‘মব আর নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না’: ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা–ফুলছড়ি) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর যদি কোথাও ‘মব পরিস্থিতি’ তৈরি হয়, তবে তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, ‘মব আর নির্বাচন একসঙ্গে চলতে পারে না।’

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফুলছড়ি উপজেলা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি একটি মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল, যারা সবসময় দেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘দেশ আজ দুই ভাগে বিভক্ত—একটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে, আরেকটি বিপক্ষে। তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নির্বাচনের প্রকৃত আমেজ নেই, মানুষের মুখে হাসিও দেখা যাচ্ছে না। জনসংখ্যার একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আয়োজন করলে দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়, যার উদাহরণ ২০১৪ সালের নির্বাচন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘২০১৪ সালের তুলনায় এবারের নির্বাচন তুলনামূলকভাবে ভালো হবে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, তার উন্নয়ন ভাবনা ও সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচিত হলে চরাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ‘চরাঞ্চল ফাউন্ডেশন’ গঠন এবং বহুল আলোচিত বালাশী–বাহাদুরাবাদ সেতু নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সরোয়ার হোসেন শাহীন, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোরুল ইসলাম লেবু, জেলা যুব সংহতির সভাপতি একেএম নুরুন্নবী সরকার মিথুন, ফুলছড়ি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শফিউল ইসলাম চাঁন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া সবুজসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এর আগে ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী লাঙ্গল প্রতীকে ভোট চেয়ে ফুলছড়ি হাটে গণসংযোগ করেন এবং উপজেলা হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত এক কর্মীসভায় যোগ দেন।




আফগানিস্তানে তুষারপাত ও বৃষ্টিতে ৬১ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আফগানিস্তানে তুষারপাত ও ভারি বৃষ্টিপাতে তিনদিনে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এছাড়াও শতাধিক আহত হয়েছে।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ এবং একাধিক প্রদেশের অনেক এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।

জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র ইউসুফ হাম্মাদ বলেছেন, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১৫টিতে ৬১ জন মারা গেছেন এবং ১১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও ৪৫৮টি বাড়ি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং শত শত প্রাণী মারা গেছেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রদেশগুলো থেকে তথ্য দিলে সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

কাবুলের উত্তরের প্রদেশ পারওয়ানের কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ সালাং মহাসড়ক বন্ধ থাকার কথা নিশ্চিত করেছে। আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এ মহাসড়ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আফগানিস্তানে তুষারপাত এবং ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আকস্মিক বন্যা অনেকের মৃত্যু হয়। গত বছর আকস্মিক বন্যায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যায়। দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাত, দুর্বল অবকাঠামো, সংগ্রামরত অর্থনীতি, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র প্রভাবের ফলে এই ধরনের দুর্যোগের প্রভাব আরও বেড়েছে।

অনেক বছর ধরেই দেশটির জনসংখ্যার বড় অংশ আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর চলছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই সহায়তার পরিমাণ কমে এসেছে। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছর চার কোটি জনসংখ্যার আফগানিস্তানের প্রায় অর্ধেকেরই মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হবে।

সূত্র: ডন।




যুক্তরাষ্ট্র-কানাডায় রমজান শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি

ডেস্ক নিউজঃ উত্তর আমেরিকা ও কানাডায় ২০২৬ সালের পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা (এফসিএনএ)। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংস্থাটির জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনা অনুযায়ী, ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র রমজান মাস শুরু হবে থেকে। 

সেই হিসেবে উত্তর আমেরিকার মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষেরা ১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত থেকেই তারাবির নামাজ শুরু করবেন। একইভাবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এক মাস সিয়াম সাধনার পর ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড অনুসরণ করে আগাম এই ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে এই স্বাধীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি।

ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা চন্দ্রমাস নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাবকে শরিয়তসম্মত পদ্ধতি হিসেবে বিবেচনা করে। সংস্থাটি ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অব ফাতওয়া অ্যান্ড রিসার্চের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী জানিয়েছে, কোনো নতুন মাস শুরু হতে হলে সূর্যাস্তের সময় চাঁদ ও সূর্যের কৌণিক দূরত্ব কমপক্ষে ৮ ডিগ্রি এবং দিগন্তের ওপরে চাঁদের উচ্চতা অন্তত ৫ ডিগ্রি হতে হবে।

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সূর্যাস্তের আগেই রমজানের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই দিনেই নির্ধারিত শর্ত পূরণ হবে বলে ফিকহ কাউন্সিল নিশ্চিত করেছে। ফলে ১৮ ফেব্রুয়ারি বুধবার থেকেই হিজরি ক্যালেন্ডারের নবম মাস রমজান গণনা শুরু হবে।

শাওয়াল মাসের ক্ষেত্রেও একই ধরনের গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছে এফসিএনএ। ১৯ মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে এবং ওই সময় চাঁদের অবস্থান ও কৌণিক দূরত্ব দৃশ্যমান হওয়ার উপযোগী অবস্থায় থাকবে।

এর ফলে ২০ মার্চ শুক্রবার ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে বলে সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। তবে ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংস্থাটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার চেয়ে সৌদি আরবের মক্কায় হজ কর্তৃপক্ষের আরাফার দিনের ঘোষণার ওপর নির্ভর করবে। আরাফার পরদিনই যথারীতি ঈদুল আজহা পালিত হবে।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ফিকহ কাউন্সিল অব নর্থ আমেরিকা একটি অলাভজনক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের ধর্মীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করে আসছে। সংস্থাটি তাদের ঘোষণার শেষাংশে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করেছে।

উত্তর আমেরিকার ধর্মীয় প্রশ্ন ও বিবাদ মীমাংসাসহ চন্দ্র ক্যালেন্ডার তৈরির ক্ষেত্রে এই সংস্থাটির সিদ্ধান্তই প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়। আগাম এই ঘোষণার ফলে স্থানীয় মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় উৎসব ও ইবাদতের প্রস্তুতি আগেভাগেই গ্রহণ করতে পারবেন।




চাঁদাবাজদের ভালো পথে ফিরে আসতে অনুরোধ করলেন জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চাঁদাবাজিতে যুক্তদের ভালো পথে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা ৪ ও ৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজকের জনসভা থেকে যারা এই পেশায় (চাঁদাবাজিতে) যুক্ত তাদেরকে অনুরোধ করবো ভালো পথে ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হালাল রুজির জন্য জায়গা করে দেব, ইনশাল্লাহ।’

তিনি বলেন, ‘এই দেশে নতুন একটি পেশা এখন ভালো চলছে। এই পেশার নাম কি আপনারা বলতে পারবেন? কি নাম? চাঁদাবাজি।’

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা কেউ চাঁদাবাজের ভাই হতে রাজি আছেন? পিতা হতে রাজি আছেন? সন্তান হতে রাজি আছেন? কেউ চাঁদাবা্জের স্ত্রী হতে রাজি আছেন? মা হতে রাজি আছেন? বোন হতে রাজি আছেন? নাই।’

জামায়াত আমির বলেন, ‘কিন্তু যদি এ পথ বাদ না দেন আমরা একদম সাফ জানিয়ে দিচ্ছি, আমাদের পক্ষ থেকে কমপ্লিট লালকার্ড। এই চাঁদা আমরাতো করার প্রশ্নই উঠে না, চাঁদাকে আমরা ঘৃণা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট। আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। কথা একদম সাফ। এখানে কোনো রাগডাক নাই।’




টঙ্গীর জাভান হোটেলে চলে রাতভর অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা প্রশাসন নিরব -১ পর্ব

স্টাফ রিপোর্টারঃ কনা আক্তার 
গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকায় অবস্থিত জাভান হোটেলকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড নারীদের দিয়ে নাচানাচি এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী রাত গভীর হলেই হোটেলটিতে শুরু হয় অসামাজিক তৎপরতা যা এখন আর গোপন নেই কারও কাছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে জাভান হোটেলের আশপাশে অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। গভীর রাত পর্যন্ত বহিরাগত লোকজনের যাতায়াত উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং কিছু নারীদের দিয়ে নাচানাচির আয়োজন করা হয় ও আড়ালেই চলে দেহ ব্যবসা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, জাভান হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসার বিস্তার অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী হোটেলটির আশপাশে খুব সহজেই বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া যায়। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান এখানে হাত বাড়ালেই মাদক মিলে এটাই এখন ওপেন সিক্রেট। সময়ের সাথে সাথে জাভান হোটেল টঙ্গী এলাকায় মাদক কেনাবেচার একটি পরিচিত স্পটে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এলাকাবাসীর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সবকিছু প্রকাশ্যে চললেও কেনো বন্ধ করতে পারছে না প্রশাসন। স্থানীয়দের দাবি একাধিকবার এই হোটেলটি কে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণে মাদক সহ কিছু যৌনকর্মী কে গ্রেফতার করে পুলিশ। কয়েকবার অভিযান চালিয়ে প্রশাসন সিং কালা করা হয় পরে জামিনে বের হয়ে আবারও আগের থেকে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জাভান হোটেল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, এভাবে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক ব্যবসা চলতে থাকলে টঙ্গী এলাকার তরুণ সমাজ মারাত্মকভাবে বিপথগামী হবে। পরিবার ও সমাজব্যবস্থার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।
এই টঙ্গী জাভান হোটেল আওয়ামী লীগের দোসর মালিক বাদল মিয়া ছিলেন বর্তমানে পলাতক আছে এবং এই বর্তমানে হোটেলটির মালিক বিএনপি’র নেতা এফ এ রহমান ।
এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিকরা দ্রুত জাভান হোটেলকে ঘিরে সুষ্ঠু তদন্ত, নিয়মিত নজরদারি এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা প্রশ্ন তুলেছেন প্রশাসনের এই নিরবতা কি অবহেলা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় আমরা অভিযোগ পেয়েছি তা সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে অপরাধী যেই হোক কোন ছাড় দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ।



ঢাবিতে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র অলী আহমেদের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রফেশনাল মাস্টার্সের ৬ষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী অলী আহমেদের শোক সভা ও দোয়া মাহফিল শুক্রবার(২৩ জানুয়ারী,২০২৬ ইং) বিকাল সাড়ে ৫টায় কলা ভবনে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়।

 

প্রফেশনাল এম এ ইন ইসলামিক স্টাডিজ ২০২৩ -২৪ শিক্ষাবর্ষ ফাতিহ ৬ষ্ঠ ব্যাচ সতীর্থ ফোরামের আয়োজনে শোকসভা ও দোয়া মাহফিলে হুমায়ুন কবীর ও সাদী মাহমুদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো: ছানাউল্লাহ, বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মো: আবদুল লতিফ,ড. মুহাম্মদ শফিক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ড. আমীর হোসেন, ড. জাহিদুল ইসলাম সানা, ড. মোহাম্মদ ইমাউল হক সরকার টিটু।
মরহুম অলী আহমেদ গত ৮ জানুয়ারী ২০২৬ বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন।
তিনি বরগুনার স্থানীয় মাদ্রাসা থেকে ২০১৩ সালে দাখিল, ২০১৫ সালে আলিম,পরে ঢাকা তামিরুল মিল্লাত থেকে ফাজিল পাশ করেন,পাশাপাশি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা শেষ করে ২০২৩ -২৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে প্রফেশনাল মাস্টার্সে ভর্তি হন।
প্রধান অতিথি ড. মো: ছানাউল্লাহ বলেন, অলী আহমেদ একজন মেধাবী ছাত্র ও বহুগুনে গুণান্বিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিল ও মুনাজাতের মাধ্যমে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসভা সম্পন্ন হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন হুমায়ুন কবীর, সাদী মাহমুদ, মিতু আকতার, মো মাঈনুদ্দিন,শারমিন রীমা, শাখাওয়াত হোসেন, ফাইয়্যাজ হোসেন, নিশাত জাহান, জায়েদ উদ্দিন, আবু দাউদ, মিজানুর রহমান, প্রফেশনাল মাস্টার্স ৭ম, ৮ম, ৯ম,১০ম,১১ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা কর্মচারী ও  মরহুমের স্ত্রী মায়িশা তাবাসসুম।



চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশ শুরু, মঞ্চে তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজঃ চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি মহাসমাবেশ শুরু হয়েছে। রবিবার কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বেলা ১২টা ১৪ মিনিটে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঞ্চে ওঠেন। সে সময় মুহুমুর্হু করতালিতে পুরো সমাবেশস্থল মুখরিত হয়ে উঠে।

হাস্যজ্জ্বল বিএনপি চেয়ারম্যানও হাত নেড়ে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। এটি তারেকের নির্বাচনি প্রচার দ্বিতীয় পর্ব; গত ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

২০০৫ সালের ৬ মে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে সর্বশেষ জনসভা করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে চট্টগ্রাম সফরে এসেছেন তিনি।

তবে পলোগ্রাউন্ড মাঠে তারেক রহমানের এটি প্রথম সমাবেশ। এর আগে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে বড় এ মাঠে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা হয়েছিল।

জনসভা ঘিরে ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড, উপজেলা, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা থেকে ব্যানার ফেস্টুন, রঙ বেরঙের পোশাক পরে মিছিল নিয়ে লোকজন আসতে শুরু করে সমাবেশস্থলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পলোগ্রাউন্ড মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

এ সমাবেশে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পাবর্ত্য চট্টগ্রামের সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থীরা উপস্থিত রয়েছেন।

পলোগ্রাউন্ডের সমাবেশে যোগ দেয়ার আগে নগরীর র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শিরোনমারে আয়োজনে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারেক। চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে। সেখানে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান।

যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। সেদিন দেশের মাটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’

চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা আশা করছেন, তাদের দলীয় প্রধান চট্টগ্রামবাসীকে তার সেই ‘প্ল্যান’ শোনাবেন।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।




বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি আইসিসির

ক্রীড়া ডেস্কঃ আসন্ন পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) টুর্নামেন্ট বয়কটের যে হুমকি দিয়েছে, তাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। 

বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যদি এই টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসি কেবল বিশ্বকাপ থেকেই নয়, বরং পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়া, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি ক্রিকেটারদের খেলার অনুমতি বা এনওসি না দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের চিন্তাভাবনা করছে।

সংকটের সূত্রপাত হয় গত শনিবার, যখন আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেয়। আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই এবং বিসিবির ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিটি তাই ভিত্তিহীন।

আইসিসি মনে করে, টুর্নামেন্টের সূচির অখণ্ডতা রক্ষা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ ও আইসিসির ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের মতো একটি প্রধান অংশীদারকে বাদ দেওয়া ক্রিকেটের জন্য নেতিবাচক নজির হয়ে থাকবে।

পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আরও উল্লেখ করেছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর ফেরার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

নাকভি জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান আইসিসির নির্দেশের চেয়ে তাদের নিজস্ব সরকারের নির্দেশনাকে বেশি গুরুত্ব দেয় এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাঁদের কাছে ‘প্ল্যান এ, বি, সি ও ডি’ প্রস্তুত রয়েছে। পাকিস্তানের এই শক্ত অবস্থানের কারণে টুর্নামেন্টের আয়োজক ভারত এবং আইসিসির মধ্যে নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, আইসিসি ও পিসিবির এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান বিশ্ব ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের পথে হাঁটে এবং আইসিসি তাদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে তা বৈশ্বিক ক্রিকেটের রাজস্ব এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ এখন পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে আছে।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস




গুলশান বনানীতে অভিনব ফাঁদ পেতেছে বহুরূপী শিলা ও হারুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অর্ধশতাধিক চক্র, এমনই অভিযোগ এলাকাবাসী ও গণমাধ্যমের। আর প্রতারণার কৌশল ও টোপ হিসেবে অপব্যবহার করা হচ্ছে শিলাদের মতো অল্প বয়সী সুন্দরী তরুণীদের। ইতোপূর্বে বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

এবার ফিল্ম স্টাইলে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব হাতানোর পাঁয়তারা করছে বহুরূপী শিলা ও প্রতারক হারুন। দিন যতই যাচ্ছে ভয়ংকর হয়ে উঠছে ‘শিলা ও বাহিনীর অন্যতম প্রধান কুশীলব হারুন অর রশিদ (হিরু)।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, পল্টিবাজ হারুন, তারেক রহমানের নাম ভাঙানো একজন স্বঘোষিত কর্মী। তারেক রহমানের ভার্চুয়াল পর্দার সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন এমন একটি বিতর্কিত ছবি দেখিয়ে তিনি ফায়দা লোটার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তারেক জিয়ার সাথের ওই ছবি দেখিয়ে মানুষকে ব্ল্যাকমেল করেন প্রতারক হারুন।

সরজমিনে এমনি অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রতিবেদকের হাতে আসা রেকর্ড ছবি স্পষ্ট তিনি নিজেকে যুবদল নেতা দাবি করেন। ফোনে কথা হলে হঠাৎ মতামত ঘুরিয়ে বলেন তিনি মানবাধিকার বড় অফিসার। একটু সময় যেতে নিজেকে আবার সম্পাদক বলে জানান দেন। একজন মানুষের কয়টি পদবী প্রয়োজন প্রশ্ন করলে তিনি জানান আবারও যুবদল মহানগর কমিটির নেতা তিনি!! ও সংসদ নির্বাচন করার জন্য বাড়িতে ব্যস্ত তিনি। গুলশান বনানী জনগণের প্রশ্ন কে এই হারুন/ একাধিক পরিচয় দেওয়া অবশ্যই প্রতারণা। হারুনের কুকর্ম উন্মোচনে কিছু তথ্য আমাদের দপ্তরে এসেছে। ল্যান্ড কোম্পানির সাক্ষ্য জালিয়াতি করে তিনি হয়ে গেছেন রাতারাতি ব্যবসায়ী পার্টনার।

তথ্যসূত্র জানা যায় ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতার আড়ালে দুর্দান্ত সাহসী ভূমিকায় যার সবচেয়ে বেশি অবদান তিনি পারভিন শিলা। গুলশান বনানী এলাকায় এই তরণীর নাম এখন মানুষের মুখে মুখে । এই তরুণীর অভিনব ফাঁদে পড়ে অফিসের স্টাফ সহ অনেকেরই এখন রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, এই সুন্দরী শীলার দ্বারা সবকিছুই সম্ভব। তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা নাটকীয় মামলায় ফাঁসানো কোন ব্যাপারই না। শিলার নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড অপকর্ম প্রতারণা আড়াল করতে হারুনের ভূমিকা বেশ প্রশংসনীয়। ছলনাময়ী নারী শিলা কখনো মিলা, আবার কখনো লিনা মাহমুদ। কৌশলে বড় ব্যবসায়ীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে চালান প্রেমের অভিনয়। একপর্যায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে সিম পরিবর্তন করা তাদের প্রতারণার একটি অংশ। । এছাড়া ভুয়া বিয়ের নাটক, নয়তো অশ্লীল কিংবা অন্তরঙ্গ ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি। এভাবেই চলছে তাদের প্রতারণা।

সর্বশেষ টার্গেট বনানীর এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী। তার নাম্বার সংগ্রহ করে কৌশলে প্রেমের অভিনয় শুরু করেন বহুরূপী শিলা। পরবর্তীতে থানায় শ্লীলতাহানীর চেষ্টার অভিযোগ অথবা জিডি তার পড়ে মামলার হুমকি! এটা তার পেশা ও নেশা দুটোই।

অভিযোগ রয়েছে বাসায় ডেকে ভুয়া বিয়ের কাগজপত্র তৈরি করে দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা অথবা শিলার বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে টাকা ছাড়াই ব্যবসায়ী পার্টনার বানাতে হবে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার বলেন, এই চক্রের মোট সদস্যদের মধ্যে শিলা মাহমুদ ওরফে মিলা নয়, বহু নারী চক্র সদস্যসের নাম রয়েছে ডিএমপিতে। সহযোগীরা বড় ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, এমনকি প্রবাসীদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে দেয়। পরে কৌশলে ফোনে কথা বলে প্রেমের ফাঁদ পাতে শীলারা। এক সময় প্রেমিককে বাসায় ডাকে। একপর্যায়ে অন্তরঙ্গ ছবি তুলে টাকা দাবি করে। অনেকে সম্মানের ভয়ে টাকাওনদিয়ে দেন।

তিনি বলেন, চক্রটি শুধু প্রেমের ফাঁদ নয়, অনেক সময় ভুয়া বিয়েও করে। সেই বিয়ের কাবিনের টাকা আদায়ও করেন কৌশলে।

ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সাইবার ক্রাইমের অতিরিক্তি উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে প্রতারণা অভিযোগ এখনো অনেক বেশি। নারী ও পুরুষ উভয়েরই অভিযোগ আসছে।

তিনি বলেন, নারীদের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার যেমন হচ্ছে, তেমনি পুরুষের দ্বারা ব্ল্যাকমেইলিং এর শিকার হচ্ছে অনেকে। তবে অধিকাংশই সম্মান নষ্টের ভয়ে নিজেরাই মিটিয়ে নিচ্ছে, আবার অনেকে অভিযোগও দিচ্ছেন। এ ধরনের বেশ কিছু সিন্ডিকেটকে আমরা আটকও করেছি।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো সতর্কতা। লোভ সংবরণ করে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করলে সমস্যায় পড়তে হবে না নাগরিকদের।




দূর্নীতির অভিযোগের তোয়াক্কা না করে পার পেয়ে যাচ্ছেন তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক দূর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ:দা:) মো: শরীফ হোসেন, কুষ্টিয়া’র একটি কলরেকর্ড ফাঁস হয় যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। কল রেকর্ডে শরীফ হোসেন কে একজন প্রকৌশলী আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করতে দেখে প্রতিবেদক অনুসন্ধানে নামে, তাছাড়া প্রকৌশলী শরীফ হোসেন স্ব প্রনোদিত হয়ে একটি দৈনিক পত্রিকায় রহস্যজনক সংবাদ প্রকাশ করতে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করার ফলে প্রতিবেদক শরীফ হোসেন এর দূর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে । এলজিইডির সুক্ষ দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী শরীফ হোসেন যার কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি পরতে পরতে দূর্নীতির বেড়াজালের ইশতেহার সম্বলিত ফিরিস্তি সাজিয়ে N,S,I মহাপরিচালক বরাবর তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির তালিকা হতে নাম বাদ দেওয়ার লিখিত আবেদন করেন খোদ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ও সাবেক চুয়েট ছাত্র কাজী আবদুস সামাদ।

সূত্র মতে ঢাকা অঞ্চলের সাবেক তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: শরীফ হোসেন সিটি কর্পোরেশনে প্রেষণে থাকাকালীন সময়ে দূর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন। পার্বত্য বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন কালীন পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা পরিচয়ে তিনি ভূয়া performance Security নিয়ে W/order দেওয়ার কারনে সাময়িক বরখাস্ত হন৷

বিগত আওয়ামী সরকারের আমলাদের আস্হাভাজন হওয়ায় অলৌকিক আশীর্বাদে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও চাঁদপুর জেলার সমন্বয়ে একটি বড় লাভজনক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক পাশাপাশি ৩ টি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব নিয়ে প্রভাবশালী মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এর সাথে আঁতাত করে প্রতিটি কাজ থেকে ৫% হারে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মো:শরীফ হোসেনের বিরুদ্ধে। তাছাড়া তিনি ঢাকা অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভাইজড ইস্টিমেট অনুমোদন দিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে ২% হারে টাকা আদায় করতেন বলে সুত্র নিশ্চিত করেন।

সরেজমিনে এলজিইডি ঘুরে অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় জুলাই- আগস্টে ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করতে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব এই প্রকৌশলী এলজিইডিতে আওয়ামীলীগ পন্হী প্রকৌশলীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৯৯২ সালে সহকারী প্রকৌশলী /উপজেলা প্রকৌশলী পদে চাকুরীতে যোগ দেওয়া মো: শরীফ হোসেন যশোরের অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলা, কক্সবাজার সদর উপজেলা, এবং নড়াইল জেলার সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উপজেলা প্রকৌশলী থাকাকালীন সময়ে তিনি টেন্ডার ঘুপছি করে পছন্দের ঠিকাদারকে ১০% এর বিনিময়ে টেন্ডার দিয়ে বিল থেকে অতিরিক্ত ২% করে ঘুষ নেওয়ায় অভিযোগ রয়েছে৷
২০১২ সালে ততকালীন প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান কে ১ কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী (চ:দা:) হিসাবে নাটোর জেলায় পদায়ন হন। মো: শরীফ হোসেন এর দূর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে ২০১৩ সালে নাটোর জেলার ঠিকাদারগন আন্দোলন করলে তাকে শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে বদলী করা হয়৷

আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আশীর্বাদ নিয়ে তিনি দূর্নীতির স্বর্ণযুগের সুচনা করেন। এলজিইডির রক্ষনাবেক্ষন কাজে ঘাপলা করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং শাস্তি হিসাবে “তিরস্কার ” প্রদান করা হয়৷

তদবির বানিজ্যে উস্তাদ মো: শরীফ হোসেন অবৈধ টাকার বিনিময়ে তদবির চালিয়ে ২০১৬ সালে বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে পোস্টিং নেন৷
কথায় আছে চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। বান্দরবান জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিয়েই কাজ না করিয়ে বিল প্রদান, এবং ভুয়া বিডি নিয়ে ঠিকাদারকে নিয়মবহির্ভূত অগ্রীম বিল প্রদান করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং ৩ টি এস্টিমেন্ট বাতিল করে শাস্তি প্রদান করা হয়। যেখানেই তিনি চাকুরী করেছেন সেখানেই ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাবে করে ঠিকাদার থেকে ঘুষ নিতেন বলে জনশ্রুতি আছে।

২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে দায়িত্ব দিলে তার দূর্নীতিতে অতিষ্ঠ হয়ে সিটি কর্পোরেশন এর সিইও তাকে প্রত্যাহার করার অনুরোধ করলে ২০২১ সালে তাকে সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রত্যাহার করা হয়৷
বর্তমানে কুষ্টিয়া অঞ্চলের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (চ:দা:) হিসাবে দায়িত্ব পালন করলেও এলজিইডি সদর দপ্তরে প্রায়ই ঘুরাঘুরি এবং আওয়ামী পন্হীদের নিয়ে গোপন মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
জ্ঞাত বহির্ভূত আয় দিয়ে তিনি ঢাকার পান্থপথে ২৫০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট ক্রয় করেন যার আনুমানিক মুল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা, ধানমন্ডি ৪ নং সড়কে ২০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা, ঢাকা -মাওয়া রোডের পার্শ্ববর্তী শ্যামল ছায়া হাউজিং এ ২ টি ফ্ল্যাট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা, নড়াইলে আলিশান বাড়ি, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আই ব্লক -এ ৪ কাঠা জমির উপর প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ তলা ভবন নির্মাণ করেন। যার একটি ফ্লোরে (৩০০০ বর্গফুট) তিনি নিজে বসবাস করছেন। ঢাকার পূর্বাচলে ৫ কাঠার ১ টি প্লট মূল্য আনুমানিক ৫ কোটি টাকা ছাড়াও নামে বেনামে বিভিন্ন ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা।

দণ্ডবিধির ১৮৬০ ধারা ৪০৯ :পাবলিক সার্ভেন্ট কর্তৃক আর্থিক অসাধুতা সর্বোচ্চ শাস্তি :
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ ধারা ৪ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। শাস্তি ৪ থেকে ১২ বছর কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড।
অথচ মো:শরীফ হোসেনকে পদোন্নতি দিয়ে তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসাবে পদায়ন আইনের বরখেলাপ বলে সরকারি চাকুরি বিশেষজ্ঞগন মনে করেন৷

তবে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শরীফ হোসেন প্রতিবেদককে বলেন, এগুলো মিথ্যা, আমার এত সম্পদ থাকলে আমি চাকুরী করার প্রয়োজন কি!