাব্য মুদ্রা হস্তক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতের খবরে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ বেড়েছে। এর প্রভাব হিসেবে সিঙ্গাপুর ডলার ০.৩ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে প্রতি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১.২৬৮৪ সিঙ্গাপুর ডলারে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৩ জানুয়ারি নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার পর্যালোচনার পর থেকেই মার্কিন ডলার দুর্বল হতে শুরু করে। এতে জাপানি ইয়েনের মূল্য ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন ডলারের এই দুর্বলতার সুযোগে অন্যান্য এশীয় মুদ্রাও লাভবান হয়েছে। মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ওন প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার পরিবর্তনের পরিবর্তে মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। দেশটির শেয়ারবাজার, সরকারি বন্ড এবং ধারাবাহিকভাবে স্থিতিশীল নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে।

এর ফলশ্রুতিতে, গত ১২ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্য প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সূত্র: দ্য স্ট্রেইটস টাইমস




কোটি কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল, গোপালগঞ্জে বদলির পর ‘পুনর্বাসন রাজনীতি’র অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারি চাকুরি বিধি উপেক্ষা করে বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে দীর্ঘদিন রাজধানী ঢাকায় অবস্থান, কোটি কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবং ক্ষমতাসীনদের ছত্রচ্ছায়ায় প্রভাব বিস্তার—এমন নানা অভিযোগে আলোচনায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের সদ্য বদলিকৃত সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল।

সূত্রমতে জানা গেছে, চাকরি জীবনের শুরু থেকেই তিনি ঢাকাকেন্দ্রিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতি বছর শতাধিক প্রকৌশলী দেশের বিভিন্ন জেলায় বদলি হলেও অজ্ঞাত কারণে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলের ক্ষেত্রে বদলি বিধান কার্যকর হয়নি বলেই অভিযোগ। দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে কোনো জেলায় তাকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর সুপারিশে তিনি ঢাকাতেই প্রথম পোস্টিং পান এবং পরবর্তীতে দলীয় লবিংয়ের মাধ্যমে সুবিধাজনক পদায়ন নিশ্চিত করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সদ্য বিদায়ী সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা তাকে আরও প্রভাবশালী করে তোলে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গত প্রায় ছয় বছর ধরে বিভিন্ন লোভনীয় জোন ও বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তিনি অবৈধ অর্থ উপার্জনে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বদলি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে ‘বদলি বাণিজ্য’ শুরু করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। উপ-সহকারী প্রকৌশলী থেকে শুরু করে নির্বাহী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীদের পদায়নে তার প্রভাব ছিল উল্লেখযোগ্য।

ঠিকাদারদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে কমিশনের বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন ও মেরামত কাজ বণ্টনে তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন—এমন অভিযোগও রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি শত কোটি টাকার মালিক বনে যান বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য অনুযায়ী, সাবেক সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকারের প্রত্যক্ষ আগ্রহে প্রায় এক বছর আগে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। এই বিভাগটি ঢাকা জোনের অন্যতম লোভনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, এই পদে পদায়ন পেতে অনেক নির্বাহী প্রকৌশলী কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতেও পিছপা হন না।

ঢাকা নগর গণপূর্ত বিভাগে যোগদানের পর বরাদ্দের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি টেন্ডার আহ্বান করে সরকারি অর্থ লুটপাটের পথ সুগম করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে যেখানে বিভাগের বরাদ্দ ছিল প্রায় ৩০ কোটি টাকা, সেখানে ৬০ থেকে ৬৫ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করে ঠিকাদার নির্বাচন ও কাজ বণ্টন করা হয়। এসব কাজের বিপরীতে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

মেরামত কাজের ক্ষেত্রেও বাস্তবে কাজ না করেই কাগজে-কলমে সব সম্পন্ন দেখিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে অর্থ ভাগাভাগি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ঠিকাদার। তাদের দাবি, গত ও চলতি অর্থবছরের মেরামত কাজের টেন্ডার ফাইল নিরীক্ষা করলেই অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সাবেক সচিব শহীদুল্লাহ খন্দকার দায়িত্বে থাকাকালে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলকে প্রায়ই সচিবালয়ে দেখা যেত। নিজ অফিসে তাকে খুব কমই পাওয়া যেত বলে অভিযোগ রয়েছে। সচিবের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিতি থাকায় তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকেও তেমন গুরুত্ব দিতেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তা উপেক্ষিত হয়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। বিশেষ করে ভারতে তার বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন যদি স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল ও তার পরিবারের সদস্যদের জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সম্পদের অনুসন্ধান চালায়, তাহলে জ্ঞাত আয়ের বাইরে বিপুল সম্পদের তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, সার্ভিস রুলস অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা দীর্ঘদিন একই জেলা বা বিভাগে কর্মরত থাকলে বিভাগীয় শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার বিধান রয়েছে। এমনকি চাকরিচ্যুতির ঝুঁকিও থাকে। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সেই প্রেক্ষাপটে স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডল স্বেচ্ছায় প্রায় দুই মাস আগে গোপালগঞ্জে বদলি হন।

তবে অভিযোগ রয়েছে, গোপালগঞ্জে বদলি হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। সেখানে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার সমার্থক ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের রূপরেখা তৈরি এবং ওই গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের কূটকৌশলে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্বর্ণেন্দু শেখর মন্ডলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




গণপূর্ত কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে ‘লুটপাটের নীলনকশা’ : ঠিকাদার বঞ্চনা, সুবিধাভোগী সিন্ডিকেটের কেন্দ্রে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর

বিশেষ প্রতিবেদকঃ গণপূর্ত অধিদপ্তরের কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিটে দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও কাজ বাণিজ্যের মাধ্যমে শতকোটি টাকার সরকারি প্রকল্প নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে সাধারণ লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের কাজ থেকে বঞ্চিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে কাজ তুলে দিচ্ছে।

এই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্পেশাল ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগ শাসনামলে এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সুবিধাভোগী ব্যবস্থাপনা চালু করেছেন।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর একটি কৌশলনির্ভর ঘুষ ও কাজ বণ্টন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদারের কাছে আগেভাগেই প্রকল্পের এস্টিমেট সরবরাহ করা হয়, যার বিপরীতে অগ্রিম ৩ থেকে ৪ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু নির্দিষ্ট ফার্নিচার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানকে গোপনে রেট-কোড সরবরাহ করা হয়, যাতে দরপত্র প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে কাজ নিশ্চিতভাবে পছন্দের কোম্পানির হাতেই যায়।

এতে সাধারণ ঠিকাদাররা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকেই অগ্রিম অর্থ প্রদান করেও মাসের পর মাস কাজ না পেয়ে শুধু আশ্বাসেই আটকে আছেন। আবার কেউ কাজ পেলেও তাকে বাধ্য করা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই মালামাল সংগ্রহ বা উৎপাদন করাতে। অভিযোগ রয়েছে, মৌখিকভাবে হুমকি দেওয়া হয়—নির্দেশ অমান্য করলে চুক্তিপত্র বাতিল করা হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, “ফার্নিচার কনসেপ্ট এন্ড ইন্টেরিয়র লিমিটেড” নামের একটি প্রতিষ্ঠান চলতি ও গত অর্থবছরে অস্বাভাবিক সংখ্যক বড় অঙ্কের কাজ পেয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত থাকতে পারে।

প্রাপ্ত নথি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৫/১৩ নং লটে ৩,৫৩,৪৫,৮০২.৫১৩ টাকা, ২০২৫/৩ নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকা এবং ২০২৫/৪ নং লটে ৩,৩৭,৩৭,৯০২.৫১৩ টাকার কাজ পায়। এসব কাজই ছিল মডেল মসজিদ প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহ ও স্থাপন সংক্রান্ত। এছাড়া ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ২৭,৩৬,১০০ টাকা, শহীদ নায়েব সুবেদার আশরাফ আলী খান বীরবিক্রম লাইব্রেরিতে ১,৮২,৩৪,৭০০ টাকা এবং পাবলিক লাইব্রেরী বহুমুখী ভবনে ১,৯৩,৩০,৭৫৬.৬৯১ টাকার কাজও প্রতিষ্ঠানটি পায়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকটি ক্ষেত্রে ভবনের মূল নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই ফার্নিচার সরবরাহের চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সরকারি ক্রয় বিধিমালার স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে এই প্রক্রিয়া সাংঘর্ষিক বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। একই সময়ে আকতার ফার্নিচারস, নদীয়া ফার্নিচার ও হাতিলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও কোটি টাকার কাজ পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে সুবিধা প্রদান করে প্রভাব বিস্তার করেছে।

ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা একসময় সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে বছরের পর বছর মানসম্পন্ন আসবাব সরবরাহ করতেন, তারা এখন কার্যত কাজবঞ্চিত। তাদের জায়গা দখল করেছে পছন্দের কিছু কোম্পানি ও ব্যক্তি, যারা পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও অন্য বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে এপিপি প্রকল্পসহ একাধিক উন্নয়ন কাজে বেনামী ঠিকাদারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। সেই প্রেক্ষাপটে একসময় তাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ অর্থের জোরে তিনি পুনরায় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে ফিরে আসেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, গণপূর্ত কাঠের কারখানা স্পেশাল ইউনিট বর্তমানে ফ্যাসিবাদী আমলের লুটপাট ব্যবস্থার পুনর্দখল প্রকল্পে পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ ঠিকাদারদের রুটিরুজি হুমকির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা সংযোজন করা হবে।




রাজউকের গুলশান এস্টেট শাখায় ‘অদৃশ্য ক্ষমতার বলয়’: উপ-পরিচালক লিটন সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ 

রাজউকের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র ও মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা গেছে, লিটন সরকার দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দপ্তরের ভেতরে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি বরাদ্দ, ইজারা, নিলাম ও হস্তান্তর সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো কার্যত তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে নিয়মের চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কই মুখ্য হয়ে উঠেছে।

সূত্রগুলো দাবি করছে, লিটন সরকারের ঘনিষ্ঠ কিছু ঠিকাদার, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক পরিচয়ধারীদের নিয়ে একটি অঘোষিত ‘কন্ট্রাক্ট সিন্ডিকেট’ গড়ে উঠেছে। রাজউকের ভেতরে এখন প্রকাশ্যে শোনা যায়—“রাজউকে জমি পেতে হলে আগে লিটনের ঘর চিনতে হয়।” এই কথাটিই নাকি গুলশান এস্টেট শাখার বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতাকর্মী ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে লিটন সরকার তার প্রভাববলয় আরও বিস্তৃত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত রাজউকের মালিকানাধীন জমি ও পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে গোপন রেজিস্ট্রেশন, দখল বৈধকরণ এবং ফাইল ‘ম্যানেজ’-এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। বিনিময়ে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় নিশ্চিত করাই ছিল তার কৌশল—এমন দাবিও সংশ্লিষ্টদের।

গুলশান এস্টেট শাখার অফিস সংস্কৃতি নিয়েও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ। সূত্রমতে, সেখানে এখন কার্যত ‘ব্যক্তি বন্দনা’ সংস্কৃতি চালু রয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ফাইল মাসের পর মাস আটকে রাখা, অযৌক্তিক হয়রানি, মনগড়া নোটিং এবং বিধিবহির্ভূত ক্ষমতা প্রয়োগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, তাদের বদলি, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নাম ছড়ানোর মাধ্যমে চুপ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে গুলশান এলাকার একাধিক মূল্যবান প্লট ও পরিত্যক্ত বাড়ি নিয়ে রহস্যজনক ফাইল জটের তথ্য মিলেছে। অভিযোগ রয়েছে, ইচ্ছাকৃতভাবে মালিকানা ও ইজারা সংক্রান্ত জট তৈরি করে নির্দিষ্ট সুবিধাভোগীদের হাতে এসব সম্পত্তি তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজউকের মতো একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে রাজউকের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র আরও গুরুতর একটি অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, উপ-পরিচালক লিটন সরকারের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন ফেনসিডিল সেবনের অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন কর্মচারী নির্দিষ্টভাবে এ অভিযোগ তুললেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত শুরু হয়নি। বিষয়টি রাজউকের প্রশাসনিক মর্যাদা ও শৃঙ্খলার ওপর গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে লিটন সরকার reportedly বলেন, “এসব রিপোর্টে আমার কিছুই হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সচিব নজরুল ইসলামসহ রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমার বিশেষ সখ্যতা আছে।” এই বক্তব্য থেকেই প্রশাসনিক দায়মুক্তির সংস্কৃতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন বড় প্রশ্ন উঠেছে—রাজউকের অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থা কি আদৌ কার্যকর, নাকি প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কাছে প্রতিষ্ঠানটি জিম্মি হয়ে পড়েছে? সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিশন, দুদকের অনুসন্ধান এবং কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নেওয়া হলে রাজউকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও ভয়াবহভাবে ক্ষয়ে পড়বে।

এই প্রতিবেদনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে নগরবাসী। কারণ প্রশ্ন একটাই—রাজউক কি জনগণের প্রতিষ্ঠান, নাকি কিছু প্রভাবশালীর ব্যক্তিগত ক্ষমতার ক্ষেত্র?




গণভোট সংবিধানসম্মত নয়, এটি বেআইনি ও অবৈধ- জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রংপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী ও দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটা নিয়ে পার্লামেন্টে কথা হবে। পার্লামেন্টের বাইরে কথা হবে, চায়ের দোকানে কথা হবে ইউটিউবে কথা হবে। তখন মানুষ বুঝবে, এখানে এই জিনিসটা ভালো, এই জিনিসটা খারাপ– আমি হ্যাঁ ভোট দেবো, না “না” ভোট দেবো। আপনারা কেন আগে থেকে বলছেন– যেখানে মানুষকে আপনি সবগুলো জিনিস বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। এবং এই কাজটি যেহেতু সংবিধানসম্মত নয়, এই জন্য আমি মনে করি এই গণভোট বেআইনি ও অবৈধ।’

শনিবার বিকালে রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর গ্রান্ড হোটেল মোড় এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণের সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বিপুলসংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন।

জিএম কাদের গণভোট প্রসঙ্গে আরও বলেন, ‘এখন বলা হচ্ছে, যারা “না” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা স্বৈরাচারের দোসর। আমি বলতে চাই, যারা “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে বলছেন তারা নাৎসিবাদের দোসর। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এটা বেআইনি। এ জন্য যে সরকারি অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে সেটাও বেআইনি এবং অবৈধ।’

এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জিএম কাদের বলেন, ‘আমি রংপুরের সন্তান আমাকে রংপুরের জনগণ বিপুল ভোটে লাঙ্গল মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে।’ তিনি সমবেত জনতাকে আবারও ভোট দিয়ে জয়ী করার আহ্বান জানান।

শনিবার বিকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করে লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চান।

বিকালে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোড এলাকায় জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টি কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জিএম কাদের। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ এবং লাঙ্গল মার্কার পক্ষে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।

এ সময় মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ জাতীয় পার্টির জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।