বিশ্বকাপ থেকে বাদ বাংলাদেশ, আইসিসির ওপর ক্ষোভ ঝাড়লেন আফ্রিদি

ক্রীড়া ডেস্কঃ শেষ পর্যন্ত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের। বাংলাদেশ দলের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে এই টুর্নামেন্টে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। শনিবার সন্ধ্যায় একটি বিবৃতি দিয়ে আইসিসি এই খবর নিশ্চিত করে।

আইসিসির এই আচরণকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও ভক্তদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ভেরিফায়েড এক্স একাউন্টে আফ্রিদি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই বিষয় বোঝার ব্যাপারে তারা নারাজ বলে মনে হচ্ছে।”

pic

গত বছর ভারত চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি। পরে আইসিসি তাদের দাবি মেনে ভারতের সব ম্যাচ দুবাইয়ে আয়োজন করে। অংশগ্রহণকারী অন্য সব দল পাকিস্তানে গেলেও ভারতের সঙ্গে খেলার জন্য তাদের দুবাইয়ে যেতে হয়েছিল।

আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ধারাবাহিকতা এবং ন্যায্যতা হলো বিশ্ব ক্রিকেটের শাসনের ভিত্তি। বাংলাদেশের খেলোয়াড় এবং তাদের কোটি কোটি ভক্ত সম্মান পাওয়ার দাবি রাখে, দ্বিমুখী নীতি নয়। আইসিসির উচিত সেতুবন্ধন তৈরি করা, তা ভেঙে ফেলা নয়।’




যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় না থাকায় কতটা ক্ষতি হবে বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজঃ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকেও যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে তার প্রভাব কেমন হবে এ নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ করছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ছাড়াও ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতের যেসব বিষয়ে সাফল্য অর্জন করেছে তার অধিকাংশেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে ডব্লিউএইচও। তবে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি থেকে সরে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই বাংলাদেশে সংস্থাটির কার্যক্রম কাটছাঁট হওয়া শুরু হয়েছে।

এর ফলে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স এবং ল্যাবরেটরি সাপোর্টের মতো স্বাস্থ্যখাতের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলছেন, সম্ভাব্য সংকট এড়াতে দ্রুত রাজনৈতিক দলগুলোকে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত, যাতে করে যারাই সরকারে আসুক তারা যেন বিকল্প অর্থায়ন কিংবা স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে পারেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জাতিসংঘেরই একটি বিশেষায়িত সংস্থা এবং এটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়ন ও দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী তৈরিসহ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের সব ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছিল।

এর আগে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপি) থেকেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। সংস্থাটি বাংলাদেশসহ ১৫০টির বেশি দেশে পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে আসছে।

উভয় সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এখন কার্যকর হলেও দেশটি প্রায় এক বছর আগে থেকে তহবিল যোগান বন্ধ করে দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে বৈশ্বিক এ সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র এ থেকে বেরিয়ে গেল। ইতোমধ্যেই দেশটি ডব্লিউএইচও’র সব তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য স্বাস্থ্য খাতের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশে যে প্রভাব পড়তে পারে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় অন্যতম বড় তহবিল যোগানদাতার ভূমিকা পালন করে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সংস্থাটি থেকে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর জাতিসংঘ বলেছে, ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হলো তেমনি একটি জায়গা।

ডব্লিউএইচওর প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসাস ইতোমধ্যেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সদস্যপদ বাতিল করলে তহবিল সংকটে পড়বে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এ ঘাটতি মোকাবিলা করতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

মুশতাক হোসেন বলছেন, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের সব বিষয়ের সাথেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্পৃক্ত এবং অর্থায়ন থেকে শুরু করে গবেষণা সহায়তা পর্যন্ত সব ধাপেই তাদের সহায়তা পেয়ে অনেকগুলো ক্ষেত্রেই সফল হয়েছে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত।

ফলে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ হয়ে গেলে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যর কর্মসূচি বা সহায়তা বাংলাদেশে কমে গেলে তার নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা আছে অনেকের মধ্যে।

গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশে যে প্রায় পাঁচ কোটি শিশুকে বিনামূল্যে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া হয়েছে তাতেও বড় ভূমিকা ছিল জাতিসংঘের এই সংস্থাটির। টাইফয়েড প্রতিরোধী এই টিকাটি বাংলাদেশ পেয়েছিল পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা গ্যাভির মাধ্যমে।

এর আগে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সরকার, ইউনিসেফ, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স – গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় জরায়ুমুখ ক্যান্সারের অন্যতম কারণ হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) এর প্রতিষেধক টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছিল।

তখন ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুসহ প্রায় এক কোটিরও বেশি মেয়েকে বিনামূল্যে এই এইচপিভি টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া বৈশ্বিক এই সংস্থাটি কোভিড মহামারির সময়ে বাংলাদেশকে অল্প সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেছিল। পাশাপাশি এ ধরনের মহামারিতে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা তৈরির ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা ছিল বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ করে এর মহামারি ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম বাংলাদেশকে এ বিষয়ে দক্ষতা বাড়ানোয় সহায়তা করে, যা কোভিড পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজে লেগেছে বলে জানান মুশতাক হোসেন।

মহামারি বা রোগ সম্পর্কে গাইডলাইন, উপকরণ ও পরিকল্পনা এমনকি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে বাংলাদেশ, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শুরুতে সংক্রামক ও অসংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধ, ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপন ও ভ্যাকসিন তৈরি, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, কমিউনিটি ক্লিনিককে জনস্বাস্থ্য সেবার মূল কেন্দ্রে রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আরো সহায়তা চাওয়া হয়েছিল।

এর আগে বাংলাদেশের অন্যতম সফল স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি হিসেবে পরিচিত সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে পোলিও, ফাইলেরিয়া ও কালাজ্বর নির্মূলে কারিগরি সহায়তা দেওয়া ছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাম, কনজেনিটাল রুবেলা সিনড্রোম নির্মূলের জন্য টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা দিয়ে আসছিল।

ফাইলেরিয়াসিস ও কালাজ্বর বাংলাদেশ থেকে দূর হয়েছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে সনদ দিয়েছে এবং টিবি প্রিভ্যালেন্স সার্ভে এবং মিজেলস্ কেস ফ্যাটালিটি স্টাডিতে সহায়তা করেছে।

অর্থাৎ কয়েক দশক ধরেই বাংলাদেশ ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়া, নিপাহ, বার্ড ফ্লু, অসংক্রামক ব্যাধি, মাতৃস্বাস্থ্য-শিশুস্বাস্থ্য, পয়জনিং মেডিকেল এডুকেশনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি সহায়তা পেয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে।

প্রায় ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিষয়ক সাফল্যগুলোতে এই সংস্থাটির ভূমিকা আছে। উপজেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স তাদের বড় অবদান। যেসব রোগ নির্মূল হয়েছে কিংবা নির্মূলের পথে সেগুলোকে কেন্দ্র করে নেওয়া কর্মসূচি এখন তহবিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব রোগ ফিরে আসার আশংকার পথ তৈরি হতে পারে, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ।

মুশতাক হোসেন বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল কমে আর প্রভাব এর মধ্যেই বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কার্যক্রম সংকুচিত হলে পাবলিক হেলথ, ইমার্জেন্সি রেসপন্স ও ল্যাবরেটরি সাপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

জরুরি জনস্বাস্থ্যের সব খাতেই অর্থ কমে যাচ্ছে। সম্প্রসারিত টিকাদান, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণার বাজেট কাটছাঁট হচ্ছে, যা চিন্তার বিষয় হবে বাংলাদেশের জন্য,” বিবিসি বাংলাকে বলেছেন বে-নজির হোসেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই এ বিষয়ে দৃষ্টি দেওয়া জরুরি, যাতে করে নতুন সরকার স্বাস্থ্য খাতের অভ্যন্তরীণ বরাদ্দ বাড়িয়ে ডব্লিউএইচও থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া সংক্রান্ত কারণে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতি মোকাবিলার পাশাপাশি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর হোয়াইট হাউসে প্রথম দিনই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য নির্বাহী আদেশে সই করেছিলেন ট্রাম্প, যা বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় এক বছর পর এটি কার্যকর হলো।

গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ (এইচএইচএস) এবং পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রোগ পর্যবেক্ষণ, রোগনির্ণয় এবং প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।




ভাইয়া ডাকলে ভালো লাগবে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নির্বাচনি প্রচারের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে তরুণদের সঙ্গে আলোচনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে ‘স্যার’ না ডেকে ‘ভাইয়া’ ডাকার পরামর্শ দিলেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের র‌্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলের মেজবান হলে ‘ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘এ মুহূর্তে অ্যাডভান্টেজ হল, আমাদের ইয়ুথ ফোর্স অনেক বেশি, যা আগামী ১৫-২০ বছর থাকবে। এই ওয়ার্ক ফোর্সের সুবিধা আমরা পাব। বাংলাদেশকে আমরা কীভাবে আগামী দিনে সাজাতে চাই সেটা বলব।

বললে অনেক কথা বলতে পারি, এ খারাপ ও খারাপ। কিন্তু তাতে সমাধান আসবে না। অনেক সমস্যা আছে সেগুলো নিরসনে কিছু প্ল্যান গ্রহণ করেছি। ভবিষ্যতে আপনারা যারা দেশকে পরিচালনা করবেন তারা কীভাবে দেশকে পরিচালনা করবেন তা শুনতে চাই।’

এরপর প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হলে একজন তরুণী মাইক নিয়ে বলেন, ‘আসসালামুআলাইকুম স্যার, আমি তাসনুভা তাসরিন। আমি পড়াশুনা করছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষে।’

এসময় তারেক রহমান বলেন, ‘একটু পজ দিই। আপনি, আপনারা যারা প্রশ্ন করবেন, হয় আমাকে ভাইয়া বলতে পারেন, অথবা আমাকে…।’

তাসনুভা এ সময় বলে ওঠেন, ‘থ্যাংক ইউ স্যার।’

এরপর তারেক রহমান তার অসম্পূর্ণ বাক্য শেষ করেন। তিনি বলেন, ‘বয়সের হিসেবে আঙ্কেল ডাকতে পারেন। তবে আঙ্কেল ডাকটা শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ভাইয়া বললে ভালো লাগবে।’

এরপর ‘আচ্ছা ধন্যবাদ, আচ্ছা ভাইয়া’ বলে প্রশ্ন শুরু করেন তাসনুভা।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে মহামারীর মধ্যে তারা মাশুরমের ব্যবসা শুরু করেছিলেন। কিন্তু পুঁজির সংকটে বেশিদিন চালাতে পারেননি।

জামানত দেওয়ার নিয়মের কারণে তরুণ উদ্যোক্তারা ঋণ নিতে গিয়ে যে জটিলতায় পড়েন, সে কথা তুলে ধরে তাসনুভা বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের সহায়তায় কী পদক্ষেপ নেবে।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যাংকঋণের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতা আছে। নির্বাচিত হলে আইন সংশোধন করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার পরিকল্পনা তাদের আছে।

পাশাপাশি যারা পড়ালেখা করতে বিদেশে যেতে চায়, তাদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ দেওয়া যায় কিনা সে ভাবনা আছে বলেও তারেক রহমান জানান।

এরপর চট্টগ্রাম মা ও শিশু মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান প্রশ্ন করতে উঠে জানতে চান, ‘আপনি কেমন আছেন?’

উত্তরে তারেক রহমান বলেন, ‘একটু হালকা জ্বর আছে।’

এরপর আবদুল্লাহ মোহাম্মদ রাফসান জলাবদ্ধতা সংকট, উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষা সমন্বয় এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চান।

জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রাম ঢাকাসহ সব বড় শহরে জলাবদ্ধতা আছে। এটা কাটাতে একটা কাজ করতে হবে তা হলো খাল খনন। বৃষ্টি হলে পানি জমে যায়। পানিগুলো তো কোথাও যেতে হবে। তাই দরকার খাল খনন। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমমিটার খাল আমরা খনন করব।’

চট্টগ্রাম ও আশেপাশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ৩৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন এই ইয়ুথ পলিসি টকে।

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে এলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দেবেন তিনি।

এ উপলক্ষে ভোর থেকেই পলোগ্রাউন্ডে নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। চট্টগ্রাম জেলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ জড়ো হয়েছে তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে।

চট্টগ্রামের সমাবেশ শেষে তারেক রহমান বিকাল সাড়ে ৪টায় ফেনী পাইলট স্কুল মাঠে, সাড়ে ৫টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হাই স্কুল মাঠে, সন্ধ্যা ৭টায় সোনাগাজী, সাড়ে ৭টায় দাউদকান্দি ঈদগাঁ মাঠে এবং রাত মাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুরমাঠে নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য দেবেন।




ঠাকুরগাঁওয়ে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

আবহাওয়া ডেস্কঃ দেশের উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রবিবার সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটের তিকে রিকটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪ মাত্রায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
জেলার ৩৩ কিলোমিটার পূর্বে আটঘরিয়া এলাকায় এর উৎপত্তিস্থল।

আবহাওয়া অধিদফতরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের অফিস সহকারী গোলাম মোস্তফা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের আটঘরিয়া এলাকায় ৩ দশমিক ৪ মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে। এতে জেলার বিভিন্ন স্থান মৃদু কেঁপে ওঠে। তবে এর ভায়াবহতা নেই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ঠাকুরগাঁওয়ের অনেক বাসিন্দা ভূমিকম্পের কথা জানান। বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈলের বাসিন্দারা এটি সবচেয়ে বেশি অনুভব করেছেন বলে জানান।

এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি সিলেট ও আশপাশের এলাকায় ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে কম্পন অনুভূত হয়।




ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সুবিধাগুলোকে এক জায়গায় আনতে চাই: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের সুবিধাগুলোকে এক জায়গায় আনতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নিয়ে ‘মিট অ‍্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সরকারের অনেক প্রজেক্ট চালু আছে। কিন্তু সংগঠিত না। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই সুবিধাগুলো আমরা এক জায়গায় আনতে চাই। জনসংখ্যা বাড়ছে, প্রডাকশন বাড়াতে হবে। তৈরিকারকের সঙ্গে ক্রেতার মাঝে বিভিন্ন জন কাজ করেন। এটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনৈতিকভাবে কেউ লাভ করতে চাইলে সেটি ঠেকাতে হবে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায়ও দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে অনেক সময়। কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, যেই পরিকল্পনাই করি না কেনো, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। এগুলো ঠিক করা গেলে অন্য বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে।

মব জাস্টিজ নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তারেক বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, শিক্ষকদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। বাচ্চাদেরকে সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। ছোটবেলা থেকেই সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে।

পড়ালেখাকে ফান হিসেবে আনতে হবে উল্লেখ করে তারেক বলেন, পড়ালেখা সহজ করতে হবে। যাতে বাচ্চারা আগ্রহী হয়। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সাজাতে চাই। শুধু একাডেমিক পড়াশোনা নয়, খেলাধুলাকেও শিক্ষায় যুক্ত করবো। খেলাধুলাতেও পাস করতে হবে। আর্ট এন্ড কালচার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাহলে ইন্টারনেট ব্রাউজ করা থেকে ঠেকানো যাবে। এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিয়ে আলাদা টিম করে কাজ করবো আমরা।

নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে বলেন, রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রীক গড়ে উঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলবো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুবিধা সেখানে থাকবে। প্ল্যানিং চলছে এ বিষয়ে।

তিনি বলেন, ফ্লাইওভারে হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল কস্টলি, জায়গা বেশি নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধা। ছোট ছোট বগি এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় এটিকে কানেক্ট করা যায়।

প্রবাসীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন তরুণরা। তাদেরকে দক্ষ করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছি। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা রাখতে পারি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তারেক বলেন, মাকে মিস করছি। কিন্তু রাত ৫টার সময়ও যখন দেখি মানুষ দাঁড়িয়ে আছে, তখন আর ক্লান্তি থাকে না।




কুতুবদিয়ার নৌপথে সি-ট্রাকের উদ্বোধন কাল

ডেস্ক নিউজঃ বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নের সি-ট্রাক অবশেষে উদ্বোধনের মাধ্যমে কুতুবদিয়ার মানুষের নৌপথে যাতায়াত দুর্ভোগের কিছুটা অবসান ঘটতে যাচ্ছে। রবিবার সকাল ১১টায় পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাটে কুতুবদিয়ার নৌপথে “এস টি ভাষা শহীদ জব্বার” নামের সি-ট্রাকটির উদ্বোধন করা হবে। এতে একসঙ্গে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী বহন করা যাবে।

জানা গেছে, সকাল ১১টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন এ সি-ট্রাক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ইতোমধ্যে উদ্বোধনের জন্য শনিবার একটি সি-ট্রাক পেকুয়া উপজেলার মগনামায় আনা হয়েছে। সি-ট্রাকটি একনজর দেখতে উৎসুক জনতার ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উদ্বোধন উপলক্ষে কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ জেটিঘাট সাজানো হয়েছে। সি-ট্রাক চালুর খবরে দ্বীপবাসীর মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। তবে নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের জন্য ফেরি ব্যবস্থা চালুর দাবিও জানিয়েছেন কুতুবদিয়াবাসী।




মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, কাতারে যুদ্ধবিমান পাঠালো যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে কাতারে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। কাতারের দোহা শহরের কাছে আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার যুক্তরাজ্য সরকার জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই মোতায়েন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কাতার সরকারের আমন্ত্রণে পাঠানো এসব টাইফুন যুদ্ধবিমান যৌথ আরএএফ–কাতারি ইউনিট নম্বর ১২ স্কোয়াড্রনের অংশ হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতা জোরদার করা।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তার ভাষায়, যৌথ স্কোয়াড্রনের টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে কাতারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যা উভয় দেশের অভিন্ন নিরাপত্তা লক্ষ্যকে শক্তিশালী করবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ বহন করছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বুধবার মালাক্কা প্রণালি অতিক্রম করেছে রণতরীটি। এর সঙ্গে রয়েছে মার্কিন গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। পাশাপাশি প্যাট্রিয়ট ও থাড (THAAD) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সহ অতিরিক্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জামও অঞ্চলটিতে পাঠানো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার রাতে বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি’ হিসেবে ইরানের দিকে এই ‘নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ ভার্জিনিয়ার নরফোক ঘাঁটি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলেও জানা গেছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওই অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে।

প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্র দ্য ন্যাশনালকে জানিয়েছে, এই সামরিক সমাবেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সূত্রটি আরও জানায়, ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন শুধু আশ্বাসমূলক নয়, বরং ইরানের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলা মোকাবিলায় একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করাও এর উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ইরানের তৈরি শাহেদ-১৩৬ ড্রোন প্রতিহত করতে টাইফুন যুদ্ধবিমান অত্যন্ত কার্যকর বলে মনে করা হচ্ছে।

টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো আগে সিরিয়ায় আইএসআইএসের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে এবং গত বছর ইয়েমেনে হুতি লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকার কাতারে এই মোতায়েনকে ‘প্রতিরক্ষামূলক ও সহযোগিতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে, যা যুক্তরাজ্য–কাতার প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা চুক্তির আওতায় নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইরান আগেও আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে আল উদেইদ ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এই ঘাঁটিতেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সদর দপ্তর অবস্থিত, যা একে ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইসরায়েল–ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাজ্য এই অঞ্চলে অতিরিক্ত ‘কন্টিনজেন্সি সাপোর্ট’ পাঠিয়েছিল, যাতে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো যায়। এছাড়া ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সময়ও নিরাপত্তা সহায়তার অংশ হিসেবে টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছিল যুক্তরাজ্য।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টাইফুন যুদ্ধবিমানগুলো শিগগিরই প্রায় ৫০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে উন্নত রাডার আপগ্রেড পাচ্ছে, যা এগুলোর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।




আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপন, তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের

ডেস্ক নিউজঃ আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’ মামলায় রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উপস্থাপনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রাথমিক আপত্তি তোলে বাংলাদেশ। 

প্রতিবাদে ঢাকা বলেছে, ২০১৬-১৭ সালের জাতিগত নির্মূল অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান হিসেবে বৈধতা দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে পরিকল্পিতভাবে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় বিকৃত করছে মিয়ানমার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিত্রায়নের মাধ্যমে মিয়ানমার তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ ও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকি’ প্রমাণের চেষ্টা করছে। এর মাধ্যমে তথাকথিত ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ বা শুদ্ধি অভিযানকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ আড়াল করার সুপরিকল্পিত কৌশল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রোহিঙ্গারা একটি স্বতন্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী, যারা ১৭৮৫ সালে বর্মণ রাজ্যের অংশ হওয়ার আগেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আরাকানে বসবাস করে আসছে। ঐতিহাসিক দলিল, ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় রাখাইনে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতির অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ফলে তাদের বিদেশি বা সাম্প্রতিক অভিবাসী হিসেবে দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ১৯৮২ সালের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন জারির আগ পর্যন্ত রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এবং ২০১৫ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত ভোটাধিকার ভোগ করেছে। পরিকল্পিতভাবে ‘বাঙালি’ আখ্যা দেওয়ার উদ্দেশ্য তাদের পরিচয়ের অধিকার অস্বীকার করা এবং জাতিগত নিধনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা। ভাষাগতভাবে চট্টগ্রামের সঙ্গে কিছু মিল থাকলেও সংস্কৃতি ও পরিচয়ের দিক থেকে রোহিঙ্গারা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্মরণ করিয়ে দেয়, ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের ‘বার্মার আইনানুগ বাসিন্দা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭-১৮ সালে প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত আট বছরে রাখাইনে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেনি মিয়ানমার।

এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি রাখাইনে আশ্রয় নিয়েছিল। মিয়ানমারের এ দাবিকে বানোয়াট ও প্রমাণহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।




কমেছে তাপমাত্রা তিন জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

আবহাওয়া ডেস্কঃ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার তাপমাত্রা কমেছে। এ দিন দেশের তিন জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে আগামীকাল রবিবার থেকে আবার বাড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে, ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তিন জেলাতেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, সার্বিকভাবেই দেশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে গেছে। এর মধ্যে তিনটি স্থানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে গেছে। শনিবার তাপমাত্রা মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে রবিবার থেকে আবার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানীতেও গতকাল তাপমাত্রা কমেছে।




ধর্ম-বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সব মানুষের নিরাপদ-শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি: প্রধান উপদেষ্টা

ডেস্ক নিউজঃ‎‎‎ প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, এদেশ আমাদের সবার। ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সব মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) ‘সরস্বতী পূজা’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে এ কথা বলেন ৷

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এদেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মমতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি আমাদের অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে যান। সরস্বতী পূজার এই পবিত্র উৎসব উপলক্ষে আমি প্রত্যাশা করি, আমাদের শিক্ষা যেন কেবল নিজের উন্নতির জন্য না হয়, বরং সমাজের উন্নতির জন্য হয়। আমরা যেন আমাদের জ্ঞান দিয়ে অন্যকে সাহায্য করি, দুর্বলদের পাশে দাঁড়াই এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।

প্রধান উপদেষ্টা হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ বাংলাদেশের সব নাগরিকের শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।